জনসেবার রাজনীতির ঐতিহ্যে প্রত্যাবর্তন!

শেখ উল্লাস ॥ ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করাই হবে মুজিব বর্ষের লক্ষ্য, যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ উন্নত জীবনযাপন করতে পারে। দেশের ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে ঘর দিতে পারার চেয়ে বড় কোনো উৎসব আর কিছুই হতে পারে না।’ গত ৯ মাঘ ১৪২৭, ২৩ জানুয়ারি রোববার সারা দেশে ৬৬টি হাজার ১৮৯টি পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান ও ৩ হাজার ৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন এবং এ উপলক্ষে অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে শান্তিপ্রিয় দেশবাসী নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছে। বিশেষ করে পাকা বাড়ি ও জায়গা পাওয়া একদা ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষদের আবেগ-অনুভূতি-উপলদ্ধি যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে তাতে রাজনীতিবিমুখ এদেশের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষদের নতুন আশা উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে। এ যেন এদেশের রাজনীতিতে দেশসেবা ও জনসেবার ঐতিহ্যের প্রত্যাবর্তনের আর এক নতুন যাত্রা! স্মরণ করতে হয়, ১৯৭১’এর ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর উচ্চারিত ‘এদেশকে আমরা গড়ে তুলবো, এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে।’             

বস্তুত রাজনীতি-ব্যবসা-বাণিজ্য-চাকুরি-বাকরি-ধর্মীয় আচার- ওয়াজ মাহফিল-পূজা-পার্বন-বক্তৃতা- ‘বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা’ করে শুধুই নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক-ব্যালেন্স বাড়ানো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কাজের আওতায় পড়ে না। এই প্রতিযোগিতাটি এমনভাবে এদেশের মানুষকে পেয়ে বসবে-এমনটি ১৯৬৯ ও ’৭১-এ কেউ হয়তো চিন্তাও করেনি। বিশেষ করে ১৯৭৫’এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পাকিস্তানী ভাবধারায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রাজনীতির সংস্কৃতিতে এ প্রবণতাটিই শক্তিশালী হয়েছে। যার পরিণতি ধনী আরও ধনী হবে, গরীব হবে আরও গরীব। ফলে বাস্তবতা এমনই যে, ব্যাংক-ব্যালেন্স বাড়ানোটাই যেন জীবনের প্রধান লক্ষ্য। যদিও নিজেকে ধার্মিক-ধর্মভীরু দাবি করতে এদেশে কেউ পিছপা হয় না। গর্ব করে সবাই নিজেকে মুসলমান দাবি করে! এদেশের জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ মুসলমান-এ অহংবোধও কম দেখা যায় না। এ মর্মে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর একটি কথা স্মরণযোগ্য। সাধক একদিন তাঁর কাছে নবাগত একজনকে প্রথম দিনেই বলেছিলেন এ রকম একটি কথা, ‘কেউ যদি নিজেকে নবী মুহাম্মদ (যাঁর কৃপা আমাদের ওপর বর্ষিত)-এঁর অনুসারী দাবি করেন তাকে সবার আগে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টটা বন্ধ করে আসতে হবে। কারণ, নবী মুহাম্মদ-(যাঁর কৃপা আমাদের ওপর বর্ষিত) এঁর কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিলো না। যা-ও ছিল, যা পেয়েছিলেন সেসবও তিনি মানুষের কল্যাণে, মানবতার মহান ব্রতে ব্যয় করেছিলেন’।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনসংখ্যা অধ্যুষিত এদেশের রাজনীতিতে গণবিরোধী শক্তির অনুপ্রবেশ কীভাবে শুরু হলো-এ প্রশ্নের উত্তর পেতে আর একটু গভীরে যাওয়া দরকার। এক অর্থে এর হিসাব খুব সহজ। ১৯৪৭’এ ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর এদেশের মানুষ তথা বাঙালিদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর নানামুখী ষড়যন্ত্র, টালবাহানা এবং শেষ পর্যন্ত ৭১’এর ২৫ মার্চে বর্বরতম গণহত্যা চালানো হয়। আর তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় এদেশে দেশপ্রেমের রাজনীতির পক্ষে ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কার কী অবস্থান? দেশের ও মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে ওইদিন যারা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে হাত মিলিয়ে ভোগ-বিলাসে লিপ্ত হয়েছিল তারাই ইতিহাসে রাজাকার হিসেবে অভিশপ্ত হয়ে আছে। বিষয়টি এদেশে এমনই রূপ ধারণ করেছে যে, রাজাকার শব্দটির অর্থই এখন বিশ্বাসঘাতক, দেশ ও সমাজের শত্রুদের দালাল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছে। কেউই এখন আর রাজাকার বা রাজাকারের সন্তান-বংশধর-আত্মীয় হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করতে চায় না। পারলে সবাই মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে চায়। ফলে দেশসেবার রাজনীতিকেই মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শ এবং দেশসেবার ব্রত না নিয়ে নিজের স্বার্থে যারা রাজনীতি করতে চায় তারাই রাজাকারী আদর্শের অনুসারী। বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজনীতিতে স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী এই রাজাকারী নীতির অনুসারীরা কখনও স্থান লাভ করতে পারবে না। আর পারলেও দেশের উন্নতিবিধান এদের দ্বারা কখনও সম্ভব হবে না। অথচ দুঃখজনক হলেও একথা সত্য যে, স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শক্তিই এদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল দীর্ঘ ২১টি বছর। তার চেয়ে আরও দুঃখের বিষয় স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগের ভেতরেই ঘাপটি মেরেছিল স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এবং এদের ইন্ধন ও সহযোগিতাতেই সংঘটিত হয়েছিল ১৫ আগস্ট-জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে দেশকে পাকিস্তানী ভাবধারায় প্রত্যাবর্তন। এই অপশক্তিই রাজনীতিতে দেশসেবার ঐতিহ্যবাহী ধারাটিকে নিশ্চিহ্ন করে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ-অত্যাচার-নিপীড়ণ-নির্যাতনের ধারায় নিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয়েছিল।

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এদেশে সরকার ও রাষ্ট্রের পরিচালকরা রাজনীতিতে দেশসেবার ঐতিহ্যের বিপরীতে স্বাধীনতার ফসলকে ধূলায় পরিণত করতে কত হত্যা, ষড়যন্ত্র, দুর্নীতির আশ্রয় যে নিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। অবশ্য, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, যারা পাকিস্তানী হানাদারদের দোসর ছিল, তারা এদেশের গণমানুষের কল্যাণ চাইবে-সেটা আশা করাও বৃথা চেষ্টা। কারণ, এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গণমানুষের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ ছিল স্বতঃর্স্ফূত। যুদ্ধটি বা সংগ্রামটির নামই ছিল মুক্তিযুদ্ধ বা জনযুদ্ধ। এই জনমানুষ বা গণমানুষের সার্বিক কল্যাণচিন্তা তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা বোকামী ছাড়া কিছুই নয়। তাই তো দেখা যায়, ১৯৯৬ সালের ১২ই জুনের নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ার পর থেকেই কেবল এই বাংলাদেশ একটি কার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে গেছে। বহু ঘাত-প্রতিঘাত, ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশের অর্থনীতিকে আজ এমন এক অবস্থানে নিয়ে এসেছেন যা বিশ্বের কাছে বিস্ময়ের ব্যাপার।              

এই বিস্ময়ের প্রকৃষ্ট উদাহরণ দেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ। আর এই ২৩ জানুয়ারি সারা দেশে গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষদেরকে জমি ও বাড়ি প্রদানের মতো বিরাট কর্মযজ্ঞের সূচনা দেশের অবহেলিত বঞ্চিত মানুষদের চিত্তে আশা জাগানোর নতুন এক নজির স্থাপিত হলো।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের প্রাক্কালে এই মাহেন্দ্রক্ষণে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের (এসএসএন) বিভিন্ন ভাতা সরাসরি উপকারভোগীদের মুঠোফোনে পাঠানোর উদ্যোগ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করব, মানুষের সেবা করব। আমার সরকার মানে মানুষের সেবক। এই সেবক হিসেবেই কাজ করতে চাই।’  সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি যেদিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম শপথ নিয়েছিলাম, সেদিনই বলেছিলাম, দেশের সেবক হিসেবে কাজ করব। প্রধানমন্ত্রীত্ব আমার কাছে কিছু না, কেবল কাজের সুযোগ, কাজের ক্ষমতাটার প্রাপ্তি।’ সরকারের নতুন এই উদ্যোগের আওতায় দেশের শীর্ষ দুটো মুঠোফোন ফাইন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বয়স্কভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা সরাসরি উপকারভোগীদের মুঠোফোনে পাঠানো হবে।

বিশ্ব রাজনীতিতেও এই ঐতিহ্যের নতুন হাওয়া বইছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর জো বাইডেন বলেছেন-, ‘আমি দেশ সার্ভ করতে এসেছি, ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়াতে নয়। যদি ব্যাংক-ব্যালেন্স বাড়ানোর ইচ্ছা থাকতো তবে ব্যবসায়ী হতাম, রাজনীতিবিদ নয়। রাজনীতি হলো বিলিয়ে দেওয়ার জায়গা, বিলিয়নিয়ার হবার নয়। ব্যবসায় মুনাফা থাকে, রাজনীতিতে থাকে শুধু সেবা। এই সেবাটাই হলো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় মুনাফা।’ 

সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জনৈক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আজকের দিনে জাতির প্রতি আপনার বাণী কি? এর উত্তরে বঙ্গবন্ধু বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাণী উদ্ধৃত করে বলেছিলেন, ‘ উদয়ের পথে শুনি কার বাণী/ ভয় নাই ওরে ভয় নাই/নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান/ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।’ পরদিন ১৩ জানুয়ারি স্বাধীন দেশে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু গণতান্ত্রিক পথে সমাজতন্ত্রে উত্তরণের লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন। এদেশের রাজনীতির ঐতিহ্যটা কী হবে- কী হওয়া উচিত বঙ্গবন্ধুর এসব বাণীতেই তা স্পষ্ট হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এদেশে স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী চক্র এ দেশে ফুলে-ফেঁপে অনেক মোটা হয়েছে। অবশ্য এর আগেও, অর্থাৎ, স্বাধীনতার পর পরই অনেকে যাদের মুক্তিযুদ্ধে কোনো অংশগ্রহণই ছিলো না, অথবা যাদের ছিলো তাদেরও ক্ষুদ্র একটি অংশ অবাঙালিদের পরিত্যাক্ত বাড়ি-সম্পত্তি দখল করে রাজনীতিতে-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু যে বৃহৎ জনগোষ্ঠী একদিন বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতার জন্য, দেশের জন্য উদারভাবে সবকিছু বিসর্জন দিয়েছিল তারা পেছনেই পড়ে গেল। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে, এদেশের স্বাধীনতার সশস্ত্র যুদ্ধে, মুক্তিবাহিনীতে অংশগ্রহণকারীরাই অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে। ৭১’এর ২৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের এক সমাবেশে বলেছিলেন, ‘তিন বছর আমি তোমাদেরকে কিছুই দিতে পারবো না।..’ মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর কথায় আশ্বস্ত ছিলেন। কিন্তু, বঙ্গবন্ধুর সরকারও দলের মধ্যেই স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী চক্র এমনভাবেই বাসা বেঁধে ছিল যে, তাদের মুখোশ উন্মোচিত হওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নিহত হতে হয়েছিল। তাঁকে হত্যার পর তাঁর দলের লোকেদের দিয়েই খুনী চক্র নতুন সরকার গঠন করেছিল। তাঁকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১টি বছর খুনীচক্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাসন করতে গিয়ে এদেশের রাজনীতির ঐতিহ্যটাই মুছে ফেলে দিতে উদ্যত হয়েছিল ৭১’এর পরাজিত শক্তি। চক্রটি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং এর সর্বাধিনায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামটিই নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার পায়তারা করে সাময়িকভাবে সফলও হয়েছিল।

অথচ এদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয় সকল নেতা-সংগঠন-সংগঠক-কর্মীর মূল লক্ষ্যই ছিল সমাজসেবা, দেশসেবা ও মানবসেবা। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তানী আমলের শাসন-শোষণ-অত্যাচার-নিপীড়ণ-নির্যাতন-বঞ্চনা থেকে বাংলার মানুষকে মুক্ত করতে জীবন উৎসর্গকারী সবাই ছিলেন দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতাকর্মী। ‘মুক্তির মন্দির সোপানতল কত প্রাণ হলো বলি দান, লেখা আছে অশ্রুজলে’, ‘এক সাগরই রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলো যারা আমরা তোমাদের ভুলবে না, দুঃখসহ-বেদনার কন্টক পথ বেয়ে শোষণের নাগপাশ ছিড়লে যারা আমরা তোমাদের ভুলবোনা’ এই ধরনের অসংখ্য গান সেইসব দেশ্রপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কথাই শুধু স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৯৭১’এর ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাইনা, আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই।’ 

তাই মুজিব বর্ষের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সচেতন দেশবাসীর বক্তব্য হচ্ছে, সরকারও রাষ্ট্র পরিচালিত এই দেশসেবার মধ্য দিয়ে যে রাজনীতি তাকে আরও বেগবান করার জন্য অশুভ চক্রের সকল কালো হাতকে অবশ করে দেয়ার এখনই সময়। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে বাংলার ঐতিহ্যবাহী রাজনীতির ধারাটি শক্তিশালী হওয়ার যাত্রাপথ জাতি অতিক্রম করছে যা থেমে যাওয়ার নয়। কারণ, লাখো শহীদের রক্তে কেনা এদেশ ব্যর্থ হতে পারে না। স্বাধীনতার চেতনার রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলকে শুধু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থে ব্যবহারের স্বপ্ন নিয়ে যারা ভীড় জমিয়েছে তাদের এখান থেকে কেটে পড়াই নিজেদের এবং জাতির জন্য মঙ্গলজনক। জনসেবা ও দেশসেবার ব্রত নিয়ে যারা এদেশে রাজনীতি করতে আসে তাঁরাই শেষ পর্যন্ত সফল হয়-এটাই ধর্ম ও সংস্কৃতির মূল কথা।