‘বর্তমান সংলাপ’ পালন করছে সাধক কাজী নজরুলের ‘ধূমকেতু’র ভূমিকা

শেখ উল্লাস ॥ বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে বর্তমানে সাংবাদিকতার নামে বাণিজ্যিক স্বার্থোদ্ধারের তৎপরতা যখন স্পষ্টভাবে প্রতিভাত, সেই প্রেক্ষাপটে ধূমকেতুর মতো পত্রিকা এবং সাধক কাজী নজরুলের মতো সাংবাদিক-সম্পাদকের বড় প্রয়োজন।  মানুষ সাংবাদিকদেরকে দেখতে চায় এমন কবি হিসেবে, সাধক হিসেবে যাদের কাছে দেশ, জাতি আর দেশের মানুষের স্বার্থটাই হবে বড়, সাংবাদিকতা রুটি-রুজি উপার্জনের উপায় হিসেবেই শুধু নয়, সামাজিক অঙ্গীকারের দিকটাই এতে প্রাধান্য পাবে। যে সাংবাদিকতা মিশন নয় সেটাকে সাংবাদিকতা না বলে অন্য কিছুই বলাই শ্রেয়। কেন না, এতে কাজী নজরুল, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াদের মতো সাংবাদিকদের আত্মা কষ্ট পায়। সাংবাদিকতার সংজ্ঞা আজ তাই পরিবর্তনের সময় এসেছে। নতুন করে সাংবাদিকতার সংজ্ঞা নির্ধারিত হওয়া উচিত। নজরুল তাঁর ‘ধূমকেতু’তে লিখেছিলেন, ‘পূর্ণ স্বাধীনতা পেতে হলে সকলের আগে আমাদের বিদ্রোহ করতে হবে। …..আর বিদ্রোহ করতে হলে সকলের আগে আপনাকে চিনতে হবে। বুক ফুলিয়ে বলতে হবে, ‘আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ।’

কুরআন বলেছে, ‘আত্মজয়ের চেষ্টাই সর্বশ্রেষ্ঠ জেহাদ।’ যতটুকু জেনেছি বর্তমান সংলাপ নিজকে ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করে না। নিজ দেশ আর দেশের মানুষ, বিশ্ব প্রকৃতি আর সৃষ্টিকর্তার কাছেই এর সকল দায়বদ্ধতা।

সাংবাদিক ওয়াহিদুল হক ‘ভোরের কাগজ’ (৫ জানুয়ারী ২০০৬)-এ তাঁর নিয়মিত কলাম ‘এখনো গেল না আঁধার’-এ ইতিমধ্যে ‘বর্তমান সংলাপ’-কে আশীর্বাদ জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘ বিএনপি-জামাতের এই সময়ে জঙ্গীবাদের দ্বারা এই রাষ্ট্র আক্রান্ত হবার ঘোর নিদানের কালে এই  সাপ্তাহিকটির চাইতে সাহসী, প্রতিবাদী, প্রতিরোধী অবস্থান আর কেউ নেয়নি। ‘বর্তমান সংলাপ’ সত্যসন্ধানী এক ইসলামি দল হাক্কানী মিশন- তাদের মুখপাত্র। ব্যবসায়িক উদ্দেশে পরিচালিত নয় বলে এর   প্রচার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। গোলাম আযম, নিজামী যেমন পাঞ্জাবী মওদুদীর জঙ্গি এবং মিথ্যা ইসলামের তথা হিংসাবিদ্বেষ, নরহত্যা, রাষ্ট্রীয়  ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রের চিহ্নিত স্বঘোষিত নিশানবরদার, হাক্কানী মিশন তার বিপরীতে বাংলার ঐতিহ্যপূর্ণ শান্তিময় (ইসলামি) সমন্বয় ভিত্তির ভক্তিমূলক সূফী ধারার প্রচারক প্রসারক। ‘বর্তমান সংলাপ’ এর প্রচার বাড়–ক, হাক্কানী মিশনের প্রভাব বাড়–ক, সমাজের শিক্ষিত ভাবুক ধর্মপরায়ণ অংশে’।

তাই  আশা, আজকের সাপ্তাহিক আর আগামী দিনের দৈনিক ‘বর্তমান সংলাপ’ হোক বাংলাদেশের নতুন যুগের ‘ধূমকেতু’ যাতে পরপার থেকে বিশ্বকবি, সাধক রবীন্দ্রনাথ আশীর্বাদ জানিয়ে আবারো  বলবে -‘

আয় চলে আয়রে ধূমকেতু

আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু,

দুর্দিনের এই দুর্গশিরে

উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন!

অলক্ষণের তিলক রেখা

রাতের ভালে হোক না লেখা,

জাগিয়ে দেরে চমক মেরে

আছে যারা অর্দ্ধচেতন।’