‘হক’ এর বচন- ‘গুরু যোগ্য ভক্তের চক্ষু কর্ণে জিহবায় এসে বসেন’

নজরুল ইশতিয়াক ॥ ভক্তের ভালবাসা, প্রেম, পূজা পেতেই গুরুর আসা, আবির্ভাব। ভক্তের দ্বারে বাধা আছেন সাঁই। সাধক কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন -‘কৃষ্ণ তো রাধাময় দেহ’। এমন শত সহস্র উপাধি দেয়া যায় গুরু এবং শিষ্যের সম্পর্ক নিয়ে। সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ বললেন- ‘গুরু যোগ্য ভক্তের চক্ষু, কর্ণে, জিহবায় এসে বসেন। ভক্ত কে দর্শন করেন। ভক্তকে দর্শন করে চলে যান। সম্পর্ক হলে আর কিছু লাগে না’। তিনি আরো বললেন- ‘যোগ্য ভক্তের সাথে গুরুর এই চোখাচোখি, অনুরাগ কোনদিন কোন কালে শেষ হয়না। ইন অল আসপেক্ট-এ ভক্ত গুরুকে পান’।

সম্পর্ক নামক শব্দটি দিয়ে সম্পর্ক বুঝা যায় না। সম ভাব, সম ক্ষেপণ, সম চিন্তন, স্পন্দন, মানকেই নির্দেশ করে। এতে গুরুর গুরুত্ব কমে যায় না। প্রকৃত ভক্ত জানেন গুরু সব সময় গুরুই। তবু সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ বললেন- গুরু যোগ্য ভক্তকে এগিয়ে দিয়ে আনন্দ পান। সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ একটি সফরের কথা উল্লেখ করে বললেন- ‘লম্বা সফর, আমি ড্রাইভ করছিলাম আর সূফী সাধক আনোয়ারুল হক পাশের সীটে। নানান আলাপ চারিতা। আমরা তখন রাম-লক্ষণ দুই ভাই।’  সাধনার জগতে গুরু শিষ্যের সম্পর্ক কোন নিক্তি, কোন ভিত্তি, কখন কোন রঙে, রূপে রূপলাভ করে, করতে পারে মহান সাধকের এই একটি কথার মধ্যে দিয়ে কিছুটা হলে উপলব্ধি করার সুযোগ করে দেয় আমাদেরকে।

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন – মাঝে মাঝে তব দেখ পাই, চিরদিন কেন পায় না’। এই কথাটি এখানে খাটে না। প্রকৃত ভক্ত সব সময় গুরুর আলোয় থাকেন। লালন ফকির বললেন- গুরু শিষ্যের এমনি ধারা চাঁদের কোলে থাকে তারা/ চাঁদের গায়ে চাঁদ আছে ঢাকা/ চাঁদ হতে হয় চাঁদের সৃষ্টি।’ জন্ম এবং সৃষ্টির মধ্যে যে বিশাল বিরাট পার্থক্য। সীমাহীন দূরত্ব, তা তো সাধক সান্নিধ্যে এসে জানা গেল। সাধনপীঠে এই মানুষই সৃজনশীল মানুষ হয়ে উঠেন। নব অনুরাগে নব জন্ম। এটিকেই সৃষ্টি বলা হচ্ছে। যিনি সৃষ্টি কর্মটি করছেন ভক্তের কাছে তিনিই স্রষ্টা।

সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ বললেন- ‘প্রতিটি পরিবর্তনেই প্রাপ্তির সৌন্দর্য। হাক্কানী থট কে এগিয়ে নিতেই কাজ করা হচ্ছে। এখানে পীর মুরিদ সিষ্টেম নেই।’

মহান সাধক বললেন- যে যা নিয়ে এসেছে তাই ফেরত পাবে। মহান সাধকের এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ  দিকনির্দেশনাটি উপলব্ধি করতে হবে। তিনি গভীর একটি উপলব্ধির দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছেন।

তিনি অনত্র বললেন – দরবার উন্মুক্ত, যতটুকু করবেন ততটুকুই পাবেন। ভক্ত তার চারপাশে যেখানে যতদূর দেখবেন সবই গুরু গুরুময়। গুরুর জগতই দেখতে পান। নিজেকে আবিস্কার করেন গুরু সাগরে। ধৈর্য নামক অলংকার পরে, গুরু রঙে রঞ্জিত হয়ে উঠেন। সেখানেই অহংকার হলো আত্মমর্যাদা। মর্যাদা একটি বোধ।

সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ বললেন- আমিত্ব থাকবেই। আমিত্ব থাকা দোষের নয়, লক্ষ্যের ব্যাপারে একরৈখিক কিনা এটিই দেখার বিষয়।