শেষ পাতা

এত বড় বিপদ স্বাধীন ভারতে আগে কখনও আসেনি

সংলাপ ॥  একটি লড়াইয়ের ভিতরে আর একটি লড়াই চলছে। বাইরের লড়াই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে, দেশ জুড়ে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) প্রবর্তনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে। ভিতরের লড়াই চলছে ওই বাইরের লড়াইয়ের সংজ্ঞা, ধর্ম এবং গতিপথকে কেন্দ্র করে। সিএএ-এনআরসি’র বিরুদ্ধে আন্দোলন যাতে কেবলমাত্র মুসলমান সমাজের আন্দোলনে পর্যবসিত না হয়, ভিতরের লড়াই সেই উদ্দেশ্যে। ভিতরের লড়াইয়েই নিহিত রয়েছে বাইরের লড়াইয়ের প্রাণশক্তি। সেই লড়াই ব্যর্থ হলে ওই প্রাণশক্তি বিনষ্ট হবে। তা কেবল দুর্ভাগ্যজনক নহে, বিপজ্জনক। সেই বিপদ অত্যন্ত বড় আকারের, কারণ তা ভারতীয় রাজনীতিকে আড়াআড়ি ভাগ করে দিতে পারে, রাজনীতির মেরুকরণ ষোলো আনা সম্পন্ন করে মেরুকরণকেই রাজনীতিতে পরিণত করতে পারে।

এত বড় বিপদ স্বাধীন ভারতে আগে কখনও আসে নাই। বিপদ এই কারণে গুরুতর যে, রাষ্ট্রনীতি নিজেই মেরুকরণের প্রধান হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নুতন নাগরিকত্ব আইন মেরুকরণের জমি তৈরি করেছে, সেই জমিতে অতঃপর জাতীয় নাগরিক পঞ্জির ইমারত গড়া হবে। একটি কথা বুঝে নেয়া আবশ্যক। সিএএ সত্যই কত ‘নিপীড়িত হিন্দু’কে নাগরিকত্ব দিবে এবং নাগরিক পঞ্জিতে শেষ অবধি কত ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’র নাম বাদ পড়বে ও তাদের গতি কী হবে, তা কেউ জানে না, শাসকেরাও জানেন না। কিন্তু, অনুমান করা সহজ, তাদের জানবার প্রয়োজনও নাই। সিএএ দেখিয়ে হিন্দুদের অভয় দিয়ে যদি তাদের বলা হয় যে, এনআরসি-র ঔষধ দিয়া ‘অবাঞ্ছিত’দের বিতাড়ন করা হবে এবং সেই ব্যবস্থাপত্রে যদি তারা সন্তুষ্ট হন, তা হলেই কার্য সিদ্ধ হবে। এই হিসাবটি পরিষ্কার বলেই বোধ করি নাগরিকত্ব আইন বলবৎ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য বিরোধীরা সকলে একযোগে আপত্তি করলেও সিএএ-র বিষয়ে এক ইঞ্চি পিছু না হটবার হুমকি।

নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলন মুসলমানের আন্দোলন হয়ে উঠলে মেরুকরণের পথ সুগম হত। আশ্বাসের কথা, তা হয় নাই। এই আন্দোলন একটি বৃহত্তর গণ-আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। দেশ জুড়ে এই প্রতিবাদে সংখ্যালঘু মানুষের ভূমিকা অবশ্যই প্রবল। তা অত্যন্ত স্বাভাবিক যারা গোষ্ঠী হিসাবে বিপন্ন বোধ করছেন তারা গোষ্ঠী হিসাবেই প্রতিরোধে নামবেন। কিন্তু দুই দিক হতে এই আন্দোলন গোষ্ঠীর সীমা অতিক্রম করেছে।

এক, সংখ্যালঘু সমাজের বাহির হতেও অগণিত মানুষ গণতন্ত্র তথা সংবিধানকে রক্ষার তাগিদে জনপথে দাঁড়িয়ে ‘উই দ্য পিপল…’ পাঠ করেছেন। সংখ্যালঘুর স্বার্থ কেবল সংখ্যালঘুকেই দেখতে হবে এই জিন্না-ধর্মী সঙ্কীর্ণ মন্ত্র উড়িয়ে দিয়ে সমস্বরে ঘোষণা করেছেন হম দেখেঙ্গে! মেরুকরণের কারিগরদের মুখের উপর ইহা এক প্রচ- জবাব।

দুই, সংখ্যালঘু মানুষও তাদের প্রতিবাদকে গোষ্ঠীস্বার্থের গ-িতে বেধে রাখেন নাই, তার উত্তরণ ঘটিয়েছেন বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে। শাহিনবাগের রাজপথে একটি মিছিল হতে ধর্মীয় স্লোগান উঠলে সেখানকার ঐতিহাসিক সমাবেশের আয়োজকরাই আপত্তি করেছেন এবং স্লোগানদাতারা তৎক্ষণাৎ ভুল স্বীকার ও সংশোধন করেছেন, স্লোগান বদলিয়েছে। দুই দিক হতেই সম্মানিত হয়েছে গণতন্ত্রের একটি মৌলিক শর্ত: সংখ্যালঘুর অধিকার এবং মর্যাদা রক্ষা করা সংখ্যাগুরুর নৈতিক দায়িত্ব। সংখ্যাগুরুবাদের প্রবক্তা ও সেনাপতিরা এই শর্ত মানেন না। মানতে পারেন না। মানলে মেরুকরণের প্রকল্পটি ধসে পড়ে। সেখানেই সংখ্যাগুরুবাদের সাথে গণতন্ত্রের লড়াই। ভিতরের লড়াই ।

মসজিদের মাথায় ‘যুদ্ধের নিশান’ উড়াল ইরান

সংলাপ ॥ ইরান তার দেশের মসজিদের মাথায় ‘যুদ্ধের নিশান’ লাল পতাকা ওড়াল। বেরিয়ে এল ২০১৫ এর পরমাণু চুক্তি থেকে। আর ও-দিকে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানালেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে এ বার ‘খুব দ্রুত এবং ‘বড় হামলা’ হবে ইরানে। ইরানের ৫২টি ‘টার্গেট’ ঠিক করেছে আমেরিকা। জেনারেল কাসেম সোলেমানি খুনের বদলা চেয়ে গোড়া থেকেই ফুঁসছে ইরান। মুখে ‘যুদ্ধ চাই না’ বলছেন বটে, কিন্তু ধারাবাহিক হুমকি দিয়ে চলেছেন ট্রাম্পও। এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস।

গত শুক্রবার ভোররাতে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের কাডস ফোর্সের কমান্ডার সোলেমানি। তার পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াত উল্লাহ আলি খামেনেইকে বদলার দাবিতে সুর চড়াতে শোনা গিয়েছিল। গত সপ্তাহে শনিবার শিয়া অধ্যুষিত কোম শহরের ঐতিহ্যবাহী জামকরন মসজিদের উপর ধর্মীয় নীল পতাকার বদলে উড়তে দেখা গেল যুদ্ধের নিশানবাহী লাল পতাকা। বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের দাবি, ইরানের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম। তাঁদের মতে, এর অর্থ দেশের জনগণকে যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকতে বলা। এদিকে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস ও বালাড বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলার খবর আসে। বাগদাদে মার্কিন ‘গ্রিন জোন’ লক্ষ্য করেও ইরানের তরফে মর্টার হামলা হয় বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।

এরই পাল্টা ট্রাম্পের ‘৫২টি টার্গেটের’ টুইট বলে মনে করছেন অনেকে। কয়েক বছর আগে ইরানের মার্কিন দূতাবাসে ৫২ জনকে পণবন্দি করার পাল্টা হিসেবেই এই সংখ্যা বেছেছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘এগুলি ইরান ও তার সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বড় হামলা হবেই। আমেরিকা আর কোনও হুমকি সহ্য করবে না।’ এ দিকে শনিবারই ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়’ এই দাবিতে আমেরিকার ৩৪টি প্রদেশের ৮০টি শহরে পথে নামেন অসংখ্য মানুষ।

রবিবার রাতে ইরান ঘোষণা করে, এই মার্কিন আগ্রাসনের মুখে ২০১৫ এর পারমাণবিক চুক্তি আর মানবে না তারা। প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জানান, যে কোনও মুহূর্তে তাঁর দেশ পরমাণু অস্ত্র বিষয়ক গবেষণা এবং  ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ শুরু করে দিতে সক্ষম। এই চুক্তি থেকে ২০১৮-তেই বেরিয়ে এসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ইরানের তরফে প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় ট্রাম্পের নির্দেশে কাল থেকেই নানা দেশের সঙ্গে বার্তালাপ শুরু করে দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রসচিব মাইক পম্পেয়ো। হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, পম্পেয়ো ফোনে কথা বলেছেন পাক সেনাপ্রধান কমর বাজওয়ার সঙ্গে। ইরাক ও আফগানিস্তানের  সঙ্গেও কথা হয়েছে তার। সৌদি ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গেও হোয়াইট হাউসের কথা হয়েছে। কূটনীতিকদের একাংশ মনে করছেন, ইরানকে ‘জবাব’ দিতে আমেরিকা অন্য দেশের ভূখ- ব্যবহার করতে চাইছে। বিশেষত ট্রাম্পের নজর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের দিকে। কিন্তু আফগানিস্তান যে সেটা করতে দেবে না, শুক্রবারই 

তা স্পষ্ট করে দেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। তাঁর কথায়, ‘২০১৪ এর কাবুল-ওয়াশিংটনের মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ক যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছিল, তা মেনে কোনও ভাবেই অন্য দেশের উপর আঘাত হানতে আমাদের মাটি কাউকে ব্যবহার করতে দিতে পারি না।’

একই সুরে ‘না’ বলল পাকিস্তানও। বার্তা দিয়েছে সৌদি আরবও। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াদের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানান, ড্রোন হামলার আগে সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেনি আমেরিকা। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়ে ইরাকের তদারকি প্রধানমন্ত্রী আদেল মাহদিকে ফোন করেন সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমান। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, আমেরিকার মিত্র দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি ও আরব আমিরশাহির উপরেও হামলা চালাতে পারে ইরান।

এ-দিকে সোলেমানির শেষ যাত্রাতেও দাবি উঠল বদলার। একই দৃশ্য ছিল ইরাকে।  ইরানেও মিছিল কার্যত জনসমুদ্রের চেহারা নেয়। স্লোগান উঠতে থাকে, ‘শয়তান আমেরিকা, নিপাত যাক’। শিয়াপন্থী বিপুল সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিছিলে পা মেলান রাজনৈতিক নেতাদেরও একটা বড় অংশ। কাল ইরাকে বাগদাদ থেকে শুরু হওয়া মিছিল কারবালা ঘুরে পৌঁছায় নাজাফ শহরে। তেহরানের মিছিল শেষে আজই সোলেমানির দেহ পৌঁছবে তার জন্মস্থান কেরমানের শহরতলিতে। সেখানেই দাফন করা হবে তাকে।

বাংলা ও ভারতবর্ষের সম্প্রীতির বন্ধন আরো দৃঢ় হোক

সংলাপ ॥ ভারতবর্ষ সকল প্রতিবেশীকে না ভালবাসলেও বাংলাদেশের সাথে তার কূটনৈতিক সম্পর্কটি ভাল, বলতেই হবে। তার কারণ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ভারতের সাথে হার্দিক সম্পর্ক রক্ষায় রীতিমতো যত্নবান ও সচেষ্ট। মতান্তরের, এমনকি মনান্তরের, বিষয়ের যে অভাব ছিল, তা নয়। নদীর জলবণ্টন, সীমান্তে উত্তেজনা, অনুপ্রবেশ, ব্যবসা বাণিজ্যের চুক্তিশর্ত নিয়ে অসন্তোষ ছিল, আজও আছে। দিল্লির প্রতি ঢাকার বন্ধুতা ও বিশ্বস্ততার আতিশয্য সমালোচিত হয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে, দেশ বিকিয়ে দেবার অভিযোগও শেখ হাসিনাকে শুনতে হয়েছে বিস্তর। এতৎ সত্ত্বেও ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কে শৈত্য আসে নাই। কিন্তু এ বার ভারতে নাগরিক পঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের কারণে সেই সম্পর্কে এখন ঘনিয়ে আসছে আশঙ্কার মেঘ সচেতন মহল অন্তত তাই বলছেন।

নয়া নাগরিকত্ব আইনে ভারতের প্রতিবেশী তিনটি দেশের ধর্মীয় অত্যাচারের শিকার সংখ্যালঘুদের ভারতের নাগরিকত্ব দেবার লক্ষ্যে অগ্রসর হয়েছে  ভারতের শাসক দল বিজেপি। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে একই বন্ধনীতে ভারত জড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের পক্ষে তা ঘোর অস্বস্তির কারণ। অন্য দুটি দেশে ধর্মীয় সন্ত্রাসের পরিস্থিতি নিয়ে সমগ্র বিশ্ব অবগত ও উদ্বিগ্ন, কিন্তু শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ধর্মীয় সংখ্যালঘু নাগরিকের অধিকার রক্ষায় এ যাবৎ ভারত-সহ দক্ষিণ এশিয়ার সবিশেষ প্রশংসাই কুড়িয়ে চলেছে। সেই বাংলাদেশের অ-মুসলমান কোনও সংখ্যালঘু মানুষ ভারতে আশ্রয় চাইলে ভারত তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে, এই আপাত-উদার নির্ঘোষের পশ্চাতে বিদ্যমান আজকের বাংলাদেশকে ধর্মীয় নিপীড়ক বলে দাগ দেবার প্রবণতা। ভারতীয় সংসদে অমিত শাহ যতই বাংলাদেশের বর্তমান শাসকের প্রশংসা করে পূর্বের ক্ষমতাসীন দল বিএনপি-র দিকে যাবতীয় অভিযোগের অভিমুখ ঘুরিয়ে দেন না কেন, ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক কি আহত ও ব্যাহত হল না? নাগরিকত্ব আইনে মুসলমানদের প্রকারান্তরে স্বীকার না করা বাংলাদেশের জনসাধারণ কোন চক্ষে দেখবেন, বলা বাহুল্য। বিজেপির ভারতীয় হিন্দুত্বের বিপরীতে বাংলাদেশও যদি সমরূপ ধর্মভিত্তিক অবস্থান লয়, দুই দেশের পক্ষেই তা চরম অস্বস্তিকর ও বিপজ্জনক। তা প্রভাব ফেলবে প্রতিটি প্রতিবেশী দেশের অর্থনীতি, সমাজ, পরিবেশের উপরেও। যদিও এরূপ সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য অবান্তর প্রশ্ন। বাংলাদেশের বাঙালী সমাজ এদিকে যথেষ্ট সচেতন। তবে উগ্র ধর্মান্ধদের উস্কানি দিতে ভারতের  এমন রাজনৈতিক  আচরণ  দু’দেশের বন্ধত্বের সর্ম্পককে ক্ষতির সম্মূক্ষীণ করতে পারে যা মোটেও কাম্য নয়। নতুর বছরের শুভাগমনে রাজনৈতিক নেতারা বাংলা ও ভারতবর্ষে সম্প্রীতি বাড়ানোর উদ্যোগ নিবে এটাই সকলের কাম্য।

হাতে হাতে অস্ত্র মার্কিন নাগরিকদের : উৎকণ্ঠায় অপরাধ বিশেষজ্ঞরা!!!

সংলাপ ॥ আমেরিকায় গত বছর গোলাগুলির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। গত বছর ৪১টি হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত হয়েছে মোট ২১১ জন মার্কিনী। এরমধ্যে আল পাসোতে ২২ জন, ভার্জিনিয়া বিচে ১২ জন এবং আরো দু’টি ঘটনায় সবচেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস, ইউএসএ টুডে এবং নর্থ – ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছর আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক বছরে আমেরিকায় অস্ত্র নির্মাণ কোম্পানিগুলোর রমরমা ব্যবসা জমে উঠেছে। নজিরবিহীনভাবে হাল্কা ও অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্রের বিক্রি বহুগুণে বেড়ে গেছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে আমেরিকায় প্রায় ৩ কোটি অস্ত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। অর্থাৎ গড়ে প্রায় প্রতিটি নাগরিকের কাছে একটি করে অস্ত্র আছে। আরেকটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আমেরিকার প্রতি ১০০ নাগরিকের কাছে মোট ১২০টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে অস্ত্র মজুদের দিক থেকে আমেরিকার অবস্থান বিশ্বে এক নম্বরে।

বলা হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্ণবাদী নীতি, অস্ত্র বহনের অবাধ স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন, সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক কিংবা যেকোনো হামলার আশঙ্কা প্রভৃতি কারণে আমেরিকার সাধারণ মানুষ অস্ত্র সংরক্ষণে উৎসাহী হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকায় সহিংসতার মাত্রা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। দেশটিতে গণহত্যা অর্থাৎ একবারে চার জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এটাকে মার্কিন সমাজের জন্য বিপদঘন্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাও আবার এমন একটি দেশে এ পরিস্থিতি বিরাজ করছে যেদেশটি কিনা মানবাধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতার দাবি  করে থাকে। আমেরিকার মেট্রোপলিটন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ জেমস ডেন্সলি বলেছেন, ক্ষোভ ও হতাশা থেকে মার্কিন সমাজে এ উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বলা যায় বর্তমান সময়ে প্রায় সবার হাতে হাতে অস্ত্র রয়েছে।

হতাহতের সংখ্যা থেকে বোঝা যায়, আমেরিকায় আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং প্রতিটি নাগরিকের জীবন হুমকির সম্মুখীন। এ ছাড়া, অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদের হুমকি বেড়ে যাওয়ায় শুধু মার্কিন নাগরিকরাই নয় একইসঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষও উদ্বিগ্ন না হয়ে পারছে না। এ অবস্থায় আমেরিকায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মানবাধিকার কর্মীরা অস্ত্রআইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু অস্ত্র ব্যবসা ব্যাপক লাভজনক হওয়ায় মার্কিন কংগ্রেস প্রতিনিধিরা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করছেন। তারাই এ সংক্রান্ত আইন প্রনয়ণে বাধা সৃষ্টি করছেন। কারণ এ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে মূলত তারাই জড়িত। তাই আমেরিকার জনগণও জানে সরকার ও কংগ্রেস নেতাদের কারণেই মার্কিন সমাজে ধারাবাহিক হত্যাকান্ডের ঘটনা বেড়েই চলেছে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অস্ত্র সংক্রান্ত প্রচলিত আইনের কট্টর সমর্থক।

মোটকথা, গত বছর আমেরিকায় নিহতের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে এবং এ পরিস্থিতি থেকে আশু মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই, কোনো পদক্ষেপও নিতে দেখা যায় না। এ অবস্থায় আগামী বছর মার্কিনীদের জন্য আরো কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে বলে বিশ্লেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।

মাদ্রাসায় পাকি সেনা জেনারেল!

সংলাপ ॥ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছে তারা। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে পাকিস্তান এই দাবি করলেও সম্প্রতি পাক সেনার মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুরের একটি ছবিতে তার উল্টো চিত্রটাই ধরা পড়ল।

পাক সেনা প্রধান জেনারেল কমর বাজওয়ার সঙ্গে এ সপ্তাহের শুরুতেই করাচি সফরে গিয়েছিলেন গফুর। সফরে থাকাকালীন গত ২৭ ডিসেম্বর করাচির দক্ষিণ বন্দর এলাকায় কুখ্যাত জামিয়া রশিদিয়া মাদ্রাসায় যান গফুর। জইশ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে এই মাদ্রাসার ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং আমেরিকার কালো তালিকাতেও রয়েছে এই মাদ্রাসা। এ ছাড়া, ২০০২-এ ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর রিপোর্টার ড্যানিয়েল পার্লের অপহরণ ও হত্যাকান্ডের সঙ্গে এই মাদ্রাসার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গফুর নিজে সেই মাদ্রাসা পরিদর্শনের ছবি পোস্ট করেননি ঠিকই, কিন্তু সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। গফুর সেখানে পৌঁছতেই তাঁকে ‘হিরো’র মতো স্বাগত জানানো হয়। শুধু গফুরই নন, এ মাসের শুরুতেই পাক রেঞ্জার্সের বেশ কিছু অফিসার কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত-এর প্রধান ঔরঙ্গজেব ফারুকির সঙ্গে দেখা করেন বলে এক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে। পারভেজ মুশারফ যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন সে সময় ২০১২-তে নিষিদ্ধ হয়েছিল সংগঠনটি। গত ২৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানের একটি খবরের ওয়েবসাইটে এই সাক্ষাৎকারের কথা প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, অহলে সুন্নত-এর প্রধানের বাবার মৃত্যুর শোকবার্তা জানাতে এসেছিলেন পাকরেঞ্জার্সের আাধিকারিকরা।

পাক সেনার ফ্রন্টিয়ার কোর-এর অফিসাররা লস্কর-এ-জঙ্গভি এবং দেফা-এ-পাকিস্তানের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। সোশ্যাল মিডিয়াতে এমন বেশ কয়েকটি ছবিও ঘুরছে। জঙ্গিদের মদত দেওয়া, জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অর্থ জোগানোর মত কাজ বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক মহল বার বার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তানকে। আন্তর্জাতিক মহলের চাপে পড়ে জামাত-উদ-দাওয়া-র মতো জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধও করেছে পাকিস্তান। কিন্তু তারা যে তলে তলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে, তা প্রকাশ্যে আসায় জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে, তা হলে কি জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতে বড় সড় হামলার ছক কষছে পাকিস্তান?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের এক সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটা খুব আশঙ্কার বিষয় যে পাক সেনা ফের জিহাদি নেটওয়ার্ক সক্রিয় করে তুলছে।

২০২০ সাল শেষ হওয়ার আগেই ‘নর্ড স্ট্রিম-২’ চালু করব: রাশিয়া

সংলাপ ॥ রাশিয়া বলেছে, দেশটি আগামী বছর শেষ হওয়ার আগেই জার্মানি পর্যন্ত ‘নর্ড স্ট্রিম-২’ পাইপলাইন চালু করবে। রাশিয়া থেকে জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য এই বিশাল প্রজেক্টের কাজ মাঝামাঝি থাকা অবস্থায় গত সপ্তাহে আমেরিকা এই প্রকল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ ফলে পাইপলাইনের শেষ অংশের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয় এটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘অলসিস’। রাশিয়ার জ্বালানীমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর করে দেয়ার জন্য রাশিয়া নিজেই পাইপলাইনের বাকি নির্মাণকাজ সমাপ্ত করতে পারবে এবং ২০২০ সাল শেষ হওয়ার আগেই এ প্রকল্প চালু করবে মস্কো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২০ ডিসেম্বর ৭৩৮ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা আইন- ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স অথোরাইজেশন অ্যাক্ট বা এনডিএএ’তে স্বাক্ষর করেন। ‘নর্ড স্ট্রিম-২’ পাইপলাইনকে ওই আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে বলা হয়, ওই প্রজেক্টে জড়িত কোম্পানিসমূহ ও ব্যক্তিরা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে। ট্রাম্পের ওই পদক্ষেপের পর সুইস-ডাচ পাইপলাইন বসানোর কোম্পানি ‘অলসিস’ এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয়। তবে ৯.৫ বিলিয়ন ইউরোর এ প্রজেক্টের ৯০ শতাংশ কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। রাশিয়ার গ্যাস জার্মানিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাল্টিক সাগরের তলদেশ দিয়ে এই পাইপলাইন টেনে নেয়া হয়েছে।

এই পাইপলাইনের সমর্থকরা বলছেন, এটি চালু হলে ইউরোপীয় দেশগুলো কম দামে গ্যাস সংগ্রহের সুযোগ পাবে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এর মাধ্যমে রাশিয়া ইউরোপের ওপর নিজের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে চায়। আমেরিকা মূলত রাজনৈতিক দিকটি বিবেচনা করে এই প্রকল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন সমগ্র বিশ্বের জন্য বিস্ময়: প্রধানমন্ত্রী

সংলাপ ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশ আজ এক সোনালী সম্ভাবনার মহাসড়কে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন আজ সমগ্র বিশ্বের জন্য উন্নয়নের বিস্ময়। গত রোববার সকালে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে নৌবাহিনীর শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.১৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার হয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসসহ রেল, নৌযোগাযোগ ক্ষেত্রে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরাই বিশ্বে প্রথম শত বছরের বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ বাস্তবায়ন শুরু করছি। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করছি।

বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে দেশ গণতন্ত্র ও সরকারবিরোধী সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের এই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আমরা ৫৭ তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির অভিজাত দেশের কাতারে যুক্ত হয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকারের সুদূরপ্রসারী ও উন্নয়ন পরিকল্পনা ও এর সফল বাস্তবায়নের ফলে এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে।’

ধর্ম যার যার দেশটা কিন্তু সবার : মমতা

সংলাপ ॥ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলা ও ভারতকে ভাগ করার চেষ্টা চলছে, আমরা তা করতে দেবো না। গত সপ্তাহে মঙ্গলবার তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ/ক্যা)ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি এনআরসি’র বিরুদ্ধে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় ওই মন্তব্য করেন।


মমতা হিন্দুত্ববাদী বিজেপিকে টার্গেট করে বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে খেলা? আমরা ধর্ম নিয়ে খেলি না। আমরা বলি ধর্ম যার যার, আপনার দেশটা কিন্তু সবার। এই দেশটা আমার আপনার সবার। এটা মাথায় রাখতে হবে। আজকে ভারতবর্ষকে ভাগ করার চেষ্টা চলছে,

বাংলাকে ভাগ করার চেষ্টা চলছে। এটা আমরা করতে দেবো না। এটা মাথায় রাখবেন।’ তিনি এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে এনআরসি ও সিএএ/ক্যা’র বিরুদ্ধে স্লোগান  দিলে উপস্থিত জনতা তাতে গলা মেলান।   

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনআরসি ও সিএএ’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন। এর আগে সমাবেশ উপস্থিত সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে বলেন, ‘আমরা সবাই নাগরিক। সর্বধর্ম সমন্বয় আমদের জীবন ও আদর্শ। কাউকে বাংলা ছাড়তে দেবো না। নিশ্চিন্তে থাকবো, শান্তিতে থাকবো। বাংলায় এনআরসি ও ‘সিএএ’ করতে দেবো না। করতে দিচ্ছি না।’

মমতা বলেন, স্বাধীনতার ৭৩ বছর পরে ওরা আবার সবাইকে লাইনে দাঁড় করাবে। ওরা মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘বাংলায় এনআরসি হবে না। আসামে ডিটেনশন ক্যাম্প করেছে বিজেপি সরকার। বাংলায় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প নেই। আর হবেও না।’

মমতা সিএএ ও এনআরসি বিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, এই আন্দোলন কোনও ধর্মীয় আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন সারা পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষের আন্দোলন। এই আন্দোলন ভারতবর্ষের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন বলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন।

অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য ভারতের কর্নাটকে ডিটেনশন ক্যাম্প!

সংলাপ ॥ এন আর সি নিয়ে ভারত জুড়ে চলছে ব্যাপক সহিংসতা। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জেরে সারা ভারতে চলছে অমানবিকতার চিত্র প্রদর্শনী। রামলীলা ময়দানে রবিবার মোদী ঘোষণা করেছিলেন, দেশের কোথাও ‘কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প নেই’। কিন্তু এ বার ডিটেনশন ক্যাম্পের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়াই শুধু নয়, সেই ক্যাম্প রীতিমতো চালু বলে দাবি করেছেন সরকারি কর্মকর্তা। বিজেপি শাসিত কর্নাটকে চালু হল দেশের প্রথম ডিটেনশন ক্যাম্প। যদিও এটা যে ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’, সে কথা মানতে নারাজ কর্নাটক সরকার।

একাধিক সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে, রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরু থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে নেলামঙ্গলাতে একটি ডিটেনশন ক্যাম্প চালু হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাই সে কথা স্বীকার করেছেন। নেলামঙ্গলার সমাজকল্যাণ বিভাগের কমিশনার আর এস পেড্ডাপাইয়া সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, ‘আমরা ক্যাম্পটি চালু করে দিয়েছি। অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য তৈরি এই ক্যাম্পটি।’ এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্নাটকের স্বরাষ্ট্র দফতরের এক শীর্ষকর্তাও।

কর্নাটকের সমাজকল্যাণ দফতর সূত্রে খবর, এই ডিটেনশন ক্যাম্পটি চালু হওয়ার কথা ছিল জানুয়ারিতে। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের একটি নির্দেশিকা পেয়ে কয়েক দিন আগেই সেটি চালু করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দফতরের এক কর্মকর্তা। পেড্ডাপাইয়া আরও জানিয়েছেন, যেহেতু কয়েক দিন আগেই চালু হয়েছে, তাই আপাতত কোনও আবাসিক এখানে নেই। তিনি বলেন, ‘দ্য ফরেন রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে  এবং তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও কর্মী-সহ আমরা অনুপ্রবেশকারীদের রাখতে প্রস্তুত।’

জানা গেছে, সমাজকল্যাণ দফতরের একটি হোস্টেলকেই ডিটেনশন ক্যাম্প হিসেবে তৈরি করেছে। তার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিকাঠামোগত পরিবর্তন করা হয়েছে। এখানে রয়েছে আবাসিকদের থাকার জন্য ছ’টি ঘর। এক একটি ঘরে ৪ জন করে রাখার বন্দোবস্ত রয়েছে। অর্থাৎ মোট ২৪ জনকে এই ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা যেতে পারে। এছাড়াও নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য একটি ঘর এবং একটি রান্নাঘর রয়েছে। রয়েছে স্নানাগারও। নজরদারির জন্য রয়েছে  দু’টি ওয়াচটাওয়ার। ক্যাম্পের চার দিকে আপাতত অস্থায়ী ভাবে ঘিরে দেয়া হয়েছে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে।

স্বাভাবিক ভাবেই এ নিয়ে অস্বস্তি বেড়েছে বিজেপি এবং রাজ্য সরকারের। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নেমেছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি বলেছেন, ‘নেলামঙ্গলার ওই কেন্দ্রটি তৈরি করেছে সমাজকল্যাণ দফতর। নাইজেরিয়ার নাগরিকদের বিরুদ্ধে পুলিশকে আক্রমণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এর পর থেকে এই ধরনের কোনও অপরাধের প্রমাণ পেলে নাইজেরিয়ার নাগরিকদের ওই কেন্দ্রে রাখা হবে যাতে তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে সুবিধা হয়। এর সঙ্গে নাগরিকত্ব সম্পর্কিত বিষয়ের কোনও যোগ নেই। এটা ডিটেনশন ক্যাম্প নয়।’ পাশাপাশি সমাজকল্যাণ কর্মকর্তার দাবি উড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এও বলেন, ওই কেন্দ্রটি চালু হয়নি।

যদিও একাধিক সংবাদ মাধ্যমের দাবি, পুরোপুরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ম্যানুয়াল মেনে এই ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’টি তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা থেকে শুরু করে যাবতীয় ব্যবস্থাও ডিটেনশন ক্যাম্পের ধাঁচেই গড়ে তোলা হয়েছে।

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রবিবার রামলীলা ময়দানে প্রচারের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই নির্বাচনী সভাতেই তিনি দাবি করেন, দেশের কোথাও কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প নেই। কিন্তু মোদীর ওই দাবি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে অসমে একাধিক ডিটেনশন ক্যাম্প রয়েছে। তার পরেও প্রধানমন্ত্রী কী ভাবে ওই দাবি করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তার মধ্যেই এ বার হাতে এল অকাট্য প্রমাণ, যা আবার মোদীর দল বিজেপি শাসিত কর্নাটকেই।

সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের জামিন মামলায় কর্নাটক হাইকোর্টে সে রাজ্যের সরকার জানিয়েছিল, সারা রাজ্যে অস্থায়ী ভাবে মোট ৩৫টি ডিটেনশন সেন্টার রয়েছে। এ ছাড়া রাজ্যে ফরেনার্স অ্যাক্টে মোট ৮৬৬ জনের বিরুদ্ধে ৬১২টি অনুপ্রবেশের মামলা নথিবদ্ধ হয়েছে।

সম্প্রীতির মিছিলে হাতে হাত রেখে হাঁটলেন পুরোহিত-ইমাম-ফাদার

shompriti

সংলাপ ॥ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে যখন গোটা ভারত বিক্ষোভে ফুঁসছে তখন সম্প্রীতির বার্তাকে সামনে আনতে পশ্চিমবঙ্গে আয়োজিত হয়েছে এক ভিন্ন ধারার মিছিল। রাজ্যের মালদহ জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই মিছিলে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারা। মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও গির্জার ফাদার পরস্পরের হাতে হাত রেখে হেঁটেছেন ওই মিছিলে। তাদের সঙ্গে ছিল হাজার হাজার মানুষ। জাতীয় পতাকা হাতে এতে অংশ নেন বিধানসভার স্থানীয় সদস্য সাবিনা ইয়াসমিনও।

বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে সম্প্রতি আইন সংশোধন করেছে ভারত। আইনটিকে মুসলিম বিরোধী আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভে নেমেছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ।

সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। সেখানে ট্রেন ও বাসে আগুনও দেওয়া হয়েছে। তবে গত ১৫ ডিসেম্বর, রবিবার এক ভিন্নধর্মী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল আয়োজিত হয়েছে মালদহ জেলার মোথাবাড়িতে। তৃণমূলের স্থানীয় বিধানসভা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই মিছিলে ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা।

মিছিলের অগ্রভাগে জাতীয় পতাকা হাতে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন। তার পাশেই হাতে হাত রেখে মিছিলে যোগ দেন মোথাবাড়ি চৌরঙ্গি মসজিদের ইমাম মাওলানা ফারমান আলি, বৈষ্ণবনগর চার্চের ফাদার অ্যালেক্স মিনজ ও ইংরেজ বাজার শহরের ঝলঝলিয়া এলাকার দুইটি কালীমন্দিরের পুরোহিত প্রদীপকুমার পান্ডে ও সঞ্জয় ঝা। কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় সেখানকার পিডব্লিউডি মাঠ থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি প্রায় আট কিলোমিটার পথ হেঁটে অচিনতলায় গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে মাওলানা ফারমান আলি বলেন, ‘নতুন আইনকে ঘিরে বহু মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। এই দেশে তারা থাকতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে আছে তারা। কিন্তু এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা হচ্ছে, যা সম্প্রীতি নষ্ট করছে। এটা বন্ধ হওয়া উচিত। সেই বার্তা দিতেই আমরা সকলে হাতে হাত ধরে হেঁটেছি।’