প্রাপ্তির সৌন্দর্য লালনে……. জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে শুরু করা হোক প্রতিটি অনুষ্ঠান

শাহ্ ফাতেমা আফরোজ নাসরিন ॥ যে জয় বাংলা ধ্বনি আমাদেরকে শক্তি যুগিয়েছিলো, যে জয় বাংলা হুঙ্কার দিয়ে শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো বাঙালি, যে ধ্বনি দল মত নির্বিশেষে সবার প্রাণের ধ্বনি হয়ে উঠেছিলো, কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে সেই জয়ধ্বনি! কাদের ষড়যন্ত্রে স্বাধীনতার পরপরই হারিয়ে যাচ্ছে সেই ধ্বনি। যে জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ যন্ত্র ও গলায় শুনে উদ্দিপ্ত হয় বাঙালি, যে আনন্দানুভূতি বর্ণনা করা যায় না, যে সঙ্গীত শুধু রবীঠাকুরের নয়; মিশে গিয়েছে আমাদের অন্তরাত্মার সঙ্গে প্রকৃতির সঙ্গে, যে ভাষা আমাদের নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড়-বাওড় বৃক্ষরাজি এককথায় বাংলার প্রকৃতির সাথে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। সেই ধ্বনি, ভাষার মাধুর্যকে, হিন্দুয়ানী অস্ত্র আরোপ করে ধর্মান্ধদের ষড়যন্ত্রে আজ বাঙালির হৃদয় থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। বাংলা ভাষা এদেশের সকল ধর্মের মানুষের ভাষা। আর আমরা মুসলমানরা খাঁটি বাংলা ভাষা থেকে সরে এসে এক মিশ্রভাষায় কথা বলছি। ধর্মের নামে পাকিস্তানী, ফার্সি, আরবি বাংলার সঙ্গে মিশিয়ে এক জগা খিচুড়ি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে আজ। আমরা বলতে পারছি না বিধাতা বা প্রভু ক্ষমা করো। হৃদয়ের গভীর থেকে উত্থিত হয়ে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা হবে হৃদয় নিংড়ানো সেখানে ভাষার কোনো বাঁধা থাকতে পারে না। ভাষা মানুষের মনের ভাব আবেগ অনুভূতি প্রকাশের জন্য, সেখানে কোনো শর্ত আরোপ চলে না। রাজনীতি চলে না। ভাষার জন্য মানুষ ধর্ম ত্যাগী হয় না। ভাষার বৈচিত্রতা স্বয়ং আল্লাহ্ তাআলার সৃষ্টি সুরা আর রহমানে উল্লেখ আছে আল্লাহ্ মানুষ সৃষ্টি করেছেন তারপর তাকে ভাব প্রকাশ করতে শিখিয়েছেন।

সুরা রুম এর ২২ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর তার নির্দেশনাবলীর মধ্যে রয়েছে মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বৈচিত্র।’ মাতৃভাষার গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহ্পাক আরো বলেছেন, ‘আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি তাদের কাছে পরিস্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য।’ সকল ঐশী গ্রন্থের মতই হযরত মুহম্মদ (সাঃ) এঁর মাতৃভাষা আরবীতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি আরবী ভাষী না হলে কুরআন আরবী ভাষায় হতো না। এরকম আরও অনেক আয়াত আছে যাতে ভাব প্রকাশের জন্য মাতৃভাষার গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যেমনঃ- আমি তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে (দু খানঃ ৫৮)। আমি ইহা অবতীর্ণ করেছি আরবী ভাষায় কুরআন রূপে যাতে তোমরা বুঝতে পার (যুকরূফঃ ৩)। আমি যদি আজমী ভাষায় (আরবী ছাড়া অন্য ভাষায়) কুরআন অবতীর্ণ করতাম তারা অবশ্যই বলতো এর আয়াতগুলো বিশদভাবে বিকৃত হয় নাই কেন? কি আশ্চর্য যে এর ভাষা আজমী অথচ রাসূল আরবীর, বল মুমিনদের জন্য ইহা পথ নির্দেশ ব্যধির প্রতিকার। কিন্তু যারা অবিশ্বাসী তাদের কর্নে রহিয়াছে বধিরতা এবং কুরআন হবে এদের জন্য অন্ধত্ব এবং এমন যে, যেন এদেরকে আহ্বান করা হয় বহুদূর হতে (হামিম সিজদাঃ ৪৪)। আমি যদি ইহা কোনো আজমীর কাছে অবতীর্ণ করতাম এবং সে উহা পাঠ করে তাদেরকে শুনাতো তবে তারা উহাতে ঈমান আনতো না। (শুয়ারাঃ ১৮৯-১৯৯)।

ধর্মান্ধরা কুরআনে কোনো নির্দেশনা নেই এমন বিষয়কেও শুধুমাত্র হাদিস অথবা ইজমা, অথবা কিয়াসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করার হীন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। আর মাতৃভাষার গুরুত্ব সম্পর্কে এত স্পষ্ট বর্ণনা কুরআনে থাকার পরও তাদের অন্তরে মোহর মারাই আছে।

আরবী প্রীতি তাদের এতটুকু কমেনি তারা প্রচার করে যাচ্ছে আরবী পড়লে নেকি, শুনলে নেকি, প্রতি হরফে হরফে দশ নেকি মানে ফেরাউনের নাম নিলেও দশটা নেকি পাওয়া যাবে। এই নেকির মূলা ঝুলিয়ে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছে, মানব জাতিকে মুসলমানদেরকে। এমন কি আরবী ঢংএ পোশাক পরিচ্ছদ টুপি, দাড়ি, খোরমা জয়তুন সব কিছুর মধ্যে তারা নেকি খুঁজছে। কই কুরআন তো বাংলাদেশের একটা ফলেরও নাম পর্যন্ত উল্লেখ নেই, যা আছে সব আরব দেশের। মুহম্মদ (সাঃ) বাঙালি হলে তিনি আম, জাম, কাঁঠালের কথাই বলতেন। কাজেই বাঙালির জন্য পথ প্রদর্শক বাঙালি। আর তথাকথিত ধর্মান্ধ মুসলমানরা এদেশের মাতৃভাষাকেও কেড়ে নিতে চেয়েছিলো। বাঙালি তা হতে দেয়নি ভাষার জন্য রক্ত পর্যন্ত দিয়েছে।

মাতৃভাষায় মত বিনিময় যত সহজ, ধর্মপ্রচার যত সহজ তা আর কোনো ভাষায় সম্ভব নয়। ধর্ম না বোঝার জিনিস নয়, ধর্ম ভালোভাবে বুঝে পালন করার বিষয়; আর তা মাতৃভাষাতেই একমাত্র সম্ভব।

ছোট বেলা থেকে ইংরেজী শেখার প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ ছিলো আমারও। বাংলায় যারা অনার্স পড়তো, মাস্টার্স করতো তাদেরকে মনে হতো কোথাও চান্স না পেয়ে বাংলায় পড়ছে, আর আজ মনে হচ্ছে কেন বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়লাম না। মাতৃভাষা বাংলার জন্য আজ আমার হৃদয়ে যে পিপাসা সৃষ্টি হয়েছে তা একান্ত আমার। কিন’ আজ আর সময় নেই ভুল সংশোধনের। মানুষ বোধ হয় হারিয়েই মর্যাদা বুঝতে পারে কোনো কিছুর। আমি অনুভব করতে পারি মাইকেল মধুসুদন দত্তের আক্ষেপ, যা তিনি বঙ্গভাষা কবিতায় প্রকাশ করে গেছেন, এটাই সত্য।

তিনিও ইংরেজী সাহিত্যে একজন বড় কবি হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। বেথুনের কাছে তার ইংরেজী সাহিত্য চর্চার কিছু নথি জমা দিয়েছিলেন। বেথুন তার প্রশংসার পাশাপাশি এও বলেছিলেন যে, এই অনুশীলন তিনি (মধুসুদন দত্ত) মাতৃভাষায় করলে ভালো করতেন। বেথুনের বাণীতে তিনি শম্বিত ফিরে পান এবং বঙ্গভাষা কবিতা লিখেন, নিজের ভাবেই তিনি মাতৃভাষায় সাহিত্য চর্চায় ভালোভাবে মনোনিবেশ করেন।

জ্ঞানী গুণীজন নানানভাবে প্রকাশ করে গেছেন মাতৃভাষার গুরুত্ব সম্পর্কে। সবচেয়ে বড় কথা নিজে অনুভব না করলে কারো বাণী ভিতরে প্রবেশ করে না। আজ লিখতে গিয়ে দেখছি, নিজের ভাষাকে কত ভাবে প্রকাশ করা যায়। যে শব্দের আভিধানিক অর্থও ভালোভাবে জানিনা শুধু শুনেছি জন্ম থেকে অবলীলায় তা ব্যবহার করে ফেলি ঠিক জায়গা মত। কত রংএ  ঢংএ নিজেকে প্রকাশ করতে আরবি আর ইংরেজী ভাষার প্রতি কত দুর্বলতা উপলব্ধি করছি, প্রচেষ্টা চালিয়ে দাঁত বসাতে পারি না ইংরেজী সাহিত্যে তবুও চেষ্টা চালাচ্ছি। ভাষা কোনো রকম বুঝতে পারলেও সাহিত্য বোঝা খুব কঠিন। আর দশ লাইন ইংরেজী লিখেও নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি না পুরোপুরি। মনে হচ্ছে মাতৃভাষা বাংলা আমার বুকের মধ্যে বসে আছে মিশে আছে সমগ্র সত্তার সাথে রক্তের সাথে যা বিচ্ছিন্ন হওয়ার নয়। আমি দেখেছি আমরা অন্যভাষায় কথা বলতে গেলেও আগে মাতৃভাষায় চিন্তা করে অনুবাদ করে বলি। মানুষ তার মাতৃভাষাতেই চিন্তা করে, প্রেম করে, মহব্বত করে, ভালোবাসে, স্নেহ মায়া মমতা অনুভূতিগুলোকে লালন করে।

মাতৃভাষাতেই সে স্বপ্ন দেখে। মাতৃভাষাকে যারা অবজ্ঞা করে অন্য ভাষায় কথা বলতে পারা কৃতিত্ব মনে করে তাদেরকে আমার আজ মনে হয় মেকী নকল, এক সময় চিটাগাংএর মানুষকে নিয়ে আমি খুব হাসতাম। আজও মানুষ তিরস্কার করছে চিটাগাং সিলেটের মানুষকে নিয়ে। যারা নিজের দেশীয়রা একত্রিত হলেই চিটাগাং সিলেটের ভাষায় কথা বলে। আমিও অবাক হয়ে ভাবতাম, কি স্মার্ট স্মার্ট মেয়েগুলো যারা চিটাগাং গার্লস কলেজে আমার সঙ্গে পড়তো। নিজেরা একত্রিত হলেই, চিটাগাংএর ভাষায় অবলীলায় কথা বলতো, ভালো লাগতো না আমার কাছে। আর আজ মনে হচ্ছে নিজেদের মধ্যে নিজেরা মাতৃভাষায় কথা বলার মধ্যে দারুন একটা আন্তরিকতা খুঁজে পাওয়া যায় এবং আমি দেখেছি যারা খুব সহজ সরল প্রকৃতির এবং আন্তরিক তারাই আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে বেশিরভাগ। জ্ঞানী গুণীজনরা বলেন যে তার মাতৃভাষায় দক্ষ সে অন্য যে কোনো ভাষায় দক্ষ হতে পারে। আর মাতৃভাষার দূর্বল হলে সে কোনো ভাষাই ভালোভাবে শিখতে পারে না। উদাহরণ স্বরূপ ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা ভাষার একজন দিকপাল, তিনি অন্য আরো আঠারোটি ভাষা রপ্ত করেছিলেন। স্থান, কাল, পাত্র অবস্থান ভেদে শুদ্ধ কথা বলা যেতে পারে অন্যভাষাও ব্যবহার ও শিখা যেতে পারে তা খুবই ভালো কিন্তু মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করে নয়।

ধর্মপ্রচার করতে গেলে বিশ্বমানবতার সাথে মত বিনিময় করতে গেলে বিভিন্ন ভাষা জানা প্রয়োজন আছে নবীজীও মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা শিখতে সাহাবাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন।

সাহাবাদের মধ্যে অনেকেই আরবী ভাষা ছাড়াও অন্যান্য ভাষা যেমন পার্শিয়ান মিশরীয় রোমান ও আফ্রিকান ভাষা জানতেন এবং এসমস্ত দেশে ধর্ম প্রচার করেছেন আবার বক্তৃতা বিবৃতিতেও পারদর্শী ছিলেন।

নিজের মাতৃভাষাকে সম্মান করার পাশাপাশি অন্যের ভাষাকেও সম্মান করতে হবে। ভাষায় বৈচিত্র যেহেতু আল্লাহই সৃষ্টি সেহেতু কোনো ভাষাকেই অনৈসলামিক বলা যাবে না। এই অনৈসলামিক বলে বলে, বিধর্মীর ভাষা বলে বলে, ধর্মান্ধরা আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলাকে কলুষিত করে ফেলেছে, মিশ্র করে ফেলেছে, কৃত্রিম করে ফেলেছে, দম বন্ধ হয়ে আসছে এই বদ্ধ অবস্থা থেকে বের হওয়ার জন্য। প্রশান্ত জলাশয় কতদূর, কতদূর, কতদূর জানিনা।

ভাষার মধ্যে যেহেতু ইসলাম নেই আছে চর্যার মধ্যে কাজেই প্রত্যেককে তার মাতৃভাষায় কুরআনকে অনুবাদ করে পড়তে হবে, বুঝতে হবে, অনুশীলন করতে হবে।

মা, মাতৃভূমি, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির স্বাধীনতা একসূত্রে গ্রথিত। এক থেকে অপরকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। যে তার মাতৃভূমিকে ভালোবাসে না, মাতৃভাষাকে ভালোবাসে না সে তার মাকে ভালোবাসতে পারে না। পারে না, পারে না। ইসলাম ধর্মে মাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

দেশপ্রেম মানুষের চিন্তা জগতে চেতনার এক উন্নত অবস্থা। দেশপ্রেমের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আছে, নিজের দেশের কৃষ্টি সভ্যতা, সংস্কৃতি ঐতিহ্য দেশের প্রকৃতি আবহাওয়া, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষকে ভালোবাসা। যে প্রাকৃতিক লীলাভূমির মধ্যে মানুষ বেড়ে ওঠে শৈশবের স্মৃতি জড়িত থাকে তার প্রতি নির্ভেজাল দুর্নিবার আকর্ষণই হলো দেশপ্রেম। তার স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাও ঈমানের অঙ্গ। মানুষ জন্মগত ভাবেই স্বাধীনচেতা। স্বাধীনতা কেউ কাউকে দিতে চায় না অর্জন করতে হয়। স্বাধীনতা মানুষের মৌলিক অধিকার। স্বাধীনতার চেতনাই ব্যক্তি পর্যায় থেকে ক্রমে রাষ্ট্র পর্যায়ে চলে আসে। পরাধীনতার নাগপাশ থেকে, শোষণ থেকে মুক্ত করার জন্য স্বাধীনচেতারা যুদ্ধ করে পৃথিবীর মাঝে যে জাতি নিজেদেরকে মুক্ত করেছে তার জন্য কত রক্ত, কত জীবন দিতে হয়েছে তা সবসময় স্মরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

মহানবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ)ও তাঁর জন্মভূমি মক্কাকে কত ভালোবাসতেন, তার প্রমাণ মিলে জন্মভূমির মানুষের শত নির্যাতনেও তাদের মঙ্গলের জন্য তিনি কাজ করে গেছেন, তাদের অত্যাচারে মদিনায় হিজরত করার সময় তিনি মক্কার দিকে বার বার ফিরে তাকান আর কাতর কন্ঠে আফসোস করে বলেন, ‘হে আমার স্বদেশ তুমি কতই না সুন্দর, আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমার আপন জাতি যদি ষড়যন্ত্র না করতো আমি কখনও তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।’ জন্মভূমির প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণে তিনি ৬৩০ খৃষ্টাব্দে বিজয়ীর বেশে মক্কায় ফিরে আসেন। যাদের অত্যাচারে দেশ ত্যাগ করেছিলেন তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন প্রত্যেক মানুষের উচিত দেশকে ভালোবাসা। যে লোক নিজের দেশকে ভালোবাসেনা সে প্রকৃত ঈমানদার নয়।

যাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে এবং যারা আপন মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছে তারা স্বীয় মাতৃভূমি উদ্ধার ও স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যুদ্ধ করবে এর নির্দেশও আছে। আল্লাহ্ কুরআনে ঘোষণা দিয়েছেন, এ সমস্ত লোকদের যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হলো। যারা (শত্রু কর্তৃক) আক্রান্ত হয়েছে কেননা তাদের প্রতি অত্যচার করা হয়েছে, আর নিশ্চিত যে আল্লাহ্ তাদের জয়যুক্ত করতে পূর্ণ ক্ষমতাবান। তাদের মাতৃভূমি থেকে তাদেরকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এজন্য যে তারা বলে আমাদের প্রভু আল্লাহ্ (সুরা আল হাজ্জঃ ৩৯) একাত্তরে শত্রু  কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে যুদ্ধ করে প্রান দিয়ে যারা দেশকে স্বাধীন করেছিলেন তারা শহীদ, তাদের মর্যাদা অতি উন্নত। দ্বীনের জন্য মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য যারা শহীদ হন তাদেরকে কুরআন মজীদে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহ পথে নিহত হয় তাদেরকে তোমরা মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত কিন্তু তোমরা তা বুঝতে পারো না। (সুরা বাকারাহ্ : ১৫৪) পবিত্র কুরআনে আরো বলা হয়েছে, ‘আর যারা আল্লাহ্ রাস্তায় নিহত তাদেরকে আপনি কখনো মৃত মনে করবেন না বরং তারা নিজেদের প্রতিপালকের নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত।’ (সুরা আল ইমরান আয়াত -১৬৯)

তাই আর একবার জয় বাংলা ধ্বনি তুলে জয় বাংলা হুঙ্কার দিয়ে আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়ার সময় এসেছে। জনগণ সেই হুঙ্কার দেবার জন্য তৈরী হয়ে আছে শুধু একটা দেশ প্রেমিক আহবানের দরকার। খুন খারাবি অত্যাচার, ব্যভিচার, অবিচারে দুর্নীতি দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিরাপত্তা হীনতা বিদ্যুতের অভাব পানির অভাব সবকিছু মিলিয়ে দেশ এক সঙ্কটময় ক্রান্তিলগ্নে উপনীত। জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে একজন মুক্তিদাতার জন্য। সে আহবান কে দেবে। নতুন একটা প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে আছে জনগণ।

যারা এই মাতৃভূমিকে মাতৃভাষাকে এর স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়।

এদেশের ক্ষমতালোভী রাজনীতিকরা আর ধর্মান্ধরাই দায়ী আজকের বাংলার এবং বাংলার মানুষের এই বিপর্যয়ের জন্য। তাদেরকে চিহ্নিত করে মুহাম্মদী ধর্ম জেনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার এখনই সময়। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান – ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সত্যের সাথে একাত্ম হয়ে যান। বাংলা আমাদের সবার মাতৃভূমি, আগে আমরা বাঙালি তার পর মুসলিম, হিন্দু, খৃষ্টান, বুদ্ধ।

তাই সময়ের দাবি, বাঙালি জাতির জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে শুরু করা হোক প্রতিটি অনুষ্ঠান এবং ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি আবার ধ্বনিত হোক সবার কন্ঠে।