সময়ের সাফ কথা…. দেশপ্রেমে স্বঘোষিত দেশপ্রেমিক!

নজরুল ইশতিয়াক ॥ পরিচিত মুখগুলো সুযোগ পেলেই দেশপ্রেমের গভীর থেকে গভীর অভিব্যপ্তি আর কঠিন দায়িত্বশীলতা প্রমাণ করতে চিৎকার চেঁচামেচিতে ভারি করে বাংলার আকাশ বাতাস। মনে হয় দেশপ্রেমের ইজারাদাররা জনগণকে পরামর্শের পর পরামর্শ দেয়ার স্বঘোষিত দায়িত্ব পালনের জন্য জীবন উৎসর্গ করছেন। কি চমৎকার তাদের যুক্তি আর অসহায়ত্ব? একটি রাজনৈতিক দল আরেকটি দলকে, একটি লুটেরাগোষ্ঠী আরেকটি  লুটেরাগোষ্ঠীকে, একটি সুশীল গোষ্ঠী আরেকটি পক্ষকে দেশপ্রেমের কাল্পনিক অস্ত্র দিয়ে ঘায়েল করতে সদা সচেষ্ট। বহুমাত্রিক ফর্মুলা আর বহুধা বিভক্ত মিথ্যাচারের আর্বতে দেশপ্রেম শব্দটির অস্তিত্ব বিপন্নপ্রায়। আগে তো জানা দরকার দেশ কি, তারপর দেশ প্রেম। দেশ কি, কি তার চরিত্র, বৈশিষ্ট আর বিদ্যমান অবস্থা; অপর দিকে প্রেম কিভাবে কেন কোন গোপন আকাঙ্খা থেকে জাগ্রত হলো এসবই নানামুখি বিশ্লেষণের বিষয়। সঙ্গত কারণে প্রশ্ন উত্থাপিত হবে দেশপ্রেম এবং দেশপ্রেমিক বলতে আমরা কাদেরকে বুঝবো। দেশপ্রেমের সংজ্ঞা কি? কার কাছে দেশ কিভাবে ধরা দেয়? কে কিভাবে দেশকে ধারণ করে কোন পথে নিয়ে যেতে চায়? দেশ পরিচালনার নিক্তি কি হবে আর তার দার্শনিক অস্তিত্বই বা কি হবে? কোন ভূখন্ডে দেশপ্রেমের কোন ভুমিকা পালন করতে হবে? চিন্তায় দেশপ্রেম আর কর্মে তার প্রতিফলনের দৌঁড়ে কোন কোন শ্রেণীর অবদান কতটুকু? কোন কোন শর্তপূরণ হলে একজন ব্যক্তিকে দেশপ্রেমিক বলা যাবে এবং কোন ফ্রেমের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে একটি সংগঠনকে দেশপ্রেমিক সংগঠন বলা হবে। না কি যা ইচ্ছা তাই করার নাম দেশপ্রেম! যা ইচ্ছা তাই বলার নাম বাক স্বাধীনতা!  লক্ষ্য প্রাণের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সব সুন্দর সত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার খলনায়ক-খলনায়িকাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব শিক্ষা সংস্কৃতি রুচি-অভিরুচি মান মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনকারীদেরকে আমরা কিভাবে দেখবো? মিথ্যাচার ষড়যন্ত্র সন্ত্রাসকে পুঁজি করে রাজনীতির নামে দেশপ্রেমের সওদাকারী বণিকদের জবরদস্তির জবাব কি হতে পারে? জনগণের সেবা করার নামে দাপ্তরিক ক্ষমতার সুযোগে নিজেদের অধিকতর ক্ষমতাবান আর ধনবান করার নাম কি দেশপ্রেম? দেশপ্রেমের পরীক্ষায় কার অবদান কতটুকু এটি নির্ণয় করা জরুরী হয়ে পড়েছে। রাজনীতি অঙ্গনে, পেশাজীবি অঙ্গনে, শিক্ষিত অঙ্গনে, ব্যবসায়ী অঙ্গনে নিখাদ দেশপ্রেমিকের সংখ্যা নির্ধারণ তাদের অবদানের মা নিরুপণ সময়ের দাবীতে পরিণত হয়েছে।

ইতিহাস সাক্ষী দেয় দেশপ্রেমের সকল পরীক্ষায় সাধারন মানুষের অবদান অসামান্য। তাদের ত্যাগ সংযমের হাজারো সত্য উদাহরণ দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। তারা দেশের প্রশ্নে জাতির প্রশ্নে দেশমাতৃকার মান সম্মান মর্যাদার প্রশ্নে কোন আপোষ করেননি। প্রত্যাশাহীনভাবে ব্যক্তি স্বার্থের উর্দ্ধে দেশকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। দেশের উন্নয়নে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে জীবন বাজি রেখে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করেছেন করছেন। সাধারণ মানুষের কোন প্রত্যাশা নেই। গণমাধ্যম পরিচিতি কিংবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের গোপন বাসনা থেকেও তারা এটি করেননি। জাতিকে বিভ্রান্ত করে ষড়যন্ত্রের পথ ধরে যাওয়ার অপকর্র্মটিতেও তারা নেই। উৎপাদনের সব পর্যায়ে বিদেশী রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সাধারণ মানুষই দিনরাত কাজ করছে। কৃষি উৎপাদনে, গার্মেন্টস প্রসারে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থই আমাদের অর্থনীতি।

সাধারণ মানুষ কি চায় কতটুকু চায়। বারবার মিথ্যা আশ্বাস প্রতিশ্রুতির পর সাধারণ মানুষ দেশের সংকটে জীবনবাজী রেখে মাঠে নামে। শত ভয় শংকা উপেক্ষা করে নির্বাচনকে আনন্দ উৎসবে পরিণত করে। ঘাতক রাজনীতিকদের ডাকা হরতাল অবরোধকে প্রত্যাখান করে। বাজারে পন্য সরবরাহ নিশ্চিত রাখে। উৎপাদনের চাকা সচল রাখে। বন্যায়-খরায়-দুর্যোগে-দূর্বিপাকে শক্ত হাতে ফসল ফলায়। কারণ তারা জানে দেশের মানুষকে খেয়ে পরে বাঁচানোর মহৎ কর্মটি তাদের হাতে।

গার্মেন্টস এর মালিকদের পরিস্কার শোষণের পরও  সাধারন মানুষ আনন্দের সাথে কাজ চালিয়ে যায়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে গার্মেন্টস কর্মীদের বিপুল সংখ্যক নারী বেড়ে উঠার প্রথম অধ্যায়ে জীবনের সাথে নান্দনিক সূচ শিল্পের যোগ ঘটিয়েছিল। তাদের সেই যোগ তাদের মননকে সংযত রাখে দারুন মুগ্ধতায় ও শ্রদ্ধায়। সূচের নিখুঁত নান্দনিকতায় গড়ে উঠা মনন ধৈর্য্যশীলতার প্রমাণ দেয়। উল্লেখ করার মত কোনরূপ সরকারী সহায়তা না পাবার পর দিনরাত পরিশ্রম করে প্রবাসীরা দারুন দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।

৫২ ’তে প্রাণ উৎসর্গকৃত সালাম জব্বার রফিক ছিলেন সাধারণ মানুষ। ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক  কোন প্রত্যাশা প্রাপ্তির আশায় প্রাণ উৎসর্গ করেনি তারা। পাকিস্তান বিরোধী সব আন্দোলন সংগ্রামে যারা প্রাণ দিয়েছেন তারা সবই ছিলেন সাধারণ মানুষ। পাকিদের ক্ষমতার মসনদ বারবার কেঁপে উঠেছে বাংলার সাধারণ মানুষের প্রকম্পিত শ্লোগানে।  ৭১’এ ৩০ লক্ষ শহীদের মধ্যে ৯৯ ভাগ সাধারণ মানুষ; কৃষক শ্রমিক ছাত্র জনতা মেহনতী মানুষ। ২ লক্ষ মা বোন যারা সম্ভ্রম হারিয়েছেন তাদের একশভাগই সাধারণ মানুষ। এসব সাধারণ মানুষতো ব্যক্তিগত প্রত্যাশা প্রাপ্তির উদ্দেশ্য থেকে জীবন দান করেননি। তাদের এসব ত্যাগের পথ ধরেই এসেছে দেশের স্বাধীনতা। স্বাধীনতা পরবর্তীতে সমস্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রাণ উৎসর্গকারী মানুষ তো সাধারণ। বার্ণ ইউনিটে পোড়া প্রাণগুলোর পরিচয় হচ্ছে রাজনীতির বাইরে থাকা সাধারণ পরিশ্রমী মানুষ।

নানা সময়ে রাজনীতিকরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, বিভাজিত করেছে নিজেদের গোষ্ঠীগত স্বার্থে। ঈমানি পরিক্ষার কাল্পনিক ফতোয়া দিয়ে, দারিদ্রতা বিমোচনের নামে, ভিন্ন পথে ধনী ক্ষমতাবান করার নামে তারা এসব করেছে। কাল্পনিক বহুদলীয় গণতন্ত্র সমাজতন্ত্রের নামে তো শিক্ষিত রাজনীতিক কুশিলবরাই এসব করেছে। অথচ বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তার সময় কোন রাজনীতিই ছিল না এদেশে। সেখানে বহু দল কিংবা বহুদলীয় মিথ্যাচারের শক্তিশালী বাণে কত বড় মিথ্যাচারকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে!! প্রকৃত বিচারে সেটি ছিল বহুদেশীয় ষড়যন্ত্রের ভয়াবহ মিথ্যাচারের সময়।

মুক্তিযুদ্ধের লাল টকটকে রক্ত না শুকাতেই কিভাবে রাজনীতির নামে স্বশস্ত্র প্রক্রিয়ায় সমাজ বিপ্লব কিংবা তথাকথিত বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে রাতারাতি শহীদদের রক্তের দাগ মুছে দেয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। অসহায় অবস্থায় ফেলে দেয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে। এর দায়তো রাজনীতিকদের। সুষ্পষ্টভাবেই দেখানো সম্ভব সমাজতন্ত্রের ফাটকে আটকে পড়া অবাস্তব নেতাদের দেশপ্রেমের কাল্পনিক চিত্রটি। বাংলায় বাস করে বাংলার আকাশে বাতাস জল মাটিতে থেকে বাংলাকে অস্বীকার করার প্রতিফল সেসব দেশপ্রেমিকের গলায় জুটেছে। লোভ হিংসা ষড়যন্ত্রের দোষে দুষ্টু রাজনীতি কিভাবে ক্ষত বিক্ষত করেছে বাংলার মানুষকে তা কারো অজানা থাকবার কথা নয়।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামলীগ বামপনি’ দলগুলোর সফলতার চিত্রটি কতটা সমৃদ্ধ? ব্যর্থতার পাল্লাটা কতটা ভারি এসবই আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। রাজনৈতিক দলে থাকার সুযোগে নেতৃস্থানীয় পর্যায়ের কতজন নেতা লুটপাট করেছেন, নামে বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন আর বিদেশে টাকা পাচার করেছেন তার পরিসংখ্যান চিত্রটি কেমন হতে পারে। রাজনীতি করে ধণিক বনিক হয়েছেন কতজন? আর নির্মোহ নিখাদ দেশপ্রেমিক রাজনীতিক কতজন? ’৭২ সালের ৭০০ কোটি টাকার বাজেট তো এখন তিন লক্ষ কোটি টাকায় উপনীত হয়েছে। তারপরও কেন পুরোপুরি দারিদ্রতাকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হল না তার দায় কি রাজনৈতিক দলগুলো এড়াতে পারবে? কেন দেশের সব জায়াগায় বিদ্যূতের আলো সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হল না?

রাজনীতিতে মিথ্যাচারের জন্য কি সাধারণ মানুষ দায়ী? ধর্ম দারিদ্র শিক্ষার নামে মিথ্যাচারের রাজনীতি যারা প্রণয়ন করেন তারা সাধারণ মানুষ নন। সাধারণ কর্মী সর্মথকও নন। ধর্মভীরু মানুষদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার কৌশল প্রণয়নে ব্যস্ত ধর্মজীবিরা বিপুল ধন সম্পদের অধিকারী। নানা পদ পদবীর খেতাবে ন্যুব্জ। এরা নিজেদেরকে অসাধারণ গণ্যমান্য পদবিতে পরিচয় দেন। এসব নামি দামী স্বরচিত ধর্ম প্রবক্তা পন্ডিতদের এত এত ফতোয়ার ফলে শান্তির ধর্ম ইসলামকে দাঁড় করানো হয়েছে দেশপ্রেমের বিপরীতে।

বড় বড় ডিগ্রী নিয়ে বিশেষ বিশেষ পদ পদবী নিয়ে অসন্তুষ্ট পেশাজীবিদের দেশপ্রেমের চিত্রটি খুবই ভয়াবহ। যত নষ্টের গোড়াতো তথাকথিত শিক্ষিত ব্যক্তিরা যারা ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীস্বার্থে অন্ধ। সরকারী বেসরকারী সুযোগ সুবিধা পেতে ভিক্ষাবৃত্তির মতই করুন প্রানিপাত নিত্য দিনের চিত্র। বিদেশী এজেন্টদের অর্থে বিমূর্ত ধারণা তৈরী, বিভাজনের সুক্ষ্ণ ফাঁদ সৃষ্টি আর ক্ষুধার্তদের মুখে লজেন্স পুরে ঘুমপাড়ানী গান শোনানোর ভয়ানক অমানবিকতা তাদের কাজ। এটা কোন কোন শিক্ষিত ভদ্রলোকের চাকুরী। বিদেশ থেকে ডলার আসে আর সেই ডলারের নেশায় মাতাল উন্মাদ সেসব সুশীল। কথায় কথায় সুযোগ বৃদ্ধির নামে যা ইচ্ছা তাই করা হয়। টিভি টকশোতে সেমিনার সিম্পোজিয়ামে তাদের দেশপ্রেমের আওয়াজের নেপথ্যে রয়েছে লোভনীয় প্রণোদনা প্যাকেজ ।

সব প্রকৌশল সেক্টরে লুটপাট ঘুষ ওপেন সিক্রেট। বিচারাঙ্গনে কালো পোষাকধারীদের দাম্ভিকতা কোন দেশপ্রেমকে তুলে ধরে? বিচারহীন ব্যক্তি সংস্কৃতির জন্য কি সাধারণ মানুষ দায়ী? আইন শাসন শোষণ সবইতো শিক্ষিত উচ্চ ক্ষমতাধরদের হাতে বন্দি। তাহলে তারা কেন বলেন কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি? স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া যায়নি, দারিদ্র বিমোচন শিক্ষা স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হয়নি আজও। দোষ কি সাধারণ মানুষের?

সভাসমিতি সেমিনার সিম্পোজিয়ামে সমগ্র জনগণকে নানা শ্রেণীতে আখ্যায়িত করা হয়। সরকারী বেসরকারী পর্যায়ে কর্মসূচী প্রণয়নের ক্ষেত্রে লক্ষ্য ফলাফল নির্ধারন, উপকারভোগী কোন শ্রেণীর হবে সেটির সুষ্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকে। কথায় কথায় সাধারণ তৃণমূল প্রান্তিক জনগণের জীবন মান উন্নয়নের ছবক দেয়া হয় এবং বলা হয় সবই করা হচ্ছে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য। ক্ষুদ্রঋন, কুটির শিল্প ঋণ, গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য মৌলিক সেবা সবই অভীন্ন লক্ষ্য থেকেই সরকারী ও বেসরকারী সংস্থাগুলো পরিচালনা করে আসছে। তাহলে কেন একটি অভিন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা গেল না।

সাধারণ মানুষ সত্যের পক্ষে শিক্ষিত সুশীল কুশিলবরা জটিলতা কুটিলতা ষড়যন্ত্র মিথ্যাচার অহংকার দাম্ভিকতা ভোগবিলাসীতার পক্ষে। খ্যাতিমান মর্যাদা ক্ষমতার পক্ষে তাদের অবস্থান। শিক্ষাবাণিজ্য, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, আবাসন বাণিজ্য, ক্ষমতা বাণিজ্য, শ্রম বাণিজ্য সবই তথাকথিত শিক্ষিত আধুনিক ভদ্রবেশি সুশীল সজ্জনদের কর্ম।

এত এত শিক্ষিত রাজনীতিক এত এত শিক্ষিত সুশীল বুদ্ধিজীবি অধ্যাপক পন্ডিত প্রকৌশলী, আইনজীবি ডাক্তার সাংবাদিকের দেশে কেন বৈষম্য থাকবে? পুরো দেশটির দিকে তাকালে যে কেউ চেনা মূখগুলোর দেশপ্রেমের অন্তসারশূন্য ফাকা আওয়াজকে চিহ্নিত করতে পারবেন। একদিকে শিক্ষিত লুটেরা ধনিক বণিক ধান্দাবাজ শ্রেণী অন্য দিকে নিরাপরাধ সহজ সরল সাধারন মানুষ। এখানে দেশপ্রেমের পরিচয় কিভাবে দেবে? পুরো দেশে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নিরাপত্তাহীনতার বিষবাষ্প ছড়ানোর দায় কি সাধারণ মানুষের? যেখানে শিক্ষিত রাজনীতিক সুশীল আমলারা নিরাপত্তাহীনতায় উদ্বিগ্ন সেই দেশের অজপাড়া গায়ে আজও টিনের ঘরে, চাটাইয়ের ঘরে, খোলা দরজার ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমায় সাধারণ মানুষ। প্রতিটি শিক্ষিত রাজনীতিক সুশীল আমলা পেশাজীবির সুরম্য প্রাসাদে অস্ত্রধারী প্রহরী পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা। নিরপত্তাহীনতায় উদ্বিগ্ন ধনিক বনিক শ্রেণী। যার দায় শিক্ষিত পেশাজীবি রাজনীতিক মহলের। যারা স্বঘোষিত দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে তৎপর!