শেষ পাতা

মুসলিম বিশ্বকে কঠোর অবস্থান নেয়ার আহ্বান ইরান ও তুরস্কের

সংলাপ ॥ ফিলিস্তিন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে আমেরিকার পক্ষ থেকে ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ নামের কথিত শান্তি পরিকল্পনা উত্থাপন করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে কঠোর অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান ও তুরস্ক। দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রোববার এক টেলিফোনালাপে এ আহ্বান জানান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ ও তার তুর্কি সমকক্ষ মেভলুত চাভুসওগ্লগু ওই টেলিফোনালাপে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে যে একপেশে ও মুসলিম স্বার্থ-বিরোধী পরিকল্পনা উত্থাপন করা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানান।

 ট্রাম্পের ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরির বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা প্রতিদিনই বিক্ষোভ দেখিয়ে যাচ্ছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহের ২৮ জানুয়ারি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনের নাম করে ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তবে এতে ফিলিস্তিনের আল-কুদস বা জেরুজালেম শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের অবিভক্ত রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন-ইহুদিবাদী এই পরিকল্পনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদেরকে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া, জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের মাত্র ৭০ ভাগ ভূমি ও গাজা উপত্যকা নিয়ে একটি দুর্বল ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষ এবং প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো অর্থাৎ সকল ফিলিস্তিনি জনগণ ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইসরাইলের জন্য ফিলিস্তিনে কোনো জায়গা হবে না : হিজবুল্লাহ

সংলাপ ॥ লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর উপমহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম বলেছেন, স্বীকৃত ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে ইহুদিবাদী ইসরাইলের কোনো জায়গা হবে না। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত শান্তি পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “এটি বাতিল এবং কোনোভাবেই সফল হবে না।”

শেখ নাঈম কাসেম বলেন, কথিত শান্তি পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে এটি ডোনাল্ড ট্রাম্প জানেন। তারপরেও তিনি এটি প্রকাশ করেছেন শুধুমাত্র তার নির্বাচনী প্রচারণার স্বার্থে এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যাতে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অধিকৃত ফিলিস্তিনের ভেতরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের কাছ থেকে আরো বেশি ভোট পান সেজন্য।

হিজবুল্লাহ নেতা বলেন, ফিলিস্তিনের পুরো জাতি এবং এ অঞ্চলের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো সম্মিলিতভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে দেবে না; ইহুদিবাদী ইসরাইলকে আর নতুন কোনো ভূখন্ড দখল করার সুযোগ দেবে না।

শেখ নাঈম কাসেম বলেন, আল-কুদস বা জেরুজালেম শহরকে রাজধানী করেই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হবে তবে এজন্য কিছু ত্যাগ এবং সময় প্রয়োজন।

আত্মপ্রতিষ্ঠার অনন্য উপাদান মা-মাতৃভাষা-মাতৃভূমি-মানুষ

সংলাপ ॥ একটা দেশ শান্তির বাগান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে যখন মা-মাতৃভাষা -মাতৃভূমি-মানুষ সেই দেশে বেশি সম্মান ও গুরুত্ব পাবে। মায়ের জাতকে অবহেলা করে, দাবিয়ে রেখে বা ভোগের সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করে কোনো জাতি বিশ্বে সম্মানজনক স্থান দখল করতে পারেনি। মা পারেন যেমন একটা সংসারকে সুখের আঁধার ও শান্তিধাম করে গড়ে তুলতে তেমনি সুযোগ পেলে সমাজ ও রাষ্ট্রেরও আমূল সংস্কার সাধন করতে পারেন মায়ের জাত। তাই মা ও মায়ের জাতকে আমাদের দেশে সর্বস্তরে সবচেয়ে বেশি অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য দিয়ে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে যাতে এ দেশ গড়ে উঠতে পারে।

মাতৃভাষাকে সর্বোচ্চ সম্মান না দিয়ে বিশ্বের কোনো জাতি গড়ে উঠতে পারেনি। মাতৃভাষার সমান মর্যাদা অন্য কোনো ভাষা পেতে পারে না। মাতৃভাষাকে ধারণ, লালন ও পালনের মধ্যেই নিহিত আছে দেশ ও জাতির কল্যাণ। দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও বাঙালি জাতি হিসেবে বাংলা ভাষাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিতে পারেনি। আনুষ্ঠানিকতায় ভরপুর থাকলেও তা সাময়িক। এত বছর পরেও যখন ফাল্গুন আসে তখন সাজ সাজ রব পড়ে আমরা যে বাঙালি তা বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করার মাধ্যমে।

শুধু তাই নয়, আজও পর্যন্ত কিছু বরেণ্য ব্যক্তিত্ব ছাড়া আধা-ঘন্টা নিজের ভাষায় বক্তৃতা দিতে পারেন না অন্য ভাষার সাহায্য ছাড়া। জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাংলায় বক্তৃতা দিয়ে যে জাতিকে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারায় প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমরা ব্যর্থ হয়েছি বাংলা ভাষাকে সেই একইভাবে ধারণ-লালন-পালন করতে। এ দৈন্যতায় বাঙালি জাতি ভুগছে। আরো কতদিন ভুগতে হবে তার ইয়ত্তা নেই। রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, ধর্মজীবী সবার মধ্যেই একটা উপনিবেশিক দাসত্ববোধ কাজ করছে যা বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে তারা দাঁড় করাচ্ছেন নিজের ভাষার সঙ্গে অন্য জাতির ভাষাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে। আজ পর্যন্ত কোনো সরকার মাতৃভাষাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে বাঙালি জাতিকে গড়ে তোলার জন্য কোনো আধুনিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি। এ ব্যর্থতায় আমরা আমাদের সংস্কৃতির, আমাদের ভাষার অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যবোধ হারিয়ে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের মধ্যে ধীরে ধীরে এমনভাবে নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছি তাতে অদূর ভবিষ্যতে জগাখিঁচুড়ি একটা ভাষা নিয়ে জাতিকে চলতে হবে। বিশ্বায়নের জিকির আর তথাকথিত ধর্মীয় জিকির তুলে আমরা ইংরেজী, আরবী, হিন্দী, উর্দুর মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছি। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে নতুন প্রজন্মকেই দেশ ও জাতিকে বাঁচাবার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

ভূমি ও তার নিচের মূল্যবান সম্পদকে কাজে লাগাতে হবে। দেশের দশভাগ মানুষ ভোগ বিলাসের মধ্যে জীবনযাপন করবে আর নব্বই ভাগ মানুষ এক বেলা বা আধাপেট খেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাবে তাতে দেশ ও জাতির অগ্রগতি ও উন্নতি স্তিমিত হয়ে পড়বে। মাটির নিচের মহামূল্যবান সম্পদেরও যথার্থ ব্যবহার কাঠামো গড়ে উঠেনি। আমরা দুর্নীতি, সন্ত্রাস, রাহাজানির কথা বলি কিন্তু কেন এই অবক্ষয়? প্রযুক্তির জন্যে বিদেশের কাছে ধর্ণা দিতে হচ্ছে অথচ দেশীয় প্রযুক্তি ও মেধা ব্যবহার করা হচ্ছে না মাটির নিচের সম্পদকে খুঁজে বের করে দেশের কাজে লাগানোর জন্য। এর পিছনে কাজ করছে এক শ্রেণীর ব্যবসায়িক, রাজনীতিক ও আমলাতন্ত্র চক্র তাদের ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধারের জন্য। যতক্ষণ পর্যন্ত না মাটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নদী ও খনিজ সম্পদ যথাযথ ব্যবহার হবে সঠিক কাঠামোগত বিন্যাস সাধন না করে, ততোদিন এ দেশের বেকার সমস্যা কমবে না; আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনও আসবে না এবং বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশসমূহের মধ্যে অন্যতম জায়গা করে নিতে পারবে না। দেশের সম্পদ বিদেশী বেনিয়াদের কাছে বিক্রি করে নয় বরং উন্নত বিশ্বের প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে দেশের সম্পদ দেশের মেধা সমন্বয়ে দেশের কাজেই লাগাতে হবে। শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে হবে শিল্পায়নের জন্য।

দেশের মহামূল্যবান সম্পদ ‘মানুষ’কে পরিকল্পনা মাফিক গড়ে তুলতে হবে। অপ্রিয় হলেও সত্য আজ পর্যন্ত কোনো সরকার এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ দৃষ্টি দেয়নি। দেশের মানুষ ব্যবহৃত হচ্ছে রাজনীতিকদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্যে, দেশের জন্যে নয়।  মেধা পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে আর গাধা তৈরি করা হচ্ছে দেশে যাতে তারা বোঝা টানা ছাড়া আর কিছু করতে না পারে। রাজনীতিকরা চান না দেশের মানুষকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা  বাস্তবায়ন করে। বরং দলবাজি করার প্রবণতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছেন এবং অসৎ উপায়ে উপার্জনে মদদ যোগাচ্ছেন। ফলে অর্থ+বেকারত্ব+মাদক ব্যবসা সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি তো ঘটছেই তার সঙ্গে সঙ্গে দেশের মানুষ হয়ে যাচ্ছে পঙ্গু। শ্রমলব্ধ উপার্জন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে দেশের মানুষ। অপরদিকে দেশের মানুষকে আরো পঙ্গু করে দিচ্ছে এ দেশের ধর্মজীবীরা। আল্লাহ্র নামের উপর দিয়ে সবকিছু পার করার অপচেষ্টা এবং বেহেশ্ত-দোযখের ভয় দেখিয়ে বস্তাপচা বাদশাহী আমলে প্রণীত মিথ্যা হাদিস, ফেকাহশাস্ত্র এবং সর্বোপরি শরিয়ার দোহাই দিয়ে অলীক কল্পনার ফানুস উড়িয়ে দেশের অশিক্ষিত মানুষকে ধর্মান্ধ করার প্রচেষ্টায় রত।

তাই তারা তথাকথিত ইসলামের নামে জিহাদ ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ধর্মের প্রতি অনীহা সৃষ্টি করাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ধর্মশিক্ষার নামে বেসরকারী মাদ্রাসা সৃষ্টি করে নিম্নমানের তথাকথিত ইসলামের শিক্ষা দিয়ে এক শ্রেণীর ধর্মজীবী এমন এক সম্প্রদায় গড়ে তুলছে যারা দেশ ও জাতির জন্যে বোঝা স্বরূপ। তারা কায়িক পরিশ্রম করতে পারে না আবার মেধার চর্চাও করতে পারে না। ফলে তারা সব সময় এমন এক মানসিক অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে যা কখনও এতো নি¤œমানের অবস্থা তৈরি করে যে তখন তারা যে কোনো অসামাজিক কাজ করতে দ্বিধাবোধ করে না। আবার অনেক সময় তথাকথিত ইসলাম ধর্ম জানার সঙ্গে আরবী ভাষা জানায় তাদের অহংবোধ এতই প্রকট হয়ে ওঠে যে তখন তাদের ফতোয়াবাজিতে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এই অবস্থা দেশের মধ্যে বিরাজমান রাখতে এক শ্রেণীর স্ব-ঘোষিত বুদ্ধিজীবী, ধর্মজীবী  এবং রাজনীতিকরা কাজ করে যাচ্ছে  স্বাধীনতার পর থেকে যাতে তাদেরকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারে পরজীবী এবং নির্ভরশীল করে রাখতে। তাই মাদ্রাসা শিক্ষা ও কওমী মাদ্রাসা গড়ে ওঠার পিছনে রাজনৈতিক তথাকথিত ইসলামকে যে কাজে লাগানো হচ্ছে পাশ্চাত্য আধিপত্যবাদীদের মদদে তার প্রমাণ পাওয়া যায় একশত বছরের আমাদের দেশের দৈনিক পত্রিকাসমূহের খবরাদির মধ্যে।

এ ক্ষেত্রে মা-মাতৃভাষা-মাটি-মানুষকে সমভাবে সমান মর্যাদা দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সার্বিক কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনায় মায়ের জাতকে যথাযথ জায়গা ছেড়ে না দিলে-মাতৃভাষার যথাযথ প্রয়োগের ব্যবস্থা না করলে-মাটির সম্পদকে ব্যবহারের জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার না করলে-মানুষ সম্পদকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে গড়ে তুলে দেশ ও বিশ্বায়নের যুগে মূল্যবান সম্পদ শক্তি হিসাবে ব্যবহার না করলে এ দেশের শান্তি শুধু কথার কথা হয়ে থাকবে। দেশের মানুষকে গালভরা বুলি শোনানো যাবে, রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তাদের ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন হয়ে রাজনীতিক, আমলারা ও ব্যবসায়ীমহল সম্পদশালী হতে পারবেন কিন্তু সার্বিক দেশের কোনো কল্যাণ নিয়ে আসতে পারবেন না। ৪৪ বছর ধরে যে মিথ্যাচার চলছে তা চলতেই থাকবে – গরীব গরীব হবে, ধনী ধনী হবে আর মধ্যবিত্তশ্রেণী দু’দিক দিয়ে ব্যবহৃত হয়ে এবং দুই শ্রেণীকে ব্যবহার করে দ্বি-চারীর সংখ্যা বাড়াবে যা দেশের জন্য ভয়াবহ…..।

নেতাজির সেক্যুলার ভারত!

সংলাপ ॥ যে মানুষটি ভারতের রাষ্ট্রীয় কাঠামো নির্মাণে শুধু ধর্ম নয়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শুধু যোগ্যতাকেই করছেন মানদ- তাঁর সেই সমদর্শী, প্রগতিশীল ও বাস্তববাদী মানসিকতা কি আজকের ভারত ভুলে যাবে?

ধর্মীয় বিদ্বেষ ও জাতপাতের রাজনীতি-দীর্ণ ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বব্যাপী দুর্ভাগ্যের মেঘ কি সেই দিনই ঘনিয়েছিল যে দিন থেকে ভারতবাসী দেখল ‘সুভাষ ঘরে ফিরেনি’?

এ প্রশ্ন দেশের জল-হাওয়া-মাটি-মানসের আবহমানতায় মিশে গিয়েছে। অবিভক্ত ভারতের বেশ কয়েকটি টুকরোর এক টুকরো বুকে নিয়ে ভারতবাসী আজও খুঁজে বেড়ায় এই প্রশ্নের উত্তর। সুভাষের মতাদর্শের আত্তিকরণের চেয়ে সে বড় বেশি ভাবে তিনি বেঁচে আছেন কিনা। তাঁর অন্তর্ধান নিয়ে আজও কেন নিরপেক্ষ তদন্ত হল না কিংবা আজও কেন সরকার নেতাজি-সংক্রান্ত সব ফাইল প্রকাশ্যে আনল না- এ সব প্রশ্নেই তার উৎসাহ বেশি। প্রতি বছর ২৩ জানুয়ারি শীতের রোদে পিঠ ঠেকিয়ে ছুটির আবেশে বেশ একটা পিকনিক পিকনিক মেজাজে মশগুল বাঙালি তার শৌর্যের আইকন নেতাজির মতাদর্শ নিয়ে কতটা ভাবছে?

তবুও, তবুও তো কিছু আছে, যা তার প্রাণপ্রিয় নেতাজির সত্ত্বার সঙ্গে মিশে আছে।

সেই সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে অসংখ্য ভারতীয়র সত্ত্বার সঙ্গে। সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছে শ্বাসে-প্রশ্বাসে। কিংবা নিরাশার দীর্ঘশ্বাস হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে তাঁকেই, তাঁর বিশ্বাস ও ভাবধারার ফল্গুতে স্নান করতে চেয়ে, প্রতিদিন। স্বপ্ন দেখছে তাঁর স্বপ্নের সেক্যুলার ভারতের। সমস্ত অনাচার, বঞ্চনা, শোষণ থেকে তাঁর স্বপ্নের পূর্ণ স্বরাজই কি আজও অসংখ্য ছাত্র-যুব’র কাঙ্খিত ‘আজাদি’?

হ্যাঁ, আজাদি। ঘরে-বাইরে সর্বত্র কান পাতলেই আ-সমদ্র হিমাচল তোলপাড় করা আওয়াজ আসছে-আজাদি। যেন সেই ব্রিটিশ ভারতের আবহ। স্বাধীনোত্তর ভারতে এমন তোলপাড় এই প্রথম। যে সেক্যুলার ভারত ছিল সুভাষের স্বপ্ন, যে ধর্মনিরপেক্ষ ভাবধারার সর্বাত্মক চর্চা ও উপস্থিতি ছিল তাঁর সর্বব্যাপী ক্রিয়াকান্ডে, আজ যখন তাকে নস্যাৎ করে দেশ দেখছে ধর্মের ভিত্তিতে নতুন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, যখন দেশকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে একরৈখিক হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের দিকে, যখন দিকে দিকে স্লোগান উঠছে ‘হিন্দু-হিন্দি-হিন্দুস্তান’, তখন ভীষণ মনে পড়ে তাঁর ‘Indian Struggle’-এ লেখা সেই মোক্ষম কথাগুলো- “The growth of sectarian movements among both Hindus and Moslems accentuated intercommunal tension. The opportunity was availed of by interested third parties who wanted to see the two communities fight, so that the Nationalist forces could be weakened.” কী দূরদর্শী বিশ্লে­ষণ! চোখে আঙুল দিয়ে তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন সেই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে, যা তাঁর স্বপ্নের ভবিষ্যৎ ভারতের সংহতি ও সেক্যুলার সত্ত্বাকে নষ্ট করতে চায়।

মনে হচ্ছে যেন এটাই আজকের ভারতের জন্য সব চেয়ে প্রয়োজনীয় কথন। কেউ কেউ যে এমন কথা আজও  বলছেন না, তা তো নয়। কিন্তু নেতাজির মতো বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায়? ইতিহাস বলে, পাকিস্তানের কট্টর দাবিদার স্বয়ং জিন্নাহ পর্যন্ত এই একটি মানুষের সেকুলার সত্তায় বিশ্বাস করতেন। কেন করতেন? না, তাঁর মধ্যে কোনও নাটক ছিল না, ছিল না সংখ্যালঘু তোষণের কদর্য রাজনীতি। জিন্নাহ তো বটেই, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে আপামর  ব্রিটিশ বিরোধী ভারতীয় দেখেছিল ব্রিটিশ বিরোধী জাতীয় জাগরণ ও নতুন ভারত নির্মাণের প্রশ্নে তাঁর নির্ভেজাল ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান।

ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে নেতাজির আপসহীন মনোভাবকে সাভারকর ও তাঁর  অনুগামীরা খুব স্বাভাবিক ভাবেই ভাল ভাবে নেননি। এ ছিল তাঁদের চোখে ‘militant spirit of secularism’| অবশ্য সুভাষের তাতে কিছু এসে যায়নি। বরং এই আপসহীন প্রোজ্জ্বল স্পিরিট থেকেই তিনি ১৯৪০-এর ৪ মে লিখলেন, “…the Indian National Congress has put into its constitution a clause to the effect that no member of a communal organisation like Hindu Mahasobha and Muslim League can be a member of an elective committee of Congress..” আর এ সব দেখেশুনে ১৯৪১-এ ভাগলপুরে হিন্দু মহাসভার ২৩তম অধিবেশনে সাভারকর হিন্দু সম্প্রদায়কে খোলাখুলি ডাক দিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে সদলবলে যোগ দিতে।

 শুধু কি তাই? খোদ কংগ্রেসের মধ্যেই সুভাষকে হতে হল চরম কোণঠাসা। কংগ্রেসের দক্ষিণপন্থী শাখা সরাসরি তাঁর বিরোধিতা করল। স্বয়ং গাঁধীর নেতৃত্বে প্যাটেলকে দাঁড় করানো হল তাঁর বিরুদ্ধে। হেরে গেলেন প্যাটেল। ভোটের ফল— সুভাষ ১৫৭৫, প্যাটেলে ১৩৭৬। কংগ্রেসে থেকেও দক্ষিণপন্থী প্যাটেল স্বঘোষিত ‘সোশ্যালিস্ট’ সুভাষের গণতান্ত্রিক নির্বাচন মানতে পারলেন না। বলে দিলেন- “The lion becomes a king by birth, not by an election in the jungle..”

ভাবতে অবাক লাগে, কংগ্রেসের মধ্যে থেকে কংগ্রেসেরই নির্বাচিত সভাপতি সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেন যিনি, তারঁই সর্বোচ্চ মূর্তি তৈরি হল এ ভারতে, যার নাম Statue of Unity’। খরচ তিন হাজার কোটি টাকা। কারণ, ইতিহাস বলছে নেতাজির সেক্যলারিজম ও সোশ্যালিস্ট মনোভাবকে অন্তর থেকে যাঁরা কখনওই মানতে পারেননি, উল্টে হিন্দুত্ববাদের পক্ষে প্রত্যক্ষ সওয়াল না করলেও পরোক্ষে নরম মনোভাব ছিল যাঁদের, প্যাটেল ছিলেন তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। আর এ কারণেই নেহরু খুব কৌশলে তাঁকেই ব্যবহার করেছিলেন জিন্নার সঙ্গে বাটোয়ারা-সহ অন্য প্রয়োজনে।

আর সুভাষ? সুভাষের সেক্যুলারিজম? সে কি তবে আজ ভেন্টিলেশনে? যে মানুষটি ব্যক্তিজীবনে সনাতন ভারতের আধ্যাত্মিক পরাকাষ্ঠাকে সম্মানের সঙ্গে মান্যতা দিতেন, বিবেকানন্দ যাঁর আদর্শ, সেই মানুষটিই রাষ্ট্রীয় কাঠামো নির্মাণে শুধু ধর্ম নয়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শুধু যোগ্যতাকেই করছেন মানদন্ড-তাঁর সেই সমদর্শী, সেকুলার, প্রগতিশীল ও বাস্তববাদী মানসিকতা কি আজকের ভারত ভুলে যাবে?

তিনিই তো পৃথিবীর প্রথম কম্যান্ডার-ইন-চিফ যিনি তাঁর আজাদ-হিন্দ বাহিনীতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য কমন কিচেন, কমন রাঁধুনি, একাসনে খাওয়া, একই ছাউনিতে শোওয়ার প্রচলন করলেন। ‘বন্দেমাতরম্’ নিয়ে তৎকালীন বিতর্কে না ঢুকে হয়ে উঠলেন সর্বজনমান্য ‘জয়হিন্দ’ ধ্বনির উদ্গাতা। আর সে জন্যই তাঁর জীবনিকার লিওনার্দ আ গর্ডন বলছেন – “His ideal, as indeed the ideal of the Indian National Congress, was that all Indians, regardless of region, religious affiliation, or caste join together to make common cause against foreign rulers.

আজকের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে যে ধর্মীয় বৈষম্য, তা কি নেতাজির এই ভাবাদর্শের সঙ্গে মেলানো যায়? আর সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে দেশজোড়া প্রতিবাদ এবং সেই প্রতিবাদের বিরুদ্ধের প্রতিবাদকে নেতাজি আজ কি চোখে দেখতেন? তাঁর সেক্যুলার ভারত কি তবে সত্যিই এখন ভেন্টিলেশনে?

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে চিন

সংলাপ ॥ রহস্যময় করোনাভাইরাসের ভয়ে কাঁপছে চিন। ১৮ জনের মৃত্যুর পরে দেশের পাঁচ শহরকে কার্যত ‘বন্দি’ করল চিন সরকার। সতর্কতা হিসেবে বেজিংয়ের নির্দেশ, ওই পাঁচ শহরে কোনও বিমান ওঠানামা করবে না। ট্রেন ছাড়বে না। বাসিন্দাদের বলা হয়েছে, খুব প্রয়োজন ছাড়া শহরের বাইরে না বেরোতে। বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ, উহান শহরের সি-ফুড ও মাছ-মাংসের বাজার থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে। এই বাজারে বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীর মাংস বেআইনি ভাবে বিক্রি হত। দেশজুড়ে সাড়ে ছ’শোরও বেশি লোক এখন আক্রান্ত। দেখা গিয়েছে, বিদেশে আক্রান্তদের বেশির ভাগ চিন-ফেরত। সর্বশেষ খবরটি এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে। এর পরেই ভাইরাসের ‘উৎস’ উহান, হুয়াংগ্যাং ও ইঝৌ শহরকে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে।

হুবেই প্রদেশের বন্দর-শহর উহানে ১ কোটি ১০ লক্ষ মানুষের বাস। অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রেন চলাচল, বিমান পরিবহণ বন্ধ করে দেয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরবন্দি লোকেদের মধ্যে। গত কাল উহানে এ নিয়ে সরকারি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরে একই নির্দেশ আসে হুয়াংগ্যাংয়ের বাসিন্দাদের কাছেও। ৭৫ লক্ষ মানুষের বাস এই শহরে। ট্রেন-সহ সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হয়। বন্ধ সিনেমা হল, সাইবার কাফে, বাজার-দোকানও। ইঝৌ শহরও একই পথে হেঁটেছে। রাতের দিকে আরও দু’টি শহরকে ‘বন্দি’ ঘোষণা করা হয়। ট্রেন-বিমানের পাশাপাশি ফেরি, বাস চলাচলও বন্ধ। এই সব শহরের স্টেশনগুলিতে নামানো হয়েছে সেনা-পুলিশ। স্টেশনের প্রবেশ পথে গার্ডরেল বসানো হয়েছে।

চিনা সোশ্যাল মিডিয়া ‘উইবো’তে ‘শহরবন্দি’দের এক জন লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীর শেষ দিন।’ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকে। ২৫ জানুয়ারি চিনা নববর্ষ। প্রবাসীরা দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, উৎসবে মেতে ওঠেন। উহানের            স্টেশন, বিমানবন্দর উপচে পড়ে ভিড়ে। সেই ছবিটাই এ বার নেই।

শ্বাস-প্রশ্বাসে ছড়ায় ভাইরাসটি। গত ৩১ ডিসেম্বর প্রথম ধরা পড়ে। তার পর থেকে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত ৫৭০ জন। জাপান, হংকং, ম্যাকাউ, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, তাইল্যান্ড, আমেরিকা, সৌদি আরব, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর থেকে খবর মিলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তারা এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি যে ‘বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সঙ্কট’ ঘোষণা করা হবে কি না। সংস্থার প্রধান বলেন, ‘চিন যে কঠিন পদক্ষেপ করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

ফিলিস্তিনের সঙ্গে শতাব্দির সেরা বিশ্বাসঘাতকতা ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’: ইরান

সংলাপ ॥ আমেরিকার পক্ষ থেকে উত্থাপিত ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ বা কথিত ‘শতাব্দির সেরা চুক্তি’কে ‘শতাব্দির সেরা বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে উল্লেখ করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, ফিলিস্তিনিদের ওপর আমেরিকার পক্ষ থেকে চাপিয়ে দেয়া এই লজ্জাজনক শান্তি পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে বাধ্য।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি গতসপ্তাহের মঙ্গলবার রাতে এক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ পরিকল্পনা উত্থাপন করে মূলত ফিলিস্তিনি জনগণের পাশাপাশি গোটা মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মুসাভি এ পরিকল্পনা প্রতিহত করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের স্বাধীনচেতা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

ফিলিস্তিনি জনগণকে ইসরাইলসহ গোটা ফিলিস্তিনি ভূখন্ডের প্রকৃত মালিক বলে উল্লেখ করেন সাইয়্যেদ মুসাভি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি ভূমি জবরদখল করে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কাজেই সেখানকার সংকট সমাধানের একমাত্র উপায় ফিলিস্তিনের প্রকৃত অধিবাসী মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্যে গণভোটের ব্যবস্থা করা যাতে তারা নিজের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে আনা অবৈধ ইহুদি অভিবাসীদেরকে এই গণভোটের বাইরে রাখতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইরানের দৃষ্টিতে ফিলিস্তিন ও জেরুজালেম আল-কুদসকে মুসলিম বিশ্বের এক নম্বর সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেন ইরানের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে কিছু মুসলিম দেশ ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার এই পরিকল্পনা মেনে নিয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের প্রবল বিরোধিতা উপেক্ষা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইহুদিবাদী পরিকল্পনা ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ উপস্থাপন করেছেন। তিনি গত সপ্তাহের মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশে নিয়ে তার একপেশে এই আপোষ প্রক্রিয়া উপস্থাপন করেন।

মার্কিন-ইহুদিবাদী এই পরিকল্পনায় ঐতিহাসিক জেরুজালেম আল-কুদস শহরকে ইসরাইলি ভূখন্ডের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদেরকে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া, জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের অবশিষ্ট অংশ ও গাজা উপত্যকা নিয়ে একটি দুর্বল ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি বিশ্বের বহু মুসলিম দেশ ট্রাম্পের এই একতরফা বা বর্ণবাদী পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। ফিলিস্তিনের স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘আমি হাজার বার বলেছি, এ পরিকল্পনা মানি না, মানি না, মানি না।’ ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ উপস্থাপনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাকে টেলিফোন করলেও তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, যে পরিকল্পনায় জেরুজালেম আল-কুদসকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কথা না থাকছে সে পরিকল্পনা তিনি মেনে নেবেন না।

রাজকীয় পদবী হারাচ্ছেন প্রিন্স হ্যারি – মেগান

সংলাপ ॥ ব্রিটিশ প্রিন্স হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগান মার্কেলের রাজকীয় পদবি আর থাকছে না। বাকিংহাম প্যালেস এক ঘোষণায় জানিয়েছে, প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান তাদের রাজকীয় পদবী আর ব্যবহার করবেন না। এমনকি তারা রাজপরিবারের হয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য যে অর্থ পেতেন সেটাও আর পাবেন না।

প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান এখন থেকে আর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতিনিধিত্ব করবেন না। যুক্তরাজ্যে এই দম্পতির ফ্রগমোর কটেজ সংস্কারে সরকারি কোষাকার থেকে প্রায় ২৪ লাখ পাউন্ড ব্যয় হয়েছে। ওই অর্থ হ্যারি এবং মেগানকে পরিশোধ করতে হবে।

এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাজপ্রাসাদ ছাড়ার পর ওই কটেজেই বসবাস শুরু করবেন তারা। বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে, চলতি বছরের বসন্তেই রাজপরিবার থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান।

এক বিবৃতিতে রানি এলিজাবেথ জানিয়েছেন, কয়েক মাসের কথোপকথন এবং সাম্প্রতিক আলোচনায় তিনি এ বিষয়ে সন্তুষ্ট যে, তার পরিবার এবং নাতি প্রিন্স হ্যারির জন্য একটি গঠনমূলক ও সহায়ক পথ খুঁজে পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রিন্স হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগান মার্কেল রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে স্বাধীন জীবনযাপনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। পরে তাতে সমর্থন জানান রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর তিনি বলেন, হ্যারি এবং মেগান যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের সেভাবে থাকার অনুমতি দিচ্ছেন তিনি।

রানি বলেন, হ্যারি, মেগান এবং তাদের ছেলে আর্চি সব সময়ই আমার পরিবারের সবচেয়ে প্রিয় সদস্য হিসেবে থাকবে। তারা সবার ভালোবাসা পাবে। দেশের জন্য হ্যারি ও মেগান যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন রানি এলিজাবেথ|

সেনা মোতায়েনে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫০ কোটি ডলার দিয়েছে সৌদি আরব

সংলাপ ॥ সৌদি আরবে মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখতে খরচ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫০ কোটি ডলার দিয়েছে রিয়াদ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এই অর্থ দেয়া হয়। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এখবর জানিয়েছে।

 মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর’র খবরে বলা হয়েছে, যদি সত্যি সত্যি গত ডিসেম্বরে ৫০ কোটি ডলার দিয়ে থাকে সৌদি আরব তাহলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, সেনা মোতায়েনের জন্য রিয়াদ ইতোমধ্যে ব্যাংকে ১০০ কোটি ডলার জমা দিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবের কাছে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করেনি। এমনকি অর্থ যে গ্রহণ করা হয়েছে তাও নিশ্চিত করেনি পেন্টাগন।

তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএ’র খবরে বলা হয়েছে, দুই মিত্র দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এসব আলোচনার মধ্যে রয়েছে সেনা মোতায়েনের খরচের বিষয়টিও।

সৌদি আরবের তেল উৎপাদনকেন্দ্রে হামলার পর দেশটিতে সেনা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে আসছে ওয়াশিংটন।

এর আগে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে বিমান রিফুয়েলিংয়ে সহযোগিতা প্রদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ দিয়েছে সৌদি আরব। মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনার মুখে ২০১৮ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র এই সহযোগিতা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরের মাসেই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই কার্যক্রমের ব্যয় হিসেবে ৩৩০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করে।

আজীবন ক্ষমতায় থাকার প্রশ্নে যা বললেন পুতিন

সংলাপ ॥ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কালে চর্চিত আমৃত্যু ক্ষমতায় থাকার ধারায় রাশিয়াকে ফিরিয়ে নিতে চান না তিনি। শনিবার রাশিয়ার সেইন্ট পিটার্সবার্গ শহরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবীণদের নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আলোচনা জন্ম দেয়ার কয়েকদিন পর পুতিন এমন মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তাকে ঘিরে চলা জল্পনার অবসান ঘটাতে চাইছেন।

গত সপ্তাহের বুধবার বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়নের’ ভাষণে পুতিন গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানে বড় ধরনের সংশোধনী আনার প্রস্তাব দেন। পুতিনের সংশোধনী প্রস্তাবে রুশ প্রেসিডেন্টদের টানা দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকার নিয়মে পরিবর্তন আনার কথাও বলা হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এ দফায় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এখনকার সংবিধান অনুযায়ী পুতিন আর প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। তারা মনে করছেন, সংবিধান সংশোধন করে রুশ প্রেসিডেন্ট আজীবন ক্ষমতায় থাকার পট প্রস্তুত করতে চাইছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লেনিনগ্রাদের অবরোধ ভেঙ্গে সোভিয়েত বাহিনীর বেরিয়ে আসার ৭৭তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এক যুদ্ধ-অভিজ্ঞ প্রবীণ পুতিনের কাছে রুশ প্রেসিডেন্টের টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার নিয়ম বিলোপের বিষয়ে জানতে চান। জবাবে পুতিন বলেন, ‘গত শতকের আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে রাষ্ট্রনেতারা যখন দিন ফুরোনোর আগ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো নিশ্চিত না করেই দায়িত্ব ছেড়েছেন- সেরকম অবস্থায় ফেরাটা খুবই উদ্বেগের হবে। আমার মনে হয় ওই ধরনের পরিস্থিতিতে না যাওয়াই ভালো হবে’।

সোভিয়েত আমলের গুপ্তচর সংস্থা কেজিবি-র সাবেক কর্মকর্তা পুতিন গত দুই দশক ধরে হয় প্রেসিডেন্ট নয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাশিয়ার রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন।  ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়নের’ ভাষণে দেয়া প্রস্তাবে তিনি প্রেসিডেন্টকেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থার বাইরে নতুন কেন্দ্র সৃষ্টির লক্ষ্যের কথা বলেছেন। অনেকেই এ পদক্ষেপকে ২০২৪ সালে মেয়াদ শেষের পর ৬৭ বছর বয়সী প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার অপচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন। প্রেসিডেন্টের অনেক ক্ষমতা পার্লামেন্টের কাছে হস্তান্তরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের ওই প্রস্তাবের পরপরই প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদভ তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে পদত্যাগ করেন।

সবাইকে চমকে দিয়ে পুতিন পরে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মিখাইল মিশুস্তিনকে বেছে নেন। এর আগে রাশিয়ার কর বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন মিশুস্তিন।

উল্লেখ্য, সোভিয়েত আমলের শেষদিকে লিওনিদ ব্রেজনেভ, ইউরি আন্দ্রেপোভ ও কনস্টানটিন চেরনেঙ্কোর মতো বয়জ্যেষ্ঠ নেতারা দায়িত্বে থাকা অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেছেন; তাদের মৃত্যুর পর ক্ষমতা দখল নিয়ে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল।

৭০ বছরের মধ্যে চীনে সর্বনিম্ন জন্মহার

সংলাপ ॥ ৭০ বছর আগে কমিউনিস্ট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে গঠিত হয় পিউপিলস রিপাবলিক অব চায়না। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে দেশটির জন্ম হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ২০১৯ সালে দেশটির জন্ম হার ছিল প্রতি হাজারে ১০.৪৮। চীনের পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে ১৯৪৯ সালের পর এটাই সর্বনিম্ন জন্ম হার।

গত কয়েক বছর ধরেই কমছে চীনের জন্ম হার। আর এতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি। জন্ম হার কমলেও মৃত্যু হারও কম থাকায় ২০১৯ সালে চীনের জনসংখ্যা পৌঁছায় ১৪০ কোটিতে। তবে জন্মহার কম হওয়ায় স্বল্প সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে বৃহত্তর সংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত মানুষের দায়িত্ব নিতে হতে পারে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত বছর চীনে জন্ম নিয়েছে মাত্র ৫৮ লাখ শিশু।

চীনের জন্ম হার যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কম হলেও জাপানের চেয়ে বেশি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম হার প্রতি হাজারে ১২। তবে জাপানে সাম্প্রতিক জন্ম হার ৮। গত বছর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এই হার ছিল ১১.৬। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্বের সামগ্রিক জন্ম হার ২০১৭ সালে ছিল ১৮.৬৫।

১৯৭৯ সালে চীন সরকার দেশব্যাপী ‘এক সন্তান নীতি’ গ্রহণ করে। এই নীতিতে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হলেও এর কারণেই দেশটিতে জন্ম হার কমতে থাকে। যেসব পরিবার এই নীতি ভঙ্গ করেছে তাদের জরিমানা দিতে হয়েছে, চাকরি হারাতে হয়েছে আবার কখনও কখনও জোর করে গর্ভপাতও করানো হয়েছে।

এক সন্তান নীতির কারণে চীনে লৈঙ্গিক ভারসাম্যতাও মারাত্মকভাবে বিঘিœত হয়েছে। ২০১৯ সালের হিসেব অনুযায়ী দেশটিতে নারীদের চেয়ে পুরুষের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি বেশি। ২০১৫ সালে এসে এক সন্তান নীতি বাতিল করে দুই সন্তান নিতে দম্পত্তিদের উৎসাহিত করা হয়। তবে এতে প্রথম দুই বছর জন্ম হার বাড়লেও ক্রমাগত কমানো ঠেকাতে ব্যর্থ হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই সন্তান নিতে উৎসাহিত করা হলেও আনুষঙ্গিক পরিবর্তন, যেমন শিশু লালন পালনে অর্থনৈতিক সহায়তা এবং মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানো না হওয়ায় এই নীতি সফল হতে পারেনি। তারা বলছেন, বেশিরভাগ পরিবারই এক সন্তানের বেশি লালন-পালনে সক্ষম নয়।