শেষ পাতা

সৌদির তেল শোধনাগারে হামলা চালাল ইয়েমেনী বাহিনী

saudi tel

সংলাপ ॥ সৌদি আরবের তেল কারখানায় সন্ত্রাসবাদী হামলার ফলে সারা বিশ্বের তেল রফতানিতে বড় ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ড্রোন হামলা চালিয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘আরামকো’-র একটি তেলের খনি ও বিশ্বের সব চেয়ে বড় তেল শোধনাগার কেন্দ্রে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে ইয়েমেনের হুথিরা যোদ্ধারা। সংগঠনটি জানিয়েছে, হামলার জন্য ১০টি ড্রোন ব্যবহার করেছিল তারা। এর আগেও সৌদিকে নিশানা করে এই ধরনের হামলা চালিয়েছিল হুথিরা। এ বার সংগঠনের এক মুখপাত্র বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, গত সপ্তাহের শনিবারের হামলাটি সৌদির অভ্যন্তরে হুথি বাহিনীর সবচেয়ে বড় অভিযান। যা সম্ভব হয়েছে ‘দেশের মানুষদের সহ-যোগিতায়’।

সৌদির অভ্যন্তরীণ মন্ত্রীও জানিয়েছেন, ‘ড্রোন হামলার’ ফলে ভোর ৪টে নাগাদ আগুন লাগে আবকাইক ও খুরাইস এই দুই কেন্দ্রে। সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আরামকোর বাণিজ্যিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছে কি না জানা যায়নি।

আরামকো জানিয়েছে, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার’ আবকাইক কেন্দ্র থেকে পরিশোধিত তেল পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের বিভিন্ন বন্দরের মাধ্যমে সারা বিশ্বে পাড়ি দেয়। প্রতি দিন গড়ে প্রায় ৭০ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিশোধন করে এই কেন্দ্র। এর আগেও ২০০৬ সালে এটিকে নিশানা করেছিল আল কায়দার আত্মঘাতী জঙ্গিরা। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। খুরাইস খনিটি থেকে প্রতি দিন গড়ে ১০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল তোলা হয়। আরামকো-র মতে, এই খনিতে মজুত রয়েছে অন্তত দু’হাজার কোটি ব্যারল তেল।

গত চার বছর ধরে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইরান সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে লড়ছে ইয়েমেন সরকার। সৌদি বাহিনীকে সামরিক সহায়তা করে আমেরিকাও। ২০১৫ সালে দেশের পশ্চিমের বেশিরভাগ অংশ দখল করে নেয় হুথিরা। রাজধানী সানা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদি। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ। যার জন্য সৌদি জোটের বিমানহানাকেই দায়ী করেছে হুথিরা। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি জোটের হস্তক্ষেপের পর থেকেই ড্রোন ব্যবহার শুরু করে হুথি জঙ্গিরা। প্রথম দিকে সেগুলি তত উন্নত না হলেও রাষ্ট্রপুঞ্জ, আমেরিকা বা আরব দেশগুলির দাবি, পরের দিকে ইরানের মডেলের আদলে ড্রোন ব্যবহার শুরু করে হুথিরা। যদিও হুথিদের অস্ত্র সরবরাহ করার কথা বরাবরই  অস্বীকার করেছে তেহরান।

গত মে-তেও সৌদি আরবের একটি তেলের পাইপলাইনে ড্রোন হামলা করেছিল হুথিরা। আগস্টে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি সীমান্তের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলের খনিতে ড্রোন ছুড়েছিল জঙ্গিরা। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, হুথিদের ব্যবহৃত নতুন অত্যাধুনিক ইউএভি-এক্স ড্রোন ১৫০০ কিলোমিটার অতিক্রম করতে সক্ষম। অর্থাৎ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এ বার সহজেই তাদের নাগালে চলে এল। আজ সংগঠনটির এক সামরিক মুখপাত্রের কথায়, ‘সৌদি জোট আগ্রাসন বন্ধ না করলে তাদের স্বার্থে আরও বড় ঘা পড়বে।’

বিষয়টি নিয়ে ভীষণই উদ্বিগ্ন সৌদির রাজকুমার। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে তিনি এ বিষয়ে কথাও বলেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এই সন্ত্রাসবাদী আগ্রাসনের মোকাবিলা করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন সৌদির রাজকুমার। সৌদিকে নিরাপত্তা দিতে সব রকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটনও। প্রয়োজনে তাদের কৌশলগত ভাবে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চিত পেট্রোলিয়ামও সৌদিকে দিতে তারা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

সৌদি তরুণী : বোরখা ছেড়ে ‘বিদ্রোহী’

bidrohi nari

সংলাপ ॥ ধীরে ধীরে হলেও কোথাও যেন বিধি-নিষেধের বাঁধনটা আলগা হচ্ছে। বেশ কয়েক মাস ধরেই সৌদি আরবে, বিশেষ করে রিয়াদে প্রথাগত পোশাক ছাড়াই কিছু মহিলা রাস্তায় বার হচ্ছেন। তাদেরই একজন মাশায়েল আল-জালাউদ। ইন্টারনেটে এই ‘বিপ্লবী’ মহিলার ছবি এখন ভাইরাল। সাদা টপের উপরে কমলা জ্যাকেট, সাদা ট্রাউজার, হাই হিলে সুসজ্জিতা তরুণী। রিয়াদের শপিং মলে তরুণীকে চোখে পড়েছিল সকলেরই।

মাশায়েল আল-জালাউদ (৩৩), মানব সম্পদ ক্ষেত্রে কর্মরত একজন সৌদি মহিলা। তার বেশ কিছু ছবি এখন ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সম্প্রতি রিয়াদের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এক শপিং মলে তাকে দেখা যায় প্রথাগত শরীর ঢাকা পোশাক ছাড়াই। তিনি কমলা রংয়ের একটি জ্যাকেট ও ব্যাগি ট্রাউজার পরে রয়েছেন। মাশায়েলের যে ছবিগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া গিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, তার দিকে আশেপাশের মহিলা তাকিয়ে রয়েছেন তার দিকে। এমনকি একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তার পাশ দিয়েই হাঁটছেন প্রথাগত মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢাকা কালো পোশাকের কয়েকজন মহিলা। যেটি বেশ প্রতীকী ছবি হয়ে উঠেছে।

কয়েকজন মহিলা নাকি মাশায়েলকে কোনও সেলিব্রিটি বলেও ভুল করেছিলেন। তারা জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি খুব জনপ্রিয় কেউ? এক মহিলাতো তাকে মডেল বলেও ভুল করেন। কিন্তু উত্তরে মাশায়েল বলেন, তিনি একজন সাধারণ আরবি মহিলা, যে নিজের মতো বাঁচতে চায়।

মাশায়েল একাই নন, বছর পঁচিশের আর এক আরবি মহিলা মানাহেল আল-ওতাইবি-ও এই তালিকায় রয়েছেন। মানাহেল একজন সমাজকর্মী। প্রথাগত আরবি পোশাক ছেড়ে পশ্চিমী পোশাকে রাস্তায় বার হন। তিনি জানিয়েছেন, রিয়াদে তিনি চার মাস প্রথাগত পোশাক ছাড়াই ঘুরছেন। তিনি তার ইচ্ছে মতো পোশাক পরতে চান, যেটা তার ভাল লাগবে, পছন্দ হবে।

চোখে পড়াতেই চেয়েছিলেন সৌদি তরুণী মাশায়েল আল-জালৌদ। ৩৩ বছর বয়সি তরুণী একটি সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগে কাজ করেন। পাশাপাশি নিজের মতো করে চালিয়ে যাচ্ছেন মানবাধিকার রক্ষার লড়াই। গত সপ্তাহে বোরখা ছাড়া পশ্চিমী পোশাকে রিয়াদের মলে যাওয়া সেই আন্দোলনেরই ভাষা।

রক্ষণশীল মুসলিম রাষ্ট্র সৌদি আরবে প্রকাশ্য রাস্তায় বেরোতে হলে মেয়েদের কালো বোরখা পরা বাধ্যতামূলক। ধর্মের প্রতীক হিসেবেই বিষয়টিকে দেখা হয়। সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন সম্প্রতি নারী ক্ষমতায়নের কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছেন। গত বছর একটি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেছিলেন, মেয়েদের পোশাক নিয়ে কড়াকড়ি কমানো হবে। ইসলাম ধর্মে বোরখা পরা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু সমাজে এর কোনও প্রভাব পড়েনি। ব্যতিক্রমী মাশায়েল জানিয়েছেন, তিনি বোরখা পরা ছেড়ে দিয়েছেন। গত সপ্তাহে তাকে শপিং মলে দেখে অনেকেই বাঁকা চোখে দেখছিলেন। ভেবেছিলেন মাশায়েল কোনও সেলেব্রিটি। জিজ্ঞাসাও করে ফেলেছিলেন তারা, ‘আপনি কি বিখ্যাত কেউ? মডেল?’ মাশায়েলের মতো বোরখা ছেড়েছেন ২৫ বছরের মানবাধিকার কর্মী মানাহেল আল-ওতাইবিও। তিনি জানান, গত চার মাস রিয়াধে রয়েছেন, বোরখা আর পরেন না। মানাহেলের কথায়, ‘স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চাই।’ বহুবার বিপদে পড়তে হয়েছে তাকে। সোশ্যাল মিডিয়াকে অস্ত্র করে সরব হয়েছেন। কিন্তু সৌদি রাজপরিবারের থেকেই শুনতে হয়েছে— ‘মানাহেল বিখ্যাত হতে চান, তাই এই সব ছলচাতুরি।’

উত্তপ্ত হংকং

Hong kong

সংলাপ ॥ নিজেদের দাবি জানাতে হংকংয়ের ব্রিটিশ কনসুলেটের বাইরে ভিড় করেছিলেন কয়েকশো মানুষ। ১৯৯৭ সালে ব্রিটেন যখন হংকং হস্তান্তরিত করে চিনের কাছে, তখন এ শহরের স্বাধীনতা অটুট থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বেজিং প্রশাসন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সে কথা রাখেনি চিন। আর তাই আজ ব্রিটিশ কনসুলেটের বাইরে এসে হংকংয়ের মানুষ একজোট হয়ে বললেন, স্বাধীনতা ফেরানোর জন্য চিনের উপরে চাপ তৈরি করুক ব্রিটেন। তারা গাইলেন ব্রিটেনের জাতীয় সঙ্গীত। ওড়ালেন সে দেশের জাতীয় পতাকা।

কনস্যুলেটের বাইরে প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ছিল ঠিকই। তবে পুলিশের নিষেধ উড়িয়ে পূর্ণ গণতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে সারা শহরে আরও মিছিল করেছেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে অবশ্য হিংসা ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুধু ব্রিটেন নয়, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছেও সমর্থন চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন হংকংয়ের আন্দোলনকারীদের তরুণ প্রতিনিধি জোশুয়া ওয়ং। তিনি বলেছেন, ‘চিনের সঙ্গে যে কোনও বাণিজ্য চুক্তিতে মানবাধিকারের একটা শর্ত ঢোকানো উচিত।’ আমেরিকার সঙ্গে চিনের বহুদিন ধরেই বাণিজ্যের লড়াই চলছে। এখন সেই সূত্রে জোশুয়ারা বলছেন, ‘চিন যদি হংকংয়ের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষার কোনও চেষ্টাই না করে এবং নিজের মতো ব্যবসা করে চলে, তা হলে সেটা বিশ্ব অর্থনীতির পক্ষেও ক্ষতিকর হবে।’ হংকংয়ে এ দিনের মিছিলে মার্কিন পতাকা নিয়েও হেঁটেছেন কেউ কেউ। ট্রাম্পের কাছে তাদের আর্জি, ‘হংকংকে মুক্ত করতে এগিয়ে আসুন।’

যদিও চিন আগে থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, অন্য কোনও দেশ যেন এ ক্ষেত্রে নাক না গলায়। বেজিং প্রশাসনের দাবি, হংকংয়ের পরিস্থিতি একেবারেই তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে ব্রিটেন বলেছে, চিন যাতে ‘এক দেশ দুই প্রশাসন’ নীতি মেনে চলে, তা দেখা তাদের আইনি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। হস্তান্তরের আগে এমন শর্তই ঠিক হয়েছিল।

এ মাসের গোড়ায় প্রতিবাদকারীরা কিছুটা জয় অবশ্য পেয়েছেন। হংকং থেকে অপরাধীদের চিনে প্রত্যর্পণের প্রস্তাবিত বিল খারিজ করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। এই বিলের বিরুদ্ধেই সাম্প্রতিক আন্দোলনের শুরু। কিন্তু তার পরেও থামেননি তারা। হংকংয়ে গণতন্ত্র ফেরানোর জন্য সরব হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের উপরে পুলিশি নিগ্রহের বিরুদ্ধেও আপত্তি জানাচ্ছেন তারা।

আজ ব্রিটিশ কনসুলেটের বাইরে আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিয়েছেন, ‘এক দেশ দুই প্রশাসন নীতির আর কোনও অস্তিত্ব নেই’, ‘হংকংকে মুক্ত করতে হবে’। এক আন্দোলনকারীর মন্তব্য, ‘প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, হংকংয়ে মানবাধিকার এবং সুরক্ষার অভাব হবে না। আমাদের বিশ্বাস, আমাদের সুরক্ষা দেওয়ার আইনি অধিকার এবং নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে ব্রিটেনের প্রশাসনের।’ চিন যদিও দাবি করছে, তারা ব্রিটেনের সঙ্গে করা চুক্তি থেকে সরেনি।

এ দিন ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) পাসপোর্টের নিয়ম পাল্টানোর জন্যও দাবি জানিয়েছেন আন্দোলকারীরা। চিনকে হংকং হস্তান্তরের পরে এই ধরনের পাসপোর্ট তৈরি হয়েছিল। যার এই পাসপোর্ট আছে, তিনি ছ’মাস ব্রিটেনে থাকার অনুমতি পান। তবে সেখানে কাজ করার বা বাস করার সুযোগ পান না। ২০১৭ সাল পর্যন্ত হংকংয়ে ৬০ হাজার মানুষের কাছে এই পাসপোর্ট ছিল।

আজকের প্রতিবাদ হয়েছে বিভিন্ন সরকারি দফতর এবং আইনসভা ভবনের কাছে। চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বেস-এর বাইরে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে আন্দোলকারীদের বিরুদ্ধে। ১ অক্টোবর চিন প্রতিষ্ঠার ৭০ তম বার্ষিকীর জন্য তৈরি একটি লাল ব্যানার ছিঁড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় বলেও দাবি। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করছে। সেখানে আবার ছুটে এসেছে পেট্রল বোমা। যা থেকে একটি জলকামানে আগুন ধরে যায় বলে অভিযোগ। পুলিশ বিব্রতি দিয়ে বলেছে, ‘আন্দোলকারীদের একটি অংশ হারকোর্ট রোড দখল করে সরকারি ভবন তছনছ করেছে। একের পর এক পেট্রল বোমাও ছুঁড়েছে।’

আফগান-পাক সীমান্তে নিহত ওসামা-পুত্র হামজা: ট্রাম্প

afgan putro

সংলাপ ॥ ৯/১১-এর আঠারো বছর পূর্তির পর চার দিন কেটেছে। এর মধ্যেই ‘চমক’ দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিবৃতি দিয়ে ট্রাম্প জানালেন, নিহত হয়েছে ওসামা বিন লাদেনের পুত্র হামজা বিন লাদেন। গত আগস্টেই হামজা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহের শনিবার সেই দাবিতে সিলমোহর দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

হোয়াইট হাউসের তরফে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জঙ্গি বিরোধী অভিযানে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে আল কায়দার উচ্চ পদস্থ সদস্য এবং ওসামা বিন লাদেনের পুত্র হামজা বিন লাদেনের মৃত্যু হয়েছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হামজা বিন লাদেনের মৃত্যু শুধু মাত্র আল কায়দা এক জন গুরুত্বপূর্ণ নেতাই হারাল না, বরং জঙ্গি কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ওই গোষ্ঠীটির ভিত নড়ে গেল। গত মাসেই মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এস্পার হামজার মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন। তবে তা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কোথায় হামজার মৃত্যু হয়েছে তা জানালেও, কখন সেই অভিযান চালানো হয়েছিল সে তথ্য অবশ্য দেয়নি মার্কিন প্রশাসন।

হামজা ওসামা বিন লাদেনের তৃতীয় স্ত্রী-র সন্তান। ওসামার কুড়িটি সন্তানের মধ্যে ১৫তম ছিল হামজা। তার বয়স তিরিশের আশপাশেই বলে জানা গিয়েছে। আল কায়দার এক জন উঠতি নেতা হিসাবেই তাকে ধরা হচ্ছিল। ইতিমধ্যেই তার মাথার দাম ১০ লক্ষ ডলার ঘোষণা করেছিল ওয়াশিংটন। হামজাকে শেষ বারের মতো প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল গত বছরের মাঝামাঝি। একটি ভিডিয়ো বার্তায় সে সৌদি আরবকে হুমকি দেয়, আমেরিকার সঙ্গে হাত মেলালে তার মাশুল দিতে হবে তাদের। সৌদি রাজপরিবারকেও হুঁশিয়ারি দেয় সে। কিন্তু তার পরে আর প্রকাশ্যে আসেনি। সে কোথায় ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে, জানা যায়নি। তবে মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনী এফবিআই-এর ধারণা ছিল, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া ও ইরানেই ঘোরাফেরা করত হামজা।

সত্য প্রতিষ্ঠায় স্বেচ্ছাশ্রম যাহা নিত্য তাহাই সত্য

শাহ ফাতেমা আফরোজ নাসরিন ॥ সত্যের সাথে একাত্মতা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ বলেন ‘যেখানে আমি নাই, যেখানে আমার নাই, সেখানে সত্য আছে। সত্যের মধ্যে ডুবে আছেন পরিপূর্ণ। যখন প্রকাশিত হয়ে যাবে আমি, যখন প্রকাশিত হয়ে যাবে আমার, সত্যের সঙ্গে যোগ হতে পারে, সংযোগ হতে পারে, সম্পর্ক হবেনা’। হাক্কানী চিন্তনপীঠে ‘আমি কে কি?’ পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে বলা হয়েছে:

‘দর্শন আমার মূলধন,

যুক্তি আমার শক্তি,

প্রেম আমার ভিত্তি,

মুর্শিদ স্মরণ আমার প্রানশক্তি,

বিশ্বাস আমার ধন ভান্ডার,

জ্ঞান আমার হাতিয়ার,

ধৈর্য আমার অলঙ্কার,

আত্মমর্যাদা আমার অহঙ্কার,

সন্তুষ্টি আমার সম্পদ,

সিদ্ধান্ত আমার লক্ষ,

সত্য আমার প্রেরণা,

বাধ্যতা আমার পথ,

সালাত আমার আনন্দ,

নিজের সাথে যুদ্ধ আমার নীতি,

তাই হয়েছি আমি আমি আমি

হাক্কানী….।’

চিন্তনপীঠের এই শিক্ষা হতে আমার শব্দটি সরিয়ে রাখলে যা দাড়ায় তা হলো: ‘দর্শন মূলধন, যুক্তি শক্তি, প্রেম ভিত্তি, মুর্শিদ স্মরণ প্রানশক্তি, বিশ্বাস ধন ভান্ডার, জ্ঞান হাতিয়ার, ধৈর্য অলঙ্কার, আত্মমর্যাদা অহঙ্কার, সন্তুষ্টি সম্পদ, সিদ্ধান্ত লক্ষ্য, সত্য প্রেরণা, বাধ্যতা পথ, সালাত আনন্দ, নিজের সাথে যুদ্ধ নীতি’।

পুরোটার মধ্য থেকে আমার বাদ দিলে যে থিমটি পাওয়া যায় তা ভাবনার গভীরে প্রবেশ করে দেখা যেতে পারে। এভাবে দেখলে দেখা যেতো যে, সত্য কতদূর পর্যন্ত এগোয়। সত্যেরতো কোন শেষ নেই, পরিপূর্ণতারও কোন শেষ নেই। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক তাঁর প্রধান শিষ্য সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ কে বললেন ‘পথ খুলে রেখে গেলাম, যতদূর চান যাইতে পারবেন’। এই নির্দেশনার মাঝে ‘আমিও নাই, আমারও নাই, তুমিও নাই’। যেখানে আমি আছে, আমার আছে, যে কর্মের মধ্যে, যে সংযোগের মধ্যে আমার আছে, যে সংযোগের মধ্যে তুমি আছে, সত্য সেভাবেই আছে। সত্যের কোন আকল-বাকল নাই কিন্তু পকেটে করে নিয়ে ঘোরা যায়। ফেলে  দিলেও কিছু বলেন না। কিছুতেই তার কোন আপত্তি নাই। তুমি কি ? প্রশ্ন এসে যায়। সবইতো সত্য, তুমি কোন জায়গায় অবস্থান করছো, সেটাই হচ্ছে মূল জিনিস। কোন কর্মে তুমি সত্যের চিন্তা করে কোথায় অবস্থান করছ? তোমার সত্য আর একজনের সত্য নাও হতে পারে। সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ বললেন – ‘তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত- আপনারা জেনে রাখেন, শুনে রাখেন, বুঝে রাখেন, লিখে রাখেন, যতক্ষন পর্যন্ত আমি আছি, যতক্ষন পর্যন্ত আমার আছে, ততক্ষন পর্যন্ত সত্য সেখানে পরিপূর্ণ নয়। ওখানে আল্লাহ্ রসুলের কথা নাই, ওখানে অতীতের কথা নাই, ওখানে ভবিষ্যতেরও কোন কথা নাই। সত্যটা অন্বেষণ করতে হবে। একাত্মতা বলতে জীবনে এ পর্যন্ত এসে আমি কারো সঙ্গে কি একাত্ম হইছি? কোন কর্মে, কোন পরিবেশে, নিজের সাথে, কর্মের সঙ্গে একাত্ম হলে, নিজেকে নিজের মধ্যে ডুবে চিন্তা করলে দেখবেন যে আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে যে সমস্ত দায় দায়িত্ব নিচ্ছেন পৃথিবীতে এসে কোনটাই আপনি সুষ্ঠভাবে করেন নাই। সে যেখানেই যান, আমি-আমি করছি, আমার আমার করছি, ঐ সুষ্ঠুভাবে পালন না করার জন্য একাত্ম হয়নি, মিথ্যাচার করছেন। তুমি সত্যে যাওয়ার আগে, তুমি মিথ্যা যেখানে দেখছো তাকে পাশ কাটাও, যাওয়ার আগে অভ্যাস তৈরী কর। একদিন তুমি দেখবে যে সত্যের মধ্যে পুরোপুরি অবস্থান করছ। সত্য খুজবো কোথায়? সবইতো সত্য। শুধু নিজের ভিতরটা সত্য না, নিজের চিন্তাটা সত্য না, নিজের চোখ সত্য না, নিজের কান সত্য না, নিজের মুখটা সত্য না। পানি সত্য, মাটি সত্য, বাতাস সত্য, ওদের সঙ্গে কি আমি প্রতারণা করছি না? প্রকৃতির সঙ্গে কি আমি প্রতারণা করছি না? প্রতারণা ই তো চলে আসবে।’

সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ আর একবার বলেছিলেন ‘সত্য শাশ্বত-সত্য জাগতিক। আপেক্ষিক সত্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, কোনটা আপেক্ষিক না?  তোর মায়া কি আপেক্ষিক না? কোনটা আপেক্ষিক না? তবে সত্য আপেক্ষিক বলে ছেড়ে দিলে-। পরম একটা কথা কিন্তু বাংলা ভাষায় আছে। তুমি কি পরম সত্য বলে কিছু জানো? তুমি কি জানো পরম চেতনা বলে একটা কথা আছে? সেটা কোথায়? পরম কি? চরম কি? তবে সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্ম করলে সত্য আপেক্ষিক না’।

সত্য প্রতিষ্ঠায় স্বেচ্ছাশ্রম- এখানে সেই একই প্রশ্ন এসে যায় কোন সত্য? কার সত্য? কখন? কোথায়? কিভাবে? প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যে সত্য এখনও প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, অথবা পরিকল্পনা করা হয়েছে। একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে মানুষ সৃষ্টি। সেই লক্ষ্যটিই সত্য। পরম সত্য। তবে হাতে গোনা গুটি কয়েক মানুষই সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছেন। তারা হলেন সত্য মানুষ। তাদের ছত্রছায়ায় মানবজাতি আশ্রয় খুজে পেয়েছে সর্বকালে। তাঁদের মত স্বেচ্ছাশ্রম কেউ দিতে পারেনি কখনও, দিতে পারবেও না। স্বার্থ ত্যাগ ছাড়া মানবতার কাজ হয় না। নির্যাতিত, নিপীড়িত, অসুস্থ মানুষকে নিঃস্বার্থ সেবা দিতে হয়। সারাবিশ্ব জুড়ে বহু মানবতাবাদী সংস্থা স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে। সত্যমানুষদের সেবার কাছে তারা দাঁড়াতে পারবেনা। এ সমস্ত সংস্থা বিশ্ব আধিপত্যবাদী মোড়লদের দ্বারা প্রভাবিত। কখনও কখনও এদের দ্বারাই মানবতা লঙ্ঘিত হয় মারাত্মকভাবে। কাজেই তাদের মানবতার কাজ কাঙ্খিত পর্যায়ের নয়। সত্যমানুষগণ ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়িয়েছেন সর্বকালে। মানবজাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিঃস্বার্থ সেবা দিয়েছেন। মানবতা – সেবা – স্বেচ্ছা শ্রম একসূত্রে গাথা। মানবতা  স্বতঃস্ফুর্ত। প্রকৃতির মতই বাঁচিয়ে রাখেন, আবার আবর্জনা গ্রহন করে শোধন করেন। তাঁদের ছত্রছায়ায় যারা কাজ করেন তারাও তাদের আদর্শকে ভালোবেশে স্বেচ্ছাশ্রমে উদ্বুদ্ব হয়।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন এসে যায় – মানবজাতির মধ্যে স্বেচ্ছাশ্রমের শুরুটা কোথা থেকে? কিছু কিছু মানবতা প্রাকৃতিকভাবেই প্রাণীজগতে বিদ্যমান। মাতৃত্বের গুণাবলী বিদ্যমান। জন্মের পর পরই সাহায্যের হাত চলে আসে পারিপার্শ্বিকতা থেকে। এভাবেই অভিজ্ঞতা থেকে শিশু শিখে। পরিবেশের মাধ্যমে তার স্বভাব গড়ে ওঠে। প্রথমেই সে জ্ঞানেন্দ্রিয়কে বেশী কাজে লাগায়। অনুকরণ-অনুসরণ করার চেষ্টা করে পরিবারের সদস্যদের এবং চোখ দিয়ে যা দেখছে সেগুলোকে। অতঃপর জ্ঞানেন্দ্রিয় -চোখ, কান, নাক, জিহ্বা ও ত্বকের সহযোগিতায় কর্মেন্দ্রিয়- হাত, পা, মুখ, পায়খানা ও প্রস্রাবের রাস্তা সমূহের দ্বারা বিভিন্ন কর্মের মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত করে। যখনই কোন কর্ম করে তখনই সে সুখ-দুখ বা ঔদাসিন্যের সঙ্গে জড়িত হয়। কর্মফলের উপর নির্ভর করে এভাবেই ধীরে ধীরে সে বড় হতে থাকে পরিবেশগত কর্মের মাধ্যমে। গবেষকদের মতে একজন মানুষ প্রতিদিন ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার কর্ম করে থাকে। প্রতিদিনের এই কর্মগুলোর পুনরাবৃত্তি একই পরিবেশের মধ্য দিয়ে তার অভ্যাস গড়ে ওঠে। এই অভ্যাসের মাধ্যমেই একসময় স্বভাব গড়ে ওঠে। স্বভাবের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সর্বকালে, সকল ধর্মে আত্মিক উন্নতির জন্য। সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ইসলাম ধর্মে। নবী মুহাম্মদ (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত) বলেছেন সৎস্বভাবই ধর্ম, সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট কাজ স্বৎস্বভাব, সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট গুন সৎস্বভাব। সৎস্বভাবের মাধ্যমে মানুষ সারা বছর রোজা রাখার এবং সারা রাত দাড়িয়ে সালাত করার পূণ্য পেতে পারে। ধর্মীয় গবেষকদের মতে সূর্যের আলো যেভাবে বরফকে গলিয়ে দেয়, সৎস্বভাব তেমনি মানুষের পাপরাশিকে মিটিয়ে দেয়। (চলবে)

রাশিয়া-ভারত অন্য দেশে হস্তক্ষেপ করে না: মোদি

russia

সংলাপ ॥ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত ও রাশিয়া কখনো কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা পছন্দ করে না। গত সপ্তাহে বুধবার দুই দিনের রাশিয়া সফরে থাকা মোদি পুতিনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোদি আবারও বলেছেন, জম্মু-কাশ্মির দ্বিপক্ষীয় বিষয়। এতে তৃতীয় পক্ষের কোনও হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে শক্তিশালী, স্থায়ী এবং গণতান্ত্রিক সরকার দেখতে চায় রাশিয়া ও ভারত। রাশিয়া ও ভারত কখনো কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা পছন্দ করে না। এরমধ্যে রয়েছে আফগানিস্তানও।

নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, যখনই প্রয়োজন হয়েছে, যেখানেই প্রয়োজন হয়েছে, রাশিয়া ও ভারত, একে অপরের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সহযোগিতা শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক এবং বিশ্বমানের, সুমেরু এবং দক্ষিণ মেরু অঞ্চলেও আমরা সহযোগিতা করছি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মির নিয়ে ভারতের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কো বলেছে, ভারতের সংবিধানের কাঠামো মতোই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জম্মু ও কাশ্মিরে।

৫ আগস্ট কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ অধিকার বাতিলের পর সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্ট জানায়, জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকে কোনও মানবধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে, অবশ্যই দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া দরকার।

দু’দিনের রাশিয়া সফরে নরেন্দ্র মোদি যোগ দেবেন ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামে। বুধবার একটি রুশ জাহাজে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিশ কুমার এক টুইটে বলেছেন, প্রবল বায়ুপ্রবাহের মধ্যে গতি পেলো ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভøাদিমির পুতিন সুন্দর সময় কাটালেন জাহাজে ভেজদা জাহাজ নির্মাণ কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে।

জাহাজ ভ্রমণ মোদি টুইটে লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের ব্যবহারে আমি গভীরভাবে প্রভাবিত। আমার সঙ্গে তিনি ভেজদা জাহাজ নির্মাণ কমপ্লেক্সে গিয়েছেন। আরেক টুইটে মোদি লিখেছেন, যাত্রাপথে প্রেসিডেন্ট পুতিন  আমাকে বন্দরে ‘কাটিং এজ টেকনোলজি’ দেখিয়েছেন। যৌথ উদ্যোগে নতুন দিগন্ত খুলে গেলো আমাদের আমার যাত্রায়।

ইরানে ২৮ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে চীন

abd60f1addfe55d00e46e5eee5edca30-5d74fd9bac661

সংলাপ ॥ ইরানে ২৮ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে চীন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানের নাজুক অর্থনীতির গতি ফেরাতেই ‘বন্ধু বেইজিং’ ইরানে এই বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। বিনিয়োগের এসব খাত হবে তেল, গ্যাস এবং পেট্রোকেমিক্যাল।

মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনা পর্যবেক্ষণ বিষয়ক সংবাদমাধ্যম গতকাল এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। তারা পেট্রোলিয়াম ইকোনমিস্ট সাময়িকীকে উদ্ধৃত করেই বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের ইরানে বিনিয়োগের খবরটি দিচ্ছে। পেট্রোলিয়াম ইকোনমিস্ট মূলত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বিষয়ক ঘটনা নিয়ে খবর জানায়। তারা ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ সূত্রের বরাতে বলছে, চীন এবং ইরান যে চুক্তি করতে যাচ্ছে তার মধ্যে বড় হাজার কোটি ডলারের এই বিনিয়োগের বিষয়টি অন্যতম।

মিডল ইস্ট মনিটর বলছে, গত মাসের শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বেইজিং সফরে গিয়েছিলেন। তখন চীনের সঙ্গে তার দেশের বড় এই বিনিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। এছাড়াও চীন ইরানের তেল ও শিল্প অবকাঠামো খাতে ১২ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে বলে জানা গেছে।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর পরবর্তী পাঁচ বছরে এই বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। যদি উভয় দেশ সম্মত হয় তাহলে ওই সময়ের মধ্যে চীন ইরানে আরও বেশ কিছু বিনিয়োগ করতে পারে বলেও আভাস দিয়েছে পেট্রোলিয়াম ইকোনমিস্ট।

বিপুল এই বিনিয়োগের জন্য চীনকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেবে ইরান। তার মধ্যে অন্যতম হলো তেল, গ্যাসক্ষেত্র ও পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প। এসব খাতে চীনা কোম্পানিগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে ইরান। তবে প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইরানে ৫ হাজার নিরাপত্তা কর্মকর্তা পাঠাবে বেইজিং।

চুক্তি অনুযায়ী, চীন ইরানের কাছ থেকে কম মূল্যে তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য কেনার সুবিধা পাবে। শুধু বিশেষ এই সুবিদা নয় এসব পণ্য কেনার পর দুই বছর পর্যন্ত মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাবে চীন। যার মূল্য পরিশোধ হবে চীনা মুদ্রা ইউয়ান কিংবা অন্য ‘লাভজনক’ মুদ্রায়।

তুর্কি-মার্কিন যৌথ টহল সার্বভৌমিত্বের লঙ্ঘন : সিরিয়া

turkey

সংলাপ ॥ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সীমান্তবর্তী একটি উপত্যকায় যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের যৌথ টহলকে দেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে সিরিয়া। রবিবার সরকারি এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি ওয়াইপিজি মিলিশিয়ারা সিরিয়াকে বিভক্ত করতে চাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে যৌথ টহলকে আঞ্চলিক অখ-তার লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে সিরিয়ায় প্রবেশ করেছে তুর্কি সামরিক যান। মার্কিন সামরিক যানের সঙ্গে সেগুলো ক্রমাগত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সীমান্ত এলাকায় ‘সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে যৌথ মহড়া চালাবে দুই দেশের বাহিনী।

কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সীমান্ত এলাকায় ‘সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যৌথ মহড়া চালাবে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার তুর্কি সীমান্ত শহর আকাকালে থেকে ১৫ কিলোমিটার পূর্বে সিরিয়ার সীমান্ত এলাকায় মার্কিন পতাকাবাহী সামরিক যানের সঙ্গে যোগ দেয় তুর্কি পতাকাবাহী সামরিক যান।

রবিবার সিএনএন তুর্ক-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমান সয়লু বলেন, ‘ভৌগোলিক কারণে আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও অভিবাসন ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে আমরা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হই। যদি মার্কিন বাহিনী ইউফ্রেটিসের পূর্বে আমাদের বাহিনীর সঙ্গে টহল দিতে সক্ষম হয়, তাদের নিজেদের সেনাদের নিয়ে প্রবেশ করতে পারে এবং যদি ইদলিবে (সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে) তুর্কি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে থাকে, তবে তা আমাদের পদক্ষেপের কারণেই সম্ভব হয়েছে।’

আমাজনে আগুন : ৭ দেশের বন রক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর

image-218197-1567838432

সংলাপ ॥ আমাজন নদী অববাহিকা রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার সাতটি দেশ। তারা বন রক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। সাতটি দেশ হলো- বলিভিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, গায়ানা, পেরু ও সুরিনাম। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনে সাত দেশ নতুন বনায়নের কাজ করতেও সম্মত হয়েছেন। কলম্বিয়ার লেটিসিয়া শহরে আয়োজিত সম্মেলনটিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইভান দুকে বলেছেন, বৈঠকটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আমাজনের অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ব্যবস্থা করবে।

পেরুর প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকারা বলেছেন, কেবল শুভেচ্ছা জানানোই এখন আর যথেষ্ট নয়। শিক্ষা এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভূমিকা বাড়ানোর ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রচেষ্টা চালাতে রাজি হয়েছে দেশ সাতটি।

সাতটি দেশের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রীরা লেটিসিয়ায় নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ব্রাজিলের ডানপন্থী রাষ্ট্রপতি জাইর বোলসোনারো ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে সম্মেলনে অংশ নেন। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুতি নেয়ায় সম্মেলনে হাজির হতে পারেননি তিনি।

বেশ কিছু দিন ধরে আগুনে পুড়ছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ আমাজন। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে আমাজনে রেকর্ডসংখ্যক আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এ বছর ৮৫ শতাংশ বেশি আগুন লেগেছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত আমাজনে অন্তত ৮০ হাজার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

ক্যাম্প ডেভিডে তালেবানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন বৈঠক ভন্ডুল

_108658999_t1

সংলাপ ॥ আফগানিস্তানে তালেবানের আক্রমণে একজন মার্কিন সৈন্য নিহত হওয়ার পর সংগঠনটির সাথে শান্তি আলোচনা বাতিল করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহেই মার্কিন আলোচকরা তালেবানের সাথে একটি খসড়া শান্তি চুক্তির ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই তালেবান স্বীকার করে যে, কাবুলে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার যে আক্রমণে একজন মার্কিন সৈন্য সহ ১২ জন নিহত হয় – সেটি তারাই চালিয়েছে।

এর পরই টুইটারে বার্তা দিয়ে মি. ট্রাম্প বলেন, তার সাথে রোববারই ক্যাম্প ডেভিডে তালেবানের শীর্ষ নেতাদের সাথে এক গোপন বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঐ হামলার পর তিনি তা বাতিল করে দিয়েছেন।

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানিও বলেছেন, তালেবানকে অবশ্যই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। গত এক বছর ধরেই মার্কিন আলোচকদের সাথে তালেবানের শান্তি আলোচনা চলছিল। আফগান সরকারকে বাইরে রেখেই তালেবানের সাথে ওই আলোচনা চালাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র – কারণ প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানিকে তালেবান ‘আমেরিকার হাতের পুতুল’ বলে মনে করে। গত সপ্তাহেই একটি খসড়া শান্তি চুক্তির ব্যাপারে দু’পক্ষের আলোচকরা একমতও হয়েছিলেন। মনে করা হচ্ছিল যে দু’পক্ষ চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে। কিন্তু এখন তা আবার অনিশ্চিত হয়ে পড়লো।

গত বৃহস্পতিবার কাবুলে তালেবানের চালানো এক গাড়ি বোমা আক্রমণে একজন মার্কিন সৈন্যসহ ১২ জন নিহত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তি প্রক্রিয়া বাতিল করে দেন।

মি. ট্রাম্প তার টুইট বার্তায় লেখেন, রোববার ক্যাম্প ডেভিডে তার সাথে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ও ঊর্ধ্বতন তালেবান নেতৃবৃন্দের এক গোপন বৈঠক হবার কথা। কিন্তু তালেবান ওই আক্রমণে চালানোর কথা স্বীকার করার পর সাথে সাথে তিনি ওই বৈঠক বাতিল এবং শান্তি আলোচনা বন্ধ করে দিয়েছেন। দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক অফিসের একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে যে মি. ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার জন্য তারা এক জরুরি অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। অবশ্য শান্তি আলোচনা যখন চলছিল তখনও তালেবান আফগান ও বিদেশি সৈন্যদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো বন্ধ করে নি। ঐ শান্তি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ২০ সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে ৫,৪০০ সৈন্য প্রত্যাহার করে নিতো। আফগানিস্তানে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১৪,০০০ সৈন্য রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের টুইটের পর আশরাফ ঘানি বলেছেন, সত্যিকারের শান্তি তখনই সম্ভব যখন তালেবান যুদ্ধ বন্ধ করবে এবং আফগান সরকারের সাথে সরাসরি আলোচনা করতে রাজি হবে। তালেবান-মার্কিন শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক ছিল। কিন্তু অনেকে এ নিয়ে আশাবাদীও হয়েছিলেন। এই প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যাওয়ার খবরে কাবুলের এক মহিলা বিবিসিকে বলেন, “কেন একজন আমেরিকানের মৃত্যুর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিলেন? এত যে আফগানের মৃত্যু হয়েছে তাদের জীবনের কি তাহলে কোন দাম নেই?”