ভিতরের পাতা

গুরু নামের স্মরণ ০৪

শাহিনুর আক্তার ॥ ভোলা দরবার, নিঝুম দ্বীপ, দ্বীপের মাটিতে চোখ বুজে তাঁর শুয়ে থাকা। ভোলা দরবারে বড় পুকুরে একটা ‘জলযান’ প্রস্তুত ছিল। ফুলের উপাচারে সজ্জিত। মামার জন্য আসন পাতা। সকলে বারে বারে তাঁর জলযানে সঙ্গী হচ্ছিলো আর প্রার্থনা সঙ্গীত গাওয়া হচ্ছে সমেবেত স্বরে। আমার ছোট ছেলেটা বিরক্ত করছিল তাই আমি দরবারে কক্ষেই ছিলাম। বের হলাম দেখলাম পুকুর থেকে বড় বড় মাছ তোলা হচ্ছে। বিভিন্ন মানুষ নিজ নিজ কাজে ব্যাস্ত। আমার ছেলে বললো আম্মু নানাভাই তো পুকুরে খুব মজা করছেন। সবাইকে চড়িয়েছেন, তুমিও যাও। ছোটকে নিয়ে পাড়ে দাঁড়িয়ে আছি। মামা ভীষণ খুশি ছিলেন, বেশ হাসিখুশি। আমাকে ছোট’র নাম জিজ্ঞেস করলেন, আমি বললাম ‘সালেহ আল রাজীন’। শুনে বললেন ভালো হয়েছে। জুবায়ের জী জলযানের সাথে ভাসছিলেন। দড়ি দিয়ে জলযানকে টেনে টেনে ঘুড়িয়ে আনা হচ্ছিল।  মামার দিকে তাকিয়ে তাঁর সেই হাসিমুখ অদ্ভত ভালোলাগা যেন মনে রঙ্গিন প্রজাপতির মত। নিঝুম দ্বীপের নৌকায় যেতে যেতে যে নৈস্বর্গের ছোঁয়া মানুষের চোখে ধরা পড়েছে তা কল্পনাতীত। এমন কাফেলা এমন মহামানবের রহমতের ছোঁয়া পাওয়া এ জীবনে হবে না, এযে তোমার অপার রহমতের ধারা।

০১/০৪/১৯ইং পাইকপাড়া দরবার – এ সত্যব্রত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করি। আমার সাথে আমার ছোট ছেলে ছিলো। আমার পাশে বসা ছিল। কিন্তু বার বার সে মামার কাছে চলে যাচ্ছিল । স্বেচ্ছাসেবী যারা ছিল ওরা সামলাতে পারছিল না। আমিও তাকে আটকাতে পারছিলাম না। বিরতি পর্বে আমার মায়ের বাড়ি চলে আসি। ০৩/০৪/১৯ইং চলছে রজব মাসব্যাপী অনুষ্ঠান। আমি দরবারে খুব একটা উপস্থিত হতে পারি না। বৃহস্পতিবার মিলাদে আমার জন্য এতটা চমক আমার জন্য অপেক্ষা করছিল ভাবিনি। মিলাদ প্রায় শেষ তখন মাসুম এসে বললো,  আপনি শাহিনূর আপনার বাসা ফার্মগেট? বললাম হ্যা। আবার প্রশ্ন, আপনার ছোট ছেলেকে আনেননি? আমি লজ্জিত হয়ে বললাম,  না আনিনি।  মাসুম বললো, মামা বলে পাঠিয়েছেন – মিলাদ শেষে দেখা না করে যাবেন না। আমি অপেক্ষা করছিলাম যাব। অবাক করে উঠে, মহিলা কক্ষে নিজেই চলে এলেন। হাস্বোজ্জল মুখে বললেন, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন? আপনার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আপনার ছেলেটিকে কেন আনেন নি? এখন সম্পর্ক আমার ওর সাথে। পাইকপাড়া দরবারে ও  আমার পায়ে চুমা খাচ্ছে। হাত দিয়ে পায়ে আদর করছে।’ কথাগুলো যখন বলছিলেন মামাকে ভীষণ উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। তাঁর চোখ -মুখ দেখে আমার ভেতরে এত আনন্দ হচ্ছিল, পৃথিবীর সমস্ত খুশি, সমস্ত সম্পদের অধিকারী, শান্তি , সুখ, আনন্দ যেন আমাকে ঘিরে ধরেছে। আমার মত দীনহীন তুচ্ছ প্রাণীর জন্য এ প্রাপ্তির কোন মূল্য হয় না। জাগতিক পরিমাপক একে পরিমাপ করতে পারে না। 

পরের দিন ক্ষুদে হাক্কানীকে নিয়ে গেলাম।  মামার জন্য ছোট ফুলের তোড়া নিয়ে গেল। একজন সত্যমানুষ অন্যজন শিশু তাই দু’জনের আলাপচারিতায় শিশুসুলভ সৌন্দর্য যেন ঝরে পড়ছে।  রাজীন মামার পাশে বেশ শান্ত  ভাবে বসে আছে। নানা ভাইয়ের কাছ থেকে চকলেট উপহার পেয়ে সে বেশ খুশি। মিলাদ শেষে  মামা রাজীনের সাথে করমর্দন করতে করতে বললেন, ‘আগামীকাল রজবের শেষ, কালকে আবার আসবেন।’ মাথা দুলিয়ে সম্মতি জানালো রাজীন।

পরের দিন দু’জনকে নিয়ে গেলাম। নানাভাইয়ের আদর পেয়ে ভীষণখুশি সে। অনুষ্ঠান শেষে ফিরে এলাম।  একরাশ ভালোলাগা নিয়ে। এত আনন্দ জীবনে হইনি। এত প্রাপ্তিও কখনো ঘটেনি। এত আর্শীবাদ পেয় আমি ধন্য।

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আর্শীবাদপুষ্ট বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ) বার্ষিক সাধারণ সভা ২০১৮ইং নিমন্ত্রণ পাই।  সময়টা ছিল ১৪/০৬/১৯ইং রোজ শুক্রবার। একটু আগেভাগে চলে যাই। যেয়ে দেখি মামা সামনের সারিতে বসে আছেন, নতুন কমিটি গঠন করায়ে, এগারজনের নবগঠিত কমিটিতে আমার নাম ঘোষনা করা হয়। আমি ভীষণ ভাবে চমৎকৃত হই। তাঁর সাথে ছিল শেষ সাক্ষাত। মামাকে সামনা সামনি আর দেখিনি।  বাহাকাশ  চান্দপুর শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষ বেলায়, মামার সাথে দেখা হয়নি। আর সৌভাগ্য হলো না তাঁর সেই দ্বীপ্তিময় মুখশ্রী দেখার। আর হলো না।  তাকেই তো রাগের ভাষায় কথা বলা যায়। যে আমার আপনার আপন আত্মার আত্মীয়। কেন বুঝতে পারিনি কেন তাঁর কাছে বারবার আসিনি। কেন দূরে থেকে অভিমান পুষেছি। আজ কেন আফসোস করছি কেন কাঁদছি। এখন এই ব্যাকুলতার জন্য দুঃখ হয়। তাঁর  চলে যাওয়া বড় বুকে বাজে। তাঁর দর্শনরূপের স্বচ্ছ কাঁচের ভেতর আচ্ছাদিত গিলাফের ফুলের ঝালর বুকের ভেতরটা মুচড়ে ওঠে। আমি সেই বিশাল শুভ্র অবয়বে আপনার স্নিগ্ধ হাসিমাখামুখ দেখতে চাই। আমাদের ভুলের জন্য বজ্রকন্ঠের সেই হুংকার শুনতে চাই। আমাদের বেদনাতুর চোঁখে স্নেহের পরশ পেতে চাই। ভীষণ কষ্ট লাগে, ভীষণ কষ্ট…….

‘সাজানো ফুলের বনে ঝড় বয়ে গেল

সে ঝড় থামার পরে

পৃথিবী আধার হলো

তবু দেখি দ্বীপ গেছো জ্বেলে।

তুমি চলে গেলে…. ’

৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ২০ জুলাই ২০১৯ইং সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ লোকান্তরিত হন।

‘মৃত্যু বলে কিছু নেই আছে রূপান্তর

অনন্ত অসীম স্রষ্ঠা অ-জড় অমর।’

শ্রাবণ যেন আমাদের কাছে করুণার ধারার মতোই  বইয়ে দিলো। অনন্ত কাল ধরে। যত দিন পৃথিবীর বুকে হাক্কানীর ধারা অব্যহত থাকবে।

‘তোমার সমাধি ফুলে ফুলে ঢাকা

কে বলে তুমি নাই

তুমি আছ মন বলে তাই।’ (চলবে)

প্রবাহ

ইয়েমেন ইস্যুতে বাইডেন সরকারের ইতিবাচক অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সরকার ইয়েমেন যুদ্ধ সম্পর্কে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে ব্যাপারে যুদ্ধে জড়িত পক্ষগুলোর মাঝে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতির প্রথম পদক্ষেপেই ইয়েমেনের আনসারুল্লাহর ওপর থেকে অবরোধ এক মাসের জন্য তুলে নিয়েছে। মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, জো বাইডেন কংগ্রেসকে জানিয়েছেন যে, আনসারুল্লাহকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকা থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি বাইডেনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এর আগে পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কির্বিও বলেছিলেন, ইয়ামেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র রিয়াদকে সহায়তা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

বাইডেন সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলোকে বেশিরভাগ কৌশল বলেই মনে হয়। কৌশলটা হলো আনসারুল্লাহ’র সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা। কেননা এটি বর্তমানে ইয়েমেনের সবচেয়ে সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল। অবশ্য এই সিদ্ধান্তগুলো কৌশলগত হলেও এর ইতিবাচকতা রয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে নয়া মার্কিন প্রশাসন আনসারুল্লাহকে ইয়েমেনের প্রভাবশালী একটি দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অপরদিকে বাইডেন সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতি আনসারুল্লাহর প্রতিক্রিয়াও লক্ষণীয়। আনসারুল্লাহ এই সিদ্ধান্তগুলিকে স্বাগত জানিয়ে এই ‘ঘোষিত’ নীতিকে ‘প্রায়োগিক’ নীতিতে রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়েছে।

মার্কিন সরকার গত ছয় বছর ধরে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সৌদি আরবকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। আমেরিকাকে বিশ্বাস করা দুরূহ ব্যাপার। সুতরাং আস্থা সৃষ্টির জন্য যুদ্ধ বন্ধ করতে সৌদি আরবের উপর চাপ সৃষ্টি করার দাবি জানিয়েছে আনসারুল্লাহ।

এ প্রসঙ্গে ইয়েমেনের সর্বোচ্চ বিপ্লবী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আল-হুথি বলেছেন: ‘আমরা বর্তমানে বাইডেনের অবস্থানকে একটি মৌখিক বিষয় হিসেবে নিয়েছি। আমরা যুদ্ধের অবসান এবং অবরোধ তুলে নেয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। ওয়াশিংটনের মদদপ্রাপ্ত সৌদি ও আরব-আমিরাত আগ্রাসন বন্ধ করবে বলে আশা করছি।”

ইয়েমেনে সৌদি হামলা চালিয়ে যাওয়া এবং সৌদি নৃশংসতার ধারাবাহিকতার কারণেই আমেরিকার ব্যাপারে এ ধরনের আস্থাহীনতার মতো প্রতিক্রিয়া আনসারুল্লাহর।

সৌদি আরব অবশ্য বাইডেন সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে নীরব রয়েছে। আবার সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করেছে, তারা গত দেড় বছর ধরে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িত ছিল না। তারা ২০২০ সালের অক্টোবরের পর থেকে ইয়েমেনে সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়েছে।

যাই ইয়েমেন যুদ্ধে বর্তমানে আনসারুল্লাহ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এমনকি কৌশলগত প্রদেশ মার্বেও তারা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথে রয়েছে। সুতরাং বাইডেন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত বরং সৌদি জোটকে ইয়েমেন যুদ্ধের চোরাবালি থেকে বাঁচিয়ে তুলতে পারে।

মার্কিন সরকার ও মিডিয়ার প্রতি জনগণের ব্যাপক অবিশ্বাস : হোয়াইট হাউজ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের অবিশ্বাস ও অনাস্থা দিনকে দিন বাড়ছে। এমনকি হোয়াইট হাউজও এ বিষয়টি স্বীকার করেছে।

মার্কিন সরকার, সার্বভৌমত্ব ও মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতি এই অবিশ্বাসের কারণ হল সেখানকার সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট-নির্বাচন-পরবর্তী নজিরবিহীন সহিংসতা, অর্থনৈতিক মন্দা ও  করোনা ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জেনিফার সাকি  বলেছেন,  সরকার, সংবাদ মাধ্যম ও তথ্য-উপাত্ত এবং পরিসংখ্যানের প্রতি মার্কিন জনগণের মধ্যে ব্যাপক অবিশ্বাস বিরাজ করছে। তিনি বলেন, কোন্টি সঠিক ও কোন্টি সঠিক নয় এবং বাস্তবতা ও বাস্তবতা নয় তা বোঝা যাচ্ছে না!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আমেরিকার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বলে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র দাবি করেন।

হোয়াইট হাউজের স্বীকারোক্তি থেকেই স্পষ্ট মার্কিন সরকার ও গণমাধ্যমের প্রতি মার্কিন জনগণের  অবিশ্বাস ক্রমেই বাড়ছে। এর অর্থ মার্কিন জনগণের মনে দেশটির  সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের গ্রহণযোগ্যতা কমে গেছে।

এই সংকটের এক বড় কারণই হল সাম্প্রতিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পক্ষে নজিরবিহীন কারচুপি হয়েছে বলে পরাজিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ। কেবল তাই নয় ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত। তিনি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থাকেও প্রশ্নের সম্মুখীন করেছেন। ট্রাম্পের মতে এবারের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছিল এবং তার পরোক্ষ আহ্বান ও উসকানিতে একদল উগ্র সমর্থক গত ছয় জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেস ভবনে অভ্যুত্থানের স্টাইলে ভয়াবহ হামলা চালায়।

আর এ বিষয়টি দেশটির রাজনৈতিক সার্বভৌমত্বের বৈধতাকে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেট দলের সমর্থক ও দেশটির রক্ষণশীলদের মধ্যে এখন দিনকে দিন দূরত্ব বাড়ছে এবং উভয় পক্ষের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের মেরুকরণ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। ফলে মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি বাড়ছে দেশটির জনগণের অনাস্থা।

মার্কিন কংগ্রেস ভবনে হামলার ঘটনা দেশটির ঘরোয়া সন্ত্রাস ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা জোরদারের ইঙ্গিতও তুলে ধরেছে। এ ছাড়াও ট্রাম্প সরকারের উদাসীনতার কারণে দেশটিতে করোনা ভাইরাসে মারা গেছে প্রায় ৫ লাখ নাগরিক ও করোনায় আক্রান্ত হয়েছে দুই কোটি আশি লাখ মানুষ। ট্রাম্প সরকারের সময় বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দেশটিতে দারিদ্র ও ক্ষুধা ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে। আর এই অবস্থামোকাবেলা করা এখন বাইডেন সরকারের কর্মসূচির প্রধান অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হল মার্কিন ডেমোক্রেট দলের সমর্থক ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বিতর্ক এখনও চলছে। বাইডেন সরকার এক দশমিক নয় ট্রিলিয়ন ডলারের যে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েছে তার বিপক্ষে ভোট দিয়েছে সব রিপাবলিকান সিনেটর!

মার্কিন রাজনৈতিক এলিটদের মধ্যে এই কাদা- ছোঁড়াছুঁড়িতে দু পক্ষের সমর্থক মিডিয়াগুলোও অংশ নিচ্ছে! ফলে দেশটি সংবাদের জগতের প্রতিও আস্থা হারাচ্ছেন মার্কিন জনগণ!

৩৩ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মিলনমেলায় মিরপুর আস্তানা শরীফ

সত্যের দুর্নিবার ঝাণ্ডা নিয়ে বাংলার এই অঞ্চলে শান্তি (ইসলাম) প্রতিষ্ঠায় পূর্ব দিগন্তে এক মাহেন্দ্রক্ষণে যে জ্যোতির্ময়ের আবির্ভাব ঘটেছিল, তাঁরই জ্যোতি আজ দিক হতে দিগন্তে প্রসারিত। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক সেই জ্যোতি, সত্যের কাণ্ডারী। হাক্কানী হওয়ার পথযাত্রী ও সত্যানুসন্ধানীদের জীবনে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর হুকুমে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত মিরপুর আস্তানা শরীফ হাক্কানী চিন্তনপীঠের প্রাণকেন্দ্র্র। নিজের সত্যকে উপলব্ধি করার নতুন প্রেরণাশক্তি নিয়ে আমাদের জীবনে প্রতিবছর ফিরে আসে মিরপুর আস্তানা শরীফ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, আসে অনাবিল আনন্দ উদ্যাপনের শুভ লগ্ন। ১৯৮৮ সন থেকেই তা হয়ে আসছে। বাংলা ১৩৯৪ সনের ১৩ মাঘ, ইংরেজি ১৯৮৮ সনের ২৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার ‘মিরপুর আস্তানা শরীফ’ প্রতিষ্ঠিত হয় রাজধানী ঢাকার মিরপুরে।

হাক্কানী দর্শনের সত্যমানুষের মহামিলনের পূণ্য তীর্থকেন্দ্র মিরপুর আস্তানা শরীফ দীর্ঘ ৩২ বৎসরকাল অতিক্রম করে এবছর ৩৩-এর প্রোজ্জলন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উে ঠছে। ৩৩ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনে মিরপুর আস্তানা শরীফ ১২ ও ১৩ মাঘ ১৪২৭, (২৬-২৭ জানুয়ারি ২০২১) মঙ্গলবার ও বুধবার পর্যন্ত সত্যানুসন্ধানীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

৩৩ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের প্রারম্ভে কিশোরগঞ্জ জেলার চান্দপুরে অবস্থিত সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর মাজার চাঁন্দপুর শরীফে যথাযথ ভক্তি ও আদবের সাথে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

দু’দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম দিন ১২ মাঘ ১৪২৭, (২৬ জানুয়ারি ২০২১) মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন

জেলায় অবস্থিত হাক্কানী খানকা, দরবার ও আস্তানা শরীফ থেকে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ ও দরবারি ভাই বোনদের নাম নিবন্ধন, বরণ, স্বত:স্ফূর্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ দিন সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট ও সুফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ  (হামিবা)-এর ৩১ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদাযাপিত হয়।

বিকেল ০৪.০১ মিনিটে আস্তানা শরীফ প্রাঙ্গনে পতাকা উত্তোলন করেন মিরপুর আস্তানা শরীফ ব্যবস্থাপনা সংসদের আজমত খান (যুগ্ম-সচিব, মিরপুর আস্তানা শরীফ ও রওজা ব্যবস্থাপনা সংসদ), মহিউদ্দিন সরকার (যুগ্ম-সচিব, মিরপুর আস্তানা শরীফ ও রওজা ব্যবস্থাপনা সংসদ), আবদুল কাদের টিটু (যুগ্ম-সচিব, মিরপুর আস্তানা শরীফ ও রওজা

 ব্যবস্থাপনা সংসদ)। এরপর হামিবা ব্যবস্থাপনা সংসদ-এর নেতেৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন পর্ষদ ও মিরপুর আস্তানা শরীফ ব্যবস্থাপনা সংসদের সদস্যবৃন্দ, বাহাখাশ কেন্দ্রিয় ব্যবস্থাপনা সংসদের সদস্যবৃন্দসহ বাহাখাশের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রকল্পের সদস্যবৃন্দ এবং উপস্থিত দরবারি ভাই-বোন দরবারে পদক্ষীণ করে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ এঁর রওজায় গিলাফ ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এদিন দিবা-রাত্রি সন্ধিক্ষণে দরবারের পশ্চিম পাশের মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জলন ও ফল শোধনসেবার মোড়ক উন্মোচন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হামিবা সভাপতি শাহ্ সূফী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ উল ইসলাম এবং দরবারের পূর্ব পাশের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হামিবা নির্বাহী সভাপতি শাহ ড. আলাউদ্দিন আলন, শাহ্  ড. মো. আলাউদ্দিন আলন (নির্বাহী সম্পাদক, সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ), শাহ্ শেখ মজলিস ফুয়াদ (সদস্য, কুরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র), শাহ্ ইমতিয়াজ আহমেদ টিটু (সভাপতি, হাক্কানী যুব উন্নয়ন বিভাগ), শাহ্ এন.সি.রুদ্র (সভাপতি, স্বাস্থ্য ও সেবা প্রকল্প, হামিবা),

মনোয়ারা সুলতানা (মহাসচিব, মহিলা উন্নয়ন বিভাগ, হামিবা), হারুন-উর-রশিদ (সভাপতি, হামিবা সদস্য উন্নয়ন তহবিল ও সূফী আনোয়ারুল হক স্মারক কল্যাণ তহবিল), সালেহ আল দ্বীন (সভাপতি, হামিবা তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ), ব্যারিষ্টার তানভীর সারোয়ার (সভাপতি, আইন সহায়তা কেন্দ্র হামিবা), দেলোয়ার হোসেন পিন্টু (সদস্য সচিব, হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমী), আমিরুল ইসলাম (সিনিয়র কাউন্সিলর, হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়), মোল্লা হাছানুজ্জামান টিপু (হাক্কানী বিশেষ দূত)। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জলনের পরবর্তী পর্ব ছিল ‘হাক্কানী প্রচার-প্রসারে হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ’ বিষয়ক মুক্ত আলোচনা। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন-অধ্যাপক ড. আহসান আলী (উপদেষ্টা, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ), (মামুন আল হাসান নাজু)

 (উপদেষ্টা, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ), অধ্যাপক ফরিদা হোসেন (উপদেষ্টা, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ), এ্যাডভোকেট এ.কে.এম. সোহেল আহমেদ, (প্রধান উপদেষ্টা, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ), আমিরুল ইসলাম (সিনিয়র কাউন্সিলর, হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়), দেলোয়ার হোসেন পিন্টু (সদস্য সচিব, হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমী), ব্যারিষ্টার তানভির সারোয়ার (সভাপতি, আইন সহায়তা কেন্দ্র হামিবা), সালেহ আল দ্বীন (সভাপতি, হামিবা তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ), হারুন-উর-রশিদ (সভাপতি, হামিবা সদস্য উন্নয়ন তহবিল ও সূফী আনোয়ারুল হক স্মারক কল্যাণ তহবিল), শাহ্ মনোয়ারা সুলতানা (মহাসচিব, মহিলা উন্নয়ন বিভাগ, হামিবা), শাহ্ এন.সি.রুদ্র (সভাপতি, স্বাস্থ্য ও সেবা প্রকল্প, হামিবা), শাহ্ ইমতিয়াজ আহমেদ টিটু (সভাপতি, হাক্কানী যুব উন্নয়ন বিভাগ), শাহ্ শেখ মজলিশ ফুয়াদ (সদস্য, কুরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র), মোল্লা হাছানুজ্জামান টিপু (হাক্কানী  বিশেষ দূত), শাহ ফাতেমা আফরোজ নাসরিন (সদস্য, সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ)। মুক্ত আলোচনা পর্বের সঞ্চালনায় ছিলেন হামিবা নির্বাহী সভাপতি শাহ্ ড. আলাউদ্দিন আলন। প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন মিরপুর আস্তনা শরীফ ব্যবস্থাপনা সংসদের যুগ্ম সচিব আবদুল কাদের টিটু।

সন্ধ্যা ৫.৫১ মিনিটে হামিবা ব্যবস্থাপনা সংসদের নেতৃত্বে কেক কেটে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন উপস্থিত সকল ভক্ত ও আশেকানবৃন্দ। সন্ধ্যা ৮.১৫ ‘ফিরে দেখা’ শিরোনামে ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। রাত ৯.৪৫ মিনিটে শোধনসেবা বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের মূলতবী করা হয়।

দ্বিতীয় দিন ১৩ মাঘ, ২৭ জানুয়ারি, বুধবার সকাল ১০.০১ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হয়। মিরপুর আস্তানা শরীফের ‘প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম’ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন ক্ষুদে হাক্কানী – পার্থ, সাজনা শেখ, সেজুতি, ফারিহা, মীম, নোরা, আহনাফ, তাসমিন, তানজিম, তাজি, নাফিসা ইসলাম ফাইসা, রাজলক্ষ্মী, তাহিরা ইসলাম সামন্তা, উপমনি, তুষার, ঈশরাত, আরোতি, আভা, আলভী, রাইসা, প্রিয়াংকা, পিউলি, ঈশামা, জুবায়ের, ফয়সাল, নিখিল, শরিকা ইসলাম, আনাফী ইসলাম, রাফিজা ইসলাম, সিয়াম, আনজিস। উন্মুক্ত অনুভূতি প্রকাশ  পর্বে : ‘বারে বারে দেখি আপনারে’ অনুভূতি প্রকাশ করেন শাহ্ সূফী শেখ হায়দার আলী (সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী বন্ধু), শাহ্ ইমতিয়াজ আহমেদ, শাহ্ খায়রুল মোস্তাফা, শাহ্ শেখ মজলিস ফুয়াদ।

মধ্যাহ্ন ভোজনের পর ভাবসঙ্গীত পর্ব শুরু হয়। বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্বে বিকাল ৪:০১ মিনিটে অংশগ্রহণ করেন-প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন পর্ষদ ও উপস্থিত ভক্ত আশেকানবৃন্দ এবং অন্যান্য। গিলাপ, ফুল ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের অন্যান্য উপাদান নিয়ে দরবার প্রদক্ষীণ করে মিরপুর আস্তানা শরীফ এর নেতৃত্বে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর রওজায় এবং শাহ্ আনোয়ারা বেগম এঁর রওজায় শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

বিকাল ৫:০১ মি মুক্ত আলোচনা পর্ব – ‘আপন উপলব্ধিতে আমরা সবাই জানি’তে অংশগ্রহণ করেন- শাহ আলম খান (উপদেষ্টা, সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ রওজা শরীফ উন্নয়ন পর্ষদ), আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (চারাবাগ, আশুলিয়া দরবার শরীফ), শাহ্ ইফতেখাইরুল আলম রাসেল (তত্ত্বাবধায়ক, বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ, নবাবগঞ্জ), শাহ্  ফরহাদ হোসেন (তত্ত্বাবধায়ক, বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ, খুলনা), শাহ্ দিলারা নাজমা (তত্ত্বাবধায়ক, বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ, কুষ্টিয়া), শাহ্  শাহাবউদ্দিন খান (তত্ত্বাবধায়ক, বাংলাদেশ               হাক্কানী খানকা শরীফ, ধীতপুর), শাহ্  শাহনাজ সুলতানা (সভাপতি, বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা সংসদ), শাহ্  ফাতেমা আফরোজ নাসরিন (উপদেষ্টা, মিরপুর আস্তানা শরীফ ও রওজা ব্যবস্থাপনা সংসদ)।

দিবা-রাত্রির সন্ধিক্ষণে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও  স্ব স্ব অবস্থান থেকে নীরব স্মরনে অংশগ্রহণ করেন- দরবারের পশ্চিম পার্শ্বে : সফিউল আলম খোকন (আহবায়ক, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন পর্ষদ ১৪২৭), দরবারের পূর্ব পার্শ্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন পর্ষদ ১৪২৭ এর সদস্য সচিব আবদুল কাদের টিটু, সদস্য শাহ্  খায়রুল মোস্তফা, শাহ্  আবেদা বানু, শাহ্  তৌহিদা জেসমিন, আজমত খান, মহিউদ্দিন সরকার,  শহীদুল ইসলাম খান,  মো. মাহবুব আলম, মো. আব্দুল ওয়াহিদ, নাসরিন সুলতানা জুলি, কাজী সবুর। কেক কেটে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন ক্ষুদ্রে হাক্কানী বন্ধুরা ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন পর্ষদের সদস্যবৃন্দ। এরপর বিশেষ পর্ব প্রদর্শিত হয় ‘চিন্ময় চেনা’ শিরোনামে। ভিডিও প্রদর্শনের পর শুরু হয় সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমীর পরিচালনায় ভাবসঙ্গীত পর্ব। ভাবসঙ্গীত পর্বে অংশগ্রহণ করেন হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমীর শিক্ষার্থীবৃন্দ ও অতিথি শিল্পীবৃন্দ। রাত ১১:১৫ মিনিটে হাক্কানী স্মরণ ও নৈবেদ্যের মধ্য দিয়ে ১৪২৮ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পর্যন্ত অনুষ্ঠান মূলতবী হয়।

২ দিনব্যাপী আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মিরপুর আস্তনা শরীফ ব্যবস্থাপনা সংসদের যুগ্ম সচিব ও হাক্কানী আস্তানা শরীফ ব্যবস্থাপনা পর্ষদের মহাসচিব আবদুল কাদের টিটু ও শাহ্ সূফী ডা. সুমাইয়া সুলতানা সুম্মি।

প্রবাহ

সাইবেরিয়ায় মিলল তুষার যুগের 
গন্ডারের অক্ষত দেহাবশেষ

তুষার যুগের গন্ডারের দেহাবশেষ মিলল সাইবেরিয়ায়। প্রায় ৫০ হাজার বছর কেটে গেলেও এখনও সতেজ প্রাণীটির বেশকিছু অঙ্গ। যা দেখে রীতিমতো অবাক বিজ্ঞানীরা। এতো পুরনো দেহও যে এমন ভালোভাবে পাওয়া যাবে তা কল্পনা করতে পারেননি তাঁরা। বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে সাইবেরিয়ায় বরফ গলতে শুরু করায় গত কয়েকমাসে ওই অঞ্চল থেকে ম্যামথ, শরীরে বড় বড় পশম থাকা গন্ডার, সিংহশাবক সহ বেশকিছু প্রাণীর দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে গন্ডারের দেহাবশেষটিরই সবচেয়ে ভালো অবস্থা। তার শরীরের অন্ত্র, চর্বি এমনকী কোষ এখনও পর্যন্ত অক্ষত। বরফের পুরু চাদরে ঢাকা থাকায় সেগুলি নষ্ট হয়নি বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের ধারণা, উদ্ধার হওয়া গন্ডারের দেহাবশেষটি প্রায় ৫০ হাজার বছরের পুরনো। তবে সেটির সঠিক বয়স জানতে রেডিওকার্বন পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যেই পরীক্ষার ফল জানা যাবে।

দুই থেকে তিন বছর বয়সে জলে ডুবে গন্ডারটির মৃত্যু হয় বলে বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক ধারণা। রাশিয়ার উত্তরে অ্যাবিক্স জেলায় তিরেখতাখ নদীর ধারে প্রাণীটির দেহাবশেষ পাওয়া যায়। এর আগে ২০১৪ সালে ওই এলাকা থেকেই একটি  গন্ডারের দেহাবশেষ উদ্ধার হয়। তার শরীরেও বড় বড় লোম ছিল। বিস্তর পরীক্ষানিরীক্ষার পর ‘সাশা’ প্রজাতির ওই গন্ডারটি ৩৪ হাজার বছর আগে মারা গিয়েছিল বলে জানতে পারেন বিজ্ঞানীরা। এবার যে গন্ডারের দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে, তার বয়স আরও অনেক বেশি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে ৪ চরিত্রের করোনাভাইরাস

২০১৯ সালে চিনের উহান প্রদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সন্ধান পাওয়ার পর থেকে সারা পৃথিবীতে এখনও পর্যন্ত চারবার চরিত্র পাল্টেছে এই মারণ ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র পক্ষ থেকে এই নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। হু জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণের পর থেকে একাধিক খবর তারা পেয়েছেন, যেখানে করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন উপসর্গের রোগ দেখা দিয়েছে। আসলে সেগুলি ভাইরাসের নতুন চরিত্রের লক্ষণ, জানিয়েছে হু।

২০২০ সালের জানুয়ারির শেষ ও ফেব্রুয়ারির শুরুতে সার্স কোভ-২-এর একটি ভিন্ন চরিত্রের ভাইরাস, যার নাম ডি৬১৪জি পাওয়া যায়। তারপর বেশ কয়েক মাস ধরে এই চরিত্রের ভাইরাসটি বারবার চরিত্র পাল্টেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ভাইরাসের যে স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছিল, সেটির আমূল পরিবর্তন এর মধ্যে হয়ে গিয়েছে বলে জানায় চিন। ২০২০ সালের জুন মাসে হু-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, করোনা সংক্রমণ যত পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে, ততই চরিত্র পাল্টাচ্ছে এই ভাইরাস।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় যে স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছিল, সেটি আগের তুলনায় অনেক দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। কিন্তু সেটির মারণ ক্ষমতা আগের থেকে কম। চিকিৎসকরা জানান, এই নতুন স্ট্রেন মানুষের শরীরে আগের থেকে কম ক্ষতি করছে। এরপর তৃতীয় চরিত্রের স্ট্রেন যুক্ত ভাইরাস খুঁজে পাওয়া যায় ২০২০ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ। ডেনমার্কে এই নতুন প্রকারের ভাইরাস খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে পশুর শরীরেও এই ভাইরাসের সন্ধান মেলে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্রিটেনে পাওয়া যায় করোনার নতুন এক চারিত্রিক বৈশিষ্টযুক্ত ভাইরাস। সেটির নাম দেওয়া হয় সার্স কোভ ২ ভিওসি ২০২০১২/০১। আগের করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার পর থেকেই এই নতুন চরিত্রের ভাইরাসটি ব্রিটেনে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তবে কোথা থেকে এই নতুন চরিত্রের ভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছে, তা স্পষ্ট করে বলা যায়নি।

এ ছাড়াও, ডিসেম্বর মাসের ১৮ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকায় সার্স কোভ ২-এর নতুন এক চরিত্রের ভাইরাসের সন্ধান মেলে। সে দেশের তিনটি প্রদেশে এই নতুন চরিত্রের ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানায় প্রশাসন। দক্ষিণ আফ্রিকা নতুন চরিত্রের ভাইরাসের নাম দেয় ৫০১ওয়াই.ভি২। দক্ষিণ আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া নতুন চরিত্রের ভাইরাসটি এখনও পৃথিবীর আরও চার দেশে পাওয়া গিয়েছে।

আমেরিকার মিত্র দেশের তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে পাকিস্তান

আমেরিকায় বিলটি পাশ হয়ে গেলে বিপাকে পড়তে পারে পাকিস্তান। অর্থনৈতিক অনুদান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আগেই। এ বার ন্যাটো-বহির্ভূত মিত্রদেশের তালিকা থেকেও পাকিস্তানের নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব উঠল আমেরিকায়। সোমবার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এই মর্মে বিল পেশ হল। এই বিল অনুমোদিত হলে আমেরিকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গবেষণা এবং মহাকাশ প্রযুক্তি থেকে বঞ্চিত হবে পাকিস্তান । অর্থাৎ, আমেরিকার থেকে কোনও বাড়তি সুবিধা পাবে না তারা। কংগ্রেসম্যান তথা রিপাবলিকান নেতা অ্যান্ডি বিগস এই প্রস্তাব আনেন। তাতে বলা হয়, ন্যাটো বহির্ভূত মিত্র দেশের তালিকা থেকে একবার বাদ পড়লে, পাকিস্তানকে অন্য কোনও তালিকার অন্তর্ভুক্ত করাও যাবে না। তবে হক্কানি নেটওয়ার্কের মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে যদি তারা দেশের মাটি থেকে উচ্ছেদ করতে পারে এবং খোদ প্রেসিডেন্ট যদি দায়িত্ব নিয়ে তা নিশ্চিত করতে পারেন এবং সেই শংসাপত্র দাখিল করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা যেতে পারে।

শুধু তাই নয়, পাকিস্তানে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে আফগানিস্তানে নাশকতামূলক কাজকর্ম চালানোর অভিযোগ হক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে। পাকিস্তান সরকার তাদের পূর্ণ মদত দেয় বলেও দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছে। তার বিরুদ্ধে পাকিস্তান আদৌ কোনও পদক্ষেপ করেছে কি না, হক্কানি নেটওয়ার্কের কতজন শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রেসিডেন্টকে লিখিত শংসাপত্র দিতে হবে। এ সব হলেই পাকিস্তানকে মিত্র দেশ হিসেবে অন্য তালিকায় জায়গা দেওয়া হতে পারে বলেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ওই বিলে।

২০০৪ সালে জর্জ বুশের আমলে ন্যাটো বহির্ভূত মিত্র দেশ হিসেবে পাকিস্তানকে নথিভুক্ত করে তৎকালীন আমেরিকার সরকার। অস্ট্রেলিয়া, মিশর, ইজরায়েল, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জর্ডন, নিউজিল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, বাহরাইন, ফিলিপিন্স, তাইওয়ান, তাইল্যান্ড, কুয়েত, মরক্কো, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, টিউনিশিয়া এবং ব্রাজিল, ১৯৮৭ সাল থেকে মোট ১৭টি দেশ ওই তালিকায় জায়গা পেয়েছে। ২০১৯ সালে জায়গা পাওয়া ব্রাজিলই ওই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন। বারাক ওবামার আমলে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সহযোগী হয়ে ওঠে ভারত।

এর আগে, ২০১৮ সালে পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ আর্থিক অনুদানে নিষেধাজ্ঞা বসান ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সময়ই পাকিস্তানকে ন্যাটো বহির্ভূত মিত্র দেশের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিল ট্রাম্প সরকার।

রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নে কোনো সীমারেখা থাকবে না:চীন   

চলতি ২০২১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয় দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে চীন। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, এ বছর দু পক্ষ সহযোগিতার কোন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে সে ব্যাপারে কোনো সীমারেখা থাকবে না।

তিনি বলেন, ২০২১ সাল হচ্ছে দুই দেশের সম্পর্ক ও সহেযাগিতার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এবং দুই দেশই সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি এসব কথা বলেছেন ওয়াং ই। তিনি সরাসরি বলেন, “চীন ও রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা কোন সীমারেখা দেখি না, আমাদের সামনে কোনো নিষিদ্ধ এলাকা নেই এবং এমন কোনো উচ্চতা নেই যেখানে আমরা পৌঁছাতে পারি না।”

চীন এবং রাশিয়ার মধ্যকার সৎ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের প্রশংসা করে শীর্ষ এ কূটনীতিক বলেন, গত কয়েক বছর ধরে দু দেশের নেতারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, দুই দেশ কূটনৈতিক অগ্রাধিকার, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং বিশ্ব অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে সম্পর্ক গভীরতর করবে। ওয়াং ই আরো বলেন, রাশিয়া এবং চীন গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বন্ধুত্ব ওপ্রতিবেশী সৎ প্রতিবেশীসুলভ দেশের উদাহরণ অব্যাহত রাখবে এবং বিশ্বের কৌশলগত স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

পারস্য উপসাগরে কোরীয় তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে ইরান

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি পারস্য উপসাগর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে। সমুদ্র পরিবেশ বিষয়ক আইন ভঙ্গ করার কারণে জাহাজটি আটক করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি’র নৌ শাখা সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার হানকুক কেমি নামের একটি জাহাজ সৌদি আরবের জুবাইল বন্দর থেকে ছেড়ে আসে কিন্তু জাহাজ থেকে রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে

পারস্য উপসাগরের পানি দূষিত করছিল। জাহাজটিতে সাত হাজার ২০০ টন ইথানল বহন করা হচ্ছিল এবং বর্তমানে সেটি ইরানের বন্দর আব্বাসে আটক রয়েছে।

আইআরজিসি’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাহাজে দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের ক্রু ছিলেন এবং তাদের সবাইকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি আরো তদন্তের জন্য ইরানের বিচার বিভাগের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজগান প্রদেশের বন্দর ও সমুদ্র বিভাগের অনুরোধে এবং প্রাদেশিক প্রসিকিউটরের নির্দেশে জাহাজটি আটক করা হয়।

টিকা নেয়ার সাতদিনের মধ্যে করোনা আক্রান্ত  মার্কিন নার্স

ভারতের পর এবার আমেরিকা। টিকা নেওয়ার পরও করোনায় আক্রান্ত হলেন এক নার্স। ঘটনাটি ক্যালিফোর্নিয়ার। সংক্রামিত হওয়ার পর নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি জানিয়েছেন ম্যাথু ডাবলু নামে ওই ব্যক্তি। শহরের দু’টি হাসপাতালে কাজ করেন তিনি। ম্যাথু বলেন, ১৮ ডিসেম্বর তিনি ফাইজারের টিকা নিয়েছিলেন। এরপর ক্রিসমাসের দিন কোভিড ওয়ার্ডে তাঁর ডিউটি পড়েছিল। কাজ সেরে ফেরার পর জ্বর আসে। সেইসঙ্গে পেশিতে ব্যথা ও ক্লান্তিভাবও দেখা দেয়। হাসপাতালে গিয়ে করোনা পরীক্ষা করালে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ম্যাথু ওই পোস্ট করার পরই বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন সান দিয়াগোর ফ্যামিলি হেল্থ সেন্টারের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান রামারস। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন শরীরে প্রবেশ করার পর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ১০ থেকে ১৪ দিন লেগে যায়। টিকার প্রথম ডোজের পর করোনার বিরুদ্ধে ৫০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজের পর ৯৫ শতাংশ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। তাই  ম্যাথুর আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়। প্রসঙ্গত, এর আগে টিকা নেওয়ার পর করোনা আক্রান্ত হন হরিয়ানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিল ভিজ।

এদিকে, বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণ এখনও সামলে ওঠা যায়নি। এরই মধ্যে ভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন বিশেষজ্ঞদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন মুলুকে এক ব্যক্তির শরীরেও করোনার নয়া স্ট্রেইন মিলেছে। কিন্তু চিন্তার বিষয় হল, কলোরাডোর বাসিন্দা ওই আক্রান্তের কোনও ট্রাভেল হিস্ট্রি নেই। তা সত্ত্বেও ব্রিটেন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনার নতুন স্ট্রেইনে তিনি কীভাবে আক্রান্ত হলেন, তা হন্যে হয়ে খুঁজছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।

বর্ষবরণের প্রথা চালুর ইতিহাস

নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার ব্যাপারে পথিকৃৎ বলা যায় ব্যাবিলনীয় সভ্যতাকে। সে আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগের কথা। তবে সেটা এখনকার মতো ১ জানুয়ারি নয়। নতুন বছর শুরু হতো বসন্তের প্রথম দিনে। ব্যাবিলনীয়দের পর বর্ষবরণের জাঁকজমক সূচনা হয় রোমানদের হাত ধরে। তাদের নতুন বছর আবার ১ মার্চ থেকে। তবে রোমান সরকারের নতুন অধিবেশন শুরু হতো জানুয়ারি মাস থেকে। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৭ সালে সম্রাট  জুলিয়াস সিজার তা বদলে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের সৃষ্টি করেন। সেই ক্যালেন্ডারেও দু’দফায় বদল আনা হয়। এসবের শেষ হয় ১৫৮২ সালে পোপ ১৩তম গ্রেগরির হাত ধরে। তিনিই অতীতের জুলিয়ান ক্যালেন্ডার বদলে বর্তমান কাঠামোয় নিয়ে আসেন। সেই থেকে নতুন বছরের শুরুর দিনটি ১ জানুয়ারি। এই ক্যালেন্ডার ভারতে নিয়ে আসে ব্রিটিশরাই। তারপর যত দিন গিয়েছে, বেড়েছে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের বহর।

নতুন বছরে আর আসে না হাজারো রঙের খামে ভরা শুভেচ্ছা। শেষ হয়ে গিয়েছে বাঙালির আরও এক হুজুগ—গ্রিটিংস কার্ড। কত বন্ধু, কত চেনামুখ এখনও স্মৃতিতে ভিড় করে আসে দু’টি শব্দ শুনলেই। একটা কার্ড ঘিরে হিংসে-অভিমান সব ঝরে গিয়েছে কালের নিয়মে।

বছর কয়েক আগেও এমন ছিল না। ডিসেম্বরের গোড়া থেকে তল্লাট ছেয়ে যেত গ্রিটিংস কার্ডের দোকানে। সিনারি, নাকি ফোল্ডিং পড়ুয়াদের মধ্যে কার্ড বাছার হুড়োহুড়ি পড়ত। এক-দু’ টাকা থেকে শুরু। বন্ধুত্বের রসায়ন অনুযায়ী সাইজের তারতম্য হতো। প্রেম নিবেদনেও এর জুড়ি ছিল না। নিজের হাতে গ্রিটিংস কার্ড বানিয়ে প্রিয়জনকে দিতেন অনেকেই। ভিতরে চিরাচরিত দু’লাইনের শুভেচ্ছাবার্তা। আন্তরিকতার সেই আদানপ্রদান আজ বিলুপ্তপ্রায়। স্মার্টফোন আর সোশ্যাল মিডিয়া কেড়ে নিয়েছে কৈশোরের সেই উন্মাদনা। প্রযুক্তির যুগে নিখরচায় সারা যায় এই সব রীতি। ইংরেজি নতুন বছরের ‘উইশ’ এখন জমে থাকে চ্যাটবক্সে। হাতে গোনা দোকানে গ্রিটিংস কার্ডে দেখা মিললেও নতুনত্ব প্রায় নেই। দামও বড্ড বেশি।

ইতিহাস বলছে, গ্রিটিংস কার্ড কিনে দেওয়ার রীতি প্রায় ১৭৭ বছরের পুরনো। সেই রানি ভিক্টোরিয়ার আমলে। তখন অবশ্য তাতে বড়দিন এবং ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা একসঙ্গেই থাকত। ধীরে ধীরে দুনিয়াজুড়ে সমাদৃত হয়ে ওঠে কার্ড দেওয়ানেওয়ার প্রথা। এখনও অনেক মানুষই ভাবেন গ্রিটিংস কার্ডই ভালো। চ্যাটবক্সের মেসেজ তো ডিলিট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কার্ডের স্মৃতি মোছা যায় না।

কোভিড-১৯ এর নতুন স্ট্রেনে  উদ্বিগ্ন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর লকডাউনের ঘোষণা

ফের দেশজুড়ে লকডাউনের ঘোষণা করলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের উত্তোরত্তর বৃদ্ধির জেরে একপ্রকার বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। করোনার নতুন স্ট্রেনে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে ব্রিটেনে। এর ফলে নতুন করে সে দেশের হাসপাতালগুলিতে চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া সিদ্ধান্তের পথেই হাঁটলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্রিটেন একজোট হয়ে এই মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামিল হয়েছিল। সেই লড়াই এখনও চলছে। এখন ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন এসে গিয়েছে । ফলে সামনের সপ্তাহগুলি কঠিনতর হতে চলেছে। নতুন এই স্ট্রেনের সংক্রমণ লাগাতার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তা নৈরাশ্যের এবং উদ্বেগের। মারণ ভাইরাসের জেরে আমাদের হাসপাতালগুলি অনেক বেশি চাপের মধ্যেই ছিল। সেটি এখন আরও বেড়েছে। তাই দেশজুড়ে লকডাউন ছাড়া আর কোনও পথ নেই। সরকার আবার আপনাদের আবেদন করছে, দয়া করে ঘরে থাকুন। জাতীয় লকডাউন করা হচ্ছে।’ এর ফলে নতুন লকডাউনে আগেরবারের মতোই নিয়ম বলবৎ থাকবে। বন্ধ থাকবে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বেরোনো যাবে না। তবে অত্যাবশকীয় পণ্য, ওষুধের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে শরীরচর্চার জন্যও বাড়ি থেকে বের হওয়া যাবে। বাড়ি থেকেই অফিসের কাজ করতে বলা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত লকডাউন থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সময়ের মধ্যে ব্রিটেনে টিকাকরণের কাজ জারি থাকবে। এর আগে স্কটল্যান্ডে লকডাউনের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তারপরই ব্রিটেনেও লকডাউন জারি করা হল। অন্যদিকে ওয়েলস এবং নর্থ আয়ারল্যান্ডেওই লকডাউন জারি করা রয়েছে। উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের নতুন স্ট্রেনের কারণেই ব্রিটেন জুড়ে সংক্রমণের হার ক্রমেই বেড়েছে। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী মাত্র একসপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি থাকা কোভিড রোগীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় সংক্রমণ রুখতে ফের লকডাউন করতে বাধ্য হয়েছে ব্রিটেন। 

মিরপুর আস্তানা শরীফের ‘জ্যোতিভবন’এ ‘আচরণ’ নিয়ে ৮ম পর্বের আলোচনা

মানবধর্মের সৌন্দর্য -আচরণগত উৎকর্ষতা ও নিরুদ্বেগ জীবনাচারে

সংলাপ ॥ সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ) এর নিয়মিত হাক্কানী চিন্তন বৈঠকে ‘আচরণ’ বিষয়ে ৮ পর্বের আলোচনা ২৫ পৌষ ১৪২৭, ৯ জানুয়ারি ২০২০ শনিবার মিরপুর আস্তানা শরীফের জ্যোতিভবনের আবু আলী আক্তারউদ্দীন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বাহাখাশ সহ-সভাপতি শাহ্ শেখ মজলিশ ফুয়াদ।  করোনাজনিত পরিস্থিতিতে পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এ আলোচনায় অংশ নেন বাহাখাশ উপদেস্টাম-লির সদস্য এবং বাহাখাশ ধীতপুর, ভালুকা, ময়মনসিংহের তত্ত্বাবধায়ক শাহ্ শাহাবুদ্দিন খান, বাহাখাশ-এর কোষাধ্যক্ষ শাহ্ মো. শহীদুল আলম,  যুগ্মসচিব মোঃ আব্দুল ওয়াহিদ এবং সাংগঠনিক সচিব দেলোয়ার হোসেন পিন্টু।  সঞ্চালনায় ছিলেন মিরপুর আস্তানা শরীফ ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সদস্য শাহ্ আবেদা বানু তরু।

শাহ্ শাহাবুদ্দিন খান বলেন, আচরণ  ব্যক্তিসত্তা দর্শনের ফসল ও অবস্থানের ব্যারোমিটার। আচরণ যতটা ব্যক্তিক তথা অর্জনগত তার থেকে কম বংশগত। পর্যবেক্ষণ করে করে তিলে তিলে এটি অর্জন করতে হয় । এটি উন্নতি ও অবনতির প্রথম ও শেষ সোপান । আচরণ ব্যক্তিসত্তার ধমনির্যার্স। একটি  সত্তা কর্তৃক  অন্য একটি সত্তাকে গ্রহণ ও বর্জনের মিথস্ক্রিয়া হল আচরণ। আচরণ সে অর্থে সত্তা  প্রকাশের প্রধানতম মাধ্যম। সূক্ষ্মতম ক্রিয়া যেমন- কথা,বাক্য, আলাপচারিতা, ক্রোধ, হাসি, ঠাট্টা, ঈশারা ঈঙ্গিত, অঙ্গভঙ্গি,কন্ঠস্বর, সংযম, নীরবতা, ধৈর্য, লিখনি পোশাক পরিচ্ছদে এর প্রকাশ। আচরণ বহুপাক্ষিক অর্থাৎ এক সত্তার সঙ্গে এক বা একাধিক সত্তার, হতে পারে স্রষ্টার সঙ্গে সৃষ্টির।   সবচেয়ে কম খরচে, বলা যায় বিনামূল্যে সবচেয়ে মূল্যবান যে সম্পদ অর্জন, বিতরণ ও সৃষ্টিসেবার কাজে লাগানো যায় সেটি হল আচরণ। মানুষের যতরকম সম্পদ থাকে যেমন: অর্থবিত্ত, জ্ঞান-বুদ্ধিজাত সম্পদ সেগুলোর মধ্যে আচরণ হল সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ। চরিত্র ব্যক্তির স্থায়ী প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট, আর আচরণ হচ্ছে স্থান-কাল-পাত্র-ভেদে ব্যক্তির চূড়ান্ত প্রকাশ-মানুষের সকল গুণের মধ্যমণি, ব্যক্তিক অলংকার ও সৌন্দর্য, ব্যক্তির চিন্তা-চেতনা ও দর্শনের প্রকাশিত রূপ। সকল মানবীয় গুণাবলী অর্জন যেখানে শেষ সেখান থেকে আচরণের শুরু। জীবন ও জীবিকার প্রকৃতি অনুযায়ী আচরণ ভিন্ন ভিন্ন হয়। একজন মানুষ চরম বৈরি পরিবেশ-পরিস্থিতিতেও সাবলীল, ঠান্ডা ও খোশ -মেজাজে প্রতিপক্ষের সঙ্গে আচরণ করছে, অন্য একজন হয়তো তিলকে তাল করে সামান্য একটু কারণেই তেলে-বেগুনে জলে ঊঠছে, চিৎকার করে পরিবেশকে অসহনীয় করে তুলছে। এর কারণ ব্যক্তির জীবনদর্শন। একটি হিসাবে সমাজে আনুমানিক ৭০% মানুষ দুনিয়াবী চাকচিক্যে মধ্যে ডুবে থাকে, না পাওয়ার হাহাকার, ক্রমাগত অসন্তুষ্টি, মেকি অবস্থান, ২০% মানুষ জীবনের মূলসময় পার করছে বেহেশত পাওয়ার লোভ ও দোজখ থেকে বাঁচার উপায়  নিয়ে, ৯%  মানুষ দোদুল্যমান ও  সিদ্ধান্তহীনতায় জীবন কাটায়, তাদের নিজস্বতায় নয় -পরিবেশ, পরিস্থিতি ও জীবনের গতিপ্রকৃতি দ্বারা তাদের জীবন নিয়ন্ত্রিত হয়, মাত্র ১%  মানুষ নিরুদ্বিগ্ন, সরল, সমর্পিত, কৃতজ্ঞচিত্ত, অকপট,পবিত্র ও আচরণে পরিচালিত  হয়।

মানুষ স্রষ্টার নেয়ামতে পরিপূর্ণ। তৎসত্ত্বেও যাদের পর্যবেক্ষণ নেই সন্তুষ্টি নেই তারা থাকে অশান্ত। মানবতা হয় ব্যহত, মানবাত্মা পায় কষ্ট, নিজে হয় অপদস্থ ও অবমূল্যায়িত। মানুষের চিন্তন প্রক্রিয়া একদিকে বহমান নিরন্তর, অন্যদিকে স্বার্থকেন্দ্রিক। তাই একই মানুষ একই স্থানে একই বিষয়ে একজনের সঙ্গে একরকম অন্যজনের সাথে অন্যরকম আচরণ করে থাকে। তারা সময়, পরিবেশ,  ঘটনা,  আবেগ,উৎকন্ঠা,অভিমান ও ক্রোধ দ্বারা চালিত ও তাড়িত হয় । এটি সে নিজের সঙ্গেও করে অর্থাৎ  নিজের চিন্তা, কথা ও কর্মের মধ্যে কোন সমন্বয় রাখতে পারে না তাই তাদের ইবাদতও শুদ্ধ হয় না। আর যারা কোন দর্শন দ্বারা সিক্ত হয়ে জীবনদর্শন গড়ে তুলেছে তাদের আচরণ সর্বত্রই সামঞ্জস্যপূর্ণ। সৃষ্টি তথা মানুষের সেবার প্রথম  যোগ্যতা, মানুষের সঙ্গে সদ্ব্যবহার অর্থাৎ সদাচরণ । তাই কোন ব্যক্তি জীবনে ধর্মের স্বাদ পাওয়ার সাধ থাকলে তাকে সদাচারী ও সৎস্বভাবী হওয়া অপরিহার্য। মানবধর্মের সৌন্দর্য লুক্কায়িত থাকে তার আচরণগত উৎকষতার্য় ও নিরুদ্বেগ জীবনাচারে অর্থাৎ সৎস্বভাবে ।

সূফী সাধক আবু আলী আক্তার বলেছেন, ‘বিদ্যা, বুদ্ধি, বল- বিক্রম, পান্ডিত্য গর্বদোষে খর্ব হয়’। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক বলেছেন, ‘ ত্রুটিপূর্ণ আচরণ ত্যাগ করে ভদ্র আচরণ করতে হবে, ত্রুটি ও অক্ষমতা অকপটে স্বীকার করে উন্নতির চেষ্টা করা উত্তম। সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ বলেছেন, ‘সর্বাগ্রে একজনকে বিহ্যাভ্যারিয়্যাল প্যাটার্ন ঠিক করতে হয়। কোন কিছুকে গভীরভাবে গ্রহণ এবং সুক্ষভাবে প্রকাশ করার সমক্ষমতা রাখতে হয়, ঠোটে হাসি লাগিয়ে কথা বলতে হয়, কারো সঙ্গে কথোপকথন শুরু করতে হয় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে, মুক্ত হয়ে ষ্পষ্টভাষায় কথা বলতে হয়।’ আচরণের মানদ- মুর্শিদ দর্শন ও  মুর্শিদ  আচরণ । মানব দ্বিবীজ প্রাণিঃ প্রথমত: মা এর গর্ভে, দ্বিতীয়ত: মুর্শিদ দর্শনে। যেদিন থেকে মানবীয় জন্ম সেদিন থেকে তার আচরণ গণণা শুরু । মুর্শিদ আচরণই  ব্যক্তির আচরণ পরিমাপের একমাত্র মানদ।

শাহ্ মো. শহীদুল আলম বলেন, আমরা কতটুকু মানুষ হয়েছি তা আচরণেই বুঝা যায়। আচরণের প্রকাশে আমার সর্ম্পকে মানুষ জানতে পারে। চুপচাপ বসে থাকলে তা বুঝা যায় না। লোকটি কি সত্যবাদী, সদালাপী, হাসিমুখী একমাত্র মানুষের আচরণেই বুঝা যায়। ভদ্র আচরণ কীভাবে করবো এ ক্ষেত্রে কুরআনের সূরা আরাফ আল্লাহ্ বলেন “ আল্লাহ যাকে  গোমরাহ  করে দেয় তারা গুরু/মুর্শীদ/পথপ্রদর্শক পায়না।’ সত্য পথের যাত্রী বা হাক্কানী হতে পারে না। পথের দিশা পেতে হলে অবশ্যই আল্লাহর রহমত লাগবে। বাংলায় একটি কথা আছে ‘আপনী আচারী পরকে বলো’। অর্থাৎ আমি সত্য কথা বলি না অপরকে সত্য বলার দাওয়াত দেই’! জানা যায়, নবী মুহাম্মদ  (যাঁর কৃপা আমাদের ওপর বর্ষিত) এঁর কাছে একজন ব্যক্তি তার ছেলে মিষ্টি বেশী খায় জানিয়ে তা বন্ধ করার হুজুরকে বলেন। হুজুর তাকে কিছুদিন পরে আসতে বলেন। কয়েকদিন পর লোকটি এলেন হুজুর বলেন, ‘বেশি মিষ্টি খাওয়া ভাল না’। তাই তার ছেলেকে বলতে বলেন এই কথা শুনে লোকটি বলেন, হুজুর এই একটি কথা বলার জন্য এত সময় নিলেন কেন? হুজুর বলেন, আমিও মিষ্টি পছন্দ করি তা বলিনি। এখন আমি মিষ্টি খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। এই হলো আপনী আচারী পরকে বলো’- এই হলো ভদ্র আচরণ।সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ বলেন, ‘আপনারা মা, বোন, স্ত্রী, সন্তান- সবার সঙ্গে কি একই রকম আচরণ করেন?।’

 সূফী সাধক আনোয়ার হক বলেন, ‘প্রেম আদায় করা যায় না প্রেম হয়ে যায়।’ যারা ধর্ম পালন করে তারা প্রতারক, আর যারা ধর্ম লালন করে তারা ধার্মিক। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি একজন নামাজী আজান দিলে আমাকে নামাজ পড়তে বলেন। কিছুদিন পর জানতে পারি সে অন্যের টাকা চুরি করে ধরা পড়েছে। এতে বুঝা যায় ধর্ম পালন আর ধর্ম লালন করা এক জিনিস নয়। মানুষের আচরণ অত্যন্ত রহস্যময় ও চিন্তার বিষয়।

দেলোয়ার হোসেন পিন্টু বলেন, মানুষের কথা-বার্তা, অঙ্গভঙ্গি, বাচনভঙ্গি ও চোখে-মুখে, দৈনন্দিন জীবনে সর্বক্ষণ তার আচরণ প্রকাশ পায়। তবে এ আচরণ আমাদের বাহ্যিক রূপ। আচরণে আমি নিজের সাথে নিজে প্রতারণা করি। আমার ভেতরে এক, বাইরে আরেক রূপ। দরবারের ভাষায় একে ‘দ্বিচারিতা’ বলে।

একটা প্রবাদ আছে, ব্যবহারে বংশের পরিচয়। আমরা সব সময় নিজের স্বার্থে আচরণ করি। যেমন-একজন বিক্রেতা ক্রেতার সঙ্গে, ডাক্তার তার রোগীর সঙ্গে, স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে, এমনকি ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের আচরণেও স্বার্থ রয়েছে। আমাদের ভেতরে এক রক, কিন্তু বাইরে প্রকাশ পায় আরেকটা। ভেতর ও বাইরে এক না হলে কোনো কিছু অর্জন করা যায় না। ভাগ্যগুণে মিরপুর আস্তানা শরীফে এসে এক ‘সত্যমানুষ’ পেলাম-সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর দেখা। তাঁর বাণী, ‘আমরা প্রত্যেকে নিজের সঙ্গে নিজে প্রতারণা করি ’-কথাটা বাস্তব। তিনি কৃপা করে আমাদের প্রতি উপদেশমূলক যেসব কথা বলে গেছেন সেগুলোকে যে আদেশ হিসেবে নিয়েছেন সি নিজেকে এগিয়ে নিতে পারবে। দরবারে একটা কথা আছে-‘ তোর স্বভাব তাকে দিয়ে, তাঁর স¦ভাব নে না কেড়ে’। এখানে ধারণ-পালন-লালনের একটা ব্যাপার থাকে। আমি যাঁকে স্মরণে নিয়ে চলবো সে আমার মধ্যে উদিত হবে, আমার আচরণ তাঁকেই প্রকাশ করবে। প্রভুকে স্মরণে রেখে ‘নিজের বিচার নিজে কর রাত্র-দিনে’র মধ্যে থাকতে পারলে অবশ্যই আমার শুদ্ধতা, আচরণ প্রভুর সুবাতাস সবাই দেখতে পারে-এটাই আমার বিশ্বাস। প্রভুর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে আর বলবো, ‘আমি মানব, এখনো মানুষ নই।’ ফলে আমার মধ্যে এখনো মানুষের আচরণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি-হয়তো এটাই স্বাভাবিক।

উপমহাদেশের উজ্জ্বল তারকা স্বামী বিবেকানন্দ-শুভ আবির্ভাব দিবস

শ্রী শ্রী বিদ্যা শিখা ॥ উপ-মহাদেশের এক উজ্জল তারকা -স্বামী বিবেকানন্দ যাঁর জন্ম ১৮৬৩ সনে জানুয়ারী মাসের ১২ তারিখ সকাল ৬:৩৩। তাঁর মাতার নাম ভূবনেশ্বরী আর পিতা বিশ্বনাথ দত্ত। বিশ্বনাথ দত্ত কোলকাতা হাইকোর্টের একজন প্রভাবশালী উকিল ছিলেন। মাতা ভূবনেশ্বরী শিব মন্দিরে শিবের নিকট একটি পুত্র সন্তান প্রার্থনা করেছিলেন। ভূবনেশ্বরী মনে করতেন, তাঁর প্রার্থনার ফলেই পুত্রের জন্ম হয়েছে। তাঁর ডাক নাম নরেন। ছোট বেলায় নরেন ছিলো দুরন্ত। তাকে সামাল দেয়া পিতা-মাতার পক্ষে ছিলো কঠিন কাজ। তাঁর মা প্রায় সময় বলতেন, ‘শীব আমার নিকট এক ভূত পাঠিয়ে দিয়েছে। এই ভূত নিয়ে আমি বিপদে আছি’। 

নরেন প্রথমে বাড়ীতে তাঁর মায়ের নিকট লেখা পড়া করেন। পরবর্তীতে পিতা বাড়ীতে গৃহ-শিক্ষক রেখে শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। নরেন Scottish College (১৮৭১  ১৮৭৭ ) লেখাপড়া করেন। ১৮৮৪ সালে রাজা রামমোহন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কোলকাতার  Presidency College থেকে স্মাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ঐ বৎসর তাঁর পিতা মারা যান। পিতা মারা যাওয়ার পর তাঁর বাড়ী অভাবের কালো ছায়া ঢেকে ফেলে। তাঁর আর পড়ালেখা হয়নি। নরেনের স্মরণ শক্তি এতই তীব্র যে মাত্র ৬ বৎসর বয়সে সে রামায়ন মুখস্থ করে ফেলে। তিঁনি শুধু পড়ে যেতেন -আর অমনি সকল কিছু মুথস্থ বলতে ও লিখতে পারতেন।

পিতার মৃত্যুর পর নরেন General Assembly Institution এ শিক্ষকতার চাকুরী নিলেন। নরেন ছোট বেলা থেকেই ইশ্বর ভক্ত ছিলেন। পিতার অজান্তে পিতার সংগী বয়স্ক মানুষদের গোপনে জিজ্ঞাস করতেন, তুমি কি ভগবান-কে দেখেছো ? একদিন এক মরমী সাধক, তাঁর পিতার ঘনিষ্ট বন্ধু প্রিন্স দারকানাথ ঠাকুর – নরেন তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, মহাশয়! ‘তুমি কি ভগবান-কে দেখেছো ’? উত্তরে প্রিন্স দারকানাথ বললেন, ‘আমি দেখিনি। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তুঁমি একদিন ভগবান-কে দেখতে পাবে’। এমন কথা শুনে নরেন দারুন খুশী। ছোটবেলা থেকেই আধ্যাত্মিকতার প্রতি নরেন ছিলো দারুন আত্বপ্রত্যয়ী ।

কলেজে লেখাপড়ার সময় Professsor Histon এর নিকট থেকে গুরু শ্রীরামকৃষ্ণের নাম শুনতে পান। একজন আধ্যাতিক সাধকের হাত ধরে দাক্ষিণাশ্বরে নরেন শ্রী রামকৃষ্ণের নিকট দেখা করতে যান। শ্রীরামকৃষ্ণের দর্শন পেয়ে তিঁনি অভিভূত হয়ে পড়েন। তিঁনি ভগবান শ্রী রামকৃষ্ণের ভক্ত হওয়ার জন্য বাড়ী ছাড়েন, শ্রী রামকৃষ্ণও তাঁকে ঘনিষ্ট ভক্ত হিসাবে গ্রহন করেন।

নরেন শ্রীরামকৃষ্ণের নিকট থেকে জানতে পারেন, ‘প্রতিটি জীবে ইশ্বর অবস্থান করছেন। কার সাথে তুমি দুর্বব্যবহার করছো?’  নরেনই লিখেছে, ‘বহুরুপে তোঁমাকে ছাড়ি / কোথায় খুঁজেছি ইশ্বর ? জীবে প্রেম করে যেই জন/সেই জন সেবিছে ইশ্বর।’  ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে স্বামী বিবেকানন্দ বলে ডাকতেন এবং এই নামেই তিঁনি পৃথিবীর সকলের নিকট পরিচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজী সুবাস চন্দ্র বসু, মাহাত্বা গান্ধী প্রমুখ মনীষিগণ স্বামীজি-কে ভীষণ পছন্দ করতেন। ১৮৮৬ সনে নরেন আমেরিকার শিকাগো শহরে এক ধর্ম সভায় বক্তব্য রাখেন। ওই বক্তব্যই তাঁকে বিশ্বসভায় পরিচিত করে তোলে। মাথায় পাগড়ি এবং শরীরে লাল কাপড় পরিহিত ধ্যানরত আসনে, তাঁর ছবিটি সারাবিশ্বেই ব্যাপক পরিচিত। মেয়ে জাতির প্রতি নরেনের ছিলো ভীষণ শ্রদ্ধা। স্বামীজি বলতেন ধর্ম পরিবর্তনের প্রয়োজন নাই। প্রতিটি ধর্মই পরিপূর্ণ। কোন সাম্প্রদায়িকতা নয়। শান্তিই ধর্ম এবং ইহার নাম সত্য। অর্থাৎ সত্যই ধর্ম। পৃথিবীতে ধর্ম একটি এবং ইহা হলো সত্য । সত্য এক। একক অবিচ্ছিন্ন। অবিনশ্বর। স্বামীজির ঐতিহাসিক একটি কুপের শিক্ষা পাঠকদের জন্য বর্ণনা করছি। 

স্বামীজির একদল উচ্চ শ্রেণীর ভক্ত ছিলো। একদিন তাঁদের উদ্দেশ্যে স্বামীজি একটি উদাহরন উপস্থাপন করেন। সেই উদাহারণটি ছিলো – একদিন সমুদ্রের একটি ব্যাঙ ঘুরতে ঘুরতে একটি কুপে এসে উপস্থিত হলো। কুপের ভেতর একটি ব্যাঙ ছিলো। সমুদ্রের ব্যাঙ ও কুপের ব্যাঙ এর দেখা হলো। সমুদ্রের ব্যাঙ কুপের ভেতর প্রবেশ করে ভীষণ অস্বস্তি অনুভব  করতে লাগলো। কারণ, কুপ অত্যান্ত ছোট জায়গা। সমুদ্রের ব্যাঙ মনে করলো, সে-কুপের ব্যাঙকে শিক্ষিত এবং আধুনিক করে গড়ে তুলবে এবং এই ধরণের  কুপের ভিতর যত ব্যাঙ আছে, তাদের সকলকে সমুদ্র সর্ম্পকে ধারণা দিবে এবং শিক্ষিত করে

উন্নত জীবনের জন্য সমুদ্রে নিয়ে যাবে। সমুদ্রের ব্যাঙ কুয়ার ব্যাঙ-কে প্রশ্ন করলো, ‘তুমি এই কুপের ভেতর কত দিন ধরে আছে ?  কুপের ভিতরের ব্যাঙ বললো, প্রায় সারাটি জীবন আমি কুপের ভিতরেই আছি এবং আমার খুব ভালো লাগছে। আনন্দেই আছি।

সমুদ্রের ব্যাঙ, কুপের ব্যাঙ এর নিকট ব্যাখ্যা করলেন, দেখ ইহা হলো কুপ। অত্যন্ত ছোট জায়গা। এত ছোট জায়গা থাকা-খাওয়া, চলা-ফেরা এবং জীবন যাত্রার মান অত্যান্ত দুর্বিষহ। তোমার এই কুপের চেয়ে আরো অনেক সুন্দর জায়গা এই পৃথিবীতে আছে। এসবের মধ্যে আছে, যেমন পুকুর, বিল, নদী-নালা, বিশাল সমুদ্র কত কিছু ?  তুমি সুন্দর সুন্দর এসব জায়গা দেখলে অবাক হবে ও বিস্ময়ে বিমুঢ় হয়ে পড়বে! কুপের ব্যাঙ উত্তরে বললো, ‘না আমার এইসব সুন্দর জায়গার প্রয়োজন নাই। এই কুপের ভিতর আমি প্রায় জীবনব্যাপী আছি। ই্হাই আমার আনন্দ – ভীষণ আনন্দ। এর চেয়ে আনন্দ পৃথিবীর কোথাও নাই। কুপের ভিতর আমি খুব সুখেই আছি। আামার সুখ-শান্তি তোমার সহ্য হচ্ছে না। বুঝতে পারছি। তুমি আমার নিকট থেকে চলে যাও। অন্যান্য কুপের ভিতর যে সকল ব্যাঙ বাস করছে, তুমি তাদের নিকটও যাবে না। তোমার বিল-খালে বা সমুদ্রে  তুমি চলে যাও।

সমুদ্রের ব্যাঙ তার সকল বিদ্যা ও বুদ্ধি প্রয়োগ করেও কুপের ঐ ব্যাঙ-কে খাল-বিল নদী-নালা এবং সমুদ্র সর্ম্পকে বুঝাতে ব্যর্থ হলো। সমুদ্রের ব্যাঙ ব্যর্থ হয়ে এই কুপ থেকে বাহির হয়ে অন্য কুপে গিয়ে অন্য ব্যাঙ এর নিকট একই বিষয় বর্ণণা করলো। অন্য কুপটির ব্যাঙ কিছুটা বুদ্ধিমান হওয়ায় সমুদ্রের ব্যাঙ-কে বললো, ঠিক আছে। তুমি আমাকে পুকুরে নিয়ে চলো। দেখি, পুকুর কেমন? কুপের ব্যাঙ পুকুরে গিয়ে পুকুরের বিশালতা দেখে কুপের ব্যাঙ আনন্দে লাফা-লাফি আরম্ভ করলো। সমুদ্রের ব্যাঙ কুপের ব্যাঙকে আবারো বুঝালেন যে, এর চেয়েও সুন্দর জায়গা আছে, যেমন খাল-বিল, নদী-নালা আরো কত কিছু? কুপের ব্যাঙ বললো, আমার আর নতুন জায়গার প্রয়োজন নাই। পুকুর হলো পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর জায়গা। আমি এর চেয়ে বেশী কিছু সুন্দর চাই না।

এবার সমুদ্রের ব্যাঙ এই কুপের ব্যাঙ এর নিকট থেকে অন্য কুপের ব্যাঙ এর নিকট গিয়ে একই বিষয় বর্ণনা করলেন। এই বার এই কুপের ব্যাঙ আরো কিছুটা বেশী বুদ্ধিমান। এই কুপের ব্যাঙটি পুকুর হয়ে খাল-বিল, নদী-নালায় পর্যন্ত পৌঁছালো এবং বললো পৃথিবীতে সেই সবচেয়ে বেশী সুন্দর জায়গা দেখেছে এবং ভালো জায়গায় আছে। নির্বিগ্নে সাঁতার কাটতে পারছে। গোটা পৃথিবীই তাঁর। তাঁর চেয়ে সূখী জগতে আর কেহ নাই ।

সমুদ্রের ব্যাঙ বুঝতে পারলেন এর নিকট থেকে আর ফল কিছু হবে না। তাই এবার সে অন্য কুপের ভিতর গিয়ে আরো বুদ্ধিমান ব্যাঙ খুঁজতে লাগলেন এবং পেয়েও গেলেন। এই  কুয়ার ভিতরের ব্যাঙ এর নিকট সমুদ্রের ব্যাঙ সমুদ্র সর্ম্পকে বিশদ বর্ণনা পেশ করলেন। এরবার এই কুপের ব্যাঙ পুকুর, বিল-খাল , নদী-নালা পার হয়ে বিশাল সমুদ্রে উপস্থিত হলেন। সমুদ্রে প্রচুর খাবার। সীমাহীন জায়গা। চারদিকে সাঁতার কেটে কি আনন্দ! সে-যে এক বিশাল স্বর্গ। সে তার কুপের ভেতর অন্যান্য ব্যাঙ এর সীমিত জায়গায় দুঃখময় জীবনের জন্য ব্যথিত হলো। কিন্তু করার কিছু নাই। কুযার ব্যাঙগুলি যে, কথা শুনে না – কুয়ার ভিতর ব্যাঙগুলি কুয়ার ভিতর থেকে বাহির হয়ে আসতে চায় না।  কুয়ার ভিতরের ব্যাঙ এর নিকট সমুদ্রের বিশালতা বর্ণনা করা ভীষণ কঠিন কাজ এবং সম্বব নয়। তাই হতাশ হয়ে সমুদ্রের ব্যাঙ পূণরায় সমুদ্রে ফিরে গেলো। 

আজকাল সমাজে আমরা বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত, কম-বেশী  শিক্ষিত। বিভিন্ন পেশায় শিক্ষিত হয়ে গর্বের সীমা নাই। প্রকৃতপক্ষে আমরাও একেক জন একেকটি নির্দিষ্ট কুপের ভিতর অবস্থান করছি। একজন পন্ডিত ব্যক্তি মনে করছে – সে সবচেয়ে বড় পন্ডিত। তার চেয়ে বড় পন্ডিত আর কোথাও নাই। একজন পি এইচডি ডিগ্রীধারী ভাবছে- তার চেয়ে বড় পিএইচ ডি ডিগ্রীধারী আর নাই। একজন এস এস সি বা পিএইচডি ডিগ্রীধারী আছেন, যে মানুষকে সালাম দিতে রাজী নন। ৮০ বছরের একজন জন বৃদ্ধ, একজন পিএইডি ডিগ্রীধারীকে সালাম না দিলে, উচিত শিক্ষা দিয়ে ছাড়ে!!!

একজন পুলিশ কনষ্টেবল একজন নিরীহ পথচারীকে ঠাস করে চাপার মধ্যে চড় থাপ্পড় মারছে। কাধে সরকারী রাইফেল। হাতে লাঠি। বাহ কি ক্ষমতা! কাধে সরকারী রাইফেল পেয়ে তার গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষার্থী ও মানুষের কথা সম্পূর্ণ ভুলে গেছে। শহরে গরীব ভ্যানওয়ালা বা রিকশা চালক কথা মতো কাজ না করলে, আবাল-বৃদ্ধ যাই হোক, লাঠি দিয়ে আঘাত করে হাত ভেংগে দিচ্ছে। ভয়াবহ শক্তিধর ! এভাবে চলছে, একক কুয়ার ভিতরে অবস্থানরত একেক পন্ডিত ও শক্তিধরের তান্ডব রাজত্ব বা লীলা।

অথবা একজন হুজুর যিনি ব্যবসা করেন- আর পণ্য দ্রব্যে ভেজাল মিশ্রিত করেন- সে মনে করে, তার চেয়ে ভালো মানুষ জগতে আর নাই। কারণ, সে নামাজ পড়ছে/ আল্লাহ্-কে ডাকছে। ব্যবসার মাধ্যমে মানুষের সেবা করছে। তার এক কথা- নামাজের কাজ নামাজ করবে, ব্যবসার মাধ্যমে মানুষের/সমাজের সেবা করা হচ্ছে। তার মতো সেবক সমাজে আর কেহ নাই।

পণ্য দ্রব্যে ভেজাল মিশ্রিত করার ফলে মানুষ অসুস্থ হচ্ছে – ইহা কোন বিষয় নয়। নামাজ চলছে – মিথ্যা কথাও চলছে ট্রেনের গতিতে। খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মিশানোর ফলে মানুষ অসুস্থ হচ্ছে – সে কোন বিষয় নয়। নামাজের মাধ্যমে একদিন সে বেহেশতে যাবেই।  এই অদ্ভুত ও অলীক চিন্তায় – সে বিভোর। সে ভাবছে – সে  পিএইডি ডিগ্রীধারীর চেয়ে উপরে অবস্থান করছে।  কারণ -সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে পড়ছে। আল্লাহ্-কে ডাকছে। তার চেয়ে মহান আর কে? সমাজের উচ্চ শ্রেণীর ডাকে, সে আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করে। আখেরী মোনাজাতে হাজার হাজার মানুষ আমিন ! আমিন ! অথবা গর্দভের মতো ঠিক! ঠিক!  বলছে। ফল হউক আর নাইবা হোক। সে-যে জগত বিখ্যাত পন্ডিত।

চার পাশে গরীব অসহায়, অসুস্থ ও পীড়িত মানুষের আর্তনাদে আকাশ ভারী হয়ে উঠলেও নামাজী কিংবা পিএইডি ডিগ্রীধারীর ভ্রক্ষেপ নাই। তার নিজ নিজ জায়গায় নিজের রাজত্ব ও মহানতায় নিয়ে ব্যস্ত। এভাবেই এককজন একেক বিশেষ ধরনের পন্ডিত ও নিজ নিজ কুপের ভিতর বাস করছে। কোন পন্ডিত নিজের রাজত্বেও বাইরে কিছু শুনতে রাজী নয়।

আমরা বিভিন শ্রেণী পেশায় কাজ করি। বাজার করি- ভালোমন্দ খাই। চলি-ফিরি। একদিন অজান্তে এবং অনিচ্ছায় জোরপূর্বক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ি অথবা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ি। অর্থৎ মৃত্যু যেন আমাদের নিকট না আসতে পারে- সেই বিষয়েও আমরা সতর্ক আছি। ধানমন্ডি বা গুলশানে ৭/৮ তলা বিল্ডিং। কত সম্পদ? এইগুলি রেখে কি মৃত্যু বরণ করা যায়? তারপরও মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ি এবং মৃত্যুর নিকট পরাজিত হই। মৃত্যু গোটা পৃথিবীতে তাঁর কার্যক্রম চালাচ্ছে। আমরাও কম কি ? আমরা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছি। তবু গুলশানের ৭তলা বিল্ডিংটি নতুনের জন্য ছাড়তে রাজী নই। শেষ পর্যন্ত জীবনের সমাপ্তি ঘটছে মনে করি। শ্রেণী পেশার কুপের জীবনে  ইহাই স্বাভাবিক।

তাই জীবনে নিশ্চিতে সত্য পথ ধরে একাই চলতে হবে। কেহ মনে চাইলে আসবে নতুবা আসবে না। ইহাই সত্য প্রচার এবং সত্য অনুসন্ধান। সত্য প্রচারক এবং সত্য অনুসন্ধানীর সংখ্যা সর্বকালেই নিতান্তই খুব সামান্য। আশা যে, একদিন মানুষ নিজ নিজ কুয়ার ভিতর থেকে নিজ দায়িত্বে উঠে আসবে এবং বিশাল সমুদ্রের সন্ধানে নিজেকে নিয়োজিত করবে। স্বামীজির আবির্ভাব দিবসে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

লালন সুধা পাঠ – ১৭

এসব দেখি কানার হাটবাজার

এসব দেখি কানার হাটবাজার বেদবিধির পর শাস্ত্রকানা আর এক কানা মন আমার।।

পন্ডিত কানা অহঙ্কারে গ্রামের মাতবর কানা চোগলখোরে সাধু কানা অনবিচারে আন্দাজি এক ঘুঁটি গাড়ে জানে না সীমানা তার।।

এক কানা কয় আর এক কানারে চল সাধুর বাজারে নিজে কানা পথ চেনে না পরকে ডাকে বারংবার।।

কানায় কানায় ওলামেলা বোবাতে খায় রসগোল্লা লালন তেমনই মদনভোলা ঘুমের ঘোরে দেয় বাহার।।

‘এসব দেখি কানার হাটবাজার বেদবিধির পর শাস্ত্রকানা  আর এক কানা মন আমার।’  উক্তপদে ‘কানার’ স্বরূপ দারুণ অলঙ্করণে ও প্রহসনের মাধ্যমে সাঁইজি তুলে ধরেছেন। মোটাদাগে দৃষ্টিহীন ব্যক্তিকে আমরা কানা বলে থাকি। তবে এখানে ‘কানা’ অর্থে সামগ্রিক দর্শন ঘাটতির কথা উঠে এসেছে। ‘কানা’ শব্দটি কন্ ধাতুসাধিত। এর অর্থ নিমীলন অর্থাৎ চোখবন্ধকরণ। দুটো আঙ্গিক চোখের বাইরেও একটি আত্মিক চোখ বিদ্যমান যাকে ত্রিনয়ন (third eye) বলে। এই নয়ন নষ্ট হলে ইন্দ্রিয়পরায়ণ ব্যক্তির অন্তর্দৃষ্টিতে আবরণ পড়ে যায় যার ফলে তার আচরণে শঠতা, ছল, মুগ্ধতা প্রকাশ পায়। সংসারে এই অস্বচ্ছ দৃষ্টিসম্পন্ন জীবের রমরমা অবস্থাকে সাঁইজি বলছেন‘এসব দেখি কানার হাটবাজার’।  মনোদৈহিক অস্তিত্ব ধরে রাখার জন্য যা ধারণ করা হয় তার নাম ধর্ম; এই সত্য জেনে তা সম্পাদিত হলে সেটাকে বলে ধর্মজ্ঞানসাধন যাকে অন্যকথায় ‘বেদ’ও বলে। বৈদিক আচার শ্রুতি-স্মৃতি-পুরাণ পরম্পরায় যে অনুশাসন লাভ করে তার নাম শাস্ত্র। সার্বিক অর্থে বেদ-স্মৃতি-শ্রুতি-পুরাণ সবটাই শাস্ত্রবাচ্য। শাসনকে যা ত্রাণ (উদ্ধার) করে তাকে শাস্ত্র বলা হয়। যিনি শাসনের অধীন তিনি শিষ্য। আসলে এই শাসানি স্বেচ্ছাচারী ইন্দ্রিয়াচার দমনের জন্য। মোহাবিষ্ট মন ঘোরের মধ্যে থেকে বিশেষ চোখ বা বিচক্ষণতা হারিয়ে ফেলে তখন অনুশাসনীয় কর্মকা- (বেদবিধি, শাস্ত্র) সেই অন্ধচোখ দেখতে পায় না। এটাকে সাঁইজি ‘বেদবিধির পর শাস্ত্র কানা/আর এক কানা মন আমার’ বলে নির্দিষ্ট করেছেন। ‘পন্ডিত কানা অহঙ্কারে  গ্রামের মাতবর কানা চোগলখোরে সাধু কানা অনবিচারে  আন্দাজি এক ঘুঁটি গাড়ে  জানে না সীমানা তার।’  প্রত্যেকের অহম (আমি) যা করে তা-ই অহঙ্কার। পন্ডিতের মধ্যে প- আছে, যা কমবেশি কৃতকার্যকে  (নষ্ট) করে দেয় এ কারণে যে, পন্ডিতসুলভ বুদ্ধিতে সব কাজের কর্তা হয় পন্ডিত আমি; আদতে যার কর্তা পরম আমি। মিথ্যে আমি তার দৃষ্টিকে একচোখা করে দেয় এটাই পন্ডিতের অহঙ্কার। মাতবর নিজেকে গ্রামজনপদের প্রধান ভেবে তাকে উৎকর্ষে উন্নীত করে অন্যসবাইকে অবজ্ঞা করে। এই আত্মাভিমানে আড়ালে সে অন্যের কুৎসা গায়। হীনমানসিকতা তার জ্ঞানচক্ষুকে ছিদ্র করে দেয়। এটাই গ্রামপ্রধানের অবজ্ঞাজনিত অন্ধত্ব যেটা লালন গায়নে‘গ্রামের মাতবর কানা চোগলখোরে।’ সাধনমার্গের পথিকের বিচরণ ও আচরণে সুষ্ঠ বাছাই না থাকলে সে বিচারদোষে দুষ্ট হয় যা ‘সাধু কানা অনবিচারে’ বলে বর্ণিত। পন্ডিত-মাতবর-সাধু মহলের জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন না ঘটায় প্রমাণে পৌঁছুতে না পেরে নিতান্ত অনুমানে সীমিত গন্ডির মধ্যে তারা চলাচল করে যাকে লালন বলছেন ‘আন্দাজি এক ঘুঁটি গাড়ে জানে না সীমানা তার।’ ‘এক কানা কয় আর এক কানারে  চল সাধুর বাজারে নিজে কানা পথ চেনে না  পরকে ডাকে বারংবার।’  মোহনিদ্রায় আচ্ছন্ন একজন মোহাবিষ্ট অন্যজনকে মোহমুক্তির বার্তা প্রচার করে। কামিনীকাঞ্চনাসক্ত মন আরেক কামুককে পদস্থ করতে গিয়ে সংসারকার্য সম্পাদনের ঠিকানা নির্ণয় করে দেয়; লালন সংকীর্তনে যার ধুয়া ‘এক কানা কয় আর এক কানারে/চল সাধুর বাজারে।’ পরিতাপের বিষয় সাধনমার্গের হদিস না জানা সত্ত্বেও অর্থাৎ দিশাপ্রাপ্ত না হয়ে অনাদিষ্টরা অন্যকে বারবার আদেশ-উপদেশ দিতে থাকে। ‘কানায় কানায় ওলামেলা  বোবাতে খায় রসগোল্লা লালন তেমনই মদনভোলা  ঘুমের ঘোরে দেয় বাহার।’  অজ্ঞতার (কানা) অধিকারী (ওয়ালা)-দের সমাবেশকে (মেলা) বলা হয়েছে কানায় কানায় ওলামেলা। আস্বাদনীয় বস্তুকে অন্ধজন ভোগ করে একান্ত ঘোরে যা ‘বোবাতে খায় রসগোল্লা’র সমার্থক। লালন সাধারণের কাতারে শামিল হয়ে মদগর্বে আপনাকে ভুলে অন্ধকার গৃহ শোভিত করতে চাইছে যা সাঁইজির খবরে ‘লালন তেমনই মদনভোলা/ঘুমের ঘোরে দেয় বাহার’ রূপে প্রচারিত।(চলবে)

মাতৃত্বের পূর্ব-পশ্চিম

দিলশাদ সুলতানা অন্তরা ॥ শরীরটা ক’দিন যাবত অন্যরকম লাগত। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে থাকতো। থেকে থেকে বুক ধরফর করতো। নাটক সিনেমার মত বমি হওয়া, টক খাওয়া দিয়ে আমার নতুন প্রাণের আগমণ বার্তা আসেনি। এসেছিল অন্যরকম অনুভূতি দিয়ে। টেস্ট করে যখন প্রেগনেন্সির খবর নিশ্চিত করি, বাবার বাড়ি  শ্বশুরবাড়ি মিলিয়ে তখন উৎসব আমেজ। অদ্ভূত এক মিশ্র অনুভূতি। আনন্দ, উৎসাহ, উচ্ছাস, ভয়, বিস্ময়, সব মিলিয়ে কি একটা জগা খিচুড়ি। মালিকের কৃপায় পুরো সময়টাই মোটামুটি সুস্থ স্বাভাবিক কেটেছে। পুরো গর্ভকালীন সময়টাই আমি যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবার উপর নির্ভরশীল ছিলাম। আমাদের দেশে পরিবারের বয়োজেষ্ঠ্যরা গর্ভবতী মায়ের ভালো মন্দ দেখাশোনার গুরুদায়িত্ব পালন করে। প্রবাসে নিজেই নিজের অভিভাবক। এখানকার মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আমার জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম এক অভিজ্ঞতা ছিল। শুরুতেই বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা মেডিকেল রেকর্ড, পারিবারিক অসুস্থতার ইতিহাস সবকিছু বিবেচনা করে হাই অথবা লো রিস্ক প্রেগনেন্সি ধরা হয়। জটিলতা না থাকলে গর্ভবতী মায়ের নিয়মিত চেকআপের দায়িত্ব থাকে মিডওয়াইফ বা ধাত্রীর উপর। এই ধাত্রী আমাদের দেশের গ্রামীণ ধাত্রী নয়, যারা বংশ পরম্পরায় সন্তান প্রসবে সহায়তা করে। ইউকেতে এমন সাহায্যকারীদেরকে ডুলা (doula) বলা হয়। মিডওয়াইফ হওয়া এখানে যথেষ্ট সম্মানজনক পেশা। এবং যথাযথ কোর্স (Midwifery) আর প্রশিক্ষণের পরই একজন স্বীকৃত মিডওয়াইফ হিসেবে কাজ করতে পারে। অপরদিকে হাই রিস্ক প্রেগনেন্সিতেও মিডওয়াইফ চেকআপ করে, তবে জটিলতা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ ডাক্তারও ফলোআপ করে। গর্ভাবস্থায় ১৪ সপ্তাহ ও ২০ সপ্তাহ আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। এর আগে বা পরে কোনরকম জটিলতা দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে আলট্রাসনোগ্রাম করে নিয়মিত রক্ত ও প্রসাব পরীক্ষা করে। শুরু থেকে মাল্টিভিটামিন ছাড়া যে কোনও ওষুধ দেয়া থেকে এখানকার ডাক্তার বিরত থাকে। খুব প্রয়োজন না হলে প্যারাসিট্যামল ছাড়া অন্য ওষুধ এড়িয়ে চলে। বমির সমস্যার জন্য প্রথম কয় মাস আমি খাওয়া  দাওয়া করতে পারতাম না। অনেক অনুনয় বিনয় করেও সমবেদনা ছাড়া কিছু জোটেনি। এদিকে আমাদের দেশে আমার চেনা জানার মধ্যে সম-সাময়িক যারা সন্তান সম্ভবা ছিল, সবারই দেখি একদম শুরু থেকে বমির ওষুধ, রুচির ওষুধ, হজমের ওষুধ, বেডরেষ্ট, কত রকম নির্দেশনা গাইনোকলজিস্টের। আর এখানে বেড রেস্ট তো দূরে থাক, সাঁতার সাইকেলিং, টেনিস খেলা, ব্যায়াম সবকিছুতে উৎসাহ দেয়। বমির সমস্যা হলেও যতক্ষণ পর্যন্ত শরীর থেকে কিটোন (keton) নামক উপাদান নি:সৃত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ঘরোয়া টোটকা / নিরাময়ই ভরসা। আমরা জানি আমাদের শরীর গ্লুকোজ থেকে শক্তি উৎপাদন করে। শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ অতিরিক্ত কমে গেলে পর্যাপ্ত শক্তি উৎপাদনের জন্যই ক্ষতিকর। বতর্মান সময়ে কিটো ডায়েট খুবই জনপ্রিয়। তবে জনপ্রিয় হলেও এর অপকারিতা সম্পর্কেও এখন প্রচুর লেখালেখি হয়।

মূল কথায় আসি, দ্বিতীয় সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় আমার অতিরিক্ত বমির কারণে কিটোসিস প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং তখন জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করে গ্লুকোজ ও বমির ওষুধ চালু করে। মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে বলত পারি যে প্রাকৃতিক নিয়মে ব্যঘাত ঘটায় এমন যে কোন পদক্ষেপ নিতেই পশ্চিমা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নারাজ। অগত্যা স্বাভাবিক নিয়মেই সবকিছু চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলে। আমাদের দেশে সন্তানের আগমনী বার্তা পাবার সাথে সাথেই ধরে নেয়া যায় ডেলিভারি সিজারে মাধ্যমে হবে। এই সিজার যে কতখানি ঝুঁকিপূর্ণ ও মায়ের শরীরে এর প্রভাব কতখানি তা বুঝতে বুঝতেই দুইবার অন্তত সিজার করা হয়ে যায়। পত্র-পত্রিকায় সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতায় যা বোঝা যায় তা হল ডাক্তার ও হাসপাতাল টাকার লোভে সন্তান সম্ভবা মা ও তার পরিবারকে নানান রকম ঝুঁকির ভয় দেখিয়ে সিজার করাতে বাধ্য করে। গর্ভের সন্তান বেশি বড় হয় যাচ্ছে নয়ত ওজন কম, নয়ত পানি কমে যাচ্ছে, ইত্যাদি কারণ দর্শিয়ে সিজার করে থাকে। অবশ্যই কিছু কিছু ক্ষেত্রে সিজার করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। যেমন আমার নিজেরও দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম সিজারের মাধ্যমে। তবে আমাদের দেশে মাত্রাতিরিক্ত সিজারের জন্য সাধারণ জনগণ দায়ী করে ডাক্তারকে। আর ডাক্তাররা দায়ী করেন রোগীদেরকে। পুরো বিষয়টি নিয়েই রয়েছে নানান মত বিরোধ। আশে-পাশের বিভিন্ন শুভাকাঙ্খীদের উপদেশ, পরামর্শ ও নানান কুসংস্কারের পালন সব মিলিয়ে গর্ভবতী মায়ের অবস্থা এমনিতেই কাহিল হয়ে যায়। দু:খের বিষয় এই যে এ ব্যাপারে কথা উঠলেই পশ্চিমা বিশ্ব কতটা উন্নত আর আমাদের দেশ কতখানি পেছানো সেই তর্কের ঝড় ওঠে। আমাদের সোনার দেশের সোনার সন্তানেরা ভুমিষ্ঠ হবার আগেই কেন এত জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছে জানার জন্য কৌতুহলী হয়ে খোঁজ নিতে শুরু করি। অবাক হয়ে জানতে পারি আমাদের দেশে ২০১০ সালে মিডওয়াইফরি কোর্স ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়। কিন্তু জনসচেতনতার অভাব, যথাযথ অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের অভাব এবং সর্বোপরি স্বাস্থ্য সেবায় অব্যবস্থা সব মিলিয়ে এই গোটা দিকটাই অন্ধকারে অবস্থান করছে। এরপর কথা বলা শুরু করি পরিচিত যারা কাছাকাছি সময়ে মা হয়েছেন বা হবেন তাদের সাথে। অধিকাংশের অভিযোগ আমাদের দেশের গাইনী বিশেষজ্ঞের কথা-বার্তায়ই সহমর্মীতা ও নম্রতার অভাব। একজন সন্তান সম্ভবা এমনিতেই হাজার রকমের দুশ্চিন্তা, শারীরিক পরিবর্তন, পারিপার্শ্বিক অবস্থা সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত থাকে। সেখানে ডাক্তারের সামান্য সহানুভূতি ও সহমর্মীতার দু’একটি কথা কতখানি প্রভাব ফেলতে পারে তা হয়ত তারা উপলব্ধি করেন না, কিন্তু আমার মতে সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখলে জানতে পারবেন যে একজন আন্তরিক সহানুভূতিশীল চিকিৎসকের সাথে দেখা করেই উপসর্গ অনেকখানি কমে যায়। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও রোগীর মুখে মুখে সেই চিকিৎসকের নাম ও প্রশংসা শুনতে পাওয়া যায়। যখন

 কোন কারণে মুষড়ে পড়েছি, ডেলিভারির সময় যখন ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছি এমনকি নিয়মিত চেকআপের সময়ও আমার মিডওয়াইফ, ডাক্তাররা বার বার বলেছে ‘ইউ আর ডুইং গ্রেট মামি, ইউ আর সো ব্রেভ’; এই ধরনের কথা শুধু আমাকে না, যে কোন অন্ত:স্বত্তা বা নতুন মাকেই তারা বলে থাকে। অপ্রয়োজনীয় অতি সাধারণ এই কথাগুলো যাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয় তার ভেতরে যে পরিমাণ ভরসার সঞ্চার করে তা অতুলনীয়। মাতৃত্ব মানেই এক রাশ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পূর্ণ অনিশ্চয়তার পথে যাত্রা। মা যতই চেষ্টা করুক,

যতই ভালোভাবে নিজের সন্তানের যত্ম নিক, ভেতরে অজানা আশংকা অসন্তুষ্টি থেকেই যায়। একজন মা যখন নিজের ভেতরেই হাজার খানেক ভুল ত্রুটির হিসাব কষতে শুরু করে, সন্তানের কোন অসুখ অস্বস্থি, বা গর্ভকালীন জটিলতার জন্য নিজেকে দায়ী করে, আশ্বাসের সেই দুই চারটা বাক্য সেখানে ভালো বৈ খারাপ কিছু করে না। এবার আসি মাতৃত্বের এই আদিম অথচ আশ্চর্যজনক এই যাত্রায় সন্তানের বাবার ভূমিকায়। গর্ভাবস্থায় ২৮ সপ্তাহ পার হবার পর ইউকে তে জন্মপূর্ববর্তী ক্লাস বা অ্যানটেনাটাল  ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়। ১০-১২ জন অন্ত:স্বত্তাকে নিয়ে একটি গ্রুপ হয় এবং তাদের   সাথে একজন করে বার্থ পার্টনার, যিনি সন্তান জন্মের সময় সাথে থাকবেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বার্থ পার্টনার সন্তানের বাবা বা নানী/দাদী হয়ে থাকে। অ্যান্টিনেটাল ক্লাসের উদ্দেশ্যই হলো নতুন মা বাবাকে সন্তান জন্মের সময়ের জন্য যথাসম্ভব প্রস্তুত করা। নরমাল ডেলিভারির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। হাসপাতালের ব্যাগ গোছানো, প্রয়োজনীয় কি কি জিনিস ব্যাগে রাখতে হবে, কোন কোন উপসর্গ দেখলে বুঝতে হবে প্রসব বেদনার শুরু হয়েছে, ব্যাথা শুরু হয়ে গেলে শিশুর জন্মের আগ পর্যন্ত কি কি সুযোগ – সুবিধা ও ব্যথা নিরাময়ের উপায় এভেইলেবল আছে তার ধারণাও এই ক্লাসগুলোতে দিয়ে দেয়। বার্থ পার্টনার এর করণীয় কি কি আছে সেই প্রস্তুতিও সেখান থেকে শুরু হয়। নতুন মা ও বাবার আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য অ্যাটেনাটাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবজাতকের পরিচর্চা ও পরিচর্যা, দুধ খাওয়ানো, নতুন মায়ের জন্য স্বাভাবিক অস্বাভাবিক সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি নিয়ে কাঠামোভিত্তিক একটি শর্ট কোর্সের মত এটি। বিনা মূল্যে এলাকাভিত্তিকভাবে এই ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়। এমনই এক ক্লাসে আমাদের প্রশিক্ষক একদিন সব বার্থ পার্টনারদের জন্য লাইফ জ্যাকেটের মত ভারী ভারী জ্যাকেট নিয়ে আসে। গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের অনাগত সন্তানের ওজন বয়ে সাধারণ চলাফেরা, কাজকর্ম করা কতটা কষ্টকর, তার নমুনা দেখানোর জন্যই এই আয়োজন করা হয়। প্রত্যেক বার্থ পার্টনার কে এই জ্যাকেট পরে হাঁটা চলা, মেঝে থেকে জিনিস তোলা ইত্যাদি দৈনন্দিন কাজ করতে বলা হয়। স্বভাবতই কিছুক্ষণের মধ্যে তারা হাপিয়ে যায় এবং তারপর কোমর ব্যাথার কারণে খুলে ফেলে। এছাড়াও নবজাতকে নিয়ে প্রথম দিনগুলো কেমন কাটতে পারে, কিভাবে আরেকটু সহজ করা যেতে পারে এই সময়টাকে, তা বিভিন্ন ধরনের ভিডিও এবং কার্যক্রমের মাধ্যমে ধারণা দিয়ে দেয়। সন্তান জন্মের সময় বাবার উপস্থিতি ও সন্তান লালন পালনে বাবার সক্রিয় ভূমিকায় এখানে শুরু থেকে উৎসাহ দেয়া হয়। অথচ আমাদের দেশে সন্তান জন্মের সময় তো দূরে থাক, সাধারণ স্ক্যানের সময়ও বেশিরবাগ সময়ে বাবাকে থাকতে দেয়া হয় না। বর্তমানে অনেক বাবা শিশুর পরিচর্চায় অংশগ্রহণ করলেও অনেক পরিবারের সদস্যদের বিরূপ মন্তব্য, কখনো নিরুৎসাহে পিছিয়ে যায়। পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনে নারী পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উপার্জন করলেও সন্তানের দেখাশুনা নারীকেন্দ্রিক কাজ কেন হবে, এই প্রসঙ্গে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই। একই ঘরে নারী পুরুষ উভয়ে থাকলেও সেই ঘরের ঝাড়া, মোছা রান্নাবান্না ইত্যাদি কাজে অংশগ্রহণ করতে বাড়ির ছেলেদের পৌরুষে কেন আঘাত আসে, তার উত্তর আমাদের সমাজ দিতে পারে না। যেই সন্তানকে পৃথিবীতে আনতে বাবায়-মা দুজনেরই জৈবিক ভূমিকা সমান, সেই সন্তানের লালন পালনের ভার শুধু মায়ের উপর এসে পড়ে। আর বাবার দিন শেষে শিশুকে নেড়েচেড়ে একটু খেলেই জগত সংসারকে ধন্য করেন।সন্তান মাতৃগর্ভে আসার পর একজন মায়ের শরীরে শুধু হরমোনের পরিবর্তন হয় না।  নতুন স্বত্তাকে জায়গা দেবার জন্য মায়ের আভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো কুঁচকে সরে যেতে থাকে। মেরুদন্ড দেহের ভার সামলানোর জন্য বেঁকে যায়। শরীরে যে কোন নতুন – অপরিচত অস্তিত্বকে ক্ষতিকর হিসেবে ধরে আমাদের শরীর। ফলস্বরূপ দেহে অ্যান্ডিবডি তৈরি হয়। বিভিন্ন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীর এভাবেই মোকাবেলা করে। নতুন ভ্রুণকে মায়ের শরীর যেন প্রত্যাখ্যান না করে তার জন্য গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে সবচেয়ে দুর্বল।

শরীরে অতিরিক্ত অক্সিজেনের যোগান দিতে মায়ের মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। যার কারণে গর্ভাবস্থায় অনেক নারীদের অভিযোগ থাকে যে তারা অনেক কিছু ভুলে যায়, দাপ্তরিক কাজে সময় লাগে,         হিসাব নিকাশে ভুল ত্রুটি হয়। অনেকে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। এই অবস্থাকে প্রেগনেন্সি ব্রেইন বলা হয়। হরমোনজনিত উপসর্গগুলো শুধু মায়ের শরীরে নয়, মানসিক সুস্থতারও অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সেজন্য মাতৃত্বকালীন মানসিক পরিবর্তনকে ইউকেতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে। প্রতিবার চেক আপের সময় তারা জানতে চায় আমি মানসিকভাবে কেমন বোধ করি। অবসাদ, অস্থিরতা, বিষন্নতার ক্ষেত্রে তারা তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ নেয়। সমাজসেবিরা বাড়িতে গিয়ে গিয়ে গর্ভবতী বা নতুন মায়ের সাথে সময় কাটায়, কথা বলে, প্রয়োজনে তাকে অন্যান্য সেবা প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত করে। এলাকাভিত্তিক কমিউিনিটি সেন্টারগুলো নানান ধরনের সেবার সুব্যবস্থা করে। অথচ অবাক হয়ে দেখি আমাদের মতো স্পর্শকাতর জাতি নতুন মায়ের মানসিক সুস্থতার প্রতি কি পরিবাণ উদাসীন। নবজাতকের সুস্থতার খবর সবাই জানতে চায়, কিন্তু মায়ের শরীর ও মনের খোঁজ নেয় খুব কমই। নবজাতককে দেখতে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প জমানো, দাওয়াত খওয়া, মিষ্টির আবদার এসবের মধে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা ভুলে যাই প্রসূতী মা ও নতুন শিশুর একটু নিরিবিলি বিশ্রাম নেয়ার গুরুত্ব। সন্তানের মায়ের দুধ টেনে খেতে শেখার জন্যেও সময় দরকার। শিশু মাতৃগর্ভ থেকেই দুধ খাওয়া শিখে আসে কথাটা পুরোপুরি সঠিক নয়। অনেককিছুর উপর এটা নির্ভর করে। সন্তানের জন্মের পর মায়ের সাথে স্কিন টু স্কিন কন্টাক্ট বা ত্বকের সংস্পর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেটা আমাদের দেশের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। যতটা সময় শিশু মায়ের ত্বকের সংস্পর্শে থাকবে, তত তার শরীরে উষ্ণতা বাড়বে, প্রশান্ত হবে, আর মায়ের শরীর তখন অক্সিটোসিন, প্রোল্যাকটিন, এনডুরফিন নামক হরমোন উৎপাদন করবে। মায়ের দুধের যোগান দিতে এই হরমোনগুলোর প্রভাব সর্বাধিক। তাই মা ও শিশুর জন্য প্রথম কিছুদিন নিরিবিলি, শান্ত পরিবেশ খুব জরুরি। নতুন শিশুর জন্মের পর সবাই হুমড়ি খেয়ে উপহার নিয়ে দেখতে চলে যাই। নতুন মায়ের জন্য একবেলা খাবার কি নিয়ে যাই কেউ? নবজাতকে এক বেলা দেখে রাখার মাধ্যমে নতুন মাকে একটু বিশ্রামের সুযোগ করে দেয়ার কথা ক’জন ভাবি? প্রবাস জীবনের সাথে আমাদের দেশের একটা বিশদ পার্থক্য হলো দেশে আমরা  আত্মীয়-স্বজন, চেনা পরিচিতরা একে অন্যের সুখে দু:খে পাশে থাকতে পারি। প্রবাসে এই অভাব প্রতিনিয়ত অনুধাবন করি। এত মানুষজন চারপাশে থাকার পরও আমাদের দেশে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভুক্তভোগী মায়েদের সংখ্যা কম নয়। নির্ণয়কৃত রোগী ছাড়াও উপসর্গ রয়েছে ডায়াগনোসিস হয়নি এমন মায়েদের সংখ্যা প্রচুর । এই সময়টাতে পাশে না দাঁড়িয়ে উলটো তার ভুল ভ্রান্তিগুলো তুলে ধরতে আর কুসংস্কার কুপ্রথার বেড়াজালে তাকে কাবু করতে অস্থির হয়ে যাই আমরা। অথচ ভাবি না নবাগত এই সন্তানের সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে বেড়া ওঠার পুরোটাই তার মায়ের ভালো থাকার উপর নির্ভরশীল। তাই পারিবারিকভাবে সামাজিকভাবে, জাতীয় পর্যায়ে মাতৃত্বকালীন শিক্ষা, সচেতনতা, সেবা সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন আর প্রচার প্রসার প্রয়োজন। কেননা গোড়ায় গলদ রেখে তো আর মহিরুহের স্বপ্ন দেখা যায় না।

প্রবাহ

(দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংগৃহীত)

আফগানিস্তান ও জার্মানি থেকে  সেনা প্রত্যাহার আটকে যাচ্ছে মার্কিন কংগ্রেসে!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান ও জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা আটকে দেয়ার পদক্ষেপ নিচ্ছে কংগ্রেস। নতুন পলিসি বিলের আওতায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আটকে দেবে কংগ্রেস।

আফগানিস্তান থেকে ২,০০০ এবং জার্মানি থেকে ১২ হাজার সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেনা প্রত্যাহারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেবে না কংগ্রেস। ফলে এ দুটি দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার আটকে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আফগানিস্তানে সাড়ে চার হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। সেখান থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ২,০০০ সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। এছাড়া ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্টের আওতায় জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানানো হবে। এর আগে ট্রাম্পের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল মার্ক মিলি।

মার্কিন ও ফরাসি গোয়েন্দা বিমান হটিয়ে দিল রাশিয়ার সুখোই-৩০

বাল্টিক সাগরের আকাশে আমেরিকা ও ফ্রান্সের একাধিক গোয়েন্দা বিমানকে তাড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়ার একটি সুখোই এস-৩০ যুদ্ধবিমান। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাল্টিক সাগরের আকাশে আমেরিকা ও রাশিয়ার দু’টি জঙ্গিবিমান ও একটি মার্কিন জ্বালানী সরবরাহকারী বিমানকে শনাক্ত করে সেগুলোকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা স্পুৎনিক এ খবর জানিয়ে বলেছে, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সোমবার বাল্টিক সাগরের আকাশে এমন কিছু লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে যেগুলো রাশিয়ার আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। রাডার ব্যবস্থায় এসব চলমান লক্ষ্যববস্তু ধরা পড়ার পর রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বিমান বহরের একটি সুখোই এস-৩০ যুদ্ধবিমান আকাশে উড্ডয়ন করে এবং লক্ষ্যবস্তুগুলোর দিকে এগিয়ে যায়।

রুশ যুদ্ধবিমানটি আকাশে মার্কিন বিমান বাহিনীর আরসি-১৩৫ মডেলের একটি গোয়েন্দা বিমান, কেএস-১৩৫ মডেলের একটি জ্বালানী সরবরাহকারী বিমান এবং ফ্রান্সের সি-১৬০ মডেলের একটি গোয়েন্দা বিমানের সন্ধান পায়।এ অবস্থায় সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানটি আমেরিকা ও ফ্রান্সের বিমানগুলোকে তাড়া করে এবং তাদেরকে বাল্টিক সাগরের শেষ সীমায় পৌঁছে দিয়ে নিজ ঘাঁটিতে ফিরে আসে।

ব্রিটিশ পানিসীমার কাছে রুশ যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা বেড়েছে: লন্ডন

ব্রিটিশ পানিসীমার কাছে গত দুই সপ্তাহে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা ‘ব্যাপকভাবে’ বেড়ে গেছে বলে ব্রিটিশ নৌবাহিনী দাবি করেছে।

এক বিবৃতিতে ওই বাহিনী বলেছে, গত দুই সপ্তাহে রাজকীয় নৌবাহিনী ব্রিটেনের আশপাশে নয়টি রুশ জাহাজ পর্যবেক্ষণ করেছে। এসব জাহাজের মধ্যে ছিল একটি সাবমেরিন, একটি ডেস্ট্রয়ার, একটি করভেট, একাধিক টহল জাহাজ ও এগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দানকারী টাগবোট ও সরবরাহকারী জাহাজ। বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীর আটটি যুদ্ধজাহাজ থেকে ইংলিশ চ্যানেল ও সেলটিক সাগরে এসব রুশ জাহাজ শনাক্ত করা হয়।এতে আরো বলা হয়, আকাশ থেকে রুশ জাহাজগুলোকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ব্রিটিশ নৌবাহিনী। রাশিয়ার স্পুৎনিক বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, অতীতে একই ধরনের ঘটনায় রাশিয়ার নৌবহর কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ছাড়াই ব্রিটিশ পানিসীমা অতিক্রম করেছে।

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের পর সাইবার হামলার শিকার আরব আমিরাত

ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তির পর সাইবার হামলার শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পারস্য উপসাগরীয় দেশটির সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হামাদ আল-কুয়েতি সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছেন।

কয়েক দশকের আরব নীতি ভেঙে সংযুক্ত আরব আমিরাত গত আগস্ট মাসে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। এতে ফিলিস্তিনি জনগণ এবং বিশ্বের বহু মুসলিম দেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর বাহরাইন এবং সুদানও ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ অনুসরণ করে। মোহাম্মদ হামাদ আল-কুয়েতি দুবাইয়ের এক সম্মেলনে বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে কিছু লোকজন ব্যাপকভিত্তিক সাইবার হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক সেক্টর লক্ষ্য করেই মূলত এসব হামলা চলে তবে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানান নি। এমনকি হামলাকারীরা সফল হয়েছে কিনা সে ব্যাপারেও তিনি পরিষ্কার করে কিছু বলেন নি।

কুয়েতি স্পষ্ট করে বলেন, করোনা ভাইরাসের মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, সাধারণত বহু হামলা ইরান থেকে হয়ে থাকে তবে সম্প্রতিক হামলার পেছনে কারা ছিল সে কথা তিনি সুনির্দিষ্ট করে বলেন নি।

ইমরান খানকে মরিয়ম নওয়াজের হুশিয়ারি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে মরিয়ম নওয়াজের নেতৃত্বে একাট্টা  হচ্ছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। পাক পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ থেকে সম্প্রতি গণইস্তফা দেয়ার কথা রয়েছে বিরোধী দলের সদস্যদের।

এর মধ্য দিয়ে ইমরান খানের সরকার পতন ঘটানোর হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সহসভাপতি মরিয়ম নওয়াজ।

যদি এমনটি না-ও হয়, বিরোধী ১১ দলের জোট পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) সম্প্রতি একটা বড় সিদ্ধান্ত নেবেন বলে গণমাধ্যমকে জানিছেন মরিয়ম। খবর জিও নিউজের। বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেহাল অর্থনীতির মতো নানাবিধ বিষয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারের ওপর লাগাতার চাপ বাড়াচ্ছেন বিরোধীরা।

১৬ অক্টোবর থেকে এখনও পর্যন্ত দেশের নানা প্রান্তে অন্তত পাঁচটি সরকারবিরোধী সভা করেছে পিডিএম। পরবর্তী সভা রয়েছে লাহোরে ১৩ ডিসেম্বর। ইমরান খানের সরকার ওই সভা আয়োজনের অনুমতি নাও দিতে পারে। যদিও ইমরান খান জানিয়েছেন কাউকে আটকানো হবে না।

কিন্তু সমাবেশে উপস্থিত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে। সম্প্রতি লাহোরে দলীয় সোশ্যাল মিডিয়াকর্মীদের সভায় মরিয়ম এ হুমকি দেন। ইসলামাবাদকে চাপে রাখতে আমিরাতে পাকিস্তানিদের ভিসা বন্ধ!

 ইরানের গোপন পরমাণু তথ্য প্রকাশ করছে আইএইইএ

ইরানের জাতীয় সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের চেয়ারম্যান মুজতবা জুন্নুরি বলেছেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ ইরানের পরমাণু কর্মসূচির গোপন তথ্য তেহরানের শত্রুর হাতে তুলে দিচ্ছে। এছাড়া, বিভিন্ন পর্যায়ে জাতিসংঘের ওই সংস্থা বিশ্বস্ততা ভঙ্গ করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। সম্প্রতি ইরানের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত তথ্য আইএইএ’র মাধ্যমে ফাস হয়ে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে জুন্নুরি সম্প্রতি এক বক্তব্যে আরো বলেন, আইএইএ’র পরিদর্শক হয়ে যারা ইরান সফর করেন তাদের অনেকে পশ্চিমা দেশগুলোর গুপ্তচর। এসব গুপ্তচর জাতিসংঘের কর্মকর্তা হিসেবে ইরানে আসলেও এদেশের যেসব তথ্য গোপন রাখার কথা সেগুলো তারা ইরানের শত্রুদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। সম্প্রতি ইরানের পার্লামেন্টে পাস হওয়া নতুন আইনের কথা উল্লেখ করে জুন্নুরি বলেন, এই আইন বাস্তবায়ন করলে আইএইএ’র পরিদর্শকরা আর এই অপকর্মটি করার সুযোগ পাবে না। এর আগে সম্প্রতি আইএইএ’তে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি কাজেম গারিবাবাদি বলেছিলেন, আইএইএ’র ইরান সংক্রান্ত গোপন প্রতিবেদন প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবে তেহরান।  তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি আইএইএ’র সঙ্গে তেহরানের চিঠি আদান-প্রদানের সব তথ্য গোপন দলিল হিসেবে পরিগণিত; কাজেই এই গোপন দলিল ফাঁস হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে সহজে ছেড়ে দেবে না ইরান।

পশ্চিমা কিছু গণমাধ্যম সম্প্রতি খবর দেয়, আইএইএ তার সদস্য দেশগুলোর কাছে এ তথ্য প্রকাশ করেছে যে, ইরান তার নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনায় অত্যাধুনিক আইআর-২এম সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গারিবাবাদি বলেন, আইএইএ’র গোপন প্রতিবেদন পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার ঘটনা এর আগেও একাধিকবার ঘটেছে। কিন্তু এবার তেহরান আইনি ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে দৃঢ়সংকল্প। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার লক্ষ্যে সেদেশের পার্লামেন্ট সম্প্রতি এক আইন পাস করার পর পশ্চিমা গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হলো। ইরানি পার্লামেন্টের আইনে বলা হয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে আমেরিকার একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনায় অন্তত ১,০০০ আইআর-২এম সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করতে হবে।

ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে ভিন্ন পথে আরব নেতারা

ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে কয়েকটি আরব রাষ্ট্র বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানের ওপর ব্যাপক চাপসৃষ্টি করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আছে সৌদি আরবও। চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানের নাগরিকদের শ্রম ও ভ্রমণ ভিসা ইস্যু করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। খবর প্রেসটিভি ও ডেইলি সাবাহর। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন সরকার ইসরাইল এবং ভারতঘেঁষা নীতিগ্রহণ করে ইসলামাবাদকে ভিন্ন বার্তা দিতে চাইছে।

আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে পাকিস্তানের ৫০ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করে। আরব রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। সম্প্রতি পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব ইসলামাবাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ব্যাপক চাপ সৃষ্টি সত্ত্বেও ইমরান খানের সরকার নতিস্বীকার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ফিলিস্তিনিদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ায় আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে পাকিস্তানের জনগণ রাজধানী ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ অবস্থায় ইমরান খান সরকারের সামনে দুটি পথ রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া অথবা আরব রাষ্ট্রগুলোর শাস্তির মুখে পড়া।

তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হচ্ছে- ইরান, তুরস্ক, কাতার ও চীনের সমন্বয়ে যে জোট গড়ে উঠতে যাচ্ছে তাতে যুক্ত হবে পাকিস্তান। এর বিপরীতে থাকবে আমেরিকা, ইসরাইল, ভারত ও কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের জোট।

বিশ্ব বাজারে চাহিদা বাড়ছে বাংলাদেশি ওষুধের

দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎকৃষ্টমানের ঔষধ প্রস্তুত হচ্ছে। বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে ১৪৮টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো.মাহবুবুর রহমান এসব কথা বলেন। সম্প্রতি রাজধানীর খিলক্ষেতে তামান্না ফার্মেসির উদ্যোগে লেকসিটি এবং মিরপুরে দুটি মডেল ফার্মেসি উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেছেন, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ধরনের এন্টিবায়োটিক ঔষধ বিক্রি করা যাবে না।

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো: মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, আগামী দুবছরের মধ্যে দেশের সকল ঔষধ ফার্মেসিকে মডেল ফার্মেসি অথবা মডেল মেডিসিন শপে পরিণত করার সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে ঔষধ প্রশাসন। ঔষধের গুণগত মান বজায় রেখে সঠিক ঔষধ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মডেল ফার্মেসি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, তাপমাত্রার হেরফের হলে অরেক ঔষধের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। তাই ফার্মেসিগুলোর পরিবেশ আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করার প্রতি দৃষ্টি দিচ্ছে ঔষধ প্রশাসন। তারই অংশ হিসেবে মডেল ফার্মেসি বা মডেল মেডিসিন শপ প্রতিষ্ঠাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এ সময় উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, তামান্না মডেল ফার্মেসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন মৃধা বেলু, সিনিয়র সাংবাদিক কনক সাহা প্রমুখ।

উন্নয়নে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ- এরপরেও সুকৌশলে রাজ্য দখলের চেষ্টা বিরোধীদের

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন দেখছে, মানুষ যত দেখছি তত হতাশ হয়ে পড়ছে এবং রাজ্যের শাসক দল বিরোধী মনোভাব তৈরি করে দিচ্ছে বিরোধী দলগুলি। দুয়ারে দুয়ারে সরকার। এই কথাটি যেভাবে রাজ্যের একেবারে গ্রহণযোগ্য জায়গায় মানুষ গ্রহণ করেছে। ঠিক এর উল্টোটা বিরোধীরা সুযোগ নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে, প্রতিটা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে এক ধরনের প্রচার হচ্ছে, যে সরকারকে তোমার বাড়ি এসে পৌঁছেছে সবার বুকে একটাই কথা না। অনেকে ছোট ছোট সমস্যার সমাধান হয়নি, গভীর জলে চলে গেছে বাম আমল থেকেই। তেমনি গ্রাম বাংলার বহু পরিবার রয়েছে।তাদেরকে পরিষ্কারভাবে বোঝেনা হচ্ছে সরকার ভাওতা দিচ্ছে, ভোটের আগে মানুষকে ভুল বুঝাচ্ছে আদপেই তোমাদের সমস্যার সমাধান হবে না। ঠিক উল্টো টাই বোঝানো হচ্ছে, গ্রামবাংলায় গিয়ে দেখতে পাচ্ছেন সাংবাদিক পরিবারের উপরে কেমনি অত্যাচার, অনাচার, অবিচার এবং সবকিছু দিচ্ছে না এটা কিন্তু বাংলা পরিনাম ভয়ঙ্কর। মানুষ সত্যিকারে সমস্যায় জর্জরিত তাই বিরোধী দলের কথাগুলো তাদের কানে বাজছে। সেই কারণে যদি বাংলার উন্নয়ন কে সামনে রেখে মানুষের সমস্যার সমাধান করতে হয়, তাহলে দিদিকে আরো কৌশলী হতে হবে। সত্যিকারে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে রাজ্যস্তর থেকে সরকারি প্রতিনিধি পাঠিয়ে সমস্যার সমাধানের খোঁজ নিতে হবে। আর করা যেতে পারে বাংলায় সৎ নিষ্ঠাবান সাংবাদিককে সামনে রেখে তাদের কাজ দিয়ে খোঁজ নিতে হবে, কোন সমস্যার প্রকৃত ঘটনা কি আছে। দিদির উন্নয়নের সুযোগ নিয়ে আজকের বাংলার নেতারা কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে। এসব গ্রাম বাংলার লোক দেখতে দেখতে তৃণমূল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সত্যগুলো জানিনা কেন বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে খবরটি পৌঁছাচ্ছে না। যাক এসব কথা আজকেরে আমার লেখার একটাই কারণ বাংলার উন্নয়ন দেখে, আগামী দিনে মানুষকে ভোট দেবে প্রশ্নচিহ্ন সামনে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই লেখাটি বাংলার শাসক দলের কাছে অপ্রিয় সত্য হলেও সত্যি কথাটা আমি তুলে ধরব একদিকে উন্নয়ন আরেকদিকে বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি। দুইয়ের মাঝে বাংলা যেন আজকের বিপদগ্রস্ত, বাংলার উন্নয়ন যতটা মানুষের মধ্যে প্রভাব পড়েছে, ততটাই ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেনি নেতারা। বা পুলিশ-প্রশাসনের একাংশ, সেই কারণে এর প্রভাব ভোটব্যাংকে যেতে পারে আগামী বিধানসভা ভোটে।

বাংলার উন্নয়নের হাতিয়ার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উন্নয়নের দিক আমি এই লেখার মধ্যে তুলে ধরছি। বাংলার উন্নয়ন নিয়ে তোপ দাগা বিজেপিকে কার্যত সম্প্রীতি তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এদিন গত ১০ বছরে রাজ্যে করা তাঁর উন্নয়নের খতিয়ান দিয়ে বলেন, ‘বাংলায় অনেক হয়েছে, বলতে গেলে রামায়ণ-মহাভারত-কোরান-বাইবেল সব শেষ হয়ে যাবে। রাজ্যে সব উন্নয়নের কাজ হয়েছে। সেই দিকে রাজ্যে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সবুজসাথী, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী। রূপশ্রী, শিক্ষাশ্রী, ঐক্যশ্রী, শিল্পশ্রী, সমব্যথী থেকে শুরু করে একজন মানুষের জীবনের সব ক্ষেত্রের সঙ্গেই এই সরকার জুড়ে রয়েছে। মানুষকে একটু সুবিধা দিতেই এই প্রকল্পগুলি নেওয়া হয়েছে। এতে বহু মানুষই উপকৃত হবেন। এ ও মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৮ বছরের মধ্যে ৮টা নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে সময় পেয়েছি মাত্র পাঁচটা বছর। তাতেই এত কাজ করা হয়েছে। যা বাংলায় কেউ কোনওদিন ভাবতেই পারেনি। পাশাপাশি, এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, জানুয়ারি থেকে রাজ্যে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন এক হাজার টাকা করে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়াও, সিভিক ভলিন্টিয়ার, মিড ডে মিল-সহ যে ক্ষেত্রগুলি রয়েছে তা দেখে নেওয়া হয়েছে বলেই জানান তিনি। পাশাপাশি, এদিন তিনি স্পষ্টই জানান, যে বা যারা বাইরে থেকে এসে রাজ্যে গুন্ডামি করছে তারাই বহিরাগত। যারা রাজ্যে এসে থেকে রাজ্যের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন তারা বহিরাগত নয়। ­­তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তোপ দেগে মমতা বলেন, ‘একটা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরসভার নির্বাচন করছে। দেশের কী অবস্থা তা স্পষ্ট। দেশের সীমান্তের কি অবস্থা, অর্থনীতিতে ধস নামছে, সে সব দিকে নজর নেই। শুধু ভোট। পরিস্থিতি এতটাই নিচে নেমেছে যে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পুরসভার নির্বাচন করতে হচ্ছে। কারও বাড়িতে এসে রান্না করে খাবার খাচ্ছে, ছবি তুলছে। কিন্তু দেশের কী অবস্থা, কেউ দেখছে না। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির ‘বহিরাগত’ নিয়ে কথা তুলতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগমী এপ্রিল থেকে মে মাসে এই রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে

ভোট গ্রহণের কথা। সেই নির্বাচন সামনে রেখে এখন উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যের প্রধান দল তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, জাতীয় কংগ্রেস ও বাম দল ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে জয়ের আশা নিয়ে মাঠে নেমেছে বিজেপি। বিজেপির কেন্দ্রীয় পাঁচ নেতাকে রাজ্যে নির্বাচন তদারকির জন্য পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সুনীল দেওধর, বিনোদ সোনকার, বিনোদ তাওড়ে, দুষ্মন্ত গৌতম ও হরিশ দ্বিবেদি। তাঁরা কেউই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা নন।

তারা বুথ স্তর পর্যায়ের নির্বাচনী কাজ শুরু করেছেন। এই   নেতাকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের এ প্রচারে অসন্তুষ্ট বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সম্প্রীতি বুধবার সকালে কলকাতার ক্যানিং স্ট্রিটে তিনি বলেন, বাংলার উন্নয়নে অবাঙালিদের অবদান অনেক বেশি। কিন্তু তারা বহিরাগত নন। ২০০ বছর আগে ব্রিটিশ আমল থেকেই বাংলায় বাইরের মানুষ এসে এখানে বসতি স্থাপন করে উন্নয়নে শরিক হয়েছেন। তাদের অবদান অস্বীকার করা যাবে না। তাঁদের অবদান অনেক বেশি। কেন এই বহিরাগত প্রশ্ন আসবে? শাসকের বিরোধীদের নিজেদের দোষ ঢাকতে একে অপরের উপরে ইচ্ছাকৃত চাপা উত্তেজনা দোষ চাপিয়ে যাচ্ছে। এটা যেমন সত্য কথা ঠিক আরেকটি সত্য কথা অস্বীকার করা যাবে না বাংলার মানুষ ও পারবেনা, উন্নয়ন হয়েছে এই বাংলায়। ঠিক এর উল্টোটা বলতে গেলে বলতে হয়,বাংলায় উন্নয়নের সাথে সাথে অনেক অবনতি হয়েছে। অনেক জায়গায় খাতা-কলমে উন্নয়ন দেখানো হয়েছে। প্রত্যন্তগ্রামের মানুষের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে কোন না কোন সমস্যা রয়ে গেছে। গ্রাম্য সাংবাদিকদের আজও প্রাধান্য দেয় নি পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেটা কর্ণপাত করেননি। কি কথা গুলো ঠাকুর সত্যের মতো। অন্যদিকে এও বলা যেতে পারে,করোনা আবহেও বাংলায় কর্মসংস্থান হয়েছে বলে আগেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি আরও একবার সেই খতিয়ানই তুলে ধরলেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আশ্বাস আরও কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত হচ্ছে রাজ্যে। এর আগে সাধারণ মানুষকে রাজ্যের প্রকল্পগুলির সুবিধা সম্পর্কে বোঝাতে ‘দুয়ারে দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিও গ্রহণ করে সরকার। দুয়ারে দুয়ারে সরকার গিয়ে সত্যি মানুষের কতটা সমস্যার সমাধান হবে এ নিয়েপ্রশ্ন চিহ্ন উঠেছে গ্রাম-গঞ্জ থেকে। সব প্রকল্প এর অপব্যবহার হচ্ছে গ্রামগঞ্জে। প্রকৃত মানুষের সমস্যার সমাধান হয়নি,উন্নয়নের তো মানুষের জন্য তাহলে মানুষের সমস্যার সমাধান হবে না কেন।সেই প্রসঙ্গে বলতে গেলে বিগত সরকারের কথা উল্লেখ করতে হয়।বাম আমলের ৩৪ বছরের বিশাল দেনা রাজ্যের ঘাড়ে এখন পাহাড় প্রমাণ চাপ হিসাবে সামনে দাঁড়িয়েছে। ৩৪ বছর ধরে

সিপিএম হার্মাদরা রাজ্যে কোনও উন্নয়নের কাজ করেনি। উল্টে তারা শুধু বছরের পর বছর দেনা করে গিয়েছে। সেই দেনার টাকায় পকেট ভরিয়েছে সিপিএমের হার্মাদরা ও টাকার পাহাড় গড়া হয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে। হার্মাদদের এই টাকা চুরির পিছনে বরাবর সাহায্য করে গিয়েছেন দিল্লির কংগ্রেস নেতারা। সিপিএম সরকার যখন এইভাবে বছরের পর বছর দেনা বাড়িয়েছে, তখন চুপ করে থেকেছে কংগ্রেস। বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন বাম আমলের এই বিপুল ঋণের বোঝা থেকে রাজ্যকে সাময়িক রেহাই দেওয়া হোক।

মুখ্যমন্ত্রীর তাঁর আর্জি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে একাধিকবার চিঠিও দিয়েছিলেন। অতীতের কংগ্রেস সরকার যেমন সিপিএম হার্মাদদের দেনা করে টাকা চুরিতে কোনও বাধা দেয়নি, তেমনই বিজেপি সরকারও বাংলার জননেত্রীর আর্জিতে কোনও সাড়া দেয়নি। বিজেপি কখনওই বাংলার উন্নয়ন চায় না। বাংলার উন্নয়ন চায় না বলেই তারা বাম আমলের ঋণের বোঝা থেকে রাজ্যকে সাময়িক রেহাই দেওয়ার কোনও ব্যবস্থাই করেনি। বাম আমলের ঋণের বোঝা সুদে-আসলে বাড়তে বাড়তে এখন কার্যত হিমালয় পর্বতকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। বর্তমান আর্থিক বছরে সুদে-আসলে ঋণের বোঝা পৌঁছেছে ৫৬ হাজার কোটি টাকায়। এই টাকাটা বছরের শুরুতেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক  রাজ্যের কোষাগার থেকে কেটে নেয়। এমনিতেই রাজ্য সরকারের আয়ের বিশেষ সূত্র নেই। কিন্তু সংবিধানে যেভাবে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া আছে, তাতে রাজ্যের আর্থিক দায় বিপুল। এই বিপুল আর্থিক দায় রাজ্যকে সামলাতে হয় তার সামান্য আয় থেকে। টাকার ঘাটতি পড়লে কেন্দ্র সরকার নোট ছাপাতে পারে। যে সুযোগ রাজ্যের নেই। কিন্ত সীমিত আয়ের মধ্যে বাম সরকারের আমলে তৈরি হওয়া বিশাল ঋণের বোঝা সামলে রাজ্য সরকার গত আট বছর ধরে বিরাট উন্নয়নের কাজ করে যেতে সক্ষম হয়েছে। গত আট বছরে রাজ্যে যে পরিমাণ উন্নয়নের কাজ হয়েছে, তা অতীতে বাংলায় কোনও সরকার করে দেখাতে পারেনি। এমনকী দেশের মধ্যেও গত আট বছরে এই রাজ্যের সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ মডেল হয়ে গিয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের কারণেই। বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব মাত্র আট বছরে বাংলাকে এই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে সমর্থ হয়েছে। অন্যদিকে বাংলার উন্নয়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “দারিদ্র্য দূরীকরণে বাংলা প্রথম। এছাড়া ই-গর্ভনেন্স, ই-টেন্ডার, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে বাংলা প্রথম। ক্ষুদ্রশিল্পের উপর আমরা নির্ভরশীল। রাজ্যে ১০ লক্ষ আইটি কর্মী রয়েছেন। বাংলায় বেড়েছে জিডিপি। ২.৫ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি হয়েছে। উইপ্রোতে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। মহামারী কেটে যাবে। তবে রাজ্যের শিল্প, উন্নয়ন থেকে যাবে। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসও এ রাজ্যে বিনিয়োগ করেছে। তৈরি হচ্ছে সিলিকন ভ্যালি, আইটি হাব। আইটিসি, টিসিএস, ইনফোসিসের মতো সংস্থার মাধ্যমে এ রাজ্যে কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত  করেছে।” করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে জারি হয় লকডাউন (Lockdown)। তার ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট সঙ্গীণ। বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তবে এই পরিস্থিতিতেও বাংলাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনা কালে রাজ্যে কর্মহীনদের জন্য তৈরি করা হয়েছে পোর্টাল। যার মাধ্যমে ভিনরাজ্য থেকে ফেরা আইটি কর্মীরা সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। এও বলতে হয়। ৫৬ হাজার কোটি টাকা একটি আর্থিক বছরে দেনা শোধ করে এই পরিমাণ উন্নয়নের কাজ দেশের আর কোনও সরকার করে দেখাতে পারেনি। আগামিদিনেও করতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে প্রথম যে কাজে নজর দিয়েছিলেন তা হল রাজকোষের নিজস্ব আয় বাড়ানো। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর মাত্র এক বছরেই তিনি রাজ্যের নিজস্ব আয়কে দ্বিগুণ করেছিলেন। রাজ্যের নিজস্ব আয় দ্বিগুণ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে কোনওভাবেই রাজ্যবাসীর উপর বাড়তি করের বোঝা চাপাতে হয়নি। বরং তিনি জ্বালানি তেল-সহ অন্য অনেক ক্ষেত্রেই রাজ্যবাসীকে করের বোঝা থেকে রেহাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। করে নিজস্ব আয় মুখ্যমন্ত্রী বাড়াতে পেরেছেন সম্পূর্ণই তাঁর নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের গুণে। বাম আমলে রাজ্যের আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনও উদ্যোগই ছিল না সিপিএমের হার্মাদ নেতাদের। তারা দলীয় সংকীর্ণ রাজনীতির বাইরে কিছু ভাবতেই পারতেন না।

কীভাবে রাজ্যের আয় বাড়ানো যেতে পারে, কোন ক্ষেত্রে চুরি বন্ধ করা যাবে, কোন ক্ষেত্রে আধিকারিকদের উদ্যোগী করে বাড়তি আয়ের বন্দোবস্ত হবে ইত্যাদি ব্যাপারে সিপিএমের হার্মাদ নেতাদের কোনও ভাবনা ও পরিকল্পনা ছিল না। এর ফলে পুরোপুরি ভুগতে হয়েছে রাজ্যবাসীকে। রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়ানোটাকে তাঁর লক্ষ্য হিসাবে স্থির করে বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে তিনি উদয়স্ত পরিশ্রম করেছেন। নেতা যদি সারাদিন পরিশ্রম করেন, তাহলে অন্যানরাও স্বাভাবিকভাবে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ হবেন। এই রাজ্যের ক্ষেত্রে বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর সেই কাজটিই হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পরিশ্রম ও দায়বদ্ধতা দিয়ে গোটা রাজ্য

প্রশাসনকে উদবুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। কীভাবে রাজ্যের আয় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে তা রূপায়ণ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পরিকল্পনা সফলভাবে রূপায়ণ করতে পারাতেই রাজ্যের আয় দ্বিগুণ হয়েছে। রাজ্য তার নিজস্ব আয় দ্বিগুণ না করতে পারলে এই উন্নয়ন কোনওভাবেই সম্ভব ছিল না। কেন্দ্রীয় সরকার বাম আমলের ঋণের বোঝা বাবদ রাজ্যের কোষাগার থেকে বছরে ৫৬ হাজার কোটি টাকা কেটে নিচ্ছে। রাজ্যের কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা দিতে এক বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হচ্ছে। এই টাকাও ৫০ হাজার কোটি টাকার কম নয়। তার পরেও শুধুমাত্র উন্নয়নের জন্য বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা চাট্টিখানি কথা  নয়। গত আট বছর ধরে বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অসম্ভব কাজটিই সম্ভব করে আসছেন। আসলে বাংলার সরকার অতীতে প্রশাসনের শীর্ষপদে এইরকম বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেখেনি ­ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব , পরিকল্পনা রচনা করার দক্ষতা এবং প্রশাসনকে চালানোর ক্ষমতা এই অসম্ভবকে বছরের পর বছর সম্ভব করে তুলেছে। রাজ্যবাসীদের পক্ষে এটা চরম সৌভাগ্য যে তারা প্রশাসনের শীর্ষে এইরকম এক নেতৃত্বকে পেয়েছে।গত আট বছর ধরে বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে উন্নয়নমূলক কাজ রাজ্যে হয়েছে, তাতে নিশ্চিত করেই এই রাজ্যকে এক নতুন শিখরে পৌঁছে দেবে। গোটা দেশে অর্থনীতিতে যখন বিরাট মন্দা নেমে এসেছে, তখন এই রাজ্যে বার্ষিক আয়বৃদ্ধি এক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান তথা জিডিপি বৃদ্ধির হার ১২.৬৮ শতাংশ। যা গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাবেই দেশের  জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রতি বছরই কমছে। কমতে কমতে তা এখন ছয়ের ঘরে চলে গিয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাবই বলছে, রাজ্যের জিডিপি বৃদ্ধির হার সর্বকালীন রেকর্ড ১২.৬৮ শতাংশ। এটা সম্ভব হয়েছে বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সরকার উন্নয়নমূলক কাজে গত আট বছর ধরে এত বিপুল টাকা খরচ করেছে যে তার সুফল আর্থিক বৃদ্ধির হার বাড়ার মধ্য দিয়ে রাজ্য ভোগ করছে। গোটা দেশেই বেসরকারি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কমছে। শিল্পোদ্যোগীরা বেশ কিছুদিন হল লগ্নি করার ক্ষেত্রে কোনও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বেসরকারি খাতে লগ্নি ভয়ংকরভাবে কমে যাওয়ায় দেশের আর্থিক হাল প্রতিদিন খারাপ হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বারবার আর্জি জানাচ্ছে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ভাবনাচিন্তা করুক। কিন্তু কেন্দ্রের এ নিয়ে কোনও হেলদোল নেই। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরেরা প্রতিদিন বিবৃতি  দিচ্ছেন। তাঁরা পর্যন্ত সরকারকে উদ্যোগ নিতে বারবার অনুরোধ করছেন। এক্ষেত্রে দেশের মধ্যে একমাত্র উদ্যোগী হয়েছেন বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি রাজ্য সরকারের সীমিত আর্থিক ক্ষমতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। আজকে যদি পশ্চিমবঙ্গ বিপুল টাকা খরচ না করত, তাহলে এই রাজ্যেও আর্থিক মন্দা ভয়াবহ চেহারায় আত্মপ্রকাশ করত। বাম আমলে এই রাজ্যে শিল্পের সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। এখানে কলকারখানা বাম আমলে উঠে গিয়েছে। তার উপর বেসরকারি লগ্নি নেই। রাজ্যের জনসংখ্যাও বিপুল। এই বিরাট জনসংখ্যাকে বাঁচিয়ে রেখেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উদ্যোগ। বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার উপর রাজ্য সরকারের উন্নয়নী ব্যয় অন্য কোনও রাজ্য কল্পনাই করতে পারে না। বাংলায় সেটাই সম্ভব করে দেখাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারের উন্নয়নমূলক খরচ বাঁচিয়ে রেখেছে রাজ্যের দশ কোটি মানুষকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে তাঁর সরকার পরিচালনা করছেন, তা গোটা দেশের সামনে মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে অন্য রাজ্যের সরকারগুলিও ভাবতে শুরু  করেছে আর্থিক মন্দা মোকাবিলার ক্ষেত্রে সরকারের কী ভূমিকা হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় সরকার তার কোনও দায়িত্ব পালন করছে না। এই আর্থিক মন্দার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের যে পরিমাণ টাকা লগ্নি করা উচিত, তার ছিটেফোঁটাও তারা করছে না। এইভাবে রাজ্য সরকার পাশে না দাঁড়ালে বাংলার অর্থনীতির হাল ভয়াবহ হবে। বাংলাকে এইভাবে রক্ষা করছেন একমাত্র বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তাঁর নেতৃত্বে বাংলা যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তাতে আগামিদিনে এই রাজ্য আরও অনেক দূর এগোবে। বাংলার আর্থিক বৃদ্ধির এই হার বজায় থাকলে ঘাড়ে ৫৬ হাজার কোটি টাকার দেনার

বোঝা নিয়েও বাংলা সবদিক থেকে এগিয়ে যাবে। বাংলার উন্নয়ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গতি লাভ করেছে, তাকে আর কোনওভাবেই ঠেকানো সম্ভব নয়। যদিও এই রাজ্যে ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে বিজেপি নানাভাবে চেষ্টা করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে বানচাল করতে। বিজেপির এই চক্রান্ত এই রাজ্যের মানুষ সফল হতে দেবে না।

শেখ আবদুল হানিফ

আদর্শিক সাংবাদিকতার মূর্ত প্রতীক

শাহ্ ফুয়াদ ॥ সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর যোগ্য উত্তরসূরী সমাজ-গবেষক ও সমাজবিজ্ঞানী সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ বাংলাদেশে আদর্শিক সাংবাদিকতার পতাকাটি ধরে রেখেছিলেন শক্ত হাতে, দৃঢ় প্রত্যয়ে। কর্ম-মানবতা-শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘আমরা নিরপেক্ষ নই, সত্যের পক্ষে’এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দীর্ঘ ২৬ বছর বর্তমান সংলাপ নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে যে উদাহরণ তিনি সৃষ্টি করেছেন তা দেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। আদর্শিক সাংবাদিকতার প্রদীপটি যারা ধারণ, পালন ও লালন করতে চায় তাদের জন্য তিনি ‘শুকনো গাছের মরা ডালে ফুল ফোটানো’র মতো কাজটি করেছেন এতটা বছর। তথ্যপ্রযুক্তির নতুন নতুন উদ্ভাবন, সংবাদপত্র প্রকাশনার সুযোগ-সুবিধা এবং সাংবাদিকতার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যাপক প্রসারের কারণে কর্পোরেট হাউজগুলোর নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম জগৎটির কাছে এদেশের আদর্শিক সাংবাদিকতার আলোটা যখন নিভু নিভু, তখন তিনি তাঁর শ্রম-সময়-সুশিক্ষা-স্বশিক্ষা-মেধা-মনন-চিন্তা-চেতনা-ব্যবস্থাপনার অপূর্ব দক্ষতা দিয়ে ‘বর্তমান সংলাপ’কে তিনি দীর্ঘ ২৬ বছর টেনে এনেছেন।    

সাংবাদিকতা তথা গণমাধ্যম জগৎটির নিয়ন্ত্রণ এখন অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকদের হাতে নেই, ব্যবসায়ীদের হাতে, যা এদেশের ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিকতার ইতিহাসের ধারাবাহিকতার পথে একটি ছন্দপতন বটে। এই পরিস্থিতির দায়ভার কে নেবে ? বা আর এ পরিস্থিতির জন্য কে দায়ী এবং এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়-এসব প্রশ্নের উত্তর কেউ খুঁজতে গেলে সম্পাদক-সাংবাদিক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর প্রবর্তিত ধারাটি কাজে আসতে পারে। বিগত ২৬ বছরে বাংলাদেশে অনেক দৈনিক ও সাপ্তাহিক সংবাদপত্র বের হয়েছে, কিন্তু নানামুখী দ্বন্দ্ব ও স্বার্থের সংঘাতে এবং বিশেষ করে লক্ষ্যচ্যূত হওয়ায় অথবা পত্রিকা প্রকাশের আদৌ কোনো লক্ষ্য না থাকার কারণে অধিকাংশ সংবাদপত্রই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি। বর্তমানে কোনো কোনো সংবাদপত্র বা বৈদ্যুতিন (ইলেক্ট্রনিক) মাধ্যম বিভিন্ন ব্যবসায়িক কৌশল প্রয়োগ করে প্রতিপত্তি অর্জন করলেও এই জগতের ভেতরের অবস্থাটি কী যে ভীষণ রকমের প্রতিকূলতা মোকাবেলা করছে তা একমাত্র এর ভুক্তভোগীরাই বলতে পারবেন। এর সবচেয়ে বড় কারণ, এসব সংবাদপত্র প্রকাশনার ক্ষেত্রে কোনো আদর্শিক বা মহৎ কোনো লক্ষ্যের চাইতে ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত ব্যবসায়িক স্বার্থই বেশি ছিল। ফলে বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, দেশে সংবাদপত্র প্রকাশনা ও সাংবাদিকতার অবাধ স্বাধীনতা থাকলেও সেই স্বাধীনতা ভোগ করছে সংবাদপত্রের ব্যবসায়িক মালিকগণ, কর্মরত সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও সুযোগ-সুবিধা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তথৈবচ।

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, সাংবাদিকতার প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিধারী সবচেয়ে মেধাবীরা এখন সংবাদপত্রের কাজে প্রবেশ করতে চায় না, এর পরিবর্তে তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চালু হওয়া সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দিচ্ছে। এ অবস্থা কিন্তু ১৫/২০ আগেও ছিল না। অর্থাৎ, বলা চলে মেধাবীরা সাংবাদিকতায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বা ফেলছে। অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা এবং অনেক ক্ষেত্রে মেধাহীনরা সাংবাদিকতার বিভিন্ন স্তরে প্রবেশ করছে যা সারা দেশে সাংবাদিকতার সামগ্রিক পরিস্থিতিতেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাংবাদিকতার নাম ভাঙ্গিয়ে ব্যক্তিগত ফায়দা এমনকি অবৈধ ও সমাজবিরোধী ঘটনা ঘটছে যা বিবেকবান ও সচেতন মহলের জন্য বিরাট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থা থেকে অবশ্যই উত্তরণ ঘটাতে হবে সাধারণ মানুষ, সমাজে ও দেশের স্বার্থে। এ প্রেক্ষাপটে শেখ আবদুল হানিফ সম্পাদিত বর্তমান সংলাপ এর প্রকাশনা এই বার্তা-ই দেয় যে, লক্ষ্যকে নির্ধারণ করে সততা ও আন্তরিকতার সাথে চলতে পারলেই কেবল সাংবাদিকতার ঐতিহ্য ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা যায়। সাংবাদিকতা নিছক চাকুরি বা রুটি-রুজির উপায় নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে না পারলে সমাজের অনিষ্ট করার আশঙ্কাই বেশি থাকে।  

এদেশের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা ঐতিহ্যগতভাবে দেশ, জাতি ও সমাজ তথা বিশ্ববিবেকের প্রতি দায়বদ্ধ। আর এই দায়বদ্ধতার কথা যে অস্বীকার করবে, তাকে সাংবাদিক বা সাংবাদিকতা না বলাই শ্রেয়।

দেশ  ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে এদেশে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা যাদের হাত ধরে উন্মেষিত ও বিকশিত হয়েছিল সেই গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, রাজা রামমোহন রায়, জন ক্লার্ক মার্শম্যান, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, হরিশ চন্দ্র মুখার্জী, কাঙাল হরিনাথ মজুমদার, অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্র ঘোষ, বিপীন চন্দ্র পাল, শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক, ইসমাইল হোসেন সিরাজী, কমরেড মুজফফর আহমদ, কাজী নজরুল ইসলাম, মাওলানা আকরাম খাঁ, আবুল মনসুর আহমদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন,এঁর মতো মনিষীদের কেউ ছিলেন শিক্ষক, মিশনারি, কেউ কবি বা সাধক, আবার কেউ বা একাধারে ছিলেন বিপ্লবী, বড় মাপের রাজনীতিক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। পরাধীন দেশ ও দেশের মানুষের মুক্তি আর অপশক্তির মুখোশ উন্মোচন করে জনগণের রাজত্ব কায়েম করা, সে লক্ষে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে জনমত তৈরি করাই ছিলো তাঁদের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক জীবনের ব্রত। ১৯২২ সালে সাংবাদিক-কবি কাজী নজরুল ইসলামের পত্রিকা ‘ধূমকেতু’তেই সর্বপ্রথম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপিত হয়েছিলো। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার নামে পূর্ববাংলার (বর্তমানে বাংলাদেশ) মানুষের মাথার উপর চেপে বসা ঔপনিবেশিক পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর শোষণ, বঞ্চনা, ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে সচেতন করার দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন এদেশের একদল মনীষী রাজনীতি ও সাংবাদিকতাকে এক সাথে পুঁজি করেই। এঁদের নিবিড় সম্পর্ক থাকার কারণেই সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার জগৎটি অর্জন করেছিল সম্মোহনী শক্তি। এ পর্যায়ে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ ও ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, কাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস, খায়রুল কবীর, রণেশ দাসগুপ্ত, জহুর হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ নূর উদ্দিন, আব্দুস সালাম, মাহবুবুল হক, সিকান্দর আবু জাফর, সন্তোষ গুপ্ত, শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের নাম বাঙালির মানসপটে চিরভাস্বর হয়ে আছে। রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদের পক্ষে ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ এবং তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ‘পাকিস্তানী রাজনীতির বিশ বছর’-এর মতো অবশ্য পাঠ্য গ্রন্থ লেখা সম্ভব হয়েছিল জনগণের প্রতি তাঁরা দায়বদ্ধ ছিলেন বলেই।

উল্লেখ্য যে, আজকের বাংলাদেশে ‘জননী সাহসিকা’র মর্যাদায় আসীন কবি বেগম সুফিয়া কামাল ছিলেন কলকাতা থেকে প্রকাশিত মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিনের ‘বেগম’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক। শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের মালিকানা এবং পরিচালনায় কবি নজরুল ইসলাম বের করেছিলেন কলকাতার প্রথম সান্ধ্য দৈনিক ‘নবযুগ’। স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের স্থপতি,  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের রাজনৈতিক ও সংগ্রামীজীবনের চালিকাশক্তিই ছিলো আওয়ামী লীগের দলীয় মুখপত্র দৈনিক ইত্তেফাক এবং এর সম্পাদক তাঁর অগ্রজপ্রতিম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। পত্রিকাটি প্রথম সাপ্তাহিক হিসেবে বের করেছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। পাকিস্তানী আমলে দৈনিক ইত্তেফাকই  বাঙালির স্বাধীকারের চেতনাকে জনগণের মাঝে জাগিয়ে তুলেছিলো সফলভাবে। ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরিতে এদেশের প্রগতিশীল সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাও অনস্বীকার্য। ঔপনিবেশিক পাকিস্তানী আমলে সাড়া-জাগানো ‘সমকাল’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক এবং সমকাল প্রকাশনীর কর্ণধার সিকান্দর আবু জাফর কর্তৃক ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানও একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই, আমাদের সংগ্রাম চলবেই ’ গানটিতেই প্রথম বলা হয়েছিল, ‘প্রয়োজন হলে দেব এক নদী রক্ত’। আর পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘জয় বাংলা’ এবং বিভিন্ন মুক্তাঞ্চল থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা এদেশের মুক্তিকামী মানুষকে যেভাবে প্রেরণা ও শক্তি যুগিয়েছিল তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। ওইসব সংবাদপত্রের মালিক-সম্পাদক-সাংবাদিকদের সবাই ছিলেন দেশ, জনগণ ও তাদের নিজেদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ আর সে কারণে আজও তাঁদেরকে স্মরণ করতে হয় শ্রদ্ধাভরে।

সাংবাদিকতা-সাহিত্য ও রাজনীতির জগতের সেইসব মনীষীদের আজীবন সংগ্রাম ও সাধনার ফসল হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা যে এক সম্মোহনী ও আকর্ষনীয় শক্তির অধিকারী হয়ে উঠেছিলো, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর আজ তার দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে দীর্ঘ প্রায় ৫০বছর এদেশের  সাংবাদিকতার দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে যাঁরা কাজ করেছেন তাঁদেরই একজন ওয়াহিদুল হক যিনি এদেশের মানুষকে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জাগরণেরও একজন অগ্রপথিক।  তাঁর ভাষায়, ‘বাংলার প্রেস আজ পৃথিবীর নিকৃষ্টতম ম্যানেজড প্রেসের একটি। এটি এখন কোনক্রমে রাষ্ট্রীক ও ব্যক্তি স্বাধীনতাকে পরিমাণ ও গুণগতভাবে বৃদ্ধি করার কোন প্রতিষ্ঠান নয়। আবদ্ধ প্রেস অন্ধকারে ও শৃঙ্খলে আবদ্ধ প্রাণীর মতোই বিকাশহীন ও পচনশীল হতে বাধ্য। এতসব বাধাবন্ধের পরেও বাংলাদেশের প্রেসের মূলধারা এবং প্রবণতাটি দালালির বিপরীতে। বীরত্বের প্রবণতা তার। (তথ্য সূত্র    -স্বাধীনতা ও সংবাদপত্র, দৈনিক সংবাদ এর বর্ষপূর্তি সংখ্যা, ২৬মে, ২০০৫, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪১২। )

সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ-এর যুগপূর্তি উপলক্ষে ৩ মার্চ, ২০০৬ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সত্য প্রকাশ ও তথ্য জানার অধিকার ঃ প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ সংবাদমাধ্যম’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বলা হয়, ‘যে নিজে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়, তার পক্ষে সত্যকে তুলে ধরা সম্ভব নয়। অসত্যকে ধারণ করে যার বিকাশ, অসত্যের সঙ্গে যার নিরন্তর বসবাস, তার পক্ষে সত্য প্রকাশ করতে পারার কথা নয়; সেরূপ আশা করাও বৃথা। দেশের সংবাদ মাধ্যমের দিকে তাকালে এই সত্যই ধরা পড়ে বারবার”। বক্তারা আরও বলেন, সত্যের উপর নিজে প্রতিষ্ঠিত না হলে সত্য তুলে ধরা যায় না।  দেশের সংবাদমাধ্যমে কর্মরত প্রথম সারির সাংবাদিক ও মিডিয়া বিশেষজ্ঞগণ প্রায় সমস্বরেই একথা বলেন।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক, কলাম লেখক ও বিশিষ্ট চিন্তাবিদ কামাল লোহানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরেণ্য ইতিহাসবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। সাংবাদিক-গবেষক শ ম ফুয়াদের উপস্থাপিত প্রবন্ধের উপর আলোচনায় অংশ নেন চ্যানেল আই’র প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহ আলমগীর, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আব্দুল জলিল ভূইয়া, সাংবাদিক, কবি ও লেখক আবু হাসান শাহরিয়ার, দৈনিক যুগান্তরের বিশেষ সংবাদদাতা পীর হাবিবুর রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক  রুবাইয়াৎ ফেরদৌস। বর্তমান সংলাপের তৎকালীন নির্বাহী সম্পাদক সারফুল ইসলাম মাহমুদ সগীরের সভাপতিত্বে এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক তথ্যসচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ ও বর্তমান সংলাপের নিয়মিত লেখক মোহনগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের       বাংলা বিভাগের অধ্যাপক খালেদ মতিন। মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছিল :

আজকের তথ্য প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগে সংবাদমাধ্যম একটি দেশ বা জাতির উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। আশার কথা, দেশে সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় থাকার কারণেই দৈনিক পত্রিকাগুলোতে সরকার ও বিরোধীদলের কর্মকান্ডের বিস্তারিত খবর স্থান পাচ্ছে, জনগণ সচেতন হচ্ছে।

তবে ভোগ বিলাস, মিথ্যাচার এবং ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের যে প্রবণতা আজকের সংবাদমাধ্যমে অনেককে পেয়ে বসেছে, তা থেকে মিডিয়া জগৎকে উদ্ধার করতে না পারলে এ জগৎ থেকে কল্যাণকর কিছু আশা করা।

বৃথা হতে পারে। দেশের সাংবাদিকতা তথা সংবাদমাধ্যম জগতের এ পরিস্থিতির আরো অবনতি হচ্ছে। মনে পড়ে শকুনকে মরা গরু খেতে দেখে মহাকবি কালীদাস বলেছিলেন, ‘নাই তাই খাইতেছস্, থাকলে পাইতি কই?’

মিথ্যাচারের মধ্যে ডুবে থেকে দেশের সত্য প্রকাশ ও তথ্য জানার অধিকারকে নিশ্চিত করার কথা বলা বাতুলতা মাত্র। তাই সবার আগে প্রয়োজন নিজকে জয় করা, নিজের মধ্যে সত্যকে লালন করা।  সাংবাদিক নিজের মধ্যে সত্যকে ধারণ, পালন ও লালন করবেন, নিজে নিজেকে সম্মান দেবেন এবং দেশ-জাতি ও সমাজের স্বার্থ তথা মানবতাকে সবার উর্ধ্বে স্থান দেবেন-এই ছিল সম্পাদক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর লক্ষ্য। এক ঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ তরুণ-তরুণী নিয়ে এতটা বছর নিয়মিতভাবে পত্রিকাটি প্রকাশ করে তিনি যে উদাহরণ রেখে গেলেন তা এক গবেষণার বিষয়। পত্রিকাটির এই দীর্ঘ পথ চলায় দেশবরেণ্য অনেক সাংবাদিক-সম্পাদক-বুদ্ধিজীবী-উদ্যোক্তা-শিল্পী-সাহিত্যিক এর লক্ষ্য উদ্দেশ্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ ও সম্মাননা গ্রহণ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ আজ লোকান্তরিত হলেও তাঁদের একাত্মতা পত্রিকাটির সাথে জড়িত সকলের জন্য আজও অনুপ্রেরণা যুগিয়ে যাচ্ছে। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯ তারিখে শেখ আবদুল হানিফ-এঁর লোকান্তরিত হওয়া উপলক্ষে দেশবরেণ্য কয়েকজন গুণী মানুষের একাত্মতার কথা এখানে তুলে ধরছি

‘বিশ্বমানবতার সেবায় সংবাদপত্রের ভূমিকা সব সময় অগ্রগণ্য। তাই সংবাদপত্রকে অবশ্যই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে এবং অন্যায় অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। সৃজনশীল ও আত্মিক সেবা সহায়ক বর্তমান সংলাপ-এর গভীর আত্মচেতনাবোধ ও বিশ্লেষণ প্রশংসার দাবিদার’। -ওবায়েদ উল হক, প্রাক্তন সম্পাদক, বাংলাদেশ অবজারভার।

‘বর্তমান সংলাপ-এর হেডিংগুলো এত সাহসী এবং প্রত্যয়ী যে এখনও এই কাগজটি টিকে আছে কী করে তা আমার একটু ভাবতে ইচ্ছে করে। কারণ সত্য কথা বলতে পারাটা বিপদজনক এখনকার পৃথিবীতে। এইভাবে সত্য বলার মতো কোনো পত্রিকা এখনও পর্যন্ত আমি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতে দেখেনি’ – কামাল লোহানী, প্রবীণ সাংবাদিক।  

‘যে মূহুর্তে দেশে সত্য কথা বলা যায় না, যারা ব্যবসা করে রাজনীতির নামে তাদের নামে কথা বলা যায় না, বর্তমান সংলাপ তাদের বিরুদ্ধে এত শক্ত কথা বলল কী করে, এত সাহস তারা পেল কোথায় ? বর্তমান সংলাপ ঘেঁটে আমি দেখলাম নিজে যদি সৎ থাকা যায়,  কেউ নিজে যদি ধর্মটাকে সঠিকভাবে পালন করে এবং ধর্মটাকে যদি মানে, তাহলে সত্যি কথা বলা যায়। বর্তমান সংলাপ এভাবেই করেছে বলে আমার বিশ্বাস। – আব্দুল জলিল ভূইয়া, সাবেক সভাপতি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন’।

‘হাক্কানী মিশন বাংলাদেশের মুখপত্র ‘বর্তমান সংলাপ’ এর প্রধান শ্লোগান ‘আমরা নিরপেক্ষ নই-সত্যের পক্ষে’। -এই কথা বলার দুঃসাহস আমাদের সমাজে বিরল। নিরপেক্ষতার ভান করে আমরা বিভিন্ন সময় অনেক মিথ্যা ও অসত্য প্রচার হয় জেনেও চুপ থাকি। সত্য দিয়েই মিথ্যাকে মোকাবেলা করতে হবে’।

-আ ক ম মোজাম্মেল হক, মাননীয় মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সাংবাদিকতার আদর্শিক ধারাটি সমুন্নত রাখার প্রত্যয়ে বর্তমান সংলাপ এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাব, পিআইবি সেমিনার কক্ষসহ দেশের জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রেসক্লাবে ‘সাংবাকিতায় মিথ্যাচারিতার প্রভাব’ শিরোনামে অনেকগুলো আলোচনা সভা-সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। বর্তমান সংলাপ-এর এ সকল কাজের মূলে ছিলেন এর নিভৃতচারী সম্পাদক শেখ আবদুল হানিফ। লোকান্তরিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি এক নতুন ভুবনে প্রবেশ করলেন। যেখান থেকে তাঁর চিন্তা-চেতনা দেশ ও জাতির কল্যাণে আরও বহু গুণে হবে। কিভাবে উৎসারিত হবে তাঁর ভক্ত-আশেকানদের মাঝে সেটা তাদের যোগ্যতা অর্জনের মধ্য দিয়েই প্রমাণ করতে হবে। তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।