করোনাভাইরাস প্রকল্পে দুর্নীতি; ইন্দোনেশিয়ার মন্ত্রী গ্রেফতার

সংলাপ ॥ ইন্দোনেশিয়ায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারীতে দুর্গত লোকজনের খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দেশটির সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মন্ত্রী জুলিয়ারি বাতুবারা ওই কর্মসূচি থেকে  ১২ লাখ ডলার ঘুষ খেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা এরইমধ্যে বাতুবারার কয়েকটি সুটকেস, ব্যাকপ্যাক এবং কয়েকটি খাম আটক করেছে যার মধ্যে ১২ লাখ ডলার সমমূল্যের অর্থ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সিরিজ অভিযান চালানো হয়। তাকে সন্দেহের তালিকায় রাখার কারণে নিজেই আজ দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার সদর দপ্তরে হাজির হন। সামপ্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই নিয়ে প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো সরকারের দ্বিতীয় কোন মন্ত্রী দুর্নীতির ঘটনায় গ্রেফতার হলেন। জলিয়ারি বাতুবারাকে গ্রেপ্তারের পর প্রেসিডেন্ট উইদোদো বলেছেন, ‘এই অর্থ জনগণের, করোনাভাইরাসের মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করার অর্থ এটি।’ তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন, কোনো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে তিনি সুরক্ষা দেবেন না।করোনাভাইরাসের মহামারীতে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির সরকার অভাবগ্রস্তদের জন্য খাদ্য সহায়তা মতো নানা রকমের সহযোগিতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ ধরনের একটি সহযোগিতা কর্মসূচির ঠিকাদারদের কাছ থেকে বাতুবারা ঘুষ খেয়েছেন।

‘জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মিথ্যাকে ধ্বংস ও সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্রতী হওয়ার জেহাদে রত থাকলে আত্মিক উন্নতি হবেই হবে।’

সংলাপ ॥ গত ১৭ অগ্রহায়ন, ২ ডিসেম্বর ছিল সূফী সাধক আনোয়ারুল হক’এঁর আবির্ভাব দিবস। এই অমর বাণীর ওপর মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ (হামিবা) সভাপতি শাহ্ সুফী ড. মুহাম্মদ মেজবাহুল ইসলাম, বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ) এর প্রধান উপদেষ্টা শাহ্ মো. লিয়াকত আলী, সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ পর্ষদের নির্বাহী সদস্য নজরুল ইশতিয়াক, মিরপুর আস্তানা শরীফের ভক্ত মাহবুবুল হক এবং হামিবার সহ-সভাপতি শাহ ইমিতয়াজ আহমদ।

শাহ্ ইমতিয়াজ আহমদ বলেন, ১৭ অগ্রহায়ণ, সূফী সাধক সাধক আনোয়ারুল হক’এঁর শুভ আবির্ভাব উপলক্ষে আজকের এই অনুষ্ঠানটি মিরপুর আস্তানা শরীফ এবং আমরা যারা এর ভক্ত-আশেকান হিসেবে তাদের জন্য বিশেষ, বিশেষ এবং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ কেন এই দিনটিকে টপ প্রায়োরিটি (সর্বোচ্চ গুরুত্ব) গুরুত্ব দিয়ে এই দিনটি উদযাপন করতেন তা অনুধাবন ও উপলব্ধি করতে না পারলে কিছুই হবে না। ১৭ অগ্রহায়ণ উদযাপনের জন্য কেবলমাত্র মিরপুর আস্তানা শরীফকেই দেয়া হয়েছে। সকল ভক্ত-আশেকানগণের মূল এই মিরপুর আস্তানা শরীফ। এই মূলের সাথে সংযুক্ত না থেকে বাইরে থেকে যত অহংবোধই প্রকাশ করা হোক না কেন কিছু হবে না। আদবের যে-কোনো ধরনের বরখেলাপ সূক্ষ্ম বিচারে ধরা পড়বেই। মানুষের নিজের ভেতরে থাকা এই ধরনের সংকীর্ণতা ও হীনমন্যতাকে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখতেন। আত্মিক উন্নতির জন্য নিজেকে তৈরি হতে হয়। জীবনে সত্য-মিথ্যা এক এক জনের কাছে এক এক রকম। মূল বা কেন্দ্রের সাথে সংযোগ রেখে এই পার্থক্য নিজের মধ্যে উপলব্ধি করতে হয়।

মাহবুবুল হক বলেন, নিজ নিজ মুর্শিদকে স্মরণে রেখে চলতে পারলে, কোনো কাজে একনিষ্ঠভাবে লেগে থাকলে আত্মিক উন্নতি হবেই হবে। আমাদের মনের মধ্যে যে অসংখ্য মূতি সেটা ভাঙ্গতে হবে। হাক্কানী স্কুল থট-এর দায়িত্বই হচ্ছে মানুষের মধ্যে সত্যের আলো ছড়িয়ে দেয়া। ধর্মীয় অন্ধত্ব থেকে বের হয়ে এসে পথ চলতে হবে। মুর্শিদ সব সময়ই আছেন, মুর্শিদই হচ্ছেন ভক্তের সবচেয়ে উত্তম গাইড।

নজরুল ইশতিয়াক বলেন, জীবনকে কর্মের মধ্যে যুক্ত রাখার মধ্য দিয়ে গতিশীল জীবনে যে বোধের জন্ম সেখানে একনিষ্ঠভাবে ধরে রাখতে পারলে সত্য দেখা যায়। জীবনের উপলব্ধি ও প্রাপ্তির মধ্যেই জীবনের মাহাত্ম্য, এই এক জীবনের মধ্যেই মহাজীবনকে উপলব্ধি করতে হবে। দরবারের বাইরের যে-জীবন সেটি মোহ-কামনায়, ক্ষুদ্র-খিত চিন্তা-সমাজ-সংসারের মোহাচ্ছন্নঘেরা। জীবনের বন্ধন, কেবলমাত্র সংসার জীবন পচা-পানির মতো। দরবারে-সুফী সাধকের সংস্পর্শে আসলে সমৃদ্ধ জীবনের সন্ধান মেলে। সাধক মানেই অনুশীলনকারী। সাধকের সান্নিধ্য পাওয়ার পর যে জীবন  সেটিই সত্যজীবন, সত্যমানুষের জীবন। দরবারী জীবন উদ্ভাসিত জীবনের সন্ধান দিয়ে যান সাধক। সেখানে শুধুই আত্মসমর্পণ-নারী-পুরুষ, হিন্দু-মুসলমান বলতে কিছু নেই। আরোপিত জীবন-আবরণের মধ্যে থাকা, দেহ-চিন্তার মধ্যে যা যুক্ত হয়ে আছে, প্রেমের অনুরাগে সব আবরণ খুলে ফেলে দিতে না পারলে নতুন উপলব্ধি, নতুন সৃষ্টিতে যাওয়া যায় না, পাওয়া যায় না মহাজীবনের সন্ধান। মহাজীবনের পথে চলার মধ্যেই থাকে আত্মিক উন্নতি।

শাহ মো. লিয়াকত আলী বলেন, যিনি জন্মের আগে অবস্থান করেন তাঁরই আবির্ভাব আবহ হয়। তিনি অবস্থান করেন জন্মও মৃত্যুর মাঝখানে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে দেহজগত ও আত্মজগত। আত্মজগতের শুরুও নেই, শেষও নেই। আত্মাকে শক্তিশালী করতে হলে দেহকে কাজে লাগাতে হয়। আত্মার জগত তিন ধরনের-মুনাফেক, মুশরিক ও মোমিন। মোমিনদের আত্মাজগত নিয়ন্ত্রণে থাকে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে -দুনিয়াদারি ও আত্মিক জগতে সত্যকে ধারণ করি কি না সেটিই মূল কথা। দেহজগতে নারী-পুরুষ চিন্তা থাকে বলে এখানে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকে না। ফলে শান্তিও থাকে না। আত্মিক উন্নতির জন্য সত্যপথে চলা শুরু করলেই নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা লাভ করা যায়, তখনই শান্তির পথ পাওয়া যায়। শান্তিতে থাকতে হলে সাধকদের পথে চলতে হবে-সংযোগে থাকলে অবশ্যই হবে। শাহ্ সুফী ড. মেজবাহুল ইসলাম বলেন, আমার উন্নতিই আত্মিক উন্নতি। মহান সাধকদের নির্দেশিত পথ এবং আমাদের যার যার ওপর নির্ধারিত দায়িত্ব-কর্তব্য সম্যকভাবে পালনের মধ্য দিয়েই আমরা সেই উন্নতি সাধন করতে পারি।