শেষ পাতা

আন্তর্জাতিক স্বার্থান্বেষীদের ফাঁদে আটকা পড়েছে কাশ্মির জায়নবাদ এবং চীনের বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ!

সংলাপ ॥ জায়নবাদের জন্ম হওয়ার পর কেবলমাত্র দুইবার এটি হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। প্রথমবার জায়নবাদ হুমকির সম্মুখীন হয় যখন তারা উসমানীয় খিলাফতকে উৎখাত করতে যায়, তখন ভারতীয় উপমহাদেশে সংগঠিত হওয়া ‘খিলাফত আন্দোলন’-এর দ্বারা। দ্বিতীয়বার জায়নবাদ হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে বর্তমান রুশ-চীন এলায়েন্সের দ্বারা।

চীনের বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) জায়নবাদীদের অর্থনীতির জন্য অনেক বড় একটা হুমকি। বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ হলো প্রাচীন সিল্ক রোডের আদলে গড়া একটি প্রকল্প যা তিনটি মহাদেশকে (এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ) একটি অর্থনৈতিক বন্ধনে আবদ্ধ করবে সড়ক ও নৌপথের মাধ্যমে। আর এই ইজও প্রজেক্টে চীনের পাশে পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মায়ানমারের মত বাংলাদেশও রয়েছে।

চীনের এই প্রজেক্টকে টক্কর দেয়ার জন্য জায়নবাদীরা তৈরী করেছে Free Open Indo-Pacific (FOIP) স্ট্র্যাটেজি। এই স্ট্র্যাটেজির সাথে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাস্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান। তারা চায় বাংলাদেশও এই স্ট্র্যাটেজিতে যোগ দিক। আর এজন্যই আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়ায় যারা মুসলমানদের হত্যা করেছে, সেইসব খুনিরাই রোহিঙ্গাদের জন্য মুসলিমদের চেয়েও বেশী চোখের পানি ঝরিয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশকে BRI থেকে FOIP এ নেয়ার পথে জায়নবাদের প্রধান বাঁধা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। যেহেতু বিএনপি সম্পূর্ণ একটা পঙ্গু দলে পরিণত হয়েছে, ফলে জায়নবাদীরা তাদেরকে সরকার পতনের কাজে ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছে না। বিভিন্ন নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকেদের প্রাধান্য থাকায় জায়নবাদীরা ‘কালার রেভ্যুলেশন’ সৃষ্টি করতেও ব্যর্থ হচ্ছে। আর তাই তাদের টার্গেট হলো এদেশের ছাত্রসমাজ। তারা বারবার বিভিন্ন ইস্যু সৃষ্টি করে ছাত্রসমাজকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে। যেমন: ‘কোটা আন্দোলন’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন’, ‘আবরার হত্যাকান্ড’ ইত্যাদি। এছাড়া ‘ভোলা ট্রেজেডি’-তেও এসব জায়নবাদীদেরই হাত রয়েছে যাতে উগ্র ইসলামপন্থীদের ক্ষেপিয়ে তোলা যায় সরকারের বিরুদ্ধে।

লক্ষ্য করে দেখুন, পাকিস্তানে কী হচ্ছে! ইমরান খানের সরকারের পতন ঘটানোর জন্য বিরোধী দলগুলো কীভাবে উঠে পড়ে লেগেছে! আর ভারতের মিডিয়া কতটা উৎসবের সাথে তা প্রচার করছে! আপনি কী বিশ্বাস করবেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির দালাল মিডিয়াগুলো পাকিস্তানের একজন মাওলানাকে (মাওলানা ফজলুর রহমান) কীভাবে প্রমোট করছে! কীভাবে তার মার্চকে অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে প্রচার করছে! কেন তারা এগুলো করছে? কারণ ইমরান খান কাশ্মিরের অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন। আর কাশ্মির হলো চীনের ইজও প্রকল্পের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুতরাং আজাদ কাশ্মির আন্দোলন যে একটি আন্তর্জাতিক স্বার্থান্বেসী মহলের ফাঁদে আটকা পড়েছে তা বুঝতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। সকল পক্ষেরই স্বার্থ রয়েছে, থাকবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সবকিছুর উর্ধ্বে স্থান দেওয়া দরকার সাধারণ মানুষের মানবতার বিষয়টি যা ভারত-পাকিস্থান কেউই দিতে পারছে না। মুসলমান কিংবা হিন্দু পরিচয়ে নয়, এই অসহনীয় যাতনা থেকে কিভাবে মুক্তি মিলবে কাশ্মিরী জনগণের তাই দেখার বিষয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নয়নের সব সূচকে এগিয়ে বাংলাদেশ

সংলাপ ॥ উন্নয়নের সব সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকরা। গত সোমবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বিগত এক দশকে বাংলাদেশের অর্জিত অবিশ্বাস্য উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে একথা জানান তারা। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকরা বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য উন্নয়ন ও এই উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার প্রশংসা করে বলেছেন, উন্নয়নের সব সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। বাংলাদেশে বিশ্ব ব্যাংকের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে বলেও জানান নির্বাহী পরিচালকরা।

বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা অব্যহত রাখবে জানিয়ে বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্ব ব্যাংক তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনেও সহযোগিতা করবে এ সংস্থা। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে তাদের অবস্থা দেখে আসার কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন নির্বাহী পরিচালকরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ প্রতিরোধমূলক কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানতে চান বিশ্ব ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকরা। ‘ক্লাইমেট ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন, ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা এসময় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  সাধারণ মানুষ যেন উন্নয়নে সুযোগ-সুবিধা পায় সেজন্য তৃণমূলকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারের সব ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যে কোনো উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকে গুরুত্ব দেই।

বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ৮২ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে নেমে আসার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠনে জাতির পিতা আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সুবিধা নিশ্চিত করতে নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

দেশে শিল্পায়নের লক্ষ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশকে আরও এগিয়ে নিতে রেলপথ, সড়কপথ, বিমান ও নৌপথকে আরও আধুনিক করে গড়ে তোলার পাশাপাশি সারাদেশে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক পরিবারের সংখ্যা কমছে

grameen

সংলাপ ॥ কৃষি প্রধান দেশ আমাদের এই সোনার বাংলা। অথচ দেশে গত এক দশকে কৃষিভিত্তিক পরিবারের সংখ্যা প্রায় তিন শতাংশ কমে গেছে। দেশে দ্রুত নগরায়ণ বৃদ্ধি পাওয়া, অকৃষিখাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কৃষি উৎপাদন কম লাভজনক হবার কারণে ধীরে ধীরে কৃষিভিত্তিক পরিবারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কৃষি শুমারি ২০১৯-এর প্রাথমিক ফলাফলে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। সর্বশেষ কৃষি শুমারি অনুযায়ী, দেশে মোট পরিবারের (খানা) সংখ্যা ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৩ হাজার ১৮০টি। এর মধ্যে কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১ কোটি ৬৫ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৪ পরিবার। এক্ষেত্রে শহরে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৫টি পরিবার এবং গ্রামে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪৫ হাজার ১১৯টি পরিবার।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৮৩ সালে দেশে পল্লী অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক পরিবারের শতকরা পরিমাণ ছিল ৭২ দশমিক ১০ শতাংশ যা ২০০৮ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০১৯ সালের সর্বশেষ জরিপে বলা হচ্ছে, দেশে কৃষি খানার শতকরা হার ৫৩ দশমিক ৮২ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে কমেছে কৃষিনির্ভর পরিবারের সংখ্যা। গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক পরিবারের সংখ্যা কমে যাওয়া দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির জন্য আশংকার বিষয়। কৃষি উপকরণে ভর্তূকি প্রদান ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রনোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামীণ কাঠামোর উপযোগী কৃষিভিত্তিক শিল্প ও প্রযুক্তি সহজলভ্য করতে হবে। এছাড়া প্রামাঞ্চলে কৃষিপন্য বিক্রয়ের পাইকারী বাজার ও সংরক্ষনাগার স্থাপন করতে হবে, কম খরচে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং গ্রামাঞ্চলে ভর্তুকিমূল্যে বিদ্যুতের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ৯ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রণীত সর্বশেষ কৃষি শুমারির প্রাথমিক ফলাফল গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

কৃষি শুমারিতে প্রাণিসম্পদ বিষয়ক তথ্যে দেখা যায়, দেশে বর্তমানে ছাগলের সংখ্যা ১ কোটি ৯২ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩টি, গরুর সংখ্যা ২ কোটি ৮৪ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৫টি; মহিষ রয়েছে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৪১১টি এবং ভেড়া রয়েছে ৮ লাখ ৯২ হাজার ৬২৮টি।

তাছাড়া, হাঁসের সংখ্যা ৬ কোটি ৭৫ লাখ ২৯ হাজার ২১০টি এবং মুরগি রয়েছে ১৮ কোটি ৯২ লাখ ৬২ হাজার ৯১০টি। দেশে বর্তমানে লাভজনকভাবে টার্কিস মুরগির চাষ হচ্ছে। বর্তমানে সারা দেশে ১৪ লাখ ৪৫ হাজার ৪২০টি টার্কিস মুরগীর হিসেবে পাওয়া গেছে।

মাছ চাষের ওপর নির্ভরশীল পরিবার ৯ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৫টি, কৃষি মজুরির ওপর নির্ভরশীল এমন পরিবারের সংখ্যা ৯০ লাখ ৯৫ হাজার ৯৭৭টি। নিজস্ব জমি নেই এমন পরিবার রয়েছে ৪০ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯টি এবং অন্যের কাছ থেকে জমি নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে এমন পরিবার ৬৭ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮৭টি।

অবশ্য কৃষি শুমারির তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে বিশুদ্ধ ডাটা দরকার। বেইজ লাইন না থাকলে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সঠিক হয় না। শুমারিতে ডিম, দুধ, ইলিশ এবং মিঠা পানির মাছের তথ্য থাকা উচিত ছিল।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম. এ. মান্নান বলেন, “এতো বড় মহাযজ্ঞ বোধহয় নিখুঁত হওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে আরো নিবিড়ভাবে সবাই কাজ করবে বলে আমি কথা দিচ্ছি। দেশের সব পরিকল্পনায় ভিত্তি হবে সঠিক পরিসংখ্যান”॥

ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের প্রতিনিধি

eamen e juddho

সংলাপ ॥ জাতিসংঘের ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি মার্টিন গ্রিফিত্স যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার উপায় নিয়ে আনসারুল্লাহ আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে সানা সফরে গেছেন। তিনি এ সফরে স্টকহোম শান্তি চুক্তির ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা যায় কিনা তা নিয়ে আনসারুল্লাহ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

সানা সফরে যাওয়ার আগে গ্রিফিত্স শুক্রবার রিয়াদ সফরে গিয়ে সৌদি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে গত বছরের ডিসেম্বরে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ প্রতিনিধিদের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকে ইয়েমেনের হুদায়দা প্রদেশে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সৌদি বাহিনী প্রতিদিনই ওই চুক্তি লঙ্ঘন করছে। ইয়েমেনে মানবিক ত্রাণ পাঠানো হলে তা গ্রহণের প্রধান সমুদ্রবন্দর হচ্ছে হুদায়দা। জাতিসংঘের উদ্যোগে এ পর্যন্ত ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু সৌদি আরবের ষড়যন্ত্র ও গোয়ার্তুমির কারণে প্রতিটি পদক্ষেপ ব্যর্থ হয়েছে।

ইয়েমেনের পদত্যাগকারী ও পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ্ রাব্বু মানসুর হাদিকে আবার ক্ষমতায় বসানো এবং জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনকে নির্মূল করার লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে ইয়েমেনে আগ্রাসন চালাচ্ছে। গত প্রায় পাঁচ বছরের আগ্রাসনে অন্তত ১৬ হাজার নিরীহ ইয়েমেনি নিহত হওয়া সত্ত্বেও সৌদি আরব তার কাঙ্খিত কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

তুর্কি বাহিনী সিরিয়ায় আগ্রাসন চালানোর কোনো অজুহাত নেই

turki

সংলাপ ॥ সিরিয়া বলেছে, তুরস্ক সীমান্ত থেকে কুর্দি গেরিলারা সরে আসার পর এখন উত্তর সিরিয়ায় সামরিক আগ্রাসন চালানোর জন্য আর কোনো অজুহাত দেখাতে পারবে না আঙ্কারা। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেছে। ওই মন্ত্রণালয় বলেছে, সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় কুর্দি গেরিলারা তুর্কি সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে। এর ফলে সিরিয়ার ভূখন্ডে তুর্কি বাহিনীর আগ্রাসন চালানোর প্রধান অজুহাত সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

 গত ৯ অক্টোবর সিরিয়া সীমান্তে আগ্রাসন চালায় তুর্কি সেনাবাহিনী। তুরস্কের সেনাবাহিনী গত ৯ অক্টোবর থেকে ‘সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ’ ও ‘তুর্কি-সিরিয়া সীমান্ত থেকে কুর্দি গেরিলাদের মূলোৎপাটনের’ অজুহাতে সিরিয়া সীমান্তে হামলা চালায়। অবশ্য ১৭ অক্টোবর থেকে পাঁচদিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় তুরস্কের এরদোগান সরকার। যুদ্ধবিরতির ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তুর্কি ও রুশ প্রেসিডেন্টের মধ্যে এক সমঝোতা হয় যাতে বলা হয় কুর্দি গেরিলারা তুর্কি-সিরিয়া সীমান্ত থেকে সরে যাবে এবং বিনিময়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করবে আঙ্কারা।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, সীমান্ত থেকে কুর্দি গেরিলারা সরে আসলে তাদেরকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি সব রকমের সহযোগিতা করবে দামেস্ক। কুর্দি জনগোষ্ঠীর সামনে একথা প্রমাণ করা হবে যে, তারা সিরিয়ার জনগণের অংশ এবং এই জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে মিলেমিশে বসবাস করার অধিকার তাদের রয়েছে। সিরিয়ায় বিদেশি মদদে সন্ত্রাসবাদ চাপিয়ে দেয়ার পর কুর্দি গেরিলারা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টায় যোগ দিয়েছিল ॥

আর্জেন্টিনার নতুন প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ

argentina

সংলাপ ॥ আর্জেন্টিনায় নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মধ্য-বামপন্থি-নেতা আলবার্তো ফার্নান্দেজ। গত ২৮অক্টোবর এমন তথ্যই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়েই গত রোববার ২৭অক্টোবর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনায়। যেখানে ৪৫ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিরোধী দলীয় প্রার্থী ফার্নান্দেজ। পরাজিত করেছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের মাউরিসিও ম্যাক্রিকে। ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, ফার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, ম্যাক্রি ভোট পেয়েছেন ৪০ দশমিক ৭১ শতাংশ। দেশটির নিয়মানুযায়ী, বিজয়ী হতে হলে পেতে হয় অন্তত ৪৫ শতাংশ ভোট কিংবা ৪০ শতাংশ ভোট ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১০ শতাংশ এগিয়ে থাকতে হবে। সম্প্রতি আর্জেন্টিনায় অর্থনৈতিক সঙ্কট প্রকট রূপ নিয়েছে, যা দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে দেশটির এক তৃতীয়াংশ মানুষকে। যে কারণে এবারের নির্বাচনে ভোটাররা প্রাধান্য দিয়েছেন প্রার্থীদের অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলার পরিকল্পনাকে।

ফার্নান্দেজ বিজয়ী হওয়ায় উল্লাসে মেতে ওঠেন তার সমর্থকরা। তারা এখন স্বপ্ন দেখছেন ‘নতুন আর্জেন্টিনার’। পাওলা ফিওরে নামে ৩৫ বছর বয়সী এক সমর্থক বলেন, ‘জনগণের জন্য চিন্তা করে এমন একটি সরকার আমরা পেতে যাচ্ছি। তাই এতো আশা ও উত্তেজনা।’ এদিকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় ফার্নান্দেজকে স্বাগত জানিয়েছেন মৌরিসিও ম্যাক্রি। সোমবার ফার্নান্দেজকে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ফার্নান্দেজ তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, বিদায়ী প্রেসিডেন্টকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করে যাবো।

তুর্কি সহায়তায় ৪০ হাজার আইএস-সন্ত্রাসী সিরিয়ায়!

turkeyসংলাপ ॥ বিশ্বের ১১০টি দেশ থেকে আসা তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘দায়েশ’ বা ‘আইএস’-এর ৪০ হাজার সদস্যকে সিরিয়ার যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল তুরস্ক। দায়েশ বা কথিত আইএস বিরোধী বহুজাতিক জোটের সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি বার্ট ম্যাকগোর্ক (Burt McGork) এই তথ্য দিয়েছেন।

আল আরাবিয়া টেলিভিশন এক রিপোর্টে জানিয়েছে, ম্যাকগোর্ক এক সেমিনারে বলেছেন, আইএস গোষ্ঠীর জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ দিতে বিশ্বের ১১০টি দেশ থেকে ৪০ হাজার আইএস জঙ্গি সিরিয়ায় ঢুকেছিল এবং এদের সবাই যুদ্ধ করতে সিরিয়ায় ঢুকেছিল তুরস্কের ভেতর দিয়ে। বিশ্বের নানা দেশ থেকে তুরস্কের বিমানবন্দরগুলোতে অবতরণ করে তারা সিরিয়ার দিকে যেত।

তিনি আরও বলেছেন, “সিরিয়ায় দায়েশের স্বঘোষিত ‘খেলাফত’ গড়ে তোলা হয়েছিল তুর্কি সীমান্তের পাশে এবং আমরা এ কারণে তুরস্কের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। আমি নিজে অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে তুরস্কে বেশি সফর করেছি যাতে সিরিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সীমান্ত বন্ধ করে দিতে তুর্কি কর্মকর্তাদের উৎসাহ দেয়া যায়, কিন্তু তারা সীমান্ত বন্ধ করেননি। তারা বলতেন, আমরা সীমান্ত বন্ধ করে দিতে পারি না। কিন্তু যখন কুর্দিরা সীমান্তের এক বিশাল অঞ্চলের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে তখন তুরস্ক দেয়াল তুলে সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।”

মার্কিন এই কর্মকর্তা এমন সময় তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের সঙ্গে তুরস্কের সহায়তার চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করলেন যখন সম্প্রতি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান তার দলের এক সভায় বলেছেন, সন্ত্রাসী  আইএস গোষ্ঠীর আবির্ভাব ছিল পশ্চিমা দেশগুলোর ষড়যন্ত্র এবং তারাই হত্যার এই যন্ত্র আবিষ্কার করেছে ও তার নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে রেখেছিল।

মার্কিন সরকার এখনও দায়েশকে সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বলেও তুর্কি প্রেসিডেন্ট এর আগে উল্লেখ করেছিলেন।

অপরদিকে ইরাকে গণহত্যা চালায় দায়েশ সন্ত্রাসীরা। পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা বলছেন, বার্ট ম্যাকগোর্ক এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে দায়েশ বা আইএস সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে জন্ম দিয়ে ও সিরিয়া আর ইরাকে লেলিয়ে দিয়ে পাশ্চাত্য যদি বড় পাপ করেও থাকে তাহলে সেই বড় পাপ সংঘটন তুরস্কের ব্যাপক সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব হত না। আর তাই এই বিশাল পাপের বড় ধরনের শরিক হয়েও তুরস্কের ‘ধোয়া তুলসি পাতা হওয়ার’ বা ফেরেশতার মত নিষ্পাপ হওয়ার দাবি করাটা খুবই হাস্যকর! তিনি অবশ্য মার্কিন সরকার বা পাশ্চাত্যের পাপকে ছোট করে দেখাতে ও এক্ষেত্রে তুরস্কের পাপই বড় ছিল বলে তুলে ধরতে গিয়ে দাবি করেছেন যে, আমরা তো তুরস্ককে সীমান্ত বন্ধ করতে বলেছিলাম কিন্তু তুরস্ক তা করেনি!

মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বার্ট ম্যাকগোর্ক ছাড়াও এর আগে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্বীকার করেছিলেন যে দায়েশ বা আইএস মূলত মার্কিন পরিকল্পনার ফসল এবং এর সদস্যরা ওয়াশিংটন ও তুরস্কসহ ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক সহযোগী সরকারগুলোর সহায়তায় সিরিয়ায় ঢুকেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রকাশ্যেই বলেছিলেন যে, ওয়াশিংটনই আইএস সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি তুরস্ক উত্তর সিরিয়া থেকে বেশিরভাগ মার্কিন সেনা সরে যাওয়ার সুযোগে কুর্দি গেরিলাদের দমনের নামে সিরিয়ার এই অঞ্চলে সেনা পাঠিয়ে কথিত নিরাপদ-অঞ্চল সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়ায় দায়েশ সন্ত্রাসীরা আবারও মাথা চাড়া দেয়ার সুযোগ পাবে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। সিরিয়ার কুর্দি গেরিলাদের জেলখানাগুলোতে আটক দায়েশ সন্ত্রাসীরা তুর্কি অভিযানের সুযোগে তুরস্কের মধ্য দিয়ে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। অবশ্য তুর্কি সরকার বলেছেন, তারা দায়েশ সন্ত্রাসীদের পালানোর সুযোগ দেবেন না।

দায়েশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীসহ সিরিয়ার বহু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তুর্কি সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা, বিশেষ করে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ, অর্থ ও অস্ত্রের যোগান পেয়ে আসছে বলে নানা সংবাদ মাধ্যমে প্রামাণ্য খবরা-খবর প্রকাশিত হয়েছে।

দায়েশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইরাক ও সিরিয়ায় পরাজিত হয়ে ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেলেও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।

মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পাচ্ছেন কাশ্মীরি নেতারা

muchleka

 

সংলাপ ॥ জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিল করাকে কেন্দ্র করে সেখানকার যেসব নেতা-নেত্রীকে আটক অথবা গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল তাদেরকে একবছর মুখ বন্ধ রাখার মুচলেকা দিয়ে মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ করে দিয়ে রাজ্যটিকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত দু’টি অঞ্চলে বিভক্ত করেছে। এরপরে সেখানে বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ব্যাপকভাবে ধরপাকড় ও রাজ্যের সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, ডা. ফারুক আব্দুল্লাহ ও ওমর আব্দুল্লাহসহ অনেক নেতাকে গৃহবন্দি অথবা আটক করে রাখা হয়েছে।

এদিকে, আটক নেতাদের এবার নির্দিষ্ট বয়ানে মুচলেকা ও পঞ্চাশ হাজার টাকা জমা দিলে মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুচলেকার বয়ানে বলতে হচ্ছে, ‘এক বছরের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে আমি কোনও বিবৃতি প্রকাশ করব না, কোনও সভা-জমায়েতে বক্তব্য পেশ করব না এবং কোনও যালি-মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করব না। কারণ, তা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে।’

মুচলেকার অন্যতম শর্ত, ১০ হাজার টাকা অগ্রিম হিসেবে জমা দিতে হবে এবং কোনও শর্ত ভঙ্গ হলে আরও ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে।

৩৭০ ধারা বাতিলের বিরুদ্ধে এবং সেখানকার অবরুদ্ধ পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত ১৫ অক্টোবর নারীদের এক প্রতিবাদ-বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স দলের প্রধান ডা. ফারুক আবদুল্লাহর বোন সুরাইয়া এবং মেয়ে সাফিয়া আব্দুল্লাহ খান। তাঁরা এসময় এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কাশ্মীরের নারীরা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ৩৭০ ও ৩৫-এ ধারা অপসারণের একতরফা সিদ্ধান্ত ও রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।’ তারা অবিলম্বে আটককৃতদের মুক্তি দেয়াসহ গ্রামীণ ও শহর এলাকাকে অসামরিকীকরণের দাবিও জানান।

ওই ঘটনায় পুলিশ সে সময় সুরাইয়া ও সাফিয়াসহ মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছিল। তাদের মুক্তির শর্ত হিসেবেও উল্লেখিত ওই মুচলেকায় সই করানো হয়েছে। এর পাশাপাশি মৌখিকভাবেও তাঁরা উপত্যকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে।

ওই ঘটনায় বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাশ্মীরের বেশ কিছু সংগঠনও এ নিয়ে সোচ্চার হয়েছে।

স্বাধীনতার পরবর্তীতে আমাদের দেশে যেসব সরকার ক্ষমতায় এসেছে তারা নানাভাবে কাশ্মীরিদের অধিকার হরণ করেছে। কাশ্মীরিদের সঙ্গে যেসব চুক্তি ছিল তা খর্ব করেছে এবং বর্তমানে দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় ধরে আমরা দেখতে পাচ্ছি কাশ্মীর সেনাবাহিনীর দখলে। স্বাধীন ভারতের স্বাধীন নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও সাংবিধানিক সুরক্ষা থেকে কাশ্মীরিরা নানাভাবে বঞ্চিত। লঙ্ঘিত সেখানে মানবতা।’   ‘শিশু ও প্রবীণ নাগরিকরা সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে কারফিউ জারি থাকায় খাদ্যের অভাবে অসুস্থ। গর্ভবতী নারী ও অসুস্থরা দেখতে পাচ্ছি গৃহবন্দি। তল্লাশির নাম করে নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেতা-নেত্রীদেরকে। নির্বাচিত নেতা-নেত্রীদের কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা সরকারের অন্যায়, অত্যাচার ও অমানবিক আক্রমণের বিরুদ্ধে জনগণকে নিয়ে রুখে না দাঁড়াতে পারেন। সেজন্য পুরোপুরিভাবে আমরা বলতে পারি যে সরকার ভীত। দেশবাসীর থেকে আড়াল করতে চাচ্ছে সরকারি জুলুম ও বর্তমান প্রেক্ষাপট। আজ সংবিধান, মানবাধিকার যাই বলুন না কেন, সম্পূর্ণভাবে মানুষের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।’

মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ দেশের যৌথ মহড়া !

moddho prachcho

সংলাপ ॥ আমেরিকা এবং বিশ্বের ৫০টি দেশ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে বার্ষিক সামরিক মহড়া শুরু করেছে। পারস্য উপসাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত বিভিন্ন পানি সীমায় মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত মার্কিন নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল জিম মালয় জানিয়েছেন, গত সোমবার থেকে এ মহড়া শুরু হয়েছে এবং এটি হচ্ছে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় মহড়া। তিনি জানান, বাহরাইনে মোতায়েন পঞ্চম নৌবহর এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত মার্কিন নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড যৌথভাবে স্বাগতিক হিসেবে এ মহড়া পরিচালনা করছে।

অ্যাডমিরাল মালয় বলেন, অন্য বছরের চেয়ে এবারের মহড়ায় প্রায় বিশটি দেশ বেশি যোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বের একটি নজিরবিহীন বিশাল এলাকা নিয়ে মহড়া চলছে। এর আগে কখনো এতো বড় মহড়া হয়নি বলে তিনি জানান।

ভাইস অ্যাডমিরাল মালয় বলেন, এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো এ ধরনের মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এবারের মহড়ায় অন্যবারের মতো চারটি ধাপ থাকবে। এসব ধাপে সেনা সদস্যদের প্রশিক্ষণ, টেবিল টপ, ক্লাসরুম এক্সারসাইজ এবং যুদ্ধজাহাজে প্রশিক্ষণ ও সেনা মোতায়েনের মতো কর্মসূচি থাকবে।

মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর, লোহিত সাগর এবং ভারত মহাসাগরের লাখ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় চলমান মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

কর্ম আর যোগ্যতা অর্জনের মধ্য দিয়ে ‘নেতৃত্ব’ বিকশিত হয়

‘নেতৃত্ব’ বিষয়ে হাক্কানী চিন্তন বৈঠকের ২য় পর্বের আলোচনা

কর্ম আর যোগ্যতা অর্জনের মধ্য দিয়ে ‘নেতৃত্ব’ বিকশিত হয়

সংলাপ ॥ সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ)-এর নিয়মিত সাপ্তাহিক হাক্কানী চিন্তন বৈঠকের অংশ হিসেবে ‘নেতৃত্ব’ বিষয়ে আলোচনার ২য় পর্ব ২০ আশ্বিন ১৪২৬, ৫ অক্টোবর ২০১৯ রোজ শনিবার মিরপুর আস্তানা শরীফের ‘জ্যোতি ভবন’এর আক্তার উদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বাহাখাশ সহ-সভাপতি শাহ্ শেখ মজলিশ ফুয়াদের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাহাখাশ কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সদস্য দেলোয়ার হোসেন পিন্টু এবং শাহ তৌহিদা জেসমিন।

শাহ তৌহিদা জেসমিন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, একজন নেতা থেকে আসে তার নেতৃত্ব। নেতা যা করেন, যা পরিকল্পনা করেন তার নেতৃত্বের মধ্যে সেটাই প্রকাশ পায়। একটা নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড যখন একজনের নির্দেশনায় পরিচালিত হয় তখন আমরা বলি তার নেতৃত্বে এই কর্মকা-টি চলছে। এই কাজটি পরিচালনার জন্য তার যে-পদ সেটাই নেতৃত্ব। একজন নেতার যোগ্যতার ওপর তার নেতৃত্ব অর্থাৎ তার কর্মপরিচালনার সফলতা-ব্যর্থতা নির্ভর করছে। সহজভাবে আামি বুঝি যখন আমার ওপর কোনো দায়িত্ব-কর্তব্য আসে তখন সেই কর্মটি সঠিকভাবে পরিচালনার দায়িত্ব আমার। আমাকেই সেই যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। ধৈর্য্যশীল ও সহনশীল হতে হবে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিজের কর্মের বিশ্লেষণ করতে হবে। তবেই সঠিকভাবে কর্ম-পরিচালনা সম্ভব হবে। নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে আমার চিন্তায় যা আসছে তা হচ্ছে এই যে, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বড় পদ, ছোট পদ, বড় কাজ, ছোট কাজ কোনো ব্যাপার নয়। একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে যে যে-পদে নিযুক্ত তাকে নিয়োগ করা হয় তখন সে সবাইকে নিয়ে তার যে কার্য পরিচালনা করে তার সে কার্য বা কর্মটাই নেতৃত্ব।

শাহ শেখ মজলিশ ফুয়াদ তার বক্তব্যে মহান সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ-এঁর নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর অভিব্যক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাধক-এঁর মুখে ‘নেতৃত্ব’ শব্দটি বহুবার শুনেছি। তিনি অবশ্য এ শব্দটিকে ‘লিডারশিপ’ই বেশি বলতেন। তিনি যা আমাদেরকে যা বলতেন, এইসব বিষয়ে আলোচনার জন্য যে পরিবেশ তিনি তৈরি করেছেন, তার সবকিছ্ইু তো তাঁর নেতৃত্বে হয়েছে। নেতৃত্ব, নেতা, নেতাগিরি- এই শব্দগুলো আমাদের বাঙালি সমাজে বহুল প্রচলিত। বাঙালি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি জনগোষ্ঠী। বাঙালি সমাজে পরিবারসহ বিভিন্ন স্তরে- নেতা হওয়ার জন্য কোন্দল, মারামারি, হানাহানি হয় বলে ‘নেতৃত্ব’ শব্দটি খুবই প্রাসঙ্গিক। কিন্তু এই যে নেতৃত্ব সেটা কী জন্য? কার জন্য? কিসের জন্য? ‘নেতৃত্ব’ অর্জন হয় কীভাবে? এসব প্রশ্ন নিয়ে চিন্তা করলে দেখা যায় যে, বাঙালি জাতি বা মানবজাতি-সকল প্রেক্ষাপটেই ‘নেতৃত্ব’ বিষয় হিসেবে অত্যন্ত চমৎকার। সাধক যে ‘নেতৃত্ব’-এর কথা বলছেন, ওনার জীবনী আমরা পাঠ করলে, উপলব্ধি করলে বুঝতে পারবো ওনি কীভাবে আমাদের নেতা হলেন। ওনার মধ্যে নেতৃত্বের বৈশিষ্ট বা গুণাবলী দিয়ে আমাদেরকে কীভাবে আকৃষ্ট করতে পেরেছেন, আমাদেরকে অনুসারী করতে পেরেছেন। যদিও আমরা ওনার অনুসারী কতটুকু হয়েছি জানি না, কিছুটা তো অবশ্যই হয়েছি। কিছু না-হলে তো এখানে আমাদের আসা হতো না। ওনাকে কিছুটা স্মরণে রাখতে পারি বলেই আমরা এখানে আসি। ওনি যে নেতৃত্বের বা লিডারশিপের কথা বলছেন, ওটা কোন্ লিডারশিপ? কোন্ নেতৃত্ব? আমাদের সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতার তো অভাব নেই। কিন্তু সাধক বলতেন যে, তিনি ছাত্র থাকতে চান। তিনি আরও বলতেন যে, ধনবান হও, প্রকাশিত হয়ো না। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই কথাগুলো আমার উপলব্ধিতে সবচেয়ে সময়োপযোগী কথামালা। এখানে ধনবান মানে নেতৃত্বের গুণাবলী। বর্তমানে সমাজে যত অশান্তি আর অস্বস্তি তার প্রধান কারণ কিন্তু একটাই, আর সেটা হচ্ছে নিজেকে প্রকাশ করা চেষ্টা। এখানে এসে দেখলাম তিনি এতকিছু করছেন, অথচ তিনি অপ্রকাশিত, গোপন। ২০১৩ সালে মিরপুর আস্তানা শরীফ-এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত ‘দিক হতে দিগন্তে’ স্মরণিকাটি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রথমে আমার উপলব্ধিতে আসলো যে, যার নির্দেশনা ও নেতৃত্বে স্মরণিকাটি প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর নামটি স্মরণিকার কোথাও নেই। শুধু এই স্মরণিকাতেই নয়, এই মিরপুর আস্তানা শরীফ-এর কোথাও কিন্তু সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ-এঁর নামটি কোথাও নেই, অথচ সবকিছু তিনিই করছেন, এখানকার যতকিছু ভালো তার সব কিছুর ক্রেডিট কিন্তু ওনার। এটা কোন্ ধরনের নেতৃত্ব? আজকের দিনে দুনিয়াদারির সর্বক্ষেত্রে যে-ধরনের নেতৃত্ব দেখা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে কতটুকু এই সাধক যে লিডারশিপের কথা বলছেন, যে লিডারশিপ শুধুই সমাজের শান্তির জন্য, মানবতার জন্য। সমাজের যত অশান্তি, দুনিয়াদারিতে যত কিছু অর্জন করার চেষ্টা করি, তার  পেছনে একটাই লক্ষ্য থাকে-নিজেকে প্রকাশ করার জন্য, আমিত্বের প্রকাশ ঘটানোর জন্য। বাংলাদেশে বর্তমানে যে-একটা পরিস্থিতি চলছে সেখানেও কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে পর্যন্ত এরকম কথা বের হচ্ছে, সেটা কিন্তু সাধারণ কথা না, যেমন-‘মুই কি হনুরে’। নেতাগিরি ফলাতে গিয়েই কিন্তু আমরা ‘মুই কি হনুরে’র মধ্যে থাকি। আমাদের মধ্যে সব সময়ই একটা ভাব এসে যায় যে, আমি কিছু একটা হয়ে গেছি, অহংকারী হয়ে যাই। এই প্রেক্ষাপটেই মহান সূফী সাধকের কাছ থেকে শোনা ‘কেউ কিছু হন নাই’। আমাকে, আমাদেরকে সতর্ক করার জন্যই তিনি এইসব কথা বলতেন, যা আমাদের জীবন চলার পথে শান্তি ও মঙ্গল হাসিল করার জন্য। আমরা নিজেদেরকে যেন নিয়ন্ত্রণে রাখি সেজন্য তিনি এভাবে বলতেন। এভাবে বলা যায়, তাঁর প্রতিটি কথা, আদেশ-উপদেশ-নিষেধ-নির্দেশ ইত্যাদি সব কিছুর মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী আমরা দেখতে পাবো। ওনার সকল চেষ্টার মধ্যেই ছিল এই যে, ওনার কাছে যারা আসছে, কথা বলছে, শুনছে তাদের মধ্যে যেন উপলব্ধি আসে যে উপলব্ধি না হলে এতসব বৈঠক, আলোচনা-এসবের কোনই অর্থ নেই। ওনি ওনার প্রতিটা সময়-কথা-চিন্তা দিয়ে- হেসে বলুন, আর শক্ত ভাষায়- যে-কোনোভাবে ওনি যা বলেছেন তার সবকিছুই আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল এবং সেজন্য তাঁর প্রতিটি কথাই আমার কাছে এক একটি বাণী। আমরা যেন শিখতে পারি, শিখতে শিখতেই আমরা যা করবো সেটাই আমাদেরকে নেতৃত্ব বা লিডারশিপ-এর গুণাবলী অর্জন সহায়ক হবে। নেতৃত্ব কর্মের মধ্য দিয়ে প্রকাশ হবে, যোগ্যতা অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হবে। মহান সাধক আমাদের জন্য সেই শিক্ষাটাই রেখে গেছেন।