কম শক্তি যার গায়, উঠোনা হাক্কানীর নায় উঠেই যদি পড়ো তবে, ভয় করো না এ সংসারে

– সাধক আনোয়ারুল হক

সাইমা (মাস্কাট) ॥ কম শক্তি যার গায়-উঠোনা হাক্কানীর নায়-উঠেই যদি পড়ো-তবে ভয় করো না এ সংসারে। বাণীটি সাধক আনোয়ারুল হক্-এঁর। পৃথিবীতে শক্তির উৎস হলো সূর্য। সূর্যেরও শক্তির একটি নিদিষ্ট উৎস আছে। পদার্থ বিজ্ঞান পুরোটাই শক্তির আলোচনায় উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ। শক্তি সর্ম্পকে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞান উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ হয়েছে। আরো শক্তি অর্জনের লক্ষ্যে রাত-দিন গবেষণা অব্যাহত রাখার বিকল্প নাই। যে বল প্রয়োগে বস্তুকে স্থানান্তরিত করা যায় না, ইহা বল নয়। যাঁরা শক্তি নিয়ে গবেষণা করেন-তাঁরা শক্তি হয়েই জগতে বেঁচে আছেন এবং থাকবেন। বিশ্বজুড়ে করোনার টিকা আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানীরা রাত-দিন পরিশ্রম করছেন। চুড়ান্ত একটি পর্যায়ে যাওয়ার জন্য আরো গবেষণা চলছে। অর্থাৎ আরো জ্ঞান শক্তির প্রয়োজন। শক্তি যদি শূন্য হয়ে পড়ে তবে সকল কিছু অচল। সুতরাং, জীবন চলার পথে শক্তি আবশ্যকীয় একটি বিষয়।

পদার্থ বিজ্ঞানে শক্তির গবেষণা হয়। কিন্তু এই গবেষণা, সাধক তাঁর বাণীতে নিয়ে এসে আমাদের কি ব্যাখা করতে চাইলেন ? পৃথিবীকে সবচেয়ে বেশী শক্তির প্রয়োজন পা থেকে মাথা পর্যন্ত মানুষের শরীরে। এর উৎকৃষ্ট উদাহারণ হলো, মানুষের শরীরের যখন ব্লাড সুগার শূন্য-এ নেমে আসে, তবে সাংঘাতিক ঘটনা ঘটার আশংকা থাকে এবং ঘটেও থাকে। যেহেতু শক্তি স্থানান্তরযোগ্য তাই নিজে শক্তিশালী হয়ে-এই শক্তি অন্য বস্তুতেও সঞ্চালন করা যায়।

পৃথিবীতে সকল ধরণের ইঞ্জিন মানুষের চিন্তা শক্তির সফল গবেষণা ও সঞ্চালন ।

পৃথিবীতে শক্তির উৎস সূর্য বটে, সূর্যও বিধাতার সৃষ্টি। সূর্য বিধাতার সনে কঠোর সংযোগের মাধ্যমে বিধাতার নিকট থেকে শক্তি সঞ্চার করে। পবিত্র গ্রন্থ সমুহ বলছে- চন্দ্র/সূর্য/গ্রহ/নক্ষত্র সকল কিছু ইশ্বরের আদেশ মোতাবেক নিদিষ্ট পথে চলছে এবং তাঁরা ইশ্বরের নাম স্মরণ /তাছবীহ পাঠ করছে। কিন্তু মানুষ এই কাজ  করছে অথবা করছে না।

মানুষের এই দুই ধরণের চরিত্রের কারণে সাধক, মানুষের প্রতি দয়াবশতঃ শিরোনামে বর্ণিত বাণীটির অবতারণা করেছেন। কাজেই, মানুষ কি পদার্থ ইহা সংক্ষেপে জানা আবশ্যক। পবিত্র গ্রন্থ বলছে – মানুষ মাটির তৈরী। কিন্তু বাস্তবে মানুষের শরীরের এক কণা মাটিও পাওয়া যায় না। মানুষ মাটির তৈরী এর অর্থ হলো – মানুষের শরীরের সোডিয়াম/পটাশিয়াম/ ম্যাগনেশিয়াম/ক্যালশিয়াম/ হাইড্রোজেন/অক্সিজেন ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থ আছে যা মাটিতেও আছে। তাই মানুষের সাথে মাটির প্রচুর মিল আছে। এই কারণেই বলা হয়, মানুষ মাটির তৈরী। বিভিন্ন প্রকার মাটি আছে। যেমন – পলিমাটি/দোঁআশ মাটি / এটেল মাটি ইত্যাদি। পলিমাটিতে প্রচুর ফসল হয়। তবে, বর্তমানে কৃষিখাত উন্নত হওয়ায় সকল প্রকার মাটিতেই ভালো ফসল হচ্ছে।

মাটির তৈরী জিনিস দূর্বল, ভঙ্গুর এবং এক সময় অযত্মে ভেংগে যায়। মাটির তৈরী দ্রব্যাদি যত্ম করে রাখলে সুন্দর থাকে। এই কারণে লক্ষ্য করা যায়, কিছু মানুষ জগতে দেখতে ভীষণ সুন্দর/অপূর্ব! চোখ ফিরানো যায় না। ঠিক একইভাবে মানুষ যদি নিজেকে যত্ম করে-তবে মানুষও অনেক বছর বেঁচে থাকে এবং সুন্দর থাকে। কিন্তু একসময় তাঁকে পৃথিবী ছাড়তেই হবে। কারণ, সে মাটির তৈরী। মাটির তৈরী জিনিষকে যতই যত্ম করা হোক না কেন -ইহা একসময় ভাঙ্গবেই। এই কারণে, মানুষ অসুস্থ হলে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করে। অর্থাৎ মাটির তৈরী নিজ দেহটির প্রতি যত্মশীল হওয়ার চেষ্টা করে। এখানে চেষ্টার ত্রুটি/ভুল হলে সাংঘাতিক ঘটনা ঘটে। সুতরাং, মানুষের জীবনে সবচেয়ে জরুরী প্রয়োজন নিজের প্রতি নজর রাখা। অন্যের প্রতি নজর দেয়ার সুযোগ নাই ? 

মাটির তৈরী হাড়ি-পাতিল/ থালা-বাসন, এগুলি কি কম কিছু ? ভগবান শ্রী কৃষ্ণ,  মাটির তৈরী প্রতিমার সাথে কথা বলতে পারতেন। তাঁর সেই শক্তি ছিলো এবং এখনও আছে। কিন্তু এখন যারা পূজা করেন-তাঁদের, সেই শক্তি হয়তো আছে /হয়তো নাই। অর্থাৎ পূজা ঈদের মতো অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এবং ভক্তিতে আশাতীত প্রাণ/সত্তা আসছে না। ফলে এসব কর্ম সমাজ তো দুরের কথা, নিজেরও উপকারে আসছে না। এভাবেই জীবনের সূর্য উঠছে এবং ডুবছে।

মাটি খাবার গ্রহন করে। মানুষও খাবার গ্রহন করে। মাটি মানুষকে প্রবল আকর্ষণ করে। মানুষ ছোট প্রাণী। মাটির জগত বিশাল। তাই মাটি একদিন মানুষকে কঠিন আকর্ষণ করে এবং মানুষ শক্তিহীনতার কারণে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না। তাই, মানুষ মাটিতে ঢলে পড়ে। মাটিতেই মানুষের শক্তিহীন অবস্থায় স্থান হয়।  (চলবে)