প্রবাহ

সাইবেরিয়ায় মিলল তুষার যুগের 
গন্ডারের অক্ষত দেহাবশেষ

তুষার যুগের গন্ডারের দেহাবশেষ মিলল সাইবেরিয়ায়। প্রায় ৫০ হাজার বছর কেটে গেলেও এখনও সতেজ প্রাণীটির বেশকিছু অঙ্গ। যা দেখে রীতিমতো অবাক বিজ্ঞানীরা। এতো পুরনো দেহও যে এমন ভালোভাবে পাওয়া যাবে তা কল্পনা করতে পারেননি তাঁরা। বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে সাইবেরিয়ায় বরফ গলতে শুরু করায় গত কয়েকমাসে ওই অঞ্চল থেকে ম্যামথ, শরীরে বড় বড় পশম থাকা গন্ডার, সিংহশাবক সহ বেশকিছু প্রাণীর দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে গন্ডারের দেহাবশেষটিরই সবচেয়ে ভালো অবস্থা। তার শরীরের অন্ত্র, চর্বি এমনকী কোষ এখনও পর্যন্ত অক্ষত। বরফের পুরু চাদরে ঢাকা থাকায় সেগুলি নষ্ট হয়নি বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের ধারণা, উদ্ধার হওয়া গন্ডারের দেহাবশেষটি প্রায় ৫০ হাজার বছরের পুরনো। তবে সেটির সঠিক বয়স জানতে রেডিওকার্বন পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যেই পরীক্ষার ফল জানা যাবে।

দুই থেকে তিন বছর বয়সে জলে ডুবে গন্ডারটির মৃত্যু হয় বলে বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক ধারণা। রাশিয়ার উত্তরে অ্যাবিক্স জেলায় তিরেখতাখ নদীর ধারে প্রাণীটির দেহাবশেষ পাওয়া যায়। এর আগে ২০১৪ সালে ওই এলাকা থেকেই একটি  গন্ডারের দেহাবশেষ উদ্ধার হয়। তার শরীরেও বড় বড় লোম ছিল। বিস্তর পরীক্ষানিরীক্ষার পর ‘সাশা’ প্রজাতির ওই গন্ডারটি ৩৪ হাজার বছর আগে মারা গিয়েছিল বলে জানতে পারেন বিজ্ঞানীরা। এবার যে গন্ডারের দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে, তার বয়স আরও অনেক বেশি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে ৪ চরিত্রের করোনাভাইরাস

২০১৯ সালে চিনের উহান প্রদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সন্ধান পাওয়ার পর থেকে সারা পৃথিবীতে এখনও পর্যন্ত চারবার চরিত্র পাল্টেছে এই মারণ ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র পক্ষ থেকে এই নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। হু জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণের পর থেকে একাধিক খবর তারা পেয়েছেন, যেখানে করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন উপসর্গের রোগ দেখা দিয়েছে। আসলে সেগুলি ভাইরাসের নতুন চরিত্রের লক্ষণ, জানিয়েছে হু।

২০২০ সালের জানুয়ারির শেষ ও ফেব্রুয়ারির শুরুতে সার্স কোভ-২-এর একটি ভিন্ন চরিত্রের ভাইরাস, যার নাম ডি৬১৪জি পাওয়া যায়। তারপর বেশ কয়েক মাস ধরে এই চরিত্রের ভাইরাসটি বারবার চরিত্র পাল্টেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ভাইরাসের যে স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছিল, সেটির আমূল পরিবর্তন এর মধ্যে হয়ে গিয়েছে বলে জানায় চিন। ২০২০ সালের জুন মাসে হু-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, করোনা সংক্রমণ যত পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে, ততই চরিত্র পাল্টাচ্ছে এই ভাইরাস।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় যে স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছিল, সেটি আগের তুলনায় অনেক দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। কিন্তু সেটির মারণ ক্ষমতা আগের থেকে কম। চিকিৎসকরা জানান, এই নতুন স্ট্রেন মানুষের শরীরে আগের থেকে কম ক্ষতি করছে। এরপর তৃতীয় চরিত্রের স্ট্রেন যুক্ত ভাইরাস খুঁজে পাওয়া যায় ২০২০ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ। ডেনমার্কে এই নতুন প্রকারের ভাইরাস খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে পশুর শরীরেও এই ভাইরাসের সন্ধান মেলে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্রিটেনে পাওয়া যায় করোনার নতুন এক চারিত্রিক বৈশিষ্টযুক্ত ভাইরাস। সেটির নাম দেওয়া হয় সার্স কোভ ২ ভিওসি ২০২০১২/০১। আগের করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার পর থেকেই এই নতুন চরিত্রের ভাইরাসটি ব্রিটেনে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তবে কোথা থেকে এই নতুন চরিত্রের ভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছে, তা স্পষ্ট করে বলা যায়নি।

এ ছাড়াও, ডিসেম্বর মাসের ১৮ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকায় সার্স কোভ ২-এর নতুন এক চরিত্রের ভাইরাসের সন্ধান মেলে। সে দেশের তিনটি প্রদেশে এই নতুন চরিত্রের ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানায় প্রশাসন। দক্ষিণ আফ্রিকা নতুন চরিত্রের ভাইরাসের নাম দেয় ৫০১ওয়াই.ভি২। দক্ষিণ আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া নতুন চরিত্রের ভাইরাসটি এখনও পৃথিবীর আরও চার দেশে পাওয়া গিয়েছে।

আমেরিকার মিত্র দেশের তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে পাকিস্তান

আমেরিকায় বিলটি পাশ হয়ে গেলে বিপাকে পড়তে পারে পাকিস্তান। অর্থনৈতিক অনুদান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আগেই। এ বার ন্যাটো-বহির্ভূত মিত্রদেশের তালিকা থেকেও পাকিস্তানের নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব উঠল আমেরিকায়। সোমবার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এই মর্মে বিল পেশ হল। এই বিল অনুমোদিত হলে আমেরিকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গবেষণা এবং মহাকাশ প্রযুক্তি থেকে বঞ্চিত হবে পাকিস্তান । অর্থাৎ, আমেরিকার থেকে কোনও বাড়তি সুবিধা পাবে না তারা। কংগ্রেসম্যান তথা রিপাবলিকান নেতা অ্যান্ডি বিগস এই প্রস্তাব আনেন। তাতে বলা হয়, ন্যাটো বহির্ভূত মিত্র দেশের তালিকা থেকে একবার বাদ পড়লে, পাকিস্তানকে অন্য কোনও তালিকার অন্তর্ভুক্ত করাও যাবে না। তবে হক্কানি নেটওয়ার্কের মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে যদি তারা দেশের মাটি থেকে উচ্ছেদ করতে পারে এবং খোদ প্রেসিডেন্ট যদি দায়িত্ব নিয়ে তা নিশ্চিত করতে পারেন এবং সেই শংসাপত্র দাখিল করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা যেতে পারে।

শুধু তাই নয়, পাকিস্তানে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে আফগানিস্তানে নাশকতামূলক কাজকর্ম চালানোর অভিযোগ হক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে। পাকিস্তান সরকার তাদের পূর্ণ মদত দেয় বলেও দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছে। তার বিরুদ্ধে পাকিস্তান আদৌ কোনও পদক্ষেপ করেছে কি না, হক্কানি নেটওয়ার্কের কতজন শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রেসিডেন্টকে লিখিত শংসাপত্র দিতে হবে। এ সব হলেই পাকিস্তানকে মিত্র দেশ হিসেবে অন্য তালিকায় জায়গা দেওয়া হতে পারে বলেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ওই বিলে।

২০০৪ সালে জর্জ বুশের আমলে ন্যাটো বহির্ভূত মিত্র দেশ হিসেবে পাকিস্তানকে নথিভুক্ত করে তৎকালীন আমেরিকার সরকার। অস্ট্রেলিয়া, মিশর, ইজরায়েল, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জর্ডন, নিউজিল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, বাহরাইন, ফিলিপিন্স, তাইওয়ান, তাইল্যান্ড, কুয়েত, মরক্কো, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, টিউনিশিয়া এবং ব্রাজিল, ১৯৮৭ সাল থেকে মোট ১৭টি দেশ ওই তালিকায় জায়গা পেয়েছে। ২০১৯ সালে জায়গা পাওয়া ব্রাজিলই ওই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন। বারাক ওবামার আমলে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সহযোগী হয়ে ওঠে ভারত।

এর আগে, ২০১৮ সালে পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ আর্থিক অনুদানে নিষেধাজ্ঞা বসান ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সময়ই পাকিস্তানকে ন্যাটো বহির্ভূত মিত্র দেশের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিল ট্রাম্প সরকার।

রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নে কোনো সীমারেখা থাকবে না:চীন   

চলতি ২০২১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয় দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে চীন। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, এ বছর দু পক্ষ সহযোগিতার কোন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে সে ব্যাপারে কোনো সীমারেখা থাকবে না।

তিনি বলেন, ২০২১ সাল হচ্ছে দুই দেশের সম্পর্ক ও সহেযাগিতার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এবং দুই দেশই সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি এসব কথা বলেছেন ওয়াং ই। তিনি সরাসরি বলেন, “চীন ও রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা কোন সীমারেখা দেখি না, আমাদের সামনে কোনো নিষিদ্ধ এলাকা নেই এবং এমন কোনো উচ্চতা নেই যেখানে আমরা পৌঁছাতে পারি না।”

চীন এবং রাশিয়ার মধ্যকার সৎ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের প্রশংসা করে শীর্ষ এ কূটনীতিক বলেন, গত কয়েক বছর ধরে দু দেশের নেতারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, দুই দেশ কূটনৈতিক অগ্রাধিকার, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং বিশ্ব অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে সম্পর্ক গভীরতর করবে। ওয়াং ই আরো বলেন, রাশিয়া এবং চীন গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বন্ধুত্ব ওপ্রতিবেশী সৎ প্রতিবেশীসুলভ দেশের উদাহরণ অব্যাহত রাখবে এবং বিশ্বের কৌশলগত স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

পারস্য উপসাগরে কোরীয় তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে ইরান

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি পারস্য উপসাগর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে। সমুদ্র পরিবেশ বিষয়ক আইন ভঙ্গ করার কারণে জাহাজটি আটক করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি’র নৌ শাখা সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার হানকুক কেমি নামের একটি জাহাজ সৌদি আরবের জুবাইল বন্দর থেকে ছেড়ে আসে কিন্তু জাহাজ থেকে রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে

পারস্য উপসাগরের পানি দূষিত করছিল। জাহাজটিতে সাত হাজার ২০০ টন ইথানল বহন করা হচ্ছিল এবং বর্তমানে সেটি ইরানের বন্দর আব্বাসে আটক রয়েছে।

আইআরজিসি’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাহাজে দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের ক্রু ছিলেন এবং তাদের সবাইকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি আরো তদন্তের জন্য ইরানের বিচার বিভাগের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজগান প্রদেশের বন্দর ও সমুদ্র বিভাগের অনুরোধে এবং প্রাদেশিক প্রসিকিউটরের নির্দেশে জাহাজটি আটক করা হয়।

টিকা নেয়ার সাতদিনের মধ্যে করোনা আক্রান্ত  মার্কিন নার্স

ভারতের পর এবার আমেরিকা। টিকা নেওয়ার পরও করোনায় আক্রান্ত হলেন এক নার্স। ঘটনাটি ক্যালিফোর্নিয়ার। সংক্রামিত হওয়ার পর নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি জানিয়েছেন ম্যাথু ডাবলু নামে ওই ব্যক্তি। শহরের দু’টি হাসপাতালে কাজ করেন তিনি। ম্যাথু বলেন, ১৮ ডিসেম্বর তিনি ফাইজারের টিকা নিয়েছিলেন। এরপর ক্রিসমাসের দিন কোভিড ওয়ার্ডে তাঁর ডিউটি পড়েছিল। কাজ সেরে ফেরার পর জ্বর আসে। সেইসঙ্গে পেশিতে ব্যথা ও ক্লান্তিভাবও দেখা দেয়। হাসপাতালে গিয়ে করোনা পরীক্ষা করালে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ম্যাথু ওই পোস্ট করার পরই বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন সান দিয়াগোর ফ্যামিলি হেল্থ সেন্টারের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান রামারস। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন শরীরে প্রবেশ করার পর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ১০ থেকে ১৪ দিন লেগে যায়। টিকার প্রথম ডোজের পর করোনার বিরুদ্ধে ৫০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজের পর ৯৫ শতাংশ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। তাই  ম্যাথুর আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়। প্রসঙ্গত, এর আগে টিকা নেওয়ার পর করোনা আক্রান্ত হন হরিয়ানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিল ভিজ।

এদিকে, বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণ এখনও সামলে ওঠা যায়নি। এরই মধ্যে ভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন বিশেষজ্ঞদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন মুলুকে এক ব্যক্তির শরীরেও করোনার নয়া স্ট্রেইন মিলেছে। কিন্তু চিন্তার বিষয় হল, কলোরাডোর বাসিন্দা ওই আক্রান্তের কোনও ট্রাভেল হিস্ট্রি নেই। তা সত্ত্বেও ব্রিটেন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনার নতুন স্ট্রেইনে তিনি কীভাবে আক্রান্ত হলেন, তা হন্যে হয়ে খুঁজছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।

বর্ষবরণের প্রথা চালুর ইতিহাস

নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার ব্যাপারে পথিকৃৎ বলা যায় ব্যাবিলনীয় সভ্যতাকে। সে আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগের কথা। তবে সেটা এখনকার মতো ১ জানুয়ারি নয়। নতুন বছর শুরু হতো বসন্তের প্রথম দিনে। ব্যাবিলনীয়দের পর বর্ষবরণের জাঁকজমক সূচনা হয় রোমানদের হাত ধরে। তাদের নতুন বছর আবার ১ মার্চ থেকে। তবে রোমান সরকারের নতুন অধিবেশন শুরু হতো জানুয়ারি মাস থেকে। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৭ সালে সম্রাট  জুলিয়াস সিজার তা বদলে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের সৃষ্টি করেন। সেই ক্যালেন্ডারেও দু’দফায় বদল আনা হয়। এসবের শেষ হয় ১৫৮২ সালে পোপ ১৩তম গ্রেগরির হাত ধরে। তিনিই অতীতের জুলিয়ান ক্যালেন্ডার বদলে বর্তমান কাঠামোয় নিয়ে আসেন। সেই থেকে নতুন বছরের শুরুর দিনটি ১ জানুয়ারি। এই ক্যালেন্ডার ভারতে নিয়ে আসে ব্রিটিশরাই। তারপর যত দিন গিয়েছে, বেড়েছে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের বহর।

নতুন বছরে আর আসে না হাজারো রঙের খামে ভরা শুভেচ্ছা। শেষ হয়ে গিয়েছে বাঙালির আরও এক হুজুগ—গ্রিটিংস কার্ড। কত বন্ধু, কত চেনামুখ এখনও স্মৃতিতে ভিড় করে আসে দু’টি শব্দ শুনলেই। একটা কার্ড ঘিরে হিংসে-অভিমান সব ঝরে গিয়েছে কালের নিয়মে।

বছর কয়েক আগেও এমন ছিল না। ডিসেম্বরের গোড়া থেকে তল্লাট ছেয়ে যেত গ্রিটিংস কার্ডের দোকানে। সিনারি, নাকি ফোল্ডিং পড়ুয়াদের মধ্যে কার্ড বাছার হুড়োহুড়ি পড়ত। এক-দু’ টাকা থেকে শুরু। বন্ধুত্বের রসায়ন অনুযায়ী সাইজের তারতম্য হতো। প্রেম নিবেদনেও এর জুড়ি ছিল না। নিজের হাতে গ্রিটিংস কার্ড বানিয়ে প্রিয়জনকে দিতেন অনেকেই। ভিতরে চিরাচরিত দু’লাইনের শুভেচ্ছাবার্তা। আন্তরিকতার সেই আদানপ্রদান আজ বিলুপ্তপ্রায়। স্মার্টফোন আর সোশ্যাল মিডিয়া কেড়ে নিয়েছে কৈশোরের সেই উন্মাদনা। প্রযুক্তির যুগে নিখরচায় সারা যায় এই সব রীতি। ইংরেজি নতুন বছরের ‘উইশ’ এখন জমে থাকে চ্যাটবক্সে। হাতে গোনা দোকানে গ্রিটিংস কার্ডে দেখা মিললেও নতুনত্ব প্রায় নেই। দামও বড্ড বেশি।

ইতিহাস বলছে, গ্রিটিংস কার্ড কিনে দেওয়ার রীতি প্রায় ১৭৭ বছরের পুরনো। সেই রানি ভিক্টোরিয়ার আমলে। তখন অবশ্য তাতে বড়দিন এবং ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা একসঙ্গেই থাকত। ধীরে ধীরে দুনিয়াজুড়ে সমাদৃত হয়ে ওঠে কার্ড দেওয়ানেওয়ার প্রথা। এখনও অনেক মানুষই ভাবেন গ্রিটিংস কার্ডই ভালো। চ্যাটবক্সের মেসেজ তো ডিলিট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কার্ডের স্মৃতি মোছা যায় না।

কোভিড-১৯ এর নতুন স্ট্রেনে  উদ্বিগ্ন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর লকডাউনের ঘোষণা

ফের দেশজুড়ে লকডাউনের ঘোষণা করলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের উত্তোরত্তর বৃদ্ধির জেরে একপ্রকার বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। করোনার নতুন স্ট্রেনে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে ব্রিটেনে। এর ফলে নতুন করে সে দেশের হাসপাতালগুলিতে চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া সিদ্ধান্তের পথেই হাঁটলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্রিটেন একজোট হয়ে এই মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামিল হয়েছিল। সেই লড়াই এখনও চলছে। এখন ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন এসে গিয়েছে । ফলে সামনের সপ্তাহগুলি কঠিনতর হতে চলেছে। নতুন এই স্ট্রেনের সংক্রমণ লাগাতার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তা নৈরাশ্যের এবং উদ্বেগের। মারণ ভাইরাসের জেরে আমাদের হাসপাতালগুলি অনেক বেশি চাপের মধ্যেই ছিল। সেটি এখন আরও বেড়েছে। তাই দেশজুড়ে লকডাউন ছাড়া আর কোনও পথ নেই। সরকার আবার আপনাদের আবেদন করছে, দয়া করে ঘরে থাকুন। জাতীয় লকডাউন করা হচ্ছে।’ এর ফলে নতুন লকডাউনে আগেরবারের মতোই নিয়ম বলবৎ থাকবে। বন্ধ থাকবে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বেরোনো যাবে না। তবে অত্যাবশকীয় পণ্য, ওষুধের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে শরীরচর্চার জন্যও বাড়ি থেকে বের হওয়া যাবে। বাড়ি থেকেই অফিসের কাজ করতে বলা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত লকডাউন থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সময়ের মধ্যে ব্রিটেনে টিকাকরণের কাজ জারি থাকবে। এর আগে স্কটল্যান্ডে লকডাউনের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তারপরই ব্রিটেনেও লকডাউন জারি করা হল। অন্যদিকে ওয়েলস এবং নর্থ আয়ারল্যান্ডেওই লকডাউন জারি করা রয়েছে। উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের নতুন স্ট্রেনের কারণেই ব্রিটেন জুড়ে সংক্রমণের হার ক্রমেই বেড়েছে। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী মাত্র একসপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি থাকা কোভিড রোগীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় সংক্রমণ রুখতে ফের লকডাউন করতে বাধ্য হয়েছে ব্রিটেন।