সরাইলে অগ্রহায়ণ ১৪২৭ উদযাপন

অগ্রহায়ণ মাস থেকে বাংলার আর্থিক বছর চালুর আহবান

সংলাপ॥ ভাষা সংগ্রামী ও মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক অধ্যক্ষ শেখ আবু হামেদ এঁর অগ্রহায়ণী কবিতা থেকে পাঠ ও আলোচনা ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ সন্ধ্যায় সরাইলের কালীকচ্ছের শেখাবাদ ভবনের অধ্যক্ষ শেখ আবু হামেদ গণগ্রন্থাগারে অনুষ্টিত হয়। অনুষ্ঠানে তাঁর ‘অগ্রহায়ণ আবার হোক বাঙালির নতুন বছর’ এই কবিতায় উৎসারিত বক্তব্যের আলোকে অগ্রহায়ণ মাস থেকে দেশের আর্থিক বছর চালুর দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বলা হয়, প্রাচীনকালে বাঙালির প্রথম মাস অগ্রহায়ণই ছিল। মোগল সম্রাট আকবরের আমলে ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সুবিধার্থে বৈশাখ মাসকে প্রথম মাস এবং ইংরেজ আমলে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত অর্থ বছর চালু হয়েছিল। বাঙালির অর্থনৈতিক অবস্থাকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও প্রকৃতি-পরিবেশের ভিত্তিতে জোরদারের লক্ষ্যে অগ্রহায়ণ মাসের গুরুত্ব ও মর্যাদা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার আহবান জানানো হয়। সরাইল ইতিহাস পরিষদের উদ্যোগে এবং সংগঠনের সভাপতি শাহ শেখ মজলিশ ফুয়াদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সরাইল সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মৃধা আহমাদুল কামাল। শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী মোঃ আশরাফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও সরাইল কলেজের দ্বিতীয় ব্যাচের কৃতী ছাত্র ফজলুল হক মৃধা, আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মুজিবুর রহমান, শাহবাজপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ঠাকুর মেজবাহউদ্দিন মিজান, আবু আহমেদ মৃধা ও মাসিক সূর্যশপথ পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক কবি আবুল কাশেম তালুকদার। আলোচনায় অংশ নেন ইসলামপুর কাজী শফিকুল শফিকুল ইসলাম কলেজের সহকারী অধ্যাপক আহমেদুর রহমান বিনকাশ, ইতিহাস পরিষদের সহসভাপতি ও অরুয়াইল আবদুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান কাওসার আলম বাবুল। বাংলার অগ্রহায়ণের ওপর স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন ফজলুল হক মৃধা। হেমন্তকালের ওপর লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন তোবারক হোসেন। অধ্যক্ষ শেখ আবু হামেদ এঁর ‘আমি এক নতুন অগ্রহায়ণ চাই’ কবিতাটি  আবৃত্তি করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নেতা  মোঃ শরীফ উদ্দিন এবং স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন বিশিষ্ট সংস্কৃতিকর্মী খোকন সেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শেখ মোতাহের হোসেন, বেনু চন্দ্র দেব, অ্যাডভোকেট নূরে আলম মৃধা, মোঃ মোশারারফ হোসেন, মোশতাক আহমদ টিটু ও কাজী ওয়াজউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুস্ট ও সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ ও সাপ্তাহিক বর্তমান কর্তৃক ‘অগ্রহায়ণ মাসকে বছরের মাস ধরে হাক্কানী বর্ষ-১০ উপলক্ষে প্রকাশিত ক্যালেন্ডারের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। 

অধ্যক্ষ মৃধা আহমাদুল কামাল তার বক্তৃতা অধ্যক্ষ শেখ আবু হামেদ কর্তৃক ১৩৫৮ বঙ্গাব্দে (১৯৫১ খ্রীষ্টাব্দ) নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রে লেখা ‘হে আজাদী’ কবিতা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, স্যার আজীবন আপাদমস্তক দেশীয় সংস্কৃতির ধারক-বাহক ছিলেন এবং নিজস্ব সংস্কৃতিকে লালন করে গেছেন। তিনি অগ্রহায়ণ মাস থেকে দেশের নতুন আর্থিক বছর চালু করার দাবি জানান। ঠাকুর মেজবাহউদ্দিন এই দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেন। আবুল কাশেম তালুকদার বলেন, অধ্যক্ষ শেখ আবু হামেদ স্যার ছিলেন একজন মহাসাধক, শিশুর মতো সরলপ্রাণের মানুষ কিন্তু অত্যন্ত সাহসী। কাওছার আলম বাবুল কবিতার মাধ্যমে ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িক উগ্রতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানান।  অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে অতিথিদের আপ্যায়নে অগ্রহায়ণ মাসের পিঠা পরিবেশন করা হয়।