শেষ পাতা

উত্তর-দক্ষিণ করিডোর প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার!

uttor-dokkhin

সংলাপ ॥ ইরান, রাশিয়া ও আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট উত্তর-দক্ষিণ ট্রানজিট করিডর প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের মধ্যদিয়ে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে শেষ হয়েছে ত্রিদেশীয় সম্মেলন। এ সম্মেলনে অংশ নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ।

সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায় উত্তর-দক্ষিণ ট্রানজিট করিডর প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। এ করিডর নির্মিত হলে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের দ্রুত ও কার্যকরী বাণিজ্যিক সংযোগ গড়ে উঠবে। এ ধরনের করিডর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ব্যাপক আর্থিক সুবিধা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্মেলনে তিন প্রেসিডেন্ট গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ট্রানজিট করিডর প্রতিষ্ঠায় নিজেদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করবে।

উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডর বলতে ভারত, রাশিয়া, ইরান, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার ভেতরে পণ্য বিনিময়ের জন্য নদীপথ, রেল এবং সড়কপথকে বোঝানো হয়েছে। মুম্বাই, মস্কো, তেহরান, বাকু, বন্দর আব্বাস, আস্ত্রাখান ও বন্দর আঞ্জালির মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর-বন্দরের মধ্যে বাণিজ্য সংযোগ বাড়ানোই এ করিডরের উদ্দেশ্য। এ করিডর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ভারত থেকে উত্তর ইউরোপ ও স্ক্যান্ডানেভিয়ান দেশগুলো পর্যন্ত বাণিজ্য বিস্তৃত করবে।

ইরান, রাশিয়া ও ভারতের পাশাপাশি ট্রানজিট নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে আরমেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, কিরগিজিস্তান, তাজিকিস্তান, কাজাখস্তান, ইউক্রেন, তুরস্ক, তাজিকিস্তান, ওমান, সিরিয়া ও বুলগেরিয়া। ২০১৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে এ করিডর চালু করা হয় এবং ভারতের মুম্বাই থেকে ইরানের বন্দর আব্বাস হয়ে আস্ত্রাখান ও বাকুতে পণ্য পরিবহণ করা হয়। তখন দেখা গেছে ১৫ টনের প্রতিটি কার্গো পরবিহণে ২,৫০০ ডলার ব্যয় কম লাগছে।

তিন প্রেসিডেন্টের এ সম্মেলনে উত্তর-দক্ষিণ করিডর প্রতিষ্ঠার বিষয়টি একটি মৌলিক ইস্যু হিসেবে আলোচিত হয়েছে। এ করিডর প্রতিষ্ঠা হলে এর দূরত্ব হবে ৭,২০০ কিলোমিটার।

সম্মেলনে তিন প্রেসিডেন্ট এ এলাকায় প্রকৃতিক গ্যাসের কারখানা গড়ে তোলার বিষয়ে সহযোগিতার জন্য রাজি হয়েছেন। এছাড়া ইরান, রাশিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে যে প্রচেষ্টা চলছে তার প্রতিও তিন প্রেসিডেন্ট সমর্থন দেন। এ অঞ্চলে টেকসই উন্নয়নে এ প্রচেষ্টা অবদান রাখবে বলে তারা উল্লেখ করেছেন। এর পাশাপাশি ব্যাংকিং ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে বিশেষ করে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য নতুন প্রযুক্তি আনার জন্য আলোচনা হয়।

দলিতদের না মেরে আমাকে মারুন : মোদি

modi

সংলাপ ॥ গত শনিবার রাজধানী দিল্লির পর রবিবার তেলেঙ্গানা। উনায় দলিত নিগ্রেহের পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গো-রক্ষা নিয়ে দু’ দুবার মুখ খুললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বললেন, গো-রক্ষার নামে ভুয়ো গরু সেবক এবং রক্ষকদের মুখোশ খুলে দিতে হবে। নিতে হবে ব্যবস্থা। দিতে হবে শাস্তি। এ ব্যাপারে সব রাজ্য সরকারকে সজাগ হয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শও দেন মোদি। কেবল সরকার নয়। দেশের প্রতিটি সচেতন ব্যক্তিকেও এ ব্যাপারে নজরদারির দায়িত্ব দেন তিনি। দলিতদের উপর যাতে অত্যাচার না হয়, সেই দিকে নজর রেখে তিনি এদিন এমন কথাও বলেন, দলিতদের মারবেন না। দরকারে আমাকে গুলি করে মারুন। যদিও বিরোধীরা এইসব বক্তব্যকে আমল দিতে রাজি নন। তাঁদের মতে এসবই সাজানো। নইলে প্রধানমন্ত্রী আরও আগেই ব্যবস্থা নিতে সক্রিয় হতেন।

কেন্দ্রে সরকারের দু বছর পূর্তি উপলক্ষে দিল্লির টাউন হলে এক অনুষ্ঠানে গোরক্ষা নিয়ে প্রথম মুখ খোলেন মোদি। উত্তর প্রদেশের দাদরি থেকে গুজরাতের উনা, গো-রক্ষার নামে লাগাতার অপ্রত্যাশিত ঘটনার জেরে মোদি সরকার এবং বিজেপির তীব্র সমালোচনা বজায় রেখেছে বিরোধীরা। সুযোগ পেলেই আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টিসহ সরকারের বিরোধী দলগুলো। গো মাংসকে কেন্দ্র করে পরের পর ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী চুপ থাকায় বিরোধিতা বাড়ছিল। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আসন্ন ভোটে দলিত ভোটব্যাংকের কথা মাথায় রেখে বিজেপি দলিত ইস্যু যাতে বিরোধীদের হাতে অস্ত্র না হয়ে ওঠে সেই চেষ্টা করছে।

তাই এবার বিরোধীদের চুপ করিয়ে দিতে সরকারি অনুষ্ঠান হলেও গতকাল সেখানে গো-রক্ষা নিয়ে মুখ খোলেন মোদি। কড়া বার্তা দেন। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ বলেও প্রকাশ করেন। কিন্তু তাঁর এই রাগ লোকদেখানো, নাটক বলে রবিবার কটাক্ষ করে বিরোধীরা। কংগ্রেসের রাজ্যসভার নেতা গুলাম নবি আজাদ, শীলা দীক্ষিত থেকে শুরু করে সিপিএমের বৃন্দা কারাত, সিপিআইয়ের এমপি ডি রাজা, বিএসপির সুধীন্দ্র ভাদোরিয়া, হায়দরাবাদের এমআইএমের লোকসভার এমপি আসাউদ্দিন ওয়াইসি। কম-বেশি প্রত্যেকেই মোদির সমালোচনা করেন।

রাজনৈতিক সূত্রে খবর, বিষয়টি নিয়ে সংসদেও হইচই হতে পারে। গত রবিবার তেলেঙ্গানায় ‘ভগীরথ’ নামে এক জলপ্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গিয়ে ফের গরু রক্ষার নামে যেসব ভন্ড মাতব্বরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে সব রাজ্যকে কড়া হওয়ার বার্তা দিলেন মোদি। কিছু সমাজবিরোধী লোকজন গো-রক্ষার নাম করে আসলে দেশে ভাগাভাগি করতে চাইছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। গো-রক্ষার নামে যেসব জালিয়াতরা সামাজিক বন্ধন নষ্ট করতে চাইছে, রাজ্য সরকারগুলোকে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন মোদি। বলেছেন, কিছু লোকের কায়েমি স্বার্থ পূরণ করতে সরকারের ভালো কাজ, সাধু উদ্যোগ নষ্ট করে দিতে চাইছে। তবে সেই সুযোগ তাদের দেয়া হবে না বলে একপ্রকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদি যেভাবে মুখ খুলেছেন, তা আগেই করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। তাদের দাবি, গুজরাতের উনায় দলিতের ওপর অত্যাচারের ঘটনার পরই প্রধানমন্ত্রী নড়ে-চড়ে বসেছেন। তাই মুখ খুলেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যদি জানেনই যে সমাজবিরোধীদের একাংশ গো-রক্ষার নামে মাতব্বরি করছে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে এতদিন ব্যবস্থা নেননি কেন? প্রশ্ন বিরোধীদের।

ইয়েমেনি অভিযানে সৌদি আরব!

sawdi

সংলাপ ॥ সৌদি আরব তার সীমান্তবর্তী জিজান এলাকা থেকে স্থানীয় অধিবাসীদেরকে জোরপূর্বক অন্যত্র সরিয়ে দিচ্ছে। দারিদ্রপীড়িত ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে লিপ্ত সৌদি বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়ে ইয়েমেনি বাহিনী যখন সৌদি ভূখণ্ডের ভেতরে অগ্রসর হচ্ছে তখন শহর খালি করার এ খবর এলো।

ইয়েমেনের খাবার সংবাদ সংস্থা সম্প্রতি এ খবর দিয়েছে। সংবাদ মাধ্যমটির প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে দেখা যাচ্ছে জিজান এলাকা থেকে স্থানীয় অধিবাসীরা চলে যাওয়ার পাশাপাশি সৌদি সেনারা একটি আবাসিক বাড়ি খালি করছেন।

সৌদি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের ফলে ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত গ্রাম এবং শহরের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে বলে ওই সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে।

এছাড়া, ওই এলাকা ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানালে সেখানকার অধিবাসীদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার পাশাপাশি তাদের পরিচয় পত্র এবং ভ্রমণ বিষয়ক কাগজপত্র বাতিল করা হবে বলে সৌদি সামরিক বাহিনী হুমকি দিয়েছে। এদিকে, ওই অঞ্চলের আবাসিক এলাকায় সৌদি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

কয়েক জন মানবাধিকার কর্মী জানিয়েছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ স্থানীয় অধিবাসীদের খাবার এবং পানির উৎসের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ তাদের চলাফেরার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

১৫ মাস ধরে সৌদি আরব ও কয়েকটি আরব দেশ তাদের পছন্দের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিকে ইয়েমেনি জাতির ওপর শাসক হিসেবে চাপিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে দারিদ্র পীড়িত ইয়েমেনে সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে। এতে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে যার বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে  আনসারুল্লাহ যোদ্ধারাও সৌদি সেনাদের ওপর পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।

অপরদিকে, জাতিসংঘের এক গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-দারিদ্রপীড়িত ইয়েমেনে সৌদি সেনারা ইচ্ছা করেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। এর অংশ হিসেবে তারা সেখানে বেসামরিক জনগণকে টার্গেট করে হত্যা করেছে।

জাতিসংঘর একটি বিশেষজ্ঞ দল এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-গত ২৫ মে ইয়েমেনের লাহজ প্রদেশের একটি গ্রামে সৌদি বাহিনী বিমান হামলা চালায় যাতে ছয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিল। এর মধ্যে চারটি শিশু ছিল।

গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে- “এটি প্রায় নিশ্চিত যে, বেসামরিক নাগরিকদের ঘর-বাড়ির ওপর ইচ্ছা করেই সৌদি বাহিনী বিমান থেকে শক্তিশালী বোমা বর্ষণ করেছে।” প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে-সৌদি বাহিনী ও তার মিত্ররা ইয়েমেনে পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে। এ প্রতিবেদনের পাশাপাশি জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল সৌদি বাহিনীর আরো তিনটি বোমা হামলার ঘটনা তদন্ত করছে।

কাশ্মীর কাদের?

টানা পাঁচদিন কাশ্মীর ঘুরে দেখে ধারাবাহিক প্রতিবেদন পেশ করলেন ভারতের স্বনামধন্য সাংবাদিক বাহারউদ্দিন। গোটা দেশ-ঘোরা এক কৃতী সাংবাদিক বললেন, ‘বরখা দত্ত চেষ্টা করেও ঢুকতে পারলেন না ঘুরতে পারলেন না, উনি এত সহজে পারলেন?’ বললাম, হ্যাঁ। টেলিভিশনের চূড়ান্ত পরিচিত মুখ বরখা দত্তকে সবাই চেনেন, তাঁর পক্ষে ইচ্ছে মতো ঘোরা সম্ভব ছিল না। বাহারউদ্দিনের মুখ চেনা নয়। এবং বহুবার তিনি গেছেন কাশ্মীরে। যিনি তাঁকে আতিথ্য দেন, তিনি পাকিস্তানের অসভ্যতার ঘোর বিরোধী, দেশ মনে করেন ভারতকে, তবে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনে ব্যথিত। এই ধারাবাহিক প্রতিবেদন তৈরি করতে অনেক ঝুঁকি নিতে হয়েছে, এটাও সত্যি।

কাশ্মীর আমাদের। কিন্তু কতটা ‘আমাদের’? এবার পূজোর ছুটিতে যাওয়া যায় কিনা, যুদ্ধ-ঝামেলা হচ্ছে কিনা, জানতে চাই। আমাদের কাছে কাশ্মীর মানে টিউলিপ, ডাল লেক, শিকারা, শাম্মি কাপুর, কাশ্মীর কি কলি। খুব বেশি হলে, যাযাবরের লেখা রুদ্ধশ্বাস ‘ঝিলম নদীর তীরে’। কাশ্মীরিদের সুখ-দুঃখ-আনন্দ-যন্ত্রণা-আবেগের সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।

কাশ্মীরের মানুষ সকলেই ভারত বিরোধী, তা নয়। ইতিহাস তো তা-ই বলে। স্বাধীনতা ও দেশভাগের জটিল সময়ে পাক হানাদারদের হটানো সম্ভব হয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর শৌর্যে এবং কাশ্মীরবাসীর সহায়তায়। মনে রাখতে ভুলে যাই, শেখ আবদুল্লা কীভাবে জিন্নাকে দূরে সরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে যাব না, কাশ্মীর ভারতের অংশ, আমরা ভারতেই থাকব। একবার পড়ে দেখি না শের-ই-কাশ্মীরের ‘আতিস-এ চিনার’। তিনিই রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে পাকিস্তানের অন্যায় দাবিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে এসেছিলেন তুখোর যুক্তি ও তুমুল আবেগে। তিনি চেয়েছিলেন সাধারণ গরিব কাশ্মীরিদের অধিকার, ভারতের মধ্যে থেকেই।

পুত্র ফারুক আবদুল্লা আপাদমস্তক পাক-বিরোধী, গর্বিত ভারতীয়। ওমর আবদুল্লাও তা-ই। কিন্তু এঁরা বিচরণ করেন উচ্চমার্গে। সাধারণ মানুষদের সঙ্গে সম্পর্কহীন। ছুটি কাটান বিদেশে, ডুবে থাকেন বিলাসে বিশেষত ফারুক। এই ফাঁকটা কংগ্রেস ভরাট করতে পারত, পারেনি। চেয়েছে কি?

কাশ্মীরের জনপ্রিয় নেতৃত্বকে কোণঠাসা করার জন্য বক্সি গুলাম মহম্মদ, জি এম শাহর মতো পুতুলদের মসনদে বসিয়েছে। তার চেয়েও বড় কথা, অবশিষ্ট ভারতের মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে এই বার্তা, যে, কাশ্মীর আমাদের, আমাদেরই থাকবে, কিন্তু ঠিক ‘আমাদের’ নয়।

কাশ্মীর ভারতে অন্তর্ভুক্তির যে চুক্তি হয়েছিল, যা বলেছিলেন নেহরু, ভবিষ্যতে যথাসময়ে গণভোটের কথা ছিল। তবে কি কাশ্মীরিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল ভারত সরকার? না। অনেকে নিশ্চয় ‘স্বাধীন কাশ্মীর’ চেয়েছিলেন, অধিকাংশই কিন্তু ভারতে থাকতে চেয়েছেন, মাথা উঁচু করে, আরও সহায়তা ও সহমর্মিতা পেয়ে। ভারত সরকারের ব্যর্থতা যদি ৫ শতাংশ থাকে, পাকিস্তানের অসহিষ্ণুতা ও আগ্রাসন ৯৫। শুরু থেকেই কাশ্মীরিয়ৎকে (এখন মুখে যা-ই বলুক) মর্যাদা দেয়নি। গোলমাল পাকিয়ে কাশ্মীরকে গ্রাস করতে চেয়েছে।

বারবার সন্ত্রস্ত করতে চেয়েছে ভূস্বর্গকে, সীমান্তে উৎপাতের সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গি ঢুকিয়ে ও বানিয়ে তছনছ করতে চেয়েছে কাশ্মীরের শান্তিকে। অনেক দোষত্রুটি নিয়েও ভারতে একটা গণতন্ত্র দাঁড়িয়ে আছে। পাকিস্তান চলে সামরিক বাহিনীর কর্তাদের ইচ্ছায়। প্রধানমন্ত্রী যিনিই ‘নির্বাচিত’ হন, তাঁকে তাকিয়ে থাকতে হয় সামরিক কর্তাদের মদত ও নির্দেশের দিকে। আই এস আই-এর প্রধান কাজ কাশ্মীরে গন্ডগোল পাকানো। তথাকথিত আজাদ কাশ্মীর বা পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে কিন্তু নাক গলায়নি ভারত। এবং বাস্তব এই যে, বালুচিস্তান, মিরপুর, মুজফ্ফরাবাদে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান, যারা কাশ্মীরের মানুষের অধিকারের কথা বলে গলা ফাটায়, কেঁদে ভাসায়।

পাকিস্তানের কোনও মন্ত্রী ভারতে এসে অসভ্যতার মুখোমুখি হয়েছেন? না। এবার সার্ক সম্মেলনে গেলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, কী হল? সরকারি মদতে ইসলামাবাদে হিজবুল প্রধান সৈয়দ সালাউদ্দিন, লাহোরে ভয়ঙ্কর আতঙ্কবাদী হাফিজ সৈয়দ প্রকাশ্যে ভারত-বিরোধী মিছিল করলেন। বিমানবন্দর থেকে হোটেল, ১৬ কিলোমিটার রাস্তা রাজনাথকে যেতে হল হেলিকপ্টারে, পাক সরকারই জানে, গাড়ি চড়ে গেলে ঝুঁকি আছে। এই পাকিস্তানের মুখে কাশ্মীরের বা কোনও জায়গায় স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের কথা মানায় না।

তাহলে, ভারতের, আমাদের, দোষটা কোথায়? এইখানে, যে, আমরা মানচিত্রে কাশ্মীরকে আমাদের বললেও, কাশ্মীরের মানুষকে ‘আমাদের’ ভাবতে পারিনি। ভাবতে না-দেয়ার চক্রান্তে পা দিয়ে বসে আছি আমরা। ভারতেই থাকতে চাওয়া কাশ্মীরিদের আমরা শত্রু বানিয়ে দেয়ার চেষ্টায় ক্লান্তিহীন থেকেছি। তিন বছর চমৎকার শান্ত ছিল কাশ্মীর, ক্ষমতায় এলেন মুফতি, সঙ্গে বি জে পি। আমাদের, আমাদের রাষ্ট্রের ‘উৎসাহ’ বাড়ল।

কে এই বুরহান ওয়ানি, যাঁর নিধন নিয়ে এমন তোলপাড়? এক তরুণ, বিপথ চালিত ‘বালক’ বলা যায়, তিনি সঙ্ঘর্ষে বা আক্রমণে নিহত হলেন। সামরিক ও পুলিশ কর্তারা যেন বিশাল যুদ্ধ জয় করলেন। গর্বময় প্রচার। ‘হিরো’ বানিয়ে দেয়া হল। উমর খালিদ যদি বুরহানকে চে গুয়েভারার সঙ্গে তুলনা করেন, সেটা তাঁর সমস্যা, নবোদ্ভূত যার্ডিকালদের অসুখ। বুরহান ওয়ানির যেভাবেই হোক মৃত্যু ভারত রাষ্ট্রের এক বিরাট সাফল্য, এই প্রচারে কিছু প্রতিক্রিয়া তো হওয়ারই ছিল। সীমান্তে টানা খুচ-খাচ উৎপাত, কাশ্মীরে জঙ্গিদের মদত, তবু তেমন সুবিধে করতে পারছিল না পাকিস্তান, যে দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে হঠাৎ হাজির হয়ে কূটনৈতিক সাফল্য দাবি করেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। বিক্ষোভের মুখে কী করল আমাদের বাহিনী ও পুলিশ? কাশ্মীরের সব মানুষকে, বালক থেকে বৃদ্ধ, সবাইকেই শত্রু ভেবে নিল। ছররায় (পেলেট) প্রাণ গেল ৫১ জনের (যদি এই লেখা তৈরির সময়েই বেড়ে গিয়ে না থাকে)। শ্রীনগরের ঘরে ঘরে দরজা বন্ধ, জানালা খুলে ভয়ে ভয়ে দেখা, তা-ও বোধহয় নিস্তার নেই। ছররায় চোখ নষ্ট হয়েছে অন্তত ২০০ জনের, অধিকাংশই তরুণ। ওঁরা আর নিজেদের প্রিয়জনকে দেখবেন না, দেখতে পাবেন না প্রিয় কাশ্মীরকে। বুঝি না, বুঝি না। দুর্গম সীমান্তে যে ভারতীয় যোদ্ধারা অসম সাহসী লড়াই করেন, তাঁদের ত্যাগ ও বীরত্বকে প্রণাম করি। বুঝি না এই রাষ্ট্রশক্তিকে, যা আমাদেরই দেশের এক রাজ্যের সব মানুষকে শত্রু ভেবে বাহিনী-পুলিশকে লেলিয়ে দেয়।

কাশ্মীর আমাদের। কিন্তু, ‘আমাদের’ বলে ভাবছি কি। নাকি ভাবছি, কাশ্মীরিরা শত্রু, ওঁদের নির্যাতন ও যন্ত্রণাবিদ্ধ করেই আমরা শিকারায় চড়ব ডাল লেকে। এক কাশ্মীরির বক্তব্য তুলে ধরছি। ‘কাল রাতে আমার এক বছরের মেয়েটা শিউড়ে শিউড়ে উঠছিল, ঘুমোতেই পারল না। বাড়ির সামনেই গুলিগোলা। দেশের বড় টেলিভিশন চ্যানেল খুলে দেখছি, ‘আক্রমণাত্মক’ সঞ্চালক এক ঝাঁক অদ্ভুত বক্তা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন কাশ্মীরিদের ওপর। যেন কাশ্মীর ভারতের অংশ নয়। নিশ্চয় অংশ। আমি ভারতীয়। ভারতীয় হিসেবেই জীবন কাটাতে চাই। সরকারি চাকরি করতে আসার সময় ভেবেছিলাম, কাশ্মীরের জন্য, ভারতের জন্য অনেক কাজ করব। এখন মনে হচ্ছে, করতে পারব না। হয়ত কাজ ছেড়ে দেব। তারপর কী করব? ভারতীয় হিসেবে কী করব, কেউ বলে দেবেন?’

বলছেন শাহ ফয়জল নামে এক কাশ্মীরি তরুণ। ২০১০ সালে যিনি আই এ এস পরীক্ষায় প্রথম, হ্যাঁ প্রথম হয়েছিলেন। শাহ ফয়জল ‘আমাদের’ কেউ নয়? ভাবব কি, কাশ্মীরকে অন্তর থেকে ‘আমাদের’ বলে ভাবব কিনা?

নয়াদিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হলো। জম্মু-কাশ্মিরের চলমান সমস্যা সমাধান করতে সাবেক বিজেপি প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর উদ্যোগের পুনরাবৃত্তি করার দাবি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি গত সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেহবুবা ওই মন্তব্য করেন।

মেহেবুবা বলেন, ‘আমি আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী মোদি এক সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে জম্মু-কাশ্মিরের মানুষদের সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করবেন। যেরকম বাজপেয়ীজির আমলে করা হয়েছিল সেরকমই কিছু করবেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি জম্মু-কাশ্মিরের মানুষের ক্ষত দূর করা প্রয়োজন।’

মেহেবুবা বলেন, ‘বাজপেয়ীজির আমলে যেরকম জম্মু-কাশ্মিরের মানুষের হৃদয় জয়ের চেষ্টা হয়েছিল তার পুনরাবৃত্তি করা জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘এরা সকলে আমাদেরই মানুষজন। যদি রাজ্যের মানুষের সঙ্গে সংলাপে পরিস্থিতির উন্নতি হয় তাহলে সেটাই করা উচিত। জম্মু-কাশ্মির ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে যদি সঠিকভাবে সংলাপ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সংবাদ সম্মেলনে মেহেবুবা মুফতি বলেন, কাশ্মির ইস্যুতে কেন্দ্রীয় মোদি সরকারের পদক্ষেপে মেহেবুবা যে খুশি নন, তা তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ চলমান সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি সাবেক বাজপেয়ী সরকারের নেয়া পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তি করা প্রয়োজন বলে সাফ জানিয়েছেন।

গত ৮ জুলাই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর জম্মু-কাশ্মীরের মানুষজন প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। নিরপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৫৭ জন বেসামরিক মানুষজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭,৫০০ জন। পেলেট গানের ছররা গুলিতে দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন বহু মানুষ। কারফিউ, ১৪৪ ধারা, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটে নিষেধাজ্ঞাসহ  সামরিক বাহিনীর ভারী বুটের আওয়াজ তথা একটানা বন্ধে সেখানকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

মার্কিন মানবতার এ কোন্ রূপ !

markin

সংলাপ ॥ মার্কিন পুলিশের বর্বরতা। আমেরিকায় বেশিরভাগ কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক দেশটির পুলিশের বর্বরতার শিকার হয় বলে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ থেকে জানা গেছে। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ ও প্রতি ১০ জনের মধ্যে চারজন লাতিন বংশোদ্ভূত নাগরিক মার্কিন পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

জেন-ফরোয়ার্ড পরিচালিত জনমত জরিপে বলা হচ্ছে, দুই-তৃতীয়াংশ আফ্রো-আমেরিকান তরুণ ও স্প্যানিশ ভাষাভাষি প্রায় অর্ধেক নাগরিক জানিয়েছেন, তারা  ব্যক্তিগতভাবে পুলিশের হাতে সহিংসতা ও অপদস্তের শিকার। জরিপে অংশ নেয়া প্রায় ৬০ ভাগ মানুষ জানিয়েছে, মার্কিন সমাজে সংখ্যালঘু কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর হত্যাকা- এখন চরম কিংবা খুব মারাত্মক সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে।

মার্কিন পুলিশের হাতে বেশ কয়েকজন আফ্রো-আমেরিকান তরুণ নিহত হওয়ার ঘটনায় যখন আমেরিকা জুড়ে প্রচণ্ড উত্তেজনা ও বিক্ষোভ চলছে তখন এই জরিপ ফলাফল প্রকাশ করা হলো। এসব হত্যাকাণ্ডের পর বিক্ষুব্ধ কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকরা কয়েকদিন আগে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে টেক্সাসের ডালাসে পাঁচ পুলিশ নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়।

লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় প্রত্যয়ী সরকার

  • প্রাতিষ্ঠানিক সন্ত্রাস রুখতে হবে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে।
  • শিক্ষার অগ্রমূখে প্রযুক্তির আলোর মশাল জ্বেলে দিতে হবে।
  • তারুন্য নির্ভর সুদুরপ্রসারী কর্মসূচী গ্রহণ জরুরি।
  • ধর্মের নামে সন্ত্রাস মোকাবেলায় যেন নব্য দানব ঢুকে না পড়ে সেজন্য সার্বিক সতর্কতা জরুরি।
  • বাংলার সব সত্যমানুষের (সাধককুল) মহীমা কীর্তনের মাধ্যমে জাতীয় চরিত্র ও সামাজিক কাঠামো বিনির্মাণ করতে হবে।

নজরুল ইশতিয়াক ॥ ধর্মের নামে পরিকল্পিত সন্ত্রাস মোকাবেলায় সরকার যে সব ঢাল ব্যবহারের  চেষ্টা চালাচ্ছেন তা দূরদর্শী ও লক্ষ্যকেন্দ্রিক করার সময় এসেছে যাতে সঙ্ককটকে ধর্মীয় মোড়কে বাজারজাত করার অপরিনামদর্শীতার দোষে দুষ্ট না হয়। ধ্বংস, মিথ্যাচার বিভ্রান্তির বিপরীতে সত্য-সুন্দর সৃষ্টি-কল্যাণের জয়ধারাকে সামনে এনে গতানুগতিক কথন বচনে কখনো বা অন্য ধর্মকে ছোট করার আত্মঘাতি প্রবণতা রুখবার সময় বর্তমান। ধর্মের নামে সরকারী দলের নেতা মন্ত্রীরা যে সব বিশ্লেষণ জাতিকে শোনাচ্ছেন তা মানসম্পন্ন নয়। উপরন্তু ধর্মের সাথে ধর্মের, ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির তুলনা কোন সমাধান হতে পারে না। আমদানি নির্ভরতা দেশ- জাতিকে কখনোই স্বয়ংসম্পূর্ণ করে না।

একটি বর্বর নষ্টভ্রষ্ট গোষ্ঠীকে মোকাবেলায় ইসলামের নামে যত্রতত্র অযাচিত বাক্যবান সামাজিক পরিবেশকে সন্ত্রস্ত করে তুলছে। এ পরিস্থিতিতে ভয়ানক কোন দানব ঢুকে পড়ছে কি না তা দেখার প্রয়োজন জরুরিভাবে এসেছে। রাষ্ট্র পরিচালনায়-রাজনৈতিক মূল্যবোধের দরজায় ধর্ম ধর্ম খেলা কোন সমাধান হতে পারে না তাতে চরিত্র হারিয়ে চরিত্রহীন হবার প্রতিযোগিতা হবে। কোন সন্দেহ নেই সতর্কতার সাথে পথ না চললে সরকারের সব প্রচেষ্টা বাস্তবায়ন হবে না বরং অধিকতর ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সুবিধার জন্য কথায় কথায় কুরআন হাদিসের যোগসূত্রহীন প্রয়োজন মাফিক ব্যবহার বাঙালি জাতিসত্ত্বার মৌলচরিত্রকে আঘাত করছে যা প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা নয়। ইসলাম অর্থ শান্তি স্মরণ রাখতে হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠা হয় কিভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় কোন কর্মকাণ্ডে জাতীয় জীবন, সামাজিক জীবন শান্ত-স্থিত হবে সেটিই কেবল করণীয় হতে পারে। শান্তি স্থাপনে যা যা করণীয় তা না করে কোনরকম জোড়াতালি দিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হলে তা জাতির জন্য সহায়ক হবে না।

প্রাতিষ্ঠানিক সন্ত্রাস মোকাবেলায় দরকার প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ। মুখের কথায় চিঁড়ে ভিজে না। শুধুমাত্র কথার কথা বলতে বলতে সংকট ঘনিভুত হয়েছে। সন্ত্রাসী-ষড়যন্ত্রকারীরা গোপনে, প্রকাশ্যে দূর্বার গতিতে কাজ করছে, করে যাচ্ছে। জাতীয় চরিত্র বিনির্মাণ তথা জাতীয় চরিত্র সৃষ্টিতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কাজ এখন সময়ের দাবি।

কোন একটি ধ্বংসকে সৃষ্টি দিয়েই রুখে দিতে হয়। ধ্বংস সৃষ্টির এই চিরাচরিত বিধানের অন্তর্নিহিত রূপ দেখতে হয়, জানতে হয়। কোন কিছুর মৃত্যু ঘটে নবসৃষ্টির উল্লাসে। দিনে দিনে যে বিষবৃক্ষ ফুলে ফেঁপে বড় হয়েছে তার অসারতা প্রমাণে যে সৌন্দর্যময় বৃক্ষের চাষ দরকার সেটিই অনিবার্য। বিষবৃক্ষের শেকড় উপড়ে ফেলাটা যেমন জরুরি কাজ তেমনি সুশোভিত বাগানের জন্য যারা কাজ করছেন তাদের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানোও জরুরি।

বাংলায় বসে, বাঙালির জল জমিনে পরিশুদ্ধ শান্তি সমৃদ্ধির চাষই নবী মুহাম্মদের শান্তির চাষ। এখানে যারা শত শত বছর ধরে শান্তির চাষ করেছেন, আজও করছেন সেসব মহান সূফী সাধক, গউস কুতুব, বাউল ফকির সৃষ্টিশীল সত্যমানুষদের কর্মকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। মহৎ মহাজনেরাই দেশপ্রেম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, জন্মনিয়ন্ত্রণ, শান্তি-আনন্দ, শক্তি সবল দেহ গঠন, সৃষ্টিশীলতা, সমাজগঠন, রাষ্ট্রপরিচালনার নীতি-কাঠামো, সম্পর্কের নির্দেশনা, আদেশ-উপদেশ দিয়ে গেছেন।

প্রত্যেক ব্যক্তি যেমন তার স্বীয় কর্মবৃত্তের মধ্যে আবদ্ধ থাকবে তেমনি প্রত্যেক জাতিও তার স্বীয়বৃত্তের মধ্যে সব প্রাপ্তির যোগান পাবে এটিই স্রষ্টার বিধান, সৃষ্টির সূত্র। ফলে বাঙালি জাতির কল্যাণ, মঙ্গল, অগ্রযাত্রা, উন্নয়ন সব কিছু করতে হবে স্বীয় বলয়বৃত্তের উৎস শক্তির আলোকে। গ্রহণ-বর্জনের শক্তি জাতিকে এগিয়ে নেয়। গতিকে উৎকৃষ্ট, শান্তিকে সরল স্বাভাবিক, প্রাত্যহিক চিন্তনকে সৃষ্টিশীল-মননশীল-সহমর্মী করতে হয়। প্রেম হবে দায়িত্ব কর্তব্যের সহযোগী শক্তি। তবেই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে প্রতিহতের ক্ষমতা জাগ্রত হয়। সৃষ্টিশীল মানুষের অবদানকে সামনে আনার মাধ্যমেই জাতি বিনাশী ধ্বংসাত্মক তৎপরতা মুখ থুবড়ে পড়ে।

সাময়িক প্রয়োজনে যে কোন ঝড় তান্ডব মোকাবেলায় আশু পদক্ষেপ নেয়া যেতেই পারে কিন্তু টেকসই নিরাপত্তার জন্য সুদূর প্রসারী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। সময়ের কাছে আমরা হেরে না গেলেও মার খেয়েছি এটা সত্য। সত্য মিথ্যা সরল-গরল মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। বাঙালির চিন্তন প্রক্রিয়ায় ইসলামের নামে কাল্পনিক, কখনো কখনো মিথ্যাচার বিভ্রান্তির অনুপ্রবেশ ঘটছে। রেডিও টেলিভিশন পত্র-পত্রিকায় ধর্মের নামে আমদানীকৃত নানান নির্দেশনা প্রচার হচ্ছে যা কোনই কাজে আসছে না। বরং বাংলায় শান্তির পথ যারা দেখিয়েছেন, যারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন এখানে তাদের শান্তির বাণীগুলোকে ছড়িয়ে দেয়ার মধ্যেই পারদর্শীতার প্রমাণ পাওয়া যাবে। সত্য অনুসন্ধানীদের হাজারো কর্ম ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এই বাংলায়। তাদের বৃহৎ কর্মকে কিভাবে রাষ্ট্র মূল্যায়ন করবে, যথাযথভাবে তুলে ধরবে নতুন উদ্যমী প্রজন্মের সামনে সেটিই হবে শান্তি স্থাপনের সঠিক পথ। ইসলামের নির্দেশনা তো ব্যক্তি ও সমাজের অভ্যন্তরীন মূল্যবোধকে জাগ্রত করা। সমাজে তার প্রতিফলন ঘটানোর পরিবেশ সৃষ্টি করা। সত্য কি, সত্যকে চেনা-জানা, অনুশীলন করা এবং সব কাজে তার বাস্তবায়নই শান্তি বয়ে আনে। শান্তি কোন কাগজে লেখা বাণী নয়। শান্তি নিত্য, সদা সতত প্রবাহমান ধারা। কৃত্বিমান মহৎপ্রাণ সেসব মনীষীদের দূরে রেখে সুদূর আরব থেকে ইসলামের নামে ওহাবী ইয়াজিদী বিকৃত দূষিত ধারার সংযোগ কোন সমাধান নয়। বরং ইসলামের নামে হাজারো মনগড়া বিভ্রান্ত কল্পকাহিনীর নতুন অনুপ্রবেশ দূষিত করবে প্রিয় দেশের জলধারাকে-বাতাসকে। এটাই সত্য যে কোন ধর্মের নামে, কোন কিতাব-পুস্তকের নামে যার যা ইচ্ছা তা বলার এবং করার প্রবণতা কোন শুভচিন্তার ফসল নয়। বিশ্ব ইতিহাসের হাজারো ক্ষত চিহ্ন হয়ে আছে ধর্মের নামে বর্বরতা ও নিকৃষ্টতা। মানবজাতিকে সঠিক সুন্দর পথ দেখানোর বিপরীতে এসব ঘটনা ক্ষত বিক্ষত করেছে।  বিপন্ন জীবন ও জগতের এ এক সন্ধিক্ষণ। এসব কোন কিছুই সঠিক পথ নয়। এগুলো স্রেফ ভাওতাবাজী ও লুটেরাদের পাতানো খেলা।

কি করছে ধর্মমন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আর শিক্ষামন্ত্রণালয়? কি করছে বাংলা একাডেমি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউট, শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, জেলা ক্রিড়া সংস্থা? জেলা পর্যায়ে তাদের কর্মকা- কতটুকু বিস্তৃত? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এসব প্রতিষ্ঠানের কোন জনভিত্তি নেই। মাঠ পর্যায়ে, প্রান্তিক পর্যায়ে কোনই যোগাযোগ নেই। নাটকের ক্লাসে, সঙ্গীতের ক্লাসে, ছবি আঁকা শিক্ষণে অংশগ্রহণকারীর হার উল্লেখযোগ্য তো নয়ই বরং সংখ্যা বললে ভয়াবহ চিত্র বের হয়ে আসবে। কোন সমন্বয় নেই স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। জাতীয় দিবস পালন এবং দায়সারা গোছের কিছু প্রতিযোগিতার নিয়ম মাফিক কিছু কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সারা দেশের অসংখ্য বাউল শিল্পী ও সংগঠন রয়েছে তাদেরকেও কখনোই কোন সরকারী প্রতিষ্ঠান গুরুত্ব দেয় না। খাতা কলমে জেলা পর্যায়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের শেষ নেই।

বিভিন্ন সেমিনার, প্রতিযোগিতা, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্পের সাথে তরুণদের সম্পৃক্ত করা হয় না। ফাউন্ডেশনের লাইব্রেরিতে পাঠক নেই। জেলা ক্রীড়া সংস্থা সারা বছর ফাইল ওয়ার্ক নিয়ে ব্যস্ত। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সমাজসেবা/ শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাজের পরিধি কি তা স্থানীয়রা জানে না। স্থানীয়দের ভাগ্য উন্নয়ন তথা জীবনমানের উন্নয়ন, মাদকসেবী ও পঙ্গু অসহায়দের পুনর্বাসন কর্মসূচীর সুফল বাস্তবে কতজন পান তা জানা না গেলেও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মাঠ পর্যায়ে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সৃজনশীল সাংস্কৃতিক চর্চা শূন্যের কোঠায়। ফলাফল রুগ্নতাকেই নির্দেশ করে।

জেলা প্রশাসনের কি কোন তদারকি রয়েছে স্থানীয় মাদ্রাসা-মসজিদগুলোতে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নামে হাজার হাজার টাকার লগ্নী করেছেন ঘাতকেরা, কোচিং সেন্টারের নামে কি হচ্ছে তার কি কোন তদারকি করেন স্থানীয় প্রশাসন? মসজিদ পরিচালনা কারা করেন? মাদ্রাসার মালিক কারা? শিক্ষক কারা? কেন আসছে নাবালক তরুণ অসহায় কিশোর? নিকট অতীতে মাঠ পর্যায়ের কোন মাদ্রাসা কি জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তাও পরিদর্শন করেছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? বেতন সর্বস্ব চাকুরীজীবিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এসব মন্ত্রণালয়। পুরো সরকারযন্ত্র বধির কানা যন্ত্রে পরিণত হয়েছে আর এর ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ মানুষ। গবেষণা বলছে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে কেবলমাত্র খাদ্য প্রাপ্তি ও কিঞ্চিত ভর্তুকীর নিশ্চয়তা পেলে মাদ্রাসা অভিমুখী জনস্রোত এক বছরে ৬০ ভাগ কমে যাবে। এক্ষেত্রে রয়েছে উদাসীনতা।

সরকারী দলের বৃত্তশালী ব্যক্তিরা নামে-বেনামে মসজিদ মাদ্রাসা গড়ে তুলেছেন। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে ক’জন তাদের নির্বাচনী এলাকায় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, খেলাধুলা সহ সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন? মাঠ পর্যায়ে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগানোর কোন পরিকল্পিত কর্মসূচী নেই।

শিক্ষা আছে কিন্তু প্রযুক্তি নেই। যারা আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তি শিক্ষার নামে বড় বড় কথা বলেন তাদের কাছে কোন সদুত্তর নেই। এসব পান্ডিত্য কিংবা তার্কিকদের প্রতি নিদারুন করুনা হয়। তারা ভুলে যান মানুষ কেবল খেয়ে পরে বেঁচে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ফেসবুক ইন্টারনেট ইউটিউবে বন্দি জীবন মানুষের নয়। মানুষকে মানুষ হয়ে উঠার শিক্ষা দিতে হয়, পরিবেশ দিতে হয়। শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তির অগ্রমুখে জ্বেলে দিতে হয় আলোর মশাল। যা তাদেরকে পথ দেখাবে, দায়িত্বশীল করবে। সরকার তথ্য প্রযুক্তির অভাবণীয় উন্নয়নের কথা বলছে কিন্তু সে উন্নয়ন তারুণ্যকে শেকড় বিচ্ছিন্ন-বিপথগামী করতে পারে, করেছেও। সেসব নিয়ে ভাবনার প্রয়োজন দেখাননি। কার্যকর প্রযুক্তি সুবিধা গড়ে তোলা জরুরি,  প্রয়োজন নানা হিসেব নিকেশ। বেহেস্তের টিকেট পাবার ফাঁদে নবপ্রাণ কিশোররাই কেবল দৌঁড়াচ্ছেন তা নয় বয়োঃবৃদ্ধ মৃতপ্রায় নেতা লুটেরারাও থেমে নেই। মন্ত্রণালয়ে তারা এসবের বরাদ্দের জন্য পত্র নিয়ে দৌঁড়াদৌঁড়ি করেন। টি.আর এবং কাবিখার একটা বৃহৎ অংশ চলে যায় ধর্মান্ধদের পাতানো বাক্সে। নিয়ন্ত্রণহীন এই যাত্রা থামবে কোথায়?

চরম বৈষম্য, লুটপাট, প্রতারণার রাজনীতি আর নষ্টভ্রষ্ট পরামর্শদাতাদের কারণে কোন শান্তির আহ্বান চোখে পড়ে না। বয়োজ্যেষ্ঠরা অন্ধ বধির ব্যক্তিস্বার্থের বাক্সে বন্দি। সিলগালা মারা এসব কর্ণ সত্য শোনে না, এসব চোখ সুন্দর দেখে না। আত্মভোলা আত্মবিস্তৃত এসব উঁচু তলার বিদ্বান শক্তিমানেরা ম্রিয়মান নিষ্প্রভ পলায়নপর। আত্মতুষ্টিতে ভরপুর মানুষ সদৃশ্য পরগাছা। মহাকালের কাছে এরা বড্ড বেমানান, খড়কুটো হয়ে উড়ে যাবে অচেনা বাতাসে। সামাজিক উদ্যোগের অভাবে ফাঁকা মাঠে গোল দিচ্ছে দর্শক সারিতে থাকা কেউ কেউ। এ এক অদ্ভুত সংযোজন। ক্ষমতার মাঠে মহাযজ্ঞে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু জাতীয় কল্যাণে ও চরিত্র গঠনে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

জঙ্গিশূন্য বিশ্বের জন্য হুঙ্কার পুতিনের

putin

সংলাপ ॥ রাশিয়ায় যদি একটা বোমা ফেলে আই এস, তা হলে পরের আধ ঘণ্টায় পৃথিবীর সমস্ত ইসলামি জঙ্গিকে নিকেশ করব। রীতিমত হুমকি দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শোনা যাচ্ছে, আই এস জঙ্গিদের স্বঘোষিত রাজধানী সিরিয়ার রাক্কা শহর দখল করতে বিশাল সমরসজ্জা করছেন। বিমান, কামান ছাড়াও দেড় লক্ষ বাছাই করা রুশ যোদ্ধা থাকবে হামলায়। গত বছর প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পরও ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে আই এস বিরোধী যৌথ অভিযানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন পুতিন। কিন্তু ইউরোপীয় নেতৃত্ব ইতস্তত করেছিল রাশিয়াকে সঙ্গে নিতে। আমেরিকাও কোনও আগ্রহ দেখায়নি। তাই এবার একাই আই এস নিধনে নামছে পুতিনের বাহিনী।

ফ্রান্সে ৮ মাসে ২০টি মসজিদ বন্ধ হয়েছে !

france

সংলাপ ॥  ফ্রান্স সরকার গত আট মাসে অন্তত ২০টি মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে। ফ্রান্সে মৌলবাদী প্রচারণার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে এসব মসজিদ বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নাড ক্যাজেনিউয়েভ।

ফ্রান্সে বসবাসরত মুসলিম নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর তিনি এ তথ্য জানান। ক্যাজেনিউয়েভ বলেন, দেশের বিভিন্ন অংশে এসব মসজিদ ছিল। এছাড়া, গোঁড়াবাদী ইসলামের প্রচার করা হচ্ছে -এমন বিবেচনায় আরো বেশকিছু ধর্মীয় কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ক্যাজেনিউয়েভ বলেন, ‘প্রেয়ার হল কিংবা মসজিদ যাই হোক না কেন যেখান থেকে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো হবে তা বন্ধ করে দেয়া হবে। এছাড়া, রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতি যাদের সম্মান নেই বিশেষ করে নারী-পুরুষের সমতায় যাদের বিশ্বাস নেই তাদেরও কোনো স্থান নেই ফ্রান্সে। সে কারণে কয়েক মাস আগে রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থার মধ্যে আমি এসব মসজিদ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ পর্যন্ত ২০টি মসজিদ বন্ধ করা হয়েছে এবং আরো কিছু বন্ধ করা হবে।’

গত সপ্তাহে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভল্স বলেছেন, বিদেশি অর্থে ফ্রান্সে মসজিদ নির্মাণ বন্ধের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কথা বিবেচনা করছেন তিনি।

সৌদি অর্থে প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি মসজিদ ও ধর্মীয় কেন্দ্র থেকে ফ্রান্স ও ইউরোপের আরো কিছু দেশে উগ্র ওয়াহাবি মতবাদ প্রচার করা হচ্ছে বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

শান্তির নামে দায়েশের সদরদপ্তর রক্ষার চেষ্টায় আমেরিকা !

amerika - Copy

সংলাপ ॥  সিরিয়ার রাক্কা শহরে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের সদরদপ্তর রক্ষার চেষ্টা করছে আমেরিকা। এ অভিযোগ তুলেছেন খোদ মার্কিন ‘ভেটার্নস টুডে’ পত্রিকার সিনিয়র সম্পাদক গর্ডন ডাফ। তিনি বলেন, সিরিয়ার মানবিজ শহরে বিমান অভিযান চালাতে গিয়ে মার্কিন বিমান বাহিনী সেখানে বেসামরিক মানুষজন হত্যা করেছে। প্রকৃতপক্ষে সেখানে তারা অভিযান চালাতে গিয়ে এক ধরনের বিপদে পড়েছে এবং অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। আসলে আমেরিকা এ অভিযানের মাধ্যমে দায়েশের জন্য রাক্কাকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেছে কারণ দায়েশেকে তারাই রাক্কা শহরে নিয়ে এসেছে। রাক্কা হচ্ছে দায়েশের কথিত খেলাফতের রাজধানী।

গর্ডন ডাফ বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে সমন্বয় না করে মার্কিন বাহিনী যে যুদ্ধ করছে তার কারণে তারা সমস্যায় পড়েছে এবং দায়েশেকে কেন্দ্র করে আমেরিকা আসলে রাজনৈতিক যুদ্ধ করছে। ইরাক ও আফগানিস্তানে ড্রোন হামলার মাধ্যমে আমেরিকা বছরের পর বছর যা করেছে সিরিয়ায়ও তাই করতে চাইছে।

তারা দেশটিতে বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করছে কিন্তু দায়েশের ওপর হামলা চালিয়েছে আজ পর্যন্ত তার কোনো প্রমাণ নেই।

অপরদিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আমেরিকার শান্তি পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল। সাক্ষাত অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট আসাদ বলেন, মার্কিন সরকারের নীতি দেশটির জনগণের স্বার্থ এমনকি সামগ্রিকভাবে সারা বিশ্বের স্বার্থের পরিপন্থি। আমেরিকার শান্তি পরিষদ হচ্ছে বিশ্ব শান্তি পরিষদের মার্কিন শাখা।

প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদ বলেন, একটি পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকার উচিত – সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞ বাদ দিয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির ভিত্তিতে বিশ্বে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করা। বৈঠকের পর সিরিয়া সফরকারী মার্কিন প্রতিনিধিদলের প্রধান সাংবাদিক হেনরি লোয়েনডর্ফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের সঙ্গে তারা ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক আলোচনা করেছেন।

লোয়েনডর্ফ আরো বলেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে পেরে সাম্মানিত বোধ করছি। সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তিনি একদম সোজাসাপ্টা কথা বলেছেন এবং আমাদেরকেও তিনি তেমনটি করতে বলেছিলেন। আমরা যা দেখছি তা নিয়ে প্রশ্ন করেছি এবং তিনি যৌক্তিক, সঠিক ও বিজ্ঞজনোচিত জবাব দিয়েছেন। তিনি শুধুমাত্র  সিরিয়া পরিস্থিতিতে বক্তব্য রেখে আমাদেরকে মুগ্ধ করেন নি বরং বিশ্ব শক্তিগুলো নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন তাতেও আমরা মুগ্ধ।

ইসলাম সন্ত্রাস নয় : পোপ

pop

সংলাপ ॥ ইসলামি সন্ত্রাসবাদী সংস্থা আই এস সারা বিশ্বে প্রায় রোজই কোনও না কোনও নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাই বলে, কট্টর মুসলিম বিরোধীদের মতো ইসলামকে সন্ত্রাসের ধর্ম বলতে রাজি নন পোপ ফ্রান্সিস। পাঁচদিনের পোল্যান্ড সফর সেরে গত রবিবার রোম ফিরেছেন খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু। ফেরার পথে বিমানে সংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, ‘কয়েকজন নির্দিষ্ট সন্ত্রাসবাদীর জন্য গোটা ধর্মটাকেই খারাপ বলে দেয়া যায় না। ইসলাম আসলে শান্তিরই ধর্ম। মৌলবাদীরা এই ধর্মের অপব্যাখ্যা করে মানুষের প্রাণ নিচ্ছে।’ জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর দৈনন্দিন নাশকতামূলক কাজকর্ম তাকেও উদ্বিগ্ন করেছে বলে জানিয়েছেন পোপ। বলেছেন, ‘আজকাল খবরের কাগজ খুললেই মন খারাপ হয়ে যায়। প্রতিদিন এত ধ্বংস ও রক্তপাতের খবর পড়তে ভাল লাগে না। সন্ত্রাসবাদীদের লড়াইয়ে আসলে ধর্মকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনও ধর্মেই মানুষের প্রাণ নেয়ার অনুমোদন নেই। ধর্মের অপব্যাখ্যা এড়াতে দরকার আরও শিক্ষার প্রসার। সেটাই হবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত লড়াই।’