আত্মসম্মান সমুন্নত রেখে কথা বলুন

ড. সরফরাজ ॥ ব্যক্তিত্ব কথাটি মনোবিজ্ঞানের পরিভাষায় ব্যক্তি মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে ইঙ্গিত করলেও সামষ্টিক অর্থে কোন সমাজ, প্রতিষ্ঠান এমনকি রাষ্টের ভূমিকাও স্ব-স্ব ক্ষেত্রে তার বা তাদের ব্যক্তিত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিক, নেতা ও আদর্শবান ব্যক্তিদের বলিষ্ঠতায় তাদের স্বীয় ব্যক্তিত্বের ছাপ বিদ্যমান। বারবার কারাভোগ করে ক্ষমতাসীনদের সাথে আপোস না করে স্বীয় ব্যক্তিত্বে মূর্তমান রয়েছেন নেলসন ম্যান্ডেলা। লোভনীয় প্রস্তাব পেয়েও দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে বাংলাদেশ নামক দেশটিকে উপহার দেয়া বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্ব অতুলনীয় ও অনুকরণীয়। কারণ তিনি কোন প্রদেশের গভর্ণর না হয়ে একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সে লক্ষ্যেই অটল ছিলেন।

অথচ এমন একজন বিশ্বমানের নেতার অবদানে সৃষ্ট দেশের স্বাধীন নাগরিক হয়েও অনেকের ভূমিকা এ জাতির ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহুবিধ ইস্যুতে কোন কোন অযোগ্য, অকালকুষ্মা- কর্মকর্তা, মন্ত্রী ও নেতাদের নতজানু মনোভাব, বেফাঁস মন্তব্য ও বিতর্কিত ভূমিকা বিভিন্ন সময় দেশের ভাবমূর্তি ম্লান করেছে। খেসারত স্বরূপ অনেককেই দায়িত্বচ্যুতও করা হয়েছে। পরবর্তিতে এসব ব্যক্তির ব্যক্তিত্বে খুব বেশী পরিবর্তন  এসেছে বলে জাতির জানা নেই। অতি সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে ঘিরে কোন কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংবাদ মাধ্যমের মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি সীমাহীন চাটুকারিতা, বিদেশ প্রীতি ও ঐ দেশটির প্রতি অনুরাগের চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রকারান্তরে তাদের ব্যক্তিত্বকেই উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে দেশটির নির্বাচনী দিন হতে শুরু করে সর্বশেষ ঘোষণা পর্যন্ত ভোটযুদ্ধে কে এগিয়ে রয়েছেন শিরোনামে এ দেশের কোন কোন সংবাদ মাধ্যম এতটাই গুরুত্ব দিয়েছিল যে, সাধারণ জনগণের ভাবতে কষ্ট হচ্ছিল আসলে এগুলো কোন দেশের সংবাদ মাধ্যম বা কারা এদের নিয়ন্ত্রণ করে। পুরো সংবাদের দুই-তৃতীয়াংশ সময় কোন কোন সময় অর্ধেকেরও বেশী সময় যুক্তারাষ্ট্রের নির্বাচনী ফলাফল আপডেট ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের বিশ্লেষণের মাঝে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক সংবাদই চাপা পড়তে দেখে গেছে। সঙ্গতকারণেই জনমনে প্রশ্ন জাগে, এ ধরণের কাভারেজ কি শুধুই আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রচারের স্বার্থে নাকি শক্তিশালী রাষ্ট্রটির নতুন রাষ্ট্র প্রধানের পক্ষে ডিজিটাল তাবেদারি! বিশ্লেষণের অন্যতম যুক্তি হচ্ছে, হতে পারে বাংলাদেশ তাদের তুলনায় ছোট দেশ, শক্তি-সামর্থ্যে ও কাঠামোগত উন্নয়নের মাপকাঠিতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল তাই বলে নিজেদের তো একটা ব্যক্তিত্ব আছে। এ দেশে যখন জাতীয় নির্বাচন হয় তখন তাদের কয়টি চ্যানেল বা কোন সংবাদ মাধ্যম কতটুকু সময় তা প্রচার করে সে বিষয়টি অবশ্যই বিবেচ্য। পাশাপাশি, এ ধরণের প্রচারের মাধ্যমে দেশের লাভ কতটুকু তাও ভেবে দেখা দরকার। ১৯৭১ পূর্ব বাংলাদেশ আর ২০২০-এর বাংলাদেশ যেমন এক নয়; তেমনি আত্মসম্মান ও ব্যক্তিত্বের বিবেচনায়ও বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক মন্ডলে স্ব-অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। এ বোধ সবার মাঝে যত জাগ্রত হবে দেশপ্রেমও তত পোক্ত হবে।