ভিতরের পাতা

মহামিলনের পথে যাত্রা ….

সংলাপ ॥ বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ)-এর সম্মানিত সদস্য এবং কর্ম-মানবতা-শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব, মিরপুর আস্তানা শরীফ-এর মাননীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ্ আনোয়ারা বেগম গত ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, সকাল ৫ ঘটিকায় লোকান্তরিত হন। ফরিদপুর জেলার  ভাঙ্গা উপজেলা সদরের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান আনোয়ারা বেগম এর জন্ম ৩০ নভেম্বর ১৯৫৬। মা আমেনা হাকিম ও বাবা আবদুল হাকিম এর ৩ ছেলে ও ৬ মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝ সন্তান। তিনি ১৯৭১ সালে দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। বেগম বদরুন্নেসা করেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর  ১৯৭৩ সালে ঢাকেশ্বরী কটন মিলের তৎকালীন লেবার অফিসার মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবদুল হানিফ-এঁর সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শাহ আনোয়ারা বেগম এঁর পরিবার ছিলেন সূফী অনুরাগী । ১৯৭৪ সালে বাংলার মহান সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এর ধানমন্ডি-ঝিগাতলায় অবস্থিত দরবার শরীফে গমন করে হাক্কানী আদর্শের সাথে সম্পৃক্ত হন। দরবারী আদর্শে নিবেদিত আনোয়ারা বেগম সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সূফী সাধক আনোযারুল হক তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং আদর করে ‘আনী’ বলে ডাকতেন। বিশাল কর্মময় জীবনের শুরুতে ১৯৭৫ সালে তিনি মিরপুর বাংলা স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। ২০০৭ সালের ২৬ জানুয়ারি তিনি মিরপুর আস্তানা শরীফ ও বাহাখাশ থেকে শাহ্ উপাধি প্রাপ্ত হন।

উল্লেখ্য, মিরপুর আস্তানা শরীফ বাহাখাশ-এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। বাহাখাশ-এর মাননীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রধান সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ বিগত ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ তারিখে লোকান্তরিত হন। তিনি বাহাখাশ-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত থাকার পাশাপাশি মিরপুর আস্তানা শরীফ-এর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ নিজস্ব স্বমহিমায় তাঁর উপযুক্ত অবস্থানে অধিষ্ঠিত ও প্রতিষ্ঠিত। সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ লোকান্তরিত হওয়ায় আস্তানা শরীফ-এর কর্মকা- পরিচালনায় তত্ত্বাবধায়ক মনোনয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। শাহ্ আনোয়ারা বেগম মিরপুর আস্তানা শরীফ প্রতিষ্ঠার পূর্ব থেকেই সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ -এঁর বিভিন্ন কর্মকা- ও তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের সাথে যুক্ত এবং সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ -এঁর সান্নিধ্যে মিরপুর আস্তানা শরীফ-এর সূচনালগ্ন থেকে কার্যক্রম পরিচালনায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। গত ৯ আগস্ট ২০১৯ তারিখ বাহাখাশ সার্বিক দিক বিবেচনা করে মিরপুর আস্তানা শরীফ-এর যাবতীয় কর্মকা- সুষ্ঠু পরিচালনায় মিরপুর আস্তানা শরীফ-এর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে মনোনীত করে। তিনি হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ (হামিবা) এর সম্মানিত পৃষ্ঠপোষকমন্ডলীর সদস্য ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ২ সন্তানের জননী, বড় সন্তান ডা. সুমাইয়া সুলতানা সুম্মী, আর ছোট সন্তান সালেহ আল নঈম যিনি ২০১৪ সনে লোকান্তরিত হন।

জগতে কোথাও তুমি মুক্তি খুঁজে পাবে না কেবল মানুষের দেহ ছাড়া

মন্জু মিয়া ॥ এমন শুনে ছিলাম যে, যদি দেবতারাও মুক্তি পেতে চায়; তাহলে মানুষের শরীর নাকি ধারণ করতে হয়?  দেহ আর মনের মাঝে সম্পর্ক ভাঙ্গার পরেও কি, দেবতাদের গর্ভে এটা সম্ভব নয়? মানুষের শরীর ধারণ করার কি প্রয়োজন?  যদি দেহ আর মনের সম্পর্ক ভাঙ্গার পর, পরম জ্ঞান উপলব্ধি হয়, তাহলে দেবতারা এই সম্পর্ক কেন ভাঙ্গতে পারছে না? এর জন্য মানুষের শরীর ধারণ করার কি প্রয়োজন? একটু সূক্ষ্ম বিষয়, অনেক সূক্ষ্ম  প্রশ্ন এটা। এখানে বুঝার অনেক কিছু আছে এবং আপনাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ; যদি বুঝতে পারেন তাহলে এখান থেকেই সাধনা শুরু হতে পারে। দেবতারা তো এখানে উপস্থিত নেই, কিন্তু আপনারা তো এখানে উপস্থিত আছেন; আপনাদের কাজে আসতে পারে।

দেবতাদের গর্ভে মুক্তি সম্ভব নয়, এর অনেক গভীর কারণ আছে। আর মানুষের গর্ভে মুক্তি সম্ভব, এটা খুবই গভীর কথা। এর জন্য আপনারা এই বিষয়কে নিয়ে এই চিন্তা করবেন না যে, মানুষের গর্ভে জম্ম নেয়া অনেক গৌরবের বিষয়।

যদি এমন মনে করেন যে, মানুষ-দেবতা থেকে অনেক উপরে; তাহলে আপনাদের অহংকার পুষ্টি পাবে। অহংকারটি হলোঃ  শুধু মানুষের গর্ভে মুক্তি সম্ভব।

এখানে ছোট আর বড় হওয়ার প্রশ্ন নয়, অহংকারের কিছুই নেই। সত্য কথা হলো: যদি বুঝতে পারেন, এখানে দীনহীন (অতিশয় দরিদ্র) হওয়ার কথা। কারণ হলো- দেবতাদের গর্ভের অর্থ  হলো: যেখানে সুখ আর সুখ, আর যেখানে সুখ আর সুখ, সেখানে নিদ্রা ঘন হয়ে যায়; দুঃখ সেই নিদ্রাকে ভাঙ্গে। দুঃখ মুক্তিদাতা, দুঃখ থেকে বের হইতে মন চায়; কিন্তু সুখ থেকে বের হইতে মন চায় না।

তোমরা তো সংসার থেকে বের হতে চাও বা মুক্তি চাও? সেটা কি এর জন্য চাও যে সুখ আছে বলে? না দুঃখ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য?  দুঃখ থেকে বের হতে চাও বলেই, সংসার থেকে মুক্ত হতে চাও।

যদি কেউ আপনাদের এই উপায় বলে দেয় যে, সংসারে থেকেও দুঃখ থেকে বের হওয়া যায়; তাহলে আপনারা কখনো ভুলেও মুক্তির কথা উঠাবেন না। তখন আপনারা বলবেন- ‘কৃষ্ণ, বুদ্ধ, মুহাম্মদ আপনারা যান (মুক্তি), আপনাদের মুক্তি আমাদের প্রয়োজন নেই; আমরা এখানেই থাকবো’।

কারণ দুঃখ থেকে বের হওয়া যায়, আর যদি এখানেই সুখ পাওয়া যায়; তাহলে মুক্তির কি প্রয়োজন? কোন মুক্তির প্রয়োজন নেই। সংসারকে ছাড়ার প্রশ্ন এর জন্য উঠছে যে, আমরা যদি দুঃখকে ছাড়তে চাই তাহলে সুখকেও ছাড়তে হবে; কারণ সুখ আর দুঃখ একসাথে জুড়ে রয়েছে।

সংসার সুখ আর দুঃখ মিশ্রিত, সব সুখের সাথে দুঃখ জড়িয়ে রয়েছে। সুখ ধরতে না ধরতেই দুঃখ এসে হাজির হয়, আপনি যখন সুখ নিতে যান তখন দুঃখের জালে আটকিয়ে পড়েন।

সুখ চাওয়ার সাথে সাথে দুঃখের দরজা খুলে যায়। স্বর্গ বা দেবতাদের গর্ভের অর্থ হলো- যেখানে সুখ আর সুখ, কোন কিছু ছাড়ার চিন্তাভাবনা থাকে না; এর জন্য দেবতা গোলাম হয়ে যায়। নরক থেকেও মুক্তি সম্ভব নয় এবং স্বর্গ থেকেও মুক্তি সম্ভব নয়।

কারণ নরকে শুধু দুঃখ আর দুঃখ, যখন দুঃখ আর দুঃখ থাকে তখন মানুষ সেই দুঃখের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে যায়। এই বিষয়টি একটু বুঝার আছে। যদি তোমাদের জীবনে দুঃখ আর দুঃখ থাকে, সুখের কোন অনুভূতি না থাকে; তখন মানুষ দুঃখের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে যায়।

যেখানে সুখের কোন অনুভূতি থাকে না, সেখানে আশা আকাংখা বা সুখের অংশ সমাপ্ত হয়ে যায়। সুখের আকাংখা সেখানেই জম্ম নেয়, যেখানে কোন আশা থাকে। এর জন্য পৃথিবীতে যত সুখের আকাংখা বাড়তে থাকে, ততই দুঃখ বাড়তে থাকে।

পাঁচশত বছর পিছনে, শূদ্র এতই দুঃখে ছিলো যতটুকু দুঃখে আজ; হয়তবা এর থেকেও বেশী দুঃখে ছিল; কিন্তু দুঃখী ছিল না। কারণ তার এই চিন্তাভাবনাই ছিল না যে, শূদ্র থেকেও উপরে কিছু হওয়া যায়। এখন সে বুঝতে পারছে, এখন আশার দরজা খুলেছে; এখন সে বুঝতে পারছে শূদ্র হওয়া জরুরী নয়, সে ব্রাহ্মণও হতে পারবে।

শূদ্র হওয়া জরুরী নয়, এখন শুধু রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার করা জরুরী নয়; এখন সে প্রধানমন্ত্রীও হতে পারবে, আশার দরজা খুলেছে। এখন সে রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার করছে, কিন্তু অনেক দুঃখে। একই কাজ (রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার) পাঁচশত বছর পিছনেও করে ছিল, কিন্তু তখন কোন দুঃখ ছিল না।

কারণ তখন দুঃখ এত শক্তিশালী ছিল যে, সেই দুঃখ থেকে বাহিরে যাওয়ার কোন আশা আকাংখা ছিল না; কোন উপায়ও ছিল না, এর জন্য দুঃখ থেকে বের হওয়ার চিন্তাভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছিল।

তাই নরকে কেউ কোন সাধনা করে না এবং স্বর্গেও কেউ কোন সাধনা করে না। কারণ নরকে দুঃখ এত গভীর যে কোন আশা করার উপায় নেই, তাই  মানুষ সেই দুঃখের প্রতি রাজি হয়ে যায়; যখন দুঃখ শেষ অবস্থা তখন আমরা দুঃখের প্রতি রাজি হয়ে যাই।

যতক্ষণ আশা থাকে ততক্ষণ আমরা লড়াই করি, আর যখন আশা ভেঙ্গে যায় তখন আমরা শান্ত হয়ে বসে যাই; লড়াই শেষ হয়ে যায়। স্বর্গেও কেউ কোন সাধনা করে না, কারণ সুঃখ থেকে বের হওয়ার কোন খেয়ালই হয় না।  সুঃখ থেকে বের হওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

মানুষ এই দুটির মাঝখানে থাকে, মানুষ স্বর্গ এবং নরকও; মানুষ অর্ধেক নরক আর অর্ধেক স্বর্গ, দুটোতে মিশ্রিত। সেখানে দুঃখ অনেক কিন্তু সুখের আশা আছে, আর প্রতিটি সুখের পর দুঃখ পায়; এটা অনুভূতি।

এর জন্য মানুষ মিশ্রিত, তার উপরে স্বর্গ; আর তার নিচে নরক। স্বর্গে মানুষ সুখের কাছে রাজি হয়ে যায়, আর নরকে মানুষ দুঃখের কাছে রাজি হয়ে যায়। মানুষ অবস্থায় কোন কিছুর প্রতি কখনো রাজি হতে পারে না, মানুষ অসন্তুষ্ট; আর অসন্তুষ্ট-ই থাকে, কোন কিছু পেলেও সন্তুষ্ট হয় না। এর জন্য সাধনার জন্ম হয়, যেখানে অসন্তুষ্ট প্রাপ্তি যে কোন পরিস্থিতিতে। আপনি যদি বস্তিতে থাকেন তারপরেও দুঃখে থাকবেন, আর যদি আপনি রাজমহলে থাকেন তারপরেও দুঃখে থাকবেন।

আপনার হওয়া, মানুষের হওয়াই এমন যে; মানুষ কখনো তৃপ্ত হতে পারে না, অতৃপ্ত  রয়ে যায়। মানুষের উপস্থিতি সব রকমের বিশৃংখলা। বীজের মত, অর্ধেক স্বর্গ দেখে আর অর্ধেক নরক দেখে। মানুষের কাছে নিজস্ব কোন ব্যক্তিত্ব নেই, সেটা অর্ধেক অর্ধেক; সিঁড়ির উপর আটকিয়ে রয়েছে। এর জন্য যে মানুষ সাধনা করে না, সেই মানুষ অসাধারণ!  নরকে নামতে চায় এটা বুঝতে পারছি, স্বর্গে নামতে চায় এটাও বুঝতে পারছি।

কিন্তু যদি আপনি সাধনায় না নামেন তাহলে আপনি চমৎকারি। কারণ আপনার হওয়াই অসন্তুষ্টি, আর যদি আপনার এই অসন্তুষ্টি থেকেও সাধনার জম্ম না হয়; তাহলে সেটা আশ্চর্য। জগৎতে সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় হলোঃ কেউ মানুষ হয়েছে, অথচ সাধক হয়নি।

স্বর্গে দেবতারা সাধনা করে সাধক হবে, এটা আশ্চর্যের বিষয়। নরকে থেকেও যদি কেউ সাধনা করে সাধক হয়, তাহলে সেটাও আশ্চর্যের বিষয়। মানুষ হয়েও যদি কেউ সাধক না হয়, তাহলে সেটা অনেক আশ্চর্যের বিষয়, কারণ আপনার হওয়াই অসন্তুষ্টি; আর অসন্তুষ্ট থেকে কেউ কিভাবে তৃপ্ত হতে পারে!

সাধনার অর্থ হলো- আমি যেমন আছি, এর উপর সন্তুষ্ট না থাকা, আমাকে পরিবর্তন হতে হবে। এর জন্য মানুষকে মিশ্রিত বলেছেন জ্ঞানীরা। স্বর্গ থেকেও ফেরৎ আসতে হবে, যখন পূণ্য শেষ হয়ে যাবে; তখন সুখ থেকেও ফেরৎ আসতে হবে। আর যখন পাপ শেষ হয়ে যাবে, তখন নরক থেকেও ফেরৎ আসতে হবে।

আর মানুষের গর্ভ থেকে তিনটি রাস্তা বের হয়। এক, দুঃখ উপার্জন করে নরকে চলে যায়। দুই, সুখ উপার্জন করে স্বর্গে চলে যায়। কিন্তু এই দুটোই কিছু সময়ের জন্য, এই দুটোর থেকে এক সময় না এক সময় বের হয়ে আসবে; কিছু সময়ের ব্যবধানে যা উপার্জন করেছে শেষ হয়ে যাবে বা খরচ হয়ে যাবে।

এমন কোন সম্প্রদায় নেই যে, খরচ না হয়; উপার্জন খরচ হবেই। একদিন না একদিন নরকও শেষ হয়ে যাবে, এবং স্বর্গও শেষ হয়ে যাবে। যতক্ষণ এই স্মরণ না হয় যে, তৃতীয় আরেকটি রাস্তা আছে; যা উপার্জন করা যায় না, শুধু নিজের ভিতরে যা লুকিয়ে আছে; সেটা বের করতে হবে।

স্বর্গও নিজের উপার্জন এবং নরকও নিজের উপার্জন, আর আপনার ভিতরে যে পরমাত্মা লুকিয়ে রয়েছে; সেটা আপনার উপার্জন নয়, সেটা আপনার স্বভাব; সেটা আপনার ভিতরে আগে থেকেই উপস্থিত আছে।

যেদিন আপনি স্বর্গ এবং নরকের দিকে যাওয়া বন্ধ করে, নিজের দিকে যাওয়া শুরু করবেন; সেইদিন থেকে ফেরৎ আসার কোন প্রয়োজন নেই।

সূফী রাবেয়া বসরী (রহ.) এর একটি ঘটনা আছে, একদিন বাজারে লোকজন দেখলো রাবেয়া বসরী দৌঁড়ে কোথায় যেন যাচ্ছে; তার এক হাতে পানির কলস আর অন্য হাতে মশাল। লোকজন জিজ্ঞাসা করলোঃ রাবেয়া তুমি কি পাগল হয়ে গেছো?

সন্দেহ তো আমাদের অনেকবার হয়ে ছিল যে, তুমি পাগল হয়ে গেছো? এখন তুমি এটা কি করছো? আর কোথায় দৌঁড়িয়ে যাচ্ছো? তোমার হাতে মশাল এবং পানির কলস কেন?

তখন সূফী রাবেয়া বসরী বললোঃ এই পানি দিয়ে আমি তোমাদের নরককে ডুবিয়ে দিতে চাই, আর এই মশাল দিয়ে আমি তোমাদের স্বর্গকে আগুন লাগিয়ে দিতে চাই। মনে রেখো, যতক্ষণ স্বর্গ এবং নরক থেকে মুক্ত না হবে, ততক্ষণ পরমাত্মার সাথে মিলন হবে না।

প্রবাহ

শেখ হাসিনার ভারত সফরের মূল ইস্যু : নাগরিক তালিকা

modi

আগামী ৩ থেকে ৬ অক্টোবর ভারত সফর করার কথা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সে সময় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন তিনি। হিন্দুস্তান টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে, আসামের জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) থেকে বাদ পড়াদের নিয়ে ঢাকার উদ্বেগ এই সফরের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমান মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে এবারেই প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনে জয় নিয়ে টানা তৃতীয়বার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। আর গত জুনে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করেছেন মোদি। দুই নেতার অধীনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরালো হয়েছে। যৌথভাবে বেশ কিছু প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন দুই নেতা। বিশেষ করে দুই দেশের সংযোগ স্থাপনে নানা প্রকল্প চালু হয়েছে তাদের মেয়াদে। দিল্লি সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও ৪ অক্টোবর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ভারতীয় অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা এমন এক সময়ে ভারত সফর করছেন, যখন আসামের নাগরিক তালিকাকে (এনআরসি) ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষ। ভারত দাবি করে আসছে তালিকা থেকে বাদ পড়ারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্থায়ী হওয়া অবৈধ অভিবাসী। তবে বাংলাদেশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

শেখ হাসিনার সফর সংশ্লি­ষ্টদের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনায় শেখ হাসিনা আসামের নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নিয়ে ঢাকার উদ্বেগ তুলে ধরবে বলে মনে করা হচ্ছে। আসামের রাজনীতিবিদদের প্রকাশ্য মন্তব্যের কারণেই এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, ভারত বাংলাদেশকে বোঝাবে যে ভারতে অবৈধভাবে বসবাসরত তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে। তবে গত আগস্টে নিজের প্রথম ঢাকা সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, আসামের অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিত করা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার জয়শঙ্কর বলেন, আসামের নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৯ লাখ মানুষের ভাগ্য নির্ধারণী প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাদ পড়া ব্যক্তিদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল এবং উচ্চ আদালতে আপিলের অধিকার আছে।

তালিকা প্রকাশের পর ভারতের ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার সমন্বয়কারী ও আসামের অর্থমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘বাংলাদেশ ভারতের বন্ধু এবং তারা আমাদের সহায়তা করে আসছে। আমরা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে উপস্থাপন করলে তারা বরাবরই তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিচ্ছে। এই সংখ্যাটি বেশি বড় না, তবে এখন আমরা তাদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’ হেমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিনকে বলেন, ‘এনআরসির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও সম্পর্ক নেই। আমি আবারও বলছি, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমি জানি না এই বিষয়ে কে কী বলেছে। ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানালে, আমরা জবাব দেব। সবমিলে আমি বলতে পাদির, ১৯৭১ সালের পর কেউ বাংলাদেশ থেকে ভারতে যায়নি। হতে পারে ভারতের বিভিন্ন অংশ থেকে তারা (মূলত বাংলাভাষীরা) আসামে স্থায়ী হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে নয়।’ বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভারত আমাদের সঙ্গে আছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক চমৎকার। তারা আমাদের বন্ধু, কিন্তু এনআরসি নিয়ে উদ্বেগের ক্ষেত্রে আমি বলতে পারি, ১৯৭১ সালের পর কেউ বাংলাদেশ থেকে ভারতে যায়নি। আমি মনে করি না ভারত সরকার কাউকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেবে।’

হিন্দুস্তান টাইমসের খবর অনুযায়ী, নাগরিক তালিকা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে মিয়ানমারের লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী ফেরাতে ভারতের সমর্থন চাইবে বাংলাদেশ। এছাড়া ভারতের অর্থায়নে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি বাস্তবায়ন পর্যালোচনা এবং নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হবে। শেখ হাসিনার ওই সফরে দুই দেশই সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা জোরালো করবে বলেও আভাস দেয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

ডিপ্লোম্যাট পত্রিকার প্রচ্ছদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

diplometic

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক ম্যাগাজিন ‘ডিপ্লোম্যাট’ তাদের সবশেষ সংখ্যার প্রচ্ছদে স্থান দিয়েছে। প্রচ্ছদের শিরোনাম দেয়া হয়েছে, ‘শেখ হাসিনা: দ্য মাদার অব হিউম্যানিটি’।

গত বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দ্য হেগের একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই প্রচ্ছদ উন্মোচন করা হয়। সে সময় ডিপ্লোম্যাটের প্রকাশক মেইলিন ডি লারা ও দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল উপস্থিত ছিলেন।

নেদারল্যান্ডস-এর বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মরক্কো, তিউনিসিয়া, অ্যাঙ্গোলা, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, ইউক্রেন, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, ভ্যাটিকান, কসোভো, ব্রাজিল, কিউবা, পেরু, চিলি, ভেনিজুয়েলা এবং ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূত, রাশিয়ান ফেডারেশন, জর্জিয়া, আর্জেন্টিনা ও আজারবাইজানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কেনিয়া, পোল্যান্ড ও পানামা দূতাবাসের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনের প্রকাশক মিজ মেইলিন ডি লারা এবং নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল উপস্থিত রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে নিয়ে পত্রিকাটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল উপস্থিত সবাইকে অবহিত করেন কী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়ার বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে লাখ লাখ নির্যাতিত রোহিঙ্গার জীবন রক্ষা করেছেন, আর বিশ্ববাসীর কাছে কীভাবে তিনি ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। প্রচ্ছদ হিসেবে শেখ হাসিনার ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ সংক্রান্ত খবরকে বেছে নেয়ার জন্য ডিপ্লে­াম্যাট ম্যাগাজিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। জাতিগত নিধন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশ সীমান্তে ভিড় করতে শুরু করে তারা। সে সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এর সুযোগ নিয়ে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে রোহিঙ্গা গ্রোত জোরালো হওয়ার এক মাসের মাথায় মন্তব্য করেন, ‘আমরা ১৬ কোটি মানুষকে খাবার দেই। সুতরাং বিপদে পড়ে আমাদের দেশে আসা দুই-পাঁচ-সাত লাখ মানুষকে খাবার দেয়ার ক্ষমতাও আমাদের আছে।’ তার এই ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়। তিনি খ্যাত হন ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ পরিচয়ে।

পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা ইমরান খানের

imran1

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে তা শেষ পর্যন্ত পরমাণু যুদ্ধে গড়াবে বলে মন্তব্য করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

তিনি বলেন, যদি যুদ্ধ বেধে যায় তাহলে এর সমাপ্তি ঘটবে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে। এর ফলে গোটা অঞ্চল ধ্বংস হয়ে যাবে। এ অবস্থায় কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখনই কিছু করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।আল জাজিরা টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এসব কথা বলেন।

ইমরান খান বলেন, কাশ্মীর নিয়ে বেশি দিন তারা চুপ থাকবে না। তিনি নিজেকে শান্তিকামী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আমরা প্রথমে যুদ্ধ শুরু করব না, কিন্তু যুদ্ধ হলে পাকিস্তানিরা জীবন দিয়ে লড়বে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই পরমাণু অস্ত্রধর। তাই পরমাণু যুদ্ধ বাধলে গোটা বিশ্বে এর খারাপ প্রভাব পড়বে। গোটা বিশ্বের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জাতিসংঘ থেকে শুরু করে আমেরিকা, চীন, রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই পরিস্থিতি সম্পর্কে পাকিস্তান অবহিত করেছে বলে তিনি জানান। ভারত কাশ্মীরিদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আমেরিকার সঙ্গে ‘কোনো লেভেলে’ আলোচনা হবে না: খোমেনী

download

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে তার দেশের ‘কোনো লেভেলেই’ আলোচনা হবে না। এ ছাড়া, তেহরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের যে নীতি ওয়াশিংটন গ্রহণ করেছে তাও ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনী গত মঙ্গলবার তেহরানে আলেমদের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের ক্লাস নিতে গিয়ে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসার অর্থ হবে ওয়াশিংটনের অযৌক্তিক চাপ প্রয়োগের কাছে আত্মসমর্পন করা। তিনি বলেন, আলোচনায় বসলে ওয়াশিংটন তার দাবিদাওয়া ইরানের ওপর চাপিয়ে দেবে; এছাড়া, আমেরিকা বলে বেড়াবে তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতিতে কাজ হয়েছে।”

তিনি বলেন, “ঠিক এ কারণেই ইরানি কর্মকর্তারা – সে প্রেসিডেন্ট হোন অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী – আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে তাদের বিরোধিতা ঘোষণা করেছেন। আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় কোনো ধরনের আলোচনা প্রেসিডেন্ট বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী-কোনো লেভেলেই হবে না।” তবে আলোচনার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেননি । তিনি বলেন, “আমেরিকা ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত যে পরমাণু সমঝোতা থেকে গত বছর বেরিয়ে গেছে অনুশোচনা প্রকাশ করে তাতে যদি সে ফিরে আসে তাহলে ওই সমঝোতার গঠনকাঠামোর আওতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে বহুপক্ষীয় আলোচনায় বসবে তেহরান। এর অন্যথায় নিউ ইয়র্ক বা অন্য কোথাও কোনো মার্কিন কর্মকর্তারা সঙ্গে ইরানের কোনো কর্মকর্তা আলোচনায় বসবেন না।”

চলতি মাসের শেষ দিকে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের অবকাশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বৈঠকে বসতে পারেন বলে যখন পশ্চিমা গণমাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা চলছে তখন এ কঠোর নীতি-অবস্থান ঘোষণা করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

২০১৫ সালে পরমাণু সমঝোতায় সই করে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু ২০১৮ সালের মে মাসে ওই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে তেহরানের ওপর সেসব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

ভাষণে তিনি আরো বলেন, “আমেরিকানরা একবার নিঃশর্ত আলোচনার কথা বলে আরেকবার ১২টি শর্তে আলোচনা হতে পারে বলে ঘোষণা করে। এ ধরনের বক্তব্য হয় তাদের অসংলগ্ন নীতির বহিঃপ্রকাশ অথবা প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা।” তিনি বলেন, “অবশ্য ইরান বিভ্রান্ত হবে না। কারণ, আমরা আমাদের চলার পথ বেছে নিয়েছি এবং আমরা জানি আমরা কি করছি।”

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনী বলেন, বিগত ৪০ বছর যাবত আমেরিকা ইরানকে পরাভূত করার লক্ষ্যে নানা ধরনের ছলচাতুরি ও কূটকৌশল অবলম্বন করেছে। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা উল্টো ইরানের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে। এবারও আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় আমেরিকার কথিত সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হবে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বিজয়ীর বেশে ঘরে ফিরবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান

erdogan12

ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টদের শীর্ষ বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও অখ-তা রক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে গতরাতে ওই বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল তিন প্রেসিডেন্টের সিরিয়া বিষয়ক পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলন।

গত সপ্তাহের সোমবার রাতে প্রকাশিত ১৪ ধারাবিশিষ্ট বিবৃতিতে সিরিয়ার পুনর্গঠনে সহযোগিতা করা এবং দেশটির জনগণের জন্য মানবিক ত্রাণ পাঠানোর ক্ষেত্রে আরো বেশি সক্রিয় হওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান শিগগিরই সিরিয়া বিষয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে পরবর্তী বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, সিরিয়ার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা রক্ষা করার কাজে জাতিসংঘ ঘোষণা মেনে চলতে হবে।

তিন প্রেসিডেন্ট সিরিয়ায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইসরাইলের এই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্রতর হবে। ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতারা বলেন, একমাত্র পরস্পরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক উপায়ে সিরিয়া সংকটের সমাধান করা যাবে না বরং দেশটির সকল পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সেদেশের জন্য একটি সুষ্ঠু সমাধান বের করতে হবে; আর এ কাজে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৫৪ নম্বর প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আরো যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ রয়েছে সেগুলো হচ্ছে, সিরিয়ার সংবিধান প্রণয়নের চলমান প্রক্রিয়া ও জাতিসংঘের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূতের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রতি সমর্থন, সিরিয়ার সব নাগরিকের কাছে মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সিরীয় শরণার্থীদের নিরাপদে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা।

আরাকান আর্মিকে ‘বড় হুমকি’ মনে করছে মিয়ানমার

myanmar

মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মিকে বড় হুমকি বিবেচনা করছে দেশটির সেনাবাহিনী। সেনা মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাও মিন তুন বলেন, আরাকান আর্মির কাছে এখন স্থলমাইনের মতো প্রযুক্তি রয়েছে।

জাতিগত সংঘাত ও দারিদ্র্য-জর্জরিত রাখাইনে কেবল রোহিঙ্গারাই একমাত্র নিপীড়িত জাতিগোষ্ঠী নয়। রাখাইন বৌদ্ধরা (আরাকান জাতিভূক্ত)-সহ সেখানকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী সেনাপ্রাধান্যশীল কেন্দ্রীয় সরকারের নিপীড়নের শিকার হয়। কেবল রোহিঙ্গা ছাড়া বাদবাকি সব জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতির প্রশ্নকে সামনে রেখেই নিজেদের কর্মকান্ড পরিচালনা করছে আরাকান আর্মি। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে এই সরব ভূমিকা বিশেষত রাখাইন বৌদ্ধদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি তৈরি করেছে।

সামরিক মুখপাত্র জানান, আরাকান আর্মিকে মোকাবিলায় তাদের বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হবে। তাদের কাছে এখন রিমোট-কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রিত বোমা রয়েছে। তিনি বলেন, এখন মোবাইল কিংবা ওয়াকি-টকির মাধ্যমেও বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব।

সম্প্রতি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ব্লুটুথ ও ওয়াইফাইয়ে মাধ্যমে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে স্থলমাইন বিস্ফোরণ করছে আরাকান আর্মি। ভারত রাখাইনের সিতেতে তাদের উন্নয়ন প্রকল্প কালাদান প্রজেক্ট নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে হুমকি মনে করছে। গোয়েন্দারা জানিয়েছে, মিজোরামেও এই গোষ্ঠীটি সক্রিয়।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করছে তাদের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, আমাদের কাছে আরাকান আর্মিকে মোকাবিলা করার প্রযুক্তি রয়েছে। তবে প্রযুক্তির ওপর শতভাগ নির্ভর করা যায় না।

সেনাবাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংযোগ রয়েছে আরাকান আর্মির। তবে গোষ্ঠীটির মুখপাত্র খাইং থুকা বলেন, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাদের কোনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজস নেই।

৩০ কোটি বছরের পুরনো প্রাণী!

fish

জীবনে কখনও কখনও এমন কিছু হাতে আসে যে তা মানুষকে বিখ্যাত করে দেয়। এমনই এক প্রাণী হাতে এল নরওয়ের এক মৎ্স্যজীবীর। আর সেই প্রাণীর সঙ্গে যিনি সেটি ধরেছেন দু’জনেই ইন্টারনেটে বিখ্যাত হয়ে গেলেন।

নরওয়ের মত্স্যজীবী অস্কার লুনড্যালবেরিয়েছিলেন ‘ব্লু হ্যালিবুট’ ধরতে। এই মাছগুলি খুব সুস্বাদু। গভীর সমুদ্রে পাওয়া যায় ওই মাছ। সেই মতো অস্কার নরওয়ের সৈকত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। বঁড়শি ফেলেন জলের প্রায় ৮০০ মিটার গভীরে। অপেক্ষা করছিলেন।

বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা কারার পর বঁড়শিতে টান পড়তেই সুতো গোটাতে থাকেন। কিন্তু বুঝতে পারেন, বড়সড় কিছু গাঁথা পড়েছে বঁড়শির কাঁটায়। প্রায় আধ ঘণ্টার চেষ্টায় সেটিকে নৌকায় তুলে আনে। নৌকায় তুলতেই ভয়ে লাফিয়ে ওঠেন। যে প্রাণীটি বঁড়শিতে উঠেছিল সেটি আগে তিনি দেখেননি। প্রাণীটিকে প্রথমবার দেখলে মনে হবে ছোটখাটো একটি ডায়নোসোর। শরীরের তুলনায় বড় বড় চোখ। সরু লেজ।

প্রাণীকে ধরার পর ধাতস্থ হতে একটু সময় লাগে অস্কারের। পরে সেটিকে হাতে নিয়ে ছবিও তোলেন অস্কার। স্থানীয় সংবাদপত্রকে তিনি জানান, প্রথমে ভয় পেলেও পরে বুঝতে পারেন এমন কিছু হাতে এসেছে যা সচরাচর দেখা যায় না। ডায়নাসোরের মতো প্রাণীটি কী তা তিনি জানতেন না।

এই যে প্রাণীটি ধরা পড়েছে সেটি একটি মাছ, নাম র‌্যাটফিস। এরা হাঙরের সমগোত্রীয়। র‌্যাটফিস গভীর সমুদ্রে বসবাস করে ফলে খুব কমই এদের দেখা পাওয়া যায়। এরা প্রায় ৩০ কোটি বছরের পুরনো প্রাণী বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

যানজটে উড়ন্ত ট্যাক্সি!

turn

উন্নত শহরের অন্যতম প্রধান লক্ষণ তার মমৃন পরিবহণ ব্যবস্থা। কিন্তু যানজটের সমস্যা বহু উন্নত শহরেই। তাই, খোঁজ চলতে থাকে বিকল্প ব্যবস্থার। তেমনই এক চেষ্টা চলছে প্যারিসে। সেখানে এমন এক ট্যাক্সি তৈরি করা হয়েছে যা নদীতে চলতে পারে, আর দেখলে মনে হবে যেন জলের সামান্য উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে।

প্যারিসের স্যেন নদীতে এমন এক যান পরীক্ষামূলক ভাবে চালানো হল, যেটি দেখতে আমাদের পরিচিত ট্যাক্সির মতো। এর দু’ধারে দুটি ডানা রয়েছে। দেখলে মনে হবে যেন কোনও উড়ো যান জলের খুব কাছ দিয়ে উড়ে চলেছে। এই ডানা দু’টিযানটিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। এই ট্যাক্সি বিদ্যুতে চলে।

প্যারিসে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে এই ট্যাক্সি চালানোর অনুমতি চাওয়া হয়েছে প্রস্তুতকারক সংস্থা সি বাবলের তরফে। তাইস্যেন নদীতে সোমবার পর্যন্ত চারদিন ট্রায়াল রান হল এই ট্যাক্সির। এবার কর্তৃপক্ষসব দিক খতিয়ে দেখে ব্যবাসয়িক ভিত্তিতে এই ট্যাক্সি চালানো যাবে কিনা, তা ঠিক করবেন। এই ট্যাক্সি তৈরি করেছে সি বাবলসেরএক কর্তা জানিয়েছেন, এই যান চালাক ছাড়াও চারজন যাত্রী বহন করতে পারে। আর বিদ্যুতে চলার ফলে এই যান দূষণ ছড়ায় না।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে, সি বাবলসের দাবি, ব্যবসায়িক ভিত্তিতে এই পরিষেবা চালু হলে পূর্বপ্যারিস থেকে পশ্চিম প্যারিসে যাওয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে।

এই যান বেশ কয়েক বছর আগে তৈরি হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে সি বাবলস। কিন্তু সেগুলির ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছিল। তাই ব্যবসায়িক ভিত্তিতে চালানোর অনুমতি পাওয়া যাচ্ছিল না। এবার যে টেস্ট রাইড হয়েছে তা সাফল্যের সঙ্গেই শেষ হয়েছে বলে দাবি সংস্থার। তাই এবার যাত্রী পরিবহণের অনুমতি মিলবে বলেই দাবি করছেন সংস্থার এক অন্যতম কর্তা।

জর্দান উপত্যকা দখলের হুমকি : তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ

ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের কিছু অংশ ইসরাইলে যুক্ত করার যে হুমকি দিয়েছেন তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি সভায় এ নিন্দা জানানো হয়। রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভায় রিয়াদে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকার ও যেকোনো মূল্যে মুসলিম উম্মাহর একতা বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, ফিলিস্তিনে স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট রেজ্যুলেশনের বাস্তবায়ন, রোডম্যাপ ও আরব শান্তি পরিকল্পনার গুরুত্ব সর্বাধিক। বাংলাদেশ ওআইসি ও জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করে যাবে। আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের মূল বক্তব্যে এ বিষয়টি তুলে ধরবেন বলেও জানান তিনি।

জরুরি সভায় সৌদি আরব ছাড়াও তুরস্ক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিস্তিনসহ আরও ২০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যোগ দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম আবদুল আজিজ আল-আসাফ।

সভায় ফিলিস্তিন বিষয়ে গৃহীত রেজ্যুলেশনে জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ওআইসি সদস্যদের কথা বলার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাবনা সর্বসম্মতিক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়। এছাড়া, সম্প্রতি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এ বিষয়েও একটি পৃথক রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সম্প্রতি এক নির্বাচনি জনসভায় ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি পুনর্নিবাচিত হলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিশাল অংশকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করবেন।

তিনি বলেছেন, ১৭ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভের পরপরই জর্ডান উপত্যকা এবং ডেড সি বা মৃত সাগরের উত্তরাঞ্চলে ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা হবে।

নেতানিয়াহুর ঘোষণার পর আরব লীগের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক থেকে এ ঘোষণার নিন্দা জানানো হয়েছে। ইরান, কাতার, তুরস্ক, জর্ডান ও সিরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ আলাদা বিবৃতিতে এ ধরণের পদক্ষেপের সম্ভাব্য পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে।

‘জাতীয় স্বার্থ’ রেখেই অবাধ কাশ্মীর চায় সুপ্রিম কোর্ট

নিরাপত্তা বাহিনী জম্মু ও কাশ্মীরে শিশুদের বেআইনি ভাবে আটক করে রাখছে বলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন মানবাধিকার কর্মীরা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলল, মামলাকারীরা কেন সেখানকার হাইকোর্টে যাচ্ছেন না? হাইকোর্টে মামলা করতে গেলে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে আইনজীবী হাজেফা আহমদির এই অভিযোগ শুনে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ হুঁশিয়ারি দিলেন, তিনি নিজে এ বিষয়ে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলবেন। প্রয়োজনে তিনি কাশ্মীরে যাবেনও। কিন্তু হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির রিপোর্টে উল্টো কথা থাকলে, মামলাকারীদের ফল ভুগতে হবে।

যার পরে অন্যতম মামলাকারী, শিশু অধিকার আন্দোলনকর্মী এণাক্ষী গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, ‘উনি যদি শিশুদের বিষয়ে আর্জি শুনতেন এবং তাদের সুরাহা দিতে সাহায্য করতেন, সেটাই ভাল হত।’

কংগ্রেস ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলেছে, সুপ্রিম কোর্ট ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের বিরুদ্ধে মামলার শুনানির জন্য সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করেছে। কিন্তু শুনানিই শুরু হচ্ছে না। আজ সুপ্রিম কোর্টে ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের পর থেকে কাশ্মীরের জনজীবন স্তব্ধ করা নিয়ে একগুচ্ছ মামলার শুনানি হল। কিন্তু কোনও সুরাহা মিলল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠল।

জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে সুপ্রিম কোর্টে ‘হেবিয়াস কর্পাস’ মামলা করেছিলেন তামিল নেতা ভাইকো। আর্জি ছিল ফারুককে আদালতে হাজির করা হোক। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চেয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিল। দিল্লিতে যখন শুনানি চলছে, ঠিক সেই সময়ই শ্রীনগরে ফারুককে কঠিন জনসুরক্ষা আইন (পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট)-এ আটক করা হল।

কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের পর থেকেই যোগাযোগ ব্যবস্থা স্তব্ধ। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে ‘কাশ্মীর টাইমস’ সংবাদপত্রের সম্পাদক অনুরাধা ভাসিন প্রশ্ন তুলেছিলেন, কোন সরকারি নির্দেশিকায় এ সব বন্ধ রাখা হয়েছে? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে জম্মু-কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা নিশ্চিত করতে হবে। তবে সবটাই ‘জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে’। আইনজীবীদের বক্তব্য, এমন হলে ‘জাতীয় স্বার্থ’-র যুক্তি দেখিয়ে সরকার যত দিন ইচ্ছে মোবাইল-ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে পারে। জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে এক নোটে জানিয়েছে, ‘যাবতীয় নিয়ন্ত্রণই অস্থায়ী। ধাপে ধাপে তা শিথিল করা হচ্ছে। আমরা এমন একটা ধাপে পৌঁছচ্ছি, যেখানে হয়তো আর কোনও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন পড়বে না।’

আজ সুপ্রিম কোর্টে একমাত্র সুরাহা পেয়েছেন কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ। কোর্ট তাঁকে শ্রীনগর, অনন্তনাগ, বারামুল্লা ও জম্মু সফরের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু গুলাম নিজেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক সভা করবে না। শুধু সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি দেখে ফিরে আসবেন। সিপিএম নেতা মহম্মদ ইউসুফ তারিগামিকে চিকিৎসার জন্য শ্রীনগর থেকে দিল্লির এইমসে আনার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তিনি এখন সুস্থ। জম্মু-কাশ্মীর ভবনের অতিথিশালায় রয়েছেন। আজ প্রধান বিচারপতির নির্দেশ, তারিগামি চাইলে শ্রীনগর ফিরে যেতে পারেন। কিন্তু সেখানে কার্ফুর মধ্যে ঘোরাফেরা করতে হলে তাঁকে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে।

শুধু শিশু অধিকার আন্দোলনকারীরা নন। কাশ্মীর টাইমসের সম্পাদকের হয়েও আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার অভিযোগ তোলেন, ইন্টারনেট, গণপরিবহণ বন্ধ বলে সংবাদপত্র প্রকাশে সমস্যা হচ্ছে। কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল যুক্তি দেন, সাংবাদিকদের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা দেয়া হচ্ছে। অন্য সংবাদপত্র প্রকাশ হচ্ছে। যে সব টিভি ও রেডিয়ো চ্যানেল চলছে, তার তালিকাও দেন বেণুগোপাল। বিচারপতি এস এ বোবদে কেন্দ্রকে এ সব তথ্য হলফনামা দিয়ে জানাতে বলেন। বেণুগোপাল জানান, ১৯৯০ থেকে গত ২৯ বছরে জম্মু-কাশ্মীরে ৭১,০৩৮টি সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটেছে। ৪১,৮৬৬ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তার মধ্যে ১৪,০৩৮ জন সাধারণ নাগরিক। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার যুক্তি, কাশ্মীরের ১০৫টি থানার ৯৩টি থেকেই ১৪৪ ধারা তুলে নেয়া হয়েছে। জম্মু ও লাদাখে আর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।

কাশ্মির সংকটের সমাধান চায় চীন

chin pakistan

জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ অধিকার বাতিলের সৃষ্ট সংকট শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিরসন করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট সনদ ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় গুরুত্ব দিচ্ছে চীন। দুই দিনের পাকিস্তান সফর শেষে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইই এক বিবৃতিতে একথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, জম্মু-কাশ্মিরের পরিস্থিতি জটিল হয় এমন যেকোনও একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা করে চীন।

ইসলামাবাদে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দুই দিনের সফরে কাশ্মির ইস্যুতে দুই পক্ষ থেকে মতবিনিময় করা হয়। পরে তারা এক যৌথ বিবৃতি দেয়। তাতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি ও মানবিক ইস্যুতে গুরুত্ব দিয়েছে চীন।

৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। লাদাখ ও কাশ্মিরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে বিল পাস হয়। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। জারি করা হয়েছিল বিধিনিষেধ। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শত শত নেতাকর্মীকে। সেখানে উন্নয়নের জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এটা দেশটির ‘সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়’ ভারতের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও পাকিস্তান বলছে, সেখানে কাশ্মিরিদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। দিল্লির ওই পদক্ষেপের পর এর প্রতিবাদে জাতিসংঘে বৈঠকের আবেদন করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু এতে কাজ না হওয়ায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি চিঠি দেন নিরাপত্তা পরিষদে। পরে চীন নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের জন্য আহ্বান জানালে তা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অস্বীকৃতি জানায় পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মিরের বর্তমান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তারা।

চীনের পক্ষে জানানো হয়, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের চার্টারের ভিত্তিতে এ সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে বেইজিং এসময় ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি জটিল হয় এমন একতরফা পদক্ষেপ নেওয়ার বিরোধিতা করেছে তারা।

সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ- মানবতা

বাহাখাশ-এর উদ্যোগে ‘মানবতা’ বিষয়ে হাক্কানী চিন্তন বৈঠক -৯

সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ- মানবতা

সংলাপ ॥ বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ)-এর নিয়মিত সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান হাক্কানী চিন্তন বৈঠকের ‘মানবতা’ বিষয়ে ৯ম পর্ব (নতুন আঙ্গিকে ৫ম পর্ব) ৭ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকাল ৫ টায় মিরপুর আস্তানা শরীফের ‘জ্যোতিভবন’-এর আক্তার উদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বাহাখাশ সভাপতি শাহ শাহনাজ সুলতানার সভাপতিত্বে ‘মানবতা’ বিষয়ের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাহাখাশ সহ-সভাপতি শাহ্ শেখ মজলিশ ফুয়াদ ও শাহ্ আশরিফা সুলতানা, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ (হামিবা)’র নির্বাহী সদস্য ডা. সুমাইয়া সুলতানা এবং  হামিবার সাংগঠনিক সচিব নাসরিন সুলতানা জুলি। বৈঠকটির সঞ্চালনায় ছিলেন শাহ্ আবেদা বানু তরু।

শাহ্ শেখ মজলিশ ফুয়াদ বলেন, ‘মানবতা’ নিয়ে আলোচনার শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি মহান সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফকে- একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে বিভিন্ন কর্ম-সম্পাদনের মাধ্যমে আমাদের সামনে যিনি দেখিয়েছেন মানবতা কি এবং কীভাবে তা অর্জন করতে হয়। মানবতার পরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে তিনি এমন এক ফুল হিসেবে পৃথিবীতে নিজেকে প্রস্ফুটিত করে গেছেন যা কখনো আমাদের কাছ থেকে ঝরে যাবে না।   ‘মানবতা’ শুধুমাত্র পাঠ্য বই-পুস্তক বা বক্তৃতা-বিবৃতির বিষয় নয়। একমাত্র সাধকগণের পক্ষেই ‘মানবতা’র বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী অর্জন করা সম্ভব এবং তাঁদের পক্ষেই মানবতার কথা শোভা পায়। কারণ, এই গুণ বা বৈশিষ্টের অধিকারী হওয়ার জন্য জীবনে যে ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করতে হয়, যেসব কর্ম সম্পাদন এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয় তা শুধুমাত্র সাধকগণের পক্ষেই সম্ভব। একজন মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়ে তার আশপাশের মানুষ, পরিবার-পরিজন, সমাজ ও দেশের জন্য তার দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে-এই বোধ থেকেই একজন মানুষের মধ্যে মানবিকতা, মনুষ্যত্ব তথা মানবতাবাদ ও মানবতাবোধের জন্ম হতে পারে।

বর্তমানে বাংলা ভাষাভাষী শিক্ষিত সমাজে ‘মানবতা’ বা ইংরেজিতে ‘হিউম্যানিটি’ বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ হলেও  ভাষায় এর প্রচলন বেশি দিন আগের কথা নয়। বাংলা ভাষার সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং প্রাচীন অভিধান হরিচরণ বন্দোপাধ্যায়ের ‘বঙ্গীয় শব্দকোষে’ ‘মানবতা’ শব্দটির উল্লেখ নেই। এই অভিধানটিতে ‘মানব’ শব্দের অর্থ হিসেবে বলা হয়েছে, ঋগে¦দ-এ বর্ণিত মনু হইতে আগত-মানুষ, মনুর সন্তান, মনুষ্য বা মনুজ। সংসদ বাঙ্গালা অভিধানে সম্ভবত ‘মানবতা’ শব্দটির প্রথম সংযোজিত হয় যার অর্থ, মানবত্ব-মনুষ্যের গুণ ধর্ম, বা ভাব। কৃতজ্ঞতা নামের গুণটি অর্জন করতে পারলে একজন মানুষের পক্ষে মানবতার কর্ম-পথের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়ক হতে পারে যা আমাদের মতো সাধারণের জন্য অত্যন্ত কঠিন। কারণ, পার্থিব মোহ, লোভ-লালসা-হিংসা-ঘৃণার মধ্যে আবর্তিত মানুষ তার অতীতকে ভুলে গিয়ে পেছনের দিকে হাঁটতে থাকে। তার চারপাশের হাজারো সমস্যার দিকে তাকানোর মতো শক্তি-অনুভূতি সে হারিয়ে ফেলে। যতই সে পেতে থাকে, তার চাহিদা ততই বাড়তে থাকে। এভাবে মানুষের জীবনে সত্যের পরিবর্তে মিথ্যা প্রতিষ্ঠিত হয়। তথ্যপ্রযুক্তির বিপুল প্রসারের এই সময়ে এই সমস্যাটিই সবচেয়ে বেশি।

অথচ পৃথিবীতে মানুষ জাতি আজ পর্যন্ত যতটুকু এগিয়েছে এবং সামনের দিকে যতটুকু এগোবে তার বিশেষত্ব এবং লক্ষ্যই কিন্তু মানবতার বিকাশলাভ। এ অবস্থা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। মানুষ ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়েছে। যদিও প্রশ্ন উঠা একান্তই স্বাভাবিক এই কারণে যে, সভ্যতার চরম উৎকর্ষতার আজকের এই সময়ে বিশ্বের সর্বত্রই অনেক ক্ষেত্রেই মানবতা গুমরে গুমরে কাঁদছে। কারণ, বিশ্বের বহু দেশে, বহু সমাজে মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আজও অপূর্ণ এবং অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। মানবতা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ধর্মের নামে ব্যবসা-বাণিজ্য, জাতি-ভেদ, রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতির নানা মারপ্যাঁচের বলি হয়ে । একজন প্রকৃত ধার্মিক  হওয়ার সবচেয়ে বড় গুণটি হচ্ছে তাঁর মধ্যে মানবতাবোধ থাকতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থসহ সকল স্বার্থের উর্ধ্বে না-উঠতে পারলে মানবতা গুণটি কেউ কখনো অর্জন করতে পারে  না।

বাংলা, বাঙালি জাতির মধ্যে অনেক মহাপ্রাণ মানবতার জয়গান গেয়ে জগতের বুকে অমর ইতিহাস স্থাপন করে গেছেন। তবে সময় ও পারিপাশ্বির্কতার কারণে অবস্থারও পরিবর্তন হয়েছে। আগের এক বাঙালি সাধক বলেছিলেন, ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য তাহার ওপরে নাই’-যাকে এখনকার সময়ে আর সত্য বলা যাচ্ছে না। কারণ, মানুষ এখন এমন কাজ করছে, অর্থাৎ, মানুষের দ্বারা এমন জঘন্য কর্মকান্ড সংঘটিত হচ্ছে যা পশুকেও লজ্জা দিচ্ছে। সেজন্য বর্তমানকালের সাধক বলেন, ‘সবার ওপরে সত্যমানুষ, তাহার ওপরে নাই’। এই সত্যমানুষদের দ্বারাই মানবতার কাজ সম্ভব হচ্ছে এবং আমাদের সামনে তার উৎকৃষ্টতম উদাহরণ হচ্ছেন সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ-এঁর জীবন ও কর্ম। আর এই মানবতার কাজটি করার জন্য তিনি সারাটি জীবন যে একনিষ্ঠভাবে সাধনা করে গেছেন তা শুধুই উপলব্ধির বিষয়। এই উপলব্ধির জন্য কোনো বই-কিতাব নয়, প্রয়োজন মানুষ-কিতাব পাঠের মাধ্যমে জ্ঞানার্জন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিকভাবে ‘মানবতার জননী’ (মাদার অব হিউম্যানিটি’) বলে যে উপাধিটকু পেয়েছেন তা মানবতার আদর্শ ধারণকারী বাংলা ও বাঙালি জাতির হাজার বছরের ঐতিহ্যের নতুন এক প্রকাশ। কারণ, বাংলার প্রকৃতির মতোই বাঙালির মতো উদার ও সরল জাতি পৃথিবীতে দ্বিতীয় কেউ আছে বলে আমাদের জানা নেই।

স্বার্থের টানে বন্দী হয়ে যাওয়া বর্তমান সময়ে মানুষে-মানুষে প্রাণখোলা হাসিই এখন দুর্লভ। এই পরিপ্রেক্ষিতে সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ বলেন, ‘অন্য একজনের সাথে হেসে কথা বলাও এক ধরনের মানবতা’।  তবে হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ-এর যে-আহবান, ‘হে মানবজাতি, তোমরা যে ধর্মাবলম্বীই হউ না কেন, জীবন চলার পথে শান্তি ও মঙ্গল হাসিল করার জন্য মুর্শিদ/গুরু/পথ প্রদর্শক তালাশ কর এবং সংযোগ স্থাপন কর। যদি সংযোগ স্থাপন করতে না পারো তাহলে অন্ততপক্ষে সংযোগ রক্ষা করা চল’- এ প্রেক্ষাপটে বলা যায়, মানবতার পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য পূর্বশত হিসেবে একজন মানুষকে অবশ্যই গুরুকেন্দ্রিক বা একটি আদর্শ-কেন্দ্রিক জীবনে প্রবেশ করতে হবে। গুরু বা মুর্শিদের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে হবে। আর তা না হলে কঠিন বাস্তবতার মধ্যে পড়ে আমিত্বের আবরণে ঢেকে গিয়ে এক লক্ষ্যহীন ও বিভ্রান্তিপূর্ণ অশান্ত ও অস্বস্তিকর জীবনের মধ্যে হাবুডুবু খেতে হবে, মানবতার কর্ম করা সেখানে কখনো সম্ভব হবে না।

শাহ আশরিফা সুলতানা বলেন, মানবতা এমন একটি গুণ যা মানুষের মনুষ্যবৃত্তির সাথে সম্পৃক্ত। মানুষের দু’টি প্রবৃত্তি-একটি মনুষ্যবৃত্তি বা মানবতা, অপরটি পাশবিক প্রবৃত্তি। যখন মানুষ বিবেক দ্বারা পাশবিকবৃত্তিকে অবদমিত রেখে মনুষ্যবৃত্তিকে পরিচর্চা করা হয় তখন মানবতার পরিস্ফুটন ঘটে। মানবতা হচ্ছে প্রেম, দয়া, বিনয়, ধৈর্য্য, করুণা, সততা, সত্যবাদিতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মবিশ্বাস, নির্ভরযোগ্যতা, ক্ষমাশীলতা, সাহস, বিচারশীলতা ইত্যাদি গুণের বিকাশ। অপরপক্ষে, পশুত্ব বা পাশবিকতা হচ্ছে ঘৃণা, অহংকার, মিথ্যাচার, অসততা, লোভ, মোহ, হিংসা, অবিশ্বাস, অবিচার ইত্যাদি দোষের প্রকাশ।

মানুষের মধ্যে মনুষ্যবৃত্তিকে লালন না করা হলে আপনাআপনিই সেখানে পাশবিকপ্রবৃত্তি জাগ্রত হয়। এই মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করতে সচেতন প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর বাণী- ‘মানুষ যদি হতে চাও, মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করো’। মানবতার কাজ করতে চাইতে মানবিক গুণাবলী অর্জন করতে হবে। অর্থাৎ, মানুষ না হলে মানবতা করা যায় না। মানুষ হওয়া মানে সত্য বলা, কারও ক্ষতি না করা, বিপদ-আপদে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করা। নিঃস্বার্থভাবে অন্যেও কল্যাণের জন্য কিছু করাই হচ্ছে মানবতা।  আমরা সবাই মানুষ হলে সুখে-শান্তিতে থাকতাম। আইন-আদালত, থানা-পুলিশ কোনো কিছুরই প্রয়োজন হতো না। মানবতা হচ্ছে সকল গুণের সমাহার। এই মিরপুর আস্তানা শরীফে এসেই মানবতার পরিপূর্ণ বাস্তব রূপ দেখেছি। আমাদের মনুষ্যত্ব জাগ্রত করানোর জন্য সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ নিরন্তর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। মানুষের ভেতরের যেসব দোষ-গুণ সুপ্ত অবস্থায় আছে যে বিষয়গুলো নিয়ে এখানে বার বার আলোচনা করা হয়। বার বার আলোচনা করে আমাদের দোষগুলো নিয়ন্ত্রণ করে গুণগুলো লালন করতে পারি, আমরা যাতে মানুষ হতে পারি সেই সহযোগিতাই করছেন এই মহান সাধক। এখানে নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা দেয়া হয়। অন্যের কষ্ট লাঘব করার জন্য সাধক ঘন্টার পর ঘন্টা কাউন্সেলিং করেন। গুরুর সান্নিধ্যে গেলেই কেবল মানবতার বিষয় অনুধাবন করা যায়। এ প্রসঙ্গে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর বাণী-‘ধুপী যখন সেজেই গেছি, সবার কাপড়  কাঁচতে হবে’। এই যে সবার ময়লা পরিষ্কার করা, সবাইকে আজীবন পরিষ্কার রাখার জন্য আজীবন কাজ করা-এটাই মানবতা।

ডাঃ সুমাইয়া সুলতানা বলেন, মানবতা কি? মান+অবতার (মানুষ)। মান আছে যে মানুষের তার আছে মানবতা। মান অর্থ অহংকার, হুশঁ, জ্ঞান, বোধ। মানবতা হলো মনুষ্যত্ব, সহানুভূতিশীলতা। আকৃতিতে ‘মানুষ’ হলেই তা আসলে মানুষ হয়ে যায় না। আর সবাই মানবতা করতেও জানে না।  মানবতা একটা গুণ, বিশেষ গুণ যা অনুভূতিতে করতে হয় কতকভাবে বা অনুভব ও অনুশীলন করতে হয়। মানবতা গুণটি আসে সাহস থেকে। মানবতা সেই দেখাতে পারে যার আছে একটি নিয়ন্ত্রিত জীবন। সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে যে উদারতা দেখাতে পারে সেখানে আছে মানবতা। ‘এক’-এর মহিমায় মহিমান্বিত হলে হয় মানবতা। নিজের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারলে হয় মানবতা। দয়াশীলতা হলো মানবতা। পাশাপাশি চলার মানসিকতা হলো মানবতা। সত্যের সাথে এক হয়ে সত্যের শক্তিতে নিজেকে শক্তিমান করা মানবতা।

মানবতা ধারণ করতে হয় নিজের মধ্যে। ‘মানবতা’ একটি শক্তি যে শক্তি অর্জন করতে হয়, অনুশীলন ও পরিচর্যা করতে হয় এবং ধারণ করে বহন করে যেতে হয়। মানবতা শুধু মানুষের জন্য নয়। মানবতা পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টিকূলের জন্য। সৃষ্টির ভাষা যে বুঝতে পারে কেবল সেই করতে পারে মানবতা। ভাষাহীন জীবের ভাষা যে বুঝতে পারে, না-বলা কথা যে শুনতে পারে অদেখা দুঃখকে যে অনুভব করতে পারে-কেবল তিনি করতে পারেন মানবতা।

হিংসা, বিদ্বেষ, ক্রোধ, আত্ম-অহমিকা ভুলে গিয়ে ‘এক’-এর কল্যাণে যে আগুয়ান-‘মানবতা’ শক্তি কেবল তার। আমরা নিজের ঘরে-নিজের জন্মদাতা পিতামাতার সাথেই মানবতা দেখাতে পারি না, দেশ ও জাতির কিংবা সমাজের জন্য কল্যাণকর মানবতা আমরা দেখাব কি করে?

‘হাক্কানী’তে এসে ‘মানবতা’ সম্পর্কে জেনেছি। আমাদেরকে ‘মানবতা’র পাঠ প্রতিটা পদে পদে-পড়ানোর অক্লান্ত চেষ্টা বহমান-চলমান-প্রশ্ন হচ্ছেঃ আমার মধ্যে কি মানবতার বিন্দু পরিমাণও আছে? নিজেকেই নিজের প্রশ্ন-আমি কি নিজের মধ্যেই মানবতা দেখাই যে, অন্যের প্রতি মানবতা আমি দেখাব?

নিজেকে আগে মানব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি, ‘মানবতা’ শক্তি আপনই অর্জিত হবে। কারণ, মানব-এর ই ধর্ম ‘মানবতা’।

নাসরিন সুলতানা জুলি বলেন, মানবতা করতে হলে আগে নিজের মানবতা নিজেকেই করতে হবে। অর্থাৎ, নিজ থেকে শুরু করতে হবে। নিজে অন্যায় করবো না, সৎ পথে চলবো, সব রকম পরিস্থিতিতেই পথ প্রদর্শকের আদেশ-উপদেশ মেনে চলবো। নিজে সঠিক না হলে অন্য কাউকে সঠিক পথ দেখাবো কী করে?

ধর্ম মানুষের জন্য, ধর্ম মানে শান্তি। কিন্তু আমরা কি সেই শান্তি প্রতিষ্ঠায় রত আছি? একজন আরেক জনের পেছনে লেগে আছি। কীভাবে কাকে ছোট করবো। একবারও ভেবে দেখছি না যে, অন্যকে ছোট করতে গিয়ে নিজেই ছোট হয়ে যাচ্ছি। তা হলে কীভাবে করবো মানবতা? মানবতার জন্য প্রয়োজন নিঃস্বার্থ ও লক্ষ্যকেন্দ্রিক কর্ম করা।

মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করাও মানবতা। কিন্তু মানবজীবনের আসল চাহিদা হলো আত্মিক চাহিদা মানে আত্মার ক্ষুধা। আত্মিক চাহিদা পূরণে আমরা কাউকে কি সহযোগিতা করছি নাকি তাকে হিংসায়, পরনিন্দায়, পরচর্চায় নিজেকে কলুষিত করছি? যখন অধর্ম করে আমরা নিজেকে পরিপূর্ণ করে ফেলি তখন নিজেকে সে অধর্ম থেকে মুক্ত করাও মানবতা। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক বলছেন, ‘নিজের বিচার নিজে করো রাত্রদিনে’। তাই বলতে হয়, নিজের বিচার নিজে করতে পারলে অন্য কিছু আর লাগে না।

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক বলছেন, ‘সংস্কারমুক্ত হয়ে সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠিত করার পথে পা বাড়াও, তুমি তোমার আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে না’।

আমরা যে আদর্শে চলছি-সেই আদর্শ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য, লক্ষ্য সমাজ-সংস্কার, মূলনীতি, ধর্ম মানবতার জন্য, আর তার প্রতীক কর্ম-মানবতা-শান্তি। হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে ‘ধর্ম মানবতার জন্য’। তাই তারা (১) ধর্মীয় অঙ্গন থেকে মানবতা করছে, (২) সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে মানবতা করছে। তাই আমাদের মানবতা শিখতে বা করতে হলে বাইরে যেতে হবে না। এখানে আমাদের আদর্শই যথেষ্ট-‘পাশাপাশি চলো বন্ধু হতে পারো’।

বৈঠকের সভাপতি শাহ শাহনাজ সুলতানা এই বলে বৈঠকের মূলতবী করেন যে, নিজের বিচার নিজে করতে পারলে, কৃতজ্ঞ হতে পারলে এবং সকল সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠতে পারলে মানবতা করা যায়। একজন সত্যমানুষ ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে যেভাবে পাশে দাঁড়ান এমন মানবতা আর কেউ করতে পারে না। তাঁরা  মানুষের পাশে থেকে, মানুষের মধ্যে মিশে গিয়ে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেন।

নবীর ‘উম্মতের’ হাতেই শহীদ নবীর সন্তান ইমাম হোসাইন!!! – ২

(পূর্ব প্রকাশের পর)

সুহৃদ মান্নাফী ॥ তৃতীয় খলিফার সময় উমাইয়ারা বড় বড় পদে আসীন এবং বায়তুল মালে হস্তক্ষেপ করে। যেটুকু তাদের ঘাটতি ছিল তা হল ধার্মিকতা। কিন্তু তৃতীয় খলিফার হত্যাকা-কে কেন্দ্র করে অদ্ভুত এক প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির মাধ্যমে ‘ধার্মিক’ হবার গৌরবটাও তারা হাতে পায় এবং সেটাকেও তাদের লক্ষ্য চরিতার্থ করার কাজে নিয়োগ করে। আর এর বদৌলতেই মোয়াবিয়া দীন ও দীনের শক্তির নামে হযরত আলীর মতো মহান ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বিশাল সেনাবাহিনী গঠন করতে সক্ষম হয়। এরপর থেকে মোয়াবিয়া আলেমদেরকে ভাড়া করে আরও একটা কৃতিত্ব বাড়ায়। অর্থাৎ এখন থেকে সে চারটি দিককে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে মুসলমানদের শাসন-মঞ্চে আবির্ভূত হয়। এগুলো ছিলঃ (১) বড় বড় রাজনৈতিক পদ (২) ধন-দৌলতের প্রাচুর্য (৩) অতিমাত্রায় ধার্মিকতা এবং (৪) দরবারী আলেম সমাজ।

তৃতীয় খলিফার যুগে উমাইয়াদের রাজনৈতিক উত্থান এবং বায়তুলমালের ছড়াছড়ি দেখে দীনদার এবং দুনিয়াদার উভয়পক্ষই ক্ষেপে ওঠে। দুনিয়াদাররা তাদের চোখের সামনে উমাইয়াদের ভোগ-বিলাস সহ্য করতে পারেনি কারণ তারা তাদের নিজেদের স্বার্থের ব্যাপারে সচেতন ছিল। আর দীনদাররা দেখছিল যে, মুসলমান সমাজের আশু ধ্বংস অনিবার্য। এ কারণেই দেখা যায় যে, রাসুলের সাহাবী আমর ইবনে আস যেমন এর বিরোধিতায় নামে তেমনি সাহাবী আবুজর বা আম্মারও এর বিরোধিতা করেন। আমর ইবনে আস বলেন: আমি এমন কোনো রাখালের পার্শ্ব অতিক্রম করিনি যাকে উসমানের হত্যার জন্যে উস্কানি দেইনি’।

যখন হযরত ওসমান অবরোধের মধ্যে ছিলেন তখন হযরত আলী তাকে বিভিন্ন উপদেশ ও দিক-নির্দেশনার পাশাপাশি তাকে খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করেছেন। কিন্তু মোয়াবিয়া এই ফেতনা-ফ্যাসাদের সূচনা ও পরিণতি সম্বন্ধে ভালভাবেই অবগত ছিল। তাই খলিফা ওসমান তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেও মোয়াবিয়া তার বিশাল বাহিনী নিয়ে সিরিয়াতেই বসে থাকলো। কারণ সে বুঝেছিল যে, জীবিত ওসমানের চেয়ে মৃত ওসমানই তার জন্যে বেশি সুবিধাজনক। তারপর যখন ওসমানের হত্যার সংবাদ শুনলো অমনি হায় ওসমান! হায় ওসমান! বলে চীৎকার করে উঠলো। খলিফা ওসমানের রক্ত ভেজা জামা লাঠির মাথায় করে ঘুরালো মিম্বারে বসে শোক গাঁথা গেয়ে নিজেও যেমন কাঁদলো তেমনি অজ¯্র মানুষের চোখের পানি ঝরালো, আর কোরআনের এই আয়াত নিজের শ্লোগানে পরিণত করল:

‘যে মজলুম অবস্থায় নিহত হয় তার উত্তরসূরিকে আমরা কর্তৃত্ব দান করেছি’ ( বনী ইসরাইল : ৪৪ )

ফলে ওসমানের রক্তের বদলা নেয়ার জন্যে মোয়াবিয়া ধন-দৌলত ও সরকারী পদগুলোর সাথে ধার্মিকতাকেও যুক্ত করতে সক্ষম হয় এবং ইসলামী সা¤্রাজ্যের একটা বড় অংশের অধিকর্তা হয়ে বসে। অন্যকথায়, ধার্মিকতার শক্তিকে রাজনীতি ও ধন-দৌলতের সাথে যোগ করে জনগণ তথা হযরত আলীর অনুসারীদেরকে সংকটাবস্থায় নিক্ষেপ করে। তাদেরকে বস্তুগত দিক থেকেও যেমন সংকটে ফেলে তেমনি আত্মিক ও মানসিকভাবেও। অবশ্য কেবল ধার্মিকতা মজলুমের পক্ষ হয়েই অগ্রসর হয়। কিন্তু যদি জনগণের অজ্ঞতা এবং ক্ষমতাসীনদের প্রতারণার বলে ধর্ম রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত হয় তাহলে আর দুর্দশার শেষ নেই। মুসলমানদের রাজত্বে সে অবস্থারই সৃষ্টি হয়েছিল-ধর্ম রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। এই ছিল মুসলমানদের খেলাফত ও সমাজের ওপর মোয়াবিয়ার কর্তৃত্ব লাভ করার সংক্ষিপ্ত কাহিনী, যা তিনটি জিনিসের সমন্বয়ে সম্ভব হয়েছিল। যথাঃ উমাইয়াদের, বিশেষ করে মোয়াবিয়ার কূটবুদ্ধি, পূর্ববর্তী খলীফাদের সরলতা যারা এদেরকে ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় স্থান দিয়েছিল আর জনগণের অজ্ঞতা ও মূর্খতা।

মোয়াবিয়া তথা উমাইয়ারা দুটো বিষয়কে কেন্দ্র করে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্যে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালায়; (১) জাতিগত ব্যবধান সৃষ্টি যার ভিত্তিতে আরব, অনারবের চেয়ে অগ্রগণ্য বলে বিবেচিত হতো। (২) গোত্রীয় ব্যবধান সৃষ্টি যার ভিত্তিতে সাহাবী আব্দুর রহমান ইবনে আউফের মতো লোকেরা লাখপতি হয় অথচ ফকীররা ফকীরই থেকে যায়।

ইমাম আলী দেহত্যাগ করলে ইমাম হাসান খলীফা হন। কিন্তু মোয়াবিয়ার কুটচালে ইমাম হাসান মুসলিম জাহানের খলিফার পদ থেকে সরে দাঁড়ান সন্ধি চুক্তি করার মাধ্যমে। চুক্তির শর্ত ছিল মোয়াবিয়ার মৃত্যুর পর ইমাম হোসাইন জীবিত থাকলে মুসলিম জাহানের খলিফা হবেন। কিন্তু মৃত্যুর পূর্বে মোয়াবিয়া তার কুপুত্র ইয়াজিদকে পরবর্তী খলিফা মনোনয়ন দিয়ে যান যা ছিল স্পষ্ট মুনাফেকী।

চৌদ্দশ’ বছর আগের ঘটনা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে কি লাভ বলে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে পারি। কারণ, চৌদ্দশ বছর আগের ইতিহাসের ঐ খন্ড অধ্যায়ে ইসলামের মধ্যে যে বিষক্রিয়া সংক্রমিত হয়েছিল তা থেকে মুক্তির আশা সুদূর পরাহত। তাই এ নিয়ে গবেষণা করলে সত্য বের হয়ে আসবে আর আমাদের বর্তমানকে আমরা সত্যের ধারায় প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। উমাইয়াদের ঐ বিষাক্ত চিন্তার উপকরণকে ইসলামের নামে, ইসলামিক চিন্তাধারার সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়। মুহাম্মদী ইসলামের খাঁটি রূপ আমরা দেখতে পারছি না কারন উমাইয়াদের রেখে যাওয়া ভেজাল উপকরণ যা ইসলামের নামে বাজারে প্রচলিত হয়ে গেছে ব্যাপকভাবে। ভেজাল উপকরণের অপসারণ দরকার। আজ আমরা যারা দিবারাত্রি উমাইয়াদের গালি দেই তাদের মধ্যেও উমাইয়া চিন্তাধারা বিদ্যমান। অথচ আমরা তাকে একবারে বিশুদ্ধ ইসলাম বলে মনে করি।

রূপান্তরিত ইয়াজিদ ছিল মূর্খ ও নির্বোধ। ইয়াজিদ বড় হয় মরুভূমিতে রাজকীয় বিলাসিতায়। দুনিয়ার খবরও সে রাখতো না। মোটকথা খলীফা হবার বিন্দুমাত্র যোগ্যতাও তার ছিল না। ওসমানের সরলতার সুযোগে বায়তুলমাল লুণ্ঠিত হয়েছিল, বড় বড় পদগুলো অযোগ্যদের হাতে চলে গিয়েছিল। কিন্তু ইয়াজিদের যুগে এসে ইসলাম আরো বিপর্যস্ত হতে থাকে। দেশ-বিদেশের দূত এসে সরাসরি ইয়াজিদের কাছে যেত। কিন্তু, অবাক হয়ে দেখতো যে, রাসূলুল্লাহর আসনে এমন একজন বসে আছে যার হাতে মদের বোতল, আর পাশে বসিয়ে রেখেছে রেশমী কাপড় পরা বানর। এরপরে ইসলামের ইজ্জত বলতে আর কি-ই-বা থাকতে পারে? ইয়াজিদ ছিল অহংকারী, যৌবনের পাগল, ক্ষমতালোভী এবং মদ্যপ। ইয়াজিদ প্রকাশ্যে সত্যের বিরোধিতায় নামে। অন্য কথায়, এতোদিনের গোপনতার পর্দা ছিন্ন করে ইয়াজিদ উমাইয়াদের আসল চেহারাটা প্রকাশ করে দেয়।

প্রশ্ন আসতে পারে ইমাম হোসাইন কেন ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে গেলেন? এখানে তাহলে একই সাথে এ প্রশ্নও করা উচিত যে, রাসূলুল্লাহ কেন আপোষহীন বিদ্রোহ করেছিলেন কুফরের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, জুলুমের বিরুদ্ধে ? কিংবা, হযরত ইবরাহীম কেন একা হয়েও নমরুদের বিশাল শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছিলেন? আর কেনই বা হযরত মূসা একমাত্র সহযোগী ভ্রাতা হারুনকে নিয়ে ফেরাউনের রাজপ্রাসাদে দাঁড়িয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন?

ইমাম হোসাইন ও উমাইয়া খোদাদ্রোহিতা এবং ইয়াজিদী বিচ্যুতিকে ধূলিসাৎ করে দেবার জন্যেই একবারে অসহায় অবস্থায় পড়েও বিদ্রোহে নামেন। প্রকৃতপক্ষে তার এ পদক্ষেপ ছিল পূর্ববর্তী সকল নবী-রাসূলদেরই অনুকরণ। বুদ্ধিজীবীদের মতে, বিদ্রোহ তখনই মানায় যখন বিদ্রোহীদের অন্ততপক্ষে সমান সাজ-সরঞ্জাম এবং শক্তি থাকে। কিন্তু, ঐশী-পুরুষদের বেলায় আমরা এই যুক্তির কোনো প্রতিফলন দেখি না। বরং তারা সবাই একবারে খালি হাতে তৎকালীন সর্ববৃহৎ শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। ইমাম হোসাইনও এ নিয়মের ব্যতিক্রম নন। তাছাড়া ইমাম হোসাইন যদি সেদিন ইয়াজিদ বাহিনীর সমান এক বাহিনী নিয়ে ময়দানে অবতীর্ণ হতেন তাহলে তার এ অসামান্য বিপ্লব আধ্যাত্মিক দ্যুতি হারিয়ে অতি নিষ্প্রভ হয়ে পড়তো। এই দর্শন প্রতিটি আধ্যাত্মিক বিপ্লবের মধ্যেই বিদ্যমান ছিল।

মানব সমাজে সংঘটিত অজ¯্র বিপ্লবের মধ্যে আধ্যাত্মিক বিপ্লবকে পৃথক মনে করার দুটি মাপকাঠি রয়েছে:

এক . ঐ বিপ্লবের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিচার। অর্থাৎ এসব বিপ্লব মনুষ্যত্বকে উন্নত ও উত্তম করতে, মানবতাকে মুক্তি দিতে, একত্ববাদ ও ন্যায়পরায়ণতাকে রক্ষা করতে এবং জুলুম ও স্বৈরাচারের মূলোৎপাটন করে মজলুমের অধিকার ফিরিয়ে দেবার জন্যেই পরিচালিত হয়। জমি-জায়গা বা পদের লোভে কিংবা গোষ্ঠীগত বা জাতিগত বিদ্বেষের কারণে নয়।

দুই . এসব বিপ্লবের উদ্ভব হয় স্ফুলিঙ্গের মতো। চারদিকে যখন মজলুম-নিপীড়ন এবং অত্যাচার ও স্বৈরাচারের ঘন অন্ধকারে নিমজ্জিত ঠিক সেই মুহূর্তে অন্ধকারের বুক চিরে বারুদের মতো জ্বলে ওঠে এসব বিপ্লব। চরম দুর্দশায় নিমজ্জিত হয়ে মানুষ যখন দিশেহারা হয়ে পড়ে তখন উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো মানুষের ভাগ্যাকাশে আশার দীপ জ্বালিয়ে দেয় এ সমস্ত ঐশী বিপ্লব। এই চরম দুর্দিনে মানবতাকে মুক্তি দেয়ার মতো দূরদর্শিতা একমাত্র ঐশী-পুরুষদেরই থাকে। কিন্তু, সাধারণ মানুষ একবারে হাল ছেড়ে দেয়-এমনকি কেউ প্রতিকারে উদ্যোগী হলেও তারা তাকে সমর্থন করতে চায় না। এ ঘটনা আমরা ইমাম হোসাইনের  বিপ্লবের মধ্যেও প্রত্যক্ষ করি। তিনি যখন ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন তখন সমসাময়িক তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা এটাকে অবাস্তব ব্যাপার বলে মনে করল। এ কারণে তাদের অনেকেই ইমাম হোসাইনের সাথে একাত্মতা প্রকাশে বিরত থাকে। কিন্তু ইমাম হোসাইন ভালভাবে জানতেন যে, এ মুহূর্তে কি ধরনের পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। তাই অন্য কারও সহযোগিতা থাকবে কি-না সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে নবী-রাসূলদের মতো নিজেই আগুনের ফুলকির মতো জ্বলে উঠলেন। হযরত আলী বনী উমাইয়াদের ধূর্তামি সম্পর্কে বলেন :

‘‘তাদের এ ধোঁকাবাজি নিরেট ও অন্ধকারময় প্রতারণা।’’

তাই ইমাম হোসাইন এই অন্ধকার থেকে উম্মতকে মুক্ত করার জন্যে ইতিহাসে বিরল এক অসামান্য ও অবিস্মরণীয় বিপ্লবের পথ বেছে নেন যার চুড়ান্ত ফলাফল কারবালার ময়দানে ইমাম হোসাইন নবী পরিবারের ৭২ জন সদস্যসহ শাহাদাত বরণ।

প্রশ্ন এসে যায়, ইমাম হোসাইন কি এই নির্মম হত্যাকান্ড থেকে নিজেকে ও তাঁর পরিবার পরিজনদের রক্ষা করতে পারতেন না? কেন ইমাম হোসাইন মদিনা ছেড়ে কুফা যেতে চাইলেন? কেনইবা তিনি কারবালা গেলেন ? কেন কুফাবাসীরা তাঁর সাথে প্রতারণা করলো? এখানে কি শুধু ছিল ধর্মীয়-রাজনৈতিক কারণ নাকি আধ্যাত্মিক কারণও রয়েছে তা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। কারবালার ঘটনা থেকে কি শিক্ষা আমরা গ্রহণ করবো তাও গভীরভাবে ভেবে দেখা প্রয়োজন। আজকের দিনে কারবালার স্মৃতিচারণ করে শুধু মাতম কিংবা ওয়াজ নসিহত করে দিবসটিকে উদ্যাপন না করে এর থেকে প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণই হোক সকলের একান্ত চাওয়া। (সমাপ্ত)

লেগে থাকা

শাহ ফাতেমা আফরোজ নাসরিন ॥ প্রেম জগতে সবই আছে। যেখানে প্রাণ আছে, সেখানে প্রেম আছে। আমাদের মধ্যে হিংসা আছে, পরশ্রীকাতরতা আছে, লোভ মোহ সবই আছে। সুতরাং এখানে এগুলো যে থাকবেনা, তা নয়। এখানে স্নেহ মমতা আছে। তারপরও এই জগতে কতগুলো ধাপ আছে। প্রেমকে সংগায়িত করা যায় না। প্রেমকে সংগায়িত করলে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। তারপরও সংগা দেয়া হয়। প্রত্যাশাহীন ভালবাসার নাম প্রেম। এটা একটা স্তর। প্রেমের সংগা নয়। প্রেমের কথা চিন্তা করে লাভ নাই। যার যার স্টেজে আছে সে সেখানে লেগে থাকলেই তার কোন চিন্তার কারণ নেই। যার চিন্তায় যা এসেছে, নিশ্চয়ই তার আগ্রহ থাকছে বলেই বিষয়গুলো চিন্তার মধ্যে আসছে।

তার আকর্ষণ আছে। এখানে বিশাল একটা ব্যাপার আছে তা হলো ব্যাকুলতা। মাঝে মাঝে আমি বলি যে কারও উদ্যম নষ্ট করা পাপ। বাচ্চাদের মধ্যে, নতুনদের মধ্যে অনেক উদ্যম দেখি। আর আমরা যারা পুরাতন নিজেদের দেখে খারাপও লাগে। অজ্ঞতা মানুষকে দমের মধ্যে রাখে। বেশি জেনে ফেললে কিন্তু উদ্যমটা আবার কিছুটা হলেও কমে যায়। কাজেই মানুষের উদ্যমের কথা ভাবতে হলে আগে নিজের কথা ভাবতে হবে। নিজের উদ্যম ধরে রাখতে হবে। আর আমরা যারা পাশাপাশি আছি তাদেরও দায়িত্ব আছে। যারা এগিয়ে যাচ্ছে তাকে আরও এগিয়ে দেয়া। এটা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।  এখানে ধরে রাখার আরও পথ আছে। আমি নিজে থেকে বলি ভাল না লাগলে কোন কাজ করা যায়না। কাজেই ভাললাগার কাজ বেছে নিতে হয়। চিন্তনপীঠে ধ্যানের চলমান একটা সংগা দেয়া হয়েছে। বলা হয় তোমার এখন সেই সময় নাই যে, একটা গাছের তলায় বসে ধ্যান করবে। মানুষ এখন খুবই কর্মমূখর। ব্যস্ততার মধ্যে তার দিন যায়। তুমি যখন যে কাজই কর সে কাজে তুমি ডুবে যাও।  নিমগ্ন হয়ে যাও।

এই নিমগ্নতা তোমার একটা অভ্যাসে পরিণত হবে। কখন তুমি যেখানে থাক না কেন ডুবতে পারবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় নামাজ পড়াকালীন এমন সব চিন্তা মাথায় আসে, যা চিন্তায় আসার কথা নয়।  কেন আসে ? কারণ ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাত্র ১০ মিনিট বা ৫ মিনিট করা হয় কিন্তু যখন আমরা ২৪ ঘন্টা জীবনের অঙ্গ হিসাবে করে নেব তখন আমি যেই কাজই করি আমি নিমগ্ন হবো।

এই নিমগ্নতাই আমাদের লেগে থাকার অভ্যাস তৈরি করবে। আরেক বিষয় তা হলো – লেগে থাকা হলো নিজের সাথে নিজের লেগে থাকা।  নিজের ভিতরে ডুবার অনুশীলনটা করতে হবে। দুই অবশ্যই থাকবে। গুরু মুর্শিদ বাহিরে অন্তরে দুইভাবেই থাকবেন। তাঁর দুই রূপ। একটা অতি মানবীয় রূপ। আরেকটা হলো সীমাহীন রূপ আছে। সেটা প্রত্যেকেই রাখতে পারে নিজের মধ্যে। দেহভ্রমন বলে একটা কথা আছে। সাধনার জগতে। নিজের ভিতরে ভ্রমনের অনুশীলন করতে হবে।  যে আমি নিজের মধ্যে ঢুকবো। পা থেকে মাথা পর্যন্ত যে অনুভূতি আছে সেই অনুভূতি দিয়ে কিভাবে অখন্ড কে রাখা যায় সেটা ভাবতে হবে। একটা জায়গায় যেখানে আমি নিমগ্ন, একটা জায়গায় আমি ধরলাম কপালের একটা জায়গায় একটা বিন্দুতে আমি নিমগ্ন হলাম। একটা বিন্দুর স্পর্শতে আমি নিমগ্ন হতে পারি। একটা বিন্দু দিয়েই জগত সংসার গঠিত। কাজেই চিন্তাকে যখন একটা জায়গায় নিবদ্ধ করা যায় তখন দেহের মধ্যে অখন্ডবোধ আসে। এই অখন্ডবোধ কিন্তু লেগে থাকার বিষয়।

আরেকটা পদ্ধতি আছে। অপ্রয়োজনীয় কর্ম কমিয়ে আনা। কারণ মানুষ যখন অনাহত কর্মের মধ্যে ডুবে থাকে।  আরেকটা পদ্ধতি আছে। গুরুকেন্দ্রিক জীবনে কোন সময় পাওয়া যায় না। সেখানে কর্ম কমানোর কোন সুযোগ নেই। গুরু যখন সারাক্ষণ আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে বিভিন্ন কর্মে লাগিয়ে রাখেন আমাদের সেই কর্মের মধ্যে যারা ডুবে গেছেন তাদের চিন্তার কোন কারণ নাই। বর্তমান সংলাপ একটা আমার মনে থাকে। কর্মী রাজা হবে, অলস চিরদিন প্রজা থাকবে। আরেকটা বাণী – ‘কর্মদক্ষতাই মানুষের পরম বন্ধু’। সুতরাং আপনারা কর্মী যেহেতু  প্রত্যেকটা মুহুর্ত আসে সুযোগ তৈরি করে দেয়ার। মুর্শিদ এই সুযোগ সৃষ্টি করেন। সেই সুযোগগুলো আমাদের ধরতে হবে যোগ করার জন্য। আর চিন্তায় এটা থাকবে সেতো খুঁজবে এটা সারাক্ষণ। যার ভিতরে ব্যাকুলতা সৃষ্টি হবে। যার ভিতরে ব্যাকুলতা সৃষ্টি হয়েছে তার চিন্তার কোন কারণ নাই। ব্যাকুলতা যার আছে ২৪ ঘন্টা সে পথ খুঁজতেই থাকবে।

ভালবাসার বস্তু চিন্তা থেকে সরেনা। কাজেই যে কর্ম ভাললাগে বা না লাগে সেখানে ভাল লাগাতে হয়। এটাও অনুশীলনের ব্যাপার। যারা আদেশ উপদেশ নিষেধের মধ্যে আছে, সেটাও লেগে থাকার একটা পথ। বহু পথ আছে লেগে থাকার। যাতে কোনভাবেই ছেদ না পড়ে। সবপথগুলি ধরবো। সব পথগুলি যে ধরবে তার তো কোন চিন্তা নেই। আর সবচেয়ে নিজের মধ্যে যে ডুবে আছে সেতো লেগেই আছে। নিজের মধ্যে যে ডুবে আছে বাহিরের টান যাকে টানে না। দেখবেন ডুবতে গেলে আপনাকে বাহিরে টানছে। একটা সময় আপনাকে টানবে না। বাহির একটা মানুষকে সুতার মত টানতে থাকে। কাজেই নিজের মধ্যে ডুবার অনুশীলন করতে হবে। এক গুরুর কর্মকান্ডেই যখন আপনারা আছেন তখন আর কোন চিন্তার কারণ নাই। এই কর্মকান্ডের মধ্যে ভাললাগার সৃষ্টি করবেন। উচ্চাকাংখ্যা যাদের আছে তাদের বলতে হয়না।

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর একটা বাণী আছে- “তারা ইসলামের আলোকে দেখিতে পায় নাই, যারা আল্লাহর জন্য লালায়িত নন”। লালায়িত বিষয় এখানে ইতিবাচক। আল্লাহর জন্য যারা পাগল তারা আলো দেখতে পাবে। ইসলামের আলো মানে কি ? শান্তির আলো। গুরুই আলো। তিনিই ঐ পথে নিয়ে যাবেন। এই পথ পাওয়ার জন্য যে পাগল তার ভিতরে আলো বিচ্ছুরিত হয়। আর অলসতা এই পথের প্রতিবন্ধকতা। কাজেই নিজেকে যত কর্মময় করা যায়। তৎপর করে তোলা যায়। নিজেকে যেমন একা রাখা দরকার নিজের জন্য তেমনি  মানুষ সমাজের জন্য করে। এজন্য সমাজের জন্যই করণীয় যা তা করা দরকার। এখানে বাস করতে হলে তৎপর থাকতে হবে। এটুকু যার থাকেনা তার কোন পথ থাকে না। মানুষকে সম্মান করা, শ্রদ্ধা করা, মানুষকে গুরুত্ব দেয়া বিশাল ব্যাপার। বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন আছে। একঘেয়ে জীবনও ভালনা। নিজেকে কর্মতৎপর করার জন্য প্রচেষ্টায় থাকতে হয়।

ইমাম হুসাইনকে হত্যার জন্য দরবারি আলেমের ফতোয়া!

সংলাপ ॥ ১৩৭৯ বছর আগে ৬১ হিজরির ৪ মহররম কুফায় নিযুক্ত ইয়াজিদের নরপিচাশ গভর্নর ইবনে জিয়াদ ‘কাজি শুরাইহ’ নামের এক দরবারি আলেম ও প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে নেয়া ফতোয়ার ভিত্তিতে হযরত ইমাম হুসাইন-কে হত্যার জন্য জনগণকে উস্কানি দিয়েছে। কুফার মসজিদে ইবনে জিয়াদ ওই ফতোয়া শুনিয়ে একদল মানুষকে ইমামের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে। ইবনে জিয়াদ কুফার মসজিদে সমবেত জনগণকে এই বলে হুমকি দেয় যে, তাদেরকে হয় ইমাম হুসাইনের বিরুদ্ধে সেনা-সমাবেশ ঘটাতে হবে অথবা মৃত্যু-বরণ-এ দু’য়ের যে কোনো একটি পথ বেছে নিতে হবে! তারা যদি হুসাইন’র বিপক্ষে যুদ্ধ করে তবে তাদের পুরস্কার দেয়া হবে বলেও জিয়াদ ঘোষণা দেয়।

ইবনে জিয়াদের নির্দেশে তৈরি করা কাজি শুরাইহ’র ওই ফতোয়ায় বলা হয়েছিল-হযরত ইমাম হুসাইন তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের তথাকথিত খলিফা ও ‘আমিরুল মুমিনিন’ ইয়াজিদের আনুগত্য করেননি, তাই তাকে দমন করা তথা তার রক্তপাত ঘটানো মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব।

কুফার ১৩ হাজার বিভ্রান্ত মুসলমান ইমাম হুসাইন’র বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ওমর সাদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়। এদের মধ্যে শিমার বিন জিল জুশান ছিল ওই ১৩ হাজার সেনার চারজন দলনেতার অন্যতম।

হযরত ইমাম হুসাইনর নেতৃত্বে কারবালার মহাবিপ্লব খোদাদ্রোহী ও মুনাফিক চরিত্রের অধিকারী উমাইয়া শাসকদের স্বরূপ উন্মোচন করেছিল। ইসলামের নামে ধর্মান্ধতা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ চালু করেছিল ইয়াজিদি শাসক গোষ্ঠী। উমাইয়াদের রাজতান্ত্রিক ইসলামে বসেছিল দরবারি আলেমদের মেলা। লাখ লাখ জাল হাদিস প্রচার করে ইসলাম সম্পর্কে ধ্রুম্রজাল ও বিভ্রান্তি জোরদার করা হয়েছিল সে সময়। ইসলামের খাঁটি নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা ও ভন্ড প্রকৃতির নেতাদের মাহাত্ম্য প্রচার করা ছিল তাদের স্বভাব।

উমাইয়া রাজশক্তির পক্ষ থেকে ইমাম হুসাইন ও তার মহান সঙ্গীদেরকে ‘ইসলামী হুকুমাতের’ বিরুদ্ধে বিদ্রোহী বলে প্রচার করা হয়েছিল। তাই ঐতিহাসিক বর্ণনায় দেখা গেছে, হযরত ইমাম হুসাইন-কে হত্যার জন্য উদ্যত সেনাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল নামাজি। তারা বলছিল-তাড়াতাড়ি হুসাইনের মাথা কাট, নামাজ বা জামায়াতে নামাজ আদায়ের সময় পার হয়ে যাচ্ছে!

এরা একবারও হয়তো চিন্তা করেনি যে, রাসূল’র আহলে বাইতের একজন মহান সদস্যকে তারা হত্যা করতে এসেছে! আর আহলে বাইত’র ওপর দরুদ পেশ করা ছাড়া নামাজ আদায় হয় না।

উল্লেখ্য জাহেলি যুগেও আরব মুশরিক ও কাফিররা পবিত্র মহররম মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ করত না। কিন্তু উমাইয়া শাসনামলে মুসলমান নামধারী শাসকরা এতটাই হীন ও নীচ হয়ে পড়েছিল যে, তারা রাসূলের নাতি ও তার পরিবারকে এই নিষিদ্ধ বা পবিত্র মাসেই নৃশংসভাবে শহীদ করতে কুণ্ঠিত হয়নি।

বাংলার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সে যুগের উমাইয়া শাসকদের প্রকৃতি তুলে ধরেছিলেন এভাবে:

ওরে বাংলার মুসলিম তোরা কাঁদ্। তখতের লোভে এসেছে এজিদ কমবখতের বেশে !

এসেছে সীমার, এসেছে কুফা’র বিশ্বসঘাতকতা, ত্যাগের ধর্মে এসেছে লোভের প্রবল নির্মমতা !

মুসলিমে মুসলিমে আনিয়াছে বিদ্বেষের বিষাদ, …কাঁদে আসমান জমিন, কাঁদিছে মোহররমের চাঁদ।

একদিকে মাতা ফাতেমার বীর দুলাল হোসেনী সেনা,আর দিকে যত তখত-বিলাসী লোভী এজিদের কেনা।..

এই ধূর্ত ও ভোগীরাই তলোয়ারে বেঁধে কোরআন, আলী’র সেনারে করেছে সদাই বিব্রত পেরেশান!

এই এজিদের সেনাদল শয়তানের প্ররোচনায় হাসানে হোসেনে গালি দিতে যেত মক্কা ও মদিনায়।

প্রবাহ

জাতিসংঘে একই দিনে বক্তৃতা করবেন মোদী-ইমরান

modi imran

একই দিনে, কিছুটা সময়ের ব্যবধানে, জাতিসংঘের সাধারণ সভায় বক্তৃতা করতে উঠবেন নরেন্দ্র মোদী এবং ইমরান খান। কাশ্মীর নিয়ে গত এক মাস ধরে চলা কূটনৈতিক টানাপড়েন এবং বাক্-যুদ্ধের মধ্যে এই ‘সম্মুখসমর’ কৌতূহলের কেন্দ্রে আসতে চলেছে এ মাসের শেষে।

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ সভায় প্রথমে ভাষণ দেবেন মোদী। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বনেতাদের সামনে এই প্রথম মোদীর ভাষণ। মোদীর পরেই বক্তব্য রাখবেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। যদিও কোনও কোনও সূত্রের দাবি, নরেন্দ্র মোদী না ইমরান খান-কে আগে ভাষণ দেবেন, তা এখনও স্থির করা হয়নি। তবে গত মাসের গোড়ায় জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খর্ব করার পর এই প্রথম জাতিসংঘের মঞ্চে এই দুই নেতা। স্বাভাবিক ভাবেই এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

কাশ্মীর ইস্যুতে এক দিকে মোদী যেমন আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করেছেন। অন্য দিকে, ইমরান খানও এ নিয়ে সরব হয়েছেন। এই ইস্যুতে গত এক মাসে বার বারই আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারেননি। এমনকি, নিজেকে কাশ্মীরিদের ‘প্রতিনিধি’ হিসাবে আখ্যা দিয়ে বিশ্বের দরবারে উপত্যকার মানুষদের কথা তুলে ধরবেন বলেও আগেই মন্তব্য করেছিলেন ইমরান। ওই সভার আগে ইতিমধ্যেই তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপুঞ্জে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলবেন তিনি। অন্য দিকে, কাশ্মীর প্রসঙ্গে ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সমর্থন পেয়েছে ভারত। এবং এটি যে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তা বার বারই বুঝিয়ে দিয়েছে মোদী সরকার। ফলে সে দিনের সাধারণ সভায় ভারত-পাক, দু’দেশই যে কাশ্মীর প্রসঙ্গে নিজেদের পক্ষ সমর্থনে জোরাল সওয়াল করবে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।

গ্রীষ্মের দাবদাহে ফ্রান্সে দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে

ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যা’নিস বু্যঁজো বলেছেন, এবারের গ্রীষ্মে দুই দাবদাহে দেশটির দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

তিনি গত সপ্তাহের রোববার বলেছেন, অবশ্য ফ্রান্সে ২০০৩ সালের গ্রীষ্মের দাবদাহের ফলে যত মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল তার তুলনায় এবারের দাবদাহে বেশ কম সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কারণেই তা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।

চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে গরমের তীব্র দুই দাবদাহ আঘাত হেনেছিল। এ সময় তাপমাত্রা বেড়ে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল এবং চলতি বছরের চেয়ে দশগুণ বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ২০০৩ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ও দেশটির কেন্দ্রীয় অঞ্চলে দাবদাহ বিশ দিন ধরে চলেছিল। দেশটিতে এবারের দাবদাহ ১৮ দিন স্থায়ী হয়েছে।

আসামে ‘রাষ্ট্রহীন’দের হাতেই নির্মিত হচ্ছে তাদের আটক কেন্দ্র!

ashame rastrohin

আসামে কথিত ‘অবৈধ অভিবাসী’দের জন্য নির্মাণাধীন একটি আটক কেন্দ্রের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের একটা বড় অংশই বাদ পড়েছেন এনআরসি তালিকা থেকে। এই শ্রমিকেরা জানেন, নিজেদের জন্যই তারা আটক কেন্দ্র বানাচ্ছেন। তবুও তাদের উপায় নেই। জীবিকার স্বার্থে এই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর এক অনুসন্ধানে এই তথ্য উঠে এসেছে।

গত ৩১ আগস্ট শনিবার স্থানীয় সময় সকাল দশটায় অনলাইনে ও এনআরসি সেবাকেন্দ্রে প্রকাশিত হয় আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি)। সে সময় এক বিবৃতিতে এনআরসি কর্তৃপক্ষ জানায়, চূড়ান্ত তালিকায় মোট আবেদনকারীদের মধ্যে ৩ কোটি ৩০ লাখের মধ্যে নাগরিক হিসেবে স্থান পেয়েছেন ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জন। তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষ। বাদ পড়া বাসিন্দারা ১২০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ পাবেন। তবে এই আপিলে নাগরিকত প্রমাণ করতে না পারলে তারা সেখানকার অবৈধ অভিবাসী বলে বিবেচিত হবেন। তখন তাদের প্রাথমিক জায়গা হবে আটককেন্দ্রে। এ নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যেই এ ডিটেনশন ক্যাম্প বা আটক কেন্দ্রগুলো বানানো হচ্ছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, আসামের গোয়ালপাড়া শহরের কাছে নদী তীরবর্তী দুর্গম এক এলাকায় ভারতে প্রথমবারের মতো গণআটক কেন্দ্রগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘন জঙ্গল কেটে প্রায় সাতটি ফুটবল মাঠের সমান জমি প্রস্তুত করে ‘অবৈধ অধিবাসীদের’ জন্য ভবনগুলো নির্মিত হচ্ছে। আটক কেন্দ্র নির্মাণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন এনআরসি থেকে বাদ পড়া অনেকেই। তারা বলছেন, অর্থের জন্য বাধ্য হয়েই তারা এ ক্যাম্প বানাতে শ্রম দিচ্ছেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, আসামের এ ডিটেনশন ক্যাম্পের আশপাশে স্কুল, হাসপাতাল, বিনোদনের স্থান, নিরাপত্তারক্ষীদের বাসভবনের পাশাপাশি উঁচু সীমানা দেয়াল এবং ওয়াচ টাওয়ার থাকবে। ক্যাম্পগুলো নির্মাণের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ও ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে এবং ক্যাম্পগুলোর লেআউট পর্যবেক্ষণ করে এসব তথ্য জানতে সক্ষম হয়েছে রয়টার্স। ক্যাম্প নির্মাণে জড়িত শ্রমিকদের অনেকেই জানান, আসামে অবৈধ অধিবাসী চিহ্নিত করতে গত সপ্তাহে যে চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশিত হয়েছে, তাতে তাদের নাম নেই। তারা জানেন, ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোতে শেষ পর্যন্ত তাদেরও স্থান হতে পারে। তবুও কাজ না করে উপায় নেই তাদের।

শ্রমিকদের একজন শেফালি হাজং। নির্মাণস্থলের কাছাকাছি একটি গ্রাম তার আবাস। হাড্ডি-চর্মসার এ আদিবাসী নারীরও নাম ওঠেনি চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জিতে। আরও প্রায় ২০ লাখ মানুষের মতোই তাকে এখন জন্মসনদ কিংবা জমির মালিকানা সনদের মত নাগরিকত্বের প্রমাণ স্বরূপ কাগজপত্র দাখিল করতে হবে; ব্যর্থ হলে নিজের হাতে বানানো ক্যাম্পগুলোর মতো কোনও একটি ক্যাম্পে বন্দি হতে পারেন তিনি।

ভারত সরকারের দাবি, আসামে প্রতিবেশী মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ থেকে আসা লাখ লাখ অবৈধ অধিবাসী বসবাস করছে। তবে ঢাকার দাবি অনুযায়ী, ভারতে কোনও বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী নেই। ভারত কাউকে অবৈধ অধিবাসী ঘোষণা করলে তাকে বাংলাদেশে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ঢাকা। এমন পরিস্থিতির কারণে চিন্তিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন আদিবাসী হাজং গোত্রের শেফালি। ‘কিন্তু আমার তো পেট চালাতে হবে,’ কংক্রিট মিক্সচারে পাথর ঢালতে ঢালতে স্থানীয় অহমীয়া উচ্চারণে বলেন এ নারী। অন্যান্য শ্রমিকদের মতো তিনিও ক্যাম্প বানানোর কাজে প্রতিদিন প্রায় চার ডলারের কাছাকাছি আয় করেন; তুলনামূলক দরিদ্র এলাকা হওয়ায় এ আয়কেই যথেষ্ট মনে করছেন অধিকাংশ শ্রমিক।

সঠিক জন্ম তারিখ না জানা শেফালির ধারণা তার বয়স ২৬ এর কাছাকাছি। গত সপ্তাহে প্রকাশিত নাগরিকপঞ্জিতে কেন নাম নেই তাও বলতে পারছেন না তিনি। ‘আমাদের কোনো জন্মসনদ নেই,’ বলেছেন শেফালির মা মালতি হাজং। তিনি নিজেও ক্যাম্পটির নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।

পাকিস্তানকে ছাড়াই নতুন দক্ষিণ এশীয়

জোট গঠনের উদ্যোগ ভারতের

4658b2702d824340c266ca3c200ad830-5d74d3b3099ca

পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে নতুন দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দিল্লি। রবিবার টাইমস অব ইন্ডিয়া এখবর জানিয়েছে। প্রস্তাবিত এই অর্থনৈতিক জোটের নাম হবে সাউথ এশিয়া সাব-রিজিওনাল ইকোনোমিক কো-অপারেশন বা সাসেক।

খবরে বলা হয়েছে, পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিকবিরোধ চরমে পৌঁছানো এবং সার্কের ধীর অগ্রগতির কারণে ভারতীয় নীতি নির্ধারকরা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মতো দ্রুত বর্ধনশীল দক্ষিণ এশীয় দেশগুলিকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগুনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সাব-রিজিওনাল জোটের সদস্য রাষ্ট্র মিয়ানমার, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ ও ভারতের অর্থমন্ত্রীরা নয়াদিল্লিতে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসবেন। জোটটির নীতি ও কৌশল নির্ধারণ করতে আগামী বসন্তে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর প্রেসিডেন্ট তাকেহিকো নাকাও বলেন, ‘ভারত মিয়ানমার, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ নিয়ে গঠিত এই জোট সাসেকের ব্যাপারে ভারত অত্যন্ত আগ্রহী। আঞ্চলিক একত্রীকরণ ও সহযোগিতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ খুব ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

২০১১ সালে সাসেক গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ওই সময় বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সহযোগিতা গভীর করতে সম্মত হয়। মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা ২০১৪ সালে অন্তর্ভুক্ত হয় আর ২০১৭ সালে মিয়ানমার এতে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৭ সালে সাসেক অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রীরা জোট গঠনের উদ্যোগ এগিয়ে নেয়ার জন্য আলোচনা করেন। কিন্তু এরপর অগ্রগতি খুব সামান্য। কিন্তু এখন ভারতের উদ্যোগের কারণে আঞ্চলিক জোটটি স্পষ্ট রূপরেখা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন বইয়ের সঙ্গে স্কুলড্রেসের টাকাও পাবে শিক্ষার্থীরা

bg22220190907193638

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, আগামী বছরের শুরুতেই সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বইয়ের পাশাপাশি স্কুলড্রেসের জন্য দেয়া হবে দুই হাজার টাকা। গত সপ্তাহের শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্বপ্নকুঁড়ি সম্মেলন কক্ষে কুড়িগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়গুলোকে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি আকর্ষণীয় করে সাজানো হচ্ছে ক্লাসরুম। আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিতে সরকারের এতসব আয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। তাই মেধাবী জাতি গঠনে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কারণ আজকের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২০৪১ সালে যুবক হবে। যারা নেতৃত্ব দেবে উন্নত রাষ্ট্রের।

জাকির হোসেন বলেন, সরকারের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে যারা দুর্নীতি করছেন, তারা কেউ মাফ পাবেন না। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। মনে রাখবেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন – প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বদরুল হাসান বাবুল, রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক আব্দুল ওহাব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব নীলু, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, তৌফিকুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক, লস্কর আলী প্রমুখ।

সভায় জেলার সব উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা ইন্সট্রাক্টর, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পিটিআই সুপারসহ প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সব কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনকালে জাকির হোসেন বলেন, আনন্দপূর্ণ পাঠদান কার্যক্রম চালু করার লক্ষ্যে পরীক্ষামূলক চারটি স্কুল বাছাই করা হয়েছে। স্কুলগুলো হলো – কুড়িগ্রাম পৌরসভার এক নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রৌমারী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নেত্রকোনার ৩৬ নম্বর বালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাগুরা জেলার হাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সফলতা পেলে সব বিদ্যালয়ে একইসময় সূচি চালু করা হবে।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ৩০ মিনিটের বিশ্রামের সময় পাবেন। প্রতিক্লাস শেষে ১৫ মিনিটের বিশ্রামের সময় খেলার ছলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় দিবস পালনের জন্য সরকার এ প্রথম (১৫ আগস্ট উপলক্ষে) সব বিদ্যালয়কে অনুষ্ঠান বাবদ দুই হাজার টাকা করে দিয়েছে। আগামী বছর থেকে এ টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পিডিইপি প্রকল্পের আওতায় দেশের তিন ও ছয় ক্লাসরুমের স্কুলগুলোকে পর্যায়ক্রমে নয় ক্লাসরুমের স্কুলে পরিণত করা হবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। এরপর ২৮ বছর প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৩ সালে একসঙ্গে ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন ‘আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার মান হবে পৃথিবীতে রোলমডেল’। আর এজন্য তিনি সব শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সকলকে অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা বেশি কাজ করার আহ্বান জানান। কারণ স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের রক্তের ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে।

পাকিস্তানের আচরণের ওপর নির্ভর করছে কাশ্মিরের ভবিষ্যৎ : ভারত

কাশ্মিরে ভারত সরকার আরোপিত যোগাযোগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি পুরোপুরিভাবে পাকিস্তানের ওপর নির্ভর করছে বলে দাবি করেছে দিল্লি। গত সপ্তাহের শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল দাবি করেন, সীমান্তের ওপার থেকে উসকানি বন্ধ হলেই উপত্যকায় আর বিধিনিষেধের প্রয়োজন থাকবে না।

৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ঘোষণার মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে পাস হয় একটি বিলও। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার বিপুলসংখ্যক স্বাধীনতাপন্থী ও ভারতপন্থী রাজনৈতিক নেতাকে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ঘোষণার পর শনিবার প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অজিত দোভাল। কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করতে। তবে তা নির্ভর করছে পাকিস্তানের আচরণের ওপর। উপত্যকাকে অশান্ত করতে তারা প্রতিনিয়ত উসকানি দিয়ে চলেছে।’

কাশ্মিরে ৩৭০ ধারা রদ ও রাজ্যটিকে দু’টি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত করার কথা ঘোষণা করেছে মোদি সরকার। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা দেখিয়েছেন তিনি। বলেন, ‘যা অনুমান করেছিলাম কাশ্মিরের অবস্থা তার থেকে অনেক ভালো। আমি সেখানে দু’সপ্তাহ ধরে থেকে বুঝেছি উপত্যকার বেশিরভাগ মানুষই ৩৭০ ধারা রদের পক্ষে।’

একদিকে যখন ভূস্বর্গে শান্তির কথা বলছেন দোভাল, তখন জম্মু-কাশ্মিরে বন্দি করা হয়েছে দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীসহ বহু রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে। কেন এই বিপরীতধর্মী আচরণ সে ব্যাপারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘অঞ্চলকে শান্ত রাখতেই এই পদক্ষেপ। তাদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মিরে রাজনৈতিক কার্যকলাপ চললে তার সুযোগ নিতে পারে জঙ্গিরা। তবে, কবে তাদের মুক্ত করা হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য প্রশাসনই।’

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশের নারীরা

womwns20190907214557

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ফাইনালে থাইল্যান্ডকে ৭০ রানের ব্যবধানে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল। বাংলাদেশের নারীদের ১৩০ রানের জবাবে ৬০ রানেই শেষ হয় থাই নারীদের ইনিংস।

বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া ১৩১ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে টাইগ্রেস বোলারদের একের একের এক আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে থাই ব্যাটাররা। ১৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলা থাই নারীরা আসা-যাওয়ার মিছিল করেছেন যেন। দুই অঙ্কের দেখা পেয়েছেন মাত্র ২ ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করেও আইরশদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬০ রানে।

বল হাতে টাইগ্রেসদের নাহিদা আক্তার ও শায়লা শারমিন নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। আর ১টি করে উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন সালমা খাতুন ও খাজিদা তুল কুবরা। এর মধ্যে সালমা খাতুন ৪ ওভারে ২ মেডেনসহ খরচ করেছেন মাত্র ৪ রান। ২ ওভারে ৩ রান খরচ করেছেন জাহানারা আলম।

গত শনিবার (০৭ সেপ্টেম্বর) টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয় বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটাও হয় দুর্দান্ত। ওপেনিং জুটিতেই ৬৮ রান তুলে ফেলেন সানজিদা ইসলাম ও মুর্শিদা খাতুন। ৩৪ বলে ৩৩ রান করে মুর্শিদা বিদায় নিলেও লম্বা ইনিংস খেলেন সানজিদা। তার ৭১ রানের ইনিংসটিই বাংলাদেশের ইনিংসের প্রাণ। ওপেনিং জুটি ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের দেখাও পাননি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার আইরিশ নারীদের ৪ উইকেটে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল আসরের টিকিট কেটেছে টাইগ্রেসরা। ফাইনালে হেরে গেলেও টাইগ্রেসদের সঙ্গী হয়েছে থাইল্যান্ডও।

পরমাণু উন্নয়নে আরেক ধাপ ইরানের

image-218444-1567912280

পরমাণু কর্মসূচির উন্নয়নে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল ইরান। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ আরও গতিশীল করতে উন্নত ও দ্রুতগতির অত্যাধুনিক সেন্ট্রিফিউজের ব্যবহার শুরু করেছে দেশটি। এই মুহূর্তে এ ধরনের ৪০টি সেন্ট্রিফিউজ চালু রয়েছে বলে গত সপ্তাহের শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা ‘অ্যাটমিক এনার্জি অর্গানাইজেশন’র মুখপাত্র বেহরুজ কামালবান্দি।

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সাধারণত পরমাণু চুল্লিতে (রিঅ্যাক্টর ফুয়েল) জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে। অধিক সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পরমাণু বোমা বানাতেও ব্যবহার হয়।

২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির প্রতিশ্রুতি থেকে আংশিক সরে আসার অংশ হিসেবে তৃতীয়বারের মতো এ পদক্ষেপ নিল তেহরান।

তবে পরমাণু কেন্দ্র তদারকিতে জাতিসংঘ পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার আগের মতোই থাকবে বলে জানিয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে নতুন এ পদক্ষেপের খবরে তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার বলেছেন, তেহরানের এমন ঘোষণায় মোটেই অবাক হননি তিনি। গত সপ্তাহের শনিবার প্যারিসে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইরান সব সময় যেটা চেয়ে আসছে সেটাই তারা করতে যাচ্ছে। এটাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

এদিকে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি থেকে একটি বিদেশি তেল ট্যাংকার আটক করেছে ইরান। সেই সঙ্গে ট্যাংকারের ১২ জন নাবিককেও হেফাজতে নিয়েছে। দেশটির কোস্টগার্ড বাহিনীর বরাত দিয়ে ইসনা নিউজ জানিয়েছে, ট্যাংকারটিতে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৯০০ লিটার পেট্রল রয়েছে; যার বাজার দর প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন রিয়াল। তবে ট্যাংকারটি কোন দেশের তা জানাননি কর্মকর্তারা। এর আগে পহেলা জুলাই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ৩০০ কেজির নির্দিষ্ট সীমা ছাড়ানোর কথা জানায় তেহরান।

এক সপ্তাহ পরই কর্মকর্তারা জানান, ইউরেনিয়াম মজুদের নির্দিষ্ট মাত্রা ৩.৬৭ ভাগ ছাড়িয়ে গেছে। তৃতীয় ধাপের মতো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ গতিশীল করতে সেন্ট্রিফিউজ উন্নত করার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। বুধবার টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, শুক্রবার থেকে আমরা বিভিন্ন সেন্ট্রিফিউজের গবেষণা ও উন্নয়নের কাজ করব।

উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ সৌদির

image-218196-1567837527

ভারত অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে ইসলামাবাদ-দিল্লির উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে সৌদি আরব। পাক-সৌদির পরবর্তী সবোর্চ্চ সমন্বয় পরিষদের বৈঠকে এ বিনিয়োগ করা হবে বলে দেশটির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। সৌদি আরবের জ্বালানি উপমন্ত্রী খালিদ সালেহ আল-মোদাইফার এক মতবিনিময় সভায় বলেন, প্রস্তাবিত মেগা প্রকল্পগুলো জটিল এবং সময় ও অধ্যয়ন প্রয়োজন; তবে আমাদের নেতারা সে কাজকে ত্বরান্বিত করতে চান।

সালেহ আল-মোদাইফার ফেব্রুয়ারিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সফরের সময় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিষয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সৌদি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

উপমন্ত্রী বলেন, সবোর্চ্চ সমন্বয় পরিষদের বৈঠকের আগে বাস্তব ফলাফল দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পাকিস্তানে পেট্রোকেমিকেল কমপেক্স, নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প এবং খনিজ সম্পদের ওপর ২০ বিলিয়ন ডলার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। আর এসব প্রকল্প হবে বেলুচিস্তানে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কাশ্মীর সংকটের ঠিক এমন সময় সৌদি আরবের বিনিয়োগের বিষয়টি পাকিস্তানের জন্য সবুজ সংকেত।

জাপানে আঘাত হানতে যাচ্ছে শক্তিশালী টাইফুন ফ্যাক্সাই

japane aghat

জাপানের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে ‘ফ্যাক্সাই’ নামের এক শক্তিশালী টাইফুন। স্থানীয় সময় রবিবার মাঝরাতে এটি আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা আশঙ্কা করছে, এ ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং রবিবার সারারাত ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

টাইফুন ফ্যাক্সাই’র নামকরণ করা হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওসের এক নারীর নাম অনুসারে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাতাসের গতি ও বৃষ্টির পরিমাণ আকস্মিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। সমুদ্রে ঝড়টি তীব্র হতে পারে।

রাজধানী টোকিও ও এর আশপাশের এলাকায় বায়ুপ্রবাহের পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া সংস্থা। এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে তারা।

জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে সতর্ক করেছে, এই উচ্চ গতির বায়ুপ্রবাহের ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।

স্বাধীন জিম্বাবুয়ের প্রথম নেতা মুগাবে আর নেই

image-218121-1567811483

জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমারসন দাম্বুডজো এক টুইটার পোস্টে মুগাবের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। মুগাবের বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

প্রেসিডেন্ট এমারসন দাম্বুডজো তার টুইটার পোস্টে লিখেছেন, ‘খুব দুঃখের সঙ্গে আমাকে এই ঘোষণা দিতে হচ্ছে যে, জিম্বাবুয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতির পিতা এবং প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে আর নেই। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার প্রতীক এবং মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য সারাজীবন কাজ করে গেছেন।’

রবার্ট মুগাবের মৃত্যুর খবরটি প্রথম জানায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিম্বাবুয়ে লাইভ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি। শুক্রবার সিঙ্গাপুর হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মুগাবের ভাইয়ের ছেলেও তা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

রবার্ট মুগাবে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে মোট ৩৭ বছর ছিলেন জিম্বাবুয়ের সরকার প্রধান। এরমধ্যে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং ১৯৮৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

শ্বেতাঙ্গ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতার মর্যাদা পেয়েছিলেন রবার্ট মুগাবে। ১৯৬০ এর দশকে মুগাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান ন্যাশনাল ইউনিয়নের (জানু) মহাসচিব ছিলেন তিনি। তার দল সংখ্যালঘিষ্ঠ শ্বেতাঙ্গ শাসক ইয়ান স্মিথের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

১৯৬৪ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত দশ বছরের অধিক সময় তাকে রোডেশিয়ার কারাগারে রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে অবস্থান করতে হয়। এডগার তেকেরের সঙ্গে ১৯৭৫ সালে মুক্তি পেয়ে রোডেশিয়া ত্যাগ করেন। মোজাম্বিকে অবস্থান করে জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা সংগ্রাম বা রোডেশিয়ান বুশ ওয়ারে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭৯ সালে শেষ হওয়া ওই যুদ্ধে মুগাবে অনেক আফ্রিকাবাসীর মন জয় করে বীরের মর্যাদায় অভিষিক্ত হন। ১৯৮০ সালের সাধারণ নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানরা ব্যাপক সংখ্যায় অংশগ্রহণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এতে মুগাবে জিম্বাবুয়ের ইতিহাসে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হন।

জিম্বাবুয়ে ১৯৮০ সালে স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই রবার্ট মুগাবে ক্ষমতায় ছিলেন। প্রায় চার দশক (৩৭ বছর) শাসনের পর তিনি সামরিক অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করেন। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার জ্যাকব মুডেন্ডার কাছে ২১ নভেম্বর ২০১৭ পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

৪০ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ফোন নম্বর ফাঁস

facebook2

এবার অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের ফোন নম্বর ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠল ফেসবুকের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সময় বুধবার টেকক্রাশ নামে একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ফেসবুকের যে ৪০ কোটি বা ৪১৯ মিলিয়ন ইউজারের ফোন নম্বর ইউজার আইডি-র সঙ্গে সংযুক্ত করা ছিল, সেই নম্বর ফাঁস হয়ে গিয়েছে। ফেসবুক ইউজারের ফোন নম্বর ফাঁস হয়ে গেলে স্প্যাম কল, সিম সোয়্যাপিং-এর মতো ঘটনা ঘটতে পারে। ওই ইউজারদের ডেটাবেস বা তথ্য যে সার্ভারে স্টোর করা ছিল সেটা ফাঁস হয়ে যায়। সেই সার্ভারে ১৩৩ মিলিয়ন মার্কিন অ্যাকাউন্ট, কমপক্ষে ৫০

মিলিয়ন ভিয়েৎনাম অ্যাকাউন্ট, ১৮ মিলিয়ন ব্রিটেনের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ডেটাবেসে আছে ইউজারদের আইডি বা অ্যাকাউন্টের নিজস্ব সংখ্যা, প্রোফাইলের ফোন নম্বর, কয়েকটি অ্যাকাউন্টের লিঙ্গান্তর করা আছে এবং ইউজারদের ভৌগলিক অবস্থান। টেকক্রাশের রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওই সার্ভার পাসওয়ার্ড দিয়ে বন্ধ করা ছিল না। যে কেউ সেটা খুলতে পারত এবং ইউজারদের ডেটাবেস দেখতে পারত। বুধবার রাত পর্যন্ত ওই সার্ভার অনলাইন

ছিল। যদিও ফেসবুক কোম্পানির তরফে এই রিপোর্টের আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলা হয়েছে ৪১৯ মিলিয়ন নয়, তার অর্ধেক অ্যাকাউন্ট ফাঁস হয়েছে। এমনকি অনেক এন্ট্রি নকল এবং তথ্যও পুরনো বলে দাবি করেছে ফেসবুক। ফেসবুকের মুখপাত্র বলেছেন, ওই ডেটাসেট নিয়ে নেয়া হয়েছে এবং ফেসবুকের অ্যাকাউন্টে সমঝোতা করা হয়েছে বলে কোনও প্রমাণ নেই। প্রসঙ্গত, ২০১৮-র অ্যানালিটিকা দুর্নীতিকান্ডের পর কোনও ইউজারের ফোন নম্বর দিয়ে তারর সন্ধান করার প্রক্রিয়া নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিল ফেসবুক।

৭০ বছর পর প্রেম পত্র ফেরত পেল প্রেমিক-যুগল

_108655863_1ced9b73-7865-403a-9c87-114493a55ca0

নরমা একে অপরকে চিঠি লিখতেন। কিম রোযি তার চিলেকোঠার ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে খুঁজে পেলেন অনেকগুলো চিঠি, যেগুলো ১৯৪৮ এবং ১৯৪৯ সালের মাঝামাঝি লেখা হয়েছে। চিঠিগুলোর প্রাপক এবং প্রেরক কেন্টে থাকা নরমা হল এবং ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে দেশের বাইরে কাজ করা বব বিয়াসলে। কিম বলছিলেন আমার মা ২০ বছর আগে যখন আলদেরশটে থাকতেন তখন তার এক প্রতিবেশী তার চিলেকোঠার ঘরে এই চিঠিগুলো পান এবং ফেলে দিতে চান।

‘আমার মা সেগুলো দেখতে পান এবং আবিষ্কার করেন সেগুলো প্রেমপত্র। মায়ের মন আর সেগুলো রাস্তার ময়লা ফেলার জায়গায় ফেলে দিতে সায় দিল না।’ ‘আমার মা-চেরি ভ্যালেন্স এক ঝলক দেখেই বুঝে গেলেন এটা কারও প্রেম পত্র। তাই তিনি চাননি সেগুলোর অযত্ন করতে’ বলছিলেন কিম।

চেরি যখন বাসা বদল করেন সমারসেটে তখন সেই চিঠিগুলো সঙ্গে নিয়ে যান। কিন্তু তিনি ২০১৬ সালে মারা যান, চিঠির মালিক নরমা হল এবং বব বিয়াসলেকেও তার পক্ষে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি।

কিন্তু এই বছর আবার যখন চিঠিগুলো কিমের দৃষ্টিগোচর হয় তখন তিনি ভাবলেন এই চিঠির মালিকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে, আর সেটা করতে হবে এখনিই যাতে দেরি হয়ে না যায়।

নবীর ‘উম্মতের’ হাতেই শহীদ নবীর সন্তান ইমাম হোসাইন!!!-1

সুহৃদ মান্নাফী ॥ কীভাবে নবীর (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত) উম্মত মহানবীর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্রকে হত্যা করলো? – এ জিজ্ঞাসা সর্ব যুগের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের। আর এ ধরনের প্রশ্ন জাগাটাও খুব স্বাভাবিক। কারণ, ইমাম হোসাইনের মর্মান্তিক শাহাদাত এক বিষাদময় ঘটনা কিংবা আল্লাহ্র পথে চরম আত্মত্যাগের এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্তই শুধু নয়, এ ঘটনাকে বিশ্লেষণ করলে বেরিয়ে আসে এক চরম সত্য। রাসূলুল্লাহ (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত)-এঁর তিরোধানের মাত্র ৫০ বছর অতিক্রান্ত হতে না হতেই এ হত্যাকা- চালানো হয়। আর এ হত্যাকান্ডের নায়ক ছিল স্বয়ং রাসুলুল্লাহ্ এঁর উম্মত নামধারী একদল স্বার্থান্বেসী যারা রাসূল এবং তাঁর বংশকে ভালবাসে বলে মুসলমান সমাজে খ্যাতিলাভ করেছিল। তাও আবার রাসূলের সেইসব শত্রুর পতাকাতলে দাঁড়িয়ে মুসলমানরা রাসূলের সন্তানের উপর এ হত্যাকা- চালায় যাদের সাথে কি-না রাসূলের মক্কা বিজয়ের আগ পর্যন্ত অব্যাহতভাবে যুদ্ধ করে গেছেন!

মক্কা বিজয়ের পর যখন চারদিকে ইসলামের জয়জয়কার তখন ইসলামের ঐ চির শত্রুরাও বাধ্য হয়েই নিজেদের গায়ে ইসলামের একটা লেবেল লাগিয়ে নেয়। তাই বলে ইসলামের সাথে তাদের শত্রুতার কোনো কমতি ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে ‘তারা মুসলমান হয়নি, ইসলাম গ্রহণের ভান করেছিল মাত্র।’

আবু সুফিয়ান প্রায় ২০ বছর ধরে রাসূলের সাথে যুদ্ধ করেছে। শুধু তাই নয়, শেষের দিকে ৫/৬ বছর সে ইসলামের বিরুদ্ধে সংগ্রামে এবং ফেতনা সৃষ্টিতে সরদারের ভূমিকা পালন করে। মোয়াবিয়া তার পিতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে শত্রুতায় নামে। এভাবে আবু সুফিয়ানের দল অর্থাৎ উমাইয়ারা মুহাম্মদী ইসলামের চরম শত্রুতে পরিণত হয়। অথচ আমরা অত্যন্ত আশ্চর্যের সাথে প্রত্যক্ষ করি যে, রাসূলের ওফাতের মাত্র দশ বছর পরে সেই মোয়াবিয়া এসে ইসলামী শাসনযন্ত্রের শীর্ষে আরোহণ করে শামদেশ তথা সিরিয়ার গভর্নর হয়ে বসে। পরবর্তী বিশ বছর পরে মুহাম্মদী ইসলামের এই শত্রু হয়ে বসলো স্বয়ং মুসলমানদের খলীফা! এখানেই শেষ নয়, রাসূলের ওফাতের পঞ্চাশ বছর পর মুসলমানদের খলীফা হল মোয়াবিয়া-পুত্র ইয়াজিদ। আর এই ইয়াজিদ নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত তথা ইসলামের বিধি-বিধান পালনকারী মুসলমানদেরকে সাথে নিয়ে অর্ধ-শতাব্দী গড়াতে না গড়াতেই রাসূলের (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত) সন্তানকে হত্যা করলো। এসব নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মাথা বিগড়ে গেলেও ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করার উপায় নেই। ঐ সব মুসলমানরা যে ইসলামকে পরিত্যাগ করেছিল তা নয়, বরং ইমাম হোসাইনের  প্রতি তাদের ভক্তির অভাব ছিল তারও কোনো প্রমাণ মেলে না। কারণ, ইমাম হোসাইনের  প্রতি বীতশ্রদ্ধ হলে তারা হয়তো বলতে পারতো যে, ইমাম হোসাইন ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেছেন। সুতরাং তাঁকে হত্যা করতে কোনো বাধা নেই। বরং তারা নিশ্চিতভাবে ইয়াজিদের ওপর ইমাম হোসাইনের সহ¯্র গুণে শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদায় বিশ্বাস করতো।

তাহলে প্রশ্ন হল- প্রথমত: কিভাবে মুসলিম শাসন ক্ষমতা ইসলামের ঘোর শত্রু আবু সুফিয়ানের দলের হাতে পড়লো? দ্বিতীয়ত: যে মুসলমানরা ইমাম হোসাইনের রক্তের মূল্য যথার্থভাবে অবগত ছিল তারা কিভাবে ইমাম হোসাইনকে হত্যা করলো?

প্রথম প্রশ্নের জবাবে বলতে হয় যে, উমাইয়াদের মধ্যে প্রথমভাগে মুসলমান হবার গৌরব অর্জন করেছিল এবং ইসলামের প্রতি কোনো বিদ্বেষ পোষণ করতো না, বরং ইসলামের জন্যে অনেক অবদানই রেখেছিল এমন ব্যক্তির (অর্থাৎ হযরত ওসমানের) খলীফা পদ লাভই ছিল এর মূল কারণ। এর ফলেই উমাইয়ারা সর্ব প্রথম মুসলিম খেলাফত লাভ করার সুযোগ পায়। আর এ সুযোগের অপব্যবহার করে তারা ইসলামী শাসন ব্যবস্থাকে নিজেদের মুলুকে বা ব্যক্তিগত রাজত্বে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিল। স্বয়ং মারওয়ানই এর জ্বলন্ত উদাহরণ। অবশ্য দ্বিতীয় খলিফার শাসনামলেই মোয়াবিয়াকে শাম বা সিরিয়ার গভর্নর হিসেবে নিযুক্তির মাধ্যমে ইসলামী শাসনযন্ত্রে উমাইয়াদের উত্থান ঘটে। পরবর্তীতে অন্য সব গভর্নরের পদে রদবদল করা হলেও মোয়াবিয়াকে তার পদে বহাল রাখা হয়। এটাই ছিল মুসলিম শাসন ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার মাধ্যমে উমাইয়াদের হীনবাসনা চরিতার্থকরণের পথে প্রথম অনুকূল ইঙ্গিত। উমাইয়ারা তৃতীয় খলিফা ওসমানের শাসন ব্যবস্থায় দুর্নীতি ছড়ায় ও গোলযোগ সৃষ্টি করে। এতে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে ওসমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং শেষ পর্যন্ত মোয়াবিয়া তার সে লালসা পূরণের জন্য মোক্ষম সুযোগ পেয়ে যায়। সে নিজের পক্ষ থেকে ওসমানকে  ‘মজলুম খলীফা’, ‘শহীদ খলীফা’ প্রভৃতি সুবিধামত ধ্বনি দিয়ে প্রচারকার্য শুরু করলো এবং নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করতে আদাজল খেয়ে লেগে গেল। সে ওসমানের রক্তভেজা জামা সবার সামনে মেলে ধরে তার অসহায়ত্বকে গতিশীল রূপ দেয় এবং বলে বেড়ায়, ‘যেহেতু ওসমানের হত্যার পর আলী খলীফা হয়েছেন, তাছাড়া ওসমানের হত্যাকারীদেরকে তিনি আশ্রয় দিয়েছিলেন-তাই ওসমান হত্যার জন্য মূলতঃ আলীই দায়ী।’

ইসলামের ঊষালগ্নের প্রহেলিকাময় ঘটনাবলী এবং নবীর উম্মতের হাতে নবীর সন্তানের হত্যার কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো ইসলামের ঊষালগ্নেই সমসাময়িক নানা মতভেদ ও দ্বন্ধ।

আরেকটি ঘটনা হলো ইমাম হোসাইনের সত্যব্রত আন্দোলন এবং বিদ্রোহ। আত্মীয়-অনাত্মীয়, চেনা-অচেনা নির্বিশেষে সবাই কুফার লোকদের বিশ্বাসঘাতকতার ইস্যু টেনে ইমাম হোসাইনকে বিরত রাখতে চেষ্টা করছিল। ইমাম হোসাইনের চিন্তা ছিল প্রকৃত সত্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে। মারওয়ানের এক প্রশ্নের জবাবে ইমাম হোসাইন বলেনঃ ‘ইয়াজিদের মতো কেউ যদি উম্মতের শাসক হয় তাহলে এখানেই ইসলামের বিদায় ।’

মোয়াবিয়া ও ইয়াজিদের ইসলামী শাসন ক্ষমতা লাভ এবং ইসলামে অবিচল মুসলমানদের নিয়ে হযরত আলী এবং ইমাম হোসাইনের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী গঠন ছিল ইসলামের ঊষালগ্নের প্রহেলিকাময় ঘটনাবলীর অন্যতম। এখানে দুটি বিষয়কে খতিয়ে দেখা দরকার। তাহলেই ইমাম হোসাইনের বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তা, এর কারণ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন করা আমাদের পক্ষে সহজতর হবে।

প্রথমতঃ আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে ইসলাম ও কুরআনের সাথে উমাইয়া বংশের তীব্র সংঘাত এবং দ্বিতীয়তঃ ইসলামী শাসন ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে তাদের সফলতা। ইসলামের সাথে উমাইয়াদের এহেন শত্রুতাসুলভ আচরণের কারণ হল যে, একাদিক্রমে তিন বংশ ধরে বনি হাশিম ও বনি উমাইয়ার মধ্যে গোষ্ঠীগত কোন্দল চলে আসছিল। অতঃপর যখন বনি হাশিম ইসলাম ও কুরআনের (সত্যের) ধারক ও বাহক হবার গৌরব লাভ করে তখন বনি উমাইয়ারা ঈর্ষায় পুড়ে মরতে থাকে। ফলতঃ তারা বনি হাশিমকে সহ্য করতে পারলো না, সাথে সাথে ইসলাম ও  কুরআনকেও (সত্যকেও)।

দ্বিতীয় কারণ হলঃ তৎকালীন কোরাইশ গোত্রের নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে উমাইয়াদের পার্থিব জীবনধারার সাথে শান্তি (ইসলামী) বিধানের অসামঞ্জস্য ও  বৈপরীত্য। শান্তির (ইসলামী) নীতিমালায় তাদের প্রভুত্বমূলক প্রভাব ক্ষুন্ন হয়। তাদের ভাব ও মন-মানস ছিল সুবিধাবাদী ও বস্তুবাদী। উমাইয়াদের যথেষ্ট বুদ্ধি থাকলেও তাদের ঐ বস্তুবাদী ও গোষ্ঠীস্বার্থবাদী মানসিকতার কারণে খোদায়ী বিধান থেকে তারা উপকৃত হতে পারেনি। কারণ সত্যের শিক্ষাকে সে-ই অবনত মস্তকে গ্রহণ করতে পারে যার মধ্যে মর্যাদাবোধ, উন্নত আত্মা এবং মহত্বের আনাগোনা রয়েছে এবং যার মধ্যে সচেতনতা ও সত্যান্বেষী মনোবৃত্তি নিহিত আছে। অথচ উমাইয়ারা অতিশয় ভোগের চর্চা করতে করতে এসব গুণগুলোর সব ক’টি হারিয়ে বসেছিল। অগত্যা তারা সত্য ও শান্তির (ইসলামের) সাথে শত্রুতায় নেমে পড়ে। পবিত্র কুরআনেও এ দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সত্যকে মেনে নেবার সক্ষমতা যাদের আছে তাদেরকে ইশারা করে কুরআনে বলা হয়েছেঃ

‘যাতে তিনি (রাসূল) সচেতনদের সতর্ক করতে পারেন।’ (ইয়াসীনঃ ৭০)

কেবল তাদেরকেই সতর্ক করো যারা উপদেশ মেনে চলে’। (ইয়াসীনঃ ১১)

‘আমরা কুরআন অবতীর্ণ করি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত। আর তা জালেমদের ক্ষতিই বাড়ায়।’ (বনী ইসরাঈলঃ ৮২)

‘এটি এজন্য যে, আল্লাহ্ কুজনদেরকে সুজন হতে পৃথক করবেন।’ (আনফাল : ৪৮)

মোদ্দাকথা, আল্লাহ্র রহমত থেকে তারাই উপকৃত হতে পারবে যাদের প্রস্তুতি ও যোগ্যতা রয়েছে। এটি একটি খোদায়ী (সত্য প্রতিষ্ঠার) নীতি। আর উমাইয়াদের মধ্যে সে প্রস্তুতি না থাকায় তারা শান্তি (ইসলাম) এবং সত্যের (কুরআনের) অমিয় সুধা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়। উমাইয়া দল কিভাবে চিরকাল শত্রুতা করেও হঠাৎ করে একটা তৎপর তথাকথিত ইসলামী দল হিসাবে আত্ম প্রকাশ করলো-উপরন্তু তারা ইসলামের শাসন ক্ষমতাকে নিজেদের কুক্ষিগত করতে সক্ষম হলো? এ প্রশ্নের জবাবের শুরুতে একটা বিষয় উল্লেখ্য। তাহলো-নবনির্মিত ও নব প্রতিষ্ঠিত কোনো জাতি হঠাৎ করেই শক্তিশালী ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে না, চাই সে ঐক্য যত শক্তিশালীই হোক না কেন। একটু চিন্তা করলে আমাদের সামনে একটি বিষয় সুস্পষ্ট হবে যে, আরবে নব প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত মজবুত হতে না হতেই দ্বিতীয় খলীফার আমলে ব্যাপক দেশজয়ের ফলে ইসলামের অতি দ্রুত প্রচার ও প্রসার ঘটে। তাই ইসলাম তার স্বাভাবিক গতিতে সীমান্ত অতিক্রম করে দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েনি। ফলে মুসলমানদের মধ্যে দেখা দেয় নানা দ্বন্দ্ব-বিভেদ এবং গড়ে ওঠে অসংহত মুসলমান সা¤্রাজ্য। এর পাশাপাশি আরবের ইসলামী সংস্কৃতিতে অনারব ও অনৈসলামী সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ করে। ফলে অতি শীঘ্রই আরব তার স্বাতন্ত্র্য ও ইসলামী সাংস্কৃতিকে হারিয়ে ফেলে।

সে যুগের নব-প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ -এর পতাকাতলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল বটে এবং জাতি-বর্ণের ব্যবধানকে দ্রুত মোজেজার ন্যায় মুছে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল বটে কিন্তু বিভিন্ন গোত্র, ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ, রীতি-নীতি, আদব-কায়দা এবং ভিন্ন আকীদা-বিশ্বাসে গড়ে ওঠা মানুষগুলোর শান্তি ধর্ম ও আইন-কানুন মেনে নেয়ার ক্ষেত্রে সমান যোগ্যতা ও প্রস্তুতি ছিল না। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে একজন সত্যব্রতী (ঈমানদার) হলে আরেকজন যে দুর্বল ঈমানের অধিকারী ছিল একথা অস্বীকার করার জো নেই। আরেকজন হয়তো সন্দেহ ও বিভ্রান্তিতে নিপতিত ছিল এবং কেউ কেউ অন্তরে কুফরি মনোভাবও হয়তো পোষণ করতো। এ ধরনের একটা জনসমষ্টিকে বছরের পর বছর তথা শতাব্দীর পর শতাব্দী অবধি একটা নির্দিষ্ট সা¤্রাজ্যের শাসনাধীনে ধরে রাখা সহজ কথা নয়।

পবিত্র কুরআনে বহুবার মোনাফিকদের কথা উল্লেখ করেছে। মোনাফিকদের ব্যাপারে সতর্ক করার ধরন দেখে বোঝা যায় যে, এরা মারাত্মক। কুরআন মুসলমানদেরকে এই গুরুতর বিপদ থেকে রক্ষা করতে চায়। কুরআন‘ মুয়াল্লাফাতু কুলুবুহুম’ এর কথা উল্লেখ করেছে যারা দায়ে পড়ে কিংবা ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় মুসলমানের তালিকায় নিজেদের নাম লিখিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত) তাঁর দয়া ও সদাচরণ থেকে কাউকে বঞ্চিত করতেন না। এমন কি মোনাফিক এবং‘মুয়াল্লাফাতু কুলুবুহুম’ দেরকেও না। কিন্তু তাদের প্রতি সতর্কাবস্থা তিনি কখনো বর্জন করেননি। আর এ কারণেই রাসূলের জীবদ্দশায় কোনো দুর্বল ঈমানদার, মুয়াল্লাফাতু কুলুবুহুম কিংবা মোনাফিক উমাইয়াদের কেউই রাসুলের পরিচালিত নীতির ধারে কাছেও ঘেষতে পারেনি। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, রাসূলের ওফাতের পর থেকে বিশেষ করে তৃতীয় খলিফার আমলে তারাই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো কুক্ষিগত করে। রাসূলের জীবদ্দশায় মারওয়ান ও তার বাবা হাকাম মক্কা ও মদীনা থেকে নির্বাসন প্রাপ্ত হয়েছিল। কিন্তু এ সময় তারা ফিরে আসার সুযোগ পায়। প্রথম দুই খলীফার আমলেও তাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসা সংক্রান্ত তৃতীয় খলিফার অনুরোধ প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ঐ মারওয়ানই ফেতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি এবং ওসমান হত্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। (চলবে)

প্রবাহ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল সেবা বন্ধের নির্দেশ বিটিআরসি’র

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মোবাইল সেবা বন্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।

মন্ত্রীর এমন আদেশের পর গত সোমবার দেশের সকল মোবাইল ফোন অপারেটরদের আগামী সাত দিনের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সবধরনের সিমকার্ড বিক্রি বন্ধ ও মোবাইল ফোন সেবা বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে বিটিআরসি।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রোহিঙ্গাদের কাছে সিমকার্ড বিক্রির মাধ্যমে মোবাইল সেবা দেয়ার অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে এ নির্দেশনা দেয়া হলো।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। পালিয়ে আসা এসব মিয়ানমারের নাগরিকদের কাছে সিমকার্ড বিক্রিতে সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির পরিবার ‘রাষ্ট্রহীন’

77157f5ce53eb9ca4c9137c36b07c164-5d6b9a8d15aee

ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ ভারতের পঞ্চম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণ করা দ্বিতীয় ভারতীয় রাষ্ট্রপতি তিনি। গুরজার জাতিগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা একমাত্র ব্যক্তি তিনি।

২০১৮ সালে এনআরসির দ্বিতীয় খসড়া তালিকায় এই সাবেক রাষ্ট্রপতির নাম না থাকায় বিতর্ক হয়েছিল। এনআরসি কর্তৃপক্ষ তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণের উপযুক্ত প্রমাণ হাজির করতে বলেছিল। ফখরুদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা তা দাখিল করেছিলেন। তাদের দাবি, নথি জমা দেওয়ায় তাদের কোনও ত্রুটি ছিল না। এরপরও চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় নেই তাদের নাম। এর ফলে শনিবার থেকে তারা রাষ্ট্রহীন।

আসামের শিলচর থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিক পত্রিকা প্রান্তজ্যোতি’র খবরে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত দ্বিতীয় খসড়া তালিকায় ছিল না সাবেক রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ, তার প্রয়াত ভাই একরামুদ্দিন আলি ও ভাইপো জিয়াউদ্দিনের নাম নেই। যদিও তালিকায় ছিল ফখরুদ্দিনের ছেলে পারভেজ ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম। বাকিদের নাম তালিকাভূক্ত করতে বংশলতিকা চাওয়া হয় এনআরসির পক্ষ থেকে। সে অনুসারে তা দাখিল করা হয়। আশা ছিল নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের পরীক্ষায় পাস করে যাবেন। কিন্তু তা হয়নি।

আসামের কামরূপের রঙ্গিয়ায় ফখরুদ্দিনের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বাস করছেন। সাদামাটা গ্রামীণ জীবন তাদের। নাগরিকত্ব প্রমাণ নিয়ে বিন্দুমাত্র দ্বিধা ছিল না তাদের।

কিন্তু এনআরসি তালিকা তৈরির জটিল ও দীর্ঘ কর্মযজ্ঞ শেষে শনিবারের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হলে তাদের সব উদ্যোগ নিষ্ফল বলে প্রতীয়মান হলো। এবার ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে গিয়ে নিজেদের বিদেশি তকমামুক্ত করতে হবে সাবেক রাষ্ট্রপতির পরিবারকে।

পারমাণবিক বোমা মেরে ঘূর্ণিঝড় ঠেকানোর পরামর্শ ট্রাম্পের!

141950

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত ঠেকাতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করার পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীকে। একবার নয়, বেশ কয়েকবার তিনি এই পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ঘূর্ণিঝড়ের হুমকির বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু কেন আমরা পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করছি না? আফ্রিকা উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়। তারা আটলান্টিক পাড়ি দেয়। এটাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে ঘূর্ণিঝড়ের চোখের ভেতরে আমরা একটা বোমা ফেলতে পারি। কেন আমরা তা করতে পারি না।’

বৈঠকে উপস্থিত একটি অজ্ঞাত সূত্রকে উদ্ধৃত করে অ্যাক্সিওস জানায়, কর্মকর্তারা ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে জানান তারা বিষয়টি ভেবে দেখবেন।

রবিবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই খবরের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগত আলোচনায় জাতীয় নিরাপত্তা টিমের সঙ্গে কী আলোচনা করেছেন বা করেননি সে বিষয়ে আমরা মন্তব্য করি না।

সোমবার ফ্রান্সে জি-সেভেন সম্মেলনে ট্রাম্প এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি টুইটে বলেছেন, অ্যাক্সিওসের খবর হাস্যকর। আমি কখনো এমনটা বলিনি। শুধু আরেকটি ফেক নিউজ।

তবে অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকেও একই বিষয় তুলেছেন ট্রাম্প। ২০১৭ সালে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের মেমোতে পারমাণবিক শব্দযুগল ব্যবহার করা হয়েছে।

ট্রাম্পের এই পরামর্শের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, তার লক্ষ্য খারাপ না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখন্ডে ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহ আঘাত ঠেকানোর চিন্তা করছেন। তার উদ্দেশ্য খারাপ না।

তবে ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসকি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রাম্পের এই পরামর্শের বিষয়ে বলেছে, বলার অপেক্ষা রাখে না, এটা কোনও ভালো ধারণা নয়।

সেপ্টেম্বরে পৃথিবী অতিক্রম করবে সর্বোচ্চ ভবনের সমান গ্রহাণু

728752892cb78d7b0daaa7a7f7ed9d2c-5d656af31debe

দুনিয়ার সর্বোচ্চ কয়েকটি ভবনের চেয়েও বড় একটি গ্রহাণু আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পৃথিবী অতিক্রম করবে। এদিন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় পাঁচটা ৫৪ মিনিটে ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৩৬১ বেগে পৃথিবীর ৩৩ লাখ ১২ হাজার ৯৪৪ মাইলের মধ্য দিয়ে এটি অতিক্রম করবে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, ২০০০ কিউডব্লিউ সেভেন নামের গ্রহাণুটির ব্যাস হবে ৯৫১ থেকে দুই হাজার ১৩২ ফুটের মধ্যে।

বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন দুবাইয়ের বুর্জ আল খলিফার উচ্চতা দুই হাজার ৭১৭ ফুট আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভবন সাংহাই টাওয়ারের উচ্চতা দুই হাজার ৭৩ ফুট।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, গ্রহাণুটি পৃথিবী অতিক্রমের সময় কোন ধরণের ঝুঁকি তৈরি করবে না। তবে নাসার সেন্টার ফর নিয়ার আর্থ অবজেক্ট স্টাডিজ এর গতিপথ পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত জুনে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছিলেন, কোনও গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করলে সেখান থেকে সরে যেতে মানুষকে টেলিস্কোপের মাধ্যমেই সতর্কতা দেওয়া সম্ভব।

হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আটলাস ও প্যান-স্ট্রাস সার্ভে টেলিস্কোপ ব্যবহার করে ২২ জুন পৃথিবীতে প্রবেশের আগেই ছোট একটি গ্রহাণু চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। ২০১৯ এমও নামের ১৩ মিটার ব্যাসার্ধের গ্রহাণুটি পৃথিবী থেকে তিন লাখ ১০ হাজার ৬৮৫ মাইল দূরে ছিল। ওই দিন মধ্যরাতে ৩০ মিনিটের মধ্যে চারবার ওই গ্রহাণুটি দেখতে পান জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

পরে ওই গ্রহাণুটি পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশের পর জ্বলে যায়। হাওয়াই থেকে ২৩৬ মাইল দক্ষিণে সাগরের ওপর দিয়ে এটি পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে।

আফগানিস্তানে আইএস নিয়ে পশ্চিমাদের অবস্থান দ্বিমুখী: রাশিয়া

আফগানিস্তানে আইএস’র উপস্থিতি নিয়ে পশ্চিমারা দ্বিমুখী অবস্থান (ডাবল স্ট্যান্ডার্ডস) নিয়েছে বলে অভিযোগ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, বুধবার মস্কোয় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুর্বামানিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে ল্যাভরভ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দ্বিমুখীনীতি মুক্ত হতে হবে। এটা উদ্বেগজনক যে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক নিষিদ্ধ এই সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে কিছু পশ্চিমা দেশ দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েছে। আফগানিস্তানে একতরফা ভূরাজনৈতিক কর্মকান্ড সম্পাদন করতে তাদের ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আফগানিস্তানে আইএস’র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য রাশিয়া ও ভারতসহ অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতি আহবান জানানোর বিষয়েও মন্তব্য করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের অর্থের উৎসই আমাদের মনোযোগের কেন্দ্র বিন্দু।’

ল্যাভরভ আরও বলেন, ‘আমাদের সব প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য হলো অন্যদের দেশের সঙ্গে কাজে যুক্ত হয়ে ধর্মীয়, রাজনৈতিক  ও জাতিগত গোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমাধান করা। যা আফগানিস্তান থেকে মাদক পাচার, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের হুমকি দূর করবে।’

চীনা পণ্যে আরও ৫ শতাংশ

শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

22ce22a5d5d9d18be77507f0df708591-5d6211a5ac7ae

চীনা পণ্যে আরও ৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকৃত ৫৫ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে এ শুল্ক কার্যকর হবে। পূর্বনির্ধারিত শুল্কের সঙ্গে এটি যুক্ত হবে। এর আগে ওয়াশিংটনের আগের আরোপিত শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার মার্কিন পণ্যে ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় বেইজিং। একইসঙ্গে মার্কিন গাড়ি আমদানিতে পুনরায় শুল্ক আরোপের কথাও জানায় দেশটি। এরপর এদিনই টুইটারে দেওয়া পোস্টে চীনকে ‘চোর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিকল্প খোঁজার পরামর্শ দেন ট্রাম্প। পরে চীনা পণ্যে বাড়তি ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

টুইটারে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, দুঃখজনকভাবে আগের প্রশাসনগুলো ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীনকে এতখানি ছাড় দিয়েছে যে, তারা মার্কিন করদাতাদের জন্য বড় বোঝা হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আর এটা হতে দিতে পারি না।

আরেক টুইটে চীনকে ‘চোর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশটির বিকল্প খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে চীন আমাদের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করছে। তারা বছরে আমাদের কয়েকশ বিলিয়ন ডলারের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরি করেছে। তারা এ কাজ অব্যাহত রাখতে চায়। কিন্তু আমি এটা হতে দিতে পারি না। চীনকে আমাদের প্রয়োজন নেই। সত্যি বলতে তাদের ছাড়াই আমরা অনেক ভালো থাকতে পারি। বছরের পর বছর ধরে, যুগের পর যুগ ধরে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন ও চুরি করেছে। তাদের অবশ্যই এটা বন্ধ করতে হবে। আমাদের মহান আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে চীনের বিকল্প খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশে নিয়ে আসা এবং পণ্যসামগ্রী যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনের বিষয়টিও রয়েছে।

২০১৯ সালের আগস্টের গোড়ার দিকে চীনা পণ্যে নতুন করে ১০ শতাংশ হারে ৩০ হাজার কোটি ডলারের শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। স্মার্টফোন, পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে। গত ১ আগস্ট টুইটারে ট্রাম্প নতুন এ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। ২৫ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের চীনা পণ্যে আগে থেকেই ২৫ শতাংশ শুল্ক জারি আছে। এখন নতুন করে আরও ৫ শতাংশ যুক্ত হওয়ায় এ শুল্কের পরিমাণ ৩০ শতাংশে পৌঁছাবে।

এদিকে শুক্রবার এক বিবৃতিতে চীনের স্টেট কাউন্সিল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ফলে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে বেইজিং।

চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে গত বছর থেকে বেইজিংয়ের রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের কথিত সংরক্ষণশীল নীতির ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বেইজিং-ও মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ শুরু করে। বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা কমাতে এ বছর ওয়াশিংটন ও বেইজিং কয়েক দফা বৈঠকও করেছে।

৩৮ লাখ বছর আগের মাথার খুলিই কি মানুষের পূর্বপুরুষ?

_108524642_composite_index_976

ইথিওপিয়ায় গবেষকরা প্রায় ৩৮ লাখ বছর আগের একটি মাথার খুলি খুঁজে পেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রথম দিকের মানুষের মতো দেখতে এপ প্রজাতির পূর্বজ। নতুন এই নমুনাটির বিশ্লেষণ, এপ প্রজাতির বানর থেকে মানুষে রূপান্তরিত হওয়ার বিবর্তন প্রক্রিয়ার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। নতুন মতবাদ বলছে, লুসি নামে এপ প্রজাতির বানর থেকে প্রথম মানুষের উৎপত্তি হওয়ার যে মতবাদ প্রচলিত আছে তা আবার বিবেচনা করার অবকাশ আছে। ন্যাচার জার্নালে এই আবিষ্কারটি সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ইথিওপিয়ার আফার রাজ্যের মিল্লা জেলার মিরো দোরা এলাকায় মাথার খুলিটি খুঁজে পান অধ্যাপক ইয়োহানেস হাইলি সেলাইসি।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়োর ক্লিভল্যান্ড মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি-এর সাথে যুক্ত এই বিজ্ঞানী বলেছেন, তিনি সাথে সাথেই জীবাশ্মটির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। “আমি নিজেই নিজেকে বলি, আমি যা দেখছি সেটি কি আসলেই সত্যি? তারপর হঠাৎই আমি লাফিয়ে উঠি এবং বুঝতে পারি যে, এটিই আমার সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল,” তিনি বিবিসি নিউজকে বলেন। অধ্যাপক হাইলি সেলাইসি বলেন, মানুষের পূর্বপুরুষ হিসেবে পরিচিত এপপ্রজাতির এ পর্যন্ত পাওয়া নমুনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে এটি।

ওই প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম অস্ট্রালোপিথিকুস আনামেনসিস- সবচেয়ে পুরনো অস্ট্রালোপিথিসিন যা প্রায় ৪২ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে বাস করতো। ধারণা করা হয় যে, এ. আনামেনসিস ছিল আরো উন্নত প্রজাতি যা অস্ট্রালোপিথিকুস আফারেনসিস নামে পরিচিত তার সরাসরি বংশধর। এই উন্নত প্রজাতিটি প্রাথমিক মানুষের প্রথম জেনাস বা বর্গ বা দল যা হোমো নামে পরিচিত ছিল, তাদের পূর্বজ। বর্তমানে বেঁচে থাকা মানুষের বর্গকেও হোমো বলা হয়।

১৯৭৪ সালে আবিষ্কার হওয়া প্রথম আফারেনসিস কংকাল নিয়ে বেশ আলোড়ন তৈরি হয়েছিলো। তার নাম দেয়া হয়েছিলো লুসি। বিটলসের বিখ্যাত গান ‘লুসি ইন দ্য স্কাই উইথ ডায়মন্ডস’ খননের সাইটে বাজার সময় কংকালটি আবিষ্কার করা হয়েছিলো বলে সেটির এমন নাম দিয়েছিলেন গবেষকরা। ‘প্রথম এপটি হেটেছিলো,’ লুসিকে এভাবে বর্ণনা করার পর তা পুরো পৃথিবীর মনোযোগ কেড়েছিল।

লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের সাথে জড়িত অধ্যাপক ফ্রেড স্পুর ন্যাচার জার্নালে একটি মন্তব্যে লিখেছেন, “দেখে মনে হচ্ছে, মানুষের বির্বতনের আরেক আইকন হতে যাচ্ছে এই আনামেনসিস।”

এটি এতো গুরুত্ব পাওয়ার কারণ হচ্ছে, আমরা বলতে পারি যে, আনামেনসিস এবং আফারেনসিস প্রায় সমসাময়িক ছিল। আগের ধারণা অনুযায়ী, পূর্বেরটি সরাসরি একটি সরল প্রক্রিয়ায় বিবর্তিত হয়ে পরেরটিতে পরিণত হয়নি। নতুন এই ধারণাটি সামনে আসে আগের বিবর্তনের ধারণাটির পুনর্ব্যাখ্যা থেকে।  নতুন জীবাশ্মটিতে আগে আবিষ্কার হওয়া ৩৯ লাখ বছর পুরনো মাথার খুলির অবশিষ্টাংশের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।  ওই অবশিষ্টাংশকে আনামেনসিস নামে ধরা হয়েছিলো। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি আসলে আফারেনসিসের দেহাবশেষের অংশ। তার মানে হচ্ছে, এই প্রজাতির ইতিহাস আরো গভীর। বর্তমানে ধারণা করা হচ্ছে যে, দুটি প্রজাতিই একসাথে বেঁচেছিলো প্রায় এক লক্ষ বছর ধরে।

যা ধারণা করা হচ্ছে তা হল-আনামেনসিসের ছোট একটি দল অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে পড়ে এবং সময়ের সাথে সাথে স্থানীয় পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে এগুলো বিবর্তিত হয়ে আফারেনসিসে পরিণত হয়। আনামেনসিস নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই দুই প্রজাতি কিছু সময়ের জন্য হলে একই সময়ে বেঁচেছিলো।

নতুন এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাহলে এটি ধারণা দেয় যে, এপ প্রজাতির সাথে অন্য আরো উন্নত প্রজাতিরও আসলে সমসাময়িক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এর ফলে প্রথম মানুষ হওয়ার বিবর্তনের অনেক গুলো উপায় আমাদের সামনে চলে আসে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, যদিও এই ধারণা লুসি থেকে মানুষের হোমো বর্গের সৃষ্টি হওয়ার মতবাদকে বাতিল করে দেয় না, কিন্তু এটি এই ধারণার সাথে আরো কয়েকটি প্রজাতির নাম সংশ্লিষ্ট করেছে। অধ্যাপক হাইলি সেলিইসি একমত প্রকাশ করেন যে, কোন প্রজাতি মানুষের পূর্ব-পুরুষ তা নিয়ে ‘সব ধরণের পণ এখন বন্ধ’ হয়ে গেলো।

তিনি বর্ণনা করেন: “দীর্ঘ সময় ধরে, মানুষের পূর্ব পুরুষ হিসেবে আফারেনসিসের নাম আসতো সবার আগে, কিন্তু আসলে আগের সেই অবস্থানে নেই আমরা। এখন আমাদেরকে ওই সময়ে বেঁচে থাকা সব প্রজাতিকেই বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে যে আসলে প্রথম মানুষের সাথে কোনটির সবচেয়ে বেশি মিল ছিল।”

‘মিসিং লিংক’ এই শব্দ দুটিকে যখন নৃবিজ্ঞানীরা কারো কাছ থেকে বিশেষ করে সাংবাদিকদের কাছে থেকে শোনেন, তখন তারা অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েন।  কারণ, তারা এটি এমন একটি জীবাশ্মকে ব্যাখ্যা করতে এই শব্দ ব্যবহার করছে যা অর্ধেক এপ এবং অর্ধেক মানুষ।

আনামেনসিস হচ্ছে সম্প্রতি আবিষ্কার হওয়া সূত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নতুন যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আধুনিক মানুষের বিবর্তন ব্যাখ্যা করার আসলে সরল কোন রেখা নেই।

সত্য এর চেয়েও আরো অনেক জটিল এবং মজার। এটি বিবর্তনের এমন গল্প বলে, যা বিভিন্ন পরিবেশে মানুষের পূর্বপুরুষের বিভিন্ন “প্রোটোটাইপ” নিয়ে “পরীক্ষা করে”।  আর এটা ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না কোন প্রজাতি যা জলবায়ু পরিবর্তন, বাসস্থান এবং খাদ্য সংকটের চাপ উপেক্ষা করে টিকে থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষে রূপান্তরিত হওয়ার পক্ষে শক্ত কোন বৈশিষ্ট্য সামনে তুলে ধরতে না পারে।

অধ্যাপক হাইলি সেলাইসি মানব বিবর্তন নিয়ে কাজ করা গুটি কয়েক আফ্রিকান বিজ্ঞানীদের মধ্যে একজন। এখন তিনি বেশ পরিচিতি পেলেও এই অধ্যাপক স্বীকার করেছেন যে, যোগ্য আফ্রিকান গবেষকদের জন্য পশ্চিমা ভিত্তিক অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে গবেষণার তহবিল পাওয়া বেশ দুঃসাধ্য।

“আমাদের উদ্ভবের সাথে জড়িত বেশিরভাগ জীবাশ্মই আফ্রিকায় পাওয়া যায়। আর আমার মনে হয়, আফ্রিকানরা তাদের নিজেদের মহাদেশে থাকা এসব সম্পদ ব্যবহারে সক্ষমতা পাওয়া উচিত যাতে নৃ-বিজ্ঞানের মৌল ও জীবাশ্ম বিষয়ক শাখা পালায়েও-অ্যানথ্রপলজিতে তারা তাদের ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে পারে। এ খাতে তাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হল অর্থায়ন,” তিনি বলেন।

 

আসাম সীমান্তে সতক প্রহরায় বিজিবি!

69942247_945081162507578_2912472389193302016_n

আসামের নাগরিকপঞ্জি ঘোষণার পর বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসাম লাগোয়া বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলবিবাজার ও কুড়িগ্রাম সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ অনুপ্রবেশ করতে না পারে। নিয়মমাফিক টহল দিচ্ছে বিজিবি। সরকারের বক্তব্য, আসামের এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ১৯৭১এর পর বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারতে যায়নি।

বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্তে আসলে বিশেষ কোনও সতর্ক জারি করা হয়েছে, সেটা বলব না। আমরা প্রতিদিনের যা ডিউটি করি সেটাই পালন করা হচ্ছে। ওদের (ভারতের) এলাকায় কেউ ঢুকবে না। একইভাবে আমাদের এলাকায় কেউ ঢুকবে না। আমরা এমনিতেও তো ওপার থেকে বাংলাদেশের নাগরিক নয় এমন কাউকে ঢুকতে দেব না। অনুরূপভাবে আমাদের নাগরিকরাও ওপারে না যায়, সেটাও আমরা খেয়াল রাখছি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘আসামের চূড়ান্ত এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের ভাবনার কারণ নেই। এনআরসি তালিকাটি একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। এই বাংলাদেশের ইস্যু হিসেবে তোলা হবে না। কারণ তারা কখনই বাংলাদেশের নাগরিক ছিল না। ফলে আমাদের দুশ্চিন্তা কীসের?’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এলে আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা নাকি এনআরসি তালিকা করছেন। এমনিতেই বাংলাদেশ ১১ লাখ রোহিঙ্গা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। তখন তিনি প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, এটা আমাদের নিজস্ব বিষয়, এর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও সম্পর্ক নেই। এ নিয়ে আপনাদের চিন্তিত হওয়ার কারণ  নেই।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করছি না এবং করতে চাই না। তারা যদি আমাদের কাছে কিছু জানতে চায়, তাহলে আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাব। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, ১৯৭১ সালের পরে আমাদের বাংলাদেশ থেকে কোনও লোক ভারতে যাননি। যারা গিয়েছেন, তারা আগেই গিয়েছেন। ওই দেশ থেকে লোক যেমন এ দেশে এসেছেন, তেমনি আমাদের দেশ থেকেও গিয়েছেন।’

জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস আমাজন !!!

প্রাণের জন্য হৃদযন্ত্র এবং ফুসফুসের মধ্যে কে বড়? এই প্রশ্নের কোনও মীমাংসা হয় না। এই দুটির একটি বিকল হলে অন্যটিকে সচল রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অর্থাৎ দুটিকেই একসঙ্গে ক্রিয়াশীল রাখা জীবনের শর্ত। এখন প্রসঙ্গ ফুসফুস । ফুসফুস বিগড়ে গেলেই আমাদের ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা হয়। আমরা হাঁপাতে থাকি। সব কাজ করার সামর্থ্য রহিত হয়ে আসে। আমরা ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। ওষুধ খাই, প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ মেনে চলি। সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরিণাম মৃত্যু। এ বলা হচ্ছে ব্যক্তিবিশেষের ফুসফুসের সমস্যার কথা। যারা ভালো আছেন তারা রোগীকে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন। ডাক্তার সুস্থ আছেন বলে রোগীর চিকিৎসা হচ্ছে। ভাবুন, এমন যদি দুর্দিন আসে সকলেই একসঙ্গে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন! সেদিন তো কেউ কাউকেই দেখার থাকবে না। এই ভয়ঙ্কর আশঙ্কাতেই আমাদের মন ভারী হয়ে আসছে যেন। কারণ, আমাজন অরণ্যে আগুন। এই সুবিস্তৃৃত চিরসবুজ বনভূমিটাই ‘পৃথিবীর ফুসফুস ’ নামে পরিচিত। অনেক দিন যাবৎ আমাজন অরণ্য দাউ দাউ করে জ্বলছে। দাবানল নতুন কিছু নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশই মাঝে মধ্যে বিধ্বংসী দাবানলের কবলে পড়ে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদ্যোগে সেই আগুন দ্রুত আয়ত্তেও আসে। কিন্তু আমাজনের আগুন কিছুতেই বাগে আসছে না। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সূত্রের খবর, ২০১৯-এর প্রথম আট মাসে আমাজনে রেকর্ড সংখ্যক বার (৭২,৮০০) আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় যা ৮৩ শতাংশ বেশি। ২০১৮-তে ৭,৫০০ কি:মি: বনাঞ্চল নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। ক্ষতির বহর ২০১৭-র তুলনায় অন্তত ৬৫ শতাংশ বেশি। তাই এবার ক্ষতির বহর কী বিপুল হতে চলেছে তা ভাবতেই শিউরে উঠতে হচ্ছে। শুধু যে গাছপালা ধ্বংস হচ্ছে তাই নয়, নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে অনেক বিরল প্রায় প্রাণী এবং ক্ষয়িষ্ণু জনজাতি। জীববৈচিত্র এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য এক কঠিন প্রশ্নের মুখে আজ।

এতে শুধু ব্রাজিলের মানুষ এবং সংলগ্ন দেশগুলিই উদ্বিগ্ন নয়, প্রমাদ গুনছে সারা পৃথিবী। এমনিতেই ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণের সমস্যায় জর্জরিত পৃথিবী। দূষণ কমাবার জন্য প্রতি বছর আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়। বিশেষ উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রসঙ্ঘও। তার পরেও বিভিন্ন দেশ একে অপরের দিকে অভিযোগের তীর তুলে দায় এড়ানোর প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের থেকে বাস্তবিক অনেক যোজন দূরে অবস্থান করছে আজকের পৃথিবী। ঠিক এমনি সময়ে আমাজন অরণ্যে এই ভয়ঙ্কর দাবানল আমাদের সকলের ফুসফুসের সামনে লাল সংকেত ঝুলিয়ে দিল। এই বিপদ শুধু রাষ্ট্রীয় প্রশাসনগুলিকেই বিচলিত করে তোলেনি, ধর্মীয় সংস্থাগুলিকেও নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে। ২৫ আগস্ট ভ্যাটিকানের পোপ ফ্রান্সিস এই বিপদ মোকাবিলায় সারা পৃথিবীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বলেন, ‘‘পৃথিবীর কল্যাণের জন্য আমাজন বনাঞ্চল টিকিয়ে রাখা জরুরি। এই আগুন নেভাতে সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে।’’ আগুন নেভাতে ব্যর্থ ব্রাজিল প্রশাসনকে তুলোধনা করছেন সব প্রান্তের পরিবেশকর্মীরা। দক্ষিণপন্থী প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারোকে ‘পরিবেশ-বিরোধী’ খেতাব দেওয়ার জন্যও সোচ্চার অনেকে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, মেক্সিকো, চিলি, পের, সাইপ্রাস প্রভৃতি দেশে ব্রাজিল দূতাবাসের সামনে প্লাকার্ড হাতে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন বহু পরিবেশকর্মী। সাইপ্রাসে ব্রাজিল কূটনৈতিক মিশনের রেলিংয়ে ঝোলানো একটি ব্যানারে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে ‘‘আমাজন সারা পৃথিবীর সম্পদ,  ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতির নয়।’’ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক টুইটবার্তায় বলেছেন ‘‘আমাদের ঘর জ্বলছে!’’ বিষয়টি নিয়ে জি-৭ সম্মেলনে আলোচনারও দাবি রেখেছেন তিনি। আগুন নেভাতে সাহায্য করতে চেয়ে টুইট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এতটাই ক্ষুব্ধ যে ব্রাজিলসহ দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়েছে।

ব্রাজিল সরকার ব্যাপারটিকে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে দায় এড়াতে চেয়েছিল। তারা এও দাবি করে বলেছিল যে, এই ব্যাপারে বহির্বিশ্বের নাক গলানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু এমন প্রতিক্রিয়া ব্রাজিলের বিপক্ষেই গিয়েছে। ঘরে-বাইরে প্রবল বিরূপতার মুখে শেষমেশ ব্রাজিল সরকার আগুন নেভাতে সেনা নামিয়েছে। কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়, এই অগ্নিকান্ডের যথার্থ কারণ খুঁজে বের করতে এরপর বিশ্বজুড়ে চাপ দেওয়া হোক। এর পিছনে সঙ্কীর্ণ রাজনীতি এবং রুগ্ন অর্থনীতি থাকলে তাকেও প্রতিহত করার জন্য বিশ্বব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি। কারণ, আমাজন অরণ্যের অবস্থান যে-মাটিতেই হোক না কেন তাতে অধিকার সারা পৃথিবীর সব মানুষের সব প্রাণীর। আমাজন আমাদের সকলের সম্পদ। আমাজনকে রক্ষা করার অঙ্গীকার আমাদের সরকলের। এই দায়িত্ব অবহেলা আত্মহত্যারই নামান্তর।

হাজার মানুষের মিছিলের ভীড়ে একটি নাম: ইয়াসমিন!

69646164_710560426032968_7793061409465565184_n

যাদের বয়স ২৪ তাদের জানা নেই, বাংলাদেশের মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল একটি নৃশংস-বর্বর নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে ১৯৯৫ ইং সালের আগস্টে। মরহুম এমাজ উদ্দিন ও শরিফা বেগমের একমাত্র সন্তান ছিলেন ইয়াসমিন আক্তার। দিনাজপুর শহরের লালবাগ কোহিনূর স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন ইয়াসমিন। তার রিকশাচালক বাবা মারা যাওয়ার পর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় ইয়াসমিনের। সংসারে অভাবের তাড়নায় মাত্র ১২ বছর বয়সে ১৯৯২ সালে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে ঢাকায় আসেন আবুল আহসান আহমদ আলীর ধানমন্ডি ১ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর বাসায়। আবুল আহসান আহমদ আলীর গ্রামের বাড়িও দিনাজপুর। টানা তিন বছরে একবারও দিনাজপুরে মায়ের কাছে আসা হয়নি ইয়াসমিনের। তাই বাড়িতে আসার জন্য বিশেষ করে মাকে দেখার জন্য ভীষণ উতলা ছিলেন। আবুল আহসান তাকে দুর্গাপূজার ছুটিতে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্ত ১৯৯৫ সালের ২৩ আগস্ট আবুল আহসানের ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে কাউকে কিছু না বলে একাই দিনাজপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে যান। গাবতলি থেকে উঠে পড়েন দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁওগামী নৈশ কোচ হাসনা এন্টারপ্রাইজে। ২৪ আগস্ট ১৯৯৫ সাল। রাত ৩টার আগে বা পরে ইয়াসমিন দিনাজপুরের দশমাইল মোড়ে নেমে যান।

কোচের সুপারভাইজার দশমাইল মোড়ের পান দোকানদার জাবেদ আলী, ওসমান গনি, রহিমসহ স্থানীয়দের কাছে কিশোরী ইয়াসমিনকে দিয়ে সকাল হলে মেয়েটিকে দিনাজপুর শহরগামী যেকোনো গাড়িতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান। ভোর ৪টায় ফজরের নামাজ পড়তে বের হওয়া স্থানীয় মুসল্লিরা নিরাপদে যেতে তাকে তুলে দিলেন একটি পুলিশ ভ্যানে। তারা কোতোয়ালি পুলিশকে অনুরোধ করলেন দিনাজপুরে পৌঁছে দিতে। কিন্তু ইয়াসমিনকে বিদায় নিতে হয় পৃথিবী থেকে। দশ মাইল থেকে দিনাজপুর শহরে আসার পথে ব্র্যাক স্কুলের সামনে ভোরের দিকে পুলিশ ভ্যানে উপস্থিত ৩ সদস্য এএসআই মইনুল, কনস্টেবল সাত্তার ও গাড়িচালক অমৃতলাল কল্পনার অতীত নৃশংসতার নজীর স্থাপন করে। উল্লেখিত তিন অমানুষ যৌন নির্যাতন শেষে শিশু ইয়াসমিন আক্তার’কে চলন্ত পিকআপ ভ্যান থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করে। নির্যাতন থেকে বাঁচতে শিশু ইয়াসমিন চলন্ত পিকআপ থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল এবং আহত অবস্থায় তাকে পুনরায় পিকআপে তুলে আবার নির্যাতন করা হয়। এর একদিন পর ১৯৯৫ সালের ২৫ আগস্ট মনোরঞ্জন শীল গোপাল দা (পরবর্তীতে ওই এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্য দিনাজপুর-১ আসন হতে আওয়ামী লীগ মনোনীত), দৈনিক উত্তরবাংলা পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমানকে জানান, ‘পুলিশ সদস্যরা একটি মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে’। মতিউর রহমান ২৬ আগস্ট নিহত মেয়েটির পরিচয় জানতে পারেন এবং এই বর্বরতা সম্পর্কে পত্রিকায় প্রতিবেদন ছাপাতে চান। কিন্তু পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাকে নিষেধ করে। সে রাতে পুলিশ সদস্যরা মতিউর রহমানের পত্রিকার কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। মতিউর রহমান তার প্রতিবেশীর বাসা থেকে বিদ্যুৎ ধার করে সংবাদটি প্রকাশ করেন। মূলত, তার সংবাদটি দৈনিক উত্তর বাংলায় প্রকাশিত হবার পর দিনাজপুরে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয় এবং সমগ্র দেশ জানতে পারে ‘রক্ষকদের ভক্ষক’ হিসেবে আবির্ভূত হবার ঘটনা। নজিরবিহীন বর্বর ঘটনাটি ধামাচাপা দেবার উদ্দেশ্যে দিনাজপুর কোতোয়ালি পুলিশ ‘একজন অজ্ঞাত পরিচয় যুবতীর লাশ উদ্ধার’ মর্মে থানায় একটি ইউ ডি মামলা রুজু করে। বিনা গোসল ও জানাজায় তড়িঘড়ি ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বালুবাড়ি শেখ জাহাঙ্গীর গোরস্থানে দাফন করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, উত্তর গোবিন্দপুর এলাকায় পড়ে থাকা ইয়াসমিনের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির উদ্দেশ্যে কোতোয়ালি থানার এসআই স্বপন কুমার প্রকাশ্যে জনতার সামনেই লাশের পোশাক সম্পূর্ণ খুলে ফেলেছিল। সেখানে উপস্থিত উতসুক মানুষের মাঝে এ ঘটনাটি তাৎক্ষনিক ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল। পরদিন ২৬ আগস্ট দিনাজপুরে বিক্ষোভ মিছিল হয়। পুলিশ ও প্রশাসনের রহস্যময় আচরণ মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। স্থানীয় জনগণ রামনগর মোড়ে বিক্ষোভ আহবান করে প্রচার চালানোর সময় কোতোয়ালি থানা এলাকায় পুলিশ মাইক ভেঙে দেয়। এ ঘটনার পর আশপাশের এলাকার মানুষ আরও সংগঠিত হয়। সেদিন সন্ধ্যার পরে রামনগর মোড়ে ইয়াসমিনের গায়েবি জানাজা শেষে রাত ১০টার দিকে প্রতিবাদে মুখর ক্ষুব্ধ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল সহকারে কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করে থানার সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং সারা রাত থানা অবরোধ করে রাখে। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। ২৭ আগস্ট ১৯৯৫ সাল, বিচারের দাবীতে উচ্চকিত হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে স্মারকলিপি দিতে জেলা প্রশাসকের নিকট যায়। ন্যায়বিচারের দাবীর সে মিছিলে পুলিশ বিনা উস্কানিতে গুলি চালিয়ে সামু, কাদের ও সিরাজ-সহ সাতজনকে হত্যা করে (বাকী ৪ জনের নাম আমরা জানা সম্ভব হয়নি) নির্বিচার গুলিবর্ষণে আহত হয়েছিলেন আরও শতাধিক মানুষ। এরপর গোটা দিনাজপুর শহরের আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে প্রথমে ১৪৪ ধারা ও পরে কারফিউ জারী করা হয়। শহরে নামানো হয় বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদস্যদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সে রাতেই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সকল প্রকার ক্ষমতার সবটুকু অপব্যবহার সত্ত্বেও ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তিনটি আদালতে ১২৩ দিন বিচার কাজ শেষে ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ আবদুল মতিন মামলার রায় ঘোষণা করেন। নিরাপত্তা জনিত কারণে এই মামলাটি দিনাজপুর থেকে রংপুরে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। ইয়াসমিন হত্যা মামলার ন্যায় বিচারের জন্য যে মানুষটি সোচ্চার ছিলেন তিনি হচ্ছেন দিনাজপুর সদর (দিনাজপুর ৩) আসনের সে সময়ের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মরহুম এম আব্দুর রহিম। তিনিই ছিলেন ইয়াসমিন হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচার নিশ্চিন্তে সবচেয়ে ভরসার মানুষ। তিনি ইয়াসমিনের মা শরীফা বেগমের পক্ষে মামলায় লড়াই করেছেন বিনে পয়সায়।