বিশুদ্ধ অন্তঃকরণপ্রাপ্তদের জন্যই সালাত

সংলাপ ॥ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উদযাপনে কুরআনিক মুসলিম ও আমি’ এ বিষয়ে মুক্ত আলোচনায় বলা হয়, সার্বক্ষণিকভাবে স্মরণ ও সংযোগের মাধ্যমে যাঁরা সালাত করেন তাঁরাই কুরআনিক মুসলিম। বিশুদ্ধ অন্তঃকরণপ্রাপ্তদেরই এই সালাত হয়। এটা দায়েমি সালাত। সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত মিরপুর আস্তানা শরীফের জ্যোতিভবনে’র আনোয়ারুল হক মিলানায়তনে গত ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ সংলাপ-এর নির্বাহী সম্পাদক শাহ্ ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আলন, বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ)-এর সহ-সভাপতি শাহ্ শেখ মজলিশ ফুয়াদ, বাহাখাশ মহাসচিব শাহ্ খায়রুল মোস্তফা, কোষাধ্যক্ষ শাহ্ শহীদুল আলম, কুরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র-এর নির্বাহী সদস্য মো. আচমত উল্লাহ স্যার, সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ পরিচালনা পর্ষদ সদস্য নজরুল ইশতিয়াক এবং বাহাখাশ যুগ্মসচিব মো. আব্দুল ওয়াহেদ।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে শাহ্ ড. আলাউদ্দিন আলন বলেন, মান আরাফাহ নাফসাহু , ফাকাদ আরাফাহ রাব্বাহু’ বা নো দাইসেল্ফ’ বা নিজকে জানো’- এই আত্মপরিচয় ও আত্মদর্শনের মধ্য দিয়ে আধ্যাত্মিক ভাব জাগ্রত হলেই কেবল একজনের মধ্যে কুরআনিক চেতনা জাগ্রত হয়। সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ- এঁর কাছ থেকে যা পেয়েছি সেটিই বাঙ্গময় কুরআন। গুরু/মোর্শেদের কাছ থেকে আদেশ-উপদেশ-নিষেধ হিসেবে যা এসেছে সেটিই আমাদের জন্য কুরআন। আত্মতত্ত্বভেদে যার জাগরণ হয়েছে সেই কুরআনিক মুসলিম হওয়ার পথে যাত্রা করতে পেরেছে। গুরু/মোর্শেদের চরিত্রে যিনি চরিত্রবান হয়েছেন, কুরআনিক চেতনায় যিনি জাগ্রত হতে পেরেছেন বা যিনি জাগ্রত হয়েছেন তিনিই কুরআনিক মুসলিম। অনুকরণে আদর্শ ধারণ করা যায় না, আদর্শ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ধারণ-পালন-লালনের মাধ্যমে মুসলিম হতে হয়। কুরআনিক মুসলিম হওয়ার জায়গাটা বাহ্যিকতা দিয়ে বিচার করা যায় না, যার প্রবণতা এখন সর্বত্র দেখা যাচ্ছে। নিজের মধ্যে নূরে মোহাম্মদীর পবিত্র সত্ত্বাকে জাগ্রত করাই কুরআনিক মুসলিম হওয়ার উপায় এবং এই সত্ত্বা যখন যার মধ্যে জাগ্রত হয় তখনই তার মিলাদুন্নবী হয়। গুরু/মোর্শেদের মাধ্যমেই কেবল এই ভাব জাগ্রত হতে পারে।

শাহ্ শেখ মজলিশ ফুয়াদ বলেন, কুরআনিক মুসলিম’- এ শব্দ দুটো আমি মহান সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ- এঁর কাছে এসেই প্রথম শুনেছি। দীর্ঘ পনেরটি বছর এই দরবারে আসার সুযোগ ও সৌভাগ্যের মধ্য দিয়ে আমি দেখেছি, মহান সূফী সাধক তাঁর কাছে আগত মানুষদেরকে কুরআনিক মুসলিম হিসেবে যোগ্য করে তোলার জন্য কী চেষ্টাই না উনি করেছেন।  উনার যত কর্মযজ্ঞ তার সবকিছুরই লক্ষ্য ছিল মানুষকে শান্তি ও সত্যের পথে আহবান এবং কর্ম-মানবতা-শান্তি ও মানবতা ও মানবধর্মের পথের আদর্শকে উর্ধ্বে তুলে ধরা। মানবতা-মানবধর্মের প্রকৃত অনুসারীরাই কেবল কুরআনিক মুসলিম হওয়ার পথের যাত্রী হতে পারেন।     

শাহ্ খায়রুল মোস্তফা বলেন, সত্যমানুষ হওয়া ছাড়া কেউ কুরআনিক মুসলিম হতে পারে না। সাধক বলেছেন, সত্যমানুষ হওয়া ছাড়া কেউ কুরআনিক মুসলিম হতে পারে না। সত্যমানুষ হোন, দেশ ও জাতির কল্যাণ হবেই হবে।’ মহান সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ- এঁর এই বাণী অনুসরণ ও অনুস্মরণ করতে পারলেই কেবল আমরা কুরআনিক মুসলিম হতে পারবো। 

শাহ্ শহীদুল আলম বলেন, কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’ আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, কুকুর হিসেবে জন্ম নিয়ে একটি প্রাণী সব সময় কুকুরই থাকে, বাঘ হিসেবে জন্ম নিয়ে একটি প্রাণী সারাজীবন বাঘই থাকে। কিন্তু মানুষ হয়ে জন্ম নেয়ার পর থেকে সে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ইত্যাদি বিভিন্ন পরিচয়ে সে পরিচিত হতে থাকে-এখানেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে আদমকে অর্থাৎ, মানুষকে সেজদা করতে বলেছিলেন। কারণ, মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি। এই প্রতিনিধি হিসেবে আল্লাহর গুণাবলী অর্জন করতে পারলেই কুরআনিক মুসলিম হওয়া যায়। মুসলিম অর্থই সমর্পিত হওয়া। কতটুকু মুসলিম হতে পেরেছি সে কথা তো আল্লাহই বলতে পারেন। আমি আল্লাহর কাছে কতটুকু সমর্পিত হতে পেরেছি সেটিই বড় কথা।

মো. আচমত উল্লাহ স্যার পবিত্র কুরআনের আলোকে বিষয়বস্তুর ওপর বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরে বলেন, মানবজাতির শুরু থেকে যত মহামানুষ বা সত্যামানুষ এসেছেন তারা শান্তির বার্তা অর্থাৎ ইসলাম নিয়ে এসেছেন। ইসলামের এক অর্থ শান্তি, আর এক মহান প্রভুর নিকট আত্মসমর্পণ। আর যে মানব সমাজ ও জগতে শান্তি স্থাপন করে, নিজে শান্ত হয়ে মহান প্রভুর নিকট আত্মসমর্পণ করেছেন সে-ই মুসলিম। 

পবিত্র কুরআন থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন-

১. ওয়ালা তামুতুন্না আনতুম মুসলিমুন’ অর্থ-তুমি মুসলিম না হয়ে মরিও না। আমার চিন্তন অনুযায়ী এর অর্থ হচ্ছে, মহান প্রভুর নিকট সম্পূর্ণ সমর্পণ ও তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী জীবন-যাপন করে তাঁর কাছে হাজির হওয়া। আর হাজির তো হতেই হবে। কারণ, কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে, তুমি আল্লাহ্র কাছ থেকে এসেছ এবং আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবে।’

২. ইয়া আয়াতুহান্নাফসুল মুতমাইন্নাতুরজি ইলা রাব্বি¦কা রাজিয়াতাম মারজিয়া, ফাদখুলি ফি ইবাদি, ওয়াদ খুলি ফি জান্নাতি, অর্থ- হে শান্ত বা শান্তিপ্রাপ্ত আত্ম¦, তোমার প্রভুর দিকে আস, যিনি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট এবং তুমিও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। তুমি আমার বান্দায় পরিণত হও (অর্থাৎ, খাঁটি মুসলিম হও) এবং জান্নাতে তথা আনন্দলোকে প্রবেশ কর।

৩. ইয়াওমা লা ইয়ানফাও সালু ওয়াবানুনা। ইল্লা মান আতাআল্লাহু বি কালবিল সালিম, অর্থ- সেদিন তোমার ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজেই আসবে না। সেদিন উপকৃত হবে কেবলই সে, যে আল্লাহর নিকট আসবে বিশুদ্ধ অন্তকরণ নিয়ে।’ 

ইসলামিক পরিভাষায় নাফস তিন প্রকার-নাফসি আম্মারা, নাফসি লাওয়ামা ও নাফসিমুতমাইন্না। নাফসি আম্মারা হচ্ছে পাপে নিমজ্জিত আত্মা, নাফসি লাওয়ামা-সংশোধন ইচ্ছুক আত্মা, আর নাফসি মুতমাইন্না হচ্ছে সব কলুষমুক্ত, শান্তিপ্রাপ্ত ও প্রশান্ত আত্মা। আর কালবিল সালিম হচ্ছে বিশুদ্ধ অন্তকরণ। অতএব সেই কুরআনিক মুসলিম যে শান্তিপ্রাপ্ত হয়েছেন বা প্রশান্ত আত্মা অর্জন করেছেন এবং বিশুদ্ধ অন্তকরণ প্রাপ্ত হয়েছে।

৪. সুরা বাকারার ১৭৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে – পূর্ব অথবা পশ্চিমে মুখ ফিরাইয়া লাভ নাই। বরং কল্যাণ রহিয়াছে ঈমান ও সৎ আমল ইত্যাদি অভ্যাসের দ্বারা নফসের আমিত্ব বিসর্জন দিয়ে উহাকে পরিশুদ্ধ করে তোলার মধ্যে।

৫. আর একটি আয়াত-ক্কাদ আফলাহা মান তাজাক্কা ওয়া জাকারাসমা রাব্বুকা ফাছাল্লি, অর্থ- নিশ্চয়ই সে ব্যক্তি কল্যাণপ্রাপ্ত হয়েছে যে নিজেকে পবিত্র করেছে এবং তার রবের সংযোগ ও স্মরণে এসেছে, অতএব সে করল সালাত। অর্থাৎ সালাত হবে তখনই যখন নিজেকে পবিত্র করবে এবং রবের সংযোগ ও স্মরণ করবে। এখানে ওঠা-বসার সালাতের কথা বলা হয়নি।

৬. কুরআনে অন্যত্র আল্লাহ্ বলেন – বল, আমার জীবন, আমার মিলন, আমার বিচ্ছিন্নতা সবই রাব্বুল আলামিনের জন্য।

৭. সুরা মারিজ আয়াত নম্বর ২৩ এ বর্ণিত – আল্লাজিনাহুম আলা সালাতিহিম দায়েমুনা, অর্থ-যারা সদা-সর্বদা, সার্বক্ষণিক সব সময়, সালাতের ওপর কায়েম থাকেন।

৮.সুরা নিসার ১০৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে যখন তোমরা সালাতের পরিপূর্ণ সুফল অর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর তখন আল্লাহ্কে স্মরণ কর দাঁড়িয়ে, বসে এবং তোমাদের পার্শ্বের অবস্থায়। এই আয়াতের ব্যাখ্যা হচ্ছে, মানুষ জীবনে তিনটি অবস্থার বাইরে যেতে পারে না – দাঁড়িয়ে থাকা, বসে থাকা, শুয়ে থাকা। বলা হয়েছে, তিন অবস্থায় সালাত কায়েম করতে। একটু চিন্তা করলেই বুঝা যায়, এটি ওঠা, বসা ও সেজদার নামাজ নয়। এটি সার্বক্ষণিক স্মরণ ও সংযোগের অর্থাৎ, দায়েমী সালাতের নির্দেশ যা সুরা মারিজের ২৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে। আর যারা দায়েমী সালাত কায়েম করেছে তারাই কুরআনিক মুসলিম।

৯. সুরা রাদ-এর ২৮নং আয়াতের অর্থ যারা বিশ্বাসী আল্লাহর স্মরণেই তাঁদের হৃদয় শান্তিপ্রাপ্ত হয় এবং আল্লাহর স্মরণই শুধু হৃদয়ের শান্তি।’ সারা দুনিয়ার মানুষ হন্যে হয়ে শান্তি খুঁজছে। আল্লাহ্ বলেন, আমার স্মরণ ও সংযোগেই শুধু শান্তি পেতে পার।

১০. সুরা আনকাবুতের ২৫নং আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ’।

পবিত্র কুরআনে সালাতের সঙ্গে প্রায় সবখানেই যাকাতের কথা বলা হয়েছে। এই যাকাত কি বছর শেষে ২.৫% (আড়াই পারসেন্ট) টাকার যাকাত ? আরবি অভিধানে যাকাত অর্থ পবিত্রতা অর্জন করা। সেই পবিত্রতা দেহ, মন ও সম্পদের মনোজগতের সকল কলুষতা দূর করে পবিত্র হওয়া। সম্পদের যতটুকু প্রয়োজন তা রেখে সব আল্লাহর সৃষ্টি ও মানবকল্যাণে ব্যয় করা।

‘সিয়াম বা রোজা সমন্ধে নবীজী মোহাম্মদ (যাঁর কৃপা আমাদের ওপর বর্ষিত) বলেন, রিপুসমূহ নিয়ন্ত্রণ বা দমন না করে রোজা রাখা বেহুদা উপবাস মাত্র।’ তাই সাধক কবি নজরুল ইসলাম বলেন,

‘নামাজ রোজার শুধু ভং,

ইয়া ওয়া পড়ে সেজেছ সং,

ত্যাগ নাই তোর এক ছিদাম,

কাড়ি কাড়ি টাকা করে জড়ো,

ত্যাগের বেলায় জড়ো সড়ো,

তোর নামাজ রোজার কি আছে দাম

কিন্তু বাস্তব অবস্থাটা কি? সুরা আরাফের ১৭৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে – তাদের অন্তকরণ আছে যার দ্বারা তারা উপলব্ধি করে না। তাদের কর্ণ আছে তা দ্বারা তারা শুনতে পায় না। তাদের চোখ আছে তা দ্বারা তারা দেখতে পায় না। তারা চতুষ্পদ জন্তু বিশেষ, বরং তারা পথভ্রান্ত, ইহারাই হইল গাফেল, উপেক্ষা ও অলস।’

মাওলানা রুমী আল্লাহ প্রেমের পথিক হিসেবে কাউকে পাননি। মহাকবি ইকবাল কেবল মুশরিক দেখলেন, কুরআনিক মুসলিম পাননি। বাংলার সাধক কবি নজরুল আল্লাহ এত পরিপূর্ণ ঈমানদার মুসলমান পাননি। তাই ক্ষোভে-দুঃখে বলেন, আনোয়ার! আনোয়ার! যে বলে সে মুসলিম জিভ ধরে টানো তার, দুনিয়ার মুসলিম আজ পোষা জানোয়ার।’

প্রশ্ন হতে পারে কুরআনিক মুসলিম হতে হলে কি করতে হবে? এ বিষয়ে আমার চিন্তন জগতে যা এসেছে তা হচ্ছে কুনু মা’আস সাদেকীন’- সাদেকীনদের সাথী হও, অর্থাৎ সত্য মানুষের সাথী হও।’ আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে দাখেল হয়ে যাও।’ কিন্তু কীভাবে?

সারাজীবন পড়াশোনা করে বিরাট জ্ঞানী, ঝানু বক্তা হতে পারবেন, সবাইকে তর্কে হারিয়ে দিতে পারবেন, ধর্মের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বিরাট বিরাট পুস্তক লিখতে পারবেন, কিন্তু খাঁটি কুরআনিক মুসলিম হতে পারবেন কি?-নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করছি? উত্তরও তো নিজের কাছেই। শুধু বোঝা টেনেছি চিনির বলদের মতো।

প্রথম যেদিন মহান সত্যপুরুষ শেখ আবদুল হানিফ-এঁর সঙ্গে একান্তে দেখা করেছিলাম তখন তিনি হঠাৎ বলে উঠলেন ওয়াননেস উইথ ওয়ান, ওয়াননেস উইথ ট্রুথ’। জ্যোতির্ময়ের সেই বাক্যটির জ্যোতি আজও অন্তরে বহন করে চলেছি, যার কোনো অন্ত নেই।

প্রায়শ: সূফী সাধক আবু আলী আক্তারউদ্দিন, সূফী সাধক খাজা আনোয়ারুল হক এবং মহান সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর বাণীসমূহ পড়ার চেষ্টা করি। আমার উপলব্ধি- এই বাণীসমূহের মধ্যেই কুরআনের নির্যাস রয়েছে। এই বাণীসমূহ অনুসরণ করলে যে কারো পক্ষে কুরআনিক মুসলিম হওয়ার পথে সহায়ক হবে। 

পারস্য কবি হাফিজ বলেন হাফিজ! যদি তোমার প্রিয়ার মিলনের বাসনা থাকে তাহলে দিব্য দৃষ্টির অধিকারী গুরুর খানকার মাটি হয়ে যাও।’ মাওলানা রুমী বলেন, আমি মাওলানা রুমী কিছুই ছিলাম না, সবই গুরু শাম্স তাবিজের পায়ের ধুলার দান।’

কুরআনিক মুসলমান হতে হলে চেতন-গুরু মহান সত্য মানুষের আশ্রয়ে যেতে হবে। কিন্তু এখানে যে আমি’র কথা বলা হয়েছে সে সম্পর্কে কী বলবো নিজকে নিয়ে, কিছুই সম্বল নেই। আছে শুধু মহান মালিকের কৃপার আশা। ওপারে গেলে যদি প্রশ্ন করে কী নিয়ে এসেছ? শুধু বলব কিছুই নিয়ে আসতে পারিনি। তবে জ্যোতির্ময়ের দুয়ারে দাঁড়িয়েছিলাম। চেয়ে দেখ আমার দু’চোখে তাঁর জ্যোতি লেগে আছে।

নজরুল ইশতিয়াক বলেন, বিষয়টি গভীরভাবে অন্বেষণের বিষয়। নিজেকে পাঠ না করলে নিজেকে জানা যায় না। গুরুর সান্নিধ্যে কী আমরা আনন্দ পাই? প্রাপ্তির সৌন্দর্য না দেখতে পেলে উপলব্ধিতে যাওয়া যায়? অন্বেষণকারী হিসেবে নিজেকে কতটুকু দেখতে পারছি, বৃষ্টিপাত যেমন মৃতজমিনে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তেমনি গুরু তাঁর শিষ্যের মধ্যে উপলব্ধির পথ দেখিয়ে দেন। শিষ্য যোগ্য হলে সেটি উপলদ্ধি করতে পারেন, নিজের মধ্যে প্রাণসঞ্চার করতে পারেন। ওই প্রাণসঞ্চার করতে পারলে সেখানে মৃত্যু বলে আর কিছু থাকে না।

মো. আব্দুল ওয়াহেদ বলেন,আত্মদর্শন ও আত্মোপলব্ধিতে হয় সত্য, অন্যের কথায় নয়- মহান সূফী সাধকের এই বাণী উপলব্ধিতে আনতে পারলে সত্যের সন্ধান পাওয়া সহজ হতে পারে।কুরআনিক মুসলিম’-এর মতো কঠিন ও উচ্চমার্গীয় বিষয়টি কেবলমাত্র যারা সত্যানুসন্ধানী, একেশ্বরবাদী, যারা নির্দ্বিধায় সত্যের প্রতি একাত্ম ও যুক্ত হতে চায় তাঁরাই শুধু উপলদ্ধি করতে পারেন।   

মুক্ত আলোচনার পর হাক্কানী মিলাদ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ)র কোষাধ্যক্ষ শাহ্ শহীদুল ইসলাম। এরপর হাক্কানী স্মরণ ও নৈবেদ্য এবং শোধনসেবা গ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান মূলতবী হয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন হাক্কানী আস্তানা শরীফ ব্যবস্থাপনা পর্ষদের মহাসচিব আবদুল কাদের টিটু।