৩৩ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মিলনমেলায় মিরপুর আস্তানা শরীফ

সত্যের দুর্নিবার ঝাণ্ডা নিয়ে বাংলার এই অঞ্চলে শান্তি (ইসলাম) প্রতিষ্ঠায় পূর্ব দিগন্তে এক মাহেন্দ্রক্ষণে যে জ্যোতির্ময়ের আবির্ভাব ঘটেছিল, তাঁরই জ্যোতি আজ দিক হতে দিগন্তে প্রসারিত। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক সেই জ্যোতি, সত্যের কাণ্ডারী। হাক্কানী হওয়ার পথযাত্রী ও সত্যানুসন্ধানীদের জীবনে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর হুকুমে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত মিরপুর আস্তানা শরীফ হাক্কানী চিন্তনপীঠের প্রাণকেন্দ্র্র। নিজের সত্যকে উপলব্ধি করার নতুন প্রেরণাশক্তি নিয়ে আমাদের জীবনে প্রতিবছর ফিরে আসে মিরপুর আস্তানা শরীফ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, আসে অনাবিল আনন্দ উদ্যাপনের শুভ লগ্ন। ১৯৮৮ সন থেকেই তা হয়ে আসছে। বাংলা ১৩৯৪ সনের ১৩ মাঘ, ইংরেজি ১৯৮৮ সনের ২৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার ‘মিরপুর আস্তানা শরীফ’ প্রতিষ্ঠিত হয় রাজধানী ঢাকার মিরপুরে।

হাক্কানী দর্শনের সত্যমানুষের মহামিলনের পূণ্য তীর্থকেন্দ্র মিরপুর আস্তানা শরীফ দীর্ঘ ৩২ বৎসরকাল অতিক্রম করে এবছর ৩৩-এর প্রোজ্জলন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উে ঠছে। ৩৩ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনে মিরপুর আস্তানা শরীফ ১২ ও ১৩ মাঘ ১৪২৭, (২৬-২৭ জানুয়ারি ২০২১) মঙ্গলবার ও বুধবার পর্যন্ত সত্যানুসন্ধানীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

৩৩ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের প্রারম্ভে কিশোরগঞ্জ জেলার চান্দপুরে অবস্থিত সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর মাজার চাঁন্দপুর শরীফে যথাযথ ভক্তি ও আদবের সাথে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

দু’দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম দিন ১২ মাঘ ১৪২৭, (২৬ জানুয়ারি ২০২১) মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন

জেলায় অবস্থিত হাক্কানী খানকা, দরবার ও আস্তানা শরীফ থেকে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ ও দরবারি ভাই বোনদের নাম নিবন্ধন, বরণ, স্বত:স্ফূর্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ দিন সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট ও সুফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ  (হামিবা)-এর ৩১ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদাযাপিত হয়।

বিকেল ০৪.০১ মিনিটে আস্তানা শরীফ প্রাঙ্গনে পতাকা উত্তোলন করেন মিরপুর আস্তানা শরীফ ব্যবস্থাপনা সংসদের আজমত খান (যুগ্ম-সচিব, মিরপুর আস্তানা শরীফ ও রওজা ব্যবস্থাপনা সংসদ), মহিউদ্দিন সরকার (যুগ্ম-সচিব, মিরপুর আস্তানা শরীফ ও রওজা ব্যবস্থাপনা সংসদ), আবদুল কাদের টিটু (যুগ্ম-সচিব, মিরপুর আস্তানা শরীফ ও রওজা

 ব্যবস্থাপনা সংসদ)। এরপর হামিবা ব্যবস্থাপনা সংসদ-এর নেতেৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন পর্ষদ ও মিরপুর আস্তানা শরীফ ব্যবস্থাপনা সংসদের সদস্যবৃন্দ, বাহাখাশ কেন্দ্রিয় ব্যবস্থাপনা সংসদের সদস্যবৃন্দসহ বাহাখাশের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রকল্পের সদস্যবৃন্দ এবং উপস্থিত দরবারি ভাই-বোন দরবারে পদক্ষীণ করে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ এঁর রওজায় গিলাফ ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এদিন দিবা-রাত্রি সন্ধিক্ষণে দরবারের পশ্চিম পাশের মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জলন ও ফল শোধনসেবার মোড়ক উন্মোচন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হামিবা সভাপতি শাহ্ সূফী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ উল ইসলাম এবং দরবারের পূর্ব পাশের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হামিবা নির্বাহী সভাপতি শাহ ড. আলাউদ্দিন আলন, শাহ্  ড. মো. আলাউদ্দিন আলন (নির্বাহী সম্পাদক, সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ), শাহ্ শেখ মজলিস ফুয়াদ (সদস্য, কুরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র), শাহ্ ইমতিয়াজ আহমেদ টিটু (সভাপতি, হাক্কানী যুব উন্নয়ন বিভাগ), শাহ্ এন.সি.রুদ্র (সভাপতি, স্বাস্থ্য ও সেবা প্রকল্প, হামিবা),

মনোয়ারা সুলতানা (মহাসচিব, মহিলা উন্নয়ন বিভাগ, হামিবা), হারুন-উর-রশিদ (সভাপতি, হামিবা সদস্য উন্নয়ন তহবিল ও সূফী আনোয়ারুল হক স্মারক কল্যাণ তহবিল), সালেহ আল দ্বীন (সভাপতি, হামিবা তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ), ব্যারিষ্টার তানভীর সারোয়ার (সভাপতি, আইন সহায়তা কেন্দ্র হামিবা), দেলোয়ার হোসেন পিন্টু (সদস্য সচিব, হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমী), আমিরুল ইসলাম (সিনিয়র কাউন্সিলর, হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়), মোল্লা হাছানুজ্জামান টিপু (হাক্কানী বিশেষ দূত)। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জলনের পরবর্তী পর্ব ছিল ‘হাক্কানী প্রচার-প্রসারে হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ’ বিষয়ক মুক্ত আলোচনা। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন-অধ্যাপক ড. আহসান আলী (উপদেষ্টা, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ), (মামুন আল হাসান নাজু)

 (উপদেষ্টা, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ), অধ্যাপক ফরিদা হোসেন (উপদেষ্টা, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ), এ্যাডভোকেট এ.কে.এম. সোহেল আহমেদ, (প্রধান উপদেষ্টা, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ), আমিরুল ইসলাম (সিনিয়র কাউন্সিলর, হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়), দেলোয়ার হোসেন পিন্টু (সদস্য সচিব, হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমী), ব্যারিষ্টার তানভির সারোয়ার (সভাপতি, আইন সহায়তা কেন্দ্র হামিবা), সালেহ আল দ্বীন (সভাপতি, হামিবা তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ), হারুন-উর-রশিদ (সভাপতি, হামিবা সদস্য উন্নয়ন তহবিল ও সূফী আনোয়ারুল হক স্মারক কল্যাণ তহবিল), শাহ্ মনোয়ারা সুলতানা (মহাসচিব, মহিলা উন্নয়ন বিভাগ, হামিবা), শাহ্ এন.সি.রুদ্র (সভাপতি, স্বাস্থ্য ও সেবা প্রকল্প, হামিবা), শাহ্ ইমতিয়াজ আহমেদ টিটু (সভাপতি, হাক্কানী যুব উন্নয়ন বিভাগ), শাহ্ শেখ মজলিশ ফুয়াদ (সদস্য, কুরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র), মোল্লা হাছানুজ্জামান টিপু (হাক্কানী  বিশেষ দূত), শাহ ফাতেমা আফরোজ নাসরিন (সদস্য, সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ)। মুক্ত আলোচনা পর্বের সঞ্চালনায় ছিলেন হামিবা নির্বাহী সভাপতি শাহ্ ড. আলাউদ্দিন আলন। প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন মিরপুর আস্তনা শরীফ ব্যবস্থাপনা সংসদের যুগ্ম সচিব আবদুল কাদের টিটু।

সন্ধ্যা ৫.৫১ মিনিটে হামিবা ব্যবস্থাপনা সংসদের নেতৃত্বে কেক কেটে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন উপস্থিত সকল ভক্ত ও আশেকানবৃন্দ। সন্ধ্যা ৮.১৫ ‘ফিরে দেখা’ শিরোনামে ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। রাত ৯.৪৫ মিনিটে শোধনসেবা বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের মূলতবী করা হয়।

দ্বিতীয় দিন ১৩ মাঘ, ২৭ জানুয়ারি, বুধবার সকাল ১০.০১ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হয়। মিরপুর আস্তানা শরীফের ‘প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম’ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন ক্ষুদে হাক্কানী – পার্থ, সাজনা শেখ, সেজুতি, ফারিহা, মীম, নোরা, আহনাফ, তাসমিন, তানজিম, তাজি, নাফিসা ইসলাম ফাইসা, রাজলক্ষ্মী, তাহিরা ইসলাম সামন্তা, উপমনি, তুষার, ঈশরাত, আরোতি, আভা, আলভী, রাইসা, প্রিয়াংকা, পিউলি, ঈশামা, জুবায়ের, ফয়সাল, নিখিল, শরিকা ইসলাম, আনাফী ইসলাম, রাফিজা ইসলাম, সিয়াম, আনজিস। উন্মুক্ত অনুভূতি প্রকাশ  পর্বে : ‘বারে বারে দেখি আপনারে’ অনুভূতি প্রকাশ করেন শাহ্ সূফী শেখ হায়দার আলী (সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী বন্ধু), শাহ্ ইমতিয়াজ আহমেদ, শাহ্ খায়রুল মোস্তাফা, শাহ্ শেখ মজলিস ফুয়াদ।

মধ্যাহ্ন ভোজনের পর ভাবসঙ্গীত পর্ব শুরু হয়। বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্বে বিকাল ৪:০১ মিনিটে অংশগ্রহণ করেন-প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন পর্ষদ ও উপস্থিত ভক্ত আশেকানবৃন্দ এবং অন্যান্য। গিলাপ, ফুল ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের অন্যান্য উপাদান নিয়ে দরবার প্রদক্ষীণ করে মিরপুর আস্তানা শরীফ এর নেতৃত্বে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর রওজায় এবং শাহ্ আনোয়ারা বেগম এঁর রওজায় শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

বিকাল ৫:০১ মি মুক্ত আলোচনা পর্ব – ‘আপন উপলব্ধিতে আমরা সবাই জানি’তে অংশগ্রহণ করেন- শাহ আলম খান (উপদেষ্টা, সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ রওজা শরীফ উন্নয়ন পর্ষদ), আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (চারাবাগ, আশুলিয়া দরবার শরীফ), শাহ্ ইফতেখাইরুল আলম রাসেল (তত্ত্বাবধায়ক, বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ, নবাবগঞ্জ), শাহ্  ফরহাদ হোসেন (তত্ত্বাবধায়ক, বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ, খুলনা), শাহ্ দিলারা নাজমা (তত্ত্বাবধায়ক, বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ, কুষ্টিয়া), শাহ্  শাহাবউদ্দিন খান (তত্ত্বাবধায়ক, বাংলাদেশ               হাক্কানী খানকা শরীফ, ধীতপুর), শাহ্  শাহনাজ সুলতানা (সভাপতি, বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা সংসদ), শাহ্  ফাতেমা আফরোজ নাসরিন (উপদেষ্টা, মিরপুর আস্তানা শরীফ ও রওজা ব্যবস্থাপনা সংসদ)।

দিবা-রাত্রির সন্ধিক্ষণে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও  স্ব স্ব অবস্থান থেকে নীরব স্মরনে অংশগ্রহণ করেন- দরবারের পশ্চিম পার্শ্বে : সফিউল আলম খোকন (আহবায়ক, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন পর্ষদ ১৪২৭), দরবারের পূর্ব পার্শ্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন পর্ষদ ১৪২৭ এর সদস্য সচিব আবদুল কাদের টিটু, সদস্য শাহ্  খায়রুল মোস্তফা, শাহ্  আবেদা বানু, শাহ্  তৌহিদা জেসমিন, আজমত খান, মহিউদ্দিন সরকার,  শহীদুল ইসলাম খান,  মো. মাহবুব আলম, মো. আব্দুল ওয়াহিদ, নাসরিন সুলতানা জুলি, কাজী সবুর। কেক কেটে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন ক্ষুদ্রে হাক্কানী বন্ধুরা ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন পর্ষদের সদস্যবৃন্দ। এরপর বিশেষ পর্ব প্রদর্শিত হয় ‘চিন্ময় চেনা’ শিরোনামে। ভিডিও প্রদর্শনের পর শুরু হয় সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমীর পরিচালনায় ভাবসঙ্গীত পর্ব। ভাবসঙ্গীত পর্বে অংশগ্রহণ করেন হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমীর শিক্ষার্থীবৃন্দ ও অতিথি শিল্পীবৃন্দ। রাত ১১:১৫ মিনিটে হাক্কানী স্মরণ ও নৈবেদ্যের মধ্য দিয়ে ১৪২৮ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পর্যন্ত অনুষ্ঠান মূলতবী হয়।

২ দিনব্যাপী আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মিরপুর আস্তনা শরীফ ব্যবস্থাপনা সংসদের যুগ্ম সচিব ও হাক্কানী আস্তানা শরীফ ব্যবস্থাপনা পর্ষদের মহাসচিব আবদুল কাদের টিটু ও শাহ্ সূফী ডা. সুমাইয়া সুলতানা সুম্মি।