শেষ পাতা

লিবিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করেনি তুরস্ক ও রাশিয়া

সংলাপ ॥ লিবিয়ায় মোতায়েন বিদেশি সেনারা জাতিসংঘের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী দেশটি ত্যাগ করেনি। তিন মাস আগে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় লিবিয়ার সংঘর্ষরত পক্ষগুলোর মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয় তাতে বলা হয়েছিল, লিবিয়ায় মোতায়েন সব বিদেশি সেনা ২৩ জানুয়ারি শনিবারের মধ্যে দেশটি ত্যাগ করবে।

কিন্তু বেধে দেয়া সময় পর্যন্ত কোনো দেশ তার সেনা প্রত্যাহার করেনি। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে মোতায়েন সরকার আন্তর্জাতিক সমর্থনপুষ্ট এবং তুরস্কও ত্রিপোলি সরকারকে সমর্থন করছে। অন্যদিকে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী জেনারেল হাফতার বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর।

স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও ক্লিপ প্রচার করে সিএনএন জানিয়েছে, লিবিয়ার সির্ত শহরের কাছে বহু কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় ‘রাশিয়ার সেনা’ মোতায়েন রয়েছে। দৃশ্যত লিবিয়ায় যেকোনো সমঝোতা থেকে নিজেদের স্বার্থ আদায় করে নেয়ার জন্য রাশিয়া ও তুরস্ক তাদের সেনা মোতায়েন রাখতে চায়।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গত সপ্তাহে বলেছিলেন, লিবিয়া থেকে সেনা সরানোর ব্যাপারে গত ২৩ অক্টোবর যে সমঝোতা হয়েছিল সব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাহিনীর উচিত তা বাস্তবায়ন করা। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, লিবিয়ার দুই পক্ষের সমর্থনে দেশটিতে প্রায় ২০ হাজার বিদেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে।

প্রতিবছর ২৫ শতাংশ হারে গবাদিপশুর খামার বাড়ছে

সংলাপ ॥ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। স্বয়ংসম্পূর্ণ হবার পথে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্যে বাংলাদেশ সাফল্যেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখছে। গবাদিপশুর খামার একটি অন্যতম কৃষিখাত। ছোট-বড় মিলিয়ে এখন খামারের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। তিন বছরে দেশে গরু-ছাগলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২০ লাখ। সংকট থেকে যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে, তার বড় উদাহরণ বাংলাদেশের গবাদি পশু খাত। চার বছর আগেও দেশের চাহিদার বড় অংশ মিটত প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করে। ২০১৪ সালে ভারতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে গরু আসা বন্ধ করে দেয়। এতেই বাজারের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশে গবাদিপশুর লালনপালন ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। গরু ও ছাগল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ।

শুধু কোরবানি ঈদের আগে দেশে ২০ থেকে ২২ লাখ গরু-ছাগল বৈধ-অবৈধ পথে বাংলাদেশে আসত। সারা বছরে এই সংখ্যা ৩০ লাখে ছুঁয়ে যেত। ভারত থেকে গবাদিপশু আসা বন্ধ হওয়ার পর দেশে প্রতিবছর ২৫ শতাংশ হারে গবাদিপশুর খামার বাড়ছে। ছোটবড় মিলিয়ে এখন খামারের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। গত তিন বছরে দেশে গরু-ছাগলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২০ লাখ। পাশাপাশি মহিষের উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চার বছর আগেও শুধু কোরবানির ঈদের সময় প্রায় ২২ লাখ গরু-ছাগল ভারত ও মিয়ানমার থেকে এসেছিল। গত ঈদে এসেছিল মাত্র দেড় লাখ। গত তিন বছরে চিত্র এমনই পাল্টেছে যে গত কোরবানির ঈদের হাটে প্রায় ১২ লাখ গরু-ছাগল অবিক্রীত ছিল।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি, গবাদিপশু পালনে দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন হয়। একই সঙ্গে দেশের মাংসের চাহিদা মেটে, বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় হয়। ফলে গবাদিপশুর সংখ্যা বৃদ্ধি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি, বিশেষত গ্রামীণ অর্থনীতিকে বদলে দিচ্ছে।’

গরু-ছাগলের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিকভাবে এ খাতে বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানেরও উন্নতি হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাগলের সংখ্যা, মাংস ও দুধ উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সূচকে ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। এই খাতে শীর্ষে রয়েছে ভারত ও চীন। বাংলাদেশ ছাগলের দুধ উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয়। আর ছাগলের সংখ্যা ও মাংস উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ। সামগ্রিকভাবে ছাগল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ হচ্ছে ভারত ও চীন। আর গরু-ছাগল-মহিষ-ভেড়া মিলিয়ে গবাদিপশু উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের ১২তম।

সুপ্রভাত বাংলাদেশ

একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না
মুজিববর্ষে এটাই বড় উৎসব: শেখ হাসিনা

সংলাপ ॥ সুপ্রভাত আসছে। বাঙালি সুপ্রভাতের আলো দেখতে পাচ্ছে। আলো ফুটবেই যদি এমন করে আধার কাটিয়ে উঠার পথ দেখানোর আর কর্ম সাধনের নেতা থাকে। সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে এতদিন যে আধার ছিল তা যেন কাটতে শুরু করেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না, মুজিববর্ষে এটাই সবচেয়ে বড় উৎসব।’ সম্প্রতি তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৭০ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে সরকারের পক্ষ হতে জমি ও ঘর প্রদান করছেন।  শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে আমার অত্যন্ত আনন্দের দিন। ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান করতে পারা বড় আনন্দের। আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের কথাই ভাবতেন। আমাদের পরিবারের লোকদের চেয়ে তিনি গরীব অসহায় মানুষদের নিয়ে বেশি ভাবতেন এবং কাজ করেছেন। এ গৃহ প্রদান কার্যক্রম তারই শুরু করা।’

মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রায় ৯ লাখ মানুষকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকাবাড়ি উপহার দেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ঘর পেলো দেশের ৪৯২টি উপজেলার ৬৯ হাজার ৯০৪ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। আগামী মাসে আরও ১ লাখ পরিবার বাড়ি পাবে। অনুষ্ঠানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের তৈরি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় লাইভে সংযুক্ত ছিল-খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা, চাপাইনবাবগঞ্জ সদর, নীলফামারীর সৈয়দপুর ও হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি, দেশের সব উপজেলাই অনলাইনে এ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীতে দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা করে তাদের বাড়ি করে দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। ছয় মাসেরও কম সময়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হলো। দ্বিতীয় ধাপে আরও প্রায় এক লাখ পরিবারকে বাড়ি উপহার হিসেবে দেওয়া হবে। শুধু বাড়িই নয়, প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই পরিবারগুলোর কর্মসংস্থানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে এই ঘরগুলো দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৪১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকায় তৈরি করা হয়েছে ২৪ হাজার ৫৩৮টি বাড়ি। দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ সহনশীল বাড়ি নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৬৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকায় ৩৮ হাজার ৫৮৬টি বাড়ি এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় ৫২ কোটি ৪১ লাখ টাকায় ৩ হাজার ৬৫টি বাড়ি নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পগুলোতে মোট ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১৬৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

সব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আবাসন সুবিধার আওতায় আনার জন্য সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আরো এক লাখ বাড়ি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আবাসন সুবিধার আওতায় আনার জন্য কাজ করছেন। গৃহ ও ভূমিহীন মানুষের মাঝে হস্তান্তরের জন্য সরকার বিশ্বে প্রথমবারের মতো ৬৬ হাজার ১৮৯টি বাড়ি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছে। ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নোয়াখালী জেলার (বর্তমানে লক্ষ্মীপুর) চরপোরাগাছা গ্রাম পরিদর্শনকালে ভূমিহীন, গৃহহীন ও অসহায় লোকদের পুনর্বাসনের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও দেশের জন্য কল্যাণমুখী ও উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু করেন।’

সরকার মুজিব বর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের জন্য এক হাজার ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৬ হাজার ১৮৯টি বাড়ি নির্মাণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অধীন আশ্রয়ন প্রকল্প মুজিব বর্ষ উদযাপনকালে ২১টি জেলায় ৩৬টি উপজেলায় ৪৪টি প্রকল্পের অধীনে ৭৪৩টি ব্যারাক নির্মাণ করে তিন হাজার ৭১৫টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করছে। ড. কায়কাউস আরো বলেন, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প চার হাজার ৮৪০.২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে (জুলাই ২০১০ থেকে জুন ২০২২ পর্যন্ত) দুই লাখ ৫০ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ও ছিন্নমূল পরিবারকে পুনর্বাসিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত সারা দেশে এক লাখ ৯২ হাজার ২২৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে এরই মধ্যে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৪৮ হাজার ৫০০ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। আশ্রয়ন-২-এর প্রকল্প পরিচালক মো. মাহাবুব হোসেন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প ২০২০ সালে আট লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা তৈরি করে। তাদের মধ্যে দুই লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার এবং পাঁচ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি পরিবারের এক থেকে ১০ শতাংশ ভূমি রয়েছে। তবে তাদের বসবাসের বাড়ি নেই। আশ্রয়ণ প্রকল্প ১৯৯৭ সালে থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন লাখ ২০ হাজার ৫৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসিত করেছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য ব্যারাক নির্মাণ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্বাস্তু কক্সবাজারের খুরুশকুলে ৬০০ পরিবারের জন্য ২০টি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ডিটেইল্ড প্রজেক্ট প্রপোজালের (ডিপিপি) মাধ্যমে আরো ১১৯টি বহুতল ভবন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকন্ড বাস্তবায়ন করছে।

পুনর্বাসিত পরিবারগুলোর সদস্যদের আয় সংস্থানমূলক কাজে সম্পৃক্ত হতে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, দক্ষতা অর্জন এবং মানব সম্পদ উন্নয়নের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

ভিশন-২০২১ বাস্তবায়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এসডিজি) অর্জনের জন্য দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে প্রকল্প কর্মকন্ড ত্বরান্বিত করা হবে।

বিশ্বের বৃহত্তম রিজার্ভ ফোর্স এখন বাংলাদেশে

সংলাপ ॥ রিজার্ভ আর্মি, রিজার্ভ সোলজার অথবা রিজার্ভ ফোর্স বা নিয়মিত বাহিনী বলতে একটি দেশের সেসব সৈন্যদের বোঝায় যারা তাদের সিভিলিয়ান লাইফের পাশাপাশি মিলিটারিতেও দায়িত্ব পালন করে। রিজার্ভ ফোর্সের সদস্যদের সশস্ত্র সৈনিকদের মতই ট্রেনিং দেয়া হয়। প্রথমে তারা বেসিক কমব্যাট ট্রেনিং (BCT) ও পরে এডভান্সড ইন্ডিভিউজুয়াল ট্রেনিং (AIT) কোর্স সম্পন্ন করে, তারপর এরা যে যার মতো বেসামরিক কর্মজীবনে ফিরে যায়। কিন্তু তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মতো অস্ত্র বহনের সুযোগ দেয়া হয় না। রিজার্ভ সৈন্যদের যুদ্ধের স্কিল ধরে রাখার জন্য মাসে একদিন এবং বছরে অন্তত দুই সপ্তাহ বাধ্যতামূলক ট্রেনিং নিতে হয়, যাতে করে তারা তাদের স্কিল গুলো ধরে রাখতে পারে। তবে রিজার্ভ ফোর্স আবার মিলিটারির রিজার্ভ ফরমেশন থেকে আলাদা, কারণ রিজার্ভ ফোর্সকে মিলিটারি কমান্ডাররা যুদ্ধে ডেপ্লয় করতে পারে না কেবল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়লে অথবা জরুরী অবস্থায় সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত ম্যানপাওয়ারের প্রয়োজন হলে তখন এদের ব্যবহার করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও রিজার্ভ ফোর্সের অংশ।

এদের স্থায়ী সদস্যদের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। রিজার্ভ ফোর্সের আরেকটা সুবিধা হলো পিস টাইমে সেনাবাহিনীতে সদস্য নিয়োগ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হয় না, ফলে দেশের সামরিক ব্যয় অনেক কমে আসে এবং সে অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা যায়। এটিকে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দেয়ার সবচেয়ে পুরাতন পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ প্রাচীনকালে নিয়মিত বাহিনী বলতে কিছু ছিলো না।

বর্তমানে বাংলাদেশের পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় রিজার্ভ ফোর্স রয়েছে। এদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর সদস্য। যার সংখ্যা প্রায় ৬৮,৪০,০০০ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভিয়েতনাম, যাদের রিজার্ভ ফোর্স  প্রায় ৫০,০০,০০০ ! সাম্প্রতিক সময়ে ভারতো রিজার্ভ ফোর্স বাড়ানোর জন্য TOUR OF DUTY প্রোগ্রাম শুরু করেছে।

সুপ্রভাত বাংলাদেশ – বিদায়ী বছরে ২ হাজার কোটি ডলার রেমিট্যান্স

সংলাপ ॥ দেশকে এগিয়ে নেবার অন্যতম শক্তি প্রবাসী আয়। বাংলাদেশের বিশাল কর্মীবাহিনী বিশ্বের নানা প্রান্তে কাজ করছে আর পাঠাচ্ছে রেমিট্যান্স। বিদায়ী বছরে ২ হাজার ১৭৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৮৩২  কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রবাসী আয় বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর  থেকে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া শুরু করে সরকার। এরপর থেকেই প্রবাসী আয়ে গতি আসে। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু পর তাতে নতুন মাত্রা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে বড় ধাক্কা লাগে।       মার্চ ও এপ্রিলে আয় কমে যায়। তবে এরপরই বড় উল্লম্ফন শুরু হয়। এখনও সেই প্রবণতা অব্যাহত আছে।

যদিও এই সময়েই কাজ হারিয়ে দেশে ফিরেছেন প্রায় আড়াই লাখ প্রবাসী শ্রমিক। অনেকের বেতনও কমে গেছে। এরপরও রেমিট্যান্স বেড়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, শ্রমিকেরা ফিরে এলেও আয় বাড়ছে। কারণ, বিদেশে চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় অবৈধভাবে টাকা পাঠানো কমে গেছে। এ জন্য বৈধ পথে রেমিট্যান্স বেশি আসছে।

করোনাভাইরাস প্রকল্পে দুর্নীতি; ইন্দোনেশিয়ার মন্ত্রী গ্রেফতার

সংলাপ ॥ ইন্দোনেশিয়ায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারীতে দুর্গত লোকজনের খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দেশটির সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মন্ত্রী জুলিয়ারি বাতুবারা ওই কর্মসূচি থেকে  ১২ লাখ ডলার ঘুষ খেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা এরইমধ্যে বাতুবারার কয়েকটি সুটকেস, ব্যাকপ্যাক এবং কয়েকটি খাম আটক করেছে যার মধ্যে ১২ লাখ ডলার সমমূল্যের অর্থ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সিরিজ অভিযান চালানো হয়। তাকে সন্দেহের তালিকায় রাখার কারণে নিজেই আজ দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার সদর দপ্তরে হাজির হন। সামপ্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই নিয়ে প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো সরকারের দ্বিতীয় কোন মন্ত্রী দুর্নীতির ঘটনায় গ্রেফতার হলেন। জলিয়ারি বাতুবারাকে গ্রেপ্তারের পর প্রেসিডেন্ট উইদোদো বলেছেন, ‘এই অর্থ জনগণের, করোনাভাইরাসের মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করার অর্থ এটি।’ তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন, কোনো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে তিনি সুরক্ষা দেবেন না।করোনাভাইরাসের মহামারীতে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির সরকার অভাবগ্রস্তদের জন্য খাদ্য সহায়তা মতো নানা রকমের সহযোগিতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ ধরনের একটি সহযোগিতা কর্মসূচির ঠিকাদারদের কাছ থেকে বাতুবারা ঘুষ খেয়েছেন।

‘জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মিথ্যাকে ধ্বংস ও সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্রতী হওয়ার জেহাদে রত থাকলে আত্মিক উন্নতি হবেই হবে।’

সংলাপ ॥ গত ১৭ অগ্রহায়ন, ২ ডিসেম্বর ছিল সূফী সাধক আনোয়ারুল হক’এঁর আবির্ভাব দিবস। এই অমর বাণীর ওপর মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ (হামিবা) সভাপতি শাহ্ সুফী ড. মুহাম্মদ মেজবাহুল ইসলাম, বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ) এর প্রধান উপদেষ্টা শাহ্ মো. লিয়াকত আলী, সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ পর্ষদের নির্বাহী সদস্য নজরুল ইশতিয়াক, মিরপুর আস্তানা শরীফের ভক্ত মাহবুবুল হক এবং হামিবার সহ-সভাপতি শাহ ইমিতয়াজ আহমদ।

শাহ্ ইমতিয়াজ আহমদ বলেন, ১৭ অগ্রহায়ণ, সূফী সাধক সাধক আনোয়ারুল হক’এঁর শুভ আবির্ভাব উপলক্ষে আজকের এই অনুষ্ঠানটি মিরপুর আস্তানা শরীফ এবং আমরা যারা এর ভক্ত-আশেকান হিসেবে তাদের জন্য বিশেষ, বিশেষ এবং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ কেন এই দিনটিকে টপ প্রায়োরিটি (সর্বোচ্চ গুরুত্ব) গুরুত্ব দিয়ে এই দিনটি উদযাপন করতেন তা অনুধাবন ও উপলব্ধি করতে না পারলে কিছুই হবে না। ১৭ অগ্রহায়ণ উদযাপনের জন্য কেবলমাত্র মিরপুর আস্তানা শরীফকেই দেয়া হয়েছে। সকল ভক্ত-আশেকানগণের মূল এই মিরপুর আস্তানা শরীফ। এই মূলের সাথে সংযুক্ত না থেকে বাইরে থেকে যত অহংবোধই প্রকাশ করা হোক না কেন কিছু হবে না। আদবের যে-কোনো ধরনের বরখেলাপ সূক্ষ্ম বিচারে ধরা পড়বেই। মানুষের নিজের ভেতরে থাকা এই ধরনের সংকীর্ণতা ও হীনমন্যতাকে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখতেন। আত্মিক উন্নতির জন্য নিজেকে তৈরি হতে হয়। জীবনে সত্য-মিথ্যা এক এক জনের কাছে এক এক রকম। মূল বা কেন্দ্রের সাথে সংযোগ রেখে এই পার্থক্য নিজের মধ্যে উপলব্ধি করতে হয়।

মাহবুবুল হক বলেন, নিজ নিজ মুর্শিদকে স্মরণে রেখে চলতে পারলে, কোনো কাজে একনিষ্ঠভাবে লেগে থাকলে আত্মিক উন্নতি হবেই হবে। আমাদের মনের মধ্যে যে অসংখ্য মূতি সেটা ভাঙ্গতে হবে। হাক্কানী স্কুল থট-এর দায়িত্বই হচ্ছে মানুষের মধ্যে সত্যের আলো ছড়িয়ে দেয়া। ধর্মীয় অন্ধত্ব থেকে বের হয়ে এসে পথ চলতে হবে। মুর্শিদ সব সময়ই আছেন, মুর্শিদই হচ্ছেন ভক্তের সবচেয়ে উত্তম গাইড।

নজরুল ইশতিয়াক বলেন, জীবনকে কর্মের মধ্যে যুক্ত রাখার মধ্য দিয়ে গতিশীল জীবনে যে বোধের জন্ম সেখানে একনিষ্ঠভাবে ধরে রাখতে পারলে সত্য দেখা যায়। জীবনের উপলব্ধি ও প্রাপ্তির মধ্যেই জীবনের মাহাত্ম্য, এই এক জীবনের মধ্যেই মহাজীবনকে উপলব্ধি করতে হবে। দরবারের বাইরের যে-জীবন সেটি মোহ-কামনায়, ক্ষুদ্র-খিত চিন্তা-সমাজ-সংসারের মোহাচ্ছন্নঘেরা। জীবনের বন্ধন, কেবলমাত্র সংসার জীবন পচা-পানির মতো। দরবারে-সুফী সাধকের সংস্পর্শে আসলে সমৃদ্ধ জীবনের সন্ধান মেলে। সাধক মানেই অনুশীলনকারী। সাধকের সান্নিধ্য পাওয়ার পর যে জীবন  সেটিই সত্যজীবন, সত্যমানুষের জীবন। দরবারী জীবন উদ্ভাসিত জীবনের সন্ধান দিয়ে যান সাধক। সেখানে শুধুই আত্মসমর্পণ-নারী-পুরুষ, হিন্দু-মুসলমান বলতে কিছু নেই। আরোপিত জীবন-আবরণের মধ্যে থাকা, দেহ-চিন্তার মধ্যে যা যুক্ত হয়ে আছে, প্রেমের অনুরাগে সব আবরণ খুলে ফেলে দিতে না পারলে নতুন উপলব্ধি, নতুন সৃষ্টিতে যাওয়া যায় না, পাওয়া যায় না মহাজীবনের সন্ধান। মহাজীবনের পথে চলার মধ্যেই থাকে আত্মিক উন্নতি।

শাহ মো. লিয়াকত আলী বলেন, যিনি জন্মের আগে অবস্থান করেন তাঁরই আবির্ভাব আবহ হয়। তিনি অবস্থান করেন জন্মও মৃত্যুর মাঝখানে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে দেহজগত ও আত্মজগত। আত্মজগতের শুরুও নেই, শেষও নেই। আত্মাকে শক্তিশালী করতে হলে দেহকে কাজে লাগাতে হয়। আত্মার জগত তিন ধরনের-মুনাফেক, মুশরিক ও মোমিন। মোমিনদের আত্মাজগত নিয়ন্ত্রণে থাকে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে -দুনিয়াদারি ও আত্মিক জগতে সত্যকে ধারণ করি কি না সেটিই মূল কথা। দেহজগতে নারী-পুরুষ চিন্তা থাকে বলে এখানে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকে না। ফলে শান্তিও থাকে না। আত্মিক উন্নতির জন্য সত্যপথে চলা শুরু করলেই নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা লাভ করা যায়, তখনই শান্তির পথ পাওয়া যায়। শান্তিতে থাকতে হলে সাধকদের পথে চলতে হবে-সংযোগে থাকলে অবশ্যই হবে। শাহ্ সুফী ড. মেজবাহুল ইসলাম বলেন, আমার উন্নতিই আত্মিক উন্নতি। মহান সাধকদের নির্দেশিত পথ এবং আমাদের যার যার ওপর নির্ধারিত দায়িত্ব-কর্তব্য সম্যকভাবে পালনের মধ্য দিয়েই আমরা সেই উন্নতি সাধন করতে পারি।

ভেনিজুয়েলায় জাতীয় নির্বাচনে মাদুরোর সমাজতন্ত্রী পার্টির বিজয়

সংলাপ ॥ ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন সমাজতন্ত্রী পার্টি দেশটির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের বিজয় লাভ করেছে। যখন আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের বহু সংখ্যক দেশ মাদুরো সরকারের ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ নানামুখী চাপ সৃষ্টি করেছে তখন তার দল এই বিজয় পেল।

এ বিজয়ের মধ্যদিয়ে মাদুরো দেশটিতে তার ক্ষমতা আরো সুসংহত করতে সক্ষম হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন সমর্থিত বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো তার জোটকে নির্বাচন বয়কট করার আহবান জানিয়েছিলেন। এ সত্ত্বেও ভেনিজুয়েলার সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।

ভেনিজুয়েলার জাতীয় নির্বাচন পরিষদের সভাপতি ইন্দিরা আলফোনজো জানিয়েছেন, মাদুরো ও তার ক্ষমতাসীন সমাজতন্ত্রী দল এ পর্যন্ত গণনা করা শতকরা ৮০ ভাগ ভোটের মধ্যে ৬৭.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বয়কট ভেঙে মাদুরো-বিরোধী যে জোট নির্বাচনে অংশ নিয়েছে তারা পেয়েছে শতকরা ১৮ ভাগ ভোট। বিপুল বিজয়ের মাদুরো সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদের চরম আধিপত্যের দিন শেষ হয়েছে।

‘বর্তমান সংলাপ’ পালন করছে সাধক কাজী নজরুলের ‘ধূমকেতু’র ভূমিকা

শেখ উল্লাস ॥ বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে বর্তমানে সাংবাদিকতার নামে বাণিজ্যিক স্বার্থোদ্ধারের তৎপরতা যখন স্পষ্টভাবে প্রতিভাত, সেই প্রেক্ষাপটে ধূমকেতুর মতো পত্রিকা এবং সাধক কাজী নজরুলের মতো সাংবাদিক-সম্পাদকের বড় প্রয়োজন।  মানুষ সাংবাদিকদেরকে দেখতে চায় এমন কবি হিসেবে, সাধক হিসেবে যাদের কাছে দেশ, জাতি আর দেশের মানুষের স্বার্থটাই হবে বড়, সাংবাদিকতা রুটি-রুজি উপার্জনের উপায় হিসেবেই শুধু নয়, সামাজিক অঙ্গীকারের দিকটাই এতে প্রাধান্য পাবে। যে সাংবাদিকতা মিশন নয় সেটাকে সাংবাদিকতা না বলে অন্য কিছুই বলাই শ্রেয়। কেন না, এতে কাজী নজরুল, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াদের মতো সাংবাদিকদের আত্মা কষ্ট পায়। সাংবাদিকতার সংজ্ঞা আজ তাই পরিবর্তনের সময় এসেছে। নতুন করে সাংবাদিকতার সংজ্ঞা নির্ধারিত হওয়া উচিত। নজরুল তাঁর ‘ধূমকেতু’তে লিখেছিলেন, ‘পূর্ণ স্বাধীনতা পেতে হলে সকলের আগে আমাদের বিদ্রোহ করতে হবে। …..আর বিদ্রোহ করতে হলে সকলের আগে আপনাকে চিনতে হবে। বুক ফুলিয়ে বলতে হবে, ‘আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ।’

কুরআন বলেছে, ‘আত্মজয়ের চেষ্টাই সর্বশ্রেষ্ঠ জেহাদ।’ যতটুকু জেনেছি বর্তমান সংলাপ নিজকে ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করে না। নিজ দেশ আর দেশের মানুষ, বিশ্ব প্রকৃতি আর সৃষ্টিকর্তার কাছেই এর সকল দায়বদ্ধতা।

সাংবাদিক ওয়াহিদুল হক ‘ভোরের কাগজ’ (৫ জানুয়ারী ২০০৬)-এ তাঁর নিয়মিত কলাম ‘এখনো গেল না আঁধার’-এ ইতিমধ্যে ‘বর্তমান সংলাপ’-কে আশীর্বাদ জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘ বিএনপি-জামাতের এই সময়ে জঙ্গীবাদের দ্বারা এই রাষ্ট্র আক্রান্ত হবার ঘোর নিদানের কালে এই  সাপ্তাহিকটির চাইতে সাহসী, প্রতিবাদী, প্রতিরোধী অবস্থান আর কেউ নেয়নি। ‘বর্তমান সংলাপ’ সত্যসন্ধানী এক ইসলামি দল হাক্কানী মিশন- তাদের মুখপাত্র। ব্যবসায়িক উদ্দেশে পরিচালিত নয় বলে এর   প্রচার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। গোলাম আযম, নিজামী যেমন পাঞ্জাবী মওদুদীর জঙ্গি এবং মিথ্যা ইসলামের তথা হিংসাবিদ্বেষ, নরহত্যা, রাষ্ট্রীয়  ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রের চিহ্নিত স্বঘোষিত নিশানবরদার, হাক্কানী মিশন তার বিপরীতে বাংলার ঐতিহ্যপূর্ণ শান্তিময় (ইসলামি) সমন্বয় ভিত্তির ভক্তিমূলক সূফী ধারার প্রচারক প্রসারক। ‘বর্তমান সংলাপ’ এর প্রচার বাড়–ক, হাক্কানী মিশনের প্রভাব বাড়–ক, সমাজের শিক্ষিত ভাবুক ধর্মপরায়ণ অংশে’।

তাই  আশা, আজকের সাপ্তাহিক আর আগামী দিনের দৈনিক ‘বর্তমান সংলাপ’ হোক বাংলাদেশের নতুন যুগের ‘ধূমকেতু’ যাতে পরপার থেকে বিশ্বকবি, সাধক রবীন্দ্রনাথ আশীর্বাদ জানিয়ে আবারো  বলবে -‘

আয় চলে আয়রে ধূমকেতু

আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু,

দুর্দিনের এই দুর্গশিরে

উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন!

অলক্ষণের তিলক রেখা

রাতের ভালে হোক না লেখা,

জাগিয়ে দেরে চমক মেরে

আছে যারা অর্দ্ধচেতন।’

ইয়েমেন যুদ্ধ নিয়ে সৌদি-আমিরাত বিরোধ তীব্র হচ্ছে

সংলাপ ॥ ইয়েমেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক বিষয়ে মতভেদ দেখা দেয়ার পর এখন তথ্য গত বিষয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করে। ৬৯ মাস ধরে চলে আসা যুদ্ধে মূল ভূমিকা রেখেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিন্তু সাম্প্রতিক গত প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন বিষয়ে আবুধাবি ও রিয়াদের মধ্যেকার মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে  উঠেছে। ইয়েমেনের ভেতরে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে মূলত এই বিরোধ।

ইয়েমেন যুদ্ধের সময় যতই দীর্ঘায়িত হচ্ছে আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রতিযোগিতা ততোই বাড়ছে। কারণ দুই দেশই ইয়েমেনে তাদের প্রভাব বিস্তার ও কৌশলগত অবস্থান জোরদার করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরব যদিও প্রথম থেকেই ইয়েমেনে আমিরাতের প্রভাব বিস্তারের বিরোধিতা করে আসছিল কিন্তু এই যুদ্ধে আমিরাতের সহযোগিতার প্রয়োজন ছিল বলে এতদিন সৌদি আরব এ বিষয়ে চুপচাপ ছিল। ইয়েমেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে বিরোধ থাকলেও এখন এই দেশটিতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত চায় ইয়েমেনের পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদির মন্ত্রিসভায় আমিরাতপন্থী সদস্যদের উপস্থিতি বজায় থাকুক। কিন্তু মানসুর হাদি ও সৌদি আরব আমিরাতের এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। এ অবস্থায় আমিরাত সরকার ইয়েমেনে আমিরাতের সমর্থিত অন্তরবতী পরিষদ গঠন করে এবং ইডেনের ক্ষমতাচ্যুত  গর্ভনরকে এই পরিষদের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করে। 

বর্তমানে ইয়েমেনে আমিরাত সমর্থিত অন্তর্র্বতী পরিষদ শুধু যে সৌদি সমর্থিত ও পদত্যাগকারী প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়েছে তাই নয় একইসঙ্গে এই পরিষদ এমন পরিষদ গঠন করেছে যা রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে সৌদি আরবের প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ ইয়েমেনে সৌদি-আমিরাত পন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে এতে উভয় পক্ষেরই অনেক অনুচর হতাহত হয়েছে।

তথ্যগত ক্ষেত্রেও আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। খালিজ অনলাইনের এক প্রতিবেদনে আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যে তথ্যগত গোপন বিরোধ শুরু হওয়ার কথা জানিয়ে লিখেছে, সৌদি সেনা কমান্ডাররা এই সামরিক জোটের সদস্যদের তথ্য বিনিময় বিষয়ক নীতিমালা পুনমূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তথ্য বিষয়ক বৈঠকে আমিরাতের অংশ গ্রহণের বিষয়টি পুনমূল্যায়ন করা উচিত।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি কমান্ডারদের এ বক্তব্য থেকে ইয়েমেন ইস্যুতে আবুধাবি ও রিয়াদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ও অনাস্থার প্রমাণ পাওয়া যায়। এই অনাস্থার মাত্রা এতটাই বেশি যে সৌদি গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে আমিরাতের গোয়েন্দা সংস্থা সৌদি সমর্থিত সরকারের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

এদিকে এ বিরোধের ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আমিরাত ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরব থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে এবং রিয়াদকে বাদ দিয়ে নিজের মতো করে ইয়েমেনে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

‘ইরানি বিজ্ঞানী হত্যার আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে মাইক পম্পের আলোচনা হয়েছিল’

সংলাপ ॥ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শীর্ষপরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেকে হত্যার বিষয়টি ইসরাইলের  প্রধানমন্ত্রী বেনিয়া মিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করে থাকতে পারেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

আমেরিকার রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক সংবাদিক প্যাট্রিকলরেন্স ইরানের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল প্রেসটিভিকে দেয়া সাক্ষাতকারে একথা বলেছেন।

সম্প্রতি ইরানের রাজধানীতে হরানের কাছে ফাখরিজাদেকে গুপ্ত ঘাতকেরা বোমা হামলা ও গুলি চালিয়ে শহীদ করে। দুই বছর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে একটি প্রেজেন্টেশন দিতে গিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বার বার নাম উল্লেখ করে বলেছিলেন, ‘স্মরণ রাখ বেননা মটি হচ্ছে- ফাকরিজাদে।’

ইরানি বিজ্ঞানী হত্যার পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদজ ও য়াদজারিফ বলেছেন, এই হত্যাকান্ডের পেছনে ইসরাইলের জড়িত থাকার মারাত্মক ইঙ্গিত রয়েছে।

পাশাপাশি আমেরিকার দুইজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই হত্যার পেছনে ইসরাইল জড়িত। আমেরিকার একজন বেসামরিক কর্মকর্তা একই  কথা বলেছেন নিউইয়র্ক টাইমসকেএ হত্যাকান্ড সম্পর্কে আমেরিকার সাংবাদিক লরেন্স বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে আমাদেরকে জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন যে, এই ঘটনা ঘটার আগে মার্কিন প্রশাসন জানতো কিনা। আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তিনি সম্প্রতি নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। খুব সম্ভবত তিনি ইরানি বিজ্ঞানী হত্যার বিষয়টি নিয়ে ও আলোচনা করেছেন।  পম্পেও রপরিকল্পনার সাথে সহিংসতায় উস্কানির ঘটনা মিলে যায়, একই ভাবে মিলে যায় নেতানিয়াহুর সঙ্গেও।”

সাংবাদিক লরেন্স বলেন, এই হত্যাকান্ডের কারণে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জো বাইডেনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরুর বিষয়টি বাধাগ্রস্থ  হওয়ার কিছু নেই।তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কীভাবে এই হত্যাকান্ড কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আটকে দেয়। তিনি আরো বলেন, আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন বাইডেন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কিনা তাহলে আমি বলব এ ব্যাপারে তার সাহসের সাথে এগিয়ে যাওয়া উচিত।