উপমহাদেশের উজ্জ্বল তারকা স্বামী বিবেকানন্দ-শুভ আবির্ভাব দিবস

শ্রী শ্রী বিদ্যা শিখা ॥ উপ-মহাদেশের এক উজ্জল তারকা -স্বামী বিবেকানন্দ যাঁর জন্ম ১৮৬৩ সনে জানুয়ারী মাসের ১২ তারিখ সকাল ৬:৩৩। তাঁর মাতার নাম ভূবনেশ্বরী আর পিতা বিশ্বনাথ দত্ত। বিশ্বনাথ দত্ত কোলকাতা হাইকোর্টের একজন প্রভাবশালী উকিল ছিলেন। মাতা ভূবনেশ্বরী শিব মন্দিরে শিবের নিকট একটি পুত্র সন্তান প্রার্থনা করেছিলেন। ভূবনেশ্বরী মনে করতেন, তাঁর প্রার্থনার ফলেই পুত্রের জন্ম হয়েছে। তাঁর ডাক নাম নরেন। ছোট বেলায় নরেন ছিলো দুরন্ত। তাকে সামাল দেয়া পিতা-মাতার পক্ষে ছিলো কঠিন কাজ। তাঁর মা প্রায় সময় বলতেন, ‘শীব আমার নিকট এক ভূত পাঠিয়ে দিয়েছে। এই ভূত নিয়ে আমি বিপদে আছি’। 

নরেন প্রথমে বাড়ীতে তাঁর মায়ের নিকট লেখা পড়া করেন। পরবর্তীতে পিতা বাড়ীতে গৃহ-শিক্ষক রেখে শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। নরেন Scottish College (১৮৭১  ১৮৭৭ ) লেখাপড়া করেন। ১৮৮৪ সালে রাজা রামমোহন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কোলকাতার  Presidency College থেকে স্মাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ঐ বৎসর তাঁর পিতা মারা যান। পিতা মারা যাওয়ার পর তাঁর বাড়ী অভাবের কালো ছায়া ঢেকে ফেলে। তাঁর আর পড়ালেখা হয়নি। নরেনের স্মরণ শক্তি এতই তীব্র যে মাত্র ৬ বৎসর বয়সে সে রামায়ন মুখস্থ করে ফেলে। তিঁনি শুধু পড়ে যেতেন -আর অমনি সকল কিছু মুথস্থ বলতে ও লিখতে পারতেন।

পিতার মৃত্যুর পর নরেন General Assembly Institution এ শিক্ষকতার চাকুরী নিলেন। নরেন ছোট বেলা থেকেই ইশ্বর ভক্ত ছিলেন। পিতার অজান্তে পিতার সংগী বয়স্ক মানুষদের গোপনে জিজ্ঞাস করতেন, তুমি কি ভগবান-কে দেখেছো ? একদিন এক মরমী সাধক, তাঁর পিতার ঘনিষ্ট বন্ধু প্রিন্স দারকানাথ ঠাকুর – নরেন তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, মহাশয়! ‘তুমি কি ভগবান-কে দেখেছো ’? উত্তরে প্রিন্স দারকানাথ বললেন, ‘আমি দেখিনি। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তুঁমি একদিন ভগবান-কে দেখতে পাবে’। এমন কথা শুনে নরেন দারুন খুশী। ছোটবেলা থেকেই আধ্যাত্মিকতার প্রতি নরেন ছিলো দারুন আত্বপ্রত্যয়ী ।

কলেজে লেখাপড়ার সময় Professsor Histon এর নিকট থেকে গুরু শ্রীরামকৃষ্ণের নাম শুনতে পান। একজন আধ্যাতিক সাধকের হাত ধরে দাক্ষিণাশ্বরে নরেন শ্রী রামকৃষ্ণের নিকট দেখা করতে যান। শ্রীরামকৃষ্ণের দর্শন পেয়ে তিঁনি অভিভূত হয়ে পড়েন। তিঁনি ভগবান শ্রী রামকৃষ্ণের ভক্ত হওয়ার জন্য বাড়ী ছাড়েন, শ্রী রামকৃষ্ণও তাঁকে ঘনিষ্ট ভক্ত হিসাবে গ্রহন করেন।

নরেন শ্রীরামকৃষ্ণের নিকট থেকে জানতে পারেন, ‘প্রতিটি জীবে ইশ্বর অবস্থান করছেন। কার সাথে তুমি দুর্বব্যবহার করছো?’  নরেনই লিখেছে, ‘বহুরুপে তোঁমাকে ছাড়ি / কোথায় খুঁজেছি ইশ্বর ? জীবে প্রেম করে যেই জন/সেই জন সেবিছে ইশ্বর।’  ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে স্বামী বিবেকানন্দ বলে ডাকতেন এবং এই নামেই তিঁনি পৃথিবীর সকলের নিকট পরিচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজী সুবাস চন্দ্র বসু, মাহাত্বা গান্ধী প্রমুখ মনীষিগণ স্বামীজি-কে ভীষণ পছন্দ করতেন। ১৮৮৬ সনে নরেন আমেরিকার শিকাগো শহরে এক ধর্ম সভায় বক্তব্য রাখেন। ওই বক্তব্যই তাঁকে বিশ্বসভায় পরিচিত করে তোলে। মাথায় পাগড়ি এবং শরীরে লাল কাপড় পরিহিত ধ্যানরত আসনে, তাঁর ছবিটি সারাবিশ্বেই ব্যাপক পরিচিত। মেয়ে জাতির প্রতি নরেনের ছিলো ভীষণ শ্রদ্ধা। স্বামীজি বলতেন ধর্ম পরিবর্তনের প্রয়োজন নাই। প্রতিটি ধর্মই পরিপূর্ণ। কোন সাম্প্রদায়িকতা নয়। শান্তিই ধর্ম এবং ইহার নাম সত্য। অর্থাৎ সত্যই ধর্ম। পৃথিবীতে ধর্ম একটি এবং ইহা হলো সত্য । সত্য এক। একক অবিচ্ছিন্ন। অবিনশ্বর। স্বামীজির ঐতিহাসিক একটি কুপের শিক্ষা পাঠকদের জন্য বর্ণনা করছি। 

স্বামীজির একদল উচ্চ শ্রেণীর ভক্ত ছিলো। একদিন তাঁদের উদ্দেশ্যে স্বামীজি একটি উদাহরন উপস্থাপন করেন। সেই উদাহারণটি ছিলো – একদিন সমুদ্রের একটি ব্যাঙ ঘুরতে ঘুরতে একটি কুপে এসে উপস্থিত হলো। কুপের ভেতর একটি ব্যাঙ ছিলো। সমুদ্রের ব্যাঙ ও কুপের ব্যাঙ এর দেখা হলো। সমুদ্রের ব্যাঙ কুপের ভেতর প্রবেশ করে ভীষণ অস্বস্তি অনুভব  করতে লাগলো। কারণ, কুপ অত্যান্ত ছোট জায়গা। সমুদ্রের ব্যাঙ মনে করলো, সে-কুপের ব্যাঙকে শিক্ষিত এবং আধুনিক করে গড়ে তুলবে এবং এই ধরণের  কুপের ভিতর যত ব্যাঙ আছে, তাদের সকলকে সমুদ্র সর্ম্পকে ধারণা দিবে এবং শিক্ষিত করে

উন্নত জীবনের জন্য সমুদ্রে নিয়ে যাবে। সমুদ্রের ব্যাঙ কুয়ার ব্যাঙ-কে প্রশ্ন করলো, ‘তুমি এই কুপের ভেতর কত দিন ধরে আছে ?  কুপের ভিতরের ব্যাঙ বললো, প্রায় সারাটি জীবন আমি কুপের ভিতরেই আছি এবং আমার খুব ভালো লাগছে। আনন্দেই আছি।

সমুদ্রের ব্যাঙ, কুপের ব্যাঙ এর নিকট ব্যাখ্যা করলেন, দেখ ইহা হলো কুপ। অত্যন্ত ছোট জায়গা। এত ছোট জায়গা থাকা-খাওয়া, চলা-ফেরা এবং জীবন যাত্রার মান অত্যান্ত দুর্বিষহ। তোমার এই কুপের চেয়ে আরো অনেক সুন্দর জায়গা এই পৃথিবীতে আছে। এসবের মধ্যে আছে, যেমন পুকুর, বিল, নদী-নালা, বিশাল সমুদ্র কত কিছু ?  তুমি সুন্দর সুন্দর এসব জায়গা দেখলে অবাক হবে ও বিস্ময়ে বিমুঢ় হয়ে পড়বে! কুপের ব্যাঙ উত্তরে বললো, ‘না আমার এইসব সুন্দর জায়গার প্রয়োজন নাই। এই কুপের ভিতর আমি প্রায় জীবনব্যাপী আছি। ই্হাই আমার আনন্দ – ভীষণ আনন্দ। এর চেয়ে আনন্দ পৃথিবীর কোথাও নাই। কুপের ভিতর আমি খুব সুখেই আছি। আামার সুখ-শান্তি তোমার সহ্য হচ্ছে না। বুঝতে পারছি। তুমি আমার নিকট থেকে চলে যাও। অন্যান্য কুপের ভিতর যে সকল ব্যাঙ বাস করছে, তুমি তাদের নিকটও যাবে না। তোমার বিল-খালে বা সমুদ্রে  তুমি চলে যাও।

সমুদ্রের ব্যাঙ তার সকল বিদ্যা ও বুদ্ধি প্রয়োগ করেও কুপের ঐ ব্যাঙ-কে খাল-বিল নদী-নালা এবং সমুদ্র সর্ম্পকে বুঝাতে ব্যর্থ হলো। সমুদ্রের ব্যাঙ ব্যর্থ হয়ে এই কুপ থেকে বাহির হয়ে অন্য কুপে গিয়ে অন্য ব্যাঙ এর নিকট একই বিষয় বর্ণণা করলো। অন্য কুপটির ব্যাঙ কিছুটা বুদ্ধিমান হওয়ায় সমুদ্রের ব্যাঙ-কে বললো, ঠিক আছে। তুমি আমাকে পুকুরে নিয়ে চলো। দেখি, পুকুর কেমন? কুপের ব্যাঙ পুকুরে গিয়ে পুকুরের বিশালতা দেখে কুপের ব্যাঙ আনন্দে লাফা-লাফি আরম্ভ করলো। সমুদ্রের ব্যাঙ কুপের ব্যাঙকে আবারো বুঝালেন যে, এর চেয়েও সুন্দর জায়গা আছে, যেমন খাল-বিল, নদী-নালা আরো কত কিছু? কুপের ব্যাঙ বললো, আমার আর নতুন জায়গার প্রয়োজন নাই। পুকুর হলো পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর জায়গা। আমি এর চেয়ে বেশী কিছু সুন্দর চাই না।

এবার সমুদ্রের ব্যাঙ এই কুপের ব্যাঙ এর নিকট থেকে অন্য কুপের ব্যাঙ এর নিকট গিয়ে একই বিষয় বর্ণনা করলেন। এই বার এই কুপের ব্যাঙ আরো কিছুটা বেশী বুদ্ধিমান। এই কুপের ব্যাঙটি পুকুর হয়ে খাল-বিল, নদী-নালায় পর্যন্ত পৌঁছালো এবং বললো পৃথিবীতে সেই সবচেয়ে বেশী সুন্দর জায়গা দেখেছে এবং ভালো জায়গায় আছে। নির্বিগ্নে সাঁতার কাটতে পারছে। গোটা পৃথিবীই তাঁর। তাঁর চেয়ে সূখী জগতে আর কেহ নাই ।

সমুদ্রের ব্যাঙ বুঝতে পারলেন এর নিকট থেকে আর ফল কিছু হবে না। তাই এবার সে অন্য কুপের ভিতর গিয়ে আরো বুদ্ধিমান ব্যাঙ খুঁজতে লাগলেন এবং পেয়েও গেলেন। এই  কুয়ার ভিতরের ব্যাঙ এর নিকট সমুদ্রের ব্যাঙ সমুদ্র সর্ম্পকে বিশদ বর্ণনা পেশ করলেন। এরবার এই কুপের ব্যাঙ পুকুর, বিল-খাল , নদী-নালা পার হয়ে বিশাল সমুদ্রে উপস্থিত হলেন। সমুদ্রে প্রচুর খাবার। সীমাহীন জায়গা। চারদিকে সাঁতার কেটে কি আনন্দ! সে-যে এক বিশাল স্বর্গ। সে তার কুপের ভেতর অন্যান্য ব্যাঙ এর সীমিত জায়গায় দুঃখময় জীবনের জন্য ব্যথিত হলো। কিন্তু করার কিছু নাই। কুযার ব্যাঙগুলি যে, কথা শুনে না – কুয়ার ভিতর ব্যাঙগুলি কুয়ার ভিতর থেকে বাহির হয়ে আসতে চায় না।  কুয়ার ভিতরের ব্যাঙ এর নিকট সমুদ্রের বিশালতা বর্ণনা করা ভীষণ কঠিন কাজ এবং সম্বব নয়। তাই হতাশ হয়ে সমুদ্রের ব্যাঙ পূণরায় সমুদ্রে ফিরে গেলো। 

আজকাল সমাজে আমরা বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত, কম-বেশী  শিক্ষিত। বিভিন্ন পেশায় শিক্ষিত হয়ে গর্বের সীমা নাই। প্রকৃতপক্ষে আমরাও একেক জন একেকটি নির্দিষ্ট কুপের ভিতর অবস্থান করছি। একজন পন্ডিত ব্যক্তি মনে করছে – সে সবচেয়ে বড় পন্ডিত। তার চেয়ে বড় পন্ডিত আর কোথাও নাই। একজন পি এইচডি ডিগ্রীধারী ভাবছে- তার চেয়ে বড় পিএইচ ডি ডিগ্রীধারী আর নাই। একজন এস এস সি বা পিএইচডি ডিগ্রীধারী আছেন, যে মানুষকে সালাম দিতে রাজী নন। ৮০ বছরের একজন জন বৃদ্ধ, একজন পিএইডি ডিগ্রীধারীকে সালাম না দিলে, উচিত শিক্ষা দিয়ে ছাড়ে!!!

একজন পুলিশ কনষ্টেবল একজন নিরীহ পথচারীকে ঠাস করে চাপার মধ্যে চড় থাপ্পড় মারছে। কাধে সরকারী রাইফেল। হাতে লাঠি। বাহ কি ক্ষমতা! কাধে সরকারী রাইফেল পেয়ে তার গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষার্থী ও মানুষের কথা সম্পূর্ণ ভুলে গেছে। শহরে গরীব ভ্যানওয়ালা বা রিকশা চালক কথা মতো কাজ না করলে, আবাল-বৃদ্ধ যাই হোক, লাঠি দিয়ে আঘাত করে হাত ভেংগে দিচ্ছে। ভয়াবহ শক্তিধর ! এভাবে চলছে, একক কুয়ার ভিতরে অবস্থানরত একেক পন্ডিত ও শক্তিধরের তান্ডব রাজত্ব বা লীলা।

অথবা একজন হুজুর যিনি ব্যবসা করেন- আর পণ্য দ্রব্যে ভেজাল মিশ্রিত করেন- সে মনে করে, তার চেয়ে ভালো মানুষ জগতে আর নাই। কারণ, সে নামাজ পড়ছে/ আল্লাহ্-কে ডাকছে। ব্যবসার মাধ্যমে মানুষের সেবা করছে। তার এক কথা- নামাজের কাজ নামাজ করবে, ব্যবসার মাধ্যমে মানুষের/সমাজের সেবা করা হচ্ছে। তার মতো সেবক সমাজে আর কেহ নাই।

পণ্য দ্রব্যে ভেজাল মিশ্রিত করার ফলে মানুষ অসুস্থ হচ্ছে – ইহা কোন বিষয় নয়। নামাজ চলছে – মিথ্যা কথাও চলছে ট্রেনের গতিতে। খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মিশানোর ফলে মানুষ অসুস্থ হচ্ছে – সে কোন বিষয় নয়। নামাজের মাধ্যমে একদিন সে বেহেশতে যাবেই।  এই অদ্ভুত ও অলীক চিন্তায় – সে বিভোর। সে ভাবছে – সে  পিএইডি ডিগ্রীধারীর চেয়ে উপরে অবস্থান করছে।  কারণ -সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে পড়ছে। আল্লাহ্-কে ডাকছে। তার চেয়ে মহান আর কে? সমাজের উচ্চ শ্রেণীর ডাকে, সে আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করে। আখেরী মোনাজাতে হাজার হাজার মানুষ আমিন ! আমিন ! অথবা গর্দভের মতো ঠিক! ঠিক!  বলছে। ফল হউক আর নাইবা হোক। সে-যে জগত বিখ্যাত পন্ডিত।

চার পাশে গরীব অসহায়, অসুস্থ ও পীড়িত মানুষের আর্তনাদে আকাশ ভারী হয়ে উঠলেও নামাজী কিংবা পিএইডি ডিগ্রীধারীর ভ্রক্ষেপ নাই। তার নিজ নিজ জায়গায় নিজের রাজত্ব ও মহানতায় নিয়ে ব্যস্ত। এভাবেই এককজন একেক বিশেষ ধরনের পন্ডিত ও নিজ নিজ কুপের ভিতর বাস করছে। কোন পন্ডিত নিজের রাজত্বেও বাইরে কিছু শুনতে রাজী নয়।

আমরা বিভিন শ্রেণী পেশায় কাজ করি। বাজার করি- ভালোমন্দ খাই। চলি-ফিরি। একদিন অজান্তে এবং অনিচ্ছায় জোরপূর্বক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ি অথবা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ি। অর্থৎ মৃত্যু যেন আমাদের নিকট না আসতে পারে- সেই বিষয়েও আমরা সতর্ক আছি। ধানমন্ডি বা গুলশানে ৭/৮ তলা বিল্ডিং। কত সম্পদ? এইগুলি রেখে কি মৃত্যু বরণ করা যায়? তারপরও মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ি এবং মৃত্যুর নিকট পরাজিত হই। মৃত্যু গোটা পৃথিবীতে তাঁর কার্যক্রম চালাচ্ছে। আমরাও কম কি ? আমরা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছি। তবু গুলশানের ৭তলা বিল্ডিংটি নতুনের জন্য ছাড়তে রাজী নই। শেষ পর্যন্ত জীবনের সমাপ্তি ঘটছে মনে করি। শ্রেণী পেশার কুপের জীবনে  ইহাই স্বাভাবিক।

তাই জীবনে নিশ্চিতে সত্য পথ ধরে একাই চলতে হবে। কেহ মনে চাইলে আসবে নতুবা আসবে না। ইহাই সত্য প্রচার এবং সত্য অনুসন্ধান। সত্য প্রচারক এবং সত্য অনুসন্ধানীর সংখ্যা সর্বকালেই নিতান্তই খুব সামান্য। আশা যে, একদিন মানুষ নিজ নিজ কুয়ার ভিতর থেকে নিজ দায়িত্বে উঠে আসবে এবং বিশাল সমুদ্রের সন্ধানে নিজেকে নিয়োজিত করবে। স্বামীজির আবির্ভাব দিবসে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।