শেষ পাতা

কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের চেয়েও ৩য় বিশ্বযুদ্ধ কাছাকাছি !

সংলাপ ॥ ১৯৬২ সালের ১৩ দিনের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের চেয়েও তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরুর বিষয় আরো কাছাকাছি রয়েছে। ইরানের প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রেডিও উপস্থাপক ডন ডিবার এ মন্তব্য করেছেন।

১৯৬২ সালে কিউবায় সোভিয়েত ইউনিয়ন পরমাণু বোমা মোতায়েন করলে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে মারাত্মক সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকি চূড়ান্ত আকার ধারণ করে।

আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন সম্প্রতি জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, দেশের পরমাণু অস্ত্রের বোতামে যেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত যেতে না পারে। তিনি এ বক্তব্য দিয়ে মূলত বলতে চেয়েছেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন।

হিলারির এ বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিশেষক ডন ডিবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশংকা ব্যক্ত করেছেন। হিলারি আরো বলেছেন, ট্রাম্প হচ্ছেন অস্থির চিত্তের মানুষ; তাকে বিশ্বাস করা যায় না; তাকে ওভাল অফিসে বসানো যায় না।

ডিবার বলেন, বিশ্ব এরই মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথে চলেছে কিন্তু হিলারি ক্লিনটন সে বাস্তবতা উপেক্ষা করছেন। এরই অংশ হিসেবে রাশিয়ার প্রতিবেশী বাল্টিক সাগর এলাকার দেশগুলোতে ও কোরিয় উপত্যকায় ন্যাটো এবং মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। এসব সেনা মোতায়েনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাশিয়া ও চীনে অভিযান চালানো। এর পাশাপাশি ৪০ বছর আগে চুক্তির মাধ্যমে যেসব অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেসব অস্ত্রও রুশ সীমোন্তে মোতায়েন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি চলতি বছরের শুরু থেকে চীন ও রাশিয়া সীমান্তে বিশাল আকারের এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মহড়া চলছে। এসবই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের জোরালো ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেন ডিবার।

একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন এরদোগান অভিযোগ তুরস্কের ধর্মীয় নেতা গুলেনের

ardogan

সংলাপ ॥  তুরস্কে অভ্যুত্থানের পিছনে দেশের সরকার তার দিকেই আঙুল তুলে বলেছিল, শান্তি, আইন-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে আমেরিকায় বসে কলকাঠি নাড়ছেন ফেতুল্লা গুলেন। অভিযোগের পাশাপাশি আমেরিকার প্রতি একের পর এক বিষোদগার করে মার্কিন প্রবাসী ওই তুর্কি ধর্মীয় নেতাকে প্রত্যার্পণের জন্য দরবার করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। এবার তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সেই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিলেন ফেতুল্লা গুলেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা এক প্রবন্ধে গুলেন বলেন, তুরস্কে যখন অভ্যুত্থানের চেষ্টা হল, তখন আমি খুব কঠোরভাবে এর সমালোচনা করেছিলাম। আমি বলেছিলাম, ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে হয়, বলপ্রয়োগ করে নয়। তুরস্কের জন্য আমি প্রার্থনা করেছি, তুরস্কের জনগণ ও যারা এই মুহূর্তে তুরস্কে আছে তাদের জন্যও, যাতে দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতির সমাধান করা যায়।’ গুলেনের দাবি, তুরস্কের তিনটি প্রধান বিরোধী দলের মতো তিনিও দ্ব্যর্থহীনভাবে অভ্যুত্থান চেষ্টার সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও ক্রমেই কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠা প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান গুলেনকে অভিযুক্ত করলেন।

গুলেন জানান, এরদোগানের সঙ্গে তার বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব রয়েছে। গুলেনের দাবি, তার দর্শন সশস্ত্র বিদ্রোহের বিরুদ্ধে। তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুত্ববাদী ইসলামের কথা বলেন। ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি হিজমত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। এই হিজমত হচ্ছে সেবার তুর্কি প্রতিশব্দ। এই হিজমত আন্দোলন জনগণের সমর্থন পাওয়া সরকারের পক্ষেই কথা বলে। যারা সব ধর্ম, রাজনৈতিক মত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার সংরক্ষণের পক্ষপাতী। হিজমতের মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত উদ্যোক্তা ও স্বেচ্ছাসেবীরা ১৫০টিরও বেশি দেশে শিক্ষা ও সমাজসেবায় বিনিয়োগ করেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসে গুলেন লেখেন, সেই ৯/১১-এ আল-কায়েদার জঙ্গি হামলা থেকে শুরু করে বোকো হারামের অপহরণ-আমরা সব ধরনের সন্ত্রাসবাদেরই বিরোধিতা করেছি। জঙ্গিদের বিরোধিতা করা ছাড়াও আমরা মুসলমান তরুণদের সন্ত্রাসবাদে জড়িত না হওয়ার উপদেশ দিই। একই সঙ্গে আমরা শান্তিকামী ও বহুত্ববাদী মন গড়ে তোলায় জোর দিই।

গুলেন বলেন, সারা জীবন ধরেই অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছি। বস্তুত বহু বছর ধরে আমি গণতন্ত্রের দাবি করে আসছি। তুরস্কে গত চার দশকে চারটি সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে, আমি নিজেও যার নিপীড়নের শিকার হয়েছি, ফলে আমি চাই না, তুরস্কের নাগরিকেরা আবারও সেই দুর্দশা সহ্য করুক। হিজমতের কোনও সদস্য যদি অভ্যুত্থানচেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তিনি আমার চিন্তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আর এরদোগান যে আমার দিকে আঙুল তুলেছেন, তাতে কিন্তু বিস্ময়ের কিছু নেই। তার কর্মকা-ে বোঝা যায়, তিনি ক্রমেই একনায়ক শাসনের দিকে এগোচ্ছেন।

গুলেনের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট এরদোগান আবার আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটে তার দেশের সমর্থন কমিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্ল্যাকমেল করছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই। তুরস্কে যে এরদোগানের সরকার একনায়কতন্ত্রের পথে হাটতে শুরু করেছে, তাতে দেশের জনগণ ধর্মে-ধর্মে, জাতিতে-জাতিতে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। এতে গোঁড়া, কট্টর মানুষদের বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে।

অপরদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান তুরস্কের সব সামরিক একাডেমি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এ ঘোষণার পাশাপাশি বলেছেন, এখন থেকে সমস্ত কমান্ডার সরাসরি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট করবেন।

তুরস্কের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এরদোগান বলেন, সামরিক বাহিনীকে পূর্ণাঙ্গভাবে বেসামরিক প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, দেশের সামরিক একাডেমিগুলোকে জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা হবে।

এরদোগান বলেন, ‘আমরা জাতীয় সংসদে ছোট্ট একটি সাংবিধানিক প্যাকেজ পাস করতে যাচ্ছি যার মাধ্যমে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা এমআইটি এবং চিফ অব স্টাফকে সরাসরি প্রেসিডেন্ট অধীনে আনা হবে। এছাড়া, দেশের পুলিশ বাহিনীতে নিয়োজিত সেনা সদস্যের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে এবং পুলিশকে আরো উন্নত অস্ত্র দেয়া হবে।’

তুর্কি প্রেসিডেন্ট এ সাক্ষাৎকারে আরো বলেছেন, তাকে যারা নানাভাবে অপমান কিংবা বিদ্রুপ করেন তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নেয়ার জন্য এরইমধ্যে আইনজীবীরা কাজ শুরু করেছেন। এরদোগানের পক্ষ থেকে শত শত মানুষের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইয়েমেনি বাহিনী

eamen

সংলাপ ॥ ইয়েমেনের জনপ্রিয় আনসারুল্লাহ আন্দোলনের সহযোগিতায় দেশটির সেনাবাহিনী সৌদি সামরিক বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দারিদ্রপীড়িত ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর বর্বরোচিত বিমান হামলার জবাবে ইয়েমেনি বাহিনী এই পাল্টা হামলা চালায়।

গত শনিবার সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশের একটি বিমান ঘাঁটিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে হামলায় কোনো হতাহত হয়েছে কিনা এবং কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কিছু জানা যায় নি। গত কয়েক দিনে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলো।

গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের জিজান প্রদেশে একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইয়েমেনি বাহিনীর পাল্টা রকেট হামলায় অন্তত তিন জন সৌদি সেনা নিহত হয়।

এর আগে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়িজ প্রদেশের বাবেল আল-মান্দেব এলাকায় ইয়েমেনি বাহিনীর হামলায় ভাড়াটে সহ প্রায় ১৮০ সেনা নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।

গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের ওপর হামলা শুরু করে। সৌদি সরকার তার পছন্দের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুরাব্বু হাদিকে ইয়েমেনি জাতির ওপর শাসক হিসেবে চাপিয়ে দিতে চাইলেও দেশটির বেশির ভাগ দল ও বিপ্লবী সরকার তা মেনে নিতে অস্বীকার করে আসছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলায় কয়েক হাজার নারী ও শিশুসহ এ পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার বেসামরিক ইয়েমেনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও কয়েক গুণ।

বন্দুকের নল ঘুরে গেলে!

সংলাপ ॥ আমেরিকায় পুলিশ কর্তৃক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা এবং এক কৃষ্ণাঙ্গ কর্তৃক পুলিশ হত্যার ঘটনাবর্ত থেকে দুটি নাম উঠে আসছে- ডায়মন্ড রেনল্ডস ও মাইকা জেভিয়ার জনসন। গাড়ির একটা ছোট টেইল লাইট কাজ করছিল না বলে পুলিশ মাইকা জেভিয়ারের গাড়ি থামিয়েছিল। তার পাশে ছিল প্রেমিকা ডায়মন্ড ও পেছনের সিটে ডায়মন্ডের চার বছরের মেয়ে। পৃথিবীর অন্য কোথাও এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও গায়ের রঙ সাদা হলে গাড়ির একটা টেইল লাইট ভাঙা কোনও অপরাধ নয়। পুলিশ গাড়ি থামিয়ে বলবে, ‘সার, পেছনের আলোটা ভাঙা, সারিয়ে নেবেন।’ মাইকা গাড়ি থামানোর পর কী হল তা সারা পৃথিবী যে জানে তার কারণ ডায়মন্ডের দুঃসাহসিক ভিডিও। যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্ব এক জিনিস আর চারশো বছরের দাসত্বের ভীতি অতিক্রম করা হচ্ছে অন্য জিনিস। মিনেসোটার রাস্তায় রক্তাক্ত প্রেমিককে পাশে নিয়ে একটি কালো মেয়ের পুলিশের সঙ্গে কথা বলার জন্য যে সাহস, যে স্নায়ু লাগে তা আধুনিককালের বীরত্ব।

১৬১৯ সালে প্রথম ওলান্দাজরা আফ্রিকা থেকে লোক তুলে এনে আমেরিকায় ক্রীতদাসরূপে বিক্রি শুরু করে। এটা দাসপ্রথার ৩৯৭তম বছর। ১৮৩১ থেকে ১৮৬৫ পর্যন্ত আমেরিকার গৃহযুদ্ধ চলাকালীন ১৮৬৩তে আব্রাহাম লিঙ্কন দাসপ্রথা আইনত নিষিদ্ধ করেন। সারা দেশে দাসেদের মুক্তি হয় যুদ্ধ অবসানে ১৮৬৫ সালে। কিন্তু দেড়শো বছরেও সাদাকালো দুই বর্ণের কারও মন থেকেই সেই যুদ্ধ শেষ হয়নি। মিনেসোটায় সেই রাত্রে ডায়মন্ডকে হতে হয়েছিল সেই মনের দানবের মুখোমুখি যে রক্তমাংসের মানুষ হয়ে পিস্তল উঁচিয়ে গাড়ির জানালা দিয়ে উঁকি মারছে। তার মধ্যেই সে সেল ফোনে পুরো ঘটনাটার ছবি তুলেছে, যা অন্তর্জালে ভাইরাল হয়ে গেছে। ইতিহাসের বই-এ লেখা থাকে যে প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসনের আমলে ১৮০৮ সালে আফ্রিকা থেকে দাস আমদানি আইনত বন্ধ হয়। কিন্তু কেনাবেচা তো চলতেই থাকে। জেফারসনের নিজেরই অনেক ক্রীতদাস ছিল। আমেরিকান সংবিধানে দাসপ্রথার পরোক্ষ স্বীকৃতি আছে। কংগ্রেসের জন্য আসন গণনায় তাদের আস্ত একটা মানুষ হিসেবে ধরা হয়নি। সংবিধানের চোখে পাঁচজন দাসকে তিনজন মুক্ত মানুষ মনে করা হয়।

এ সব তো আইনের শুকনো কথা। আমেরিকায় কাজ করতে করতে আমি নিজেও টের পেয়েছি চার’শো বছরের ভয়ের পাহাড় কেমনভাবে কালোদের এখনও চেপে রেখেছে। হাইস্কুলের ছেলেরা রাস্তায় বিয়ার খায়, মারামারি করে। সাদা হলে পুলিশ বলে, ‘মড় যড়সব, শরফ’. কালো হলে সঙ্গে সঙ্গে হাতে হাতকড়া লাগিয়ে ঠেলা মেরে পুলিশের গাড়িতে ঢুকিয়ে ধরে নিয়ে যায়। কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্রদের অধিকাংশেরই বাড়ির কর্তা বলে কেউ নেই। মেয়েরাই সমস্ত বিশাল বোঝাটা বয়ে চলেন। আমরা উপমহাদেশিরাও কিছু কম নই।

ডায়মন্ডের ভিডিওর শেষটায় আছে তার চার বছরের মেয়ের গলা, ‘মা ভয় পেয়ো না, আমি তো আছি।’ এই ভিডিওর ফলে শুধু তার মেয়ে নয়, সারা বিশ্ব তার পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কিছু করতে পারেনি। পুলিশের কিছু হয়নি, হয় না। বিচারের বাণী নীরবে, নিভৃতে কাঁদে।

অশ্রুপাত যথেষ্ট হয়নি শুধু একজনের জন্যই মাইকা জেভিয়ার জনসন। সে ভেবেছিল হয় সুবিচার নয় প্রতিশোধ। বয়স পঁচিশ। ইউ এস সেনাবাহিনীতে সে ছিল পাঁচ বছর যার মধ্যে নয় মাস আফগানিস্তান রণাঙ্গনে। ৭ বার সে সাহসিকতার জন্য মেডেল, প্রশংসাপত্র, রিবুটাসাইটেশন (বিশেষ উল্লেখ) পেয়েছে। ২০১৫তে দেশে ফিরে পরপর পুলিশের নির্বিচার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনায় সে উত্তেজিত হয়ে পড়ল। কী অনায়াসে পুলিশ মানুষকে খুন করে, কোনও সাজা হয় না। ভিডিওতে দেখা যায় তুচ্ছতম অপরাধে তারা গুলি করে মারছে, প্রশাসন বলছে ভিডিও যথেষ্ট প্রমাণ নয়, এর বাইরেও অনেক অনুসন্ধান প্রয়োজন। আধুনিক টেকনোলজির দুটি স্রোত এই ঘটনাগুলিতে মিশেছে। এক হচ্ছে সেল ফোনের সর্বময়তা, অন্য হচ্ছে আমেরিকার অবাধ ‘গান কালচার’। মাইকা সুদক্ষ সৈনিক। অব্যর্থ লক্ষ্যে বারোজন পুলিশকে গুলি করেছিল। সবাই ভেবেছিল একাধিক লোক গুলি করছে একসঙ্গে। যখন আলোচনা চলছে তখন পেছন থেকে রোবট বোমা ফেলে পুলিশ তাকে হত্যা করে।

পুলিশের সঙ্গে আলোচনাকালে মাইকা বলে যে সে সাদাদের মারতে চেয়েছে, বিশেষত সাদা পুলিশকে।

ওবামার নির্বাচনের পর সবাই ভেবেছিল বুঝি বর্ণনিরপেক্ষ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে, চার শতাব্দীর সংগ্রামের ওপর অবশেষে মিলনান্তক যবনিকা। পরিবর্তে গত আট বছরের ঘটনার পর মনে হচ্ছে নাটকে আরও অনেক অঙ্ক আছে। পর্দা আরও অনেকবার উঠবে, পড়বে। আমেরিকায় এতদিন পর্যন্ত গণহত্যা ঘটিয়েছে শ্বেতাঙ্গরা, কেউ বিকৃত, কেউ আত্মপ্রচারকামী, কেউ শুধু বাহবা পাওয়ার জন্য। দু’টি সাম্প্রতিক ঘটনা বিতর্কের ভূমি পাল্টে দিয়েছে। আমেরিকান সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর ছত্রচ্ছায়ায় এক ইসলামিক ‘চরমপন্থী’ দম্পতি বিপুল অস্ত্রাগার বানিয়ে ফেলেছিল-বোমা, বিস্ফোরক, অ্যাসল্ট রাইফেল, হ্যান্ডগান সব। বলি হয়েছে একসঙ্গে পঞ্চাশ জন, আরও হতে পারত। আর ডালাসে অস্ত্রধারী ছিল এক কৃষ্ণাঙ্গ। যতদিন বন্দুকের অধিকার শুধু শ্বেতাঙ্গদের মনে করা হত, ততদিন রক্ষণশীলদের কাছে এই অধিকার ছিল জন্মগত ও পবিত্র। কিন্তু বন্দুকের নল ঘুরে গেলে!

প্রেসিডেন্ট গার্ডবাহিনী ভেঙে দিল তুরস্ক

turkey president

সংলাপ ॥ তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম তুরস্কের প্রেসিডেন্ট গার্ড বাহিনীকে ভেঙে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সাম্প্রতিক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর এ বাহিনী ভেঙে দেয়ার ঘোষণা দিলেন তিনি।

তুরস্কের হাবার টিভি চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বিনালি বলেছেন, তুরস্কে আর প্রেসিডেন্ট গার্ড বাহিনী থাকবে না। এ বাহিনীর আর কোনো দরকার নেই।

এর আগে প্রেসিডেন্ট গার্ড বাহিনীর ২৮৩ সদস্যকে আটকের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় জড়িত থাকার দায়ে তাদের আটক করা হয়।

গত ১৫ জুলাই তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার পর প্রেসিডেন্ট এরদোগান তিন মাসের জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। জরুরি অবস্থা জারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এরদোগান বলেন, সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত সব ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠনের শেকড় দ্রুত উপড়ে ফেলার জন্য এর প্রয়োজন রয়েছে।

তুরস্কের সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পেছনে আমেরিকা প্রবাসী ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করছে এরদোগান সরকার। তবে গুলেন এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন।

অপরদিকে তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর সেদেশের আরো ১৪ জন হেলিকপ্টার পাইলটকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিমান ঘাঁটি থেকে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৮ জন পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তুরস্কের পুলিশ এ খবর দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গার্ড বাহিনীর ৩০০ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন সরকারি বিভাগ থেকে প্রায় ৬০,০০০ কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি আরো প্রায় ১০,০০০ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে, তুরস্কের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর তাদের ৪২টি হেলিকপ্টার ও ১৪টি যুদ্ধ জাহাজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একজন তুর্কি কর্মকর্তা সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন। তুরস্কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে এসব হেলিকপ্টার ব্যবহৃত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ইস্তাম্বুল থেকে আরো কয়েকটি সূত্র তুর্কি নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ নিখোঁজ হওয়ার খবর দিয়েছে। এর আগেও কয়েকটি গণমাধ্যম হেলিকপ্টার ও যুদ্ধজাহাজ নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়েছিল।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় উভচর বিমান তৈরি করল চীন

biman

সংলাপ ॥ চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় উভচর বিমান তৈরি করেছে। চীনের সংবাদ মাধ্যম বলেছে, ত্রাণ তৎপরতা এবং জঙ্গলের আগুন নেভানোর কাজে এ বিমান ব্যবহার করা হবে।

চীনের অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অব চায়না বা (এভিআইসি) শনিবার বিমানটি উদ্বোধন করেছে। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, দেশটির গুয়াংডং প্রদেশের ঝাওহাই নগরীতে এজি৬০০ নামের এ বিমান উদ্বোধন করা হয়।

এজি৬০০ বিমান আকারে প্রায় বোয়িং ৭৩৭’র সমান এবং এটি সর্বোচ্চ সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে।

পানি থেকে ওঠা-নামা করতে পারে বিশ্বে এমন যে সব বিমান বানানো হয়েছে তার মধ্যে এজি ৬০০ই সবচেয়ে বড়। এ বিমান নির্মাণকে চীনা বিমান শিল্পের জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দাবি করেছে বেইজিং।

সাগর সম্পদ অনুসন্ধান, পরিবেশ সংক্রান্ত নজরদারি এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে এ বিমান ব্যবহার করা যবে বলে সিনহুয়া জানিয়েছে।

তুরস্কের সেনা অভ্যুত্থান!

A tank moves into position as Turkish people attempt to stop them, in Ankara, Turkey, early Saturday, July 16, 2016. Turkey's armed forces said it "fully seized control" of the country Friday and its president responded by calling on Turks to take to the streets in a show of support for the government. A loud explosion was heard in the capital, Ankara, fighter jets buzzed overhead, gunfire erupted outside military headquarters and vehicles blocked two major bridges in Istanbul. (AP Photo)

সংলাপ ॥ তুরস্কের সেনা অভ্যুত্থান নিয়েই রয়েছে কিছু বিভ্রান্তি। দেশে দেশে ক্যু হয় সাধারণত গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের জন্য। তুরস্কে সেই চেনা ছবিটা যেন কিছুটা অন্যরকম। ইতিহাস বলে, এখানে সেনাবাহিনী গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারী। রাষ্ট্রের জনক মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক ১৯২৩ সালে যে আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিলেন, সেই আদর্শের অভিভাবক বলে মনে করে নিজেদের। আতাতুর্কের আদর্শ এবং গণতন্ত্রের বিচ্যুতি ঘটছে বলে এর আগে চারটি সফল ক্যু করেছে সেনা। ব্যর্থ হলে এটাই হবে প্রথম ব্যর্থতা। শুধু তাই নয়, অভ্যুত্থান না ঘটিয়েও বিভিন্ন সময়ে কলকাঠি নেড়ে শাসনক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে অনেক রাজনৈতিক নেতাকে। এবারও সেনাবাহিনী দাবি করেছে, দেশে গণতন্ত্র, শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করতেই এই অভ্যুত্থান। প্রেসিডেন্ট এর্ডোয়ান কট্টর ইসলামপন্থী বলে পরিচিত। তুরস্কের গোড়া মুসলমানদের পছন্দের নেতা। এই জনপ্রিয়তার জোরে প্রথম থেকেই তিনি সেনাবাহিনীকে আদর্শগত এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছেন। ২০১৩ সালে সেদেশে মহিলাদের হিজাব পরার নিয়মকে ফিরিয়ে এনেছেন। প্রেসিডেন্টের স্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানে যান হিজাব পরে। সরাসরি প্রশ্ন করলে বলেন, আমি ধর্মনিরপেক্ষ। কিন্তু চাই তুরস্কবাসী তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসগুলো আরও স্বাধীনভাবে জাহির করুক। বাবার হাত ধরে ইস্তানবুলে এসে আরও কিছু অর্থ আয় করার চেষ্টায় যখন এর্ডোয়ান ফেরি করছেন, তখন থেকেই তার শিক্ষা ইসলামি স্কুলে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গিয়ে কট্টর ইসলামপন্থী অবস্থান নেয়ার জন্য ৪ মাস জেলও খেটেছেন। ১৯৯৪ সালে ইস্তানবুলের মেয়র হওয়ার পরে প্রথম নজর কাড়েন তিনি। তার ভার্চু পার্টি নিষিদ্ধ হওয়ার পর ২০০১ সালে গড়েন এ কে পার্টি, এবং ২০০২ সালেই নির্বাচনে বিপুল সাড়া ফেলে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। ভারতের মতো তুরস্কেও প্রধানমন্ত্রীই দেশের প্রশাসনিক প্রধানের মর্যাদা পেতেন। কিন্তু তিনিই ২০১৪ সালে প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন। প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম থেকেই টক্কর লেগেছিল সামরিক বাহিনীর সঙ্গে। তিনি সামরিক আদালতের ক্ষমতা কমিয়ে দেন, সামরিক বাহিনীতে নিয়োগেও অসামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে আসেন। সামরিক বাহিনী ২০০৭ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে কট্টরপন্থী আবদুল্লাহ্ গুলের নির্বাচনের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু সেই আপত্তি অগ্রাহ্য করে গুলকেই প্রেসিডেন্ট পদে বসান এর্দুয়ান। জনপ্রিয়তার জোরে তখন মনে হয়েছিল, সবটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন তিনি। পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয় ২০১১ সালে সিরিয়া যুদ্ধের সময় থেকে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের অপসারণ চাওয়ার পাশাপাশি তিনি আই এসকে সরাসরি সমর্থন করতে থাকেন। কিন্তু সমস্যা ক্রমে জটিল হয়ে উঠল। একদিকে সিরিয়া থেকে একটানা শরণার্থী আছড়ে পড়লো তুরস্কে। অন্যদিকে আই এস বন্দুকের নল ঘুরিয়ে দিলো আশ্রয়দাতা তুরস্কের দিকেই। খেপে গেলো রাশিয়া। দীর্ঘদিনের বন্ধু ইজরায়েলের বিরোধিতা করে এর্দোয়ান পশ্চিম এশিয়ায় জনপ্রিয় হয়েছেন বটে, কিন্তু দেশের কুর্দিরা যখন সীমান্তপাড়ে আই এসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চেয়েছে, তখন তার বিরোধিতা করেছেন। ক্রমশ এর্দোয়ানের একনায়কতন্ত্রী চেহারাও বড় হয়ে উঠেছে। ২০১৩ সালে এ কে পার্টির বিরোধিতা করার জন্য তিনি ১৭ জন বর্ষীয়ান মিলিটারি অফিসারকে যাবজ্জীবন জেলে পাঠিয়েছেন। এছাড়াও কয়েকশো সরকারি অফিসার, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক নেতা তার রোষের শিকার হয়েছেন। গেজি পার্কে সবুজ ধ্বংস করে নির্মাণকাজের বিরোধিতাকে কড়া হাতে দমন করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়েছেন, শপথ করেছেন টুইটারকে মুছে দেবেন। তার জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে বিলাস আয়োজনও। রাজধানী আঙ্কারায় বানিয়েছেন হাজার ঘরের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ। আকারে আয়তনে যা হোয়াইট হাউস বা ক্রেমলিনকেও ছাপিয়ে যায়। দেখেশুনে অনেক সমর্থক তাকে সুলতান নামে ডাকতে শুরু করেছিলেন। ফের তিনি অটোমান সাম্রাজ্যের গৌরব নাকি ফিরিয়ে আনবেন, একথাও শোনা গেছে। ২০১৪ থেকে কমতে থাকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার, বাড়তে থাকে বেকারত্বের হার। পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে দুর্নীতি। আর তাতে জড়িয়ে পড়েন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠজনরা। সঙ্কট বাড়ছে দেখে সম্প্রতি তিনি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমস্যা কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন, যেমন চেষ্টা করছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে শত্রুতা মিটিয়ে ফেলার। কিন্তু শুক্রবারের রাতের অভ্যুত্থান বলে দিচ্ছে, সে চেষ্টায় পুরোপুরি সফল হননি তিনি।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার দোহাই দিয়ে গত শুক্রবার রাতভর তুরস্কে তা-ব চালাল বিদ্রোহী সেনার দল। গত   শনিবার সকালে গণপ্রতিবাদে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিদ্রোহী সেনা ও পুলিশের সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা ২৯০। আহত দেড় সহস্রাধিক, জানালেন প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। প্রেসিডেন্ট তায়িব এর্দোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে শনিবার রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। তাদের প্রতিবাদের জেরেই পিছু হটতে বাধ্য হয় বিদ্রোহী সেনা। গত শুক্রবার রাত থেকে সেনাবাহিনীর একাংশ তুরস্কের দখল নিতে শুরু করে। আঙ্কারা ও ইস্তানবুল বিমানবন্দর, জাতীয় টেলিভিশন দপ্তর সহ বেশ কয়েকটি জায়গার দখল নেয়। জারি হয় কারফিউ। সংসদ ও বিমানবন্দরে চলে গোলাগুলি। শোনা যায় বিস্ফোরণের শব্দ। সেনা সদর দপ্তরেও হামলা চলে। পণবন্দী করা হয় বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্তাকে। সড়কপথে সেনা ট্যাঙ্ক ও আকাশপথে নজরদারি চালাতে শুরু করে যুদ্ধ বিমান। বসফরাস প্রণালীতে তুরস্কের সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ার যোগাযোগ স্থাপনকারী দু’টি সেতু বন্ধ করে দেয়া হয়। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় বিমানের উড্ডয়ন। বর্তমান সরকারকে সরিয়ে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করাই ছিলো অভ্যুত্থানকারী সেনাদের উদ্দেশ্য। এমন পরিস্থিতিতে টুইটারে সাধারণ মানুষকে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ করতে আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান। আন্দোলন শুরু হওয়ার সময় ইস্তানবুলে না থাকলেও, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে শনিবার সকালে ইস্তানবুল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। ততক্ষণে তার ডাকে সাড়া দিয়ে রাস্তায় ঢল নেমেছে হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষের। গোলাগুলির শিকার হলেও, প্রতিবাদ ছেড়ে পালিয়ে যাননি কেউ। শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদী মানুষের সামনে হার মানে বিদ্রোহী সেনা। ইস্তানবুল বিমান বন্দর থেকে সরে যেতে বাধ্য হয় তারা। পরিস্থিতি বুঝে ইস্তানবুল বিমানবন্দরে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন এর্দোয়ান। সেনা অভ্যুত্থানকে দেশদ্রোহিতার আখ্যা দেন তিনি। গোটা ঘটনার জন্য তুর্কি বংশোদ্ভূত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মৌলবি ফেতুল্লা গুলেনকে দায়ী করেন। দোষীদের কড়া শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তারপর পথে নামে সরকারপন্থী সেনার দল। শুরু হয় ধরপাকড়ের পালা। উদ্ধার করা হয় পণবন্দী সামরিক কর্তাদের। অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অপরাধে ৭৫৪ জন সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক করা হয় ৩,০০০ জনকে। নিজে থেকেও আত্মসমর্পণ করতে শুরু করে বিদ্রোহী সেনার একাংশ। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে গ্রিসে পালিয়ে যায় ৮ বিদ্রোহী সেনা। নিরাপদ আশ্রয় চেয়ে আর্জি জানায় তারা। বিদ্রোহী সেনার ৫ জেনারেল ও ২৯ কর্ণেলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। হাই কোর্টের বিচারকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বিদ্রোহীদের কব্জা থেকে বায়ুসেনা ঘাঁটিগুলোকেও মুক্ত করে ফেলেছে তুরস্ক প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম এই ঘটনাকে অভ্যুত্থান বলে মানতে রাজি নন। ঘটনার জন্য দায়ী সেনাদের তিনি বিদ্রোহী আখ্যা দিয়েছেন। এর আগে তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানের মতো ঘটনা ঘটলেও, শুক্রবারের ঘটনার পিছনে প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ানের ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ ও সেনা সংঘাতকেই দায়ী করছেন অনেকে। তাদের দাবি, ইসলামি রাষ্ট্র তুরস্ককে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি দিতে এর্দোয়ানের অবদান অনস্বীকার্য। তিনিই প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি সেনাবাহিনীর প্রতিপত্তি কমিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী হন। শুক্রবারের ঘটনার পর দেশের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করেছে তুরস্ক সরকার। কিন্তু গোটা ঘটনায় আমেরিকার কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আগে মধ্যপ্রাচ্যে আই এসের আধিপত্য বিস্তারে প্রচ্ছন্ন সমর্থন থাকলেও, অতি সম্প্রতি আই এসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে মার্কিন যৌথ বাহিনীতে নাম লিখিয়েছে তুরস্ক। ইরাক ও সিরিয়ায় আই এস জঙ্গিদের পরাস্ত করতে অনেকাংশেই তুরস্কের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল তারা। আই এসকে রুখতে তুরস্কের দক্ষিণে সিরিয়া সীমান্তের কাছে দিয়ারবকির এলাকায় একটি সেনা ঘাঁটিও গড়ে তোলে। জঙ্গিদের ওপর হামলা চালাতে এ-১০ যুদ্ধ বিমান ও কে সি-১৩৫ ট্যাঙ্কারের মত যুদ্ধ সরঞ্জাম সেখান থেকেই সরবরাহ করা হয়। জ্বালানি ভরাতে যুদ্ধে ব্যবহৃত বিমানের এক তৃতীয়াংশ সেখানেই আসে। এছাড়া, ইস্তানবুল থেকে ২০০ মাইল দূরে ইজমিরেও একটি বায়ু সেনা ঘাঁটি গড়ে তুলেছে আমেরিকা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরে যাওয়াই শ্রেয় বলে মনে করছে সেখানকার মার্কিন দূতাবাস। যদি তাই ঘটে, তাহলে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে মার্কিন যৌথ বাহিনীর লড়াই কিছুটা থমকে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

অপরদিকে তুরস্কে আমেরিকার ব্যবহৃত একটি বিমান ঘাঁটি থেকে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে তুরস্কের বিমান বাহিনীর একজন জেনারেল ও অন্য কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন। তুরস্কের দৈনিক হুররিয়াত পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম গত রোববার এ খবর দিয়েছে।

সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথিত বিমান অভিযানে তুরস্কের ইনজারলিক নামে এ ঘাঁটিটি ব্যবহার করে আমেরিকা। সেখান থেকে তুর্কি বিমান বাহিনীর জেনারেল বেকির এরকান ভানকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার সঙ্গে এক ডজনেরও অনুগত সেনা কর্মকর্তাকে আটক করা হয়।

তুরস্কের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, আংকারা ধারণা করছে এ বিমান ঘাঁটি থেকে অভ্যুত্থানকারীরা জঙ্গিবিমানে জ্বালানি নিয়েছে।

গত বছর তুরস্ক ইনজারলিক বিমান ঘাঁটিটি আমেরিকাকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়। সেখান থেকে আমেরিকা উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের বিরুদ্ধে কথিত বিমান হামলা চালাচ্ছে। তবে এসব হামলার তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায় না।

ইনজারলিক বিমান ঘাঁটিটি কৌশলগত দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে আমেরিকার অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য মার্কিন যুদ্ধবিমান এ-১০ রয়েছে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর যে ছয়টি ঘাঁটি রয়েছে এটি তার একটি। সেখানে পরমাণু বোমাও রাখা হয়েছে। আমেরিকায় স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা তুর্কি সরকার বিরোধী ব্যক্তিত্ব ফতেউল্লাহ গুলেন দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান নিজেই শুক্রবারের সামরিক অভ্যুত্থানের নাটক সাজাতে পারেন। পেনসিলভানিয়ায় নিজ বাসভবনে হাতেগোনা কয়েকজন সাংবাদিককে দেয়া সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন তিনি।

খবরে প্রকাশ, ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পেনসিলভানিয়ায় জীবন-যাপন করছেন গুলেন। অতীতে এরদোগানের সঙ্গে তার ভাল সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালের এক দুর্নীতি কেলেংকারিকে কেন্দ্র করে এ সম্পর্কে চিড় ধরে। চলতি মাসের ১৫ তারিখ রাতে তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় তিনি জড়িত বলে এরদোগানের প্রশাসন যে দাবি করছে তারই পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন গুলেন। গুলেন বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগান যে অভিযোগ এনেছে তা বিশ্ব বিশ্বাস করবে না। বরং অভ্যুত্থানের বিষয়টি একটি সাজানো নাটক হতে পারে। তার বিরুদ্ধ আরো অভিযোগ আনার অজুহাত হিসেবে একে ব্যবহার করা হবে বলে মনে করেন তিনি।

গুলেন আরো বলেন, যে কোন ধরণের সামরিক হস্তক্ষেপকে মেনে নেন নি তিনি। এ ছাড়া, ১৯৯০’এর দশকের সেনা অভ্যুত্থানে ব্যক্তিগত ভাবে নিজেও নির্যাতিত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ খবরে প্রকাশ, তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা পর প্রায় ৯০০০ সরকারি কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার রাতের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান জোরদারের পরিপ্রেক্ষিতে এ সব কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়।

তুর্কি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মোট ৮৭৭৭ সরকারি চাকরিজীবীকে তাদের পদ থেকে তিন দিন আগে বরখাস্ত করা হয়েছে। তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থাকে এক কর্মকর্তা বলেছেন, বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন প্রাদেশিক গভর্নর এবং ২৯ জন নগর প্রশাসক রয়েছেন। বরখাস্ত কর্মীদের বিচার করা হবে কিনা খবরে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয় নি।

ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৮,০০০ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, অন্তত ১০০ জেনারেল এবং অ্যাডমিরালসহ প্রায় ৬,০০০ সেনা কর্মকর্তা ও বিচারককে আটক করা হয়েছে।

ফ্রান্সে বাস্তিল উৎসবে সন্ত্রাসী হামলা

9b248767bdbfd7736860fa412c1685188d2ee5b5সংলাপ ॥ ফ্রান্সের জাতীয় দিবস ‘বাস্তিল ডে’ উদ্যাপনের জন্য নিস শহরের সমুদ্র সৈকতে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। চারদিকে উৎসবের আমেজ। আকাশে আতশবাজির রোশনাই। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ আচমকাই পাল্টে গেল ছবিটা। ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করে ছুটে এল ১৯ টনের একটা সাদা ট্রাক। তার চাকায় প্রাণ গেল ৮৪ জনের। যার মধ্যে ১০ জন শিশু। আহতের সংখ্যা ২০০-র বেশি। তার মধ্যেও অন্তত ৫০ জন শিশু রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, বেশ কয়েক জন আহতের অবস্থা সঙ্কটজনক। প্রায় ২৫ জন কোমায়। ফলে আরও দীর্ঘ হতে পারে মৃত্যুমিছিল।

চাকার তলায় মানুষ পিষতে পিষতে প্রায় দু’কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার পরে অবশেষে গুলিবিদ্ধ করে থামানো হয় ট্রাকচালককে। প্রাথমিক তদন্তের পর যার নাম মোহামেদ লাহুআইয়েজ বুহলেল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। ৩১ বছর বয়সি ফরাসি-তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত ওই ব্যক্তিকে শেষ পর্যন্ত গুলি করে মেরেছে নিরাপত্তারক্ষীরা। তার আগে সেও এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। কিন্তু শুক্রবার রাত পর্যন্তও জানা যায়নি, ঘটনার সময় বুহলেলের আর কোনও সঙ্গী ছিল কি না। ট্রাকটি থেকে একটি আসল পিস্তল মিললেও বাকি যে দু’টি কালাশনিকভ রাইফেল এবং একটি গ্রেনেড পাওয়া গিয়েছে, সেগুলো নকল।

তবে কয়েক দিন আগেই আইএস জঙ্গি গোষ্ঠী ইন্টারনেটে একটি ভিডিও  পোস্ট করেছিল। (৭ পৃষ্ঠা ১ কলাম)

ট্রাক-বোঝাই বিস্ফোরক নিয়ে জনবহুল এলাকায় হামলা চালানোর কথা বলা হয়েছিল সেই ভিডিও-য়। ফলে বুহলেলের সঙ্গে কোনও জঙ্গি সংগঠনের যে সম্পর্ক ছিল না, তা-ও স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ ঘটনাটিকে জঙ্গি হানা বলেই আখ্যা দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সন্ত্রাস ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। এ বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই।’

সেটা সত্যি হলে গত দেড় বছরে এই নিয়ে তিন বার জঙ্গি হানার শিকার হল ফ্রান্স। গত বছর জানুয়ারিতে ব্যঙ্গ পত্রিকা শার্লি এবদোর দফতরে হামলা দিয়ে যার শুরু। সেবার বার প্রাণ গিয়েছিল ১২ জনের। তারপর গত বছরই নভেম্বরে একের পর এক হানা রাজধানী প্যারিসে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ছ’জায়গায় বন্দুকবাজদের গুলিতে মারা যান ১২৮ জন। দু’টি ঘটনারই দায় স্বীকার করেছিল আইএস। চলতি বছরের জুন মাসে দুই পুলিশ অফিসারের উপর হামলা চালায় এক ব্যক্তি। পরে সে দাবি করে, আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।

প্যারিস-হানার পরে দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন ওঁলাদ। চলতি মাসেই তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ দিনের ঘটনার পর আরও তিন মাস জরুরি অবস্থা বলবৎ রাখার কথা ঘোষণা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। এই ঘটনার পরেই নিসে জারি হয়েছে কড়া সতর্কতা। বিমানবন্দর বন্ধ করে সেখানে তল্লাশি চালাচ্ছে সেনাবাহিনী।

ঠিক কী হয়েছিল রাতে? প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, বাস্তিল দিবস উদ্যাপনে সমুদ্রের তীরে প্রম্নদ দেজ অঙ্গলে-তে সপরিবারে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। সেখানে তখন চলছিল আকাশে আতশবাজির রোশনাই। ওই ভিড়ের মধ্যে আচমকাই প্রচ- গতিতে ধেয়ে আসে একটা সাদা বড় ট্রাক। একবার ডান দিক এক বার বাঁ দিক, একেবেঁকে ভিড়ের মধ্য দিয়ে ছুটতে থাকে। কখনও গতি বাড়িয়ে, কখনও কমিয়ে এগোতে থাকে সেটি। প্রাণ বাঁচাতে  দৌঁড়াতে শুরু করেন মানুষ। অনেকেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান, ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হতে থাকেন। কোন দিকে গেলে প্রাণ বাঁচবে কেউ কিছু বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

এভাবে প্রায় দু’কিলোমিটার ধরে হত্যালীলা চালায় ট্রাকটি। বহু প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই সময় গুলির শব্দও শোনা গিয়েছিল।

পরে পুলিশ জানায়, রাত ১২টা নাগাদ প্যালে দ্য মেদিতরানি ওতেলের কাছে ঘাতক ট্রাকটি থামে। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ভিড়ের মধ্যে থেকে কেউ একজন ট্রাকটির সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ার পরেই সেটি থেমে যায়। বুহলেল তাকে লক্ষ্য করে গুলিও চালায়। ততক্ষণে পুলিশ ট্রাকটি ঘিরে ফেলেছে। তারা পাল্টা গুলি চালায়। খানিকক্ষণ গুলির লড়াই চলে। পরে পুলিশ জানায়, গুলিতে মারা গিয়েছে ট্রাকচালক। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গিয়েছে, গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছে ট্রাকটির সামনের কাচ।

পুলিশ ও ট্রাকচালকের গুলির লড়াইয়ের গোটা দৃশ্যটি রেকর্ড করেছেন নাদের-এল-শাফেই নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী। সংবাদমাধ্যমে আজ সারা দিন ঘুরেছে নাদেরের তোলা সেই ফুটেজ। সংবাদমাধ্যমের কাছে নাদের জানিয়েছেন, তিনি ওই আততায়ীকে কয়েক মিনিটের জন্য সামনে থেকে দেখেছিলেন। নাদের বলেন, ‘ওই আততায়ীকে দেখে খুব নার্ভাস বলে মনে হচ্ছিল! কী যেন খুঁজছিল। আমি তা-ই দেখে তার দিকে হাত নেড়ে চেঁচিয়ে তাকে থামতে বলেছিলাম। এর পরেই সে বন্দুক তুলে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে।’ রাস্তা লাগোয়া বাড়ির বারান্দা থেকে বাজি পোড়ানো দেখছিলেন পিয়োরো বিয়ানকুল্লি। তার কথায়, ‘হঠাৎ দেখলাম লোকেরা ভয়ে চিৎকার করতে করতে দৌঁড়াচ্ছে। গোড়ায় ভেবেছিলাম কেউ মজা করার জন্য গুজব ছড়িয়েছে। তার পরেই দেখলাম ট্রাকটাকে। তার ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে গেল একের পর এক লোক।’

ধ্বংসলীলার শেষে রাস্তা জুড়ে পড়ে রয়েছে মৃতদেহ। রক্তাক্ত। পুলিশ এসে কাপড়ে-চাদরে মুড়ে দিচ্ছে সেগুলো। তার মাঝে নিথর বসেছিলেন সাদা কোট পরা মাঝ বয়সি এক ব্যক্তি। তাকে ঘিরে চার-পাঁচ জনের ছোটখাটো             একটা ভিড়। কোনও মতে কান্না চাপতে চাপতে সেই ভিড়েরই একজন বললেন, ‘ওর গোটা পরিবারটাই ট্রাকের তলায় শেষ হয়ে গিয়েছে।’

রাশিয়া তুর্কি নয়া পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

rashia

সংলাপ ॥ রুশ জঙ্গি বিমান আবারও তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে বলে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান অভিযোগ করেছেন। তিনি তার ভাষায় ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ না নিতে’ মস্কোকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

ন্যাটো জোটও বলেছে, রাশিয়ার উচিত এমন সব ব্যবস্থা নেয়া যাতে তুরস্কের আকাশ-সীমা লঙ্ঘন করা হচ্ছে না বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। সিরিয়ার সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালানোর সময় তুরস্কের আকাশসীমার প্রতি ‘পরিপূর্ণ সম্মান’ রাখা উচিত বলেও ন্যাটো জোট মন্তব্য করেছে।

রাশিয়ার কয়েকটি জঙ্গি বিমান গত শুক্রবার আবারও তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে বলে তুরস্ক ও ন্যাটো জোট দাবি করছে। এই অভিযোগ তোলার পর তুর্কি সরকার আঙ্কারায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এবং তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

তুর্কি সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে রাশিয়াকে হুঁশিয়ারি দেয়ার পর তুরস্কের বিমান বাহিনীতে কমলা রংয়ের সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। তুর্কি বিমান বাহিনীর কমান্ড-কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, তুর্কি জঙ্গি বিমানের পাইলটদের বলা হয়েছে তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী যে কোনো বিমান ও হেলিকপারকে ঘায়েল করতে হবে এবং এক্ষেত্রে কমান্ড সেন্টারের পক্ষ থেকে নতুন নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করারও দরকার নেই। রাশিয়া তুর্কি অভিযোগকে প্রচারণা বলে নাকচ করে দিয়েছে।

এর আগেও তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে যখন রাশিয়ার একটি জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করে তুর্কি বিমান তখনও রুশ বিমানটি সিরিয়ার আকাশসীমার ভেতরেই ছিল বলে মস্কো বলে এসেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রুশ জঙ্গি বিমান তুর্কি আকাশ-সীমা লঙ্ঘন করেছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা অতিরঞ্জন বা প্রচারণা মাত্র যাতে তাকফিরি-সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশসহ অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান রুশ সামরিক অভিযান থামিয়ে দেয়া যায়। সিরিয়ার যুদ্ধের ময়দানে তুর্কি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ায় রাজনীতি ও কূটনীতির ময়দানে তোলপাড় তুলে তুর্কি সরকার সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র পক্ষ হিসেবে সক্রিয় রাশিয়ার সাফল্যকেও ম্লান করতে চাইছে।

সম্প্রতি তুর্কি প্রধানমন্ত্রী দাউদ উগলু সৌদি আরব সফর করেছেন এবং জেনেভায় জাতিসংঘের শান্তি আলোচনার ব্যাপারে তুর্কি ও সৌদি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর আচরণও এই প্রেক্ষাপটে লক্ষণীয়। সন্ত্রাসী এই গোষ্ঠীগুলো এতদিন বলে আসছিল যে তাদের শর্ত মানা না হলে তারা জেনেভা বৈঠকে বসবে না। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে ক্রমাগত পরাজয়ের মুখে হঠাৎ ইউ-টার্ন নিয়ে তারা এখন জেনেভা বৈঠকে যোগ দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এ বৈঠকে তুর্কি-আকাশসীমায় রুশ জঙ্গি বিমান ঢুকে পড়ার অভিযোগ তোলার বিষয়কে সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে পরিকল্পিত পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। তুরস্ক এই অভিযোগের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের আরও বেশি সাহায্য সমর্থনও পেতে চাইছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। সিরিয়ার কথিত বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসীদের পরাজয় যখন অনিবার্য তখন তুরস্ক এ ধরনের নতুন ইস্যু তৈরি করে সিরিয়ার কৃত্রিম সংকটে জটিলতার নতুন মাত্রা যুক্ত করতে চায়।

তালেবান আগের চেয়েও শক্তিশালী হচ্ছে !!!!

সংলাপ ॥ আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের ১৪ বছর পরেও তালেবানের অবস্থান আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসে দেয়া প্রতিবেদনে এ কথা বলেছেন স্পেশাল ইনপেক্টর জেনারেল ফর আফগানিস্তান রিকনস্ট্রাকশন বা এসআইজিআর। গতকাল এ প্রতিবেদন কংগ্রেসে পেশ করা হয়েছে।

এতে আরো স্বীকার করা হয়েছে, ২০০১ সালে মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসনের পর এখন তালেবান গোষ্ঠী দেশটির সবচেয়ে বেশি taleban1জায়গা নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের নাজুক অর্থনীতির অবনতি ঘটছে। এছাড়া দেশটি পুনর্গঠন তৎপরতার ক্ষেত্রে কলঙ্কজনক নানা জালিয়াতি ঘটেছে।

মার্কিন অর্থায়নে পুনর্গঠন প্রকল্পগুলো নিরাপত্তার অভাবে পরিদর্শন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়েছে এ প্রতিবেদনে। মার্কিন কর্মকর্তারা তো নয়ই, এমনকি আফগান কর্মকর্তারাও এসব প্রকল্প পরিদর্শনে যেতে পারছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আফগানিস্তান পুনর্গঠনে আমেরিকা ১১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে বলে দাবি করা হয় এ প্রেতিবেদনে।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর মার্শাল প্ল্যানের আওতায় পশ্চিম ইউরোপ পুনর্গঠনে যে অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল ডলারের হিসাবে তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে আফগানিস্তানে।

মার্কিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জন উইলিয়াম নিকোলসন বলেছেন, আফগানিস্তানে সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানের সহযোগিতা নিতে হবে। সিনেটের আর্মড সার্ভিস কমিটির শুনানিতে এ কথা বলেন তিনি। নিকোলসনকে পুরোপুরি জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দেয়া এবং আফগানিস্তানে মোতায়েন ন্যাটো ও মার্কিন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত শনিবার তার এ বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। তিনি আরো বলেছেন, সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় পাক সেনাবাহিনীর অভিযানের গুরুত্ব রয়েছে। মার্কিন সিনেটে দেয়া লিখিত শুনানিতে তিনি বলেন, উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় পাক সেনাবাহিনীর চলমান অভিযানের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সন্ত্রাসীদের আফগানিস্তানে নাশকতা চালানোর সক্ষমতা কমে গেছে।

এছাড়া তিনি অভিন্ন সীমান্তে পাক-আফগান সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। সীমান্ত নিরাপত্তা এবং  সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী অভিযানের জন্য এর গুরুত্ব রয়েছে বলে জানান তিনি।