হুর এবং সওয়াবের আশায় ঈবাদত করা মূর্খতার উচ্চ শিখরে বাস করার নামান্তর

সাইমা (মাস্কাট)॥ সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ -অনুগ্রহ বশতঃ, একদিন এই বাণীটি এক জনসমাবেশে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য উচ্চারণ করেছিলেন। আল্লাহ্ মানুষকে ভীষণ ভালোবাসেন। আল্লাহ্ মানুষকে ভালোবেসে, মানুষ-কে নিজ অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ্র সকল গুন মানুষের নিকট বিদ্যমান। যেই স্থানে আল্লাহ্ আছেন- ঠিক সেই স্থানে ইবলিশও বর্তমান। মানুষ ব্যতীত আল্লাহ্ এবং ইবলিশের অস্তিত্ব নাই। পা থেকে মাথা পর্যন্ত শরীর অবয়বে; ঠিক কোন স্থানে আল্লাহ অবস্থান করছেন ? এটি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে আবিষ্কার করা যায় না। আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত শরীর অবয়বে আল্লাহ্ অবস্থান করছেন- আমার এই নিজের বিষয়টি অন্যরা কিভাবে বলবে। আমার শরীরে ব্যথা কোথায় ইহা আমি নিদিষ্ট করে বলতে পারি। অথচ শরীরের কোন জায়গায় আল্লাহ্ বা ইবলিশ আছেন – ইহা আমি জানি না।  যেহেতু আমি বিষয়টি জানি না, সেহেতু আমি এই বিষয়ে মূর্খ ও অচেতন। এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সংশ্লিষ্টতা নাই। নামাজ যাদু নয়-যে, নামাজ পড়লেই আমি বুঝতে পারবো, শরীরের ঠিক কোন স্থানে আল্লাহ/ইবলিশ আছেন। ইহা গণিতের মতো নির্ণয় ও আবিষ্কারের বিষয়। এখানে পড়ার বিষয় নাই। এখানে কাজের বিষয়- নিষ্ঠার সাথে কাজ করার বিষয়। একটি কাজ করতে হলে, শান্তভাবে এক স্থানে নীরবে বসতে হয়। বৈজ্ঞানিকগণ দৌড়াদৌড়ি করে কিছুই আবিষ্কার করতে পারেন নাই। বিজ্ঞানী নিউটন- তিঁনিও আপেল গাছের নীচে বসেছিলেন। কাজেই, স্থির হয়ে এক স্থানে বসতে হয়  বিষয়টি নিশ্চিত।

একটু চিন্তা করতে হয় – যে ‘আমি’ বিষয়টি কি ? দীর্ঘদিন একাকী নীরবতার মধ্যে নিজেকে একটু খুঁজে বেড়াতে হয়। এই ভাবে খুঁজতে খুঁজতে একদিন হয়তো, নিজেকে খুঁজে পাওয়া যাবে অথবা খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে, ইহা নিশ্চিত, একটি কাজ মনোযোগ ও নিষ্ঠার সাথে করলে, এর পজেটিভ ফল পাওয়া যায়। যারা কিছুদিন নীরবে একটু বসেন-তারপর অলসতা বা বিভিন্ন অজুহাতে খুঁজে বেড়ানো ছেড়ে দেন এবং বিভিন্ন স্থানে দৌড়াদৌড়ি করেন- তাদের কথা ভিন্ন। মনে রাখা আবশ্যক, হয় তুঁমি নিজেকে খুঁজো অথবা যা খুশী দৌড়াদৌড়ি করো। তোমাকে তো কেহ নীরবতায় বসে, নিজেকে অন্বেষণ করতে জোর করছে না। কিন্তু, একদিন তোমার এই দৌড়াদৌড়ি নীরবতার নিকট নির্মমভাবে পরাজিত হবে। প্রতিটি মানুষের সেই দিনটি মোটেও দুরে নয়। নিজেকে খুঁজে বেড়ানো এবং নিজেকে আবিষ্কার করাই মানুষের মূল কাজ। আল্লাহ চুপ/নীরব থাকতে পছন্দ করেন। তাই অল্লাহ-কে পেতে হলে একটু স্থির হয়ে নীরবে বসতেই হবে। ইহার কোন বিকল্প নাই। কিন্তু মানুষ এই কথাটি মোটেও শুনতে রাজী নয়। মানুষ দৌড়াদৌড়ি করে।

প্রতিটি দ্রব্যে ভেজাল করছে। ভেজাল মিশানো এবং ভেজাল সৃষ্টি করা মানুষের দারুণ প্রিয় বস্তু। ভেজাল খাওয়ার ফলে দেশের মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এরশাদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে সক্রিয় ও দীর্ঘস্থায়ী  রাখার জন্য দেশের সকল মানুষকে একটি ধর্মীয় প্যারাসিটামল খাওয়ালেন। ধর্মীয় এই প্যারাসিটামলের নাম ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলে আমার কি উপকার হবে? আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম দিয়ে কোন মানুষের এক পয়সার উপকার হয়নি। ইসলাম-এর নামে বিভিন্ন দলাদলি ও রেষারেষির সৃষ্টি হয়েছে।নিজেকে অন্বেষন করা বিষয়টি হারিয়ে গেছে।

আমাদের দেশের মানুষ খুবই ধর্মপ্রাণ এবং হাদীস প্রিয়। হাদীস প্রয়োজন মতো সংযোজন এবং ছাটাই করা যায়। হুজুরেরাই বলেন, সকল হাদীস ঠিক নয়। সুতরাং, নিজের মেধা ও জ্ঞান  দিয়ে নিজেকেই বুঝতে হবে- কোনটি সত্য হাদীস এবং কোনটি মিথ্যা হাদীস। আর যেখানে পবিত্র কোরআন শরীফ আছে -সেখানে হাদীসের প্রয়োজনটাই বা কি ? যেহেতু হাদীসের মধ্যে এতো সন্দেহ। যেখানে এত সন্দেহ-সেখানে যাবো কেন ? যাহা নিশ্চিত -অর্থাৎ পবিত্র কোরআন,  ইহা ধরে চললেই হয়!

সত্য/মিথ্যার পার্থক্যটা নিজের মেধা ও জ্ঞান দিয়ে  দিয়ে নিজেকেই বুঝতে হয়। কারণ, প্রয়োজনটা একান্তই নিজের। নিজের প্রয়োজন অন্যের উপর ছেড়ে দেয়া বিপদজ্জনক। তবু একটি হাদীছের বাণী থেকে উদ্বৃত করছি:  আল্লাহ বলেন, ‘আমার ইবাদত কর। আমি যখন কিছু সৃষ্টি করতে ইচ্ছা প্রকাশ করি , তখন বলি , ‘হও’, অমনি তা হয়ে যায়। আমার ইবাদত করো, তা হলে, আমি তোমাকে এমন ক্ষমতা দান করবো , তখন তুমিও যদি কিছু বলো, অমনি তা হয়ে যাবে ’।

এমনও দোয়া আছে, যেসব দোয়া পড়তে থাকলে দিবা/রাত্রি যে কোন সময় মারা গেলে বেহেশত পাওয়া যাবে। হুজুরদের মুখে আমরা এসব কথা প্রচুর শুনি। দিন-রাত্রি আমরা এতো পরিশ্রম করে আল্লাহকে ডাকছি, বিশেষ করে আমাদের দেশ থেকে Noval Corona virus দুর করে দাও। আজকে ৯ টি মাস ধরে আমরা সবাই সম্লিলিতভাবে খুব উচ্চস্বরে আল্লাহ-কে ডাকছি। আল্লাহর কানে কি হলো, আমাদের ডাক আল্লাহ শুনছে না। উপরোন্তু Noval Corona virus নতুন করে আরম্ভ হয়েছে।  জীবন চলার পথে মৌলিক যে প্রয়োজন, ইহা পাওয়া, যে দায় হয়ে পড়েছে।

হুর তো পরের কথা। হুর না হয়, কিছু দিন পরে কবরে/বেহেশতে গেলে পাবো। এখন যে, বাঁচতে হবে। বাঁচবো কিভাবে ? করোনার কারণে, চাকরি হারা, আমদানী/রপ্তানী-ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির। অর্থনৈতিক চাকা অচল।  আগে একদিন হরতাল হলে, দেশের  কি পরিমাণ ক্ষতি হতো- ইহার সংক্ষিপ্ত বিবরণ বেতার/টেলিভিশনে প্রচারিত হতো। সুতরাং, এখন কি পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে – ইহা সহজেই অনুমান করা যায়। জন-জীবন এবং দেশকে রক্ষার জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ ইমাজেন্সী দরকার। কিন্তু এই কঠোর বিপদের সময়ই আল্লাহর সাড়া নাই-এ কি হলো ?   

ব্যক্তি জীবনে, এসব সাধারণ প্রশ্ন, এখন আমাদেরকে বিস্ময়ে বিমুঢ় করে তোলে। যে পদ্ধতি/সিষ্টেমে আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ শুনে না এবং শুনতে রাজী নয়- সেই পদ্ধতিটি বাদ দিলে কি হয় ? দিন/মাস/যুগের/শতাব্দীর পরিবর্তন ঘটেছে। আমাদের নিজেদের উন্নয়ন ঘটছে না। বিপদ ঘাড়ের মধ্যে শক্ত করে বসেই আছে। জীবন তো আসলে করোনার আগেও চলেনি।

অথচ, খাজা গরীবে নেওয়াজ বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহ-কে ডাকলে, তোমাদের আল্লাহকে শুনতে পাও না। কিন্তু আমি ডাক দেয়ার সাথে সাথে আল্লাহর আমার ডাকে সাড়া দেন। আামার কথা মতো আল্লাহ-কে ডাকো , তোমরাও জবাব পাবে।’

একটি নিদিষ্ট সত্তা ব্যতীত অল্লাহ অস্তিত্বহীন। পবিত্র গ্রন্থ বর্ণনা করছে , ‘ভূপৃষ্ঠের সকল বস্তুই ধ্বংশসীল, কেবলমাত্র রবে তোমার প্রভুর সত্তা বা চেহারা বা অস্তি¡ত্ব’। জীবনে কোন একটি নির্দিষ্ট একক সত্তা-কে অবলম্বন করে, আল্লাহ নামে ডাকলে, নিশ্চিয়ই তিঁনি সাড়া দেবেন। ইহা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। কিন্তু এই কাজটি করার আগে আহ্বানকারীকে সত্য জীবন-যাপন করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হয়। চিটারী/বাটপারী এবং একই সংগে আল্লাহ-কে  ডাকা, এই দুইটি কাজ একসংগে চলে না।

৯০% মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশে পুলিশে পিটিয়ে, ভ্রাম্যমান আদালত দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে নিত্যপ্রয়োজনী জিনিসপত্রে ভেজাল মিশানো বন্ধ করতে পারছে না।  যে সকল শর্তে আল্লাহ মানুষের ডাক শুনবে, মানুষ ঐ সকল শর্ত ১০০% অমান্য করছে। অর্থাৎ মানুষ আল্লাহর শর্তও মানছে না এবং আবার ডাক ও শুনতে চাচ্ছে – এ কি পাগলামী ? সুতরাং পাগলামী, চালাকী, সত্যকর্ম ব্যতীত আল্লাহর নিকট পৌঁছার অভিপ্রায়, চরম বেকুবের মতো আচরণ। এ জাতীয় কর্মে আল্লাহ তোমার ডাক শুনবে- ইহা প্রত্যাশা করা সম্পূর্ণ ভুল। আমরা দেখছিও তাই। আল্লাহ আমাদের কথা কিছুই শুনে নাই।

আল্লাহর ডাক শুনতে হলে নিজেকে শুদ্ধ হওয়ার প্রতিশ্রুতিতে একটি একক সত্তাকে সাথে নিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে জীবন প্রণালী আরম্ভ করা প্রয়োজন। কারণ, নিজেকে শুদ্ধ হওয়া ব্যতীত আল্লাহর ডাক শুনা সম্ভব নয়। আল্লাহ পবিত্র। বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থ দিয়ে যেভাবে বিদ্যুৎ প্রবাহিত-সঞ্চালিত হয়, বিদ্যুৎ অপরিবাহী দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না। মানুষ অপকর্ম করার কারণে সে অশুদ্ধ হয় এবং একক সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, দুরে ছিটকে পড়ে। যেহেতু সে কোন একটি নির্দিষ্ট সত্তাকে আহ্বান করে না এবং অপকর্মও ছাড়তে রাজি নয়, সেহেতু তার নামাজ এবং ঈবাদতগুলো কাজে আসছে না। শুধু ডাকছি – কিন্তু সাড়া নাই ।

প্রতিদিনের প্রার্থনায় নিয়মিত বর্ণনা করা হয়, আমাকে খাওয়া দাও, বিপদ দুর কর, অসুখ দুর কর, কত যে প্রার্থনা হিসাব নাই। কেবল আবেদন আর আবেদন। আল্লাহ আমাদের সকলের সমস্যা অবহিত আছেন। এর পরও একই প্রার্থনা। এসব প্রার্থনা করে মানুষ এখন ক্লান্ত। তবু ,আমরা সকলে মিলেই ডাকছি, ডেকেই যাচ্ছি।

প্রার্থনায় মানুষ একবারও বলে না, ‘হে আল্লাহ ! আমি সত্য-পবিত্র হতে চাই এবং আর কোন দিন মিথ্যা-অনাচার করবো না। আমি  নিজেকে জানার চেষ্টার  প্রক্রিয়াটি সারা জীবন অব্যাহত রাখবো’।

সওয়াব পাথরের একটি টুকরা নয়। বরং, মানুষই একটি মূল্যবান/পবিত্র সত্তা/ সিদ্ধ টুকরা। মানুষ-কে সত্য/পবিত্র সত্তায় রূপান্তর করার চলমান প্রচেষ্টার একনিষ্ঠ প্রক্রিয়াটি হলো হুর। মানুষ যখন সিদ্ধ হয় -তখন সে হয় হুর। হুর অর্থ সুন্দরী বউ/মহিলা নয়।

পবিত্র কোরআন-এ যে হুুরের কথা বলা হয়েছে, ইহা হলো একটি পবিত্র/সিদ্ধ আত্মা। একটি সিদ্ধ আত্মার জ্যোতিতে সুর্যের আলো মলিন হয়ে যায় এবং সূর্যের প্রয়োজন নাই। সিদ্ধ আত্মাটিই সূর্য। সিদ্ধ আত্মাাটি যেখানে যাবে- হাটবে চলবে ঐ স্থান আলোকিত হবে। সিদ্ধ আত্মা যেখানে অবস্থান করবে – ইহা বেহেশত বা স্বর্গ। অর্থাৎ আল্লাহর সত্ত্বাটিই বেহেশত। যখন একটি মানুষ সিদ্ধ হয়-তখন সে সৃষ্টি করার ক্ষমতা অর্জন করে। সেঁ আল্লাহ থেকে পৃথক নয়। সেঁ এবং আল্লাহ একই সত্ত্বায় বা আত্মায় পরিণত হয়। বেহেশত এই পৃথিবীর বাহিরের কিছু নয়। গোটা পৃথিবীই আল্লাহর প্রকাশ। পবিত্র গ্রন্থ বলছে -আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়। তাঁর কোন শরীক নাই । তিঁনি সন্তান গ্রহন করেন নাই। যখন একটি মানুষ সিদ্ধ হয়ে আল্লাহতে রূপান্তরিত হয় এবং সৃষ্টির পূর্ণ ক্ষমতা লাভ করে তখন তাঁর কিছুর অভাব থাকে না।

একটি সিদ্ধ মানুষ যখন আল্লাহ তে রূপান্তরিত হয় -তখন সেঁ সুন্দরী বউ/ সুন্দরী মহিলা দিয়ে কি করবে ? একজন মানুষ সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত, সে আল্লাহর সাথে দেখা করতে পারবে না। মানুষের মধ্যে আল্লাহ/শয়তানের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। মানুষ যখন নিজ থেকে ইবলিশকে পরিত্যাগ করে, তখন সেঁ স্বয়ং ইশ্বর হয়। তুঁমি যদি আল্লাহ হয়ে যেতেই পারো, তবে তোমার কি সুন্দরী বউয়ের প্রয়োজন আছে ?

পবিত্র গ্রন্থের মাধ্যমে জানতে পারি, আল্লাহর সুন্দরী বউ নাই, সন্তান নাই, তবে সিদ্ধ একটি আত্বা যখন আল্লাহতে রুপান্তরিত হয়ে, সেঁ কি বউ চাইতে পারে ? তাঁর কি সুন্দরী বউ থাকবে ? এই বেকুবি চিন্তা কিভাবে করছো ? একটি সিদ্ধ আত্বা ইচ্ছা করলে, কোটি কোটি সুন্দরী বউ/সুন্দরী মহিলা এবং বহু কিছু সৃষ্টি করার ক্ষমতা অর্জন করবে ।

সম্পর্ক যদি শরীরের আবরণের সাথে ঘর্ষণমূলক হয়, তবে সেই সম্পর্ক অস্থায়ী এবং ক্ষনিক। এই সম্পর্কে এক সময় মারামারির সৃষ্টি হয় -স্থায়ী হয় না। আমরা জাগতিক জীবনে ইহা দেখছি। প্রতিদিন কি পরিমাণ ডির্ভোস হচ্ছে – উকিল ব্যারিষ্টার-আইন আদালত-কে কি পরিমাণ সময়, এসব কাজে ব্যয় করতে হচ্ছে/ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে – ইহা আমার সংবাদ পত্রের মাধ্যমে কিছুটা জানতে পারী । এই সব কাজে দেশের অফিস আদালতের অযথা সময় নষ্ট এবং রাষ্ট্রের চলমান কাজের প্রবাহ দূর্বল করে দেয়। 

আত্বার সম্পর্ক চিরস্থায়ী এবং আল্লাহময়। এখানে সৃষ্টির আনন্দময় ক্ষমতা অর্জন করা যায়। ইহা পরাক্রম শক্তিশালী ক্ষমতা। মানুষকে এমন ক্ষমতা অর্জনের জন্য সুষ্টির উন্নত/উত্তম করে সৃষ্টি করা হয়েছে। সারাক্ষণ আল্লাহ খাবার দাও, বিপদ দুর করো /অসুখ ভালো করো এই সব বলবো -এমন কথাগুলি ঠিক নয়। কারণ, প্রতিটি মানুষের সমস্যা  আল্লাহ অবহিত আছেন। তাঁকে বার বার বলার প্রয়োজন নাই । বরং, সৃষ্টির ক্ষমতা অর্জনের দিকে নজর দেয়া আবশ্যক। 

হুজুরেরা, সুন্দরী মহিলাকে হুরের নামে আমাদের-কে লোভ দেখায় এবং বেহেশতে ঐ মহিলা হুরের সাথে  আমাদের থাকার  ও আনন্দের কথা বলে, ইহা ১০০% ভুল।

সওয়াব বলতে নিজেকে সিদ্ধ করার জন্য, আল্লাহর আদর্শ বা শিষ্টাচার (আল্লাহর আদেশ- উপদেশ এবং নিষেধ) অনুযায়ী জীবনকে যাপন করা – যা একটি কাজ বা নিরবিচ্ছিন্ন কর্ম প্রক্রিয়া। ৭০/১০০/৫০০/৭০০/১০০০ টি সওয়াব -এই গুলি ভুল এবং মিথ্যা । জীবনকে আল্লাহময় -এ পরণিত করে নিজেকে সিদ্ধ বা সত্যে রুপান্তরিত করার  কর্ম প্রক্রিয়াই হলো জীবনের মূল কাজ। আল্লাহর সাথে সার্বক্ষনিক যুক্ত থাকার নাম জান্নাত। আল্লাহ্ও নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জীবন-যাপন করার নাম জাহান্নাম। জান্নাত এবং জাহান্নাম কোন স্থান নয়। হুজুরেরা যে, বলে “যে ছোট বেহেশত পাবে, সেই বেহেশতটি এই দুনিয়ার ৫/১০ দুনিয়ার সমান ইহা সম্পূর্ণ ভুল এবং মিথ্যা।

যারা আল্লাহ্র গুণ অর্জন ব্যতীত জীবনকে পরিচালন করে-অর্থাৎ সওয়াব/সুন্দরী হুর /সুন্দরী বউয়ের/জান্নাতের আশায় এবং দোজখের ভয়ে ইবাদত করে – তারা মূর্খের উচ্চ শিখরে বাস করে। এদের উপরে আর মূর্খ নাই। এসব ধর্মীয় দূর্নীতিবাজ/ধর্মীয় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে একদিন দূর্বার আন্দেলন গড়ে তোলা হবে। কারণ, সাধকদের পরিশ্রম বৃথা যেতে পারে না। একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আল্লাহ, স্বয়ং প্রতিশ্রতি দিয়েছেন, ”আল্লাহ্, ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন”। আল্লাহ্ , দূর্নীতিবাজ নামাজী/ দূর্নীতিবাজ হাজী/দূর্নীতিবাজ হুজুর/খাবারে ভেজাল মিশ্রণবারীদের সাথে নাই।