বর্তমান সংলাপ-প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর আমরা নিরপেক্ষ নই-সত্যের পক্ষে

সাইমা (মাস্কাট) ॥ সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আর্শীবাদপুষ্ট এবং সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বর্তমান সংলাপ পত্রিকা দীর্ঘ ২৮ বছর যাবৎ দেশের গণ-মানুষকে সত্যের একমাত্র দিকপাল হিসাবে মানুষকে সত্যের দিকে আহ্বান করে চলেছে। বাংলাদেশে সত্য প্রচারে অসামান্য অবদান এ পত্রিকার। একটি জাতিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক করতে হলে, নিশ্চিত সত্য পথ ধরে চলতে হবে- ইহাই প্রচলিত নিয়ম।  কিন্তু দেশের গণ-মানুষ জানে না-সত্য কি ? মুখে শুধু সত্য সত্য বললেই কেহ সত্য হয় না। জানা আবশ্যক, সত্য কি? এবং ইহা কোথায় থাকে। কিছু জানতে হলে, যিঁনি জানেন, তাঁর নিকট  থেকে শিখতে হয়।

সাভারে ট্যানারী শিল্পের বর্জ্য ধলেশ্বরী নদীতে পড়ছে। ফলে ধলেশ্বরী নদীর পানি বিষাক্ত তথা বিষে পরিণত হয়েছে। কেউ যদি ধলেশ্বরী নদী থেকে ২ বা ৫ মিলিগ্রাম পানি পান করেন, তবে তাঁর জীবন রক্ষা করতে হলে, একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। ট্যানারী বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্যে যদি ধলেশ্বরী নদীর পানি বিষাক্ত হয়, তবে প্রচলিত জীবন ব্যবস্থায় দেশের মানুষ যেভাবে দিন রাত্রি মিথ্যা কথা বলছে, তাতে কি  মানুষের মুখ বিষাক্ত বা দুষিত হয়নি? মানুষের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মুখ। এই মুখ দেখে/মুখের কথা শুনে একে অপরকে ভালোবাসে। মুখটি যদি বিষাক্ত হয় তবে মুখের কথাগুলি অবশ্যই দুষিত। এই অবস্থায় সৃষ্টিকৃত সম্পর্ক বিষাক্ত বা দুষিত। মানুষের এই বিষাক্ত মুখ এবং দুষিত কথা গোটা দেশকে একটি অনাচারের ভাগাড়ে পরিণত করেছে। দেশের মধ্যে অনাচার,খুন-খারাবি,মারামারি সহ বিভিন্ন অপরাধ বিষাক্ত মুখ এবং দুষিত কথার জলন্ত প্রমাণ। দেশের গণমানুষকে অনাচার থেকে রক্ষা করার জন্য সাধকগণ দেশের মানুষের প্রতি সদয় হয়ে আজ থেতে ২৮ বছর পূর্বে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বর্তমান সংলাপ পত্রিকার মাধ্যমে মানুষকে সতের পথে ডাকছেন।

সত্য কি? প্রথমে সত্য সর্ম্পকে সাধারণ ধারণা থাকা আবশ্যক। সত্য ইট- পাথরের টুকরা নয়। সত্যকে সূর্যের সাথে তুলনা করা যায়। সূর্য পৃথিবীকে আলো দেয় এবং পৃথিবী আলেকিত হয়।  আমরা পথ চলি। আলোকে হাতে ধরে কোন জায়গায় সংরক্ষণ করা যায় না। আমরা আলোর উপস্থিতি-অনুপস্থিতি উপলদ্ধি করতে পারি। সূর্যের আলোতে পৃথিবীতে আমি পথ চলি। সৃর্যের আলো আমার শরীরে আসছে। আমার শরীর সূর্যের আলোতে উজ্জীবিত হচ্ছে। কিন্তু আমার শরীর থেকে আলো বাহিরে বিচ্ছরিত হচ্ছে না। আমার শরীরের এই শক্তি নাই কেন? এই শক্তি সর্ম্পকে অন্য একদিন বৈজ্ঞানিক ব্যাখা প্রদান করবো।

বর্তমান সংলাপ পত্রিকা নিরলস পরিশ্রম করে মানুষকে এই সত্যের দিকে ডাকছে। বর্তমান সংলাপ পত্রিকার পাঠক সংখ্যা কম। কিন্তু এতে হতাশ হওয়ার কিছু নাই। আমরা অবহিত, যীশু সত্য প্রচারে এতো খাটা-খাটনি করলেন/ক্রুশে বিদ্ধ হলেন, কিন্তু তাঁর শীষ্য ছিলো মাত্র ১২ জন। সত্যের পাল্লা দেখতে আপাত ওজনে কমই হয়। কথিত আছে হাশরের মাঠে মানুষের ৭২ টি লাইন হবে। একটি লাইন সত্য/সিদ্ধ লাইন। আজকের সমাজে দূর্নীতিবাজ নামাজী/দূর্নীতিবাজ হাজী/দূর্নীতিবাজ হুজুরদের কবল থেকে যারা রক্ষা পেতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য বর্তমান সংলাপ পত্রিকা। সাধকদের পরিশ্রমে এই পত্রিকা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা সাধকদের পরিশ্রম বৃথা যেতে দেবো না। জয়তু বর্তমান সংলাপ। সর্বকালে তোঁমারই জয় হে মহাসত্য।