প্রবাহ

(দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংগৃহীত)

আফগানিস্তান ও জার্মানি থেকে  সেনা প্রত্যাহার আটকে যাচ্ছে মার্কিন কংগ্রেসে!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান ও জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা আটকে দেয়ার পদক্ষেপ নিচ্ছে কংগ্রেস। নতুন পলিসি বিলের আওতায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আটকে দেবে কংগ্রেস।

আফগানিস্তান থেকে ২,০০০ এবং জার্মানি থেকে ১২ হাজার সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেনা প্রত্যাহারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেবে না কংগ্রেস। ফলে এ দুটি দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার আটকে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আফগানিস্তানে সাড়ে চার হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। সেখান থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ২,০০০ সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। এছাড়া ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্টের আওতায় জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানানো হবে। এর আগে ট্রাম্পের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল মার্ক মিলি।

মার্কিন ও ফরাসি গোয়েন্দা বিমান হটিয়ে দিল রাশিয়ার সুখোই-৩০

বাল্টিক সাগরের আকাশে আমেরিকা ও ফ্রান্সের একাধিক গোয়েন্দা বিমানকে তাড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়ার একটি সুখোই এস-৩০ যুদ্ধবিমান। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাল্টিক সাগরের আকাশে আমেরিকা ও রাশিয়ার দু’টি জঙ্গিবিমান ও একটি মার্কিন জ্বালানী সরবরাহকারী বিমানকে শনাক্ত করে সেগুলোকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা স্পুৎনিক এ খবর জানিয়ে বলেছে, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সোমবার বাল্টিক সাগরের আকাশে এমন কিছু লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে যেগুলো রাশিয়ার আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। রাডার ব্যবস্থায় এসব চলমান লক্ষ্যববস্তু ধরা পড়ার পর রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বিমান বহরের একটি সুখোই এস-৩০ যুদ্ধবিমান আকাশে উড্ডয়ন করে এবং লক্ষ্যবস্তুগুলোর দিকে এগিয়ে যায়।

রুশ যুদ্ধবিমানটি আকাশে মার্কিন বিমান বাহিনীর আরসি-১৩৫ মডেলের একটি গোয়েন্দা বিমান, কেএস-১৩৫ মডেলের একটি জ্বালানী সরবরাহকারী বিমান এবং ফ্রান্সের সি-১৬০ মডেলের একটি গোয়েন্দা বিমানের সন্ধান পায়।এ অবস্থায় সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানটি আমেরিকা ও ফ্রান্সের বিমানগুলোকে তাড়া করে এবং তাদেরকে বাল্টিক সাগরের শেষ সীমায় পৌঁছে দিয়ে নিজ ঘাঁটিতে ফিরে আসে।

ব্রিটিশ পানিসীমার কাছে রুশ যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা বেড়েছে: লন্ডন

ব্রিটিশ পানিসীমার কাছে গত দুই সপ্তাহে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা ‘ব্যাপকভাবে’ বেড়ে গেছে বলে ব্রিটিশ নৌবাহিনী দাবি করেছে।

এক বিবৃতিতে ওই বাহিনী বলেছে, গত দুই সপ্তাহে রাজকীয় নৌবাহিনী ব্রিটেনের আশপাশে নয়টি রুশ জাহাজ পর্যবেক্ষণ করেছে। এসব জাহাজের মধ্যে ছিল একটি সাবমেরিন, একটি ডেস্ট্রয়ার, একটি করভেট, একাধিক টহল জাহাজ ও এগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দানকারী টাগবোট ও সরবরাহকারী জাহাজ। বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীর আটটি যুদ্ধজাহাজ থেকে ইংলিশ চ্যানেল ও সেলটিক সাগরে এসব রুশ জাহাজ শনাক্ত করা হয়।এতে আরো বলা হয়, আকাশ থেকে রুশ জাহাজগুলোকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ব্রিটিশ নৌবাহিনী। রাশিয়ার স্পুৎনিক বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, অতীতে একই ধরনের ঘটনায় রাশিয়ার নৌবহর কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ছাড়াই ব্রিটিশ পানিসীমা অতিক্রম করেছে।

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের পর সাইবার হামলার শিকার আরব আমিরাত

ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তির পর সাইবার হামলার শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পারস্য উপসাগরীয় দেশটির সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হামাদ আল-কুয়েতি সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছেন।

কয়েক দশকের আরব নীতি ভেঙে সংযুক্ত আরব আমিরাত গত আগস্ট মাসে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। এতে ফিলিস্তিনি জনগণ এবং বিশ্বের বহু মুসলিম দেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর বাহরাইন এবং সুদানও ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ অনুসরণ করে। মোহাম্মদ হামাদ আল-কুয়েতি দুবাইয়ের এক সম্মেলনে বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে কিছু লোকজন ব্যাপকভিত্তিক সাইবার হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক সেক্টর লক্ষ্য করেই মূলত এসব হামলা চলে তবে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানান নি। এমনকি হামলাকারীরা সফল হয়েছে কিনা সে ব্যাপারেও তিনি পরিষ্কার করে কিছু বলেন নি।

কুয়েতি স্পষ্ট করে বলেন, করোনা ভাইরাসের মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, সাধারণত বহু হামলা ইরান থেকে হয়ে থাকে তবে সম্প্রতিক হামলার পেছনে কারা ছিল সে কথা তিনি সুনির্দিষ্ট করে বলেন নি।

ইমরান খানকে মরিয়ম নওয়াজের হুশিয়ারি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে মরিয়ম নওয়াজের নেতৃত্বে একাট্টা  হচ্ছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। পাক পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ থেকে সম্প্রতি গণইস্তফা দেয়ার কথা রয়েছে বিরোধী দলের সদস্যদের।

এর মধ্য দিয়ে ইমরান খানের সরকার পতন ঘটানোর হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সহসভাপতি মরিয়ম নওয়াজ।

যদি এমনটি না-ও হয়, বিরোধী ১১ দলের জোট পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) সম্প্রতি একটা বড় সিদ্ধান্ত নেবেন বলে গণমাধ্যমকে জানিছেন মরিয়ম। খবর জিও নিউজের। বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেহাল অর্থনীতির মতো নানাবিধ বিষয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারের ওপর লাগাতার চাপ বাড়াচ্ছেন বিরোধীরা।

১৬ অক্টোবর থেকে এখনও পর্যন্ত দেশের নানা প্রান্তে অন্তত পাঁচটি সরকারবিরোধী সভা করেছে পিডিএম। পরবর্তী সভা রয়েছে লাহোরে ১৩ ডিসেম্বর। ইমরান খানের সরকার ওই সভা আয়োজনের অনুমতি নাও দিতে পারে। যদিও ইমরান খান জানিয়েছেন কাউকে আটকানো হবে না।

কিন্তু সমাবেশে উপস্থিত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে। সম্প্রতি লাহোরে দলীয় সোশ্যাল মিডিয়াকর্মীদের সভায় মরিয়ম এ হুমকি দেন। ইসলামাবাদকে চাপে রাখতে আমিরাতে পাকিস্তানিদের ভিসা বন্ধ!

 ইরানের গোপন পরমাণু তথ্য প্রকাশ করছে আইএইইএ

ইরানের জাতীয় সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের চেয়ারম্যান মুজতবা জুন্নুরি বলেছেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ ইরানের পরমাণু কর্মসূচির গোপন তথ্য তেহরানের শত্রুর হাতে তুলে দিচ্ছে। এছাড়া, বিভিন্ন পর্যায়ে জাতিসংঘের ওই সংস্থা বিশ্বস্ততা ভঙ্গ করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। সম্প্রতি ইরানের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত তথ্য আইএইএ’র মাধ্যমে ফাস হয়ে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে জুন্নুরি সম্প্রতি এক বক্তব্যে আরো বলেন, আইএইএ’র পরিদর্শক হয়ে যারা ইরান সফর করেন তাদের অনেকে পশ্চিমা দেশগুলোর গুপ্তচর। এসব গুপ্তচর জাতিসংঘের কর্মকর্তা হিসেবে ইরানে আসলেও এদেশের যেসব তথ্য গোপন রাখার কথা সেগুলো তারা ইরানের শত্রুদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। সম্প্রতি ইরানের পার্লামেন্টে পাস হওয়া নতুন আইনের কথা উল্লেখ করে জুন্নুরি বলেন, এই আইন বাস্তবায়ন করলে আইএইএ’র পরিদর্শকরা আর এই অপকর্মটি করার সুযোগ পাবে না। এর আগে সম্প্রতি আইএইএ’তে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি কাজেম গারিবাবাদি বলেছিলেন, আইএইএ’র ইরান সংক্রান্ত গোপন প্রতিবেদন প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবে তেহরান।  তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি আইএইএ’র সঙ্গে তেহরানের চিঠি আদান-প্রদানের সব তথ্য গোপন দলিল হিসেবে পরিগণিত; কাজেই এই গোপন দলিল ফাঁস হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে সহজে ছেড়ে দেবে না ইরান।

পশ্চিমা কিছু গণমাধ্যম সম্প্রতি খবর দেয়, আইএইএ তার সদস্য দেশগুলোর কাছে এ তথ্য প্রকাশ করেছে যে, ইরান তার নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনায় অত্যাধুনিক আইআর-২এম সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গারিবাবাদি বলেন, আইএইএ’র গোপন প্রতিবেদন পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার ঘটনা এর আগেও একাধিকবার ঘটেছে। কিন্তু এবার তেহরান আইনি ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে দৃঢ়সংকল্প। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার লক্ষ্যে সেদেশের পার্লামেন্ট সম্প্রতি এক আইন পাস করার পর পশ্চিমা গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হলো। ইরানি পার্লামেন্টের আইনে বলা হয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে আমেরিকার একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনায় অন্তত ১,০০০ আইআর-২এম সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করতে হবে।

ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে ভিন্ন পথে আরব নেতারা

ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে কয়েকটি আরব রাষ্ট্র বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানের ওপর ব্যাপক চাপসৃষ্টি করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আছে সৌদি আরবও। চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানের নাগরিকদের শ্রম ও ভ্রমণ ভিসা ইস্যু করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। খবর প্রেসটিভি ও ডেইলি সাবাহর। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন সরকার ইসরাইল এবং ভারতঘেঁষা নীতিগ্রহণ করে ইসলামাবাদকে ভিন্ন বার্তা দিতে চাইছে।

আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে পাকিস্তানের ৫০ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করে। আরব রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। সম্প্রতি পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব ইসলামাবাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ব্যাপক চাপ সৃষ্টি সত্ত্বেও ইমরান খানের সরকার নতিস্বীকার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ফিলিস্তিনিদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ায় আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে পাকিস্তানের জনগণ রাজধানী ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ অবস্থায় ইমরান খান সরকারের সামনে দুটি পথ রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া অথবা আরব রাষ্ট্রগুলোর শাস্তির মুখে পড়া।

তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হচ্ছে- ইরান, তুরস্ক, কাতার ও চীনের সমন্বয়ে যে জোট গড়ে উঠতে যাচ্ছে তাতে যুক্ত হবে পাকিস্তান। এর বিপরীতে থাকবে আমেরিকা, ইসরাইল, ভারত ও কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের জোট।

বিশ্ব বাজারে চাহিদা বাড়ছে বাংলাদেশি ওষুধের

দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎকৃষ্টমানের ঔষধ প্রস্তুত হচ্ছে। বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে ১৪৮টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো.মাহবুবুর রহমান এসব কথা বলেন। সম্প্রতি রাজধানীর খিলক্ষেতে তামান্না ফার্মেসির উদ্যোগে লেকসিটি এবং মিরপুরে দুটি মডেল ফার্মেসি উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেছেন, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ধরনের এন্টিবায়োটিক ঔষধ বিক্রি করা যাবে না।

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো: মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, আগামী দুবছরের মধ্যে দেশের সকল ঔষধ ফার্মেসিকে মডেল ফার্মেসি অথবা মডেল মেডিসিন শপে পরিণত করার সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে ঔষধ প্রশাসন। ঔষধের গুণগত মান বজায় রেখে সঠিক ঔষধ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মডেল ফার্মেসি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, তাপমাত্রার হেরফের হলে অরেক ঔষধের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। তাই ফার্মেসিগুলোর পরিবেশ আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করার প্রতি দৃষ্টি দিচ্ছে ঔষধ প্রশাসন। তারই অংশ হিসেবে মডেল ফার্মেসি বা মডেল মেডিসিন শপ প্রতিষ্ঠাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এ সময় উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, তামান্না মডেল ফার্মেসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন মৃধা বেলু, সিনিয়র সাংবাদিক কনক সাহা প্রমুখ।

উন্নয়নে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ- এরপরেও সুকৌশলে রাজ্য দখলের চেষ্টা বিরোধীদের

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন দেখছে, মানুষ যত দেখছি তত হতাশ হয়ে পড়ছে এবং রাজ্যের শাসক দল বিরোধী মনোভাব তৈরি করে দিচ্ছে বিরোধী দলগুলি। দুয়ারে দুয়ারে সরকার। এই কথাটি যেভাবে রাজ্যের একেবারে গ্রহণযোগ্য জায়গায় মানুষ গ্রহণ করেছে। ঠিক এর উল্টোটা বিরোধীরা সুযোগ নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে, প্রতিটা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে এক ধরনের প্রচার হচ্ছে, যে সরকারকে তোমার বাড়ি এসে পৌঁছেছে সবার বুকে একটাই কথা না। অনেকে ছোট ছোট সমস্যার সমাধান হয়নি, গভীর জলে চলে গেছে বাম আমল থেকেই। তেমনি গ্রাম বাংলার বহু পরিবার রয়েছে।তাদেরকে পরিষ্কারভাবে বোঝেনা হচ্ছে সরকার ভাওতা দিচ্ছে, ভোটের আগে মানুষকে ভুল বুঝাচ্ছে আদপেই তোমাদের সমস্যার সমাধান হবে না। ঠিক উল্টো টাই বোঝানো হচ্ছে, গ্রামবাংলায় গিয়ে দেখতে পাচ্ছেন সাংবাদিক পরিবারের উপরে কেমনি অত্যাচার, অনাচার, অবিচার এবং সবকিছু দিচ্ছে না এটা কিন্তু বাংলা পরিনাম ভয়ঙ্কর। মানুষ সত্যিকারে সমস্যায় জর্জরিত তাই বিরোধী দলের কথাগুলো তাদের কানে বাজছে। সেই কারণে যদি বাংলার উন্নয়ন কে সামনে রেখে মানুষের সমস্যার সমাধান করতে হয়, তাহলে দিদিকে আরো কৌশলী হতে হবে। সত্যিকারে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে রাজ্যস্তর থেকে সরকারি প্রতিনিধি পাঠিয়ে সমস্যার সমাধানের খোঁজ নিতে হবে। আর করা যেতে পারে বাংলায় সৎ নিষ্ঠাবান সাংবাদিককে সামনে রেখে তাদের কাজ দিয়ে খোঁজ নিতে হবে, কোন সমস্যার প্রকৃত ঘটনা কি আছে। দিদির উন্নয়নের সুযোগ নিয়ে আজকের বাংলার নেতারা কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে। এসব গ্রাম বাংলার লোক দেখতে দেখতে তৃণমূল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সত্যগুলো জানিনা কেন বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে খবরটি পৌঁছাচ্ছে না। যাক এসব কথা আজকেরে আমার লেখার একটাই কারণ বাংলার উন্নয়ন দেখে, আগামী দিনে মানুষকে ভোট দেবে প্রশ্নচিহ্ন সামনে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই লেখাটি বাংলার শাসক দলের কাছে অপ্রিয় সত্য হলেও সত্যি কথাটা আমি তুলে ধরব একদিকে উন্নয়ন আরেকদিকে বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি। দুইয়ের মাঝে বাংলা যেন আজকের বিপদগ্রস্ত, বাংলার উন্নয়ন যতটা মানুষের মধ্যে প্রভাব পড়েছে, ততটাই ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেনি নেতারা। বা পুলিশ-প্রশাসনের একাংশ, সেই কারণে এর প্রভাব ভোটব্যাংকে যেতে পারে আগামী বিধানসভা ভোটে।

বাংলার উন্নয়নের হাতিয়ার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উন্নয়নের দিক আমি এই লেখার মধ্যে তুলে ধরছি। বাংলার উন্নয়ন নিয়ে তোপ দাগা বিজেপিকে কার্যত সম্প্রীতি তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এদিন গত ১০ বছরে রাজ্যে করা তাঁর উন্নয়নের খতিয়ান দিয়ে বলেন, ‘বাংলায় অনেক হয়েছে, বলতে গেলে রামায়ণ-মহাভারত-কোরান-বাইবেল সব শেষ হয়ে যাবে। রাজ্যে সব উন্নয়নের কাজ হয়েছে। সেই দিকে রাজ্যে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সবুজসাথী, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী। রূপশ্রী, শিক্ষাশ্রী, ঐক্যশ্রী, শিল্পশ্রী, সমব্যথী থেকে শুরু করে একজন মানুষের জীবনের সব ক্ষেত্রের সঙ্গেই এই সরকার জুড়ে রয়েছে। মানুষকে একটু সুবিধা দিতেই এই প্রকল্পগুলি নেওয়া হয়েছে। এতে বহু মানুষই উপকৃত হবেন। এ ও মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৮ বছরের মধ্যে ৮টা নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে সময় পেয়েছি মাত্র পাঁচটা বছর। তাতেই এত কাজ করা হয়েছে। যা বাংলায় কেউ কোনওদিন ভাবতেই পারেনি। পাশাপাশি, এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, জানুয়ারি থেকে রাজ্যে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন এক হাজার টাকা করে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়াও, সিভিক ভলিন্টিয়ার, মিড ডে মিল-সহ যে ক্ষেত্রগুলি রয়েছে তা দেখে নেওয়া হয়েছে বলেই জানান তিনি। পাশাপাশি, এদিন তিনি স্পষ্টই জানান, যে বা যারা বাইরে থেকে এসে রাজ্যে গুন্ডামি করছে তারাই বহিরাগত। যারা রাজ্যে এসে থেকে রাজ্যের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন তারা বহিরাগত নয়। ­­তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তোপ দেগে মমতা বলেন, ‘একটা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরসভার নির্বাচন করছে। দেশের কী অবস্থা তা স্পষ্ট। দেশের সীমান্তের কি অবস্থা, অর্থনীতিতে ধস নামছে, সে সব দিকে নজর নেই। শুধু ভোট। পরিস্থিতি এতটাই নিচে নেমেছে যে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পুরসভার নির্বাচন করতে হচ্ছে। কারও বাড়িতে এসে রান্না করে খাবার খাচ্ছে, ছবি তুলছে। কিন্তু দেশের কী অবস্থা, কেউ দেখছে না। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির ‘বহিরাগত’ নিয়ে কথা তুলতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগমী এপ্রিল থেকে মে মাসে এই রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে

ভোট গ্রহণের কথা। সেই নির্বাচন সামনে রেখে এখন উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যের প্রধান দল তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, জাতীয় কংগ্রেস ও বাম দল ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে জয়ের আশা নিয়ে মাঠে নেমেছে বিজেপি। বিজেপির কেন্দ্রীয় পাঁচ নেতাকে রাজ্যে নির্বাচন তদারকির জন্য পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সুনীল দেওধর, বিনোদ সোনকার, বিনোদ তাওড়ে, দুষ্মন্ত গৌতম ও হরিশ দ্বিবেদি। তাঁরা কেউই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা নন।

তারা বুথ স্তর পর্যায়ের নির্বাচনী কাজ শুরু করেছেন। এই   নেতাকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের এ প্রচারে অসন্তুষ্ট বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সম্প্রীতি বুধবার সকালে কলকাতার ক্যানিং স্ট্রিটে তিনি বলেন, বাংলার উন্নয়নে অবাঙালিদের অবদান অনেক বেশি। কিন্তু তারা বহিরাগত নন। ২০০ বছর আগে ব্রিটিশ আমল থেকেই বাংলায় বাইরের মানুষ এসে এখানে বসতি স্থাপন করে উন্নয়নে শরিক হয়েছেন। তাদের অবদান অস্বীকার করা যাবে না। তাঁদের অবদান অনেক বেশি। কেন এই বহিরাগত প্রশ্ন আসবে? শাসকের বিরোধীদের নিজেদের দোষ ঢাকতে একে অপরের উপরে ইচ্ছাকৃত চাপা উত্তেজনা দোষ চাপিয়ে যাচ্ছে। এটা যেমন সত্য কথা ঠিক আরেকটি সত্য কথা অস্বীকার করা যাবে না বাংলার মানুষ ও পারবেনা, উন্নয়ন হয়েছে এই বাংলায়। ঠিক এর উল্টোটা বলতে গেলে বলতে হয়,বাংলায় উন্নয়নের সাথে সাথে অনেক অবনতি হয়েছে। অনেক জায়গায় খাতা-কলমে উন্নয়ন দেখানো হয়েছে। প্রত্যন্তগ্রামের মানুষের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে কোন না কোন সমস্যা রয়ে গেছে। গ্রাম্য সাংবাদিকদের আজও প্রাধান্য দেয় নি পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেটা কর্ণপাত করেননি। কি কথা গুলো ঠাকুর সত্যের মতো। অন্যদিকে এও বলা যেতে পারে,করোনা আবহেও বাংলায় কর্মসংস্থান হয়েছে বলে আগেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি আরও একবার সেই খতিয়ানই তুলে ধরলেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আশ্বাস আরও কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত হচ্ছে রাজ্যে। এর আগে সাধারণ মানুষকে রাজ্যের প্রকল্পগুলির সুবিধা সম্পর্কে বোঝাতে ‘দুয়ারে দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিও গ্রহণ করে সরকার। দুয়ারে দুয়ারে সরকার গিয়ে সত্যি মানুষের কতটা সমস্যার সমাধান হবে এ নিয়েপ্রশ্ন চিহ্ন উঠেছে গ্রাম-গঞ্জ থেকে। সব প্রকল্প এর অপব্যবহার হচ্ছে গ্রামগঞ্জে। প্রকৃত মানুষের সমস্যার সমাধান হয়নি,উন্নয়নের তো মানুষের জন্য তাহলে মানুষের সমস্যার সমাধান হবে না কেন।সেই প্রসঙ্গে বলতে গেলে বিগত সরকারের কথা উল্লেখ করতে হয়।বাম আমলের ৩৪ বছরের বিশাল দেনা রাজ্যের ঘাড়ে এখন পাহাড় প্রমাণ চাপ হিসাবে সামনে দাঁড়িয়েছে। ৩৪ বছর ধরে

সিপিএম হার্মাদরা রাজ্যে কোনও উন্নয়নের কাজ করেনি। উল্টে তারা শুধু বছরের পর বছর দেনা করে গিয়েছে। সেই দেনার টাকায় পকেট ভরিয়েছে সিপিএমের হার্মাদরা ও টাকার পাহাড় গড়া হয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে। হার্মাদদের এই টাকা চুরির পিছনে বরাবর সাহায্য করে গিয়েছেন দিল্লির কংগ্রেস নেতারা। সিপিএম সরকার যখন এইভাবে বছরের পর বছর দেনা বাড়িয়েছে, তখন চুপ করে থেকেছে কংগ্রেস। বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন বাম আমলের এই বিপুল ঋণের বোঝা থেকে রাজ্যকে সাময়িক রেহাই দেওয়া হোক।

মুখ্যমন্ত্রীর তাঁর আর্জি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে একাধিকবার চিঠিও দিয়েছিলেন। অতীতের কংগ্রেস সরকার যেমন সিপিএম হার্মাদদের দেনা করে টাকা চুরিতে কোনও বাধা দেয়নি, তেমনই বিজেপি সরকারও বাংলার জননেত্রীর আর্জিতে কোনও সাড়া দেয়নি। বিজেপি কখনওই বাংলার উন্নয়ন চায় না। বাংলার উন্নয়ন চায় না বলেই তারা বাম আমলের ঋণের বোঝা থেকে রাজ্যকে সাময়িক রেহাই দেওয়ার কোনও ব্যবস্থাই করেনি। বাম আমলের ঋণের বোঝা সুদে-আসলে বাড়তে বাড়তে এখন কার্যত হিমালয় পর্বতকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। বর্তমান আর্থিক বছরে সুদে-আসলে ঋণের বোঝা পৌঁছেছে ৫৬ হাজার কোটি টাকায়। এই টাকাটা বছরের শুরুতেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক  রাজ্যের কোষাগার থেকে কেটে নেয়। এমনিতেই রাজ্য সরকারের আয়ের বিশেষ সূত্র নেই। কিন্তু সংবিধানে যেভাবে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া আছে, তাতে রাজ্যের আর্থিক দায় বিপুল। এই বিপুল আর্থিক দায় রাজ্যকে সামলাতে হয় তার সামান্য আয় থেকে। টাকার ঘাটতি পড়লে কেন্দ্র সরকার নোট ছাপাতে পারে। যে সুযোগ রাজ্যের নেই। কিন্ত সীমিত আয়ের মধ্যে বাম সরকারের আমলে তৈরি হওয়া বিশাল ঋণের বোঝা সামলে রাজ্য সরকার গত আট বছর ধরে বিরাট উন্নয়নের কাজ করে যেতে সক্ষম হয়েছে। গত আট বছরে রাজ্যে যে পরিমাণ উন্নয়নের কাজ হয়েছে, তা অতীতে বাংলায় কোনও সরকার করে দেখাতে পারেনি। এমনকী দেশের মধ্যেও গত আট বছরে এই রাজ্যের সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ মডেল হয়ে গিয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের কারণেই। বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব মাত্র আট বছরে বাংলাকে এই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে সমর্থ হয়েছে। অন্যদিকে বাংলার উন্নয়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “দারিদ্র্য দূরীকরণে বাংলা প্রথম। এছাড়া ই-গর্ভনেন্স, ই-টেন্ডার, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে বাংলা প্রথম। ক্ষুদ্রশিল্পের উপর আমরা নির্ভরশীল। রাজ্যে ১০ লক্ষ আইটি কর্মী রয়েছেন। বাংলায় বেড়েছে জিডিপি। ২.৫ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি হয়েছে। উইপ্রোতে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। মহামারী কেটে যাবে। তবে রাজ্যের শিল্প, উন্নয়ন থেকে যাবে। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসও এ রাজ্যে বিনিয়োগ করেছে। তৈরি হচ্ছে সিলিকন ভ্যালি, আইটি হাব। আইটিসি, টিসিএস, ইনফোসিসের মতো সংস্থার মাধ্যমে এ রাজ্যে কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত  করেছে।” করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে জারি হয় লকডাউন (Lockdown)। তার ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট সঙ্গীণ। বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তবে এই পরিস্থিতিতেও বাংলাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনা কালে রাজ্যে কর্মহীনদের জন্য তৈরি করা হয়েছে পোর্টাল। যার মাধ্যমে ভিনরাজ্য থেকে ফেরা আইটি কর্মীরা সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। এও বলতে হয়। ৫৬ হাজার কোটি টাকা একটি আর্থিক বছরে দেনা শোধ করে এই পরিমাণ উন্নয়নের কাজ দেশের আর কোনও সরকার করে দেখাতে পারেনি। আগামিদিনেও করতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে প্রথম যে কাজে নজর দিয়েছিলেন তা হল রাজকোষের নিজস্ব আয় বাড়ানো। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর মাত্র এক বছরেই তিনি রাজ্যের নিজস্ব আয়কে দ্বিগুণ করেছিলেন। রাজ্যের নিজস্ব আয় দ্বিগুণ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে কোনওভাবেই রাজ্যবাসীর উপর বাড়তি করের বোঝা চাপাতে হয়নি। বরং তিনি জ্বালানি তেল-সহ অন্য অনেক ক্ষেত্রেই রাজ্যবাসীকে করের বোঝা থেকে রেহাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। করে নিজস্ব আয় মুখ্যমন্ত্রী বাড়াতে পেরেছেন সম্পূর্ণই তাঁর নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের গুণে। বাম আমলে রাজ্যের আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনও উদ্যোগই ছিল না সিপিএমের হার্মাদ নেতাদের। তারা দলীয় সংকীর্ণ রাজনীতির বাইরে কিছু ভাবতেই পারতেন না।

কীভাবে রাজ্যের আয় বাড়ানো যেতে পারে, কোন ক্ষেত্রে চুরি বন্ধ করা যাবে, কোন ক্ষেত্রে আধিকারিকদের উদ্যোগী করে বাড়তি আয়ের বন্দোবস্ত হবে ইত্যাদি ব্যাপারে সিপিএমের হার্মাদ নেতাদের কোনও ভাবনা ও পরিকল্পনা ছিল না। এর ফলে পুরোপুরি ভুগতে হয়েছে রাজ্যবাসীকে। রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়ানোটাকে তাঁর লক্ষ্য হিসাবে স্থির করে বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে তিনি উদয়স্ত পরিশ্রম করেছেন। নেতা যদি সারাদিন পরিশ্রম করেন, তাহলে অন্যানরাও স্বাভাবিকভাবে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ হবেন। এই রাজ্যের ক্ষেত্রে বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর সেই কাজটিই হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পরিশ্রম ও দায়বদ্ধতা দিয়ে গোটা রাজ্য

প্রশাসনকে উদবুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। কীভাবে রাজ্যের আয় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে তা রূপায়ণ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পরিকল্পনা সফলভাবে রূপায়ণ করতে পারাতেই রাজ্যের আয় দ্বিগুণ হয়েছে। রাজ্য তার নিজস্ব আয় দ্বিগুণ না করতে পারলে এই উন্নয়ন কোনওভাবেই সম্ভব ছিল না। কেন্দ্রীয় সরকার বাম আমলের ঋণের বোঝা বাবদ রাজ্যের কোষাগার থেকে বছরে ৫৬ হাজার কোটি টাকা কেটে নিচ্ছে। রাজ্যের কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা দিতে এক বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হচ্ছে। এই টাকাও ৫০ হাজার কোটি টাকার কম নয়। তার পরেও শুধুমাত্র উন্নয়নের জন্য বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা চাট্টিখানি কথা  নয়। গত আট বছর ধরে বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অসম্ভব কাজটিই সম্ভব করে আসছেন। আসলে বাংলার সরকার অতীতে প্রশাসনের শীর্ষপদে এইরকম বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেখেনি ­ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব , পরিকল্পনা রচনা করার দক্ষতা এবং প্রশাসনকে চালানোর ক্ষমতা এই অসম্ভবকে বছরের পর বছর সম্ভব করে তুলেছে। রাজ্যবাসীদের পক্ষে এটা চরম সৌভাগ্য যে তারা প্রশাসনের শীর্ষে এইরকম এক নেতৃত্বকে পেয়েছে।গত আট বছর ধরে বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে উন্নয়নমূলক কাজ রাজ্যে হয়েছে, তাতে নিশ্চিত করেই এই রাজ্যকে এক নতুন শিখরে পৌঁছে দেবে। গোটা দেশে অর্থনীতিতে যখন বিরাট মন্দা নেমে এসেছে, তখন এই রাজ্যে বার্ষিক আয়বৃদ্ধি এক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান তথা জিডিপি বৃদ্ধির হার ১২.৬৮ শতাংশ। যা গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাবেই দেশের  জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রতি বছরই কমছে। কমতে কমতে তা এখন ছয়ের ঘরে চলে গিয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাবই বলছে, রাজ্যের জিডিপি বৃদ্ধির হার সর্বকালীন রেকর্ড ১২.৬৮ শতাংশ। এটা সম্ভব হয়েছে বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সরকার উন্নয়নমূলক কাজে গত আট বছর ধরে এত বিপুল টাকা খরচ করেছে যে তার সুফল আর্থিক বৃদ্ধির হার বাড়ার মধ্য দিয়ে রাজ্য ভোগ করছে। গোটা দেশেই বেসরকারি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কমছে। শিল্পোদ্যোগীরা বেশ কিছুদিন হল লগ্নি করার ক্ষেত্রে কোনও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বেসরকারি খাতে লগ্নি ভয়ংকরভাবে কমে যাওয়ায় দেশের আর্থিক হাল প্রতিদিন খারাপ হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বারবার আর্জি জানাচ্ছে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ভাবনাচিন্তা করুক। কিন্তু কেন্দ্রের এ নিয়ে কোনও হেলদোল নেই। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরেরা প্রতিদিন বিবৃতি  দিচ্ছেন। তাঁরা পর্যন্ত সরকারকে উদ্যোগ নিতে বারবার অনুরোধ করছেন। এক্ষেত্রে দেশের মধ্যে একমাত্র উদ্যোগী হয়েছেন বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি রাজ্য সরকারের সীমিত আর্থিক ক্ষমতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। আজকে যদি পশ্চিমবঙ্গ বিপুল টাকা খরচ না করত, তাহলে এই রাজ্যেও আর্থিক মন্দা ভয়াবহ চেহারায় আত্মপ্রকাশ করত। বাম আমলে এই রাজ্যে শিল্পের সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। এখানে কলকারখানা বাম আমলে উঠে গিয়েছে। তার উপর বেসরকারি লগ্নি নেই। রাজ্যের জনসংখ্যাও বিপুল। এই বিরাট জনসংখ্যাকে বাঁচিয়ে রেখেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উদ্যোগ। বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার উপর রাজ্য সরকারের উন্নয়নী ব্যয় অন্য কোনও রাজ্য কল্পনাই করতে পারে না। বাংলায় সেটাই সম্ভব করে দেখাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারের উন্নয়নমূলক খরচ বাঁচিয়ে রেখেছে রাজ্যের দশ কোটি মানুষকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে তাঁর সরকার পরিচালনা করছেন, তা গোটা দেশের সামনে মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে অন্য রাজ্যের সরকারগুলিও ভাবতে শুরু  করেছে আর্থিক মন্দা মোকাবিলার ক্ষেত্রে সরকারের কী ভূমিকা হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় সরকার তার কোনও দায়িত্ব পালন করছে না। এই আর্থিক মন্দার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের যে পরিমাণ টাকা লগ্নি করা উচিত, তার ছিটেফোঁটাও তারা করছে না। এইভাবে রাজ্য সরকার পাশে না দাঁড়ালে বাংলার অর্থনীতির হাল ভয়াবহ হবে। বাংলাকে এইভাবে রক্ষা করছেন একমাত্র বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তাঁর নেতৃত্বে বাংলা যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তাতে আগামিদিনে এই রাজ্য আরও অনেক দূর এগোবে। বাংলার আর্থিক বৃদ্ধির এই হার বজায় থাকলে ঘাড়ে ৫৬ হাজার কোটি টাকার দেনার

বোঝা নিয়েও বাংলা সবদিক থেকে এগিয়ে যাবে। বাংলার উন্নয়ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গতি লাভ করেছে, তাকে আর কোনওভাবেই ঠেকানো সম্ভব নয়। যদিও এই রাজ্যে ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে বিজেপি নানাভাবে চেষ্টা করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে বানচাল করতে। বিজেপির এই চক্রান্ত এই রাজ্যের মানুষ সফল হতে দেবে না।