অনুরাগের মালায় জোড়ানো থাকে দেশ

সত্যদর্শী ॥ দেশ ধারণা সৃষ্টি না হলে ধর্ম, কর্ম, সচেতনতা কোন কিছুই জাগে না। দেশ কি, কিভাবে দেশ জড়িয়ে রয়েছে প্রতিটি বুননে, অপরূপ কারুকার্য হয়ে, সেটা জানতে হয় সবার আগে। স্থুল ভালোবাসা মহত মহীয়ান হয়ে উঠে দেশপ্রেমের বৃহত্তর পরিসরে এসে। তীব্র অনুরাগ সৃষ্টি হয়। আর তাই তো দেশের জন্য মানুষ অকাতরে জীবন ত্যাগ করতে কুণ্ঠিত হয়না। সমুদ্রের পাশে দাঁড়িয়ে যেমন নিজেকে ক্ষুদ্র মনে হয়, তেমনি দেশের সামনে সামনে দাঁড়িয়ে একজন দেশপ্রেমিক নিজেকে গভীর কৃতজ্ঞতা বোধে পায়।

জন্মভূমিকে ভালবেসে কোন দিন হৃদয়ের অনুরাগ শেষ হয় না। এখানে আকাশ যেন মায়ের দু’চোখ সারাদিন মেলে রাখে সোনার আলোক। গল্পের শেষ আছে, যেতে যেতে নদীও সাগরে গিয়ে মেশে তবু হৃদয়ের অনুরাগ শেষ হবে না জন্মভূমিকে ভালোবেসে। কথাটি গীতিকার আবু জাফরের।

এই যে দেশ মাতৃকার প্রতি তীব্র অনুরাগ তা কি কখনো ফিকে হতে পারে কোন দূরদর্শী দেশপ্রেমিকের কাছে। কোন নেতা কিংবা প্রজাতন্ত্রের সেবকের? শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট মহান শিক্ষক কিংবা সমাজসেবার ব্রতচারীরা কি কোন দিন দেশের প্রতি  দায়িত্ব বোধ কে উপেক্ষা করতে পারেন? পারেন না, পারবেন না।

তবু স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে অনিয়ম, অবিচারের শক্ত দেয়াল তুলে আজও গুটিকয়েক লোক দেশকেই ধ্বংস করছেন। এরা শিক্ষিত, চেহারা স্মার্ট, গুছিয়ে কথা বলে, সব বিষয়ে পারদর্শী। এদের অনেকে নামাজ পড়তে পড়তে কপালে দাগ ফেলেছেন, কেউ কেউ বহুবার হজ ওমরাহ সেরেছেন, বহু তথ্য ছবকে পারদর্শী। বেগমপাড়ার নাম তো আমরা শুনেছে কিন্তু নামে বেনামে কত বেগমপাড়া, কত অন্দরমহলের সত্য গল্প তো আমাদের অজানা। প্রাসাদের নিচে যেমন  চাপা পড়ে আছে শোষণের শত সহস্র জাল, তেমনি দূর্গ সমেত চৌহদ্দির ঘোর অন্ধকারে বন্দি হয়ে আছে শোষণের লাল নীল ফাইল।

আজ যখন আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী কিংবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শত বার্ষিকী উদযাপন করছি, যারা এই উদযাপন করছেন বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায়, তাদের মধ্যেই তো কত বর্ণচোরা প্রতারক রয়েছে। যারা এই পবিত্র স্বাধীনতা, অঙ্গীকার ভূলুণ্ঠিত করেছেন পদে পদে। কত রথী মহারথীদের ভিড় চোখে পড়ে যারা বিশ্বাসঘাতক। এই তো সেদিন বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সত্য বলার লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এই সত্য ভুলে গেলে চলবে না। এটা ভাবার কারণ নেই যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ, সেই দুঃসহ সত্য থেকে বহুদূরে। ভাববার কারণ নেই একটি সামাজিক সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটেছে। সবাই দেশপ্রেমিক হয়ে গেছেন। বরং লুটেরারা সাময়িক ভোল পাল্টে স্রোতে গা ভাসিয়েছে।

সত্যিকারের দেশপ্রেমিক বাঙালিরা তো দেশের শক্তি, অতন্দ্র প্রহরী। দেশ শান্তি সত্য প্রশ্নে কোন আপোষ করে না। বঙ্গবন্ধু কিংবা বাংলাদেশের শক্তি তো বাঙালির শক্তি। একটা প্রকৃষ্ট বাঙালি গতি শত বাঁধার পরও টিকে রয়েছে। বাঙালির মাথাটি ঘাতকেরা হয়তো খুঁজে পেয়েও কর্তন করতে পারেনি। সুন্দর বনের সুন্দরী গাছের মতো আবার গজিয়ে উঠেছে।  আর বিপরীত প্রচেষ্টা তো প্লাষ্টি কের ফুলের মতো, কোন সৌরভ সৌন্দর্য নেই। ধর্মের নামে মুখস্থ গাল গল্পের হুংকার দিয়েও রুখে দিতে পারেনি বাঙালির ধারাকে।

বাঙালিরা বারবার বুঝিয়ে দিয়েছে আমরা বাঙালি। ৭১ এর ঘাতকরা যেমন কল্পনা করতে পারেনি, এদেশে তাদের কৃতকর্মের বিচার হবে। তেমনি ৭৫ এর ঘাতকরাও সীমাহীন উদ্ধত্যের মহড়া দেখালেও রক্ষা পায়নি। কেন পায়নি সেটিই উপলব্ধি করতে হবে। যত দ্রুত উপলব্ধি ততই মঙ্গল।