ভিতরের পাতা

ঈদে মিলাদুন্নবীকে হারাম ঘোষণার অধিকার সৌদি মুফতির নেই

saudi arobসংলাপ ॥ ইহুদিচক্র ও সাম্রাজ্যবাদীরা ইসলাম ও মুসলিমদের ব্যাপারে ঈর্ষান্বিত। তারা বিশ্বের দেশে দেশে মুসলমানদের মধ্যে নানাভাবে উসকানির মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টি করে পরস্পরকে হত্যা করাচ্ছে।

রেডিও তেহরানের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন সুরেশ্বরের শাহ সুফি সৈয়দ নুরে আখতার হোসাইন আহমদি নুরি। সাম্রাজ্যবাদীদের চক্রান্তের ফলে বিশ্বে প্রতিদিন অসংখ্য মুসলমানের রক্ত ঝরছে এবং তারা নিহত হচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ দৃঢ় হচ্ছে যে কারণে ইহুদিবাদীরা ও সাম্রাজ্যবাদীরা ঈর্ষান্বিত হয়ে এ ধরণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

সম্প্রতি ইরানে ‘ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ’ উপলক্ষে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিতে এসে রেডিও তেহরানকে এসব কথা বলেন হোসাইন আহমেদ নুরি।

সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি শেখ আব্দুল আজিজ আশ-শেইখ সম্প্রতি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করাকে ‘পুরোপুরি হারাম’ বলে ফতোয়া দিয়েছেন। সুরেশ্বর পীর তার ওই ফতোয়ার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, রাসুল (সা.)’র পৃথিবীতে আগমনের দিন খুশির দিন-ঈদে মিলাদুন্নবী। তাঁকে সৃষ্টি করা না হলে কুল মাখলুকাতকে সৃষ্টি করা হতো না। সেই রাসুল (সা.)’র জন্মদিন নিয়ে কোনো ফতোয়া দেয়ার বৈধ অধিকার সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতির নেই। সৌদি গ্রান্ড মুফতিকে তিনি ওহাবি বলেও মন্তব্য করেন।

গ্রান্ড মুফতি সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, সে প্রকৃত অর্থে ইসলাম এবং মুসলমানের ঈমানকে সংরক্ষণ করছে না। বরং সে বিশ্বে রাসুল (সা.)’র ভক্তদের মহব্বতকে ক্ষুণ্ন করার জন্য এতবড় আঘাত হেনেছে। সৌদি গ্রান্ড মুফতি ঈদে মিলাদুন্নবীকে হারাম বলে ফতোয়া দিয়ে কুরআনের বাইরে এসে অনধিকার চর্চা করেছে। তিনি ইসলামি ঐক্যসহ এর বিভিন্ন দিক নিয়েও কথা বলেছেন।

সত্য প্রতিষ্ঠার সময় বহমান

সংলাপ ॥ যারা বিশ্বের সামনে ইসলামকে প্রগতিশীল বিশ্বাস হিসেবে উপস্থাপন করতে চান তারা রক্ষণশীল ইসলামের ধ্বজাধারীদের কারণে অসুবিধার সম্মুখীন। এই সংঘাত অনিবার্য যখন যুক্তির বিরুদ্ধে অমূলক ধারণার দ্বন্দ্ব ঘটে। প্রগতিশীলদের এই যুক্তিযুক্ত উপস্থাপনায় একটি বড় অংশের বোধ আছে কিন্তু তারা এর সমর্থনে উচ্চবাচ্য করা থেকে বিরত থাকেন ভীতির কারণে। ইসলামের নামে ১৫০০ বছর ধরে চলতে থাকা প্রবহমান ভীতিচক্রের কারণেই এই পরিস্থিতির উদ্ভব। এই প্রবহমান ভীতি অতি কৌতুহলী ধর্মবেত্তাদের দ্বারা সৃষ্ট একটি রাক্ষস যা ধর্মভীরুদের উপর তাদের প্রভাব বিস্তারে সাহায্য করে আসছে। এটি একটি দীর্ঘ মেয়াদী ধর্মীয় ষড়যন্ত্র। মুসলমানদের মধ্যে এ ধরনের চিন্তা-চেতনার সংঘাত নতুন নয়। অতীতে সবসময় এ ধরনের চিন্তার মানুষেরা ছিলেন যারা এর বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তাদের ব্যর্থ করে দেয়া হয়। বর্তমান সময় যুক্তি ও কারণ প্রগতিবাদীদের শক্তি এবং তারা চাইলে তাদের কণ্ঠ মানুষকে শোনাতে পারেন। তারা এখন ধর্মান্ধ ও অবহেলাপরায়ণ মোল্লা এবং কোটি কোটি ধর্মভীরুদের মাঝে অবস্থান করছেন। এই ধর্মভীরুরা প্রশ্ন করতে ভয় পায় কিন্তু তারা শুনতে আগ্রহী। কেউ মানুক আর না মানুক ধর্মের অবস্থান এখন দুই নৌকার মাঝে। নতুন প্রজন্মের মাঝে যুক্তি এবং কারণ না ঢুকানো হলে আগামীতে তারাই বিশ্বাসের ভীত নাড়িয়ে দেবে। শুধুমাত্র ধর্মবেত্তাদের রক্ষণশীলতা ও অন্ধত্বের উপর অভিশাপ বর্ষণ করে এই লক্ষ্য অর্জিত হবে না। চিন্তাবিদদের জিজ্ঞাসা এই ধরনের পরিসি’তিতে পরিকল্পনাটা কী হওয়া উচিত? এই অভিযানের কার্যপ্রণালী কী হওয়া উচিত?

মার্টিন লুথারের সংস্কার আন্দোলনের কারণে মধ্যযুগে খ্রিষ্টান ধর্ম এই ধরনের একটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল। তিনি শুধুমাত্র প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত হননি বরং তার নিজস্ব প্রোটেস্টেন্ট চার্চ প্রতিষ্ঠা করেন যার কারণে খ্রিষ্টান ধর্ম স্থায়ীভাবে ভাগ হয়ে যায়। এই সংস্কার আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা সবসময় ছিল কারণ সকল ধর্মের শিকড় প্রার্থনা ঘরেই অবস্থিত। এই শিক্ষা এখন সকল ধর্মের বিশেষ করে ইসলামের প্রগতিশীলদের পূনঃপরীক্ষা করার সময় এসেছে। ধর্মান্ধ তথাকথিত ইসলামী ধর্মবেত্তাদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার উপর আঘাত হানতে এটি হবে একটি সাহসী পদক্ষেপ। ইসলামের মূল্যবোধগুলো পুনঃবিবেচনা করার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মভীরুরা যে প্রথাগত ধর্ম প্রচার ও প্রসার ব্যবস্থায় আস্থাশীল সেভাবেই এগুতে হবে।

পশ্চিমে প্রগতিশীলরা একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন যেখানে তারা প্রার্থনার জন্য তাদের নিজস্ব পন্থা উদ্ভব করতে পারেন। এর কারণে অবশ্যই রক্ষণশীল মুসলমান বিশ্বে এক প্রবল ঝড় বয়ে যাবে। এটি হবে একটি অচিন্তনীয় ও লক্ষণীয় কাজ। প্রগতিশীলরা মনে করেন এর কারণে তাদের অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। ধর্মান্ধরা হয়তো তাদের অন্য নামে অভিহিত করতে পারেন – এই প্রশ্নের উত্তর তাদের পন্থার উপর নির্ভর করছে এবং সময়ই তা বলে দেবে। তারা প্রচার করবেন যে ইসলামে ধর্মান্ধ মোল্লাদের কোন স্থান নেই। শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় আইনেই সর্বশ্রেষ্ঠ শাসন ব্যবস্থা চলবে। মোল্লা চক্রকে সমূলে উৎপাটন করতে নতুন প্রার্থনা ঘরে তাদের কোন স্থান দেয়া যাবে না। তাদের ফতোয়া দেয়ার অধিকার সম্পূর্ণ হরণ করতে যুক্তি এবং প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় শাসনকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। প্রগতিশীলদের প্রার্থনায় ভীতি ছড়াবে না বরং তা যুক্তি ও বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠা করবে। তোতাপাখির মতো রূপকথা এবং ভীতি প্রদর্শনে খুৎবা পাঠ করা হবে না। প্রার্থনা হবে বাস্তবধর্মী চিন্তার উপর ভিত্তি করে এবং হঠাৎ করে আকাশ থেকে সবকিছু হয়ে যাবে এরকম আশা করা যাবে না। আধিপত্যবাদিতাকে ধ্বংসের লক্ষ্যে এই ধরনের প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত অভিমতকে শ্রদ্ধা করা হবে। তারা নির্ভর করবেন আস্থা ও শ্রদ্ধার উপর এবং ব্যক্তিগত মতামতকে বিবেচনা করতে যুক্তি ও দর্শনের সম্বনয় ঘটাবেন। অবহেলা এবং ভীতির ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকা ষড়যন্ত্রকারী ধর্মান্ধ ধর্মবেত্তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এটিই যুগের আহ্বান।

সড়ক দুর্ঘটনার দায় কার?

accidentসংলাপ ॥ বাংলাদেশের বিভিন্ন মহাসড়কে গত শনিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং আরো অন্তত ৩৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের ছেলে শরিফ রানা (৪১)। সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুতে শরিফ রানাকে বহনকারী পাজেরো জিপ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।  ঢাকা, টাঙ্গাইল, চুয়াডাঙ্গা, জয়পুরহাট, পাবনায় ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। ভোর রাত থেকে ঘন কুয়াশা ও বেপরোয়া গতিই এসব দুর্ঘটনার কারণ বলে পুলিশ ও যাত্রীরা জানিয়েছেন।

এদিকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর এলাকায় দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বাসের চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরো ১০ জন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে ছোট বড় ৬ হাজার ৫৮১ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৮ হাজার ৬৪২ জনের প্রাণহানি হয়েছে; আহত হয়েছেন ২১ হাজার ৮৫৫ জন।

২০১৫ সালের এ সব দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, ৫৩৫ জন পরিবহন শ্রমিক ও ৫১৯ জন চালকসহ ২৮০ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ১ হাজার ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী, ৩০৫ জন শিক্ষক, ১৩৩ জন সাংবাদিক, ১০৯ জন ডাক্তার, ১২৪ জন আইনজীবী ও ১০৬ জন প্রকৌশলী।

২০১৫ সালের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, দুর্ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের তালিকায় রয়েছে ১ হাজার ১৮৫টি বাস, ১ হাজার ৫৬ টি ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, ১ হাজার ৩৩টি নসিমন-করিমন, ১ হাজার ৭১ টি ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা ১ হাজার ৬৭৮টি অটোরিকশা, ১ হাজার ৭৭১টি মোটরসাইকেল, ৮৭২টি হিউম্যান হলার এবং ৮৫২টি প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাস।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব আনুযায়ী – দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সড়ক পথে দুর্ঘটনার সংখ্যা কম। তবে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরো কমিয়ে আনা যেত যদি আইনের কার্যকর প্রয়োগ ঘটতে এবং চালকরা সতর্ক হতো।

দুর্ঘটনার জন্য ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থাপনা, অনুপযুক্ত যানবাহন, অদক্ষ চালক ও যাত্রীদের সচেতনতার অভাবকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সরকারের বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকা দরকার। ২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে হাত পা হারিয়ে বা অন্য কোনো অঙ্গ হারিয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ১ হাজার ৩০৫ জন। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে-এসব দুর্ঘটনার বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দারিদ্র্যের কাতারে নেমেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

ভিতরের মদদেই পাঠানকোটে জঙ্গিরা

11সংলাপ ॥ ভারতের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে জঙ্গিদের ঢুকতে সাহায্য করেছিল ভিতরেরই কোনও কর্মী। ধারণা এন আইএ-র। ঘটনার রাতে ঘাঁটির তিনটি ফ্লাডলাইটের মুখ আকাশের দিকে ঘোরানো ছিল, যাতে জঙ্গিরা অন্ধকারে নির্বিঘ্নে পাঁচিল টপকে ঢুকতে পারে। এজন্য সেনা মিলিটারি এবং প্রযুক্তি বিভাগের এক কর্মীকে আটক করে জেরা করা হচ্ছে। গুরদাসপুরের এস পি সলবিন্দর সিংয়ের ওপরেও ক্রমেই সন্দেহ বাড়ছে এনআইএ-র। খুব শিগগিরই দিল্লি বা বেঙ্গালুরুতে নিয়ে গিয়ে পলিগ্রাফ পরীক্ষা করানো হবে তাঁর। দুই ফেরার জঙ্গির খোঁজে টিবরিতে জারি তল্লাশি। আমেরিকার চাপে পাকিস্তানের আই বি প্রধানকে পাঠানকোট হামলার তদন্তের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।

পাঠানকোট হামলা সম্পর্কে ভারত যা তথ্য দিয়েছে তার ভিত্তিতে পাক আই বি’কে তদন্তের নির্দেশ দিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। বৃহস্পতিবার প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশের আই বি প্রধান আফতাব সুলতানের হাতে ভারতের দেয়া তথ্য প্রমাণ তুলে দেন শরিফ। শুক্রবারও ফের একবার এই নিয়ে প্রশাসনিক কর্তাদের বৈঠক করেন তিনি, যাতে ছিলেন পাক সেনা প্রধান রাহিল শরিফ। ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে পাক নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাসের খান জানজুয়াকে। এই বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের সমস্ত প্রতিষ্ঠান ও সামগ্রিক নেতৃত্ব একযোগে কাজ করছে। ইতিমধ্যে পাঠানকোট হামলার তদন্ত নিয়ে পাকিস্তানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে আমেরিকা। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জন কিরবির আশা, খুব শিগগিরই এই হামলার পূর্ণ এবং স্বচ্ছ তদন্ত করবে পাকিস্তান। এদিকে আমেরিকা, চীন, আফগানিস্তান, ইতালির পর পাঠানকোট হামলার তীব্র নিন্দা করল জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া।

হামলার দিন বায়ুসেনা ঘাঁটির একটি আবাসনের ভিতর থেকে সেনাকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েক ঘন্টা গুলি চালায় জঙ্গিরা। জওয়ানদের পাল্টা গুলিতে জঙ্গিদের মৃত্যুর পর সেখান থেকে উদ্ধার হয় বেশ কিছু পেইনকিলার, সিরিঞ্জ, তুলো, খাবার। তদন্তকারীরা জেনেছে, পেইনকিলারগুলো লাহোরে তৈরি। আর সিরিঞ্জগুলো করাচিতে। ভারতে অনুপ্রবেশের পর জঙ্গিরা যে দুটো নম্বরে ফোন করেছিল, সেগুলোও পাকিস্তানের। প্রথম নম্বরটি এক জঙ্গির মায়ের। দ্বিতীয়টিতে ফোন করে নির্দেশ নিচ্ছিল জঙ্গিরা। ফোনের অন্য দিকে থাকা কণ্ঠস্বরকে ‘উস্তাদ’ বলে সম্বোধন করছিল তারা। ট্যাক্সি চালক ইকাগর সিং এবং এস পি-র বন্ধু রাজেশ বর্মার মোবাইল থেকে ফোনগুলো করেছিল তারা। চার হ্যান্ডলারের খোঁজ আগের দিনই পেয়েছে গোয়েন্দারা। তারা হল, জৈশ প্রধান মাসুদ আজহার, তার ভাই আবদুল রউফ আসগার, আশফাক এবং কাশিম। এই সব প্রমাণ ভারতের অভিযোগকে আরও মজবুত করবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

টিবরিতে লুকিয়ে থাকা ২ জঙ্গির খোঁজে তল্লাশি প্রায় শেষের পথে। বৃহস্পতিবার টিবরির এক আখের খেতে দুই জঙ্গিকে লুকিয়ে থাকতে দেখেছিল কৃষক সতনাম সিং এবং রাজিন্দর সিং। এবার লাভপ্রীত সিং নামে এক যুবকও একই কথা জানিয়েছেন পুলিসকে। বৃহস্পতিবার সন্ধে ৭টা নাগাদ টিবরি সেতুর কাছে সেনার পোশাক পরা দুই জঙ্গি তাঁকে আশপাশের সেনা ছাউনির ঠিকানা জিজ্ঞেস করে। তাদের পিঠে ছিল গুলোর খাপ। কথা বলার ভাষাও ছিল অচেনা। সেই দেখেই সন্দেহ হয় লাভপ্রীতের। খবর দেয় স্থানীয় থানায়। তার পরেই টিবরির প্রতিটি বাড়ি এবং আখের খেতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করল এন এস জি, সেনা এবং বায়ুসেনার কমান্ডো বাহিনী।

তদন্ত যত এগোচ্ছে, জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ নিয়ে তত খুঁটিনাটি তথ্য উঠে আসছে এন আই এ-র হাতে। তারা জেনেছে, পরিকল্পনামাফিক মূলত দুটি দলে ভাগ হয়ে পাঠানকোট সেনা ঘাঁটিতে ঢুকেছিল জঙ্গিরা। প্রথম দলে ছিল সম্ভবত দু’জন। ১ তারিখ দুপুরের মধ্যেই তারা কোনওভাবে ঢুকে পড়েছিল ঘাঁটিতে। জওয়ানদের চোখে ধুলো দিয়ে সারা দিন লুকিয়ে ছিল সেখানে। ভারতের যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, অস্ত্র মজুত রাখার ঘাঁটি ধ্বংস করার ভার ছিল তাদের ওপর। বাকিদের কাজ ছিল, ঘাঁটির এদিক-ওদিক গুলি ছুঁড়ে জওয়ানদের ভ্রান্ত করা। তারা ১ তারিখ রাতে দড়ি দিয়ে ১০ ফুট দেওয়াল টপকে ঢুকেছিল ঘাঁটিতে। দড়িটি পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ওই রাতে বায়ুসেনারই এক কর্মী তিনটি ফ্লাড লাইটের মুখ আকাশের দিকে ঘুরিয়ে রেখেছিল, যাতে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ কারও চোখে না পড়ে। ভারতীয় জওয়ানদের একাংশের মদত ছাড়া ওই বিপুল পরিমাণ এ কে ৪৭ রাইফেল, গ্রেনেড, ৪০-৫০ কেজি গোলাগুলি নিয়ে জঙ্গিদের বিমানঘাঁটিতে ঢোকা সম্ভব নয়, মত এন আই এ-র। এজন্য বারবার জেরা চলছে বহিস্কৃত বায়ুসেনা আধিকারিক রঞ্জিত কে কে এবং আর এক ধৃতের। ওই বায়ুসেনা জওয়ানকে পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির জন্য ২০১৪ সালে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সলবিন্দর সিংকেও শুক্রবার সমন পাঠাল এন আই এ। সোমবার ফের তাঁকে জেরা করা হবে। বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলার জেরে বদলি করা হল পাঠানকোট এবং দীনা নগর থানার এস পি। পাঞ্জাব পুলিসের জন্য নতুন নির্দেশিকাও জারি করলেন ডি জি। জঙ্গি আনাগোনা আটকাতে রাতে টহলদারিও চালু হবে।

৩১ ডিসেম্বর রাতে এস পি কেন নিরাপত্তারক্ষী ছাড়া ঘুরছিলেন? প্রশ্ন তুললেন ভারতের রাজনীতিকরা। তারা আরও অভিযোগ করেন, ড্রাগ চোরাচালানকারীদের মদত দেয় পাঞ্জাব পুলিসের একাংশ এবং প্রশাসন। তাদের সম্পর্কের এই সমীকরণকে কাজে লাগিয়েই অনুপ্রবেশ করেছে জঙ্গিরা। এজন্য বারবার জঙ্গি হামলার শিকার হচ্ছে পাঞ্জাব। তারা ভারতে জাতীয় সন্ত্রাস মোকাবিলা কেন্দ্র গড়ারও দাবি জানালেন।

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক – আবু আলী আক্তার উদ্দিন আবির্ভাব আবহে অগ্রহায়ণ মাসব্যাপী দেশ-বিদেশে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বাংলা সত্য বাঙালি সত্য, সত্য পাঁচ হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্য। অগ্রহায়ণ সেই সত্যের একটি রূপ, বঙ্গাব্দের একটি বর্ণাঢ্য মাস। বাংলার ঐতিহ্য-ইতিহাস বলে – একদা অগ্রহায়ণই ছিল বাংলা বর্ষ গণনার প্রথম মাস। সময়ের বিবর্তনে আজ সেটি পরিবর্তিত হলেও বাঙালি সংস্কৃতি ও উৎসবে অগ্রহায়ণ শেকড় চেনার, নিত্য নতুন মাত্রা যোগের মাস। হাক্কানী ভক্ত-অনুসারীগণের নিকট অগ্রহায়ণ আনন্দের মাস, পবিত্র মাস। এই মাসেই বাংলার বুকে আবির্ভূত হয়েছিলেন হাক্কানী দুই মহান সাধক পুঁরুষ সূফী সাধক আনোয়ারুল হক – সূফী সাধক আবু আলী আক্তার উদ্দিন। বাংলা, অগ্রহায়ণ এবং হাক্কানী একসূত্রে  মিশেছে। হাক্কানী দর্শন ও আদর্শের আলোকে সত্যমানুষ হয়ে ওঠার প্রত্যয় ও অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিবছর আসে ‘হাক্কানী বর্ষ – অগ্রহায়ণ’। সত্য অনুসন্ধানীগণের নিকট এখানেই রয়েছে প্রকৃষ্ট নিদর্শন।

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক – সূফী সাধক আবু আলী আক্তার উদ্দিন আবির্ভাব আবহে সমগ্র বাংলায় অবস্থিত হাক্কানী আস্তানা, দরবার ও খানকা শরীফে অগ্রহায়ণ মাস উদযাপিত হলো ভক্ত সমাবেশ, শ্রদ্ধা নিবেদন ও শান্তি সমাবেশের মধ্য দিয়েঃ

mirpur 1

অগ্রহায়ণ উদযাপনে মিরপুর আস্তানা শরীফ

 

মিরপুর আস্তানা শরীফ মাসব্যাপী শান্তি সমাবেশের আয়োজন  করে। পহেলা অগ্রহায়ণ ১৪২২, ১৫ নভেম্বর ২০১৫, রবিবার হতে ৩০ অগ্রহায়ণ’২২, ১৪ ডিসেম্বর’১৫ সোমবার পর্যন্ত মাসব্যাপী শান্তি সমাবেশের বিশেষ আয়োজনের মধ্যে ছিল শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনে দুই মহান সাধকের মাজার চান্দপুর শরীফ ও ফরিদপুর শরীফে যাত্রা, হাক্কানী বর্ষবরণ, ভক্ত সমাবেশ, শান্তি সমাবেশ বাণী তাৎপর্য অন্বেষণ, ভাবসঙ্গীত পরিবেশন।

গত পহেলা অগ্রহায়ণ, ১৫ নভেম্বর রবিবার বিকেল ৪.২১ মিনিটে মিরপুর আস্তানা শরীফ প্রাঙ্গনে মানবতার প্রতীক সবুজ তিনটি পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় হাক্কানী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণের শ্রদ্ধা নিবেদনে পতাকা উত্তোলন করেন হাক্কানী মিশন বাংলাদেশের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শাহ সূফী শেখ আমজাদ হোসেন, হাক্কানী মিশন ব্যবস্থাপনা সংসদের সভাপতি শাহ্‌ সূফী মুহাম্মদ মেজবাহ উল-ইসলাম এবং মিরপুর আস্তানা শরীফ মহিলা ব্যবস্থাপনা সংসদের সভাপতি খালেদা খানম রুনু। ব্যান্ড দলে বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীগণ হলেন – মোঃ আরিফ হোসেন, মোঃ মাসুদ রানা, মোঃ মামুন হোসেন, মোঃ নাঈমুর রহমান, রূপা আক্তার, রোমানা আক্তার  ও সাথী আক্তার।

১৪ নভেম্বর শনিবার মিরপুর আস্তানা শরীফের ভক্ত-ও অনুসারীর একটি দল শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনে কিশোরগঞ্জস্থ সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর মাজার চান্দপুর শরীফে পৌঁছান ভোর ৩.৫৫ মিনিটে এবং যথাযথ কৃতজ্ঞতা ও ভক্তির সাথে মহান সাধক এঁর পবিত্র রওজায় গিলাফ ও পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ ও মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

পহেলা অগ্রহায়ণ বিকেল ৪.৩১ মিনিটে ‘হক আনার প্রশংসা তোমার, কৃপা করে ক্ষমো আমায়’ এই হাক্কানী বন্দনা গীত পরিবেশন করেন হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমী পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শাহ্‌ শওকত আলী খান, সদস্য ডা. সুমাইয়া সুলতানা সুমি ও আব্দুল কাদের টিটু। বিকেল ৪.৪৫ মিনিটে হাক্কানী ওজায়িফ পাঠ করেন মিরপুর আস্তানা শরীফ মহিলা ব্যবস্থাপনা সংসদের মহাসচিব শাকিলা ইসলাম। এরপর শুরু হয় বাণী তাৎপর্য অন্বেষণ পর্ব।

উল্লেখ্য এবারে অগ্রহায়ণ শান্তি সমাবেশের বিশেষ আকর্ষণ ছিল সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর বাণী – ‘নিজের বিচার নিজে কর রাত্র-দিনে’, ‘মুর্শিদ দর্শনের মাঝে আত্মদর্শন আর আত্মদর্শনের মাঝে আল্লাহ্‌ দর্শন’ এবং ‘যে ব্যক্তি মনে ও মুখে এক নয় তার ইবাদত শুদ্ধ নয়’ এই তিনটি বাণীর উপর ২৯ দিন চলে বাণী তাৎপর্য অন্বেষণ। এরই ধারাবাহিকতায় গত পহেলা অগ্রহায়ণ হতে ১০ অগ্রহায়ণ পর্যন্ত ‘নিজের বিচার নিজে কর রাত্র-দিনে’ এই বাণীর উপর মোট ৮৮ জন আলোচক তাৎপর্য অন্বেষণ পর্বে অংশগ্রহণ করেন। ১১ অগ্রহায়ণ হতে ২০ অগ্রহায়ণ পর্যন্ত ‘মুর্শিদ দর্শনের মাঝে আত্মদর্শন আর আত্মদর্শনের মাঝে আল্লাহ্‌ দর্শন’ এই বাণীর উপর মোট ৭৫ জন আলোচক তাৎপর্য অন্বেষণে অংশগ্রহণ করেন। ২১ অগ্রহায়ণ হতে ২৮ অগ্রহায়ণ পর্যন্ত ‘যে ব্যক্তি মনে ও মুখে এক নয় তার ইবাদত শুদ্ধ নয়’ বাণীর উপর মোট ৬৯ জন আলোচক তাৎপর্য অন্বেষণ পর্বে অংশগ্রহণ করেন।

১৭ অগ্রহায়ণ সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর শুভ আবির্ভাব উদ্‌যাপনে মিরপুর আস্তানা শরীফ ‘ভক্ত সমাবেশ’- এর আয়োজন করে। বিকেল ৪ টার পূর্বেই বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত হাক্কানী আস্তানা, দরবার ও খানকা শরীফ হতে আগত হাক্কানী ভক্ত ও অনুসারীগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপসি’তিতে ভরে উঠে মিরপুর আস্তানা শরীফ। ৪.০১ মিনিটে ‘হক আনার প্রশংসা তোমার, কৃপা করে ক্ষমো আমায়’ এই উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমী পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শাহ্‌ শওকত আলী খান, সদস্য ডা. সুমাইয়া সুলতানা সুমি ও আব্দুল কাদের টিটু। সন্ধ্যা ৫.১৩ মিনিটে ছিল সান্ধ্যকালীন মঙ্গল প্রার্থনা ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। দরবারের পশ্চিম পার্শ্বে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনে অংশগ্রহণ করেন হাক্কানী মিশন বাংলাদেশের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শাহ সূফী শেখ আমজাদ হোসেন, হাক্কানী মিশন ব্যবস্থাপনা সংসদের সভাপতি শাহ্‌ সূফী ড. মুহাম্মদ মেজবাহ উল-ইসলাম এবং মিরপুর আস্তানা শরীফ মহিলা ব্যবস্থাপনা সংসদের সভাপতি খালেদা খানম রুনু। দরবারের পূর্ব পার্শ্বে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনে অংশগ্রহণ করেন বাহাখাশ মহাসচিব শাহ্‌ শাহনাজ সুলতানা ও হামিবা মহাসচিব শাহ্‌ এন.সি. রুদ্র এবং অগ্রহায়ণ উদ্‌‌যাপন পর্ষদের  সদস্যবৃন্দ। তাঁরা হলেন -১। শাহ্‌‌ শওকত আলী খান (আহ্বায়ক) ২। মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (সদস্য) ৩। আবদুল কাদের টিটু (সদস্য), ৪। মহিউদ্দিন সরকার (সদস্য), ৫। সফিউল আলম খোকন (সদস্য), ৬। সাকিলা ইসলাম (সদস্য), ৭। মমতাজ বেগম (সদস্য), ৮। শাহ্‌‌ আবেদা বানু তরু (সদস্য), ৯। শাহ্‌‌ তৌহিদা জেসমিন (সদস্য)।

বিকেল ৫.১৭ মিনিটে বিশেষ পরিচিতি পর্বে মিরপুর আস্তানা শরীফের তত্ত্বাবধায়ক আবির্ভাব আবহের আনন্দঘন ‘ভক্ত সমাবেশ’ এ সকলের উদ্দেশ্যে বলেন -“মানবজাতিকে শান্তি ও সত্য পথের সন্ধান দিতে মহান সূফী সাধক আনোয়ারুল হক বাংলার বুকে প্রতিষ্ঠিত  করেন মিরপুর আস্তানা শরীফ।  তিনি বলেন, যিনি ভক্ত তিনি তাঁর জীবনের সর্বস্তরে অনুভূতি, অনুভব, উপলব্ধিতে মুর্শিদের স্বভাবের সঙ্গে যোগ রেখে যখন নিজ স্বভাব তৈরি করেন তখন আসে বিশ্বাস। সেখানে দিবা-রাত্রি, পরিবেশ, চাওয়া-পাওয়া নেই। নিজ মাঝে সত্যের আলো দেখতে হয়। শান্তিতো মানবজাতির জন্য। সত্যকে নিয়ে সত্যের সঙ্গে যে একাত্মতা এবং একের সঙ্গে একাত্মতায় যে পথ সেটি যার যার নিজের। বিষয়টি হচ্ছে, সমাজে প্রতিনিয়ত নিজকে একজন সত্য পথের যাত্রী হিসেবে সত্য প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত রাখতে চাই কিনা। হাক্কানীর পথ শান্তির পথ। হাক্কানী দর্শন, প্রচার, প্রসার, বিস্তার ও বিকাশ করার জন্য হাক্কানীর চলার পথে সত্যের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার জন্য এবছর আরও ৮ জনকে শাহ্‌ খেতাবে সম্মানিত করা হয়।

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক -এঁর কৃপায় এবার যে ৮ জন শাহ্‌ খেতাব পেলেন তাঁরা হচ্ছেন ১। শাহ্‌ ফারুক হাসান মল্লিক – প্রধান উপদেষ্টা, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ, ২। শাহ্‌ সাদিয়া আফরিন মল্লিক – সদস্য, উপদেষ্টা মণ্ডলী, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ, ৩। শাহ্‌ মোঃ আকমল ইমাম, সরারচর দরবার শরীফ, কিশোরগঞ্জ। ৪। শাহ্‌ জাহাঙ্গীর আলম – যুগ্ম মহাসচিব, মিরপুর আস্তানা শরীফ ব্যবস্থাপনা সংসদ, ৫। শাহ্‌ আশরাফুল আলম, আনারপুর, নরসিংদী। ৬। শাহ্‌ ফখরুদ্দীন আলী আহমদ – বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ কালিকাপুর, ৭। শাহ্‌ আশরিফা সুলতানা – সদস্য, সংলাপ পরিচালনা পর্ষদ এবং ৮। শাহ্‌ মনোয়ারা সুলতানা, সদস্য, হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ”। এরপর তাঁরা নিজস্ব অভিব্যক্তি তুলে ধরেন এবং  ‘হক আনার প্রশংসা তোমার কৃপা করে ক্ষমো আমায়’ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে কেক কেটে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানে আগত সকলের জন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন পর্ব উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। সকল ভক্ত-আশেকান ও অনুসারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। শুরু হয় ভাবসঙ্গীত পর্ব। হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমীর শিল্পীবৃন্দ, বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ কুষ্টিয়া, গাজীপুর এবং অনুষ্ঠানে আগত অতিথি শিল্পীবৃন্দের পরিবেশনায় ভাবসঙ্গীত ভক্ত – আশেকানবৃন্দকে সারা রাত আনন্দ অবগাহনে রাখে। পরে সকলকে শোধনসেবায় আপ্যায়িত করা হয়।

২৩ অগ্রহায়ণ সূফী সাধক হযরত আবু আলী আক্তার উদ্দিন এঁর শুভ আবির্ভাব উদ্‌যাপনে মিরপুর আস্তানা শরীফ ‘শান্তি সমাবেশে’-এর আয়োজন করে। অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৪.০১ মিনিটে। অনুষ্ঠান সূচীতে ছিল, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, সান্ধ্যকালীন মঙ্গল প্রার্থনা, বাণী তাৎপর্য অন্বেষণ এবং মহান সাধক এঁর জীবনী ও কর্মসাধনা নিয়ে বিশেষ আলোচনা ও শোধনসেবা।

২১ অগ্রহায়ণ শনিবার মিরপুর আস্তানা শরীফের ভক্ত-ও অনুসারীর একটি দল কিশোরগঞ্জস্থ সূফী সাধক আবু আলী আক্তার উদ্দিন এঁর মাজার ফরিদপুর শরীফ পৌঁছান দুপুরে এবং যথাযথ কৃতজ্ঞতা ও ভক্তির সাথে মহান সাধক এঁর পবিত্র রওজায় গিলাফ ও পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ ও মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

মাসব্যাপী অনুষ্ঠানে অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল- প্রতি বৃহস্পতি ও রবিবার হাক্কানী ওজায়িফ পাঠ, ভাবসঙ্গীত,  মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, সান্ধ্যকালীন মঙ্গল প্রার্থনা, বাণী তাৎপর্য অন্বেষণ ও শোধনসেবা।

মাসব্যাপী অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন – মিরপুর আস্তানা শরীফ মহিলা ব্যবস্থাপনা সংসদের সদস্য শাহ্‌ আবেদা বানু তরু, মিরপুর আস্তানা শরীফ ব্যবস্থাপনা সংসদের মহাসচিব আব্দুল কাদের টিটু ও কোষাধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ ইমরান এবং সংলাপ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শেখ সাদি ও মমতাজ বেগম। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন আবির্ভাব উদ্‌যাপন পর্ষদ।

 

বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ, জয়নগর ভোলা

 

১ অগ্রহায়ণ ১৪২২, ১৫ নভেম্বর ২০১৫, রবিবার বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ জয়নগর ভোলায় হাক্কানী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উদ্‌যাপিত হয়। বাদ মাগরিব হাক্কানী প্রার্থনা ও হাক্কানী ওজায়িফ পাঠ এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ‘দিক্‌ হতে দিগন্তে’ স্মরণিকা হতে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক – সূফী সাধক আবু আলী আক্তার উদ্দিন এঁর জীবনী পাঠ করা হয়। মিলাদ, মুনাজাত, ভাবসঙ্গীত ও শোধনসেবার পর  অনুষ্ঠান মূলতবী হয়।

৯ অগ্রহায়ণ, ২৩ নভেম্বর সোমবার বাদ মাগরিব অনুষ্ঠান সূচীতে ছিল হাক্কানী প্রার্থনা, হাক্কানী ওজায়িফ পাঠ, ‘দরবার ও আদব’ পুস্তিকা হতে পাঠ, এশার সালাত, দিক্‌ হতে দিগন্তে প্রকাশিত সাধকদ্বয় এঁর অমৃত কথা (বাণী) পাঠ, মুক্ত আলোচনা, মিলাদ, ভাবসঙ্গীত, মুনাজাত ও শোধনসেবা।

 

বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ ভোলা সদর, ভোলা

 

১ অগ্রহায়ণ ১৪২২, ১৫ নভেম্বর ২০১৫, রবিবার বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ, ভোলা সদরে হাক্কানী বর্ষ বরণ অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠান সূচীতে ছিল হাক্কানী প্রার্থনা, হাক্কানী ওজায়িফ পাঠ, মুক্ত আলোচনা, বর্তমান সংলাপ হতে মহান সাধকদ্বয় এঁর জীবনী পাঠ, মিলাদ ও মুনাজাত। শোধন সেবা বিতরণের পর অনুষ্ঠান মূলতবি ঘোষণা করেন দরবার কার্যকরী পর্ষদের মহাসচিব মোর্শেদা খানম চৌধুরী।

 

বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ হোতখালি, বরগুনা

 

২১ অগ্রহায়ণ ১৪২২ , ৫ ডিসেম্বর ২০১৫ শনিবার বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ হোতখালি, বরগুনায় শান্তি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সকাল ৯.৩১ মিনিটে হাক্কানী প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন হয়। অতঃপর ভক্ত-আশেকান ও অনুসারীগণ শান্তি-পদযাত্রা করেন। স্থানীয় এলাকায় প্রায় ৭ কিঃ মিঃ পথ অতিক্রম করে পদযাত্রা পুনরায় খানকা শরীফে এসে মিলিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় গরীব ও দুস্থদের মধ্যে শতাধিক কম্বল বিতরণ করা হয়। এছাড়াও  গত ১ অগ্রহায়ণ রবিবার স্থানীয় গরীব ও দুস্থদের মধ্যে দুই শতাধিক কম্বল বিতরণ করা হয়েছিল। পদযাত্রা ও প্রাতঃসেবার পর অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব মূলতবী করা হয়।

সন্ধ্যায় মাগরিবের সালাতের পর হাক্কানী প্রার্থনা ও হাক্কানী ওজায়িফ পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের ২য় পর্ব শুরু হয়। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনে অংশগ্রহণ করেন দরবারের সভাপতি ফরিদ জমাদ্দার এবং ভক্ত আলতাফ হোসেন ও মামুন। আবির্ভাব আবহ স্মরণে কেক কেটে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন শাহ্‌ হিমাদ্রি শেখর দেবনাথ কেশব ও বরগুনা হতে আগত সমাজ সেবক মনোয়ার হোসেন। দরবারে আগত সকলে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন পর্বে অংশগ্রহণ করেন।

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর জীবনী এবং ‘দরবার ও আদব’ পুস্তিকা পাঠ করেন শাহ্‌ হিমাদ্রি শেখর দেবনাথ কেশব। আলোচনা করেন দরবারের তত্ত্বাবধায়ক শাহ্‌ মাহবুব আলম নান্টু। ভাবসঙ্গীত পরিবেশন করেন বরগুনা ও পাথরঘাটা থেকে আগত বাংলাদেশ বেতারের বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী মোশতাক আহমেদ ও শাহীন আজাদ এবং স্থানীয় অন্যান্য শিল্পীবৃন্দ। মুনাজাত ও শোধনসেবার পর অনুষ্ঠান মূলতবী হয়।

 

বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ, কুষ্টিয়া

১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২২, ৩ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ কুষ্টিয়ায় শান্তি সমাবেশ উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠান সূচীতে ছিল বিকেল ৪.০১ মিনিটে  মহান সাধক এঁর বাণী ‘বই-কেতাব হতে মানুষ-কেতাব উত্তম’ এর উপর তাৎপর্য অন্বেষণ, সন্ধ্যা ৫.৩১ মিনিটে মাগরিবের সালাত ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ৫.৪১ মিনিটে কেক কেটে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও বরণ মাল্যে সবাইকে বরণ এবং ‘ঘুরে এলাম মিরপুর আস্তানা শরীফ’ বিষয়ের উপর অভিব্যক্তি প্রকাশ পর্ব। ভাবসঙ্গীত, হাক্কানী প্রার্থনা ও শোধনসেবার পর অনুষ্ঠান মূলতবী করা হয়।

 

বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ, খুলনা

 

২২ অগ্রহায়ণ ১৪২২, ৬ ডিসেম্বর ২০১৫ রবিবার বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ খুলনায় শান্তি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিকেল ৪.০১ মিনিটে হাক্কানী বন্দনা ও ওজায়িফ পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। মহান সাধকদ্বয় এঁর বাণী পাঠ করেন শামিমা আক্তার ও রাবেয়া শারমিন। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন শাহ্‌ সূফী শেখ হায়দার আলী, সিরাজুল ইসলাম, সালেহা বেগম, নিশাত আহমেদ, রাবেয়া শারমিন, শামিমা আক্তার ও মাইমুনা আক্তার। মাগরিবের সালাতের পর শুরু হয় বাণী তাৎপর্য অন্বেষণ। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর বাণী ‘যে ব্যক্তি মনে ও মুখে এক নয় তার ইবাদত শুদ্ধ নয়’ এর উপর তাৎপর্য অন্বেষণ করেন-  সিরাজুল ইসলাম, শেখ জামাল হোসেন, নিশাত আহমেদ, শামিমা আক্তার, রাবেয়া শারমিন, এ.এম.জি মহিউদ্দিন, ওয়াহিদুজ্জামান, আবু মূসা এবং আবুল কালাম আজাদ। রাত ৯.১৫ মিনিটে শাহ্‌ সূফী শেখ হায়দার আলী এবং সালেহা বেগম কেক কেটে শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্ব উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে আগত সকলে শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্বে অংশগ্রহণ করেন। শোধনসেবার পর অনুষ্ঠান মূলতবী করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শাহরিয়াজ।

 

বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ, গাজীপুর

 

২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২২, ১১ ডিসেম্বর ২০১৫ শুক্রবার বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ গাজীপুর এর আয়োজনে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ গাজীপুর ব্যবস্থাপনা সংসদের সভাপতি এডঃ মোঃ হাদিউল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শান্তি সমাবেশের আলোচ্য বিষয় ছিল “সত্যের সাথে একাত্মতা”। আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন ঢাকা হতে আগত বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি শাহ্‌ মোঃ লিয়াকত আলী, মহাসচিব শাহ্‌ শাহনাজ সুলতানা, নির্বাহী সদস্য শাহ্‌ ফাতেমা আফরোজ নাসরিন ও সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপের নির্বাহী সম্পাদক শাহ্‌ সারফুল ইসলাম মাহমুদ।

বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ গাজীপুর ব্যবস্থাপনা সংসদের যুগ্মসচিব ডা. মো. নজরুল ইসলাম ফকিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহাসচিব ইঞ্জি. মো. আবদুল হামিদ। অন্যান্যের মধ্যে  বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট বক্তা আল্লামা মুফতি মো. রজব আলী আল কাদরী ও স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আশরাফ উদ্দিন খান আল আমিন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে রাতব্যাপী ভাবসঙ্গীত পরিবেশন করেন হাক্কানী ভক্ত মোঃ খুরশেদ আলম, সাদিয়া আফরিন ও মমতাজ উদ্দিন খলিফা। অনুষ্ঠানে আগত সকলকে শোধনসেবায় আপ্যায়িত করা হয়।

 

বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ, কালিকাপুর

২ অগ্রহায়ণ ১৪২২ , ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫ বুধবার বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ কালিকাপুরে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩.১১ মিনিটে কেক কেটে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের অন্যন্য সূচীতে ছিল হাক্কানী ওজায়িফ পাঠ, জিকির, মিলাদ ও মুক্ত আলোচনা। সন্ধ্যা ৮.১৩ মিনিটে ‘হক আনার প্রশংসা তোমার কৃপা করে ক্ষমো আমায়’ প্রার্থনায় কেক কেটে শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্ব শুরু হয়।

উপস্থিত ভক্ত-আশেকানবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। রাতের শোধনসেবা গ্রহণের পর সারা রাতব্যাপী ভাবসঙ্গীত পরিবেশিত হয়। ভাবসঙ্গীত পরিবেশনায় ছিলেন স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ।

 

সরারচর আস্তানা শরীফ, কিশোরগঞ্জ

 

২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২২, ১১ ডিসেম্বর ২০১৫, শুক্রবার সরারচর আস্তানা শরীফে আশেকান সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮.০১ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে আগত সকল আশেকান এই দুই মহান সাধক স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন সকাল ৮.৩১ মিনিটে। সকাল ১১টায় ছিল বিশেষ মিলাদ মাহফিল। দরবারে আগত শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে ১২.০১ মিনিটে কেক কেটে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এরপর ছিল মধ্যাহ্ন শোধনসেবার বিরতি।

বাদ আসর বিকেল ৫.৩১ মিনিটে শুরু হয় জিকির ও মিলাদ মাহফিল। সূফী সাধক আবু আলী আক্তারউদ্দিন এঁর মূল্যবান বাণী ‘সত্য দেখার আগে সত্য নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠা করা শ্রেয়’ এর উপর বাণী তাৎপর্য অন্বেষণ শুরু হয় সন্ধ্যা ৬.৩১ মিনিটে। বাণী তাৎপর্য অন্বেষণে অংশগ্রহণ করেন সরারচর আস্তানা শরীফের ভক্ত মোঃ শরফুল ইসলাম, আহাদ আলী মাস্টার, সিরাজুল ইসলাম, আবেদ আলী, সোহরাব হোসেন, মোঃ হুমায়ুন কবির ভূইয়া, মোঃ শহিদুল ইসলাম, নিউটন সাহা। রাত ৯.০০ মি. হতে ভোর পর্যন্ত ভাবসঙ্গীত ও ভোর ৪.০০ মিনিটে মুনাজাত ও শোধনসেবা বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান মূলতবী হয়। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন আস্তানা শরীফ ব্যবস্থাপনা পরিষদ।

 

বিবি ফাউন্ডেশনে শ্রদ্ধা নিবেদন

২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২২, ৯ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে আবির্ভাব আবহে বিবি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীর ধানমন্ডিতে অনুষ্ঠিত হল শান্তি সমাবেশ। এ আয়োজন ছিল ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন আমেজে সত্যানুসন্ধানীদের জন্য বিশেষ আয়োজন। শতাধিক তরুণ রাজনৈতিক কর্মীর সাথে সত্যব্রতী – সত্যানুসন্ধানী মানুষের এ এক মনোমুগ্ধকর  মতবিনিময়। গানে আলাপচারিতায় বক্তব্যে ছিল দেশপ্রেমের নতুন উন্মাদনা, সহজ সত্যের সহজ উপস্থাপন। সভ্যতায় সত্য মানুষের পদচারণা বিশেষত বাংলায় তাদের রেখে যাওয়া দৃষ্টান্ত কিভাবে জাগ্রতচিত্তে জীবনের জয়গান শোনাচ্ছে পথপ্রদর্শন করছে তা উঠে আসে আলোচনায়। মুক্তিযুদ্ধ বাংলার ইতিহাস দেশের অভ্যন্তরে অন্ধকারের রাজনীতির খোলামেলা বিশ্লেষণ আলোচনাকে সমৃদ্ধ করেছে। আগ্রহীরা জানতে পেরেছে খুব কাছে থাকা এমন সব সত্য যা তাদের কাছে এতদিন এক প্রকার অজানা ছিল কিংবা সংশায়বৃত্তে আবদ্ধ ছিল।

সত্য সুন্দর যে সর্বত্র নানা রূপে, স্থান কাল পাত্র ভেদে রং বদলায় আপনায় মহীমায় প্রকাশ করে ঐশ্বর্যের দিপ্তী তাই তো দেখা গেল ধানমন্ডির ব্যস্ত আঙিনায়। অগ্রহায়ন শান্তি সমাবেশের শিরোনাম ছিল ‘সুপ্রভাত জানাতে চাই সত্য সমাগত’।

ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে উপস্থিত নব প্রাণে, যা এইসব অজানা প্রাণে নতুন সুর তুলবেই। আমরা পৌঁছাতে চাই বহুদূর। বলতে চাই বলার পরিবেশ সুযোগ সৃষ্টি করে উচ্চে তুলে ধরতে চাই সত্যের ঝান্ডা। শান্তি, সাম্যের উদার অসাম্প্রদায়িক বাংলায় সত্যের জয় হবে মিথ্যা পরাভূত হবে এটাই বিবি ফাউন্ডেশনের পথ যাত্রার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য। আত্মজাগরিত প্রকাশে অসংকোচে দৃঢ় প্রত্যয় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবেই সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।

মাগরিবের নামাজের পর কেক কেটে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ছাত্রনেতৃত্বের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠা রাজনীতিক বিবি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বাহাদুর বেপারী, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শাহ্‌ সূফী শেখ আমজাদ হোসেন, সহ-সভাপতি ও হাক্কানী যুব উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ টিটু।

বাহাদুর বেপারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শাহ্‌ সূফী শেখ আমজাদ হোসেন, ইমতিয়াজ আহমেদ টিটু, তারিক মাহমুদ টিপু, সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ পরিচালনা পর্যদের সদস্য ড. আলাউদ্দীন আলন প্রমুখ।

সূফী সাধকগণ এঁর জীবন কর্ম অন্বেষণের গুরুত্ব জানানোর পাশাপাশি, মিথ্যাচারের কাল্পনিকতার আবর্তে কিভাবে অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে শান্তি (ইসলাম) ধর্মের সৌন্দর্য আবেদন, কিভাবে আবারো সত্য আমাদের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে আমাদের করণীয় কি হতে পারে সেসব নিয়ে দিকনির্দেশনা মূলক আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগ, কেন্দ্রীয় উপকমিটি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। এছাড়া আরো ছিলেন অগ্রণী ব্যংকের উপমহাব্যবস্থাপক ড. এমদাদুল হক, বর্তমান সংলাপ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শাহ্‌ শেখ মজলিস ফুয়াদ, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সচিব মাহবুব আহমেদ প্রমুখ।

সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক ড. সাইম রানা, ওস্তাদ হানিফ রতন, তারিক মাহমুদ টিপু ও সুরভী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নজরুল ইশতিয়াক।

 

চান্দপুরশরীফ, কিশোরগঞ্জ

 

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আবির্ভাব আবহে অগ্রহায়ণ মাসব্যাপী কিশোরগঞ্জস্থ চান্দপুর শরীফে শান্তি সমাবেশ উদ্‌যাপিত হয়। সারা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল হতে আগত ভক্ত-আশেকানবৃন্দ মহান সাধক-এঁর রওজায় গিলাপ ও পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, হাক্কানী প্রার্থনা,  ও মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। একইসাথে মা ভক্ত এই সাধক-এঁর রওজার পাশে অবস্থিত মা’এর রওজায়ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

১৭ই অগ্রহায়ণ বিশেষ অনুষ্ঠান সারাদিনই উন্মুক্ত ছিল শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন জন্য। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত হাক্কানী দরবার/আস্তানা/ খানকা শরীফ থেকে আগত ভক্তগণ গিলাপ ও পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

মাসব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্য সূচীর মধ্যে ছিল হাক্কানী ওজায়িফ পাঠ, মুক্ত আলোচনা, ভাবসঙ্গীত, হাক্কানী প্রার্থনা, মুনাজাত ও শোধনসেবা।

 

ছোটাবন্দ হাক্কানী দরবার শরীফ শিবপুর, নরসিংদী

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক স্মরণে ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫ শুক্রবার ছোটাবন্দ হাক্কানী দরবার শরীফ, শিবপুর নরসিংদীতে শান্তি সমাবেশ উদ্‌যাপিত হয়। বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য ছিল আলোচনা সভা, প্রার্থনা, শোধনসেবা। আলোচনার বিষয় ছিল -‘হাক্কানী শিক্ষায় দরবার শরীফ’। দরবারের ভক্ত-আশেকানগণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

 

বার্মিংহামে শান্তি সমাবেশ

 

২২ অগ্রহায়ণ’ ১৪২২, ৬ ডিসেম্বর’১৫ রবিবার বার্মিংহামস্থ নিজস্ব বাসভবনে আবির্ভাব আবহ অনুষ্ঠান উদযাপন করেন হাক্কানী ভক্ত দিলশাদ অন্তরা, রুপক আমিনুজ্জামান, রিমেন রুদ্র এবং সালেহ আল দীন। মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে, কেক কেটে তারা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। হাক্কানী প্রার্থনা ও শোধনসেবা গ্রহণের পর অনুষ্ঠান মূলতবী হয়।

 

সত্যাশ্রম, বিশাউতি, কলমাকান্দা

 

১০ অগ্রহায়ণ ১৪২২, ২৪ নভেম্বর ২০১৫ মঙ্গলবার সত্যাশ্রম বিশাউতি’র ভক্ত-আশেকানগণ শান্তি সমাবেশের আয়োজন করেন। কেক কেটে শ্রদ্ধা নিবেদনের সাথে অনুষ্ঠান সূচীতে ছিল মঙ্গল প্রার্থনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শোধনসেবা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভাবসঙ্গীত পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ।

 

অগ্রহায়ণ সমাপনী অনুষ্ঠান, হাক্কানী আস্তানা শরীফ

 

অগ্রহায়ণ সমাপনী অনুষ্ঠান উদ্‌যাপিত হয় ঢাকার আহম্মদনগরস্থ হাক্কানী আস্তানা শরীফে ৩০ অগ্রহায়ণ’২২, ১৪ ডিসেম্বর’১৫ সোমবার। বিকেল ৪.৩১ মিনিটে হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণের শ্রদ্ধা নিবেদনে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে পতাকা উত্তোলন করেন হাক্কানী মিশন বাংলাদেশের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শাহ সূফী শেখ আমজাদ হোসেন, সভাপতি শাহ্‌ সূফী ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলাম এবং বাহাখাশ কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি শাহ মোঃ লিয়াকত আলী। সন্ধ্যা ৫.১০ মিনিটে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও সান্ধ্যকালীন মঙ্গল প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করেন হাক্কানী পরিবারের মোট ২৭ জন সদস্য। সন্ধ্যা ৫.২১ মিনিটে ‘আবির্ভাব’ বিষয়ের উপর মুক্ত আলোচনা করেন –  বাহাখাশ কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি শাহ মোঃ লিয়াকত আলী, মহাসচিব শাহ শাহনাজ সুলতানা, সদস্য শাহ্‌ ফাতেমা আফরোজ নাসরিন, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ ব্যবস্থাপনা সংসদের সভাপতি শাহ্‌ সূফী ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলাম, মহসচিব শাহ্‌ এন.সি.রুদ্র,  সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ টিটু, হাক্কানী পরিবারের সদস্য ও উদীয়মান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাহাদুর ব্যাপারী, হাক্কানী নিবেদিত প্রাণ তারেক মাহমুদ টিপু, সংলাপ পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী সম্পাদক শাহ্‌ সারফুল ইসলাম মাহমুদ, সদস্য নজরুল ইশতিয়াক ও ড. আলাউদ্দিন আলন।

০৮.০১ মিনিটে কেক কেটে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন – শাহ্‌ শওকত আলী খান, শাহ্‌ সাহানাজ বেগম পিনু, হায়দার আলী খান বহুলুল, রাজলক্ষ্মী, লাজিন, সূর্য, তানজিম, নিশি ও আবদুল কাদের টিটু। রাত – ৮.১১ মিনিটে ‘জ্যোতির্ময়’ প্রদর্শন এর পর শুরু হয় ভাবসঙ্গীত পর্ব। ভাবসঙ্গীত পরিবেশন করেন অতিথি শিল্পী মোঃ রেজাউল করিম, লিমা ইসলাম, বর্তমান সংলাপের নির্বাহী সম্পাদক শাহ্‌ সারফুল ইসলাম মাহমুদ, হাক্কানী নিবেদিত প্রাণ তারেক মাহমদু টিপু ও দীপ। বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ গাজীপুর হতে আগত শিল্পী খুরশীদ আলম, বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ কুষ্টিয়া হতে আগত শিল্পী রাজীব, জহির, মামুন, পথিক, মানিক সফিক, খাইরুল, ঈমন, শামীম, জাহাঙ্গির, হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমীর শিক্ষার্থী ডাঃ সোহানা, সাজনা, নিটোল, শাহনূর এবং একাডেমীর সভাপতি শাহ্‌ শওকত আলী খান, সদস্য আবদুল কাদের টিটু, ডাঃ সুমাইয়া সুলতানা সুমি, এবং একাডেমীর ওস্তাদ আকরাম হোসেন বাবলা ও ওস্তাদ হানিফ রতন। বাঁশিতে ছিলেন মোঃ ফায়জুল রহমান, তবলায় রাজিব ও কি-বোর্ডে দ্বীপ। সারা রাতব্যাপী পরিবেশিত ভাবসঙ্গীত উপস্থিত ভক্ত-আশেকানদেরকে ভাবের জগতে নিমগ্ন রাখে। ভোর ৫.১৫ মিনিটে মুনাজাত ও শোধনসেবা গ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান পরবর্তী অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত মূলতবী রাখা হয়।