শেষ পাতা

নিজের কথা – ৪৫

শাহ্ মো. লিয়াকত আলী ॥ সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ বলেন ,  ” সবার উপর সত্যমানুষ, তাহার উপরে নাই। ” এ সত্যমানুষ নিয়ে তিনি আরও বলেন, ” সত্যমানুষ হউন, দেশ ও জাতির কল্যাণ হবেই হবে।” আবার মানুষ সম্পর্কে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক বলেন, ” মানুষ যদি হতে চাও মনুষ্যত্বকে জাগ্রত কর।”  

সাধকগণের এসকল বাণীর আলোকে বলা যায়, মনুষ্যত্বের জাগরণ ঘটানো ব্যতীত কেউ প্রকৃতপক্ষে মানুষ হতে পারে না । এখানে মনুষ্যত্ব বলতে মানুষের সত্ত্বা বা মানবসত্বাকে বুঝায়।  কী এই মানবসত্ত্বা যার জাগরণ ব্যতীত  প্রকৃতপক্ষে কেউই মানবসত্ত্বাধীকারী হতে পারে না। আর মনবসত্ত্বাধীকারী না হলে  সত্যমানুষ দূরের কথা কেবল  আকৃতিগত কোন মানুষকেই প্রকৃত অর্থে মানুষ বলা যায় না। আকৃতিগত মানুষ বলতে কেবলই গুণাবলীহীন তথা কান্ডজ্ঞানহীন দেহরূপী মানুষকে বলা হয়। আর কান্ডজ্ঞানহীন দেহরূপী মানুষ দেশ ও জাতির কোন  কল্যাণ সাধন করতে পারে না।

সত্য শব্দটি এমন এক সত্ত্বাকে বুঝায় যে সত্ত্বার আছে সৎ আত্মা। তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন আসে যে সত্ত্বার সৎ আত্মা নেই তা হলো সত্য বিবর্জিত অসৎআত্মা। সৎ শব্দটিতে সঠিক কর্ম সম্পাদনের শক্তির উৎসকে বুঝায় যা অসৎ শব্দটিতে বুঝায় না। একমাত্র জ্ঞানশক্তিই পারে সঠিক অর্থাৎ নির্ভুল কর্ম সম্পাদন করতে। তাই সৎকর্ম সম্পাদন করার ক্ষমতা যোগায় জ্ঞানশক্তি। আর অজ্ঞতা সৎকর্ম সম্পাদন করার ক্ষমতা রাখেনা। কর্ম জগতের সঠিক বেঠিক পার্থক্য বিচার করে সঠিক কাজ করতে পারে একমাত্র জ্ঞানশক্তি। অজ্ঞতা শক্তি এ কাজটি করতে পারে না। তাই সঠিক কর্ম নির্ভর জীবনযাপন করার জন্য প্রত্যেক শান্তিকামী নয় নারীর জন্য জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য  বিষয়। জ্ঞানশক্তি একমাত্র  স্রষ্টার। তিনি তাঁর জ্ঞানশক্তির সাহায্যে সৃষ্টি জগতের সবকিছু নির্ভুলভাবে সৃষ্টি করেছেন। তাই সত্য তথা পরম সৎ আত্মার  উৎস হলেন একমাত্র  স্রষ্টার। আর স্রষ্টার কৃপায় তাঁর জ্ঞানজগতের জ্ঞানশক্তি আহরণপূর্বক সঠিক কর্ম করে জীবনযাপন করার ক্ষমতা অর্জন যাঁরা করতে পারেন কেবল তাঁরাই হলেন একমাত্র সত্যমানুষ।

উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যায়, আমরা সকলেই  স্রষ্টার জ্ঞান জগতের সৃষ্টি। আমাদের সকলের আছে  কালজয়ী আত্মা যা অসীম পরমাত্মা তথা স্রষ্টার হুকুম তথা আদেশ থেকে একই সময়ে সৃষ্টি হয়েছে। স্রষ্টার সৃষ্ট জ্ঞানের জগৎ পরিদর্শনের জন্য আমাদের আত্মার যে শক্তি ও ক্ষমতা দরকার হয় তা আসে একমাত্র  স্রষ্টার জ্ঞান জগতের জ্ঞানশক্তি থেকে। তাই আত্মার খোরাক হলো  স্রষ্টার জ্ঞানশক্তি যা অর্জনপূর্বক সুস্থ ও শক্তিবান থাকা প্রত্যেক আত্মার জন্য অপরিহার্যশর্ত ।  যে সকল আত্মা পর্যায়ক্রমে  স্রষ্টার সৃষ্ট মর্তলোক তথা পার্থিব সৃষ্টি জগৎ পরিদর্শনের জন্য সাময়িকভাবে  দেহধারণপূর্বক পৃথিবীতে আগমন করার সুযোগ লাভ করে তাদের নিজেদের মৃত্যুঞ্জয়ী রাখার জন্য যেমন দরকার জ্ঞান অর্জন তেমনিভাবে  দেহকে সুস্থ সবল রাখার জন্য সংগ্রহ করা দরকার দেহের খোরাক। যা  স্রষ্টার পরম কৃপায়  পৃথিবীতে সরবরাহ করা হয়। যে সকল আত্মা  মৃত্যুঞ্জয়ী জীবনযাপনের ক্ষেত্রে মৃত্যুঞ্জয়ী  স্রষ্টার গুণাবলী অর্জন ও ধারণ করার জন্য দৈহিক খোরাক তথা পার্থিব জ্ঞান ও আত্মিক খোরাক তথা অপার্থিব আত্মিক জ্ঞান অর্জন করতে সচেষ্ট থাকেন তাঁরাই হলেন মূলত সফল সত্যমানুষ। (চলবে)

সুপ্রভাত বাংলাদেশ মিরসরাই ইকোনমিক জোন সফলতার পথে

সংলাপ ॥ কয়েক বছর আগের  কথা। দেশের একটি পত্রিকায় একটি নিউজ ছেপেছিল। সেখানে তুলনা করা হয়েছিল বাংলাদেশ কেন ভারতের মত শিল্পে শক্তিশালী হতে পারছে না। উদাহরণ হিসাবে বাংলাদেশে বেজা অথবা বেপজা (আমার সঠিক মনে নেই) একটি দল ভারত ভ্রমণে যায়। সেখানে তারা গুজরাটের একটি অর্থনৈতিক জোন পরিদর্শন শেষে আক্ষেপের সাথে বলে, ভারতের এই অর্থনৈতিক জোন এমনভাবে করা হয়েছে যে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য যাবতীয় যত সুবিধা দরকার তার সব কিছুই সেখানে আছে। রেডি প্রকল্প। প্লট রেডি করা। বিদ্যুৎ সংযোগ, গ্যাস ও পানির সংযোগ রয়েছে প্রতিটা প্লটে। সেই সাথে রয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। নিকটের বন্দরগুলিও প্রস্তুত। কেউ শিল্প স্থাপন করতে চাইলে জমি ইজারা নিয়েই কাজ শুরু করতে পারে। কোন জটিলতা নেই।  আক্ষেপের সুরে বলা হয়েছিল বাংলাদেশে কোন অর্থনৈতিক জোন নাই যেখানে পরিদর্শন করেই এসব সুবিধা আমরা দিতে পারব। একজন বিদেশি যখন বিনিয়োগ করবেন তারা ভারতের প্লট দেখলেই চোখ বুজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যে এখানে আগামীকাল থেকেই শিল্প স্থাপনের কাজ শুরু করা সম্ভব। সেখানে এত সুবিধা দেখে একজন বিদেশী কেন বাংলাদেশে শিল্প স্থাপনে আগ্রহী হবে? আমরা তো জমি দিতে পারিনা। বিদ্যুৎ দিতে পারিনা। বন্দর সুবিধা এত ভাল ভাবে দিতে পারছি না।

যাহোক এরপরপরি বাংলাদেশ দ্রুততার সাথে ইকোনমিক জোন করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাও ১০০ টা। অন্য ইকোনমিক জোন নিয়ে কথা বলব না। বলব মিরসরাই ইকোনমিক জোন নিয়ে। মিরসরাই আমার জানা মতে উপমহাদেশের সব থেকে বড় ইকোনমিক জোন। ৩০,০০০ একর জমি নিয়ে এর অবস্থান। কিছু বিশেষ কারনে সারা বিশ্ব উঠে পড়ে লেগেছে এখানে এক খন্ড জমি পাবার জন্য। কিন্ত কেন? কয়েক বছর আগেই এই ইকোনমিক

জোন এলাকায় মানুষ যেত না। রাস্তা নেই। জনমানব কম। চর এলাকা। ডাকাতের ভয়। ঠিক সেরকম একটি এলাকাকে বাংলাদেশ রূপান্তর করতে পেরেছে বিশ্বের সব থেকে আকর্ষণীয় একটি বিনিয়োগের ঠিকানা হিসবে।

উদ্বোধন হল ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারী। এক বছর হতে এখনো বাকি। এখনো মাটি ভরাট করে পুরো জোন প্রস্তুত সম্ভব হয়নি। তাইলে এত আগ্রহ কেন? ঠিক কেমন আগ্রহ এখানে অথবা ঠিক কত টাকা এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে?

মজার ব্যাপার হল এই ইকোনমিক জোনে এখন পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে মোট $১২.৪০ বিলিয়ন ডলারের। টাকার অঙ্কে যেটা ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। মোট ৫৫টি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ৩ হাজার ৮২৭ একর জমি দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।

এছাড়া সরকারি সংস্থার মধ্যে মিরসরাইয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেপজা) প্রায় ১ হাজার ৫৫ একর জমি দিয়েছে বেজা। ভারতও সেখানে ১ হাজার একর জমি নিচ্ছে। পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য সেখানে ৫০০ একর জমি দিয়েছে বেজা। চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগকারীরা জমি পেতে আবেদন করেছেন।

মীরসরাইয়ে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ প্রস্তাব করেছে পিএইচপি গ্রুপ। পিএইচপি স্টিল ওয়ার্কস বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে সেখানে স্টিল মিল স্থাপন করবে।

এই গ্রুপ ৫৬৪ একর জমিতে স্টিল মিলসহ বিভিন্ন খাতে দুই ধাপে ৩২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি ৫০০ একর জমি বরাদ্দ পেয়েছে বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন। এতে আধুনিক পাল্প অ্যান্ড বোর্ড মিলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্প স্থাপন ও ইকোনমিক জোনের উন্নয়নে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এই জোনে প্রায় দুই হাজার একর জমিতে বিনিয়োগ করতে চায় বসুন্ধরা, পিএইচপি, কেএসআরএম, বিএসআরএম, ঝেজিয়াং, কুনমিংসহ বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ। এছাড়া ১ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে সামিট চিটাগাং পাওয়ার, ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চায় সিরাজ সাইকেল ইন্ডাস্ট্রি, বিপিডিবি আরপিসিএল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বিনিয়োগ করতে চায় ১ হাজার কোটি টাকা, আরব-বাংলাদেশ ফুড ১০০ কোটি টাকা, গ্যাস-১ লিমিটেড ২০০ কোটি টাকা, ফন ইন্টারন্যাশনাল ২০০ কোটি টাকা, ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা, আরমান হক ডেনিমস ১০০ কোটি টাকা এবং অর্কিড এনার্জি ২০০ কোটি টাকা। এদিকে বাংলাদেশ এডিবল ওয়েল লিমিটেড ৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। তারা শুরুতে ৫০ একর জমি চেয়েছিল। কিন্তু পরে জমি ভাগে পাবে কিনা সেই আশঙ্কায় ১০০ একর জমি চেয়েছে। চীনের একটি কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে এখানে কারখানা স্থাপন করতেছে। দেশের একটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে কারখানা করে ফেলেছে।

উপরের কান্ড গুলি দেখে হয়ত বুঝেছেন এটা কে জমি পাবার জন্য কাড়াকাড়ি চলার কথা কেন বলেছি।

কি থাকছে মিরসরাই ইকোনমিক জোনে?

এক্ষেত্রে শুরুতেই বলতে হবে অবকাঠামোর কথা। অবকাঠামোতে এরকম ইকোনমিক জোন বিশ্বে খুব কম আছে। এটা এমন একটি ইকোনমিক জোন যেখানে এই জোনের প্রতিষ্ঠান গুলির জন্যই থাকছে আলাদা সমুদ্র বন্দর। হ্যা ঠিক শুনেছেন। জাপানের সজিত কর্পোরেশন প্রায় $২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে এখানে সমদ্র বন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার জন্য। এই বন্দর দিয়ে এই জোনের প্রতিষ্ঠান গুলি দ্রুত আমদানি রপ্তানি করবে। মিরসরাইয়ে এখন ভূমি উন্নয়নের পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি দেবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরণি নামে চার লেনের একটি সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে।

৭ হাজার ৭১৬ একর জমিতে এবং সমুদ্র তীরবর্তী জেগে ওঠা ১৫ হাজার একর জমির মধ্যে ৪টি মৌজায় ৬ হাজার ৩৯০ একর জায়গায় শুরু হয়েছে কর্মযজ্ঞ। চায়না হারবার কোম্পানির তত্ত্বাবধানে সেখানে নির্মিত হচ্ছে অবকাঠামো, তৈরী হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ।

ইতোমধ্যে মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে তৈরি হয়েছে ১৯ কিলোমিটার পাকা সড়ক। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে মীরসরাই ইপিজেড পর্যন্ত নির্মাণ হচ্ছে চার লেনের আরও ১০ কিলোমিটার শেখ হাসিনা অ্যাভিনিউ। মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংযুক্ত হচ্ছে এই অঞ্চলের সঙ্গে।

সমুদ্র উপকূল ঘেঁষে ১২’শ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, নেভি ও চায়না হারবার কোম্পানি সাড়ে ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ করছে। কারখানায় পানি সরবরাহের জন্য দুই একর জমিতে তৈরি করা হবে জলাধার।

গ্যাস সরবরাহের জন্য ২৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পাইপলাইন বসাচ্ছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড স্থাপন করবে ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র। এছাড়া ১ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটের আরও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করার জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া হয়েছে ৫০ একর জমি।

২০১৯ সালের শেষ নাগাদ মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ১০ হাজার একর জমি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ২০৩০ সালে পূর্ণাঙ্গভাবে শিল্পশহর চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পুরো কাজ শেষ হলে এখানে কর্মসংস্থান হবে প্রায় ৩০ লাখ লোকের। আর এখানে যে পরিমান রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে তা হয়ত আমাদের দেশের বর্তমান রপ্তানির সমান হলেও অবাক হব না।

যেখানে ১৮০০ মেগাওয়াট এর বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। ডেডিকেটেড সমুদ্রবন্দর রয়েছে। থাকছে বিশাল বিশেষায়িত জায়গা, ইউটিলিটি সংযোগ সেই ইকোনমিক জোন এ এক খন্ড জমি পাওয়া নিয়ে যে কাড়াকাড়ি পড়বে সেটাই স্বাভাবিক।

বাংলার সাধককুল কাজ করছেন সোনার বাংলাকে সোনার বাংলারূপে প্রতিষ্ঠা করতে। বাংলা ও বাঙালি এগিয়ে যাক – বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাড়াবে একদিন -সেই সোনালী দিনের প্রত্যাশা আমাদের সকলের। জয় বাংলা।

জো বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা: ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি ট্রাম্প

সংলাপ ॥ আমেরিকায় গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেছে দেশটির ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি দেখভাল করার দায়িত্বে থাকা ফেডারেল এজেন্সি- জেনারেল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিএসএ। সংস্থাটি সম্প্রতি এক চিঠিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দিয়ে বলেছে, এটি এখন ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএন প্রথম এ খবর প্রচার করে যে, তাদের হাতে জিএসএ’র পক্ষ থেকে ইস্যু করা এমন একটি চিঠির কপি রয়েছে যাতে বাইডেনের টিমের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে নিজের প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে ওই রাষ্ট্রীয় সংস্থা।  

ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, জিএসএ’র মহাপরিচালক এমিলি মরফিকে যাতে আর কোনো চাপের মুখে পড়তে না হয় সেজন্য তিনি তাকে প্রটোকল অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছেন। এর মাধ্যমে সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছিলেন তিনি নিজে তার অবসান ঘটালেন। দৃশ্যত, তার নির্দেশেই জিএসএ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের টিমের    কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে।  জিএসএ এই চিঠি দেয়ার ফলে এখন জো বাইডেন রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন, অফিস ব্যবহার করতে পারবেন এবং ফেডারেল সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসতে পারবেন।

তবে এর আগে গতকালই ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত মার্কিন কংগ্রেসের নিস্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ জিএসএ’র মহাপরিচালককে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে গড়িমসি করার দায়ে অভিযুক্ত করে তাকে কংগ্রেসে হাজির হয়ে এ ব্যাপারে জবাবদিহিতা করার আহ্বান জানিয়েছিল। এদিকে ক্ষমতা হস্তান্তরের কাজ শুরু করতে রাজি হলেও ট্রাম্প এখনো নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করতে রাজি হননি। নির্বাচনে কথিত কারচুপি নিয়ে করা মামলাগুলো চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।  টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমাদের মামলাগুলো জোর কদমে এগিয়ে চলেছে। আমরা ভালোভাবে লড়ে যাব। আর বিশ্বাস করি, আমরা টিকে থাকব।’

তুর্কি জাহাজ তল্লাশি: ইইউ, জার্মানি,ইতালির রাষ্ট্রদূতদের তলব

সংলাপ ॥ পূর্ব ভূমধ্যসাগরে লিবিয়া-অভিমুখী তুরস্কের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে তল্লাশি করার প্রতিবাদ জানাতে আঙ্কারায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ, জার্মানি ও ইতালির রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তুরস্ক সম্প্রতি প্রথমে অভিযোগ করে, জার্মান নৌবাহিনীর সদস্যরা তুরস্কের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘রোজেলিন’-এ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে এটিতে তল্লাশি চালিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর ওই তিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়।

তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সম্প্রতি গ্রিসের পেলোপোনিস উপত্যকার কাছে দেশটির জাহাজে যে তল্লাশি চালানো হয়েছে তা আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন; কারণ আন্তর্জাতিক পানিসীমায় এ ধরনের তল্লাশি চালানোর কোনো অধিকার কারো নেই।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামিদ আকসাভি অভিযোগ করেছেন, জার্মান নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘হামবুর্গ’ থেকে দেশটির নৌসেনারা রোজেলিনে অনুপ্রবেশ করে এবং এটির ক্যাপ্টেনসহ সব নাবিককে অস্ত্রের মুখে বন্দি করে রাখে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অভিযোগ জানানো হলে তল্লাশি অভিযান অসমাপ্ত রেখেই জার্মান নৌসেনারা তুর্কি বাণিজ্যিক জাহাজ ত্যাগ করে চলে যায়।

জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, দেশটির নৌবাহিনী ইইউর পক্ষ থেকে নিযুক্ত ‘আইরিনি’ বাহিনীর হয়ে ভূমধ্যসাগরে টহল দিচ্ছিল। যুদ্ধ-কবলিত লিবিয়ায় অবৈধ অস্ত্রের চালান প্রতিহত করার জন্য ‘আইরিনি’ বাহিনী গঠিত হয়েছে। জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা তুর্কি জাহাজে অস্ত্র আছে বলে সন্দেহ করে এটিতে তল্লাশি চালাতে যায়। কিন্তু জাহাজের নাবিকদের বাধার মুখে তাদের দায়িত্ব অসমাপ্ত রেখেই সেটি থেকে নেমে যায়।

তুরস্কের নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলেছে, রোজেলিন জাহাজে করে লিবিয়ায় খাদ্যসামগ্রী ও রঙ পরিবহন করা হচ্ছিল।

অতি গোপনে সৌদি সফরে ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী

সংলাপ ॥ অতি গোপনে সৌদি সফর সারলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সফরে সৌদি যুবরাজ (ক্রাউন প্রিন্স) মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।  সৌদি সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি। সফরে তার সঙ্গে এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ইয়োসি কোহেন।

বৈঠকগুলো রোববার লোহিত সাগর উপকূলে সোদির নির্মাণাধীন অত্যাধুনিক শহর নিওমে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এক ইসরাইলি মন্ত্রীর বরাত দিয়ে সোমবার সকালে প্রথম এর কথা প্রকাশ করে দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে। এই বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি।

তবে তেলআবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এর একদিন আগেই সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ বলেন, যদি তার দেশের একটিমাত্র পূর্বশর্ত পূরণ হয় তবে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করবে রিয়াদ। খবর আলজাজিরা ও এএফপির।

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপে গত দুই মাসে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি সই করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সুদান। এছাড়া আরও কিছু আরব রাষ্ট্র একই পথ অনুসরণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ চুক্তির প্রতি রিয়াদ এর আগেও সমর্থন দিয়েছে এবং আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরাইলের বিমান চলাচলের জন্য সৌদি আকাশসীমা উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আরব রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের মধ্যে এই গোপন সফর করলেন নেতানিয়াহু।

সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চেষ্টার প্রধান ক্রীড়নক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছেন, সৌদি আরবসহ আরও বেশ কয়েকটি আরব দেশ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে।

তবে দ্বিতীয় দফায় তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে না পারা সেই প্রচেষ্টাকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই সৌদি সফরে যুবরাজ মোহাম্মদ ও পম্পেওর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হলেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহুর সৌদি সফর ও বৈঠকের বিষয়টি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেন তার মন্ত্রিসভার এক সদস্য। সেই সঙ্গে এটাকে একটা ‘বড় ও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করেন। সম্প্রতি ইসরাইলের আর্মি রেডিও’র এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াব গ্যালান্ড বলেন, ‘ফ্যাক্ট হচ্ছে, বৈঠক হয়েছে এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।’ ইসরাইলের কান পাবলিক রেডিও ও আর্মি রেডিও জানায়, লোহিত সাগর উপকূলের বহুল আলোচিত নিওম সিটিতে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দফতর এবং ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে এ সফরের ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সৌদি সরকারের তরফেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইসরাইলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, এভিয়েশন ট্র্যাকিং ডাটায় দেখা গেছে, একটি ব্যক্তিগত জেট বিমান নিয়ে ইসরাইলের তেল আবিব থেকে সৌদি আরবের নিওম শহরে পৌঁছান নেতানিয়াহু। রোববার সেখানেই যুবরাজ এমবিএস এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলো বলছে, নেতানিয়াহুকে বহনকারী বিমানটি দুই ঘণ্টার মতো নিওমে অবস্থান করে। হারেৎজ আরও জানায়, এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য একাধিক বার এই জেট বিমানটি ব্যবহার করেন নেতানিয়াহু।

এমন সময়ে নেতানিয়াহু সৌদি সফরে গেলেন যখন জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছে রিয়াদ। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার ইহুদি জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে যুবরাজ মোহাম্মদের। ট্রাম্প-কুশনারের প্রচেষ্টাতেই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হয় মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি প্রভাব বলয়ের একাধিক দেশ। এখন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বাইডেনের জয়ের মধ্য দিয়ে দৃশ্যত হোয়াইট হাউসে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে হারাল রিয়াদ।

নতুন পরমাণু চুক্তি দাবি ইসরাইল-সৌদির : ইরান পরমাণু চুক্তি নিয়ে একই সুরে-তালে কথা বলছে ইসরাইল ও সৌদি আরব। তেহরানের সঙ্গে আগের পরমাণু সমঝোতা বাদ দিয়ে নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষরের দাবি জানিয়েছে দেশ দুটির কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত সৌদির স্থায়ী প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল-মুয়াল্লেমি বলেছেন, ‘ইরান পরমাণু সমঝোতা মরে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাইডেনকে ইরানের সঙ্গে নয়া চুক্তি সই করতে হবে।

একই দাবি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুরও।’ তিনি বলেছেন, ‘নতুন করে ইরান পরমাণু চুক্তিতে ফেরা ওয়াশিংটনের উচিত হবে না। রয়টার্স ও এএফপি। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানার শর্তে তাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্য দেশ ও জার্মানি।

সৌদির আরামকো তেল স্থাপনায় আবারও হুথি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সংলাপ ॥ ইয়েমেনে হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলন সমর্থিত সেনারা সৌদি আরবের বন্দরনগরী জেদ্দার আরামকো তেল স্থাপনায় আবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যেখানে ইয়েমেনের যোদ্ধারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিযয়েছে সেটি হচ্ছে আরামকো কোম্পানির তেল ডিস্ট্রিবিউশন স্টেশন।ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারিযয়ি সম্প্রতি জানান, কুদস-২ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিখুঁতভাবে ওই ডিসট্রিবিউশন স্টেশনে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, হামলার পর অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ওই স্থানে ছুটে যায়।

জেনারেল সারিযয়ি জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে এবং সম্প্রতি সৌদি আরবের গভীরে হামলা চালিয়ে এর পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এ ক্ষেপণাস্ত্রের কথা ঘোষণা করা হয় নি।

ইয়েমেনের ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন কথিত আরব জোটের অব্যাহত আগ্রাসন এবং অবরোধের জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জেনারেল সারিয়ি মন্তব্য করেন।

সুদানে রাশিয়ার নৌঘাঁটি নির্মাণে প্রেসিডেন্ট পুতিনের অনুমোদন

সংলাপ ॥ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সুদানে একটি নৌঘাঁটি নির্মাণের লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়ার জন্য রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য এ চুক্তির খসড়া অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে হস্তান্তর করলে সম্প্রতি তিনি এ নির্দেশ দেন। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন সুদানের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক চুক্তির খসড়া ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে হস্তান্তর করেন। সুদান সম্প্রতি দেশটিতে একটি নৌ সরবরাহ ঘাঁটি স্থাপনের রুশ প্রস্তাব গ্রহণ করে। সমুদ্রে চলাচলকারী রুশ জাহাজগুলোর মেরামত ও কারিগরি পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান এবং এসব জাহাজের নাবিকদের বিশ্রাম নেয়ার লক্ষ্যে রাশিয়ার এ ধরনের ঘাঁটি প্রয়োজন বলে মস্কো খার্তুমকে জানিয়েছে। চুক্তির খসড়ায় বলা হয়েছে, নৌ সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের জন্য সুদান রাশিয়াকে বিনামূল্যে জমি সরবরাহ করবে। অন্যদিকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ ওই ঘাঁটির নিরাপত্তা রক্ষার সব সামরিক সরঞ্জাম ও সমরাস্ত্র সুদান সরকারের নিয়ন্ত্রণে দিয়ে দেবে রাশিয়া। চুক্তির খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, রাশিয়ার নৌ ঘাঁটিটি হবে সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে এটি ব্যবহৃত হবে না। এছাড়া, সুদান তার প্রয়োজনে ওই নৌ ঘাঁটির জেটি ব্যবহার করতে পারবে।  

ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে চাপে পাকিস্তান: ইমরান খান

সংলাপ ॥ ইহুদিবাদী ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। একইসঙ্গে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘ইহুদিবাদীদের’ সঙ্গে ইসলামাবাদ কখনোই সম্পর্ক স্থাপন করবে না।

পাকিস্তানের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য ফাঁস করেন। ইমরান খান বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার পর ইসলামাবাদকেও একই কাজ করতে চাপ দেয়া হচ্ছে, কিন্তু তার সরকার এখন পর্যন্ত সে চাপ উপেক্ষা করে এসেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এমন একটি সমঝোতা যা ফিলিস্তিনিদের সন্তুষ্ট করবে তা অর্জিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি কোনো অবস্থাতেই ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার কথা ভাবতেও রাজি নই।” কোন কোন দেশের পক্ষ থেকে এমন চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে সে সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ইমরান খান সুনির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘কিছু কথা আছে যা আমরা বলতে পারি না। তাদের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক বিদ্যমান।’ পাকিস্তানের জাতির পিতা কায়েদে আজম মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন- উল্লেখ করে খান বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের স্বার্থে ইসলামাবাদ জিন্নাহর পদাঙ্ক অনুসরণ করে যাবে।’ তবে অন্য এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে চাপ সৃষ্টিকারী একটি দেশের নাম উল্লেখ করেন ইমরান খান। তিনি বলেন, আমেরিকার ওপর ইসরাইলের শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে এবং আমেরিকা হচ্ছে ‘আরেকটি দেশ যে কিনা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকার ওপর ইসরাইলের গভীর প্রভাবের কারণেই এই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ট্রাম্পের শাসনামলে ওয়াশিংটনের ওপর তেল আবিবের প্রভাব অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে গেছে।’ তবে নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ফিলিস্তিন ইস্যুতে কি নীতি গ্রহণ করেন পাকিস্তান তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বলে ইমরান খান উল্লেখ করেন।

পশ্চিমতীরে ইহুদি বসতি সমর্থন করছে আমিরাত: হামাস

সংলাপ ॥ ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস অভিযোগ করেছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদিবাদী ইসরাইল যে অবৈধ বসতি বিস্তারের পরিকল্পনা নিয়েছে তার প্রতি সমর্থন দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। হামাসের অন্যতম মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, সম্প্রতি ইহুদি বসতি নির্মাণ পরিষদের প্রধানকে আবুধাবি অভ্যর্থনা জানিয়েছে, তার সঙ্গে বৈঠক ও অর্থনৈতিক চুক্তি করেছে। ইয়েমেনের আরবি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেলের এ খবর দিয়েছে।

ইহুদি বসতি নির্মাণ পরিষদের প্রধান হিসেবে মির দোগান প্রকাশ্যে অবৈধ বসতি বিস্তারের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তিনি সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন এবং দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তি করেছেন। এ বিষয়টিকে হামাস ইহুদিবাদী ইসরাইলের অবৈধ বসতি নির্মাণ প্রকল্পের প্রতি আবুধাবির সরাসরি সমর্থন বলে মনে করছে।

এর আগে, আরব লীগের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনি ইহুদি বসতি নির্মাণের বিরুদ্ধে যত প্রস্তাব পাস করা হয়েছে- এই চুক্তির মধ্যদিয়ে আমিরাত তার সবগুলো লঙ্ঘন করেছে বলে মন্তব্য করেন হামাসের এ মুখপাত্র।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বহু দেশ এবং কোম্পানি যখন ইহুদিবাদী ইসরাইলের বসতি নির্মাণ পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করছে তখন সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের সাথে সহযোগিতা করছে; এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ব্যাপার।

মার্কিন সমাজ ক্রমেই বিভক্ত হয়ে পড়ছে : ওবামা

সংলাপ ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় যে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে সেদেশের সামাজিক ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন অনেকে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্রতিটি প্রার্থীই সাত কোটির বেশি ভোট পেয়েছেন যা কিনা সেদেশে সামাজিক বিভক্তি সৃষ্টির বড় প্রমাণ। রিপাবলিকান দলের বহু নেতা নির্বাচন কারচুপি হওয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা না করার কথা উল্লেখ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, ‘আমরা আইনের ঊর্ধ্বে নই এবং আমরা আইনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নই-এটাই ডেমোক্রেট দলের মূল বিশ্বাস।’

নির্বাচন পরবর্তী উত্তেজনার কারণে মার্কিন সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ার ব্যাপারে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার স্বীকারোক্তি থেকে বোঝা যায় দেশটি বিরাট সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি স্বেচ্ছাচারী নীতি অনুসরণ করে আসছেন এবং এমন সব পদক্ষেপ নিচ্ছেন যা দেশটির শাসন কাঠামোর পরিপন্থী ও সমাজ বিরোধী। তাই এর বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ বিরাজ

 করছে মার্কিন সমাজে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মূলত একজন ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই তিনি নির্বাচনে জিতে হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করেছিলেন। অনভিজ্ঞ ট্রাম্প এমন সব বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছেন যা সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার নীতির বিরোধী এবং এর পরিণতিতে আমেরিকার ভেতরে ও বাইরে ব্যাপকভাবে

সমালোচিত হয়েছেন তিনি। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবির ঘটনা আসলে গত চার বছরে তার বহু অপকর্মের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে এবারের নির্বাচনে ট্রাম্প পেয়েছেন সাত কোটি ৩০ লাখের বেশি ভোট এবং জো বাইডেন পেয়েছেন সাত কোটি ৮০ লাখের বেশি ভোট।

ভোটের এই হিসাব থেকে শুধু যে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দলের মধ্যেকার রাজনৈতিক বিভেদ উঠে এসেছে তাই নয় একইসঙ্গে মার্কিন সমাজেও বিভক্তির চিহ্ন ফুটে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, মার্কিন সমাজে বিভক্তির বিষয়টি কেবল বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং তারও বহু আগে থেকে বিভক্তির আলামত দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এ বিভক্তি চরম আকার ধারণ করেছে।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে শাসকবর্গের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনের বিভিন্ন অঙ্গনে ব্যক্তি বা বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের ফলে কেবল বিশেষ মহলের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সমাজে এবং সমাজ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এ বিরোধ প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে আদর্শিক দ্বন্ধে রূপ নিয়েছে যা কিনা দেশটির সামাজিক শৃঙ্খলা ও ঐক্যের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনেকে এটাকে যুক্তরাষ্ট্রের পতনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী মার্কিন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভরাডুবির প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন একটি বিষয় স্পষ্ট আর তা হচ্ছে তারা নিশ্চিতভাবে রাজনৈতিক ও নৈতিক পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।