জানুয়ারিতেই করোনার ভারতীয় টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ

সংলাপ ॥ সারাবিশ্বে যেভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস সে তুলনায় বাংলাদেশ কিছুটা ভালো অবস্থানে। তবুও থেমে নেই মৃত্যু, থেমে নেই সংক্রমণ। প্রতিদিনই বাড়ছে লাশের আর সংক্রমনের মিছিল। দেশে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ২৫ হাজারের অধিক মানুষের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭ হাজার ৮০০ জনের অধিক মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৭০ হাজারের বেশি।

প্রায় দশমাস ধরে চলমান করোনা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে নিরাপদ থাকতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার তাগিদ দেন।

১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আওয়ামী লীগের এক আলোচনায় গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা সতর্ক করে বলেন- আগামী মার্চে করোনার আরেকটি ধাক্কা আসতে পারে। এসময় করোনার ভ্যাকসিন পেতে সরকারের আন্তরিকতার কথা জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, শিগগিরই ভ্যাকসিন পেতে সরকার অর্থ বরাদ্ধসহ সবরকম ব্যবস্থা করে রেখেছে।ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের টিকা উৎপাদনকারী কোম্পানি ফাইজার ও জার্মানির বায়োএনটেকের যৌথভাবে তৈরি করোনার টিকাও সংগ্রহের প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি কোভ্যাক্স থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো চিঠিতে এ প্রস্তাব এসেছে। এর ফলে আগামী এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের জন্য এই টিকা পাবার আশা করছে সরকার।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরযাদি সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, কোভ্যাক্সের পক্ষ থেকে গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশসহ  ১৯২ টি সদস্য দেশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারির শেষ অথবা ফেব্রুয়ারিতে এসব দেশের মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। সদস্য দেশগুলোর আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দেশের আগ্রহপত্র ও অবকাঠামো পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে। ২৯ জানুয়ারির মধ্যে টিকা বিতরণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর সদস্য দেশগুলোকে টিকাপ্রাপ্তির বিষয়ে জানানো হবে। জাতীয়ভাবে কোভিড-১৯ টিকা বিতরণ ও প্রস্তুতি কমিটি ফাইজারের টিকা পেতে সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনলাইনে অ্যাপের মাধ্যমে নাম তালিকাভুক্ত করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। এই টিকা ফ্রন্টলাইনে কাজ করেন- এমন ব্যক্তিদের দেওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছে কোভ্যাক্স। এ বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, ওই শর্ত আমরা মেনে নিয়েছি। এই টিকা স্বাস্থ্যকর্মীদের দিতে পারলে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা অন্যদের দেওয়া যাবে। জানুয়ারিতেই ভারতীয় টিকা পাবে বাংলাদেশ। স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে ৫০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। চুক্তিমাফিক ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই টিকা আমদানি করছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুল হাসান পাপন গত সোমবার গণমাধ্যমকে জানান, প্রথম চালানে ৫০ লাখ টিকা দেশে আসতে পারে। এরপর প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে টিকা আসবে।