দুর্গোৎসব : সামাজিক ও দার্শনিক তাৎপর্য

মাতৃভাবে পরমসত্যের আরাধনা অত্যন্ত প্রাচীন। ঋগে¦দীয় ‘দেবীসূক্তে’ তিনি সমগ্র বিশ্বের সচরাজ্ঞী হিসাবে ঘোষিত হয়েছেন। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন : ‘মাতৃ-উপাসনা একটি স্বতন্ত্র দর্শন। আমাদের অনুভূত বিবিধ ধারণার মধ্যে শক্তির স্থান সর্বপ্রথম। প্রতি পদক্ষেপে ইহা অনুভূত হয়। অন্তরে অনুভূত শক্তি আত্মা, বাহিরে অনুভূত শক্তি প্রকৃতি। এই দুইয়ের সংগ্রামই মানুষের জীবন। আমরা যাহা কিছু জানি বা অনুভব করি, তাহা এই দুই শক্তির সংযুক্ত ফল। মানুষ দেখিয়াছিল, ভাল এবং মন্দ উভয়ের ওপর সূর্যের আলো সমভাবে পড়িতেছে। ঈশ্বর সম্বন্ধে এ এক নূতন ধারণা, এক সার্বভৌম শক্তি সব কিছুর পশ্চাতে। এইভাবেই মাতৃ-ভাব উদ্ভূত হয়েছিল।’

প্রতিমায় পূজা কেন?

বেদান্ত অনুসারে, পরমসত্য নির্গুণ, নাম ও রূপের অতীত। সেই পরমসত্যই আবার নানান দেব-দেবীর রূপ ধারণ করেন। প্রত্যেক দেব-দেবী ঈশ্বরের এক একটি ভাবের অধিষ্ঠাতা-অধিষ্ঠাত্রী। সাধারণভাবে এঁদের দ্বারা সৃষ্টির বিবর্তনের ক্রমপর্যায়ও বোঝানো হয়েছে। মুনি-ঋষিরা যোগযুক্ত অবস্থায় ঈশ্বরের যে যে রূপ দর্শন করেছিলেন সেগুলোর সাকার বিগ্রহই প্রতিমারূপে প্রকাশিত। প্রতিমায় দেব-দেবীর আরাধনা বাংলা সংস্কৃতির একটি বৈশিষ্ট্য। এ উপমহাদেশে অন্যান্য দেব-দেবী পরিবৃত দেবী দুর্গার এইরূপে প্রতিমা পূজার প্রথাটি অন্তত হাজার বছরের প্রাচীন।

বৈদিক যুগে দুর্গার প্রতিমা ছিল না। হব্যবাহী অগ্নিশিখাই তাঁর (দুর্গার) রূপ। পরে যখন প্রতিমার প্রচলন হলো তখন সেই অগ্নিশিখার রূপই দেবীর গায়ের পীতাভ-রঙ বা বর্ণ হয়ে দাঁড়ালো। কালক্রমে মৃন্ময়ী প্রতিমায় খুব ধুমধামের সঙ্গে তাঁর পূজা করার রীতির প্রচলন শুরু হলো। ‘মূর্তিগুলো’ দর্শনের বিমূর্ত ধারণা এবং অতীন্দ্রিয় উপলব্ধির মূর্তরূপ। এগুলো অসীম এবং সসীমের মধ্যে, নিত্য ও অনিত্যের মধ্যে, সাকার এবং নিরাকারের মধ্যে সংযোগকারী। একজন ভক্তের কাছে ঈশ্বরের মনুষ্যরূপ বিগ্রহ এতই স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে তিনি তার মধ্যে ঈশ্বরকে এবং প্রিয়জন হিসাবে দর্শন করেন। অধ্যাত্ম সাহিত্যে এরকম শত শত উদাহরণ পাওয়া যায় যেখানে ভক্ত ঈশ্বরকে সাক্ষাৎ জননী, সন্তান ইত্যাদি নানারূপে দর্শন করেছেন। যেহেতু মূর্তিগুলো সাধক শিল্পী দ্বারা সৃষ্ট, তাই সেই মূর্তিগুলোর রূপের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশও কোন না কোন গভীর সত্যকে প্রকাশ করে। এই সত্য যখন শিল্প সুষমায় আমাদের কাছে পরিবেশিত হয় তখন তা অত্যন্ত প্রিয় হয়ে ওঠে। মুখ্য উদ্দেশ্য আমাদের চিন্তা ও অনুভূতিকে দৈবীভাবে প্রবুদ্ধ করা। প্রতিমা হৃদয়ের স্বাভাবিক প্রকাশমাত্র শুধু নয়, পরম  দৈবী সত্তার প্রতীক।

দুর্গাপূজার প্রতীকী তাৎপর্য

দুর্গা প্রতিমা ও তাঁর সঙ্গের দেব-দেবীরা প্রতীকী উপস্থাপনা। প্রত্যেক ধর্মে প্রতীকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। হিন্দুধর্মে প্রতীক ব্যবহার এক বিশিষ্টতা লাভ করেছে। যোগশাস্ত্রে আমাদের দেহকে মন্দির এবং বিভিন্ন দৈহিক ক্রিয়াকর্মকে দেবতার আরাধনা হিসাবে গণ্য করা হয়। প্রতীকী উপস্থাপনার এই সমৃদ্ধ দৃশ্যপটের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিকভাবে হিন্দুধর্মে দুর্গা-মাতৃকার সঙ্গে পূজিত অন্যান্য দেব-দেবীর নানা প্রকার আধ্যাত্মিক, দার্শনিক ও লৌকিক ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এই ব্যাখ্যার বিচিত্রতা, এই ধর্মের উচ্চ কল্পনাশক্তি ও চিন্তার গভীরতার নিদর্শক। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় – দুর্গা, যিনি পরম সত্য, তাঁর উপলব্ধি অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। তিনি সর্বদুর্গতিনাশিনী, তাই নিম্নস্তরের প্রবৃত্তিসমূহের প্রতীক মহিষাসুরের সঙ্গে তিনি যুদ্ধরতা। দেব-দেবীদের পুঞ্জীভূত মিলিত শক্তির ফলে দুর্গা-মাতৃকার আবির্ভাব। জগতে সব শক্তিই এইভাবে সম্মিলিত প্রয়াসের দ্বারা উদ্ভূত হয়। তাই তাঁর দশ হাতের দ্বারা তিনি সমস্ত দিক ও জীবনের সমস্ত ব্যাপারই পরিব্যাপ্ত হয়ে আছেন। দেবী-মাতৃকার বোধন অথবা দেবীর জাগরণ সাধকের সুপ্ত দৈবী সত্তার জাগরণ অথবা যোগীর কু-লীকৃত শক্তির উত্থান সূচিত করে। বিল্ববৃক্ষ, যেখানে দেবীকে আবাহন করা হয় তা সুষুম্নানাড়ি অর্থাৎ কু-লিনী শক্তির যাত্রাপথের প্রতীক। নানা গাছ-গাছড়ার সমাহারে সৃষ্ট ‘নবপত্রিকা’ তাঁর সর্বভূতে অবস্থিতির পরিচায়ক। তাঁর আরাধনায় বিভিন্ন নদী ও স্থান থেকে জল আহরণ করা হয় যা জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। ভাল ও মন্দ নানাবিধ জিনিসই পূজার উপচারে ব্যবহৃত হয় যা তাঁর সমদর্শিতার পরিচায়ক, কারণ সমগ্র জীব জগৎ তাঁর থেকে উদ্ভূত হয়েছে।

গণেশ সিদ্ধিদাতা, কার্তিক শক্তিমান, লক্ষ্মী ঐশ্বর্য ও মহিমার প্রতিভূ এবং সরস্বতী জ্ঞানদায়িনী। তাঁদের বাহনদেরও বিশেষ অর্থ আছে। সিংহ মহাশক্তির বাহক। পরিপূর্ণভাবে আত্মনিয়োগের দ্বারা জীব বলশালী হয়। গণেশের বাহন ইঁদুর সূচিত করে – তীক্ষ্মবুদ্ধির দ্বারা মায়ার বন্ধন-পাশ থেকে মুক্ত হওয়া যায়। দেব সেনাপতি কার্তিকের বাহন ময়ূর ভারতের জাতীয় পক্ষী। তার নানাবর্ণের পালক সূচিত করে যে পরিপূর্ণ সাফল্যের জন্য নানাবিধ প্রচেষ্টার প্রয়োজন। লক্ষ্মীর বাহন দিবান্ধ পেঁচা যেন ধনদৌলতের অধিদেবতা, আবার সে জাগতিক বিষয় সম্বন্ধে সম্পূর্ণ উদাসীন সাধকেরও প্রতিভূ। সরস্বতীর বাহন রাজহংস বিশেষ ক্ষমতা বলে জল থেকে দুধ বা অবস্তু থেকে বস্তু পৃথক করতে পারে। লক্ষ্মী ও সরস্বতী দুজনেই পদ্মের ওপর দন্ডায়মান, এর তাৎপর্য হলো আত্মনিবেদন, যার মাধ্যমে এই বিশ্বের সৃষ্টি। চক্র হলো এই বিশ্বেরই চক্রের প্রতীক। প্রজ্জ্বলিত দীপ যেন আত্মজ্যোতির প্রতীক। যে পাঁচটি উপকরণ আন্দোলিত করে দেবীর আরতি করা হয় তা বিশ্ব প্রপঞ্চের মূল পাঁচটি উপাদানের প্রতিভূ। দীপ অগ্নির, শঙ্খস্থিত জল জলের, বস্ত্র ব্যোমের, ফুল মৃত্তিকার এবং চামর বায়ুর দ্যোতক।

বিভিন্ন পুরাণেও বৈদিক যজ্ঞবেদী মহাদেবের পত্নী ‘সতী-রূপে’ দেবী বর্ণিত হয়েছেন। বৈদিক যজ্ঞবেদীর চতুষ্পার্শ্বে অন্য চারিটি দেবতার স্থান কল্পিত হতো। একদিকে বেদমাতা সরস্বতী বা বাগ্দেবী, অপরদিকে ধনধান্য প্রদায়িনী লক্ষ্মীদেবী এবং একদিকে যজ্ঞ রক্ষাকর্তা কার্তিকেয় এবং অপরদিকে থাকতো গণনা: গণপতি, যিনি সকল মানবের পতি (পালনকর্তা) চতুর্হস্তবিশিষ্ট। গণনাগক গণপতির প্রথম হস্ত যজ্ঞের হোতা, দ্বিতীয় হস্ত ঋত্বিক, তৃতীয় হস্ত পুরোহিত এবং চতুর্থ হস্ত যজমান কল্পিত হতো।

মহামায়ারূপে ‘দেবী-মা’

ঋগে¦দে উদ্ধৃত হয়েছে – ‘মহামায়া মোহজননী। এই জীবজগৎ তৎকর্তৃকই সম্যক প্রকারে মোহাচ্ছন্ন। অতএব বিস্মায়ান্বিত হইও না। তোমরা যে পরিত্যক্ত রাজ্য ও স্ত্রী-পুত্রাদির প্রতি আসক্তি পরিহার করিতে পারিতেছ না, ইহাতে বিস্মিত বা বিষন্ন হইবার কোন কারণ নাই। তিনি ত’ মুগ্ধ করিবেনই; তুমি ত’ সামান্য জীব, তিনিই এই জগৎকে মুগ্ধ করিয়া রাখিয়াছেন। তিনি তোমার-আমার মতো জীবকে তাঁহার মহান স্বরূপ হইতে বিচ্যুত করিয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ে বিমুগ্ধ করিবেন, ইহাতে বিস্ময়ের কি আছে? কেন তিনি এরূপভাবে জগৎকে মুগ্ধ করিয়া রাখেন? আমাদিগকে জগতের খেলায় মুগ্ধ করিয়া তাঁহার কি অভীষ্ট সিদ্ধ হইতেছে? তাঁহার নিজের কোন অভীষ্ট নাই। আমাদের ইষ্টই তাঁহার অভীষ্ট। তাঁর অভীষ্টে আমাদের ইষ্ট একাত্ম করতে হলে আমাদের আত্ম নিবেদন করেই লাভ করতে হবে। আমরা এইরূপ মুগ্ধ হইতে চাহিয়াছিলাম, এইরূপ বহুত্বের-ক্ষুদ্রত্বের খেলা করিবার জন্য একদিন মহতী ইচ্ছাময়ী মায়ের শরণাপন্ন হইয়াছিলাম। সেইদিন হইতে ইচ্ছাময়ী মা আমাদিগকে বুকে করিয়া অনন্ত বহুত্ব-অদ্বিতীয় বহুত্ব সম্ভোগ করাইতেছেন। এক মুহূর্তের জন্যও অঙ্কচ্যুত করেন নাই। অনেক সাধক এইখানে আসিয়া বড় সমস্যায় পড়েন। সাধক যখন ‘আর বহুত্ব চাহি না, আর বিষয়-বাসনা চাহি না, আর কামিনী কাঞ্চন চাহি না, আর বহুত্বের খেলা ভাল লাগে না, মা। এক হইতে আসিয়াছি আবার এক কর, মা।’ এইরূপ বলিতে বলিতে সরল নগ্ন শিশুটির মতো ধূলিবিলুণ্ঠিত হইয়া মা মা করিয়া কাঁদে, তখনও এই বহুত্বের স্পন্দন হৃদয়-বিদারক বাসনার সিন্ধুক্ষিত বহ্নির শেষ শিখা নির্বাপিত হয় না। শিশু যত চাই না চাই না বলিতে থাকে, মা যে ততই জোর করিয়া সেই অপ্রার্থিত বিষয়সমূহ দিতে থাকেন। আজ না হয় তুমি পরিপুষ্ট হইয়াছ, আজ বিষয়কে অকিঞ্চিৎকর বুঝিয়াছ, তাই আজ আর বহুত্ব চাহি না বলিতেছ; কিন্তু একদিন তুমি এই বহুত্বের জন্যই মায়ের শরণাপন্ন হইয়াছিলে। মা সে কথা ভুলিয়া যান নাই – তুমি চাহিয়াছিলে; তাই তিনি স্নেহে মুগ্ধ হইয়া তোমারই প্রার্থিত বহুত্ব নির্বিচারে দিতেছেন। পুত্র বিকারের ঘোরে মায়ের নিকট তেঁতুল খাইতে চাহিয়াছিল। মা তখন দেন নাই। এখন পুত্রের বিকার দূর হইয়াছে। তেঁতুল খাওয়ার সেই কথাটি মনে করিয়া রাখিয়াছেন, একদিন পুত্র তেঁতুল চাহিয়াছিল। আজ আর সে চাহে না, তথাপি পুত্রস্নেহে বিমূঢ়া মা তেঁতুল আনিয়া সন্তানের মুখের কাছে ধরিলেন। খাও বৎস! একদিন বিকারের ঘোরে চাহিয়াছিলে, তখন তোমায় দিতে পারি নাই, এখন তোমার বিকার দূর হইয়াছে, এখন অনায়াসে তেঁতুল খাইতে পার।’ পুত্রের অনিচ্ছায়ও তখন মা তাহাকে তেঁতুল খাওয়াইয়া থাকেন। ঠিক এইরূপে মহামায়া মা জগৎকে মুগ্ধ করিয়া রাখিয়াছেন।’

যে সকল সাধক এই অবস্থায় আসিয়া হতাশ হয়ে পড়েন, তাঁহাদের সম্মুখে জগতগুরু অভয় বাণীর বিজয়-পতাকা ধরিয়েছে? বলিতেছেন-‘তয়া সম্মোহ্যতে জগৎ’ তিনিই এই জগৎকে মুগ্ধ করিয়া রাখিয়াছেন-তুমি কি করিবে? মা-ই যে মোহরূপে সাজিয়া তোমায় মুগ্ধ করিতেছেন। ঐ মোহরূপিণী মাকে দেখ। যতই মুগ্ধ হও না কেন, তুমি মা বলিতে ছাড়িও না। কাম আসে, বল – জয় মা; কাঞ্চন আসে, বল – জয় মা; বিষয়-বাসনা আসে, বল – জয় মা; মমতা আসে, বল – জয় মা; তোমার ভয় কি! সবই যে মা! যে মূর্তিতেই আসুক না কেন, তোমার মা-ই ত’ আসেন। হইক ক্ষুদ্র, হউক মলিন, হউক পঙ্কিলতাময়, তিনি তোমারই মা। মা বলিয়া তাঁহাকে অভিবাদন কর। মা বলিয়া ঐ মোহরূপিণী মায়ের শ্রীচরণে অশ্রুসিক্ত পুষ্পাঞ্জলি দাও, আর বল-’মা! তুই ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের প্রসূতি। এই বিশ্বাসটি বজ্রবৎ দৃঢ় ধারণায় তোমার বুকে বসাও, জীবন নির্বাহের শেষাহ্ন পর্যন্ত মাকে এভাবেই আঁকড়ে পড়ে থাক, দেখ মা কি করেন।

বিজয়া দশমীর তাৎপর্য

বিজয়া দশমী আর দশেরা সম অর্থেও ব্যবহৃত হয়। কেউ বলে দশেরা, কেউ দশহারা, কেউ বা বলে নবরাত্রি দুর্গোৎসব। শুক্ল পক্ষের প্রতিপদে শুরু হয়ে এই পুজো চলে দশমী পর্যন্ত। দশেরা অর্থাৎ নবরাত্রি, এর প্রথম নয় দিন মা দুর্গাকে পুজো করা হয় নানান অনুষঙ্গে-ভাবে। শক্তির আরাধনা চলতে থাকে। অতঃপর দশম দিনে মাকে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। তারপর মাকে বিসর্জন দেয়া হয়। আবার এসো মা, এই বলে তাঁকে আবাহন জানানো হয়। শুরু হয় সকল বিভেদ ভুলে একে অপরের সঙ্গে আলিঙ্গন করে মিষ্টিমুখ। সকলেই এই উপলক্ষে একতার মেলবন্ধনে আবদ্ধ হয়। নবগ্রহের যেমন নয়টি গ্রহ যথা রবি, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রাহু ও কেতু, ঠিক একইভাবে মানুষের শরীরেও নবদ্বার রয়েছে – যেমন দুই চক্ষু, দুই কর্ণ, দুই নাসিকা, মুখ, মলদ্বার, প্রস্রাব দ্বার। এই নবদ্বার যদি ঠিকঠাক চলে, তবেই মানুষ সুস্থ থাকবে। নবরাত্রি মানে নয়টি রাত্রি, নয়টি গ্রহের পরিচালনায় মানবদেহ যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, প্রতিটা গ্রহের প্রভাবে শরীর বৃত্তিয় অঙ্গরাশি যেন যথানিয়মে চলতে পারে, সেজন্য শুধুমাত্র দুর্গাপুজোর বাহ্যিক আড়ম্ব^রই নয়, অন্তর থেকে দেবীকে পুজো করা হয়। দশমী তিথিতে দেবী প্রতিমাকে নদী অথবা পার্শ্ববর্তী জলাশয়ে বিসর্জন দেয়া হয়। এরপর শান্তি ও আশীর্বাদ প্রার্থী সকলের মধ্যে শান্তিজল ছিটানোর মধ্য দিয়ে এই আড়ম্বরপূর্ণ মহোৎসবের সমাপন সূচিত হয়।  বিজয়া দশমীর এই আনন্দ চলতে থাকে লক্ষীপুজো   পর্যন্ত।