ভিতরের পাতা

হারিয়ে যাচ্ছে নদী : হারিয়ে যাচ্ছে সংস্কৃতি – 2

॥ হাসান জামান টিপু ॥

(পূর্বে প্রকাশের পর)

বাংলায় সভ্যতার শুরু হয়েছিলো নদী থেকেই।নদী দিয়েছে পলি মাটি, নদী দিয়েছে মিঠা পানি, নদী দিয়েছে সুস্বাদু মাছ, নদী দিয়েছে যোগায়োগের মাধ্যম।নদী অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে, নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বাজার, মিল কলকারখানা। নদীকে অবলম্বন করে সভ্যতা সমৃদ্ধ হয়েছে। সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়েছে।

এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক বাস্তবতা হলো নদী। আমাদের অর্থনীতিকে স্বল্প খরচে উৎপাদন, কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবাহনের নদী আমাদের সহায়ক। বড় বড় মিল, কলকারখানা সব নদী তীরে এইজন্যই গড়ে উঠেছে। নদী আমাদের দেহের রক্ত সংবাহনতন্ত্রের মতো মতো সতত প্রবাহমান। তুলনামূলক সুবিধার সঙ্গে পণ্য ও সেবা উৎপাদনের খরচ জড়িত। মোটাদাগে বলতে গেলে, যে অঞ্চলে যে পণ্য বা সেবা তুলনামূলকভাবে কম খরচে উৎপাদন করা যায়, সে অঞ্চলে সেই পণ্য সেবা উৎপাদন করা। নিজেদের চাহিদা পূরণ করে উৎপাদিত পণ্য বা সেবার উদ্বৃত্ত অংশ অন্য অঞ্চলে রফতানি করা আর অনুৎপাদিত প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা। প্রকৃতির দান অর্থাৎ প্রকৃতি আমাদের যে সুবিধাগুলো দিয়েছে, তা দিয়ে যে ধরনের পণ্য ও সেবা উৎপাদন করা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক আমাদের সে ধরনের পণ্য ও সেবা উৎপাদন করতে হবে। প্রকৃতির দান তুলনামূলক সুবিধাকে খুব সহজে ও গুরুত্বপূর্ণভাবে নির্ধারণ করে। অর্থনীতি শাস্ত্রের এই নিয়ম মেনে বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার। এই শিষ্টাচার না মেনে পৃথিবীতে যখন যেখানেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, তা টেকসই ও মানবজাতির জন্য কল্যাণকর হয়নি; প্রক্ষান্তরে বিশ্বায়নের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ভুল ব্যবহার করেছে।

ভারত ও বাংলাদেশ, আমরা কেউ এই শিষ্টাচার মানছি না। যে কারণে আমাদের অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নও টেকসই হচ্ছে না এবং সবার কল্যাণে উন্নয়ন কাজে আসছে না। নদীকেন্দ্রিক ও নদীবান্ধব অর্থনীতি গড়া বলতে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে নদীকে কেন্দ্রীয় প্রাণ করা, যাতে নদীতে কোনো ধরনের বাঁধ দেওয়া, ভরাট ও দখলের অপ-অর্থনীতি না দাঁড়ায়। এ লক্ষ্যে প্রকৃতির বিরুদ্ধে না গিয়ে আমাদের বরং প্রকৃতি বিশেষত নদীবান্ধব অর্থনীতি গড়তে হবে।

কি করে নদী বান্ধব অর্থনীতি গড়ে উঠবে? ভারত ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে আমাদের মূল পনি প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করেছে। পদ্মার মতো নদী মৃতপ্রায়, মেঘনা, যমুনায় পানি নাই। বেশীরভাগ নদীই মরে গেছে বা মৃতপ্রায়। তিস্তা নিয়ে ভারতের টালবাহানা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লংঘন। নদীর পানির যে ন্যায্য হিস্যা আমরা পাই তা থেকে ভারত আমাদের সুনিদিষ্টভাবে বঞ্চিত করছে। সৎ প্রতিবেশীসূলভ আচরণ আমদের প্রত্যাশিত হলেও আমরা বারবার প্রায়, সকল ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হচ্ছি। আমাদের সরকার বারে বারে চেষ্টা করা স্বত্বেও পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রীর একঘেয়ামির কারণে তিস্তা নদীর পানি আসছে না। গঙ্গার পানি কতটুকু আসছে তা আমাদের সরকারের কেউ জানে বলে প্রতীয়মান হয় না। যৌথ নদী কমিশনও অকার্যকর। পারস্পারিক বিষয়গুলি নিষ্পত্তির জন্য গঠিত সার্কও অকার্যকর। বৃহৎ প্রতিবেশী হিসাবে ভারত আমাদের পানির ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে যা আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন। সরকারের উচিৎ এ ব্যাপারে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া।

ভারতের সাথে যুক্ত হয়েছে এদেশের দুর্বৃত্তশ্রেণী। তারা নদী থেকে অপরিকল্পিত বালি উত্তোলন, নদী দখলের মতো কাজ করছে। সরকারী বিভিন্ন সংস্থাও আছে এসকল কাজে জড়িত। কিছু পরপর আমাদের কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে উদ্যোগ নিলেও কয়েকদিন পর পর পূর্বাপর অবস্থায় ফিরে যেতে বেশী দিন প্রয়োজন হয় না। আবার কিছুদিন পূর্বে বালু নদীতে যে সীমানা পিলার দেওয়া হয়েছে তা নদীর অনেক গভীরে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে তদন্ত প্রয়োজন। নদী ভরাট ও দখলের পিছনে সরকারের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে খবরের কাগজে প্রায়শই রিপোর্ট আসে, এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া উচিৎ।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকার নদী ড্রেজিং-এর বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। নদীতে নব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য তিন হাজার দুইশত কোটি টাকার মেগা প্রকল্প নিয়েছে যা বর্তমানে চলমান। নদীতে নব্যতা ফিরিয়ে আনতে যে সকল প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার তা আন্তরিকতাপূর্ণ তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রকল্প সফল হয় না আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ও প্রভাবশালীদের চতুরতায়। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃঢ়তা কাম্য। ড্রেজিং ঠিকমত হচ্ছে কি না তা পরিমাপ করা একটা দুরূহ কাজ, এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।কোন কোন এলাকায় ড্রেজিং এর ফলে নদী ভাঙ্গনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ, এ ব্যাপারে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী। নদীকে কুলষিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে হবে। বুড়িগঙ্গার নীচে পলিথিনের স্তুপ সরাতে হবে, নদীতে শিল্প বৈর্জ্য ফেলানো প্রতিষ্ঠানগুলিকে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে, কঠোর আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে।

নদীর পানির জন্য জন্য আমাদের মিঠা পানির মাছের জীব বৈচিত্র হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে সুস্বাদু মাছের প্রজাতিগুলি। নদীতে বাঁধ দিয়ে প্রভাবশালীদের মাছ চাষের ফলে পানির স্বাভাবিক গতিপথে প্রতিবন্ধকতার সৃস্টি করছে, ফলে নদী হারাচ্ছে স্বাভাবিক নব্যতা। প্রশাসন এব্যাপারে দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ নিবেন আশা করি।

সরকারের পাশাপাশি আমাদের জনগণ-কে সচেতন হতে হবে। এতো নদীর দেশের, নদী মাতৃক দেশ বাংলাদেশকে মরুভূমি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সংস্কৃতি আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। পোষাকী আন্দোলন নয়, প্রকৃত গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে আমাদের নদীগুলি রক্ষায়, না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা অপরাধী হবো।

সত্য প্রতিষ্ঠায় স্বেচ্ছাশ্রম যাহা নিত্য তাহাই সত্য – ১৯

* ‘বিদ্যা, বুদ্ধি, বল, বিক্রম, পান্ডিত্য গর্ব দোষে খর্ব হয়।’

                – সূফী সাধক আবু আলী আক্তারউদ্দিন

* ‘এহসানের প্রতিদান এহসান ব্যতীত অন্য কিছু কি হইতে পারে?’

                – সূফী সাধক আবু আলী আক্তারউদ্দিন

* ‘সুখ সুখ করি আমি, এ সুখ কি আমার রবে চিরদিন,কালে কালে এ সুখ হবে কালেতে বিলীন।’    – সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ

শাহ্ ফাতেমা আফরোজ নাসরিন ॥ আর একবার চোখ বুলানো যাক সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ এঁর ‘হাক্কানী কথা’য় ‘হযরত আজান গাছী সত্যের দর্শন তুলে দিয়েছিলেন তাঁর ভাবশিষ্য হযরত আবু আলী আক্তারউদ্দিন এঁর কাছে এবং হযরত আবু আলী আক্তারউদ্দিন তাঁর ভাবশিষ্য সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর কাছে। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর কাছে যারা এসেছেন তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে মনোনীত করে তিনি এগিয়ে যাবার পথ দেখালেন। এই আঙ্গিকে ১৯৮৭ সনের রজব মাসে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর শিষ্যদের পরীক্ষা আরম্ভ হলো। তিনি পরীক্ষা করতে লাগলেন কারা কারা এই সত্য দর্শনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। তিনি নির্দেশনা দিলেন-প্রতিষ্ঠানিকভাবে এবং আধ্যাত্মিকভাবে এগিয়ে যাবার, চর্চা এবং চর্যার মাধ্যমে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় হাক্কানী খানকা শরীফ গড়ে উঠলো। সারা বাংলাদেশে ৪৩ টির উপরে হাক্কানী খানকা শরীফ আছে। মিরপুর আস্তানা শরীফের তিনি উদ্বোধন করলেন ১৯৮৮ সনের ১৩ ই মাঘ। তিনটি তরিকার সমন্বয়ের মাধ্যমে আস্তানা শরীফের উৎপত্তি। কাদেরীয়া, চিশতিয়া ও মোজাদ্দেদীয়া তরিকার সারোৎসার একত্রিত করে তিনি আস্তানা শরীফ প্রতিষ্ঠিত করলেন। প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে হাক্কানী মিশনের জন্ম হলো ১৯৯০ সনে। হাক্কানী মিশন কারো মুখাপেক্ষি না। আমি যখন হাক্কানী মিশনের সভাপতি ছিলাম তখন পাশ্চাত্য দেশ থেকে এবং আরব দেশ থেকে খুব লোভনীয় সাহায্য আমাদের দিকে এগিয়ে এসেছিলো। কিন্তু হাক্কানী তাদের কোন প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। যারা সত্যকে নিয়ে চর্চা এবং চর্যা করবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কিংবা আধ্যাত্মিকভাবে তাদের সাথেই হাক্কানী মিশনের সংযোগ থাকবে। হাক্কানী মিশন পরিচালিত হয় সত্যানুসন্ধানীদের অংশগ্রহণে। সর্বনিম্ন অংশগ্রহণ হচ্ছে মাসে ৫১ টাকা। যখন এনজিও বুরো থেকে ১৯৯৮ সনে অডিটে আসলো তখন তারা জিজ্ঞেস করলেন-আপনাদের টাকা পয়সা কি আছে? কি কি প্রজেক্ট করেছেন? আমরা বললাম যে ২৮ হাজার টাকা আছে। তিনি একটা অট্টহাসি দিয়ে বললেন-‘আপনারা এই দিয়ে এনজিও চালাবেন? আমি তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। ভাবলাম-এদের কাছে এনজিও কথাটার অর্থ কি? এনজিও ব্যুরোর কাছে কথাটার অর্থ কি? এরা কোন দিকে নিয়ে যাবে? ঠিক একইভাবে যখন সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ আস্ল- বর্তমান সংলাপ যারা নিজের মধ্যে উপলব্ধি নিয়ে পড়বেন তারা সমাজের রাষ্ট্রের তথা সমগ্র বিশ্বের একটা প্রতিচ্ছবি সেখানে খুজে পাবেন। সত্যের সঙ্গে সত্যের মিল হবে। সত্যের সঙ্গে অর্ধসত্যও সমাজে চলে। যখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে যাচ্ছেন তখন আপনার বাহ্যিক আবরণ এবং চিন্তাজগতের সাথে সমন্বয় কতটুকু থাকে?-এখানে অর্ধসত্য আছে। আপনার ভালোলাগেনা, তথাকথিত সালাম আলাইকুম দিচ্ছেন। এখানে ইসলাম নাই। আপনি কে আমার উপর শান্তি বর্ষণ করার জন্য সালাম আলাইকুম দিচ্ছেন? আপনি কে যে আমার উপর রহমত বর্ষণ করবেন? কিন্তু তা চলে আসছে আমাদের এই উপমহাদেশে। কিন্তু যারা মধ্যপ্রাচ্যে গেছেন তারা যানেন যে, সেখানে তারা সালাম দেয় না, সুপ্রভাত ও শুভসন্ধ্যা বলে। তাহলে কোথা থেকে এগুলো আসল? এটা সহজভাবেই উপলব্ধি করা যায় বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে । যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেছেন কিংবা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তারা নিশ্চয়ই দেখতে পারছেন ইতোমধ্যে কত পরিবর্তন ঘটেছে। এখন তো পাঁচ মিনিটের মধ্যে সারা পৃথিবী জেনে ফেলছে কি হচ্ছে? আমাদের মধ্যে ভীতি আছে যে, যা বলছি তা বিশ্বময় প্রচার হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ১৪০০ বছর আগেতো সে ভীতিও ছিলো না। এবার ভেবে দেখুন, ১৪০০ বছরে কত পরিবর্তন আসতে পারে?

সত্যকে আলিঙ্গন না করলে আপনি শান্ত হবেন না। সাধারণভাবে আপনারা দেখবেন যে,দুনিয়াদারী করতে গিয়ে যে বিষয়ে বা যে ব্যক্তির কাছে আপনি সত্য হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে পারেন সেখানে আপনার শরীরের ভাষাই আলাদা হবে। আর যেখানে অর্ধসত্যের মধ্যে থাকবেন সেখানে মাথা এমনিতেই নুয়ে আসবে,ছল-চাতুরির আশ্রয় নিতে হবে।

ইসলাম শান্তি। আর অন্য কিছু না। শান্তি আনতে গেলে আপনাকে শান্ত হতে হবে। যে শান্ত, যে বিষয়ে শান্ত সেখানে শান্তি আছে। যেখানে আপনি সত্যের উপর দাঁড়িয়ে আছেন সেখানে আপনি নির্ভীক,কাউকে ভয় করেন না। শান্ত হতে গেলে তার পূর্বশর্ত হচ্ছে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া। সব সত্য না। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীন রূপ এক না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সব সত্য হবে না। আপনি প্রথমে একটি-কে সত্য হিসেবে ধারণ করুন। তারপর আস্তে আস্তে এগিয়ে চলুন। কালক্রমে এক সত্যই আপনার মধ্য থেকে সব মিথ্যাকে সরিয়ে দেবে। এক সত্যকে নিজের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে প্রথমেই আসতে হবে উপলব্ধি। আপনি যে শিক্ষায়ই শিক্ষিত হন না কেন, যত শিক্ষা যত বিদ্যা আপনার জানা হয়েছে সবগুলোর সমন্বয় সাধন করে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত না হতে পারলে, স্বশিক্ষায় নিজেকে উদ্ভাসিত না করতে পারলে উপলব্ধি আসবে না। যার যত উপলব্ধি থাকবে, প্রতিটি কর্মে যার যত অনুসন্ধিৎসা থাকবে, যে কর্মের মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখবে সে-ই এগিয়ে যাবে। হাক্কানী ওজায়িফে লেখা রয়েছে- কর্মই ধর্ম। কিন্তু কোন কর্ম ধর্ম? যে কর্মের মধ্যে আপনি নিয়োজিত আছেন সে কর্মের মধ্যে আপনি একনিষ্ঠ আছেন কি-না? একনিষ্ঠ না থাকলে কর্ম ধর্ম হয় না। একনিষ্ঠ হলেই উপলব্ধি আসবে। যে মুহূর্তে উপলব্ধি আসবে সে মুহূর্ত থেকে তা চেতনায় নাড়া দেবে। আস্তে আস্তে নিজের পথ নিজে তৈরী করতে থাকবে। যুগে যুগে যত ধর্ম এসেছে, যত তরিকা এসেছে তাকে আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। কারণ সূফী সাধক আনোয়ারুল হক বলে গেলেন তাঁর ভাবশিষ্যকে ‘দুনিয়াতে মিথ্যা বলে কিছু নেই’। মিরপুর আস্তানা শরীফে তিনি এই বানী দিয়ে গেলেন আর বলে গেলেন যে, এটাই তোমার চলার পথ।

কয়েকদিন আগে কুষ্টিয়ায় সাঁইজির যে অনুষ্ঠান হয়ে গেলো সেখানে কে গাজা খাচ্ছে সেটা নিয়ে এক শ্রেণীর লোক ব্যস্ত হয়ে গেছে। সে তো তার পয়সায় খাচ্ছে। কিন্তু তুমি কি করছ? তুমি কেন তারটা দেখতে যাচ্ছো? তোমাকে কে অধিকার দিয়েছে যে তুমি তা দেখবে আর যা খুশি বলবে? তুমি কেন অন্যদিকে তাকাও? তুমি যখন অন্যদিকে তাকাও তখন এটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তোমার উপলব্ধি হয়নি, তুমি নিজে তোমার শক্তিকে নষ্ট করে দিচ্ছ। তোমার চেতনা আসবে কোত্থেকে? তুমি যা বলছো তাতো বলছো তোমার পূর্বধারণা থেকে। পৃথিবীর বুকে যত ধর্ম আছে, সকল ধর্মে যতজন সাধক আসছেন তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব একটা ভাষা আছে। সে ভাষা উপলব্ধি করার জন্য যে সংযোগ স্থাপন করতে হয়, সে সংযোগ কতজন করতে পারে? যারা সংযোগ স্থাপন করবে, যারা সংযোগের পথে চলবে তারা সাধকের চাহনিতে, সাধকের শরীরের ভাষায়, সাধকের পোষাক থেকে বিশ্লেষণ করে সত্যকে আবিষ্কার করবে।

হাক্কানী হাজার- লাখের দরকার নাই। একজন হাক্কানী ই সারা বিশ্বকে কাপিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে তা বাহ্যিক ভাবে না। যারা সূরা কাহাফ পড়েছেন তারা সেটা উপলব্ধি করতে পারবেন। হাক্কানী এক ছাড়া কিছু বুঝেনা। পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাক, ৪০ হাজার ফুট উপর দিয়েই যাক, পানির মধ্য দিয়েই যাক, আর মাটিতেই হাঁটতে থাকুক তারা এক ছাড়া আর কিছু বুঝেনা। পৃথিবীতে যারা রাষ্ট্র শাসন করে তাদেরকে কে পরিচালিত করে? যারা সত্যের কান্ডারি আছেন পৃথিবীর বুকে, যার সংখ্যা এখনো তিন ডিজিটে আসে নাই, তারাই তাদের অবস্থান থেকে বিশ্ব নেতৃত্বকে দিক নির্দেশনা দেন। কিন্তু নেতৃত্ব তা ধরতে পারে না। হয়তো তারা সকলের সাথে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নেয় কিন্তু পরদিনই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। তার কাছে কিভাবে নির্দেশনা আসে? কেমনভাবে আসে? যারা আধ্যাত্মিক ব্যবস্থাপনায় থাকেন তারা চিন্তার তরঙ্গ সৃষ্টি করে যখন যা প্রয়োজন তা করিয়ে নেন। সেটা মানুষের বিবেচনায় নির্মম হলেও কিছু যায় আসে না। বিশ্বকে একটা জায়গায় পৌঁছানোর জন্য তাঁরা তাদের কাজ করে যাচ্ছেন। সেখানে দুনিয়াদারিতে স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে কিংবা কোন দল বা কোন গোষ্ঠির ক্ষতি হলে কিছু যায় আসে না। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে কয়েকজন মানুষ যখন কোন একটি পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে নিহত হয় তখন সারা দেশে হৈ চৈ হয় কিন্তু যখন লঞ্চডুবিতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় তখন কিন্তু এত হৈ-চৈ দেখা যায় না। এটাই হচ্ছে রাজনীতি। রাজনীতি কাউকে মিথ্যা বলার অধিকার দেয় না।

আমরা যখন স্বীকার করি নবী মোহাম্মদ(যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত) সর্বশ্রেষ্ঠ নবী তখন তাঁর সাথে কি আর কারো তুলনা করতে পারি? পারি না। কিন্তু এজিদ তা করেছে। ইব্রাহীম (আ:)এঁর বংশধরদের প্রতি যেরূপ শান্তি বর্ষণ করেছো, মোহাম্মদ (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত)এঁর বংশধরদের প্রতিও সেরূপ শান্তি বর্ষণ করো’- এটা এজিদের দোয়া। এজিদই প্রথম এই দোয়া পড়েছিল যখন ইমাম হোসেনকে হত্যার সংবাদ পেয়েছিল। যখন ইমাম হোসেনের খন্ডিত মস্তক এজিদের দরবারে আনা হয় তখনও সভাসদদের নিয়ে ভয় ভীতিতে এই দোয়া সে পাঠ করেছিল। অথচ এখন এই দোয়া পাঠের প্রচলন হয়ে গেছে। কোন সাধক এই দোয়া পাঠ করেন না। কারণ কোন সাধকই নবী মোহাম্মদ (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত)-এঁর সাথে অন্য কোন নবীর তুলনা করেন না।

কয়েকদিন আগে আমার এক বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিল। তিনি বলছিলেন যে নবী মোহাম্মদ (যাঁর কৃপা অমাদের উপর বর্ষিত) নিজেওতো শান্তি আনার জন্য যুদ্ধ করেছেন, মানুষ হত্যা করেছেন। হ্যাঁ,তিনি তা করেছেন। প্রয়োজনের তাগিদে দেশবাশীকে বাঁচানোর জন্যে, হাজার হাজার মানুষকে বাঁচানোর জন্য, একজন বা কয়েকজনকে হত্যা করা যদি প্রয়োজন হয়ে পড়ে তাহলে তাতে অধর্ম  হয় না। কিন্তু এটা প্রমান করে যেতে হবে যে, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে, দেশের সমৃদ্ধির জন্যে, এই দেশকে একটা লক্ষে পৌঁছানোর জন্য তা করা হয়েছে। আল্লাহ্ কে সন্তুষ্ট করতে হবে।

বাংলাদেশে কিছু ধর্মবেত্তা আছে তারা ভালো করেই জানে আল্লাহ্ র নাম নিয়ে যত কিছুই করি না কেন কিছুই হবে না। আল্লাহ্ ব্যস্ত আছেন তাঁর পাগলদের নিয়ে, তাই তাঁর নাম নিয়ে অন্যরা কে কি করছে তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। দুনিয়াদারিতেও তাই। সরকার প্রধানই জানেন কোথা দিয়ে কি ঘটছে। মাঠ কর্মী বা সাধারণ মানুষ তা জানতে, বুঝতে পারে না। যে বলবে যে উচ্চ পর্যায়ে যা ঘটছে তার সবই জানে সে, নিশ্চয়ই মিথ্যা বলছে।

হাক্কানী লাকুম দ্বীনুকুম নিয়ে চলে। তোমার ধর্ম তোমার কাছে, আমার ধর্ম আমার কাছে। হাক্কানীর মধ্যে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান বলতে কিছু নেই। যার মধ্যে সত্য আছে,সত্যকে যে ধারণ, লালন, পালন করেন তিনিই হাক্কানী। হাক্কানী সবার উর্ধ্বে মানুষকে মূল্য দেয়। তাই বলে সব মানুষকে না। হাক্কানী সেই মানুষকেই মূল্য দেয় যিনি এক সত্যকে ধারণ করেছেন। সব তরিকার সারমর্ম নিয়ে তৈরী হয়েছে হাক্কানী তরিকা। হাক্কানী ওজায়িফ এসেছে ১৯৯০ সনে। প্রতিটি হাক্কানী  দরবারে রবিবার ও বুহস্পতিবার হাক্কানী ওজায়িফ পাঠ ও চর্চা করা হয় । যারা হাক্কানী ওজায়িফের পথ ধরে যেতে চায় তারা এগিয়ে যাবে। কিন্তু শুধু এই পথেই তুমি তোমার লক্ষ অর্জন করবে তা না। এমন কোন পথ নেই যে পথ তাকে আল্লাহ্র কাছে পৌঁছে দেবে না। তুমি কোন পথ ভালোবাস? তুমি কি ভালোলাগার স্তরে আছো নাকি ভালোবাসার স্তরে আছো? তুমি তোমার ভালোবাসার স্তর থেকে নিজেকে প্রেমজগতের দিকে অগ্রসর করতে চাও কি না, তোমার লক্ষকে কেন্দ্র করে, যে লক্ষ তুমি নির্ধারণ করলে সেই লক্ষকে কেন্দ্র করে তুমি প্রেমজগতে যেতে পারবে কি না তার উপরই নির্ভর করবে তোমার সফলতা। মোনাফেকি ও র্শিক ত্যাগ করতে হবে। মোনাফেকি হচ্ছে অন্তরে এক বাহিরে আরেক, আর র্শিক হচ্ছে তুলনা করা। আমরা নিজেকে তুলনা করি অন্যের সাথে, ভুলেই যাই যে, আমরা প্রত্যেকে অনন্য মানুষ। ইসলামে নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করাকে হারাম করা হয়েছে। দুজন মানুষ কখনও এক হতে পারে না। (চলবে)

নিজের কথা – ২৫

শাহ মো.লিয়াকত আলী ॥ মানবতার কর্মই শান্তির উৎস। শাস্ত্রমতে প্রতিটি মানবতার কর্মের জন্য ব্যক্তি অন্তত দশগুণ অধীক কল্যাণ লাভ করে থাকে। ব্যক্তি তাঁর পছন্দের স্তর থেকেই মানবতার কর্ম করতে পারে। তাই পছন্দের পবিত্রতার উপর নির্ভর করে ব্যক্তির মানবিক কিম্বা অমানবিক কর্ম সম্পন্ন হয়ে থাকে। আর পবিত্র মানুষিকতার উপর নির্ভর করে ব্যক্তির  পছন্দের পবিত্রতা অর্জিত হয়। আবার পবিত্র চিন্তাশক্তির প্রভাবের উপর নির্ভর করেই ব্যক্তির পবিত্র মানুষিকতা গড়ে ওঠে। ব্যক্তির মাঝে পবিত্র চিন্তনশক্তির উদয় তখনই হয় যখন ব্যক্তি প্রেমিক হিসেবে অন্যদের প্রতি সদাচারণ প্রদর্শন করে থাকে। হাক্কানী চিন্তনমতে প্রত্যাশাহীন ভালোবাসার মাধ্যমে ব্যক্তির অন্তরে প্রেমের উদয় হতে থাকে।

 প্রেমিকের পবিত্র আচরনের প্রভাবে এমন শক্তিশালী মনমুগ্ধকর পরিবেশ গড়ে ওঠে যেখানে হিংস্র অহিংস্র পশুপ্রাণী সহ সকলে মিলেমিশে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে নিরাপদ শান্তিময় জীবনযাপন করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে। বাস্তবেও অনেক সাধকের জীবনযাপনকে ঘিরে এধরনের পরিবেশ গড়ে উঠতে দেখা যায়। যেখানে নিরাপদ ও শান্তির আশায় ভালমন্দ সকল ধরনের মানুষ এমনকি হিংস্র অহিংস্র পশুপ্রাণীকেও সময় সময় সমবেত থাকতে দেখা যায়।  সাধারণ জনগণের জীবনযাপনের উর্ধে সূফী সাধকগণ প্রেমিকের শক্তিশালী পবিত্র জীবনযাপন করেন। তাই তাঁদের পরিবেশ সাধারণ জনতা নারীপুরুষের পরিবেশ থেকে ভিন্নতর শক্তিশালী ও শান্তিময়। জীবন চলার পথে সূফী সাধকগণ  যেখানে অবস্থান কিম্বা জীবন যাপন করেন সেখানে শক্তিশালী শান্তিময় পরিবেশ গড়ে ওঠে। এ শান্তিময় পবিত্র পরিবেশের আকর্ষণে এসে ব্যক্তি ও পশুপ্রাণী একসাথে মিলেমিশে থাকতে আকৃষ্ট হয় ও স্বাচ্ছন্দবোধ করে থাকে। তাই সূফী সাধকগণের অবস্থান কিম্বা বসবাসের জায়গাতে  গড়ে ওঠে দরবার আশ্রম খানকা শরীফ বা আস্তানা শরীফ। যারা সূফী সাধকগণের শান্তিময় শক্তিময় জগতের জীবনযাপন করতে আগ্রহী থাকে তাদের চলার পথে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর দিক নির্দেশনা মূলক বাণী, ‘দরবারে এসো আশেকান হিসেবে- নারীপুরুষ হিসেবে নয়।’

আশেকান শব্দের অর্থ প্রেমিক। একজন আশেকানের মর্যাদার স্তর কতটা উচ্চতর তা তুলে ধরতে সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ তাঁর মালিক সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর উদ্ধৃতি দেন এভাবে, তাঁর মালিক বলেন, দরবারের একজন ভক্ত বা প্রেমিকের পায়ের জুতোর তলে থাকে তাঁর মালিককের মাথা। আর মালিকের পা এর জুতোর তলায় তাঁর মাথা।’ এ কথার অর্থ দাঁড়ায় দরবারের আশেকের অর্থাৎ প্রেমিকের মর্যাদা হল সবার উপরে।

প্রেমিকের জীবনযাপন ব্যতীত কেহ মানবতার কর্ম করতে পারেনা। আর মানবতার কর্ম ব্যতীত মনুষত্ব্যের জীবনযাপন করা অসম্ভব। আর মনুষত্ব্যের জীবনযাপন ব্যতীত কেহ আনন্দলোকের শান্তিময় জীবনলাভ করতে পারেনা। শান্তিময় জীবন লাভ ব্যতীত এজগতে সুস্থ্য জীবনযাপন করা যায়না। তাই সুস্থ্য শান্তিময় জীবনযাপন করতে চাইলে সাধারণ পশুপ্রাণীর জীবনযাপনের উর্ধে এসে মনুষত্ব্যের জীবন লাভ করা অত্যাবশ্যক। মনুষত্বের জীবন ব্যতীত সুন্দর শান্তিময় ভূবন গড়া যায়না। তাই সুন্দর শান্তিময় ভূবন গড়ার জন্য একজন প্রেমিক হিসেবে জীবনাচরণ গড়ে তুলা সকল মানুষের পবিত্র কর্তব্য। (চলবে)

প্রবাহ

ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হামাসের আহবান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত শান্তি পরিকল্পনা ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’র বিরুদ্ধে যেভাবে অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছেন তার প্রশংসা করেছে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। একইসঙ্গে সংগঠনটি ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং আমেরিকার কথিত শান্তি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।

হামাসের অন্যতম মুখপাত্র ফাউজি বারহুম গত সপ্তাহের রোববার এক বিবৃতিতে বলেছেন, সত্যিকার অর্থে আমরা পশ্চিম তীর ও আল-কুদস বা জেরুজালেম শহরের সহযোদ্ধাদের দৃঢ়তা এবং কর্মসূচির জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি যা মার্কিন পরিকল্পনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ফাউজি বারহুম আরো বলেন, ‘আমরা পশ্চিম তীর ও বায়তুল মুকাদ্দাসের সহযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানাব যে, সম্ভাব্য সব উপায় ব্যবহার করে তারা তাদের এই জনপ্রিয় প্রতিরোধ আন্দোলন জোরদার করবেন।’ হামাস মুখপাত্র বলেন, কথিত শান্তি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে লড়াই করা এখন সমস্ত ফিলিস্তিনির দাবি।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে কথিত ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি প্রকাশ করেন। সে সময় তার পাশে ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছিলেন কিন্তু ফিলিস্তিনের কোনো নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফিলিস্তিনের সমস্ত সংগঠন এবং রাজনৈতিক দল ট্রাম্পের শান্তি চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ কিছু আরব দেশ এই চুক্তির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

ইরানের নয়া স্যাটেলাইটের কার্যক্রম সোলাইমানির ছবি সম্প্রচারের মাধ্যমে শুরু হবে

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ অযারি জাহরোমি বলেছেন, ইরানের নয়া স্যাটেলাইট ‘জাফার’ পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছার পর সর্বপ্রথম জেনারেল কাসেম সোলাইমানির ছবি সম্প্রচার করবে। একইসঙ্গে ইরানিদের চারশ’টি অডিও বার্তা সম্প্রচারিত হবে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে।

খুব শিগগিরই ইরানের সেমনান প্রদেশ থেকে এই স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানো হবে। ৯০ কেজি ওজনের  জাফার নামের এই কৃত্রিম উপগ্রহে রয়েছে চারটি কালার ক্যামেরা। এসব ক্যামেরা ভূপৃষ্ঠের ছবি ধারণ করে তা সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাবে।

গত বছর জানুয়ারিতে ইরানের তৈরি পায়াম স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ কারিগরী সমস্যার কারণে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যায়ে স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে পৌঁছাতে পারেনি। নতুন জাফার স্যাটেলাইটটি আকার ও ওজনের দিক থেকে পায়াম স্যাটেলাইটের মতো হলেও এতে নতুন কিছু বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে। জাফার স্যাটেলাইটের ইমেজ রেজ্যুলেশন হচ্ছে ৮০ মিটার।

ইরান ২০০৯ সালে প্রথম উমিদ বা আশা নামের কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠায়। ইরানি বিজ্ঞানীরা নিজেরাই এটি তৈরি করেন। এরপর ২০১০ সালে প্রাণীবাহী মহাকাশযান মহাকাশে পাঠায় তেহরান। এ মহাকাশযান পাঠানোর জন্য কাভেশগার বা অভিযাত্রী-৩ নামের রকেট ব্যবহার করা হয়।

এ ছাড়া, ২০১৫ সালে ফজর বা উষা নামে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়েছে ইরান। এটি উঁচুমানের ছবি ধারণ করে পৃথিবীতে পাঠাচ্ছে।

দেশ এখন চরম দুরাবস্থার মধ্যে,অর্থনৈতিক অবস্থা ভেন্টিলেটরে: অমিত মিত্র

ভারতের পশ্চিম-বঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেছেন, ‘আমাদের দেশ এখন চরম দুরাবস্থার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। যা বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা ‘আইসিইউ’তে পৌঁছে গিয়েছিল, এখন সেটি ভেন্টিলেটরে চলে গিয়েছে! তিনি গত সপ্তাহের সোমবার রাজ্য বিধানসভায় বাজেট পেশের সময় ওই মন্তব্য করেন।

অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের নাম না করে তীব্র সমালোচনায় সোচ্চার হয়ে বলেন, ‘আজ গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবিধানের মূলভিত্তি ধ্বংসের পথে। এহেন অবস্থায় ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো আজ বিপন্ন! শুধু তাই নয়, গণতন্ত্রের মাপকাঠিতে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের স্থান আরও দশধাপ নেমে ৫১ তম স্থানে চলে গিয়েছে!’

তিনি বলেন, ‘আজ পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একটি চক্রান্ত চলছে, যা ভারতীয় সমাজকে বিভাজনের পথে নিয়ে যাচ্ছে। ভারতে সবক’টি অর্থনৈতিক সূচক আজ শুধু নিম্নগামী নয়, অনেক ক্ষেত্রে নেগেটিভ। একদিকে অর্থনৈতিক ঝিমুনি, অন্যদিকে মূল্যবৃদ্ধির খাঁড়ার চাপে ভারতীয় জনজীবন আজ বিপন্ন।’

অমিত বাবু অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর ‘আচ্ছে দিন’ (সুদিন) স্লোগান প্রসঙ্গে খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘দেশের কৃষক বন্ধুরা আজ চরম সঙ্কটের মুখে। তাহলে এই পাঁচ বছরে ‘আচ্ছে দিন’ কোথায় গেল?’

ভারতের সঙ্গে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থার তুলনা করে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেন, ‘আজ ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার তলানিতে। ২০১৯-২০২০ সালে পাঁচ শতাংশে এসেছে যা বিগত এক বছরে সর্বনিম্ন। সেই তুলনায় বাংলার জিডিপি বৃদ্ধির হার একই সময়ে দশ দশমিক চার শতাংশে পৌঁছেছে যা ভারতের জিডিপি’র দ্বিগুণ। একইভাবে ভারতে শিল্পে বৃদ্ধির হার ২০১৯-২০২০ তে যেখানে ০.৬ শতাংশ, অন্যদিকে বাংলার শিল্পে বৃদ্ধির হার পাঁচগুণ অর্থাৎ ৩.১ শতাংশ।’

এরপরেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে বলেন, কোথায় গেল ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র গালভরা স্লোগান? এত বিপর্যয়ের মধ্যেও বাংলা নানাক্ষেত্রে ভারতের মধ্যে এক নম্বর স্থান অর্জন করেছে। এ প্রসঙ্গে বাংলা একশো দিনের কাজে, ক্ষুদ্র শিল্পে, গ্রামীণ গৃহনির্মাণে, গ্রামীণ সড়কে, সংখ্যালঘু স্কলারশিপে, স্কিল ডেভেলপমেন্টে, ই-টেন্ডারে প্রথম স্থানে রয়েছে বলে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র জানান।

করোনার যম সূর্যালোক,

দাবি বিজ্ঞানীদের!

করোনার যম সূর্যালোক। এমনই দাবি করছেন কনফেডারেশন অব মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব এশিয়া অ্যান্ড ওশিয়ানিয়া (সিএমএএও)’র বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসকরা। তারা জানিয়েছেন, যে কোনও মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ৩ থেকে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত বাঁচতে পারে। কিন্তু সূর্যালোকে রাখলে এই অত্যন্ত বিপজ্জনক ভাইরাসটিরই বংশবৃদ্ধি করার ক্ষমতা কমে অর্ধেক হয়ে যায়। কোনও জায়গায় ভাইরাস কত দ্রুত ধ্বংস হচ্ছে, বা ঘনত্ব কত দ্রুত কমে অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে, তার হিসেবকে বলে ওই ভাইরাসের ‘হাফ লাইফ’। দেখা গিয়েছে, অন্ধকারে করোনা ভাইরাসের ‘হাফ লাইফ’ হয় ১৩ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু সূর্যালোকে রাখলে সেই ‘হাফ লাইফ’ই হয়ে যায় মাত্র আড়াই মিনিট। এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের স্বভাব-চরিত্র দেখে যতটুকু জানা যাচ্ছে, তাতে এও স্পষ্ট হয়েছে, ৪ থেকে ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রা এই ভাইরাসের পক্ষে অত্যন্ত স্বস্তির। অন্যদিকে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি হয়ে গেলেই তা করোনার পক্ষে উদ্বেগজনক। অতিরিক্ত আর্দ্র আবহাওয়াও মোটেই পছন্দ করে না এই ভাইরাস।

অন্যান্য করোনা ভাইরাসের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে এবার আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় লক্ষ্য করেছেন বিজ্ঞানীরা। সেটি হল, ২০০৩ সালের করোনা ভাইরাস বা সার্স-এর ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে, ওই বছরের মে থেকে জুন মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে রোগের প্রাদুর্ভাব কমে গিয়ে শেষ হয়ে যায়। বলা বাহুল্য, মে থেকে জুন মাসের তীব্র গরম এবং আর্দ্র পরিবেশ আজকের ‘২০১৯ নভেল করোনা ভাইরাস’-এর অগ্রজ সার্সকে বাড়তে দেয়নি। তারা জানিয়েছেন, ঠিক এই কারণেই এই ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা খুবই কম আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া এবং পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধের বিভিন্ন দেশে।

রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের করোনা মোকাবিলায় তৈরি কমিটি’র সদস্য ডাঃ বিভূতি সাহা যদিও বলেছেন, সূর্যালোক ভাইরাসের বাড়বাড়ন্তের পক্ষে ক্ষতিকর। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে করোনার জন্য এমন কোনও তথ্য আমার জানা নেই। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালস্থিত কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি (ভিআরডিএল) প্রধান ডাঃ শান্তা দত্ত বলেন, সূর্যের আলট্রা ভায়োলেট রশ্মিতে মাত্র দু’ঘন্টা কোনও ভাইরাস রাখলেই সে বাঁচতে পারে না। করোনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব না। কারণ, গবেষক এবং রোগনির্ণয়কারী সংস্থা হলেও এখন আমাদের দম ফেলবার ফুরসৎ নেই। আগে দেশের মানুষের প্রাণ তো বাঁচুক, তারপর করোনা নিয়ে নাহয় খুঁটিনাটি গবেষণা চলবে। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালস্থিত ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ-এর ভাইরাস ইউনিটের প্রাক্তন ইনচার্জ ডঃ শ্যামলেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন, করোনা, সার্স এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সাধারণভাবে ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় বাঁচতে পারে না। সাধারণভাবে দেখা গিয়েছে, বড় মহামারী জাতীয় সংক্রমণগুলি হয়ে থাকে শীতের শেষদিকে বা গরমকাল থেকে শীতের শুরুতে। তারপর তারা সারাটা শীতে দাপিয়ে বেড়ায়। প্রবলভাবে গরম পড়লে অধিকাংশক্ষেত্রে আর অস্তিত্বই থাকে না। পিজি হাসপাতালের মেডিসিনের প্রধান এবং রাজ্য সরকারের করোনা মোকাবিলা কমিটি’র সদস্য ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ বলেন, হ্যাঁ, আমরা দেখেছি, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, বেশি আর্দ্রতা এবং সূর্যালোক-এই তিনটিই মারণ ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়াকে বাঁচতে দেয় না।

বাণিজ্যিক স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা: ক্রেমলিন

আমেরিকা নিজের বাণিজ্যিক স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে অভিযোগ করেছে মস্কো। রুশ প্রেসিডেন্টের আবাসিক প্রাসাদ-ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ গত সোমবার মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন,আমেরিকা নিজের বাণিজ্যিক স্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে দিন দিন অবৈধ নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং এর ফলে ক্ষতির পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। ল্যাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলার প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানান পেসকভ।

তিনি বলেন, আমেরিকা এমন সময় বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে যখন আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অন্য দেশের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ সম্পূর্ণ অবৈধ।

ভেনিজুয়েলার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখার অভিযোগে মস্কোর ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে এসেছেন রাশিয়ার কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এ ধরনের অবৈধ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কারাকাসের সঙ্গে মস্কোর সহযোগিতায় বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না।

ভেনিজুয়েলার মার্কিন বিরোধী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছে আমেরিকা। কিন্তু এ কাজে ব্যর্থ হয়ে দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সরকার অভিযোগ করছে, রাশিয়ার সমর্থন নিয়েই টিকে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাদুরো। এ কারণে ওয়াশিংটন এ সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাহার করার জন্য মস্কোর প্রতি বহুবার আহ্বান জানিয়েছে। তবে রাশিয়া আমেরিকার এ আবদার প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।

ইয়েমেন যুদ্ধে সুদানের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে: সুদানি তথ্যমন্ত্রী

সুদানের তথ্যমন্ত্রী ফয়সাল মুহাম্মাদ সালিহ বলেছেন, ইয়েমেন যুদ্ধে তার দেশের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় গত সপ্তাহের রোববার আফ্রিকান ইউনিয়নের সম্মেলনে তিনি একথা বলেছেন। ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনের বিরুদ্ধে গত প্রায় ছয় বছর ধরে সৌদি আরবের পাশাপাশি সুদান যুদ্ধ করছে এবং সৌদি জোটের বর্বর আগ্রাসনে ইয়েমেন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। 

সুদানের তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইয়েমেন যুদ্ধের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে, এমনকি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। এসব দেশ মনে করছে সামরিক উপায়ে ইয়েমেন সঙ্কটের সমাধান করা যাবে না বরং বিষয়টি আরো জটিল আকার ধারণ করবে।’

ফয়সাল সালিহ বলেন, তবে এখনই ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে সেনা প্রত্যাহার করে আনা সম্ভব হবে না বরং ধীরে ধীরে সেনা সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে। সুদানের তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে সেনা কমিয়ে আনার ব্যাপারে যে প্রচেষ্টা চলছে তাতে আশা করা যায় শিগগিরই অনেক সেনা কমানো সম্ভব হবে।

গত বছর সুদানের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লাহ হামদু জানিয়েছিলেন, ইয়েমেন যুদ্ধে সুদানের ১৫ হাজার সেনা অংশ নিয়েছিল কিন্তু এখন সে সংখ্যা কমিয়ে পাঁচ হাজারে নামিয়ে আনা হয়েছে।

করোনায় কাঁদছে উত্তর কোরিয়া

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে মৃত্যু কিংবা আক্রান্ত হওয়া নিয়ে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি উত্তর কোরিয়া। কিন্তু এই ভাইরাস দেশটিতেও ঢুকে পড়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের উঠে আসছে।

চীন থেকে অভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে। ইতিমধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুও হয়েছে এতে। বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশটির অনুন্নত ও দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও মরণঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও মেডিকেল সরঞ্জামের অভাবে ভয়াবহ সংকটের মুখে অসহায় কোরীয় জনগণ।

করোনাভাইরাসের প্রবল ছোবলে গোপনে কাঁদছে উত্তর কোরিয়া। গত সোমবার দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক দৈনিক ডেইলি এনকের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত চীন। আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত সোমবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার।

চীনের পূর্বাঞ্চলের উত্তর কোরিয়া সীমান্তবর্তী শহর লিয়াওনিং ও জিলিনে এখন পর্যন্ত ১৫০ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে বিশ্বের অন্তত ৩০টি দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

ভাইরাসের ভয়ে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেছে বহু দেশ। ভীত উত্তর কোরিয়ার সরকারও। তাদের এই ভীতির অন্যতম চিহ্ন হচ্ছে, শনিবার কোরীয় সেনাবাহিনীর ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী থাকলেও এবার আর কোনো ধরনের আয়োজন কিংবা সেনা কুচকাওয়াজ বা সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করেনি পিয়ংইয়ং।

কিন্তু গত বছরও সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের উপস্থিতিতে সাড়ম্বরে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হয়েছিল। এছাড়া গত বছরের এই সময়ে লেটেস্ট মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও ভয়াবহ সব যুদ্ধ সরঞ্জামের প্রদর্শনী করা হলেও এ বছর এখন পর্যন্ত তেমন কোনো পরীক্ষা চালানো হয়নি।

চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার এক হাজার ৪০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। একনায়ক কিম জং উন তার যাবতীয় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রায় পুরোটাই চীনের সঙ্গে বজায় রাখেন।

৯০ শতাংশ বাণিজ্যই হয় চীনের সঙ্গে। তবে করোনা ভাইরাসের মহামারীর কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে পিয়ংইয়ং। সেই সঙ্গে সব ধরনের পর্যটক প্রবেশও নিষিদ্ধ করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের ১৩৫টি সৌধকে জাতীয় স্মারক হিসেবে ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গের ১৩৫টি সৌধকে জাতীয় স্মারক হিসেবে ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আপাতত বাংলার আর নতুন কোনও সৌধ বা স্মৃতিস্তম্ভকে জাতীয় স্মারক হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে না কেন্দ্র। তবে পশ্চিমবঙ্গের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ইতিহাস শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তুলে ধরার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। আজ লোকসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি এবং পর্যটনমন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল। যদিও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য সরকার নির্দিষ্ট করে কী পদক্ষেপ করবে, তার সবিস্তার তথ্য এদিন দেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

পরে এই সংক্রান্ত প্রশ্নের লিখিত জবাবেও তিনি লোকসভায় জানিয়েছেন, কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পশ্চিমবঙ্গের এইসব সৌধস্মৃতিস্তম্ভ থেকে ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে কেন্দ্রীয় সরকার মোট ৩ কোটি ৩০ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। এবং রাজ্যের এই ১৩৫টি জাতীয় স্মারকের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে কেন্দ্র খরচ করেছে মোট ৯ কোটি ৪৭ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা। আজ লোকসভায় কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি এবং পর্যটনমন্ত্রীর পেশ করা তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, বর্ধমান, বীরভূম, কলকাতা, কোচবিহার, দার্জিলিং, দক্ষিণ দিনাজপুর, হুগলি, হাওড়া, মালদহ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, পুরুলিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মোট ১৩৫টি সৌধ/স্মৃতিস্তম্ভকে ইতিমধ্যেই জাতীয় স্মারক (মনুমেন্টস অব ন্যাশনাল ইমপর্ট্যান্স) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোচবিহার রাজবাড়ি, বীরভূমের জয়দেবের মন্দির (রাধাবিনোদের মন্দির), বাঁকুড়ার রাসমঞ্চ, জোড়া মন্দির, বর্ধমানের ইছাই ঘোষের মন্দির, মালদহের চাঁদ সদাগরের ভিটে, বাইশগজি দেওয়াল, মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারি ও ইমামবড়া, পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক রাজবাড়ি, উত্তর ২৪ পরগনার ২৬ শিবের মন্দির, ওয়ারেন হেস্টিংসের বাড়ি, বড়কোঠি নামে পরিচিত ক্লাইভের বাড়ি, কলকাতার টাঁকশাল, এশিয়াটিক সোসাইটি ওল্ড বিল্ডিং, সেন্ট জনস চার্চ, মেটক্যাফে হল প্রভৃতি। এদিন লোকসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, ‘এছাড়াও সংগ্রহালয় সংক্রান্ত যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প রয়েছে, তার কাজ পশ্চিমবঙ্গেও চলছে। এবারের সাধারণ বাজেটেও মিউজিয়ামের উন্নয়ন খাতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

গত ১১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওল্ড কারেন্সি বিল্ডিংয়ে এই লক্ষ্যে একটি চিত্র প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করেছিলেন। সেই চিত্র প্রদর্শনীতে বাংলার যাবতীয় ইতিহাস প্রদর্শিত হয়েছে। ওল্ড কারেন্সি বিল্ডিং, মেটক্যাফে হল এবং বেলভেডিয়ার ভবনে ইতিহাস সম্বলিত ছবিগুলির প্রদর্শনী হয়েছে।’

করোনাভাইরাস:রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক সঙ্কটে পশ্চিমবঙ্গের এলাকা

কলকাতা থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর এলাকা। সৈকত শহর দীঘা যাওয়ার পথের প্রায় ১৩ কিলোমিটার ভেতরে। আর চীনের উহান প্রদেশ থেকে এই জায়গাটার দূরত্ব ঠিক ২ হাজার ৭৯৯ কিলোমিটার। তবে উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে ভগবানপুরেরই বাসিন্দা দুই গৃহবধু – পুতুল বেরা আর রীতা মাইতিদের ঘরে। আমরা তা বুঝি নি যে ভাইরাস হবে। প্রায় এক লাখ টাকার চুল কিনে ফেলেছি। এভাবে ডুবতে বসব বুঝি নি, বলছিলেন রীতা মাইতি। আর পুতুল বেরার ৪০ হাজার টাকার কাঁচামাল, অর্থাৎ চুল বাড়িতে কেনা রয়েছে, তৈরি করে বড় ব্যবসায়ীদের কাছে দিয়েছেন এক লক্ষ টাকার মাল। সেই টাকা এখনও পাই নি। তারা চীনে মাল বিক্রি করতে পারলে তবে আমাদের টাকা দেবে, বলছিলেন মিসেস বেরা। এদের মতোই এই এলাকার কয়েক লাখ মানুষ মাথার চুল থেকে পরচুলা বানানোর পেশায় যুক্ত। আঁচড়ানোর সময়ে চিরুনিতে যে চুল উঠে আসে, সেটাই কিনে নেয় ব্যবসায়ীরা। ভারতের নানা জায়গা থেকে ট্রেন বা বিমানে সেই চুল পৌঁছায় ভগবানপুর বা চন্ডীপুরের গৃহস্থের ঘরে বা কারখানায়। সবথেকে বেশি দামী চুল আসে পাঞ্জাব আর কাশ্মীর থেকে। ওই চুল পরিষ্কার করে, আঁচড়িয়ে, ধুয়ে, রোদে শুকিয়ে, মাপ মতো কেটে তা গোছা করে তৈরি হয় রফতানির জন্য। আর সবটাই রফতানি হত চীনে। কিন্তু সেই ব্যবসা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। ভগবানপুর বাস স্ট্যান্ডেই চুলের ব্যবসায়ী শেখ হাসিফুর রহমানের অফিস আর কারখানা। বিশাল বড় একটি হলঘরের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেল খাঁ খাঁ করছে অন্য সময়ে গম গম করতে থাকা ঘরটা – ওটাই মি. রহমানের কারখানা, যেখানে ঝাড়াই বাছাই করে চীনের রফতানি করার জন্য স্তুপ করে রাখা রয়েছে নানা মাপের চুলের বান্ডিল – ৬ ইঞ্চি থেকে ২৬ ইঞ্চি

পর্যন্ত। মি. রহমানের কথায়, করোনা ভাইরাসের জন্য ব্যবসায়িক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে চীনের সঙ্গে। সেখান থেকে কেউ আসছেন না। যার ফলে এখানকার ৮০ শতাংশ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। আমি সংস্থার মালিক ঠিকই, কিন্তু আমারও ব্যবসা সম্পূর্ণ বন্ধ। মি. রহমানের যেমন বড় ব্যবসা, তেমনই মানুষের চুল নিয়েই কিছুটা ছোট কারবার করেন গণেশ পট্টনায়ক। করোনা ভাইরাসের ফলে টাকা পয়সা সবই আটকে আছে, কোনও পেমেন্ট দিতে

পারছে না কেউ। ব্যবসাও প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে। বলছে তো ১৫ – ২০ তারিখের মধ্যে বাকি টাকা পাওয়া যাবে। জানি না ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে কী হবে, বলছিলেন মি. পট্টনায়ক। চুলের ব্যবসাই ভগবানপুরের মতো এলকাগুলিতে আয়ের প্রধান উপায়। আর সেই ব্যবসা চীনে করোনাভাইরাসে প্রকোপ শুরু হওয়ার পরে অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। ভগবানপুর বাজারেই এক দোকানী শেখ সিকান্দারের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি বললেন, আমার তো ছোট পান বিড়ির দোকান। তাতেও ব্যবসা খারাপ

হয়ে গেছে বেশ কিছুদিন ধরে। চুলের ব্যবসা মার খেলে এখানকার সব ব্যবসা – সব দোকানেই তার প্রভাব পড়ছে। মানুষের চুল রফতানির ব্যবসা করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে এলাকার অর্থনীতিতে কতটা বিরূপ প্রভাব ফেলেছে সেটা বোঝাছিলেন প্রজ্জ্বল মাইতি, যিনি একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের হয়ে সাধারণ মানুষকে আর্থিক লেনদেনে সহায়তা করেন, একজন ব্যাঙ্ক-মিত্র হিসাবে। মি. মাইতির কথায়, ভাইরাসের প্রভাব চুল ব্যবসায়ে যেভাবে পড়েছে, তাতে আমাদের লেনদেনও দশভাগের একভাগ হয়ে গেছে। আগে যেখানে দিনে লাখ দশেক টাকার লেনদেন হত – টাকা তোলা, টাকা জমা মিলিয়ে, তা এখন লাখখানেকে এসে ঠেকেছে। এলাকার নানা গ্রামে চিকিৎসা করতে যান স্থানীয় ডাক্তার অনুপম সরকার। তিনি বলছিলেন, তার অনেক রোগীই অনুরোধ করছে ডাক্তারের ফি পরে যদি দেয়া যায় – এতটাই অর্থের অভাব শুরু হয়েছে ভগবানপুর আর লাগোয়া এলাকায়।

পর্যন্ত। মি. রহমানের কথায়, করোনা ভাইরাসের জন্য ব্যবসায়িক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে চীনের সঙ্গে। সেখান থেকে কেউ আসছেন না। যার ফলে এখানকার ৮০ শতাংশ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। আমি সংস্থার মালিক ঠিকই, কিন্তু আমারও ব্যবসা সম্পূর্ণ বন্ধ। মি. রহমানের যেমন বড় ব্যবসা, তেমনই মানুষের চুল নিয়েই কিছুটা ছোট কারবার করেন গণেশ পট্টনায়ক। করোনা ভাইরাসের ফলে টাকা পয়সা সবই আটকে আছে, কোনও পেমেন্ট দিতে

পারছে না কেউ। ব্যবসাও প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে। বলছে তো ১৫ – ২০ তারিখের মধ্যে বাকি টাকা পাওয়া যাবে। জানি না ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে কী হবে, বলছিলেন মি. পট্টনায়ক। চুলের ব্যবসাই ভগবানপুরের মতো এলকাগুলিতে আয়ের প্রধান উপায়। আর সেই ব্যবসা চীনে করোনাভাইরাসে প্রকোপ শুরু হওয়ার পরে অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। ভগবানপুর বাজারেই এক দোকানী শেখ সিকান্দারের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি বললেন, আমার তো ছোট পান বিড়ির দোকান। তাতেও ব্যবসা খারাপ

হয়ে গেছে বেশ কিছুদিন ধরে। চুলের ব্যবসা মার খেলে এখানকার সব ব্যবসা – সব দোকানেই তার প্রভাব পড়ছে। মানুষের চুল রফতানির ব্যবসা করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে এলাকার অর্থনীতিতে কতটা বিরূপ প্রভাব ফেলেছে সেটা বোঝাছিলেন প্রজ্জ্বল মাইতি, যিনি একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের হয়ে সাধারণ মানুষকে আর্থিক লেনদেনে সহায়তা করেন, একজন ব্যাঙ্ক-মিত্র হিসাবে। মি. মাইতির কথায়, ভাইরাসের প্রভাব চুল ব্যবসায়ে যেভাবে পড়েছে, তাতে আমাদের লেনদেনও দশভাগের একভাগ হয়ে গেছে। আগে যেখানে দিনে লাখ দশেক টাকার লেনদেন হত – টাকা তোলা, টাকা জমা মিলিয়ে, তা এখন লাখখানেকে এসে ঠেকেছে। এলাকার নানা গ্রামে চিকিৎসা করতে যান স্থানীয় ডাক্তার অনুপম সরকার। তিনি বলছিলেন, তার অনেক রোগীই অনুরোধ করছে ডাক্তারের ফি পরে যদি দেয়া যায় – এতটাই অর্থের অভাব শুরু হয়েছে ভগবানপুর আর লাগোয়া এলাকায়।

সত্য প্রতিষ্ঠায় স্বেচ্ছাশ্রম যাহা নিত্য তাহাই সত্য ১৮

‘সকল কর্মের প্রারম্ভেই তুমি তোমার আল্লাহ্কে অবশ্যই স্মরণ করিও।’

              – সূফী সাধক আবু আলী আক্তার উদ্দিন

‘ক্ষেতের ইটা ক্ষেতেই ভাঙ্গতে হয়।’

              – সূফী সাধক আনোয়ারুল হক

‘ঘুম ভাঙ্গার পর চোখ মেলার আগেই তোমার আল্লাহ্কে স্মরণ কর।’

              – সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ

শাহ্ ফাতেমা আফরোজ নাসরিন ॥ সূফী সাধক আনোয়ারুল হক চলে যাওয়ার তিন দিন পূর্বে তাঁর ভাবশিষ্য সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ কে তিনটি কথা বলে গেলেন আর তা হলো:

‘* গায়ের চামড়াকে গন্ডারের চামড়া করে রাখবেন।

* তিন হাজার বছর আগের আর তিন হাজার বছর পরের চিন্তা করে কাজ করবেন।

* পথ খুলে রেখে গেলাম যতদূর যেতে চান যেতে পারবেন। ’

সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ একদিন বলেছিলেন ‘এ কথা না বলে গেলে আমিও হয়তো এখানেই থেমে যেতাম’।

এত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বুঝে কার সাধ্য? তবুও এ পথতো জানা-বুঝা-চেনার পথ, প্রচেষ্টায় রত থাকতেই হবে। আর একবার চোখ বুলানো যাক সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর ‘হাক্কানী কথা’য় :-

‘সব অসুখ কি এক ব্যবস্থা পত্রে সারবে? চিন্তাজগতে আমরা একেকজন একেক রকমভাবে চিন্তা করব তবে কি এক নীতিতে আমরা চলতে পারবো? এইভাবে কতটুকু যাওয়া যাবে? যে সময় পৃথিবীতে ৫০ কোটি মানুষ ছিলো, সে সময় যে কাজটি করা গেছে, যে সময় পৃথিবীতে ১০ কোটি মানুষ ছিলো, সে সময় যে কাজটি করা গেছে, আজ ৭০০ কোটি মানুষের পৃথিবীতে কি সে কাজটি করা যাবে? একই পদ্ধতিতে? নাকি তার সংস্কার করতে হবে? প্রতিনিয়তই ব্যক্তির যে পরিবর্তন হচ্ছে ব্যক্তি সেটা ধরেনা, জানতেও চায় না। নিজের যে পরিবর্তন হচ্ছে, নিজের চিন্তারও যে পরিবর্তন হচ্ছে, নিজে অভ্যাসের দাস হয়ে যেগুলো করছে তার মধ্যেও যে পরিবর্তন হচ্ছে সেটাও উপলব্ধি করে না।

যখন কেউ এক সত্য ধরার জন্য সিদ্ধান্ত নিবে তখন জানতে হবে কোন একটা বিষয় বা ব্যক্তি, সে নিজের মধ্যে উপলব্ধি করে কিনা। সব কিছু বাদ দিয়ে শুধু এক কে নিয়ে থাকার সিদ্ধান্তে আসতে পারছি কিনা। যারা হাক্কানীতে আসছেন তাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যারা পার্থিব চাওয়া-পাওয়া নিয়ে দরবারে আসছেন, তাদের জন্য এটা প্রয়োজন নয়, তারা আসবেন, উপদেশ মানবেন, কাজ হবে। আবার আসবেন, কাজ সম্পন্ন হলে চলে যাবেন। এরকম হাজার হাজার মানুষ আসছে। লাখ লাখ মানুষ আসছে হাক্কানীর সব দরবারে, আর তাদের কার্য হাসিল করে চলেও যাচ্ছেন। কুরআনে বলা আছে-যে তার আল্লাহ্র দিকে এগিয়ে যাবে পূর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণ কোনদিক থেকে সহযোগিতা আসবে তা তুমি জানোনা। তুমি আল্লাহর দিকে ধাবিত হও। আল্লাহ্ কি? এক। এক এ আমি কোন জায়গায় আছি? আমার চিন্তা কি এক-কে কেন্দ্র করে? আমার যে অভ্যাসগুলো গড়ে উঠছে তা কি এক-কে কেন্দ্র করে? আমার যে সম্পদ তা কি এক-কে কেন্দ্র করে? আমার যে বিদ্যা তা কি এক-কে কেন্দ্র করে? তাহলে অবশ্যই সেখানে সহযোগিতা আসবে। কুরআন তো মিথ্যা হতে পারে না, কোন ধর্ম পুস্তক, কোন শাস্ত্র মিথ্যা হতে পারে না।

কুরআনে লেখা রয়েছে-যে তার আল্লাহ্র দিকে এগিয়ে যাবে পূর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণ কোন দিক থেকে সহযোগিতা আসবে তা তুমি জানো না। প্রশ্ন আসবে কতক্ষণ পর্যন্ত সে জানবে না? যতক্ষণ পর্যন্ত হাবুডুবু খাবে। মুখে বলবে আমি এক এর মধ্যে আছি কিন্তু পাঁচ মিনিট চোখ বন্ধ করে আত্মদর্শন করার তার সময় নেই। ২৪ ঘন্টা আপনি হাজার হাজার বিষয় চিন্তা করছেন আর ৫ মিনিট যখন চোখ বন্ধ করলেন তখন সেগুলো কি আসবে না? ওর প্রভাব কি পড়বে না? অবশ্যই পড়বে। সেইখানে ‘এক’ ধারণ করে আমি লালন করছি কিনা, ‘এক’ এর শক্তি আমি উপলব্ধি করতে পারছি কিনা তা দেখতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ‘এক’ বোধ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত হাবুডুবু খাবো, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে যেতেও পারবো, যা আমার সহায়ক হবে। সুফী সাধক আনোয়ারুল হক উপলব্ধি করেছেন বর্তমান জগতে আজ থেকে হাজার হাজার বছর লক্ষ লক্ষ বছর ধরে যারা সত্যকে লালন করে আসছে, ১৪০০ বছর আগে নবী মোহাম্মদ (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত) যেভাবে বললেন যে সত্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, সত্য লালন করতে হবে, সত্য ধারণ করতে হবে এবং সেই ধারায় আমরা দেখছি বহু সূফী সাধক করে গেছেন কিন্তু তার ধারাবাহিকতায় যে সংস্কারের প্রয়োজন ততটা আসে নাই। অপরদিকে এই সত্যের বিরুদ্ধে যে শক্তি, সত্য একটি শক্তি এবং সত্যের বিরুদ্ধে যত শক্তি আছে তারা যখন দেখে তখন এই সত্যের সাথে দ্বন্দ্ব শুরু করে, যা আজও চলছে এবং শেষ পর্যন্ত চলবে। তখনকার যে পদ্ধতি, যে পদ্ধতিতে সত্য অন্বেষণ করতে গেছেন সূফী সাধকরা সেই পদ্ধতির অনেক পরিবর্তন, সংস্কার নেয়া হয়েছে হাক্কানীতে। এখন মোবাইলের যুগ। একটা সময় সূফী সাধকরা বসে বসে চিন্তা করতেন, কাউকে দরকার হলে তিনি তার দরবারে এসে হাজির হতেন। প্রশ্ন হলো যে কত সময় লেগেছে? এখন পৃথিবীতে সময়ের কতটুকু মূল্য? এখনতো মোবাইল এসে গেছে, মোবাইল পর্যন্ততো আপনাকে সংস্কার করতে হবে। ঐটাকেতো মেনে নিতে হবে। আপনি ব্যবহার করছেন, আপনার কেনার মত সামর্থ হয়েছে। সেখানে অন্যের নাম্বারগুলো রাখতে পারছেন। যখনই চিন্তায় আসছে টিপ দিচ্ছেন আর যোগাযোগ করে আপনারা কথাবার্তা বলছেন। হাক্কানী থটের ওখান থেকে আরম্ভ। মোবাইলের উর্ধ্বে যাও, গিয়ে দেখো যে, সত্য তোমাকে কোন জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। সাধনা সেখান থেকে আরম্ভ করতে হবে। একটি প্রাতিষ্ঠানিক আরেকটি হচ্ছে আধ্যাত্মিক জগতের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে দিয়ে।

আমরা সবাই এই পৃথিবীতে এসেছি একা, চলে যাবো একা। পৃথিবীতে আমি এসে মোহের বশে, লোভের বশে, ভোগের স্পৃহায় অনেক কিছুর মধ্যে আটকা পড়ে গেলাম। কিন্তু দেখা যাবে কিছুই আমার থাকবে না। আমি যখন চলে যাবো তখন এইগুলোকে আমি পৃথিবীতেই রেখে যাবো। আমরা পৃথিবীতে সম্পত্তি রেখে চলে যাই ছেলে মেয়েদের জন্য। এভাবে ছেলে মেয়েদের আরো ভোগের মধ্যে রেখে সমাজকে নষ্টের দিকে নিয়ে যাচ্ছি আমরা। তার মধ্যে ভোগের স্পৃহাতো বাড়বেই। এটা চিরন্তন। একটা ব্যক্তি যে ভোগ করল তাতে কোন অসুবিধা নাই, যেই মুহূর্তে তার জায়গা আসছে সেই মুহূর্তেই তিনি তার ছেলেমেয়ে বা তার গোষ্ঠির আল্লাহ্ হয়ে গেলেন। আমার ছেলের জন্য এটা করে যেতে হবে, আমার মেয়ের জন্য ওটা করে যেতে হবে, তিনি তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করছেন অথচ ইসলাম মানছেন। মোহাম্মদকে (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত) নবী মানছেন, চলে যাচ্ছেন মক্কা-মদিনাতে, গিয়ে ঘুরে আসছেন আর ক্ষণিকের তৃপ্তি নিয়ে মনে করছেন যে আমি অনেক কিছু করে ফেললাম।

মুসলমান আর মুসলিম এক কথা না। কুরআনিক মুসলিম অর্থ হচ্ছে ভদ্র, শান্ত। কুরআন অর্থ-বার বার পাঠ করা। আমি প্রতিনিয়ত কি পাঠ করছি আমার চিন্তাজগতে? সেখানে কি একটা লক্ষ আছে? আল্লাহ্ এক সুতরাং আমি চিন্তাও করব এই একের মধ্য দিয়ে। প্রতিদিনের চিন্তার মধ্যে এবং কর্মের মধ্যে ঐ এক-কে আমি প্রতিষ্ঠিত করছি কি-না, সেই সূত্র ধরে আমি এগিয়ে যাবো। এটা যার যার নিজের। এটা কেউ কোনদিন করে দিতে পারবে না। হাজারটা ধর্মপুস্তক দিয়ে দিলেও হবে না এবং আল্লাহর কোন ঠেকা নাই। আল্লাহ একমাত্র ব্যস্ত তাঁর পাগলদের জন্য। যারা এক আল্লাহকে কেন্দ্র করে পাগল হয়েছে সারা বিশ্বে, সে যেখানে যে প্রান্তে, যে ধর্মেই থাকুক না কেন তার জন্যে আল্লাহ পাগল। না জানি কোনটা, কি চেয়ে বসে। চাইলেতো দিতেই হবে। যেমনভাবে পৃথিবীর বুকে আপনারা যে সন্তান নিয়ে আসেন, সে সন্তান যখন এগিয়ে যায়, তখন আপনাদের কাছে আবদার করে, কিছু সময় তার আবদারের মাত্রাটা তার বয়স এবং পরিবেশের উপর থাকে তখন আপনারা যেমন ব্যস্ত হয়ে পড়েন-এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে, যেমনভাবে আপনারা তার আল্লাহ হয়ে যান, তার সবকিছু আপনারা ঠিক করে দেন, তখন মনে থাকেনা যে আল্লাহ আছে। আমি তার বাবা হিসেবে, মা হিসেবে আল্লাহর রূপ ধরলে কতটা সত্যের উপর থাকতে হবে? কতটা সহনশীল হলে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো? আমিতো বিচার করবো দুনিয়াদারী দিয়ে। সত্যতো  দুনিয়াদারীতেই আসছে। মানুষের মধ্যেই আসছে। মানুষ উপলব্ধি করতে পারছে, তাই প্রত্যেকটা ধর্মে, প্রত্যেকটা শাস্ত্রে রিয়েলাইজেশনের উপর জোর দেয়া হয়েছে। তোমার কনসাসনেসের উপর নির্ভর করবে তুমি কতটা রিয়েলাইজ করছো। তুমি নিজেকে বিচার করে দেখেছো কি না যে, আনকনসাস আছি, না সাবকনসাস আছি, না প্রিকনসাস আছি, না কনসাস আছি, না ডুয়েল কনসাসে আছি, আমি কি হাইয়ার কনসাসে আছি দুটোকে নিয়ে, না একটা কম বেশী আছে? আমি কি আমার অন্তরের মধ্যে, আমার আপাদমস্তক এবং বাইরে বস্তুজগতের সঙ্গে প্রতিটি বিষয়ের সমন্বয় সাধন করে দুটোকেই আমি নিয়ে যেতে পারছি হাইয়ার কনসাসে? তারপর আসবে সুপার কনসাস। যেখানে এক ছাড়া আর কোন কিছু দেখি না। (চলবে)

নিজের কথা – ২৪

শাহ মো. লিয়াকত আলী ॥ মানবতার কর্মই শান্তির উৎস। শাস্ত্রমতে প্রতিটি মানবতার কর্মের জন্য ব্যক্তি অন্তত দশগুণ অধীক কল্যাণ লাভ করে থাকে। ব্যক্তি তাঁর পছন্দের স্তর থেকেই মানবতার কর্ম করতে পারে। তাই পছন্দের পবিত্রতার উপর নির্ভর করে ব্যক্তির মানবিক কিম্বা অমানবিক কর্ম সম্পন্ন হয়ে থাকে । আর পবিত্র মানুষিকতার উপর নির্ভর করে ব্যক্তির  পছন্দের পবিত্রতা অর্জিত হয়। আবার পবিত্র চিন্তাশক্তির প্রভাবের উপর নির্ভর করেই ব্যক্তির পবিত্র মানুষিকতা গড়ে ওঠে।  ব্যক্তির মাঝে পবিত্র চিন্তনশক্তির উদয় তখনই হয় যখন ব্যক্তি প্রেমিক হিসেবে অন্যদের প্রতি সদাচারণ প্রদর্শন করে থাকে। হাক্কানী চিন্তনমতে প্রত্যাশাহীন ভালোবাসার মাধ্যমে ব্যক্তির অন্তরে প্রেমের উদয় হতে থাকে।

প্রেমিকের পবিত্র আচরনের প্রভাবে এমন শক্তিশালী  মনমুগ্ধকর পরিবেশ গড়ে ওঠে যেখানে হিংস্র অহিং¯্র পশুপ্রাণী সহ সকলে মিলেমিশে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে নিরাপদ শান্তিময় জীবনযাপন করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে।বাস্তবেও অনেক সাধকের জীবনযাপনকে ঘিরে এধরনের পরিবেশ গড়ে উঠতে দেখা যায়। যেখানে নিরাপদ ও শান্তির আশায় ভালমন্দ সকল ধরনের মানুষ এমনকি হিংস্র অহিংস্র পশুপ্রাণীকেও সময় সময় সমবেত থাকতে দেখা যায়।সাধারণ জনগণের জীবনযাপনের উর্ধে সূফী সাধকগণ প্রেমিকের শক্তিশালী পবিত্র জীবনযাপন করেন। তাই তাঁদের পরিবেশ সাধারণ জনতা নারীপুরুষের পরিবেশ থেকে ভিন্নতর শক্তিশালী ও শান্তিময়। জীবন চলার পথে সূফী সাধকগণ  যেখানে অবস্থান কিম্বা জীবনযাপন করেন সেখানে শক্তিশালী শান্তিময় পরিবেশ গড়ে ওঠে। এ শান্তিময় পবিত্র পরিবেশের আকর্ষণে এসে ব্যক্তি ও পশুপ্রাণী একসাথে মিলেমিশে থাকতে আকৃষ্ট হয় ও স্বাচ্ছন্দবোধ করে থাকে। তাই সূফী সাধকগণের অবস্থান কিম্বা বসবাসের জায়গাতে  গড়ে ওঠে দরবার আশ্রম খানকা শরীফ বা আস্তানা শরীফ। যারা সূফী সাধকগণের শান্তিময় শক্তিময় জগতের জীবনযাপন করতে আগ্রহী থাকে তাদের চলার পথে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর দিক নির্দেশনামুলক বাণী, “দরবারে এসো আশেকান হিসেবে- নারীপুরুষ হিসেবে নয়।”

আশেকান শব্দের অর্থ প্রমিক। একজন আশেকানের মর্যাদার স্তর কতটা উচ্চতর তা তুলে ধরতে সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ তাঁর মালিক সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর উদ্ধৃতি দেন এভাবে,”  তাঁর মালিক বলেন , দরবারের একজন ভক্ত বা প্রেমিকের পায়ের জুতোর তলে থাকে তাঁর মালিককের মাথা। আর মালিকের পা এর জুতোর তলায় তাঁর মাথা।” এ কথার অর্থ দাঁড়ায় দরবারের আশেকের অর্থাৎ প্রেমিকের মর্যাদা হল সবার উপরে।

প্রেমিকের জীবনযাপন ব্যতীত কেহ মানবতার কর্ম করতে পারেনা । আর মানবতার কর্ম ব্যতীত মনুষত্ব্যের জীবনযাপন করা অসম্ভব। আর মনুষত্ব্যের জীবনযাপন ব্যতীত কেহ আনন্দলোকের শান্তিময় জীবনলাভ করতে পারেনা। শান্তিময় জীবনলাভ ব্যতীত এজগতে সুস্থ্য জীবনযাপন করা যায়না। তাই সুস্থ্য শান্তিময় জীবনযাপন করতে চাইলে সাধারণ পশুপ্রাণীর জীবনযাপনের উর্ধে এসে মনুষত্ব্যের জীবন লাভ করা অত্যাবশ্যক। মনুষত্বের জীবন ব্যতীত সুন্দর শান্তিময় ভুবন গড়া যায়না। তাই সুন্দর শান্তিময় ভুবন গড়ার জন্য একজন প্রেমিক হিসেবে জীবনাচরণ গড়ে তুলা সকল মানুষের পবিত্র কর্তব্য।(চলবে)

প্রকৃত নেতা সত্যের ধারক, বাহক ও সাধক

হাক্কানী চিন্তন বৈঠকে ‘নেতৃত্ব’ বিষয়ে দ্বাদশ পর্বের আলোচনা

সংলাপ ॥ মহান সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ)-এর নিয়মিত সাপ্তাহিক হাক্কানী চিন্তন বৈঠকের অংশ হিসেবে ‘নেতৃত্ব’ বিষয়ে আলোচনার দ্বাদশ পর্ব গত ২৮ পৌষ ১৪২৬, ১৮ জানুয়ারি ২০২০ শনিবার মিরপুর আস্তানা শরীফের ‘জ্যোতি ভবন’ এর আক্তার উদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বাহাখাশ সহ-সভাপতি শাহ্ শেখ মজলিশ ফুয়াদের সভাপতিত্বে বিষয়টির ওপর আলোচনায় অংশ নেন মিরপুর আস্তানা শরীফ ও সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ রওজা শরীফ ব্যবস্থাপনা কমিটির যুগ্ম-সচিব শাহ্ আবেদা বানু তরু, সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ পরিচালনা পর্ষদ সদস্য হারুন অর রশীদ এবং হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ (হামিবা)’এর পরিচালক মো. রবিউল আলম। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন শাহ আবেদা বানু তরু। 

শাহ আবেদা বানু তরু বলেন, কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর সংকটময় অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য যখন একজন সুযোগ্য নেতার প্রয়োজন হয় তখন সেখানে তাদের ত্রাণকর্তারূপে আবির্ভাব ঘটে নেতার। যিনি উত্তরণের পথ দেখান, দীনতা দূর করেন তিনি থাকেন এগিয়ে। তাঁর বলিষ্ঠ নির্দেশনা, কর্মপরিকল্পনাই নেতৃত্ব।

প্রকৃত নেতা সত্যের ধারক, বাহক, তিনি সাধক। তিনি একজন দেশপ্রেমিক। স্বদেশ তার কাছে সত্য। এই সত্য বোধ থেকে তার কর্মপরিকল্পনা, লক্ষ্য যা দেশকে কেন্দ্র করে। কর্মে সততা, নিষ্ঠা দেশের প্রতি প্রেম, শ্রদ্ধা অবলোকন করে দেশবাসী তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করতে শেখে, তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়।

মনুষ্য জাতির অনন্ত মুক্তিদাতা একজন সত্যমানুষ। তিনি মুক্তচিন্তার অধিকারী। প্রাণীত্বের বন্ধনে আবদ্ধ মানুষ সুখ-দুঃখ, হতাশা-নিরাশার দোলাচলে দিকহারা পথিকের মত পথ খোঁজে। সত্যমানুষ তার জন্য নিরাপদ অভিভাবক। তাঁর অভয়বাণী মানুষকে উদ্যমী হতে শেখায়।

নেতা নিজে কর্মী হয়ে অপরকে উৎসাহিত করেন। তাঁর মধ্যে রয়েছে তারুণ্যের শক্তি। পিছিয়ে পড়া মানুষকে গতিশীল ও যুগোপযোগী করে তোলেন নানান সৃজনশীল কর্মকা-ের মাধ্যমে। তিনি যা বলেন, যা করেন তা-ই সঠিক। তাঁর যুগোপযোগী, বাস্তবমুখী চিন্তা ও কর্মে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে মানুষ দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধে সচেতনতা অর্জন করতে পারে। নেতা একজন গবেষক। তাঁর চলার পথ থেকে গবেষণালব্ধ ফল তাঁর ‘অজ¯্র অমিয়বাণী’ যা অনুসন্ধানীদের জন্য আলোকবর্তিকা। 

কোমলতা ও কঠোরতার সংমিশ্রণ তাঁর গুণাবলীর মধ্যে লক্ষ্যণীয়। মিথ্যার বিরুদ্ধে তিনি বজ্রকঠোর আপোষহীন। সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা, ধৈর্য, বিচক্ষণতাসহ বিভিন্ন গুণাবলী দিয়ে সকলকে পাশাপাশি নিয়ে চলেন। সেই দৃষ্টান্তসমূহের সৌন্দর্যকে যারা ধারণ করতে পারেন, তারাই উর্ধ্বগামী হন। ‘এক’ এর মহিমা সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত। এই ‘এক’ মহাশক্তির আধার। সেই ‘এক’কে সত্যরূপে গ্রহণ করার পথ পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত করে সকলকে শক্তিমান হওয়ার আহবান জানান তিনি। ‘এক’ এর ভাবসম্পন্ন ত্যাগী ব্যক্তিত্ব ভাবজগতে থাকেন, কিন্তু ভাবাবেগে জড়িত হন না। তিনি দূরদর্শী বলে সামনের তিন হাজার বছরকেও দেখতে পান।

সময়ের মূল্য তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, প্রকৃতিতে তার নিজস্ব বলয়ে পরিবর্তন ঘটছে। সেই নিয়মের ধারায় নিজের পরিবর্তন আনতে সময়কে গুরুত্ব দিতে হয়। মানুষের অসীম শক্তির যথাযথ ব্যবহারবিধি দ্বারা আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়া অনুপ্রেরণা দান করেন। তিনি অসীম গুণাবলীর আঁধার। তিনি বিশ্বজয় করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর তুলনা তিনি নিজেই। 

হারুন অর রশীদ বলেন, সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত মিরপুর আস্তানা শরীফ-এ বাহাখাশ আয়োজিত চিন্তন বৈঠকে এই প্রথম বক্তব্য দেওয়ার যে পরম সুযোগ পেয়েছি তার জন্য সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

নেতৃত্ব বিষয়ে কথা বলতে হবে জানতে পারার তাৎক্ষণিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ কীভাবে করবো? তারপরও কিছু কিছু চিন্তা বেশ আনন্দ দেয়, এবং যেগুলো আনন্দ দেয় সেগুলোই বোধ হয় নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য। আমার চিন্তায় ‘নেতৃত্ব’ একটি সামাজিক গুণবাচক শব্দ-যার প্রকৃত অর্থ ¯েœহ, ভালবাসা, ভক্তি, বিশ্বাস ও আস্থা। আবার একইভাবে পরক্ষণেই চিন্তা হয়েছে নেতৃত্ব একটি আধ্যাত্বিক গুণবাচক শব্দ যার অর্থ একইভাবে-¯েœহ, ভালবাসা, ভক্তি, বিশ্বাস ও আস্থা। তবে নেতৃত্ব’ র প্রকৃত অর্থ হল ‘অনুসারী’ অর্থাৎ একজন সঠিক অনুসারীই হতে পারে একজন সত্যিকার নেতা বা নেতৃত্বগুণ সম্পন্ন মানুষ। অর্থাৎ আগে অনুসারী তারপর নেতৃত্ব।

নেতৃত্বগুণে স্নেহ কি, ভালবাসা কি, ভক্তি কি, বিশ্বাস কি, আস্থা কি?-সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ আমাকে স্নেহ দিলেন-কেমন আছেন, ভালবাসা দিলেন-বসেন বসেন, ভক্তি দিলেন-একসাথে চা খাব, বিশ্বাস করলেন-সময় আছে, পত্রিকায় একটু কাজ করে দেওয়া যায় না, আস্থা রাখলেন-নেন এইটা পড়েন-কেমন হয়েছে; আমার কি ছিল! অস্থিরতা, অহংকার, ক্রোধ, ক্ষোভ, লোভ, লালসা, হিংসা, ঘৃণা, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা আরও অনেক কিছু- যেগুলোকে আমরা খারাপ বলি, বা ঋনাত্মক গুণসম্পন্ন। আমি চুপ করে বসে আছি-সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ তাঁর আধ্যাত্বিক ক্ষমতাবলে আমার অস্থির চিন্তাকে শান্ত বা স্থির করার জন্য উপদেশ দিলেন, পথ বাথলে দিলেন-আমি খুঁজে পেতে থাকলাম সরল পথ-এভাবেই তৈরী হতে থাকল একের পর এক সরল পথের সন্ধান – তৈরী হতে থাকল স্নেহের মধ্যে স্নেহ, ভালবাসার মধ্যে ভালবাসা, ভক্তির মধ্যে ভক্তি, বিশ্বাসের মধ্যে বিশ্বাস এবং আস্থার মধ্যে আস্থার উপলব্দি। যা শুধু একান্ত নিজের চিন্তায় আনন্দিত হতে থাকল। এভাবেই আস্তে আস্তে আমি তাঁর একজন অনুসরণকারী হওয়ার পথে হাঁটতে লাগলাম, আনন্দ পেতে থাকলাম। সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফকে দেখার আগ্রহ বেড়ে গেল আমার, আমি কক্ষে ঢোকার সাথে সাথে বললেন, ‘আরে আসেন, আসেন, আমি তো আপনার জন্য অপেক্ষা করছি’-এঁর নেতৃত্ব আমাকে এভাবে দিনের পর দিন বিমোহিত করতে থাকল। অর্থাৎ ওনার নেতৃত্বগুণ – কি ছিল সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর মধ্যে – কি দিলেন আমাকে। আমাকে দিলেন পরমস্নেহ, পরম ভালবাসা, পরম ভক্তি, পরম বিশ্বাস ও আস্থার শিক্ষা। সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ হলেন আমার নেতা। কত ঘৃণা তুমি আমাকে করবে, কত অস্থির তুমি হবে, কত অপমান তুমি আমাকে করবে, কত হিংসা তুমি আমাকে করবে-কোন লাভ হবে না-কারণ আমি তো বসে আছি স্নেহের ঝুড়ি নিয়ে, ভালবাসার ঝুড়ি নিয়ে, ভক্তির ঝুড়ি নিয়ে, বিশ্বাসের ঝুড়ি নিয়ে, আস্থার ঝুড়ি নিয়ে – তাই যতই তুমি আমাকে ঘৃণা দিবে আমি তোমাকে দেব ভালবাসা, যতই হিংসা করবে, অবিশ্বাস করবে – কোন লাভ হবে না – কারণ, আমি তো ঐ না-গুণবাচক শব্দগুলো চিন্তা ও চেতনার জগৎ থেকে বিদায় করে দিয়েছি। তাই  আমাকে যত অপমানই করো না কেন আমার এই পাঁচটি পরম গুণ ছাড়া কিছুই নেই। অর্থাৎ তোমার হিংসা, ঘৃণা, লোভ, লালসা, পরনিন্দা, মোহ সবকিছুকে পরমভাবে স্নেহ করি, ভালবাসি, ভক্তি করি, বিশ্বাস করি ও আস্থা রাখি। আমার কাছে মনে হয় এটাই সত্যিকার নেতৃত্ব। আর এভাবে তৈরী হয় অনুসারী-এক থেকে একাধিক।

সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ বাহ্যিকতা আর আধ্যাত্বিকতা দিয়ে সর্বোতভাবে ব্যস্ত আমার এবং তাঁর সকল অনুসারীদের মঙ্গল কামনায়। কোনোভাবেই ওনার একজন অনুসারী কষ্ট পাক, দুঃখ পাক- এ চিন্তা  যেন ওনার চিন্তা জগৎ থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছে অন্য কোন চিন্তাহীন জড় পদার্থে। মিরপুর আস্তানা শরীফ, বাহাখাশ, হামিবা তে যারা আছি আমি এবং আমরা সবাই অনুসারী, পরিপূর্ণ অনুসারী না হলেও কিছু অনুসরণ আমার মধ্যে বিরাজমান আছে। আর সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ হলেন এই অনুসারীদের নেতা, আর আমি এবং আমাদের মধ্যে রয়েছে তারই নেতৃত্ব গুণের অনেক বৈশিষ্ট যেটা ধারন করে আমার মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে পারি নেতৃত্বগুণ, যাকে আমি বলতে পারি একটা খন্ড নেতৃত্ব, আর সেই খন্ড নেতৃত্বগুণ দ্বারা তৈরি করতে পারি অনুসারী এবং সেখানে প্রতিষ্ঠা হবে আমার পরিপূর্ণ নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফের অনুসারীদের নেতা বা নেতৃত্বগুণ সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ নিজেই, ওনার অনুসারীদের মধ্যে থেকে কোনদিন ওনার অনুসারীদের নেতৃত্ব হতে পারে না, অনুসারীরা সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ এর মত অনুসারী তৈরী করে নেতৃত্ব দেবেন-এবং সেই নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা চলে আসছে সেই সূফী সাধক আবু আলী আক্তারউদ্দীন-এঁর নেতৃত্ব থেকে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক -এঁর নেতৃত্ব থেকে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর নেতৃত্ব-আর এরপর আমি বা আমরা নেতা হয়ে অনুসারী তৈরীর মাধ্যমে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠা করতে পারলে তবেই প্রতিষ্ঠা হবে, আমার মাধ্যমে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর নেতৃত্ব।

মিরপুর আস্তানা শরীফ, বাহাখাশ, হামিবা- যত মানুষের সাথে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-কথা বলেছেন, এক সাথে বসে চা খেয়েছেন-বুঝতে হবে সকলের সাথে উনি এক একটা আলাদা এক সম্পর্ক তৈরী করেছেন, সেই সম্পর্কগুলিই হলো সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর একটা পরিপূর্ণ নেতৃত্বের রূপ, আর এই রূপের বহি:প্রকাশ দরকার, যা শুধুমাত্র সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর অনুসারীদের নিজেদের পারস্পারিক সুসম্পর্কের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। কারণ, আমি বিশ্বাস করি সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ এর সমস্ত অনুসারীরা  হলেন এক একজন আলাদা শেখ আবদুল হানিফ, কারণ প্রত্যেকের কাছে উনার আলাদা আলাদা রূপ, রস, গন্ধ, বর্ণ, উক্তি বিরাজমান আছে।

মিরপুর আস্তানা শরীফ, বাহাখাশ, হামিবা এখানে যত মানুষ আসবে, সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ এঁর অনুসারীদের সাথে কথা বলবে প্রত্যেকে বিমোহিত হবে, আমার আপনার পরম ভালবাসায়, পরম আতিথেয়তায়, কথাবার্তা, চালচলন, আচার আচারন সমস্ত জায়গায় প্রকাশ পাবে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ এর বিশালতা। ইসলামের কথা, মোল্লা মৌলভীদের কথা বলি, মোহাম্মাদের (যাঁর কৃপা আমাদের ওপর বর্ষিত) ইসলাম নাকি নাই? কীভাবে এমন হল আজ-মোহাম্মদের অনুসারীদের নেতৃত্বের বিভাজন? সত্যমানুষ, সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর সত্য ধারণাও একদিন ইসলামের মত ঠিক থাকবে না সত্য মানুষের অনুসারীদের নেতৃত্বের বিভাজনের কারণে।

সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-আমি তোমার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাই আমার মধ্যে, স্নেহ পেতে চাই-দিতে চাই তোমার অনুসারীদের কাছ থেকে, ভালবাসা পেতে চাই-দিতে চাই, ভক্তি করতে চাই- পেতে চাই, বিশ্বাস রাখতে চাই-দিতে চাই, আস্থা অর্জিত হোক সকল অনুসারীর মধ্যে। তৈরী হোক আপন নেতৃত্ব, আপন ঘরে, কেউ পর নই, সবাই আমি এবং আমরা। হাক্কানী মানে-সত্যমানুষ, সত্য মানুষের নেতৃত্ব মানে স্নেহ, ভালবাসা, ভক্তি, বিশ্বাস ও আস্থা।

জয় হোক সকল অনুসারীদের, জয় হোক হাক্কানী নেতৃত্বের, জয় হোক সত্যমানুষের, জয় সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ।

মিরপুর আস্তানা শরীফ’র নতুন তত্ত্বাবধায়ক শাহ্ সূফী ডা. সুমাইয়া সুলতানা সুম্মী

সংলাপ ॥ সূফী সাধক আবু আলী আক্তারউদ্দিন-স্মরণে, সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর হুকুমে, সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘মিরপুর আস্তানা শরীফ’-এর নতুন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন শাহ্ সূফী ডা.সুমাইয়া সুলতানা সুম্মী। এ উপলক্ষে মিরপুর আস্তানা শরীফ’-এর ৩২ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গত ১৩ মাঘ ১৪২৬, ২৭ জানুয়ারি ২০২০ তারিখ সোমবার ‘জ্যোতিভবন’-এর আনোয়ারুল হক মিলনায়তনে এক আনন্দঘন ও ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ)-এর পক্ষ থেকে বাহাখাশ মহাসচিব শাহ্ খাইরুল মোস্তফা স্বাক্ষরিত পত্রে তাকে এ মর্মে মনোনয়ন সম্বলিত চিঠি প্রদান করেন বাহাখাশ’-এর প্রধান উপদেষ্টা শাহ্ মো. লিয়াকত আলী।      

এর আগে বাহাখাশ’-এর পক্ষ থেকে ‘সত্য’-এর  সাথে একাত্ম ঘোষণার জন্য সুমাইয়া সুলতানা সুম্মীকে ‘শাহ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। এ মর্মে বাহাখাশ সভাপতি ও মহাসচিব স্বাক্ষরিত সনদ তার হাতে তুলে দেন বাহাখাশ উপদেষ্টাম-লি। বাহাখাশ কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সদস্যগণ এই সময় ফুল দিয়ে তাকে সংগঠনের সদস্য হিসেবে বরণ করে নেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাহাখাশ সভাপতি শাহ্ শাহনাজ সুলতানা।

একই অনুষ্ঠানে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর হুকুমে প্রতিষ্ঠিত কিশোরগঞ্জ-বাজিতপুরে অবস্থিত সরারচর আস্তানা শরীফ’-এর পক্ষ থেকে ডা. সুমাইয়া সুলতানা সুম্মীকে ‘শাহ্ সূফী’ খেতাব প্রদান করা হয়। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক’-এর সরাসরি প্রতিনিধি সরারচর আস্তানা শরীফ’-এর তত্ত্বাবধায়ক সূফী সাধক দেওয়ান কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত সনদ তার হাতে তুলে দেন আস্তানা শরীফ’-এর ভক্ত শাহ আকমল ইমাম। এ অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় ছিলেন বাহাখাশ সাংগঠনিক সচিব শাহ্ আকমল ইমাম।

উল্লেখ্য, সূফী সাধক আনোয়ারুল হক’-এঁর প্রধান শিষ্য সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ এ বছর ৫ শ্রাবণ ২০ জুলাই লোকান্তরিত হওয়ার পর মিরপুর আস্তানা শরীফ’-এর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে শাহ আনোয়ারা বেগমকে মনোনীত করা হয়। শাহ্ আনোয়ারা বেগম ২ ভাদ্র, ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখে লোকান্তরিত হওয়ার পর ডা. সুমাইয়া সুলতানা সুম্মী মিরপুর আস্তানা শরীফ’-এর যাবতীয় কর্মকা- অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে পরিচালনার মাধ্যমে বাহাখাশ এবং মিরপুর আস্তানা শরীফ’-এর সকল ভক্ত-আশেকানদের সামনে তার যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রসঙ্গক্রমে আরও উল্লেখ্য যে, শাহ্ সূফী ডা. সুমাইয়া সুলতানা সুম্মী সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ এবং শাহ্ আনোয়ারা বেগম-এঁর সন্তান। সুম্মীর জন্মের আগে তার এক ভাই জন্মের পর পরই ইন্তেকাল করেন। এর অব্যবহিত পরই সুম্মীর জন্মের পর সূফী সাধক আনোয়ারুল হক তাকে শাহ্ সূফী শেখ আবদুল হানিফ’র ‘পুত’ (ছেলে)/‘শাহ সাহেব এর বেটা’ বলে মন্তব্য করতেন। শাহ্ সূফী ডা. সুমাইয়া সুলতানা রাজধানী ঢাকার শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হতে এমবিবিএস ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে ডেলটা মেডিক্যাল কলেজ এ শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট ও সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ (হামিবা)’-এর কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা সংসদ এর নির্বাহী সদস্য হিসেবে ‘কর্ম-মানবতা-শান্তি’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

‘হাক্কানীর আলোকে হামিবা ব্যবস্থাপনা ও আমার নেতৃত্ব’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সংলাপ ॥ সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত, সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ (হামিবা)’র ৩০ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনে ‘হাক্কানীর আলোকে হামিবা ব্যবস্থাপনা ও আমার নেতৃত্ব’ শীর্ষক কর্মশালা গত ১০ মাঘ ১৪২৬, ২৪ জানুয়ারি ২০২০ শুক্রবার মিরপুর আস্তানা শরীফের জ্যোতিভবনের আক্তার উদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। 

সকাল ৯ টা ৩১ মিনিট থেকে হামিবা সদস্যদের রেজিস্ট্রেশন এবং সকাল ১০ টা ০১ মিনিটে হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমী পরিবেশিত জাতীয় বন্দনা সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালার সূচনা হয়। শুরুতেই এ বছর ১২ এপ্রিল আক্তারউদ্দিন মিলনায়তনে হামিবা পৃষ্ঠপোষকমন্ডলী, হামিবা ব্যবস্থাপনা সংসদ, মিরপুর আস্তানা শরীফ ও বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ) কেন্দ্রীয় পর্ষদ-এর যৌথসভার সভাপতি সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ- এঁর রেকর্ডকৃত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য শোনানো হয়। সূচনা ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে হামিবার নির্বাহী সভাপতি শাহ ড. আলাউদ্দিন আলন হামিবার ১০টি প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারপর হামিবা সভাপতি শাহ্ সূফী ড. মুহাম্মদ মেজবাহ উল ইসলাম কর্মশালা পরিচালনা করতে গিয়ে হামিবার পরিচিতি এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং ২০২০-২০২১ সালের জন্য          বিভিন্ন বিভাগের কর্মপরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতি তুলে ধরার জন্য বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতাদের আহবান জানান।

হামিবা শিক্ষা বিভাগের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাসিমা করিম। হামিবা পরিচালক মো. রবিউল আলম জানান, এবার জেএসসি, পিইসিতে এবার বিদ্যাপীঠ থেকে শতভাগ পাশ করেছে। মিরপুর থানায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই বিদ্যাপীঠ তালিকার এক নম্বর স্থান অধিকার করেছে।

এরপর কর্মশালায় হামিবা তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের পক্ষে সালেহ আল দ্বীন এবং হামিবা সংস্কৃতিক একাডেমীর কর্মপরিচিতি ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন ডা. সুমাইয়া সুলতানা। হামিবা যুব উন্নয়ন বিভাগের পক্ষ থেকে এর সভাপতি শাহ ইমতিয়াজ আহমেদ, কুরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র-এর পক্ষে মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহিদ, হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন পরিষদ-এর পক্ষে শাহ্ আবেদা বানু তরু, সূফী সাধক আনোয়ারুল হক স্মারক কল্যাণ তহবিলের পক্ষে হারুন অর রশীদ, হাক্কানী আইন সহায়তা ও পরামর্শ কেন্দ্র-এর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহিদ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।  

মধ্যাহ্ন ভোজনের বিরতির পর হিসাব বিভাগের পক্ষে হামিবার কোষাধ্যক্ষ আফজাল হোসেন এবং হাক্কানী প্রকাশনা বিভাগের পক্ষে সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ-এর নির্বাহী সম্পাদক শাহ ড. আলাউদ্দিন আলন কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। কর্মশালায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাক্কানী বিশেষ দূত মোল্লা হাসানুজ্জামান টিপু, বাহাখাশ-এর প্রধান উপদেষ্টা শাহ মো. লিয়াকত আলী এবং হাক্কানী পৃষ্ঠপোষকম-লির সদস্য ও বাহাখাশ সভাপতি শাহ্ শাহনাজ সুলতানা।

কর্মশালার সভাপতির বক্তব্যে মিশন সভাপতি শাহ্ সূফী ড. মেজবাহ উল ইসলাম সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ব্যক্তিগত ও আর্থিক স্বার্থ নিয়ে দ্বন্দ্ব নয়, আদর্শ ধারণ করে আছে বলেই হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ চলছে। তিনি বলেন, হাক্কানীতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সকল ধরনের প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হবে। তিনি কর্ম-মানবতা-শান্তির আদর্শে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। হামিবা সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বিকাল ৩ টা ৫৫ মিনিটে কর্মশালা মূলতবী হয়। কর্মশালাটির সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন হামিবার সাংগঠনিক সচিব ফরিদা খাতুন মনি।

৩২ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মিলনমেলায় মিরপুর আস্তানা শরীফ

সত্যের দুর্নিবার ঝাণ্ডা নিয়ে বাংলার এই অঞ্চলে শান্তি (ইসলাম) প্রতিষ্ঠায় পূর্ব দিগন্তে এক মাহেন্দ্রক্ষণে যে জ্যোতির্ময়ের আবির্ভাব ঘটেছিল, তাঁরই জ্যোতি আজ দিক হতে দিগন্তে প্রসারিত। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক সেই জ্যোতি, সত্যের কান্ডারী। হাক্কানী হওয়ার পথযাত্রী ও সত্যানুসন্ধানীদের জীবনে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর মিরপুর আস্তানা শরীফ হাক্কানী চিন্তনপীঠের প্রাণকেন্দ্র্র। নিজের সত্যকে উপলব্ধি করার নতুন প্রেরণাশক্তি নিয়ে আমাদের জীবনে প্রতিবছর ফিরে আসে মিরপুর আস্তানা শরীফ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, আসে অনাবিল আনন্দ উদ্যাপনের শুভ লগ্ন। ১৯৮৮ সন থেকেই তা হয়ে আসছে। বাংলা ১৩৯৪ সনের ১৩ মাঘ, ইংরেজি ১৯৮৮ সনের ২৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার ‘মিরপুর আস্তানা শরীফ’ প্রতিষ্ঠিত হয় রাজধানী ঢাকার মিরপুরে।

হাক্কানী দর্শনের তিন সত্যমানুষের মহামিলনের পূণ্য তীর্থকেন্দ্র মিরপুর আস্তানা শরীফ দীর্ঘ ৩১ বছর অতিক্রম করে এবছর ৩২-এর প্রোজ্জলন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে। ৩২ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনে মিরপুর আস্তানা শরীফ ১২ ও ১৩ মাঘ ১৪২৫, (২৫-২৬ জানুয়ারি ২০১৯) রোববার ও সোমবার সত্যানুসন্ধানীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

৩২ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের প্রারম্ভে কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর মাজার চান্দপুর শরীফে যথাযথ ভক্তি ও আদবের সাথে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

দু’দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম দিন ১২ মাঘ ১৪২৬, (২৬ জানুয়ারি ২০২০) রবিবার দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত হাক্কানী খানকা, দরবার ও আস্তানা শরীফ থেকে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ ও দরবারি ভাই বোনদের নাম নিবন্ধন, বরণ, স্বত:স্ফূর্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

বিকেল ০৪.৪৫ মিনিটে আস্তানা শরীফ প্রাঙ্গনে হাক্কানী শব্দ তরঙ্গের তালে পতাকা উত্তোলন করেন মিরপুর আস্তানা শরীফ ব্যবস্থাপনা সংসদের সহসভাপতি শফিউল আলম খোকন, হামিবা-র সহসভাপতি শাহ্ ইমতিয়াজ আহমেদ টিটু এবং বাহাখাশ এর সহসভাপতি শাহ্ শেখ মজলিশ ফুয়াদ। এরপর হামিবা ব্যবস্থাপনা সংসদ-এর নেতেৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন পর্ষদ ও মিরপুর আস্তানা শরীফ ব্যবস্থাপনা সংসদের সদস্যবৃন্দ, বাহাখাশ কেন্দ্রিয় ব্যবস্থাপনা সংসদের সদস্যবৃন্দসহ বাহাখাশের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রকল্পের সদস্যবৃন্দ এবং উপস্থিত দরবারি ভাই-বোন দরবারে প্রদক্ষীণ করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। শব্দ তরঙ্গ পরিবেশনায় ছিলেন হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ। এদিন দিবা-রাত্রি সন্ধিক্ষণে দরবারের পশ্চিম পার্শ্বের মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জলনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হামিবা সভাপতি – শাহ্ সূফী ড. মুহাম্মদ মেজবাহ উল ইসলাম। এবং দরবারের পূর্ব পাশ্বের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হামিবা মহাসচিব এন সি রুদ্র, নির্বাহী সদস্য মো. ওয়াহিদুজ্জামান, নির্বাহী সদস্য হারুন অর রশিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এম আর জয়ন্ত, সাংগঠনিক সচিব নাসরিন সুলতানা জুলি, সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ এর সদস্য শেখ সাদি, হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ এর সভাপতি এ্যাড. রানু আখতার, হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমীর সদস্য নার্গিস সুলতানা সুমি, হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাসিমা করিম, হামিবা স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগের সদস্য সালমা আক্তার এবং হাক্কানী যুব উন্নয়ন বিভাগের সদস্য সোহরাব আহমেদ শিপলু।

মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জলনের পরবর্তী পর্ব ছিল ‘বন্ধনে তুমি-আমি’ বিষয়ক মুক্ত আলোচনা। সূচনা বক্তব্য রাখেন হামিবা মহাসচিব শাহ্ এন সি রুদ্র। এরপর ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য রাখেন হাক্কানী বিশেষ দূত মোল্লা হাসানুজ্জামান টিপু,হামিবা সদস্য বহরদার টিপু সুলতান, বিবি ফাউন্ডেশন এর সভাপতি – সত্যানুসন্ধানী বাহাদুর বেপারি এবং হামিবা সভাপতি শাহ্ সূফী ড. মুহাম্মদ মেজবাহ উল-ইসলাম।

সন্ধ্যা ৭.০১ মিনিটে হামিবা ব্যবস্থাপনা সংসদের নেতৃত্বে কেক কেটে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন উপস্থিত সকল ভক্ত ও আশেকানবৃন্দ। সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে হাক্কানী আস্তানা শরীফ এর তত্ত্বাবধায়ক শাহ্ শওকত আলী খান এবং রোজলিন বিশ্বাস ববিকে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা দেয়া হয়। শোধনসেবা বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের মূলতবী করা হয়।

দ্বিতীয় দিন ১৩ মাঘ, ২৭ জানুয়ারি, সোমবার বিকেল ৪.০১ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিকেল ৪.৪৫ মিনিটে গিলাপ, ফুল ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের অন্যান্য উপাদান নিয়ে দরবার প্রদক্ষীণ করে মিরপুর আস্তানা শরীফ-এর নেতৃত্বে সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ-এঁর রওজায় শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। দিবারাত্রির সন্ধিক্ষণে ৫.৪০ মিনিটে দরবারের পশ্চিম দিকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জলন করেন হামিবার নির্বাহী সদস্য ডা. সুমাইয়া সুলতানা সুম্মি, দরবারের পূর্ব দিকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন বাহাখাশ মহাসচিব শাহ্ খায়রুল মোস্তফা’র নেতৃত্বে শাহ্ এন সি রুদ্র, শাহ্ মনোয়ারা সুলতানা, শাহ্ তৌহিদা জেসমিন,শাহ্ খায়রুল আলম রাসেল, শহীদুল ইসলাম খান, আব্দুল্লাহ আল মাসুম, আব্দুল হামীম মিয়া, কাজী সবুর, মমতাজ বেগম এবং মমতাজ বেগম।

একই সাথে সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ-এঁর রওজার সম্মুখে বাহাখাশ এর প্রধান উপদেষ্টা শাহ্ মো. লিয়াকত আলী’র নেতৃত্বে বাহাখাশ এর সকল সদস্যবৃন্দ মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জলন করে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

অনুভূতি প্রকাশ পর্বে ‘মিরপুর আস্তানা শরীফ ও আমি’ বিষয়ের উপর মোট ১২ জন ভক্ত আস্তানা শরীফের সঙ্গে তাদের জীবনের স্মৃতি বিজরিত কর্ম ও বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে আলোচনা করেন। তারা হলেন -ড. খাঁন সরফরাজ আলী পরশ, শহীদুল ইসলাম খান, আব্দুল কাদের টিটু, শেখ বরকত উল্লাহ রানা, শাহ্ খায়রুল আলম রাসেল, শাহ্ শহীদুল আলম, শাহ্ ইমতিয়াজ আহমেদ, শাহ্ আশরিফা সুলতানা, শাহ্ মনোয়ারা সুলতানা, শাহ্ মো. লিয়াকত আলী, শাহ্ শাহনাজ সুলতানা এবং শাহ্ শওকত আলী খান।

৩২ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মাহেন্দ্রক্ষণে অর্থাৎ ৭.০১ মিনিটে ‘তোমারই আশীসে মোদের রেখো ক্ষমায়’ এই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে হাক্কানী শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে দরবারের ক্ষুদে বন্ধুরা এবং উপস্থিত সকল ভক্ত ও আশেকান ক্ষুদে বন্ধুদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে। বিশেষ পর্বে মিরপুর আস্তানা শরীফের ভক্ত ও হামিবা নির্বাহী সদস্য ডা. সুমাইয়া সুলতানা কে বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ)মিরপুর আস্তানা শরীফ এর তত্ত্বাবধায়ক এর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। একই সাথে তাঁকে বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ) ও হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ (হামিবা) এর পক্ষ হতে শাহ্ উপাধি দেয়া হয়। এরপর সরারচর আস্তানা শরীফ এর মাননীয় তত্ত্বাবধায়ক দেওয়ান শাহ সূফী কামরুল হাসান তাঁকে (সুমাইয়া সুলতানা) শাহ্ সূফী উপাধিতে অলংকৃত করেন।

এরপর সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমীর পরিচালনায় ভাবসঙ্গীত পরিবেশন করেন হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমীর শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ কুষ্টিয়া থেকে আগত অতিথি শিল্পীবৃন্দ,এবং হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমী পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ডা. সুমাইয়া সুলতানা সুম্মী ও একাডেমীর অন্যতম সদস্য-হাক্কানী আস্তানা শরীফ-এর তত্ত্বাবধায়ক শাহ্ শওকত আলী খান। যন্ত্রসঙ্গীতে সহযোগিতায় ছিলেন তবলায়-আলী নূর এবং বাঁশিতে কৌশিক।

২ দিনব্যাপী আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন হামিবা ব্যবস্থাপনা সংসদের সাংগঠনিক সচিব নাসরিন সুলতানা জুলি, নির্বাহী সদস্য ডা. সুমাইয়া সুলতানা সুম্মি, বর্তমান সংলাপ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শেখ সাদি এবং হাক্কানী আস্তানা শরীফ এর মহাসচিব আব্দুল কাদের টিটু। ভোর ৫.৩০ মিনিটে হাক্কানী স্মরণ ও নৈবেদ্যের মধ্য দিয়ে ১৪২৭ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পর্যন্ত অনুষ্ঠান মূলতবী হয়।