প্রথম পাতা

সত্যানুসন্ধানে – সিয়াম

আরবি সিয়াম অর্থ সংযম, নিয়ন্ত্রণ, দমন, আয়ত্তে আনয়ন, রোধ, প্রতিহতকরণ, বিরত থাকা, পরিত্যাগ করা। অনুষ্ঠানবাদীদের কাছে রমজান মাসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনকর্ম থেকে বিরত থাকাই সিয়াম। পৃথিবীতে এখন ধর্মের নামে এদেরই আধিপত্য চলছে। অনুষ্ঠানবাদীদের কাছে সিয়ামের আর কোন তাৎপর্য নেই। এরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার এবং যৌনকর্ম থেকে বিরত থাকে কিন্তু ইফতারের সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর ও তৈলাক্ত খাদ্য গ্রহণ করে একবেলা না খেয়ে থাকার ঘাটতি পূরণ করে নেয়। রমজান সিয়াম সাধনার মাস হলেও অনুষ্ঠানবাদীরা কার্যত এটিকে ভোজন বিলাসের মহাউৎসবে পরিণত করে। এরা নিজেদের ভোজন বিলাসের পক্ষে একটি সাংঘর্ষিক হাদিস ব্যবহার করে। হাদিসটি এরকম – ‘তিন ব্যক্তির খাবারের কোন হিসেব নেয়া হবে না ইনশাআল্লাহ, যদি তা হালাল ও পবিত্র হয়। তারা হচ্ছেন – রোযাদার, সেহেরীর খাবার গ্রহণকারী এবং আল্লাহর পথের মোজাহিদ’ (বাজ্জার)। এ হাদিসটির ঠিক বিপরীত হাদিসটি হলো, হজরত আয়েশা বলেন, ‘হুজুর (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত হোক.)-এর ইন্তেকালের পর ইসলামে সর্বপ্রথম যে বিদয়াতের প্রচলন হয়েছিল তা হলো উদরপূর্তি করে খাদ্য গ্রহণ।’ (ফাযায়েলে সাদাকাত)। কুরআন এবং রসুল (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত হোক) -এঁর জীবন অনুসন্ধানে ভূঁড়িভোজ কিংবা অপচয়ের কোন স্থান নেই। সুতরাং প্রথমোক্ত হাদিসটিকে ভূঁড়িভোজ ও অপচয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সঠিক নয়। অথচ এ হাদিসটিকে ব্যবহার করে রোযার মাসে সকাল থেকেই ইফতারের আয়োজন চলে। চারিদিকে খাই খাই রব উঠে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে, অলিতে গলিতে, মহল্লায় মহল্লায় ইফতারের হাট বসে। ইফতার পার্টির হিড়িক শুরু হয় রমজানের প্রথম দিন থেকেই। এদের মধ্যে একটা গোষ্ঠী সিয়ামকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক স্বার্থে। রমজান মাসে এদের মূল কাজ ইফতার পার্টির আয়োজন করা। এদের সাথে জোট বেঁধে ইফতার পার্টি দেন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, সমাজপতি, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও সমাজে প্রভাব বিস্তারকারীরাও। এ সব ইফতার পার্টিতে থাকে রকমারী উপাদেয় খাদ্যের আয়োজন – কাবাব, চিকেন টিক্কা, ফালুদা, লাচ্ছি, পুডিং, হালুয়া, পিঁয়াজু, বোম্বাই জিলাপী, আরবের খুরমা, দার্জিলিংয়ের কমলা, আঙুর, আপেল, গোলাপের শরবত, ফানটা, কোকা কোলা, শরবত আরো কত কি! প্রতিদিন শুধু মাত্র ঢাকা শহরের ইফতারীতে ব্যয় হয় কয়েক শ’ টন খেজুর, আপেল, কমলালেবু, নাশপাতি, আনার, মালটা। রমজান উপবাসের মাস। এ মাসে মানুষ খাওয়া দাওয়া করবে কম। তাই সাধারণ হিসাব হচ্ছে এ মাসে খাদ্যদ্রব্যের চাহিদা কমে যাবে এবং ফলশ্রুতিতে দামও কমে যাবে। কিন্তু রমজান মাসে ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটে। সরকারী হিসেবে এ মাসে খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ বেড়ে যায় প্রায় ৩ গুণ। তাই বাজার বেশামাল হয়ে পড়ে, ১ শ’ টাকার মাছ বিক্রয় হয় ৩’শ টাকায়, খাদ্য বাজারে লোকের ভিড়ে পা রাখার জায়গা থাকে না। একদিকে জাঁকঝমকপূর্ণ বিলাসী ইফতার পার্টি নিয়ে দলাদলি হয় আর অন্যদিকে একদল মানুষ সারাদিন রোজা রেখে দিনশেষে এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানিও পায় না। অনাহারে, অর্ধাহারে জর্জরিত মানুষ আগাম বিক্রি করে দেয় ক্ষেতের ধান, গায়ের শ্রম। কিন্তু এজন্য অনুষ্ঠানবাদীরা নিজেদের কোন দায় স্বীকার করতে চান না। এদের বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী প্রচারণায় কুরআনের সিয়াম দর্শন এখন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে চলেছে। সাম্প্রতিককালে রমজান মাসে উপবাসের কিছু উল্টো ফলও বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়। একবেলা পানাহার থেকে বিরত থাকায় সারাদিনই অনুষ্ঠানবাদীদের মেজাজ সপ্তমে উঠে থাকে। তাই এ মাসে ঝগড়া-ফ্যাসাদ বেড়ে যায়। ফলত, আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য রাষ্ট্রকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়। এ মাসে ঘুষ, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিও বেশি হয়। এক কথায় বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে রমজান অসংযমের মাস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।অন্যদিকে অনুষ্ঠানবাদীরা এ মাসে হোটেল-রেঁস্তোরা খোলা থাকলে তা ক্ষতিগ্রস্থ করে। তাদের দৃষ্টিতে রমজান মাসে খাদ্য বিতান খোলা রাখা পাপের কাজ। অথচ রসুল (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত হোক.) রমজান মাসে উপবাসী এবং ভোজদার কারো মনেই কষ্ট দিতেন না। হযরত আনাস – এঁর বর্ণনা থেকে জানা যায়, নবী (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত হোক) – এঁর সাথে উপবাসী ও ভোজদার উভয় শ্রেণীর মানুষ ছিল। কিন্তু উপবাসীগণ ভোজদারদেরকে এবং ভোজদাররা উপবাসীদেরকে কোন দোষারোপ করেনি। স্মর্তব্য, নবী করীম (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত হোক) বলেছেন যে, অনেক রোজাদার এমন আছে যারা তাদের রোজা দ্বারা অনাহারের কষ্ট ও তৃষ্ণা ব্যতীত কিছুই লাভ করে না। রসুল (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত হোক) – এঁর এ বাণীটির ব্যাখ্যা পাওয়া যায় ইমাম গাজ্জালীর লেখায়। তিনি লিখেছেন- ‘প্রায় রোজাদারই প্রকৃত অর্থে রোজা করে না, অন্যদিকে অনেক বে-রোজাদারই প্রকৃত অর্থে রোজা পালন করেন। অনেকে পানাহার করে ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত অর্থে রোজা পালন করেন। তিনি কে? তিনি হচ্ছেন ঐ ব্যক্তি যিনি পাপ থেকে মুক্ত হয়ে যান। আবার ক্ষুধা এবং পিপাসায় কষ্ট করেন অনেকে, অথচ প্রকৃত অর্থে তাদের রোজা হয় না, কারণ পাপে নিমজ্জিত থাকেন তিনি। রোজার অন্তর্নিহিত অর্থ যারা অনুধাবন করতে পেরেছেন তারা জানেন যে, যারা শুধু পানাহার এবং ছহব্বত থেকে নিবৃত্ত হয়ে রোজা রাখে অথচ অন্য পাপ কাজ করে, তারা ঐ ব্যক্তিদের ন্যায়, যারা মল ধৌত না করে প্রস্রাব করে গলা পানিতে নামেন। এ ধরনের মানুষ শুধু বাইরের খোলস নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তারা বুঝেন না যে ক্বলব পরিষ্কার না করে হাত পা সাফের কোন অর্থ হয় না। তাদের অজ্ঞতার ফলে তাদের এবাদত কবুল হয় না। আর যে ব্যক্তি আহার করে রোজা ভাঙ্গেন কিন্তু অন্য কোন পাপ কাজ করেন না, তিনি যেন তাঁর দেহের সব কিছুই সাফ করেন। তাঁর এবাদত আল্লাহ্র ইচ্ছায় কবুল হবে। তিনি যদিও বাইরের খোলস নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন না, কিন্তু তিনি পাপ মুক্ত হয়ে আল্লাহ্র বিধান মেনে চলেছেন।’ সুতরাং বুঝা গেল, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনকর্ম থেকে বিরত থাকাই সিয়াম নয়। সিয়াম শব্দের যে সব বাংলা অনুবাদ পাওয়া যায় তাতেও এটা বুঝা যায় যে, পানাহার এবং যৌনসঙ্গম থেকে বিরত থাকা সিয়াম ধারণের একটা পালনীয় পদ্ধতি কিন্তু সিয়াম নয়। কুরআনের যেসব আয়াতে সিয়ামের উল্লেখ আছে তার তাৎপর্য অন্বেষণে যে সত্য উন্মোচিত হয় তা নিম্নরূপ ঃ ১. ‘হে আমানুগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেয়া হয়েছিল, সম্ভবত (এ দ্বারা) তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারবে।’ (সুরা বাকারা ঃ ১৮৩)।আল্লাহতায়ালা সিয়ামের বিধান দিয়েছেন শুধুমাত্র আমানুদের জন্য। তাই এ আয়াতে সম্বোধন করা হয়েছে ‘ইয়া আইয়্যু হাল্লাযীনা আমানু – হে আমানুগণ!’ তাই প্রথমেই জানা দরকার আমানু কারা। কুরআন মতে জন্মগতভাবে কেউ আমানু হয় না। আমানুর ঔরসে আমানু জন্ম নেবার কোন প্রাকৃতিক ব্যবস্থা নেই। মানুষ তখনই আমানু হয় যখন গুরুর আনুগত্য গ্রহণ করে কুরআনের বিধানকে নিজ জীবনে রূপায়িত করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় এবং গুরুর প্রদর্শিত পথে কর্মে নিয়োজিত হয়। খাজা মুঈনুদ্দিন হাসান চিশতি বলেন – ‘যে ব্যক্তির শায়েখ, মুর্শিদ বা পথ প্রদর্শক নেই তার দ্বীন নেই। যার দ্বীন নেই তার মারেফাতে এলাহি নেই। যার মারেফাতে এলাহি নেই সত্যপথের পথিকদের সাথে তার সম্পর্ক নেই। সত্যপথের পথিকদের সাথে যার সম্পর্ক নেই তার কোন শুভাকাঙ্খী নেই। যার শুভাকাঙ্খী নেই তার কোন বন্ধু বা মুর্শিদ নেই।’ সুতরাং খাজা মুঈনুদ্দিন হাসান চিশতির মতে, যার মুর্শিদ নেই তার সিয়ামও নেই। সিয়ামের বিধান দেয়া হয়েছে আমানুদের জন্য, যে এখনও আমানু হয় নাই অর্থাৎ মুর্শিদ ধরে নাই তার জন্য এ আয়াত প্রযোজ্য নয়।এরপর কুরআন বলছে – ‘কামা কুতিবা আলাল্লাযীনা মিন কাবলিকুম’ – যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেয়া হয়েছিল – এ অংশ থেকে বুঝা যায়, সালাতের মতো সিয়ামও কোন নব বিধান নয় যা কেবল মোহাম্মদ (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত হোক) -এঁর অনুসারীদের জন্য অবশ্য পালনীয়। কুরআনের মাধ্যমে সিয়াম অবশ্য পালনীয় হিসেবে নির্দেশ এসেছে দ্বিতীয় হিজরি সনে কিন্তু এর আগেও সিয়াম ছিল। হযরত আদম (আ) থেকে শুরু করে মোহাম্মদ (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত হোক) পর্যন্ত যত নবী-রসুলগণ আবির্ভূত হয়েছেন প্রত্যেকের অনুসারীদেরকেই সিয়াম ধারণ-পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হিন্দু, খৃষ্টান, ইহুদি, বৌদ্ধ, প্রভৃতি ধর্মীয় সম্প্রদায়েও সিয়াম পালনের রীতি প্রচলিত ছিল, এখনও আছে। ইতিহাস পাঠে জানা যায়, মোহাম্মদ (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত হোক) -এঁর পিতামহ আব্দুল মোত্তালেবও সিয়াম পালন করতেন। সিয়াম পালনকালে আব্দুল মোত্তালেব হেরা গুহায় আরাধনা করতেন বলেও জীবনীগ্রন্থ থেকে জানা যায়। তৎকালে মক্কার হানিফ সম্প্রদায় আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসী ছিল। হানিফগণ ৫৭০ খৃষ্টাব্দের পূর্ব থেকেই রমজান মাসে মদ্যপান, যৌনকর্ম এবং সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সিয়ামব্রত পালন করতেন এবং নির্জনবাসের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির সাধনা করতেন। কুরআনের আয়াত – ‘যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেয়া হয়েছিল’ – এসব ঐতিহাসিক তথ্যের সত্যতাই প্রমাণ করে।আয়াতের পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে – ‘লা আল্ল্লাকুম তাত্তাকুন’, তাত্তাকুন শব্দের যেসব অর্থ পাওয়া যায় তা হলো – সংযম/সাবধান/সতর্ক থাকা, মুত্তাকীর গুণাবলী অর্জন করা, তাকওয়া অর্জন করা। সিয়ামের তাৎপর্য এখানেই। কুরআন যে সিয়াম দর্শন উপস্থাপন করেছে তাতে উপবাসের কোন নিজস্ব মূল্য নাই। উপবাসের জন্য উপবাস নয়, তাকওয়া বা মুত্তাকীর গুণাবলী অর্জনের লক্ষ্যে উপবাস একটা পদ্ধতি মাত্র। সুতরাং, পানাহার ও যৌনসঙ্গম থেকে বিরত থাকা ইবাদত নয়, ইবাদতের বাহ্যিক রূপ বা আনুষ্ঠানিকতা।কোন কোন অনুবাদক ‘তাত্তাকুন’ শব্দের অর্থ করেছেন তাকওয়া। এক শিষ্য রসুল (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত হোক)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘হুজুর তাকওয়া কি?’ তিনি (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত হোক) নিজের বুকের দিকে ইশারা করে বলেছিলেন – ‘তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে। তাকওয়া এমন একটা শব্দ যা অনেকগুলো গুণকে ধারণ করে। সতর্কতা বা সাবধানতাও তাকওয়া। কুরআন একাধিকবার বলেছে ‘নিশ্চয় আল্লাহ সাবধানিদেরকে ভালোবাসেন’ (৩ঃ৭৬, ৯ঃ৭)। মুমিনের জন্য আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া সর্বোচ্চ স্তরের।

Bev`‡Zi gg© Abyave‡bi mgq engvb

msjvc|| wmqvg kãwU Aviex| Avgiv dvimx‡Z GUv‡K †ivRv e‡j _vwK| `ywbqv n‡Z gb‡K weiZ ev evwiZ K‡i ivLvi Avgj ev Kvh©µg‡K ev cÖ‡Póv‡K wmqvg e‡j| wmqvg Aviex kã ÔmIgÕ †_‡K G‡m‡Q| kvwãK A_© wbe„Ë _vKv, AvZ¥mseiY Kiv, mshgx nIqv| whwb wmqv‡g cÖwZwôZ n‡q gb‡K cÖwZwôZ K‡i gb‡K gy³ K‡i‡Qb e¯‘i †eovRvj †f‡½ Zvi BdZvi n‡q †M‡Q| BdZvi kãwU G‡m‡Q dv‡Zi n‡Z| kvwãK A_©: †f‡½ †djv, wQu‡o †djv, wew`Y© Kiv| GUv e¯‘ †gv‡ni †eovRvj fv½v e¨wZZ Avi wKQzB b‡n| wmqvg Øviv gvbyl mshgkxj n‡e| gvbyl‡K cÖe„wËi msh‡g Af¨¯Í Kivi Rb¨ wmqvg mva‡bi cÖeZ©b Kiv n‡q‡Q| gvby‡li cÖe„w˸‡jv Avjøvni AbyMÖn Ges `vb| cÖe„w˸‡jv _vK‡e gvby‡li Ávb we‡e‡Ki ekxf‚Z – wmqvg mva‡bi g~j D‡Ïk¨ GUvB| †gvn Ges cvevi Avkv Avgv‡`i †`n-gb‡K Ggbfv‡e MÖvm K‡i‡Q †h aŸsm n‡q †M‡jI †hb Zv †kl nevi bq| KZ…©‡Z¡i †gvn, ÿgZvi †gvn, †bZ…‡Z¡i †gvn, †fv‡Mi †gvn, Aci‡K wWOv‡bvi †gvn, e¯‘i†gvn, bvixi †gvn BZ¨vw` cÖvq me wKQzi †gvn Øviv gvby‡li cÖe„w˸‡jv ZvwoZ n‡”Q| Gme †gv‡ni †eovRvj fvs‡ZB wmqvg mvabv| GUv K‡Vvi GKUv Abykxj‡bi e¨vcvi| †gvnRvj gvbyl m„wói m~Pbv‡ZI wQj| nvwej Kvwej `yÕfvB GKRb bvixi Rb¨ bvwK Ab¨ fvB‡K nZ¨v K‡iwQj| bvixi †gvn me©Kv‡j me©Î GK welgq Aa¨vq|

A‰ea, hv Ki‡j cvc n‡e, wb‡R ev Ab¨‡K ÿwZMÖ¯Í Kiv n‡e Zv †_‡K wKfv‡e weiZ _vKv hvq †m cÖ‡Póvi bvg wmqvg| Avgvi ÿgZv I †hvM¨Zv Abyhvqx hv cvIbv Zv Avwg cv‡ev Ges †fvM Ki‡ev| wKš‘ A‡b¨i wKQz‡Z Avgvi AwaKvi †Rvic~e©K Pvcv‡Z hv‡ev bv| G ai‡bi msh‡gi AvPiY †Kej Avgv‡`i †ejv‡ZB bq c~‡e© hviv MZ n‡q‡Q Zv‡`i †ejv‡ZI cÖ‡hvR¨hv KziAv‡b DwjøwLZ Av‡Q| Ab¨vq K‡i cvi cvIqv hv‡e A_P Zv Kijvg bv – GUv mshg| KviY, Avwg ¯ªóvi m„wó| Avwg ZvKIqv AR©b Ki‡Z PvB| GB ZvKIqv n‡”Q msh‡gi g~j K_v| ÿgZv Av‡Q wKš‘ Zv cÖ`k©b Kijvg bv – GUv mshg| c‡ii ab Abvqv‡m nRg Kivi my‡hvM G‡jv wKš‘ Zv Kijvg bv – GUv mshg| A‰ea †fv‡Mi (‡`n I e¯‘) Acvi my‡hvM G‡jv A_P Zv Kijvg bv – GUv mshg|

mshgx †Kb n‡ev? `y‡Uv Kvi‡Y Aek¨B mshgx n‡Z n‡e| GK, ¯ªóvi wewae× wbqg †g‡b Zv‡K Lywk Kiv, `yB, wb‡Ri g‡a¨Kvi cÖe„wˇK ekxf‚Z K‡i mnR-mij kvwšÍgq Rxeb hvcb Kiv| cÖwZ c‡` kqZv‡bi †jvfbxq Bkviv gvbyl‡K †mB m~PbvjMœ †_‡KB wec_Mvgx K‡i †i‡L‡Q Ges AvRI gvbyl bvbv ai‡bi †gv‡ni Ave„‡Ë NyicvK Lv‡”Q| gnvbex e‡j‡Qb, ÔAvgvi wbKU †mB e¨w³B DËg whwb ZvovZvwo BdZvi K‡ib|Õ GUv wK ai‡bi K_v? ZvovZvwo BdZvi Ki‡j ¯’zjfv‡e mg‡qi c~‡e©B Zv Ki‡Z nq| G e³e¨ Øviv wK g‡b Ki‡ev? `ycy‡ii w`‡KB BdZvi Ki‡ev ev weKv‡j? K_v¸‡jv kv‡¯¿ Av‡Q – cÎ-cwÎKvq †jLv nq, †iwWI †Uwj‡fk‡b †kvbv‡bv nq| `ywbqvi evwn¨K wbqgvbyhvqx hw` Avgiv wba©vwiZ mg‡qi c~‡e©B BdZvi (A_©vr Lvevi MÖnY) Ki‡Z cvwi Z‡e †mUvB c~‡Y¨i KvR? Avm‡j bv †L‡q _vKvi bvg wmqvg bq| AvZ¥v‡K kvwiixKfv‡e Kó †`qvi bvg wmqvg bq| Zvn‡j wmqvg wK? wmqv‡gi mv‡_ BdZv‡ii m¤úK© wK? 1450 ermi a‡i hv P‡j Avm‡Q Zv †h KZ eo cvnvo †mUv KziAvb bv eyS‡j ejv hv‡e bv| KziAvb †evSvi Rb¨ †h Aviex fvlvq cwÐZ n‡Z n‡e Ggb †Kvb K_v †bB|

nhiZ gynv¤§` (hvui K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) wbiÿi wQ‡jb| wKš‘ Zuvi gva¨‡g hv KziAvb AvKv‡i †ei nj Zv 1450 ermi c‡ii gnvweÁvbx‡`i gv_vI Nv‡g wf‡R hv‡”Q| eySv‡Zv `~‡ii K_v| e¨vKi‡Yi RvnvR ev fvlvq cwЇZi gb GK welq Avi Ava¨vwZ¥K wkÿvq mij gvby‡li gb Ab¨ welq| jvjb dwKi wK e‡j †M‡jb Zvi my‡i myi wgjvB| fv‡ei fvb awi, Mv‡bi †k‡l ï‡q cwo| `ywbqvi †Kvb Kv‡R hv‡Z Avgiv †ewk gvÎvq Wz‡e bv hvB †m wkÿvB wmqvg w`‡q _v‡K| mvjvZ, hvKvZ Ges wmqvg me hy‡MB wQj| KviY, me hy‡MB GKwU ag© wQj, GKRb ¯ªóv Av‡Qb, GKwU wKZve †_‡KB wewa-weavb ev ag© cvwiPvwjZ n‡Zv Ges n‡”Q Avi n‡eI| cÂBw›`ªq A_©vr nvZ, gyL, †PvL, bvK I Kvb BZ¨vw` Øviv Avgiv †h mKj KvR Kivi ÿgZv †c‡qwQ Zvi †hb Ace¨envi bv nq †mUv wmqvg wkÿv †`q| GUv GKwU †Uªwbs mgq| h_vh_fv‡e whwb wmqvg cvjb K‡ib Zvi Rb¨ ag© cvjb LyB mnRZi nq| nvZ w`‡q Avgiv wK Kwi? Ny‡li A_© †bB, Ab_©K KvD‡K gvwi, Pzwi Kwi, c‡KU KvwU, c‡ii †ÿ‡Zi AvBj KvwU, KvD‡K nZ¨v Kwi, A‰eafv‡e ¯úk© Kwi BZ¨vw`| GB nvZ `yÕwU ¯ªóvi m„wó| GUv Øviv hv‡Z A‡b¨i ÿwZ bv nq, A‡b¨ hv‡Z Kó bv cvq, A‡b¨i AwaKv‡i hv‡Z nvZ bv †`q †mRb¨ msh‡gi wkÿv| GKwU mshgx nvZ ¯ªóvi wbKU KZ bv wcÖq| †PvL w`‡q Avjøvn Avgv‡`i †h KZ eo `qv K‡i‡Qb Zv ej‡j †kl n‡e bv| †PvL w`‡q Avgiv Lvivc wKQz hv‡Z bv †`wL, †PvL Øviv hv‡Z Avgv‡`i g‡bi g‡a¨ †Kvb Lvivc Qwe cÖ‡ek bv K‡i, †PvL †hb A‰ea‡K bv †`‡L, †Pv‡L †`Lv wel‡q †hb Avgiv †jvfx n‡q bv cwo GUvB wmqvg wkÿv †`q| wRnŸv ev gyL w`‡q Avgiv Lvevi LvB, K_v ewj, g‡bi fve cÖKvk Kwi, Lv`¨ Pe©b Kwi, KvD‡K fv‡jv K_v ivwL bv, MvjvMvwi Kwi, agK †`B BZ¨vw`| G gyL †hb me mgq ¯ªóvi K_v e‡j, ¯ªóvi ¸YMv‡b we‡fvi _v‡K, fv‡jv K_v ej‡Z Drmvn †`q, fv‡jv K_v e‡j DËg Pwi‡Îi nq, gy‡Li K_vq hv‡Z mevi gb Zzó nq, gy‡Li Øviv †hb weK…Z fve bv Av‡m BZ¨vw`| wbw`©ó K‡qKUv w`‡bi †Uªwbs GUv| mKj cÖKvi †fvM, Lvivc KvR K_v e¨envi BZ¨vw` †_‡K hw` wKQzw`b `y‡i _vKv hvq Z‡e ‡mUv g~jZ Af¨v‡m cwiYZ n‡q hvq| Avi G Af¨v‡m cieZ©x mgq¸‡jv‡Z Avgv‡`i cÂBw›`ªq GZB ¯ªóvgyLx nq †h ZLb `ywbqvi †Kvb ev¯Íe †gvn Avgv‡`i Avi a‡i ivL‡Z cv‡i bv| GUv GKUv mvabvI ejv †h‡Z cv‡i| GB mvabvq hviv hZ `ªæZ mdjKvg Zviv ZZ ZvovZvwo BdZvi K‡i| BdZvi ej‡Z ZvovZvwo †fvRb bq – ZvovZvwo e¯‘ †gv‡ni †eovRvj †f‡½ †djv| Avi G Rb¨B ivmyj (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) e‡j‡Qb, ÔAvgvi wbKU IB e¨w³B wcÖq †h ZvovZvwo BdZvi K‡i| Avgiv evwn¨K ev Rv‡nwi w`KUv wb‡q GZ †ewk e¨wZe¨¯Í †h Af¨šÍixY w`KUv †LjvB Kwi bv| Avgiv Wv‡ei Dc‡ii A_©vr †LvjUv wb‡qB e¨¯Í †fZ‡ii wgwó cvwbi LeiB ivwL bv| wÎk w`b mKvj †_‡K mܨv ch©šÍ bv †L‡q _vKjvg| G‡Z wK n‡jv? KZ gvbylB †Zv Av‡Q mvivw`‡b GK‡ejvI †L‡Z cvq bv| Zviv wK Ki‡Q?Zviv wK mshg cvjb Ki‡Q? Avgiv A‡b‡K Avevi G‡Zv †ewk wb‡q †L‡Z ewm †h, GKR‡bi Dw”Qó nq‡Zv cuvPR‡bi D`i c~wZ©i Dcv`vb n‡Z cv‡i| Nyl Lvevi my‡hvM †cjvg – †Ljvg bv| GUv mshg| Ab¨vq Kivi  my‡hvM †cjvg – Kijvg bv| GUv mshg| †Kvb e¯‘i cÖwZ †jvf cwinvi Kijvg – GUv mshg| AvbZ bqbv De©kx †fv‡Mi wbie my‡hvM †cjvg – Kijvg bv | GUv mshg| c‡ii weË niY Kivi my‡hvM †cjvg – Kv‡R jvMvjvg bv| GUv mshg| GKUv wg_¨v e‡j mvgwqK jvf Ki‡ev – Kijvg bv| GUv mshg| ÿgZvi `vcU †`Lv‡bvi cwi‡ek G‡jv – `vcU †`Lvjvg bv| GUv mshg| Gfv‡e `ywbqvi mKj A‰ea KvR¸‡jv hv Avgv‡`i lowicy‡K weneŸj K‡i †Zv‡j Zv †_‡K weiZ _vKvi Rb¨ wbw`©ó K‡qKwU w`b Avgiv †h †Uªwbs wb‡q _vwK Zv mshg| †Uªwbs †kl nevi ci ev¯Íe Rxe‡bi cÖwZwU c‡` Zv hv‡Z ev¯ÍevwqZ nq Ges Zvi Øviv m„ó KvR hv‡Z ¯ªóv‡K Lywk Ki‡Z cv‡i Ges wb‡R‡`i Rxe‡bi Kj¨vY e‡q Avb‡Z cv‡i †m e¨e¯’v Kiv| msh‡gi †Uªwbs wbjvg, wbw`©ó K‡qKUv w`b cvi n‡q †Mj – Avevi `ywbqvgywL n‡q hv wQjvg ZvB hw` n‡q hvB Z‡e Avgiv wb‡RivB ÿwZMÖ¯Í n‡ev| Avgv‡`i AvZ¥vi ÿwZ n‡e| Avgv‡`i K‡g©i ÿwZ n‡e|

‡jLv Av‡Q †Zvgv‡`i g‡a¨ hviv G gvmwU cv‡e| G K_vi A_©, ÔAvgv‡`i g‡a¨ nq‡Zv †KD cv‡e A_ev †KD cv‡e bv|Õ †mvRv K_v Kv‡iv `iKvi, Kv‡iv nq‡Zv `iKvi n‡e bv| hvi `iKvi n‡e †m †hb mshg †Uªwbs wb‡q †bq Ges hZ `ªæZ m¤¢e †Uªwbs †kl K‡i A_©vr BdZvi K‡i| G e¨e¯’v Kiv n‡q‡Q ZvKIqv AR©b Kivi Rb¨| KviY Avjøvn †gvËvwK‡`i‡K fv‡jvev‡mb Avi †gvËvwK‡`i‡K †n`v‡qZ Kivi Rb¨ cweÎ evYx KziAvb gvwR‡`i AeZviY| GKevi †Uªwbs wb‡q whwb mviv Rxeb Zvi Dci w¯’i n‡q‡Qb ev K‡i‡Qb Zvi wK Avevi †Uªwbs †bevi `iKvi nq? Avgv‡`i gymwjg mgv‡R cÖwZ eQiB Avgiv NUv K‡i bvix-cyiæl wbwe©‡k‡l mK‡j G †Uªwbs Gi gnov †`B| †fvi iv‡Z LvB mviv w`b bv †L‡q mܨvq ivwk ivwk ˆewPÎgq Dcv‡`q Lvevi †L‡q DwV AvR GKUv †ivRv Kijvg| whwb wÎk w`b bv †L‡q †_‡K‡Qb Zvi dzUvwb †`‡L †K? Avm‡j hv Kivi wQj, ejvi wQj, Rvbvi wQj Zv n‡q‡Q wK? hv Kivi wQj, ejvi wQj, Rvbvi wQj, Zv Kiv, ejv ev Rvbv n‡jv bv| d‡j ¯ªóvi evYx cÖwZeviB gvby‡li nv‡Z Gfv‡eB Dcnv‡mi cvÎ nq Avi Avgiv Z…wßi †XKzi Zzwj| Ávb, we‡eK, eyw× LvwU‡q KvR Kivi K_v KziAv‡b ejv _vK‡jI Avgiv Zv Kwi bv| KZ LZg KziAvb cvV Kijvg Zv wb‡q e¨¯Í _vwK| wK cvV Kijvg, wK Av‡`k G‡jv, Kv‡Ri mv‡_ K_vi wgj Av‡Q wKbv, ¯ªóvi wb‡`©k  wVKg‡Zv cvjb n‡jv wK bv, AvZ¥ïw× n‡jv wKbv, `ywbqvi †gvn †_‡K AvZ¥v‡K miv‡Z cvijvg wK bv Zv †`wL bv| Avgiv evwn¨K Dcevmx, AvPvi-Abyôv‡b gË n‡q hvB| GKUv gvm AwZ K‡ó wVK _vKvi †Póv Kwi wKš‘ cieZ©x GMvi gvm †Kb, mshg cvjb †k‡lB Zv fz‡j hvB|  hv wQjvg ZvB _vwK| gvSLvb †_‡K `ªe¨g~j¨ †e‡o hvq| fzLv, bv½v, Mixe, Amnvq, dwKi, Kzwj, gRyi G‡`i Kó ev‡o| `ªe¨g~j¨ jvd w`‡q Mix‡ei bvMv‡ji G‡Zv evB‡i P‡j hvq †h, Zv‡`i‡K eva¨ n‡q Afz³, Abvnvix, Avav‡cUv †L‡q euvP‡Z nq| Gmgq Avgiv evwn¨Kfv‡e BdZvwi‡Z hZ A_© e¨q Kwi Zv GKw`‡bi wZb †ejv Lvev‡ii mgvb g~j¨ n‡q hvq| †fvi iv‡Z Av‡iv DËg Lvevi LvB – AvRvb nevi AvM ch©šÍ hZ cvwi †c‡Ui g‡a¨ †V‡m †`B| mshg wK GUv? wmqvg wK GUv? `ywbqvi †Kvb wKQzB hv‡Z Avgv‡`i †jv‡f ev †gv‡n †dj‡Z bv cv‡i Zvi Rb¨ †Uªwbs wb‡Z wM‡q `ywbqvi KwVb Rv‡j AvU‡K c‡o nveyWzey LvB| mshg mvabvi me D‡Ïk¨ cÛ n‡q hvq – mevB ÿwZMÖ¯Í nB| GUv wK ¯ªóvi mv‡_ GK ai‡bi wbgg© iwmKZv bq? GUv wK ¯ªóv‡K Acgvb Kiv bq? †ivRv bv‡g hv Pvjy Av‡Q Zvi we‡ivwaZv KiwQ bv ev GI ejwQ bv †h †ivRv K‡ivbv| hv ejwQ Zv n‡”Q Avjøvn wVK hv †P‡q‡Qb Zv Avgiv KiwQ wK bv| hw` bv K‡i _vwK Z‡e e„_vB GB Dcevm – e„_vB GB K‡ói gniv|

mZ¨vbymÜv‡b – wmqvg

Aviwe wmqvg A_© mshg, wbqš¿Y, `gb, Avq‡Ë Avbqb, †iva, cÖwZnZKiY, weiZ _vKv, cwiZ¨vM Kiv| Abyôvbev`x‡`i Kv‡Q igRvb gv‡m m~‡h©v`q †_‡K m~h©v¯Í ch©šÍ cvbvnvi I †hŠbKg© †_‡K weiZ _vKvB wmqvg| c„w_ex‡Z GLb a‡g©i bv‡g G‡`iB AvwacZ¨ Pj‡Q| Abyôvbev`x‡`i Kv‡Q wmqv‡gi Avi †Kvb Zvrch© †bB| Giv m~‡h©v`q †_‡K m~h©v¯Í ch©šÍ cvbvnvi Ges ‡hŠbKg© †_‡K weiZ _v‡K wKš‘ BdZv‡ii mgq cÖ‡qvR‡bi ‡P‡q †ewk cywóKi I ˆZjv³ Lv`¨ MÖnY K‡i GK‡ejv bv †L‡q _vKvi NvUwZ c~iY K‡i †bq| igRvb wmqvg mvabvi gvm n‡jI Abyôvbev`xiv Kvh©Z GwU‡K †fvRb wejv‡mi gnvDrm‡e cwiYZ K‡i| Giv wb‡R‡`i †fvRb wejv‡mi c‡¶ GKwU mvsNwl©K nvw`m e¨envi K‡i| nvw`mwU GiKg Ñ ÔwZb e¨w³i Lvev‡ii †Kvb wn‡me †bqv n‡e bv BbkvAvjøvn, hw` Zv nvjvj I cweÎ nq| Zviv n‡”Qb Ñ †ivhv`vi, †m‡nixi Lvevi MÖnYKvix Ges Avjøvni c‡_i †gvRvwn`Õ (ev¾vi)| G nvw`mwUi wVK wecixZ nvw`mwU n‡jv, nRiZ Av‡qkv e‡jb, ÔûRyi (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK.)-Gi B‡šÍKv‡ji ci Bmjv‡g me©cÖ_g †h we`qv‡Zi cÖPjb n‡qwQj Zv n‡jv D`ic~wZ© K‡i Lv`¨ MÖnY|Õ (dvhv‡q‡j mv`vKvZ)|

KziAvb Ges imyj (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) ÑGui Rxeb AbymÜv‡b f~uwo‡fvR wKsev AcP‡qi †Kvb ¯’vb †bB| myZivs cÖ_‡gv³ nvw`mwU‡K f~uwo‡fvR I AcP‡qi nvwZqvi wn‡m‡e e¨envi Kiv mwVK bq| A_P G nvw`mwU‡K e¨envi K‡i ‡ivhvi gv‡m mKvj †_‡KB BdZv‡ii Av‡qvRb P‡j| Pvwiw`‡K LvB LvB ie D‡V, iv¯Ívi †gv‡o †gv‡o, Awj‡Z Mwj‡Z, gnjøvq gnjøvq BdZv‡ii nvU e‡m| BdZvi cvwU©i wnwoK ïiæ nq igRv‡bi cÖ_g w`b †_‡KB| G‡`i g‡a¨ GKUv †Mvôx wmqvg‡K e¨envi K‡i ivR‰bwZK ¯^v‡_©| igRvb gv‡m G‡`i g~j KvR BdZvi cvwU©i Av‡qvRb Kiv| G‡`i mv‡_  †RvU †eu‡a BdZvi cvwU© †`b cÖavbgš¿x, ivóªcwZ, mgvRcwZ, ivRbxwZK, e¨emvqx I mgv‡R cÖfve we¯ÍviKvixivI|  G me BdZvi cvwU©‡Z _v‡K iKgvix Dcv‡`q Lv‡`¨i Av‡qvRb Ñ Kveve, wP‡Kb wU°v, dvjy`v, jvw”Q, cywWs, nvjyqv, wcuqvRy, †ev¤^vB wRjvcx, Avi‡ei Lyigv, `vwR©wjs‡qi Kgjv, AvOyi, Av‡cj, †Mvjv‡ci kieZ, dvbUv, †KvKv ‡Kvjv, kieZ Av‡iv KZ wK! cÖwZw`b ïay gvÎ XvKv kn‡ii BdZvix‡Z e¨q nq K‡qK kÕ Ub †LRyi, Av‡cj, Kgjv‡jey, bvkcvwZ, Avbvi, gvjUv|

igRvb Dcev‡mi gvm| G gv‡m gvbyl LvIqv `vIqv Ki‡e Kg| ZvB mvaviY wnmve n‡”Q G gv‡m Lv`¨`ª‡e¨i Pvwn`v K‡g hv‡e Ges djkÖywZ‡Z `vgI K‡g hv‡e| wKš‘ igRvb gv‡m wVK D‡ëv NUbv N‡U| miKvix wn‡m‡e G gv‡m Lv`¨ MÖn‡Yi cwigvY ‡e‡o hvq cÖvq 3 ¸Y| ZvB evRvi †ekvgvj n‡q c‡o, 1 kÕ UvKvi gvQ weµq nq 3Õk UvKvq, Lv`¨ evRv‡i †jv‡Ki wf‡o cv ivLvi RvqMv _v‡K bv|

GKw`‡K RuvKSgKc~Y© wejvmx BdZvi cvwU© wb‡q `jv`wj nq Avi Ab¨w`‡K GK`j gvbyl mvivw`b †ivRv †i‡L w`b‡k‡l GK Møvm weï× cvwbI cvq bv| Abvnv‡i, Aa©vnv‡i RR©wiZ gvbyl AvMvg wewµ K‡i †`q †¶‡Zi avb, Mv‡qi kªg| wKš‘ GRb¨ Abyôvbev`xiv wb‡R‡`i ‡Kvb `vq ¯^xKvi Ki‡Z Pvb bv| G‡`i weåvwšÍ m„wóKvix cÖPviYvq KziAv‡bi wmqvg `k©b GLb e¨_©Zvq ch©ewmZ n‡Z P‡j‡Q| mv¤cÖwZKKv‡j igRvb gv‡m Dcev‡mi wKQy D‡ëv djI we‡klfv‡e cwijw¶Z nq| GK‡ejv cvbvnvi ‡_‡K weiZ _vKvq mvivw`bB Abyôvbev`x‡`i †gRvR m߇g D‡V _v‡K| ZvB G gv‡m SMov-d¨vmv` †e‡o hvq| djZ, AvBb k„•Ljv i¶vi Rb¨ ivóª‡K we‡kl e¨e¯’v wb‡Z nq| G gv‡m Nyl, Pzwi, wQbZvB, WvKvwZI †ewk nq| GK K_vq evsjv‡`‡ki eZ©gvb †cÖ¶vc‡U igRvb Amsh‡gi gvm wn‡m‡e cÖwZwôZ|

Ab¨w`‡K Abyôvbev`xiv G gv‡m †nv‡Ujцiu‡¯Íviv †Lvjv _vK‡j Zv ¶wZMÖ¯’ K‡i| Zv‡`i `„wó‡Z igRvb gv‡m Lv`¨ weZvb †Lvjv ivLv cv‡ci KvR| A_P imyj (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK.) igRvb gv‡m Dcevmx  Ges †fvR`vi Kv‡iv g‡bB Kó w`‡Zb bv| nhiZ Avbvm ÑGui eY©bv †_‡K Rvbv hvq, bex (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) ÑGui mv‡_ Dcevmx I †fvR`vi Dfq †kªYxi gvbyl wQj| wKš‘ DcevmxMY †fvR`vi‡`i‡K Ges †fvR`viiv Dcevmx‡`i‡K †Kvb †`vlv‡ivc K‡iwb|

¯§Z©e¨, bex Kixg (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) e‡j‡Qb †h, A‡bK †ivRv`vi Ggb Av‡Q hviv Zv‡`i †ivRv Øviv Abvnv‡ii Kó I Z…òv e¨ZxZ wKQyB jvf K‡i bv| imyj (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) ÑGui G evYxwUi e¨vL¨v cvIqv hvq Bgvg Mv¾vjxi †jLvq| wZwb wj‡L‡Qb Ñ ÔcÖvq †ivRv`viB cÖK…Z A‡_© †ivRv K‡i bv, Ab¨w`‡K A‡bK ‡e-‡ivRv`viB cÖK…Z A‡_© ‡ivRv cvjb K‡ib| A‡b‡K cvbvnvi K‡i wVKB, wKš‘ cÖK…Z A‡_© †ivRv cvjb K‡ib| wZwb †K? wZwb n‡”Qb H e¨w³ whwb cvc ‡_‡K gy³ n‡q hvb| Avevi ¶zav Ges wccvmvq Kó K‡ib A‡b‡K, A_P cÖK…Z A‡_© Zv‡`i †ivRv nq bv, KviY cv‡c wbgw¾Z _v‡Kb wZwb| †ivRvi AšÍwb©wnZ A_© hviv Abyaveb Ki‡Z ‡c‡i‡Qb Zviv  Rv‡bb †h, hviv ïay cvbvnvi Ges QneŸZ †_‡K wbe„Ë n‡q †ivRv iv‡L A_P Ab¨ cvc KvR K‡i, Zviv H e¨w³‡`i b¨vq, hviv gj †aŠZ bv K‡i cÖmªve K‡i Mjv cvwb‡Z bv‡gb| G ai‡bi gvbyl ïay evB‡ii ‡Lvjm wb‡qB e¨¯Í  _v‡K| Zviv ey‡Sb bv †h K¡je cwi®‹vi bv K‡i nvZ cv mv‡di †Kvb A_© nq bv| Zv‡`i AÁZvi d‡j Zv‡`i Gev`Z Keyj nq bv| Avi †h e¨w³ Avnvi K‡i †ivRv fv‡½b wKš‘ Ab¨ †Kvb cvc KvR K‡ib bv, wZwb †hb Zuvi †`‡ni me wKQyB mvd K‡ib| Zuvi Gev`Z Avjøvn&i B”Qvq Keyj n‡e| wZwb hw`I evB‡ii ‡Lvjm wb‡q e¨¯Í wQ‡jb bv, wKš‘ wZwb cvc gy³ n‡q Avjøvn&i weavb †g‡b P‡j‡Qb|Õ myZivs eySv †Mj, m~‡h©v`q †_‡K m~h©v¯Í ch©šÍ cvbvnvi I †hŠbKg© †_‡K weiZ _vKvB wmqvg bq| wmqvg k‡ãi †h me evsjv Abyev` cvIqv hvq Zv‡ZI GUv eySv hvq †h, cvbvnvi Ges †hŠbm½g ‡_‡K weiZ _vKv wmqvg avi‡Yi GKUv cvjbxq c×wZ wKš‘ wmqvg bq|

KziAv‡bi †hme Avqv‡Z wmqv‡gi D‡jøL Av‡Q Zvi Zvrch© A‡š¦l‡Y †h mZ¨ D‡b¥vwPZ nq Zv wbgœiƒc t

1. Ô†n AvgvbyMY! †Zvgv‡`i Rb¨ wmqv‡gi weavb †`qv n‡jv, †hgb weavb †Zvgv‡`i c~e©eZx©MY‡K †`qv n‡qwQj, m¤¢eZ (G Øviv) †Zvgiv ZvKIqv AR©b Ki‡Z cvi‡e|Õ (myiv evKviv t 183)|

AvjøvnZvqvjv wmqv‡gi weavb w`‡q‡Qb ïaygvÎ Avgvby‡`i Rb¨| ZvB G Avqv‡Z m‡¤^vab Kiv n‡q‡Q ÔBqv AvBqy¨ nvjøvhxbv Avgvby Ñ †n AvgvbyMY!Õ ZvB cÖ_‡gB Rvbv `iKvi Avgvby Kviv| KziAvb g‡Z Rb¥MZfv‡e ‡KD Avgvby nq bv| Avgvbyi Ji‡m Avgvby Rb¥ †bevi †Kvb cÖvK…wZK e¨e¯’v †bB| gvbyl ZLbB Avgvby nq hLb ¸iæi AvbyMZ¨ MÖnY K‡i KziAv‡bi weavb‡K wbR Rxe‡b iƒcvwqZ Kivi Rb¨ cÖwZÁve× nq Ges ¸iæi cÖ`wk©Z c‡_ K‡g© wb‡qvwRZ nq| LvRv gyCbywÏb nvmvb wPkwZ e‡jb Ñ Ô‡h e¨w³i kv‡qL, gywk©` ev c_ cÖ`k©K †bB Zvi Øxb †bB| hvi Øxb †bB Zvi gv‡idv‡Z Gjvwn †bB| hvi gv‡idv‡Z Gjvwn †bB mZ¨c‡_i cw_K‡`i mv‡_ Zvi m¤úK© †bB| mZ¨c‡_i cw_K‡`i mv‡_ hvi m¤úK© †bB Zvi †Kvb ïfvKv•Lx †bB| hvi ïfvKv•Lx †bB Zvi †Kvb eÜz ev gywk©` †bB|Õ myZivs LvRv gyCbywÏb nvmvb wPkwZi g‡Z, hvi gywk©` †bB Zvi wmqvgI †bB| wmqv‡gi weavb †`qv n‡q‡Q Avgvby‡`i Rb¨, †h GLbI Avgvby nq bvB A_©vr gywk©` a‡i bvB Zvi Rb¨ G AvqvZ cÖ‡hvR¨ bq|

Gici KziAvb ej‡Q Ñ ÔKvgv KzwZev Avjvjøvhxbv wgb KvewjKzgÕ Ñ †hgb weavb †Zvgv‡`i c~e©eZx©MY‡K †`qv n‡qwQj Ñ G Ask †_‡K eySv hvq, mvjv‡Zi g‡Zv wmqvgI †Kvb be weavb bq hv †Kej †gvnv¤§` (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) ÑGui Abymvix‡`i Rb¨ Aek¨ cvjbxq| KziAv‡bi gva¨‡g wmqvg Aek¨ cvjbxq wn‡m‡e wb‡`©k G‡m‡Q wØZxq wnRwi m‡b  wKš‘ Gi Av‡MI wmqvg wQj| nhiZ Av`g (Av) †_‡K ïiæ K‡i ‡gvnv¤§` (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) ch©šÍ hZ bex-imyjMY Avwef~©Z n‡q‡Qb cÖ‡Z¨‡Ki Abymvix‡`i‡KB wmqvg aviY-cvj‡bi wb‡`©k †`qv n‡q‡Q| wn›`y, L„óvb, Bûw`, †eŠ×, cÖf„wZ agx©q m¤cÖ`v‡qI wmqvg cvj‡bi ixwZ cÖPwjZ wQj, GLbI Av‡Q| BwZnvm cv‡V Rvbv hvq, †gvnv¤§` (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) ÑGui wcZvgn Avãyj †gvËv‡jeI wmqvg cvjb Ki‡Zb| wmqvg cvjbKv‡j Avãyj †gvËv‡je †niv ¸nvq Avivabv Ki‡Zb e‡jI RxebxMÖš’ †_‡K Rvbv hvq| ZrKv‡j g°vi nvwbd m¤cÖ`vq Avjøvni GK‡Z¡ wek¦vmx wQj| nvwbdMY 570 L„óv‡ãi c~e© †_‡KB igRvb gv‡m g`¨cvb, †hŠbKg© Ges m~‡h©v`q †_‡K m~h©v¯Í ch©šÍ wmqvgeªZ cvjb Ki‡Zb Ges wbR©bev‡mi gva¨‡g AvZ¥ïw×i mvabv Ki‡Zb| KziAv‡bi AvqvZ Ñ Ô†hgb weavb †Zvgv‡`i c~e©eZx©MY‡K †`qv n‡qwQjÕ Ñ Gme HwZnvwmK Z‡_¨i mZ¨ZvB cÖgvY K‡i|

Avqv‡Zi cieZx© As‡k ejv n‡q‡Q Ñ Ôjv Avj&jøvKzg ZvËvKybÕ, ZvËvKzb k‡ãi †hme A_© cvIqv hvq Zv n‡jv Ñ mshg/mveavb/mZK© _vKv, gyËvKxi ¸Yvejx AR©b Kiv, ZvKIqv AR©b Kiv| wmqv‡gi Zvrch© GLv‡bB| KziAvb †h wmqvg `k©b Dc¯’vcb K‡i‡Q Zv‡Z Dcev‡mi †Kvb wbR¯^ g~j¨ bvB| Dcev‡mi Rb¨ Dcevm bq, ZvKIqv ev gyËvKxi ¸Yvejx AR©‡bi j‡¶¨ Dcevm GKUv c×wZ gvÎ| myZivs, cvbvnvi I †hŠbm½g †_‡K weiZ _vKv Bev`Z bq, Bev`‡Zi evwn¨K iƒc ev AvbyôvwbKZv|

‡Kvb †Kvb Abyev`K ÔZvËvKzbÕ k‡ãi A_© K‡i‡Qb ZvKIqv| GK wkl¨ imyj (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK)-†K wR‡Ám K‡iwQ‡jb, ÔûRyi ZvKIqv wK?Õ wZwb (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) wb‡Ri ey‡Ki w`‡K Bkviv K‡i e‡jwQ‡jb Ñ ÔZvKIqv GLv‡b, ZvKIqv GLv‡b, ZvKIqv GLv‡b| ZvKIqv Ggb GKUv kã hv A‡bK¸‡jv ¸Y‡K aviY K‡i| mZK©Zv ev mveavbZvI ZvKIqv| KziAvb GKvwaKevi e‡j‡Q Ôwbðq Avjøvn mveavwb‡`i‡K fv‡jvev‡mbÕ (3t76, 9t7)| gywg‡bi Rb¨ Avjøvni fv‡jvevmv cvIqv m‡e©v”P ¯Í‡ii|

mvabvi `k©‡b t wmqvg

Ô†n wek¦vmx nIqvi c‡_i hvÎxMY, †Zvgv‡`i Dci wmqvg wewae× Kiv n‡jv, †hgbfv‡e wewae× Kiv n‡qwQj †Zvgv‡`i c~e©eZ©xM‡Yi Dci, †hb †Zvgiv ÔZvKIqvÕ Aej¤^b Ki‡Z cviÕ| (evKviv-2/183)

msjvc \ wmqvg mvabvq Dc‡iv³ Avqv‡Z ¯úófv‡e we‡kl ¸iæZ¡ †`qv n‡q‡Q, wbtm‡›`‡n| AZGe, Av`k© ü`qB ¸iæZ¡ †`qvi Rb¨ Dchy³ ¯’vb| hvi gva¨‡g gvbe‡`n Kvh©Ki f‚wgKv iv‡L| †hgb – ejv, ‡kvbv, cov, †`Lv A_v©r eySevi ¶gZv| GB ¶gZvB gvbyl‡K gnvgvby‡l iƒcvšÍi K‡i| gnvgvby‡li e¨w³Z¡B mKj wKZv‡ei aviK| gnvbex nhiZ gynv¤§` (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK)) wbKU Inx bvwR‡ji ci ZrKvwjb nvwdR‡`i wbKU Inx wQj kÖæZwbf©i I gyL¯Í K‡i aviY Ki‡Zb, Zv‡`iB AšÍ‡i ev ü`‡q| Kv‡RB gvbemËv e¨wZZ Inx aviY ev gyL¯Í Kivi gZ Ab¨ Kv‡iv ¶gZv †bB| nvwdR‡`i AšÍ‡i aviYK…Z Inx cieZ©xKv‡j gnbexi B‡šÍKv‡ji A‡bK c‡i cweÎ KziAvb Aviex fvlvwjwc‡Z wKZve AvKv‡i ¯’vb K‡i †bq| Kv‡RB GLv‡b ¯úó gvby‡li ü`qB g~j-wKZve †h co‡Z I eyS‡Z cv‡i Zvi Avcb Áv‡bi fvÛvi mwÂZ n‡Z _v‡K| cweÎ KziAv‡b AvjøvnZvÕjv ¯úófv‡e eY©bv K‡i‡Qb, Ôm„wói mKj wb`k©bB Zvi AvqvZÕ| mgMÖ gnvwe‡k¡ m„wóB n‡jv RvZ-wKZve, mKj wKZv‡ei Rb¥`vZv| mKj m„wó ev wb`k©bmg‚n Awek¡vm Kiv gvby‡li †Kvb my‡hvM ‡bB| myZivs, wKZv‡ei Zvrch© ev g‚jm‚Î Avgv‡`i‡K eyS‡Z n‡e Ávb A‡š^l‡Y c‡_i hvÎx n‡q| cweÎ KyiAv‡bi ‡Kvb e¨vL¨v nq bv| gvby‡li AšÍivbyf‚wZ‡Z µgvMZfv‡e kyayB weKvk NUvq| GBRb¨ KziAvb k‡ãi A_© evievi cvV‡hvM¨ ev cwVZ| GKwU mij K_v- cweÎ KziAv‡bi Aci bvg ÔdziKvbÕ| dziKvb gv‡b mZ¨vmZ¨ A_v©r m‡Z¨i Mfx‡i mZ¨ Avwe®‹vi| ‡dviKvb dvivK kã ‡_‡K DrcwË| dvivK gv‡b cv_©K¨ Kiv| cv_©K¨ Kivi ¶gZv kyaygvÎ gvby‡li AšÍ‡ii, wKZv‡ei bq| Av`k© gvby‡li AšÍiB Av`k© KziAvb, whwb cweÎ KziAvb‡K mwVK g‚j¨vqb I mZ¨ Avwe®‹vi K‡ib| Avi, Ab¨fv‡e KL‡bv KziAvb eySv Am¤¢e, ¸iæ ev wk¶K A_ev Av`k© gvbyl jvM‡eB| mKj fvlvB gvby‡li wPšÍvRM‡Zi AšÍ‡ii wµqv, e¨vcKfv‡e eySevi ¶gZv|

ÔwmqvgÕ A_© ÔmshgÕ, web‡qi mv‡_ˆah©-aviYc~e©K mKj K‡g©i mxgv AwZµg n‡Z weiZ ivLv| wKZve A_© Ô†`nÕ e¨w³, e¯‘ ev †Kvb wKQyi MvVwbK KvVv‡gv| ÔwmqvgÕ wewae× Kiv nj A_v©r gvbe‡`‡ni mv‡_ mshg weRwoZ ivLv nj, Avcb Dcjwä‡Z cweÎ nIqvi Rb¨| Ôgvbe‡`nÕ‡KÕ ÔwKZveÕ ejv n‡q‡Q| KviY, gvby‡li gbyl¨Z¡B mKj ÔwKZveÕGi g‚jDrm| wKZveÕG cÖKvk¨ iƒc nj Ôgvbe‡`nÕ Ges ÔAf¨šÍixbÕ iƒc nj A`„k¨ kw³i e¨vL¨v, Hk¡wiK welq AvZ¥-Dcjw× ¯úó Kivi cÖ‡Póv| gvbe‡`‡n ÁvbÕGi Aw¯ÍZ¡‡ev‡a †Kvb iƒc ‡bB, kw³iB we‡kølY Kiv nq, Rxe‡bi f‚wgKvq| GLv‡bB ‡KejgvÎ mªóvi weKvk jvf, mªóvi e¨vL¨v P‡j m„wói Z‡Ë¡, Avcb AšÍ‡iB Gi `„p-Ae¯’vb, kw³i ‡gŠwjK welq, AvZ¥‡ev‡ai `L‡j| m„wógvÎ kw³i f‚wgKv m¡Ztù‚Z© I Awbevh©| cvw_©e ‡fvM-jvjmvi Rxeb n‡Z gyL wdwi‡q AvZ¥kw³‡Z Avcb mªóvi gyLv‡c¶x _vKv, A_v©r ÔÁvbgyLx nIqvÕ|

gvby‡li wPšÍvRMZ‡K cweÎ ivLvB nj mKj a‡g©i g‚j D‡Ïk¨| m„wói g‡a¨ hZ Dcv`vb i‡q‡Q Gi g‡a¨ mÖóvi weKv‡ki Rb¨ ïay gvÎ Ôgvbe‡`nÕ Dchy³ ‡¶Î| Avevi, GB weKv‡ki Rb¨ c~e©kZ© n‡”Q Áv‡bi Av‡jv‡K Av‡jvwKZ nIqv| ÔcweÎZvÕ mKj wek¦v‡mi c‚e©kZ©| gvbe mgv‡R ÁvbÕGi ‡P‡q cweÎ Ab¨ wKQy‡Z ‡bB| cwi®‹vi-cwi”Qbœ, ‡Mvmj, Ihy BZ¨vw` Kvh©Kjvc cweÎZv AR©‡bi Rb¨ AvbyôvwbKZv| GBme w`‡q ‡`n‡K cweÎ Kiv ‡M‡jI Af¨šÍixb cweÎZv my`‚icivnZ| mZ¨-Dcjwäi gva¨‡g gvbyl Zvi gbyl¨‡Ë¡i †R¨vwZg©q Av‡jv‡Z cÖKvwkZ| ÔmZ¨Õ cÖKv‡ki ciB ÔkvwšÍÕ (Bmjvg) Gi Avwefv©e N‡U, Ab¨fv‡e bq|  ÔmshgÕ ev ÔwmqvgÕ c×wZ wewae× Kiv n‡q‡Q †h‡nZz gvbe‡`n Zvi ¯^fve Pwi‡Î ¸Yv¸Y MÖnY-eR©b ¶gZv iv‡L| cweÎZv n‡jv gvbe ag©-Gi wVKvbv| gvby‡li Ôag©Õ kyaygvÎ Zvi mvgvwRK KvVv‡gv‡Z fi K‡i cÖwZwôZ nq| mvgvwRK KvVv‡gv nj gvbe mf¨Zvi gyjwfwË, µgweKv‡ki c_| a‡g©i Av‡jv‡K gvbeRvwZ mf¨Zv †c‡q‡Q bex imyj‡`i Ae`v‡b wKš‘ AvRI gvbyl mf¨ nqwb|

kyay Dcev‡mi g‡a¨ wmqvg wbewÜZ bq, gvbemËvq RxebvPi‡Y ky×Zv ev cweÎZv wmqv‡gi g‚j Av`k©| e¯‘RM‡Z Askx`vwiZ¡ mKj Aciva‡ev‡ai Drm| GB Askx`vwi‡Z¡i mKj Dcv`vb cwiZ¨vM Kivi mvabv ev Gev`‡Zi ‡h c×wZ Zvi bvgB ÔmIgÕ| Kvg, †µva, †jvf, †gvn, g`, gvrmh© BZ¨vw` wicy `g‡b Aciva‡ev‡ai Dcv`vbmg‚n ÔwmqvgÕ mvabv Øviv wbqš¿Y K‡i Avjøvni AvkÖ‡q Dchy³ Kiv hvq| Aciv‡ai Dcv`vbmg‚n cwiZ¨³ KivB n‡jv ÔwmqvgÕ ev msh‡gi g‚jK_v| whwb ÔwmqvgÕ ev ÔmshgÕ cvjb K‡ib Zv‡K Aviex‡Z Ômv‡qgÕ e‡j|

mv‡qg‡`i g‡b Aciva‡eva-Dcv`vb mg‚n k~b¨ n‡j cweÎZvq AšÍigq Av‡jvwKZ n‡q hvq| e¯‘RMZ ‡_‡K Ávb jvf Kivi mgq mv‡qgÕGi wbK‡U ‡Kvb Aciva‡ev‡ai Dcv`vb Dcw¯’Z n‡j, cweÎ ÔAvZ¥‡evaÕ ev Ôwe‡eKÕ cÖnixi gZ Zv Zvi gvbwmKZvq evav ‡`q| mv‡qg mZ¨-Dcjwä‡Z Rxebhvc‡bB AwaK AvMÖnx I AvK„ó| Zv‡`i Rxe‡bi PvIqv-cvIqv kyay cweÎZvi g‡a¨ wbewÜZ I AmrKg© ‡_‡K weiZ _vKv| hv ‡_‡K wek¡vm cÖvwß N‡U| ÔwmqvgÕ ev mshg hLb gvby‡li Kvh©µ‡g cwiYZ nq, ZLb ÔmvIgÕ gvby‡li ÔgvbwmK-A¯¿Õ| ÔmvIg RxešÍPwi‡Îi Xvj ¯^iƒcÕ, Ab¨v‡qi cÖwZ‡iva ¶gZv|

cweÎ KziAv‡b ¯úófv‡e ÔwmqvgÕ m¤ú‡K© ejv n‡q‡Q-

ÔwmqvgÕ mvabv Avcb mËvi AÁvbZv `‚i K‡i| kyay Dcev‡mi ga¨ wmqvg mxgve× bq| Rxe‡bi me©‡¶‡Î msh‡gi f‚wgKv Awbevh© kZ©| Av‡jvq Av‡jvwKZ K‡i Rxe‡bi cÖ`xc, gvbe mgvR‡K cÖMwZ c‡_ wb‡q hvq| Áv‡bi Av‡jv-B R¡vjv‡Z nq, Kj¨vYgyLx gvby‡li mgv‡Ri Rb¨| gvby‡li Abyf‚wZMy‡jv cweÎZvq c~Y© n‡q R‡b¥ Av¯’v hv wek¦vmx nIqvi Rb¨ Acwinvh©| mij mwVK Rxeb cvj‡bi Rb¨ ÔmshgÕ ev ÔwmqvgÕ Z¨v‡Mi gwngvq, Am`vPiY cwinvi Kivi cig bxwZ, gvbeRxe‡b Acwinvh©, Ab¨ †Kvb Dcvq †bB| ÔwmqvgÕGi f‚wgKvq, Z¨v‡Mi gwngvq, civ_© g‡š¿ gvbe-mgv‡R Rxebhvc‡b ÔkvwšÍÕ ¯’vc‡b ZË¡ wn‡m‡e AvRI Avwe¯‹…Z nqwb| gvbe mgvR ej‡Z eySvq-ÔG‡Ki Dci A‡b¨i wbf©iZvÕ| †Kvb gvbylB KL‡bv gyLv‡c¶x bq, kyay Zvi K‡g©i `vwqZ¡-KZ©e¨ cvjb K‡i mªóvi `vm‡Z¡i AvbyMZ¨ cÖKvkB j¶¨| Kg©B m‡ev©rK…ó Dcvmbv| Dcvmbv gv‡b Dcvq  †LvuRvi Abyôvb, Rxebvbyôv‡b|

Aviex‡Z ÔBmjvgÕ gv‡b ÔkvwšÍÕ, †Kvb ag© bq, gvby‡li Rxeb Pjvi c_, Ávb‡hv‡M P‡j, cweÎZv GLv‡b gyL¨ f‚wgKv cvjb K‡i| ag©ÕGi cwi®‹vi e¨vL¨v n‡jv ÔPwiÎÕ ev Ôˆewkó¨Õ A_ev ¯^fve| e¯‘ ev RxebgvÎB ag© ev ¸‡Yi AwaKvix n‡q m„wó nq Ges ‰ewkó¨ cÖKvk K‡i| e¯‘i mKj ag© I ‰ewkó¨ i‡q‡Q Rxeb m„wó‡Z| Avevi, gvbyl e¯‘i ag© bv-Rvb‡j, e¯‘‡K mbv³ Kiv m¤¢e bq, Rxe‡bi Dbœqb P‡jbv| Gi d‡j, gvbeRxe‡b µgweKvk nIqvq my‡hvM ‡bB I Rxeb Pjvi c_I m„wó n‡ebv| Áv‡bi Avav‡i iwPZ gvby‡li ÔKg©ÕB RxebÕGi mijc_| ZvwË¡K `k©b K‡g©B Zvi iƒcvqb| Drcv`b ev Avwe¯‹v‡i gvbeRxe‡b j¶¨ m„wó nq, j¶¨nxb Rxe‡bi †Kvb c_ nqbv| Avwe¯‹vi gv‡b †Pbv, †PbvUvB gvby‡li ÁvbvR©‡bi nvwZqvi, ÁvbB c_ m„wó K‡i gvbwmKZvi iƒcvqb|

ÔkvwšÍÕ AR©‡b ÔwmqvgÕ ev msh‡gi f‚wgKv ¸iæZ¡c~Y©| c~Y©Zv AR©‡bi Rb¨ gvbyl µgvMZfv‡e ÁvbÕGi mvgªv‡R¨ wePiY K‡i gnvwek¡‡K wN‡i, gnvkw³i jxjv‡¶Î, Avcb Dcjwä‡Z| ÔmZ¨Õ Avwe¯‹v‡i gvby‡li AwfÁZvi Rb¥, Ávbiƒ‡c gw¯Í‡®‹ VvuB K‡i wb‡q‡Q, gvbwmKZvi dmj| gvbwmKZv n‡jv gvby‡li †gavkw³, Rxe‡bi cik gvwbK| ÔÁvbÕ AvKvinxb Av‡jŠwKZv, †jŠwKKZvi †gŠwjK A_ev wbivKvi wKš‘, mKj Aw¯Í‡Z¡i aviK Ôag©Õ iƒ‡c hv gvby‡liB cÖvwß N‡U‡Q| wek¦v‡m cÖPwjZ a‡g©i AvMgb hv AvbyôvwbKZvq Ave×| wek¦vm nj gvby‡li kw³ m¤ú‡K© cÖ_g I †gŠwjK aviYv| Rxe‡bi f‚wgKvq m„wó K‡iwQ‡jv Abyf‚wZi Av‡›`vjb|

Rxeb GK Ac~e© my›`i gvby‡liB mnR ¯^xK„wZ, ÔmZ¨Õ I my›`‡ii c~Rvix| ÔmshgÕ ev ÔwmqvgÕ gvby‡liB Avivabvi, Hk¡wiK mvabv, weky×Zv ev cweÎZvi Rxebhvcb| gvbyl g‚L©Zv ev AÁZv ‡_‡K gyw³ Pvq, Rxe‡bi mg„×Zvi Rb¨| ¯^vej¤^x I ¯^qsm¤ú~Y©Zv GKK mËvq cwiYZ nIqv gvbeRxe‡bi j¶¨| gvbe Rxeb Pwi‡Î Pvwn`v gvÎB cvIqv hvq, GB mvabvq wjß| Agi nIqvi evmbv I mvabv gvby‡li wPiKv‡ji| gvby‡li ‡`nUv gvbyl bq, Zvi, gvbwmK-hš¿YvUvB gvbyl, Abyf‚wZi Av‡›`vjb| mvgvwRK KvVv‡gvi g‡a¨ cÖK„wZi AbyK‚j cwi‡e‡k eskµ‡g †h gvby‡li Rb¥ n‡q‡Q, wPšÍvkw³i ¶gZv I mvgvwRK wewae¨e¯’v, ÁvbÕGiB n¯ÍvšÍ‡i, †m Áv‡bi g„Zz¨ †Kv_vq? †m ÔÁvbÕB P‡j gvby‡li AbyK‚j cwi‡e‡k esk ci¤úivq| gvbyl nIqvi cwiPq cvIqv hvq msh‡gi f‚wgKvq| ˆah©aviYKvix I webqxivB ÔmshgxÕ| Avgv‡`i‡K ÔmshgÕ wK! fvj K‡i eyS‡Z n‡e| ÔwmqvgÕ Aviex kã Avie‡`i Rb¨, ZvivB Zv‡`i gZ K‡i fvj eyS‡e, cÖvK…wZK ‡fŠ‡MvwjK cwi‡e‡k| GB we‡k¡ †fŠ‡MvwjK cwi‡e‡k mg¯Í welqUv `vk©wbK e¨vL¨vi `vex iv‡L| Rxebe¨e¯’vi Rb¨B ÔmshgÕ, †hLv‡b gvbe Kj¨vY wbwnZ| ag©ÕGi µgweKvk n‡jv Av‡jviB gkvj, gvbe Áv‡bi fvÐvi, c_ cÖ`k©b K‡i| ÔkvwšÍ cÖwZôvq Rxe‡bi f‚wgKvq ÔmshgÕ Abb¨ Ges kvwšÍi (Bmjv‡gi) g~jgš¿|

Bev`‡Zi gg© Abyave‡bi mgq engvb

msjvc|| wmqvg kãwU Aviex| Avgiv dvimx‡Z GUv‡K †ivRv e‡j _vwK| `ywbqv n‡Z gb‡K weiZ ev evwiZ K‡i ivLvi Avgj ev Kvh©µg‡K ev cÖ‡Póv‡K wmqvg e‡j| wmqvg Aviex kã ÔmIgÕ †_‡K G‡m‡Q| kvwãK A_© wbe„Ë _vKv, AvZ¥mseiY Kiv, mshgx nIqv| whwb wmqv‡g cÖwZwôZ n‡q gb‡K cÖwZwôZ K‡i gb‡K gy³ K‡i‡Qb e¯‘i †eovRvj †f‡½ Zvi BdZvi n‡q †M‡Q| BdZvi kãwU G‡m‡Q dv‡Zi n‡Z| kvwãK A_©: †f‡½ †djv, wQu‡o †djv, wew`Y© Kiv| GUv e¯‘ †gv‡ni †eovRvj fv½v e¨wZZ Avi wKQzB b‡n| wmqvg Øviv gvbyl mshgkxj n‡e| gvbyl‡K cÖe„wËi msh‡g Af¨¯Í Kivi Rb¨ wmqvg mva‡bi cÖeZ©b Kiv n‡q‡Q| gvby‡li cÖe„w˸‡jv Avjøvni AbyMÖn Ges `vb| cÖe„w˸‡jv _vK‡e gvby‡li Ávb we‡e‡Ki ekxf‚Z – wmqvg mva‡bi g~j D‡Ïk¨ GUvB| †gvn Ges cvevi Avkv Avgv‡`i †`n-gb‡K Ggbfv‡e MÖvm K‡i‡Q †h aŸsm n‡q †M‡jI †hb Zv †kl nevi bq| KZ…©‡Z¡i †gvn, ÿgZvi †gvn, †bZ…‡Z¡i †gvn, †fv‡Mi †gvn, Aci‡K wWOv‡bvi †gvn, e¯‘i†gvn, bvixi †gvn BZ¨vw` cÖvq me wKQzi †gvn Øviv gvby‡li cÖe„w˸‡jv ZvwoZ n‡”Q| Gme †gv‡ni †eovRvj fvs‡ZB wmqvg mvabv| GUv K‡Vvi GKUv Abykxj‡bi e¨vcvi| †gvnRvj gvbyl m„wói m~Pbv‡ZI wQj| nvwej Kvwej `yÕfvB GKRb bvixi Rb¨ bvwK Ab¨ fvB‡K nZ¨v K‡iwQj| bvixi †gvn me©Kv‡j me©Î GK welgq Aa¨vq|

A‰ea, hv Ki‡j cvc n‡e, wb‡R ev Ab¨‡K ÿwZMÖ¯Í Kiv n‡e Zv †_‡K wKfv‡e weiZ _vKv hvq †m cÖ‡Póvi bvg wmqvg| Avgvi ÿgZv I †hvM¨Zv Abyhvqx hv cvIbv Zv Avwg cv‡ev Ges †fvM Ki‡ev| wKš‘ A‡b¨i wKQz‡Z Avgvi AwaKvi †Rvic~e©K Pvcv‡Z hv‡ev bv| G ai‡bi msh‡gi AvPiY †Kej Avgv‡`i †ejv‡ZB bq c~‡e© hviv MZ n‡q‡Q Zv‡`i †ejv‡ZI cÖ‡hvR¨hv KziAv‡b DwjøwLZ Av‡Q| Ab¨vq K‡i cvi cvIqv hv‡e A_P Zv Kijvg bv – GUv mshg| KviY, Avwg ¯ªóvi m„wó| Avwg ZvKIqv AR©b Ki‡Z PvB| GB ZvKIqv n‡”Q msh‡gi g~j K_v| ÿgZv Av‡Q wKš‘ Zv cÖ`k©b Kijvg bv – GUv mshg| c‡ii ab Abvqv‡m nRg Kivi my‡hvM G‡jv wKš‘ Zv Kijvg bv – GUv mshg| A‰ea †fv‡Mi (‡`n I e¯‘) Acvi my‡hvM G‡jv A_P Zv Kijvg bv – GUv mshg|

mshgx †Kb n‡ev? `y‡Uv Kvi‡Y Aek¨B mshgx n‡Z n‡e| GK, ¯ªóvi wewae× wbqg †g‡b Zv‡K Lywk Kiv, `yB, wb‡Ri g‡a¨Kvi cÖe„wˇK ekxf‚Z K‡i mnR-mij kvwšÍgq Rxeb hvcb Kiv| cÖwZ c‡` kqZv‡bi †jvfbxq Bkviv gvbyl‡K †mB m~PbvjMœ †_‡KB wec_Mvgx K‡i †i‡L‡Q Ges AvRI gvbyl bvbv ai‡bi †gv‡ni Ave„‡Ë NyicvK Lv‡”Q| gnvbex e‡j‡Qb, ÔAvgvi wbKU †mB e¨w³B DËg whwb ZvovZvwo BdZvi K‡ib|Õ GUv wK ai‡bi K_v? ZvovZvwo BdZvi Ki‡j ¯’zjfv‡e mg‡qi c~‡e©B Zv Ki‡Z nq| G e³e¨ Øviv wK g‡b Ki‡ev? `ycy‡ii w`‡KB BdZvi Ki‡ev ev weKv‡j? K_v¸‡jv kv‡¯¿ Av‡Q – cÎ-cwÎKvq †jLv nq, †iwWI †Uwj‡fk‡b †kvbv‡bv nq| `ywbqvi evwn¨K wbqgvbyhvqx hw` Avgiv wba©vwiZ mg‡qi c~‡e©B BdZvi (A_©vr Lvevi MÖnY) Ki‡Z cvwi Z‡e †mUvB c~‡Y¨i KvR? Avm‡j bv †L‡q _vKvi bvg wmqvg bq| AvZ¥v‡K kvwiixKfv‡e Kó †`qvi bvg wmqvg bq| Zvn‡j wmqvg wK? wmqv‡gi mv‡_ BdZv‡ii m¤úK© wK? 1450 ermi a‡i hv P‡j Avm‡Q Zv †h KZ eo cvnvo †mUv KziAvb bv eyS‡j ejv hv‡e bv| KziAvb †evSvi Rb¨ †h Aviex fvlvq cwÐZ n‡Z n‡e Ggb †Kvb K_v †bB|

nhiZ gynv¤§` (hvui K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) wbiÿi wQ‡jb| wKš‘ Zuvi gva¨‡g hv KziAvb AvKv‡i †ei nj Zv 1450 ermi c‡ii gnvweÁvbx‡`i gv_vI Nv‡g wf‡R hv‡”Q| eySv‡Zv `~‡ii K_v| e¨vKi‡Yi RvnvR ev fvlvq cwЇZi gb GK welq Avi Ava¨vwZ¥K wkÿvq mij gvby‡li gb Ab¨ welq| jvjb dwKi wK e‡j †M‡jb Zvi my‡i myi wgjvB| fv‡ei fvb awi, Mv‡bi †k‡l ï‡q cwo| `ywbqvi †Kvb Kv‡R hv‡Z Avgiv †ewk gvÎvq Wz‡e bv hvB †m wkÿvB wmqvg w`‡q _v‡K| mvjvZ, hvKvZ Ges wmqvg me hy‡MB wQj| KviY, me hy‡MB GKwU ag© wQj, GKRb ¯ªóv Av‡Qb, GKwU wKZve †_‡KB wewa-weavb ev ag© cvwiPvwjZ n‡Zv Ges n‡”Q Avi n‡eI| cÂBw›`ªq A_©vr nvZ, gyL, †PvL, bvK I Kvb BZ¨vw` Øviv Avgiv †h mKj KvR Kivi ÿgZv †c‡qwQ Zvi †hb Ace¨envi bv nq †mUv wmqvg wkÿv †`q| GUv GKwU †Uªwbs mgq| h_vh_fv‡e whwb wmqvg cvjb K‡ib Zvi Rb¨ ag© cvjb LyB mnRZi nq| nvZ w`‡q Avgiv wK Kwi? Ny‡li A_© †bB, Ab_©K KvD‡K gvwi, Pzwi Kwi, c‡KU KvwU, c‡ii †ÿ‡Zi AvBj KvwU, KvD‡K nZ¨v Kwi, A‰eafv‡e ¯úk© Kwi BZ¨vw`| GB nvZ `yÕwU ¯ªóvi m„wó| GUv Øviv hv‡Z A‡b¨i ÿwZ bv nq, A‡b¨ hv‡Z Kó bv cvq, A‡b¨i AwaKv‡i hv‡Z nvZ bv †`q †mRb¨ msh‡gi wkÿv| GKwU mshgx nvZ ¯ªóvi wbKU KZ bv wcÖq| †PvL w`‡q Avjøvn Avgv‡`i †h KZ eo `qv K‡i‡Qb Zv ej‡j †kl n‡e bv| †PvL w`‡q Avgiv Lvivc wKQz hv‡Z bv †`wL, †PvL Øviv hv‡Z Avgv‡`i g‡bi g‡a¨ †Kvb Lvivc Qwe cÖ‡ek bv K‡i, †PvL †hb A‰ea‡K bv †`‡L, †Pv‡L †`Lv wel‡q †hb Avgiv †jvfx n‡q bv cwo GUvB wmqvg wkÿv †`q| wRnŸv ev gyL w`‡q Avgiv Lvevi LvB, K_v ewj, g‡bi fve cÖKvk Kwi, Lv`¨ Pe©b Kwi, KvD‡K fv‡jv K_v ivwL bv, MvjvMvwi Kwi, agK †`B BZ¨vw`| G gyL †hb me mgq ¯ªóvi K_v e‡j, ¯ªóvi ¸YMv‡b we‡fvi _v‡K, fv‡jv K_v ej‡Z Drmvn †`q, fv‡jv K_v e‡j DËg Pwi‡Îi nq, gy‡Li K_vq hv‡Z mevi gb Zzó nq, gy‡Li Øviv †hb weK…Z fve bv Av‡m BZ¨vw`| wbw`©ó K‡qKUv w`‡bi †Uªwbs GUv| mKj cÖKvi †fvM, Lvivc KvR K_v e¨envi BZ¨vw` †_‡K hw` wKQzw`b `y‡i _vKv hvq Z‡e ‡mUv g~jZ Af¨v‡m cwiYZ n‡q hvq| Avi G Af¨v‡m cieZ©x mgq¸‡jv‡Z Avgv‡`i cÂBw›`ªq GZB ¯ªóvgyLx nq †h ZLb `ywbqvi †Kvb ev¯Íe †gvn Avgv‡`i Avi a‡i ivL‡Z cv‡i bv| GUv GKUv mvabvI ejv †h‡Z cv‡i| GB mvabvq hviv hZ `ªæZ mdjKvg Zviv ZZ ZvovZvwo BdZvi K‡i| BdZvi ej‡Z ZvovZvwo †fvRb bq – ZvovZvwo e¯‘ †gv‡ni †eovRvj †f‡½ †djv| Avi G Rb¨B ivmyj (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) e‡j‡Qb, ÔAvgvi wbKU IB e¨w³B wcÖq †h ZvovZvwo BdZvi K‡i| Avgiv evwn¨K ev Rv‡nwi w`KUv wb‡q GZ †ewk e¨wZe¨¯Í †h Af¨šÍixY w`KUv †LjvB Kwi bv| Avgiv Wv‡ei Dc‡ii A_©vr †LvjUv wb‡qB e¨¯Í †fZ‡ii wgwó cvwbi LeiB ivwL bv| wÎk w`b mKvj †_‡K mܨv ch©šÍ bv †L‡q _vKjvg| G‡Z wK n‡jv? KZ gvbylB †Zv Av‡Q mvivw`‡b GK‡ejvI †L‡Z cvq bv| Zviv wK Ki‡Q?Zviv wK mshg cvjb Ki‡Q? Avgiv A‡b‡K Avevi G‡Zv †ewk wb‡q †L‡Z ewm †h, GKR‡bi Dw”Qó nq‡Zv cuvPR‡bi D`i c~wZ©i Dcv`vb n‡Z cv‡i| Nyl Lvevi my‡hvM †cjvg – †Ljvg bv| GUv mshg| Ab¨vq Kivi  my‡hvM †cjvg – Kijvg bv| GUv mshg| †Kvb e¯‘i cÖwZ †jvf cwinvi Kijvg – GUv mshg| AvbZ bqbv De©kx †fv‡Mi wbie my‡hvM †cjvg – Kijvg bv | GUv mshg| c‡ii weË niY Kivi my‡hvM †cjvg – Kv‡R jvMvjvg bv| GUv mshg| GKUv wg_¨v e‡j mvgwqK jvf Ki‡ev – Kijvg bv| GUv mshg| ÿgZvi `vcU †`Lv‡bvi cwi‡ek G‡jv – `vcU †`Lvjvg bv| GUv mshg| Gfv‡e `ywbqvi mKj A‰ea KvR¸‡jv hv Avgv‡`i lowicy‡K weneŸj K‡i †Zv‡j Zv †_‡K weiZ _vKvi Rb¨ wbw`©ó K‡qKwU w`b Avgiv †h †Uªwbs wb‡q _vwK Zv mshg| †Uªwbs †kl nevi ci ev¯Íe Rxe‡bi cÖwZwU c‡` Zv hv‡Z ev¯ÍevwqZ nq Ges Zvi Øviv m„ó KvR hv‡Z ¯ªóv‡K Lywk Ki‡Z cv‡i Ges wb‡R‡`i Rxe‡bi Kj¨vY e‡q Avb‡Z cv‡i †m e¨e¯’v Kiv| msh‡gi †Uªwbs wbjvg, wbw`©ó K‡qKUv w`b cvi n‡q †Mj – Avevi `ywbqvgywL n‡q hv wQjvg ZvB hw` n‡q hvB Z‡e Avgiv wb‡RivB ÿwZMÖ¯Í n‡ev| Avgv‡`i AvZ¥vi ÿwZ n‡e| Avgv‡`i K‡g©i ÿwZ n‡e|

‡jLv Av‡Q †Zvgv‡`i g‡a¨ hviv G gvmwU cv‡e| G K_vi A_©, ÔAvgv‡`i g‡a¨ nq‡Zv †KD cv‡e A_ev †KD cv‡e bv|Õ †mvRv K_v Kv‡iv `iKvi, Kv‡iv nq‡Zv `iKvi n‡e bv| hvi `iKvi n‡e †m †hb mshg †Uªwbs wb‡q †bq Ges hZ `ªæZ m¤¢e †Uªwbs †kl K‡i A_©vr BdZvi K‡i| G e¨e¯’v Kiv n‡q‡Q ZvKIqv AR©b Kivi Rb¨| KviY Avjøvn †gvËvwK‡`i‡K fv‡jvev‡mb Avi †gvËvwK‡`i‡K †n`v‡qZ Kivi Rb¨ cweÎ evYx KziAvb gvwR‡`i AeZviY| GKevi †Uªwbs wb‡q whwb mviv Rxeb Zvi Dci w¯’i n‡q‡Qb ev K‡i‡Qb Zvi wK Avevi †Uªwbs †bevi `iKvi nq? Avgv‡`i gymwjg mgv‡R cÖwZ eQiB Avgiv NUv K‡i bvix-cyiæl wbwe©‡k‡l mK‡j G †Uªwbs Gi gnov †`B| †fvi iv‡Z LvB mviv w`b bv †L‡q mܨvq ivwk ivwk ˆewPÎgq Dcv‡`q Lvevi †L‡q DwV AvR GKUv †ivRv Kijvg| whwb wÎk w`b bv †L‡q †_‡K‡Qb Zvi dzUvwb †`‡L †K? Avm‡j hv Kivi wQj, ejvi wQj, Rvbvi wQj Zv n‡q‡Q wK? hv Kivi wQj, ejvi wQj, Rvbvi wQj, Zv Kiv, ejv ev Rvbv n‡jv bv| d‡j ¯ªóvi evYx cÖwZeviB gvby‡li nv‡Z Gfv‡eB Dcnv‡mi cvÎ nq Avi Avgiv Z…wßi †XKzi Zzwj| Ávb, we‡eK, eyw× LvwU‡q KvR Kivi K_v KziAv‡b ejv _vK‡jI Avgiv Zv Kwi bv| KZ LZg KziAvb cvV Kijvg Zv wb‡q e¨¯Í _vwK| wK cvV Kijvg, wK Av‡`k G‡jv, Kv‡Ri mv‡_ K_vi wgj Av‡Q wKbv, ¯ªóvi wb‡`©k  wVKg‡Zv cvjb n‡jv wK bv, AvZ¥ïw× n‡jv wKbv, `ywbqvi †gvn †_‡K AvZ¥v‡K miv‡Z cvijvg wK bv Zv †`wL bv| Avgiv evwn¨K Dcevmx, AvPvi-Abyôv‡b gË n‡q hvB| GKUv gvm AwZ K‡ó wVK _vKvi †Póv Kwi wKš‘ cieZ©x GMvi gvm †Kb, mshg cvjb †k‡lB Zv fz‡j hvB|  hv wQjvg ZvB _vwK| gvSLvb †_‡K `ªe¨g~j¨ †e‡o hvq| fzLv, bv½v, Mixe, Amnvq, dwKi, Kzwj, gRyi G‡`i Kó ev‡o| `ªe¨g~j¨ jvd w`‡q Mix‡ei bvMv‡ji G‡Zv evB‡i P‡j hvq †h, Zv‡`i‡K eva¨ n‡q Afz³, Abvnvix, Avav‡cUv †L‡q euvP‡Z nq| Gmgq Avgiv evwn¨Kfv‡e BdZvwi‡Z hZ A_© e¨q Kwi Zv GKw`‡bi wZb †ejv Lvev‡ii mgvb g~j¨ n‡q hvq| †fvi iv‡Z Av‡iv DËg Lvevi LvB – AvRvb nevi AvM ch©šÍ hZ cvwi †c‡Ui g‡a¨ †V‡m †`B| mshg wK GUv? wmqvg wK GUv? `ywbqvi †Kvb wKQzB hv‡Z Avgv‡`i †jv‡f ev †gv‡n †dj‡Z bv cv‡i Zvi Rb¨ †Uªwbs wb‡Z wM‡q `ywbqvi KwVb Rv‡j AvU‡K c‡o nveyWzey LvB| mshg mvabvi me D‡Ïk¨ cÛ n‡q hvq – mevB ÿwZMÖ¯Í nB| GUv wK ¯ªóvi mv‡_ GK ai‡bi wbgg© iwmKZv bq? GUv wK ¯ªóv‡K Acgvb Kiv bq? †ivRv bv‡g hv Pvjy Av‡Q Zvi we‡ivwaZv KiwQ bv ev GI ejwQ bv †h †ivRv K‡ivbv| hv ejwQ Zv n‡”Q Avjøvn wVK hv †P‡q‡Qb Zv Avgiv KiwQ wK bv| hw` bv K‡i _vwK Z‡e e„_vB GB Dcevm – e„_vB GB K‡ói gniv|

mZ¨vbymÜv‡b – wmqvg

Aviwe wmqvg A_© mshg, wbqš¿Y, `gb, Avq‡Ë Avbqb, †iva, cÖwZnZKiY, weiZ _vKv, cwiZ¨vM Kiv| Abyôvbev`x‡`i Kv‡Q igRvb gv‡m m~‡h©v`q †_‡K m~h©v¯Í ch©šÍ cvbvnvi I †hŠbKg© †_‡K weiZ _vKvB wmqvg| c„w_ex‡Z GLb a‡g©i bv‡g G‡`iB AvwacZ¨ Pj‡Q| Abyôvbev`x‡`i Kv‡Q wmqv‡gi Avi †Kvb Zvrch© †bB| Giv m~‡h©v`q †_‡K m~h©v¯Í ch©šÍ cvbvnvi Ges ‡hŠbKg© †_‡K weiZ _v‡K wKš‘ BdZv‡ii mgq cÖ‡qvR‡bi ‡P‡q †ewk cywóKi I ˆZjv³ Lv`¨ MÖnY K‡i GK‡ejv bv †L‡q _vKvi NvUwZ c~iY K‡i †bq| igRvb wmqvg mvabvi gvm n‡jI Abyôvbev`xiv Kvh©Z GwU‡K †fvRb wejv‡mi gnvDrm‡e cwiYZ K‡i| Giv wb‡R‡`i †fvRb wejv‡mi c‡¶ GKwU mvsNwl©K nvw`m e¨envi K‡i| nvw`mwU GiKg Ñ ÔwZb e¨w³i Lvev‡ii †Kvb wn‡me †bqv n‡e bv BbkvAvjøvn, hw` Zv nvjvj I cweÎ nq| Zviv n‡”Qb Ñ †ivhv`vi, †m‡nixi Lvevi MÖnYKvix Ges Avjøvni c‡_i †gvRvwn`Õ (ev¾vi)| G nvw`mwUi wVK wecixZ nvw`mwU n‡jv, nRiZ Av‡qkv e‡jb, ÔûRyi (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK.)-Gi B‡šÍKv‡ji ci Bmjv‡g me©cÖ_g †h we`qv‡Zi cÖPjb n‡qwQj Zv n‡jv D`ic~wZ© K‡i Lv`¨ MÖnY|Õ (dvhv‡q‡j mv`vKvZ)|

KziAvb Ges imyj (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) ÑGui Rxeb AbymÜv‡b f~uwo‡fvR wKsev AcP‡qi †Kvb ¯’vb †bB| myZivs cÖ_‡gv³ nvw`mwU‡K f~uwo‡fvR I AcP‡qi nvwZqvi wn‡m‡e e¨envi Kiv mwVK bq| A_P G nvw`mwU‡K e¨envi K‡i ‡ivhvi gv‡m mKvj †_‡KB BdZv‡ii Av‡qvRb P‡j| Pvwiw`‡K LvB LvB ie D‡V, iv¯Ívi †gv‡o †gv‡o, Awj‡Z Mwj‡Z, gnjøvq gnjøvq BdZv‡ii nvU e‡m| BdZvi cvwU©i wnwoK ïiæ nq igRv‡bi cÖ_g w`b †_‡KB| G‡`i g‡a¨ GKUv †Mvôx wmqvg‡K e¨envi K‡i ivR‰bwZK ¯^v‡_©| igRvb gv‡m G‡`i g~j KvR BdZvi cvwU©i Av‡qvRb Kiv| G‡`i mv‡_  †RvU †eu‡a BdZvi cvwU© †`b cÖavbgš¿x, ivóªcwZ, mgvRcwZ, ivRbxwZK, e¨emvqx I mgv‡R cÖfve we¯ÍviKvixivI|  G me BdZvi cvwU©‡Z _v‡K iKgvix Dcv‡`q Lv‡`¨i Av‡qvRb Ñ Kveve, wP‡Kb wU°v, dvjy`v, jvw”Q, cywWs, nvjyqv, wcuqvRy, †ev¤^vB wRjvcx, Avi‡ei Lyigv, `vwR©wjs‡qi Kgjv, AvOyi, Av‡cj, †Mvjv‡ci kieZ, dvbUv, †KvKv ‡Kvjv, kieZ Av‡iv KZ wK! cÖwZw`b ïay gvÎ XvKv kn‡ii BdZvix‡Z e¨q nq K‡qK kÕ Ub †LRyi, Av‡cj, Kgjv‡jey, bvkcvwZ, Avbvi, gvjUv|

igRvb Dcev‡mi gvm| G gv‡m gvbyl LvIqv `vIqv Ki‡e Kg| ZvB mvaviY wnmve n‡”Q G gv‡m Lv`¨`ª‡e¨i Pvwn`v K‡g hv‡e Ges djkÖywZ‡Z `vgI K‡g hv‡e| wKš‘ igRvb gv‡m wVK D‡ëv NUbv N‡U| miKvix wn‡m‡e G gv‡m Lv`¨ MÖn‡Yi cwigvY ‡e‡o hvq cÖvq 3 ¸Y| ZvB evRvi †ekvgvj n‡q c‡o, 1 kÕ UvKvi gvQ weµq nq 3Õk UvKvq, Lv`¨ evRv‡i †jv‡Ki wf‡o cv ivLvi RvqMv _v‡K bv|

GKw`‡K RuvKSgKc~Y© wejvmx BdZvi cvwU© wb‡q `jv`wj nq Avi Ab¨w`‡K GK`j gvbyl mvivw`b †ivRv †i‡L w`b‡k‡l GK Møvm weï× cvwbI cvq bv| Abvnv‡i, Aa©vnv‡i RR©wiZ gvbyl AvMvg wewµ K‡i †`q †¶‡Zi avb, Mv‡qi kªg| wKš‘ GRb¨ Abyôvbev`xiv wb‡R‡`i ‡Kvb `vq ¯^xKvi Ki‡Z Pvb bv| G‡`i weåvwšÍ m„wóKvix cÖPviYvq KziAv‡bi wmqvg `k©b GLb e¨_©Zvq ch©ewmZ n‡Z P‡j‡Q| mv¤cÖwZKKv‡j igRvb gv‡m Dcev‡mi wKQy D‡ëv djI we‡klfv‡e cwijw¶Z nq| GK‡ejv cvbvnvi ‡_‡K weiZ _vKvq mvivw`bB Abyôvbev`x‡`i †gRvR m߇g D‡V _v‡K| ZvB G gv‡m SMov-d¨vmv` †e‡o hvq| djZ, AvBb k„•Ljv i¶vi Rb¨ ivóª‡K we‡kl e¨e¯’v wb‡Z nq| G gv‡m Nyl, Pzwi, wQbZvB, WvKvwZI †ewk nq| GK K_vq evsjv‡`‡ki eZ©gvb †cÖ¶vc‡U igRvb Amsh‡gi gvm wn‡m‡e cÖwZwôZ|

Ab¨w`‡K Abyôvbev`xiv G gv‡m †nv‡Ujцiu‡¯Íviv †Lvjv _vK‡j Zv ¶wZMÖ¯’ K‡i| Zv‡`i `„wó‡Z igRvb gv‡m Lv`¨ weZvb †Lvjv ivLv cv‡ci KvR| A_P imyj (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK.) igRvb gv‡m Dcevmx  Ges †fvR`vi Kv‡iv g‡bB Kó w`‡Zb bv| nhiZ Avbvm ÑGui eY©bv †_‡K Rvbv hvq, bex (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) ÑGui mv‡_ Dcevmx I †fvR`vi Dfq †kªYxi gvbyl wQj| wKš‘ DcevmxMY †fvR`vi‡`i‡K Ges †fvR`viiv Dcevmx‡`i‡K †Kvb †`vlv‡ivc K‡iwb|

¯§Z©e¨, bex Kixg (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) e‡j‡Qb †h, A‡bK †ivRv`vi Ggb Av‡Q hviv Zv‡`i †ivRv Øviv Abvnv‡ii Kó I Z…òv e¨ZxZ wKQyB jvf K‡i bv| imyj (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) ÑGui G evYxwUi e¨vL¨v cvIqv hvq Bgvg Mv¾vjxi †jLvq| wZwb wj‡L‡Qb Ñ ÔcÖvq †ivRv`viB cÖK…Z A‡_© †ivRv K‡i bv, Ab¨w`‡K A‡bK ‡e-‡ivRv`viB cÖK…Z A‡_© ‡ivRv cvjb K‡ib| A‡b‡K cvbvnvi K‡i wVKB, wKš‘ cÖK…Z A‡_© †ivRv cvjb K‡ib| wZwb †K? wZwb n‡”Qb H e¨w³ whwb cvc ‡_‡K gy³ n‡q hvb| Avevi ¶zav Ges wccvmvq Kó K‡ib A‡b‡K, A_P cÖK…Z A‡_© Zv‡`i †ivRv nq bv, KviY cv‡c wbgw¾Z _v‡Kb wZwb| †ivRvi AšÍwb©wnZ A_© hviv Abyaveb Ki‡Z ‡c‡i‡Qb Zviv  Rv‡bb †h, hviv ïay cvbvnvi Ges QneŸZ †_‡K wbe„Ë n‡q †ivRv iv‡L A_P Ab¨ cvc KvR K‡i, Zviv H e¨w³‡`i b¨vq, hviv gj †aŠZ bv K‡i cÖmªve K‡i Mjv cvwb‡Z bv‡gb| G ai‡bi gvbyl ïay evB‡ii ‡Lvjm wb‡qB e¨¯Í  _v‡K| Zviv ey‡Sb bv †h K¡je cwi®‹vi bv K‡i nvZ cv mv‡di †Kvb A_© nq bv| Zv‡`i AÁZvi d‡j Zv‡`i Gev`Z Keyj nq bv| Avi †h e¨w³ Avnvi K‡i †ivRv fv‡½b wKš‘ Ab¨ †Kvb cvc KvR K‡ib bv, wZwb †hb Zuvi †`‡ni me wKQyB mvd K‡ib| Zuvi Gev`Z Avjøvn&i B”Qvq Keyj n‡e| wZwb hw`I evB‡ii ‡Lvjm wb‡q e¨¯Í wQ‡jb bv, wKš‘ wZwb cvc gy³ n‡q Avjøvn&i weavb †g‡b P‡j‡Qb|Õ myZivs eySv †Mj, m~‡h©v`q †_‡K m~h©v¯Í ch©šÍ cvbvnvi I †hŠbKg© †_‡K weiZ _vKvB wmqvg bq| wmqvg k‡ãi †h me evsjv Abyev` cvIqv hvq Zv‡ZI GUv eySv hvq †h, cvbvnvi Ges †hŠbm½g ‡_‡K weiZ _vKv wmqvg avi‡Yi GKUv cvjbxq c×wZ wKš‘ wmqvg bq|

KziAv‡bi †hme Avqv‡Z wmqv‡gi D‡jøL Av‡Q Zvi Zvrch© A‡š¦l‡Y †h mZ¨ D‡b¥vwPZ nq Zv wbgœiƒc t

1. Ô†n AvgvbyMY! †Zvgv‡`i Rb¨ wmqv‡gi weavb †`qv n‡jv, †hgb weavb †Zvgv‡`i c~e©eZx©MY‡K †`qv n‡qwQj, m¤¢eZ (G Øviv) †Zvgiv ZvKIqv AR©b Ki‡Z cvi‡e|Õ (myiv evKviv t 183)|

AvjøvnZvqvjv wmqv‡gi weavb w`‡q‡Qb ïaygvÎ Avgvby‡`i Rb¨| ZvB G Avqv‡Z m‡¤^vab Kiv n‡q‡Q ÔBqv AvBqy¨ nvjøvhxbv Avgvby Ñ †n AvgvbyMY!Õ ZvB cÖ_‡gB Rvbv `iKvi Avgvby Kviv| KziAvb g‡Z Rb¥MZfv‡e ‡KD Avgvby nq bv| Avgvbyi Ji‡m Avgvby Rb¥ †bevi †Kvb cÖvK…wZK e¨e¯’v †bB| gvbyl ZLbB Avgvby nq hLb ¸iæi AvbyMZ¨ MÖnY K‡i KziAv‡bi weavb‡K wbR Rxe‡b iƒcvwqZ Kivi Rb¨ cÖwZÁve× nq Ges ¸iæi cÖ`wk©Z c‡_ K‡g© wb‡qvwRZ nq| LvRv gyCbywÏb nvmvb wPkwZ e‡jb Ñ Ô‡h e¨w³i kv‡qL, gywk©` ev c_ cÖ`k©K †bB Zvi Øxb †bB| hvi Øxb †bB Zvi gv‡idv‡Z Gjvwn †bB| hvi gv‡idv‡Z Gjvwn †bB mZ¨c‡_i cw_K‡`i mv‡_ Zvi m¤úK© †bB| mZ¨c‡_i cw_K‡`i mv‡_ hvi m¤úK© †bB Zvi †Kvb ïfvKv•Lx †bB| hvi ïfvKv•Lx †bB Zvi †Kvb eÜz ev gywk©` †bB|Õ myZivs LvRv gyCbywÏb nvmvb wPkwZi g‡Z, hvi gywk©` †bB Zvi wmqvgI †bB| wmqv‡gi weavb †`qv n‡q‡Q Avgvby‡`i Rb¨, †h GLbI Avgvby nq bvB A_©vr gywk©` a‡i bvB Zvi Rb¨ G AvqvZ cÖ‡hvR¨ bq|

Gici KziAvb ej‡Q Ñ ÔKvgv KzwZev Avjvjøvhxbv wgb KvewjKzgÕ Ñ †hgb weavb †Zvgv‡`i c~e©eZx©MY‡K †`qv n‡qwQj Ñ G Ask †_‡K eySv hvq, mvjv‡Zi g‡Zv wmqvgI †Kvb be weavb bq hv †Kej †gvnv¤§` (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) ÑGui Abymvix‡`i Rb¨ Aek¨ cvjbxq| KziAv‡bi gva¨‡g wmqvg Aek¨ cvjbxq wn‡m‡e wb‡`©k G‡m‡Q wØZxq wnRwi m‡b  wKš‘ Gi Av‡MI wmqvg wQj| nhiZ Av`g (Av) †_‡K ïiæ K‡i ‡gvnv¤§` (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) ch©šÍ hZ bex-imyjMY Avwef~©Z n‡q‡Qb cÖ‡Z¨‡Ki Abymvix‡`i‡KB wmqvg aviY-cvj‡bi wb‡`©k †`qv n‡q‡Q| wn›`y, L„óvb, Bûw`, †eŠ×, cÖf„wZ agx©q m¤cÖ`v‡qI wmqvg cvj‡bi ixwZ cÖPwjZ wQj, GLbI Av‡Q| BwZnvm cv‡V Rvbv hvq, †gvnv¤§` (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) ÑGui wcZvgn Avãyj †gvËv‡jeI wmqvg cvjb Ki‡Zb| wmqvg cvjbKv‡j Avãyj †gvËv‡je †niv ¸nvq Avivabv Ki‡Zb e‡jI RxebxMÖš’ †_‡K Rvbv hvq| ZrKv‡j g°vi nvwbd m¤cÖ`vq Avjøvni GK‡Z¡ wek¦vmx wQj| nvwbdMY 570 L„óv‡ãi c~e© †_‡KB igRvb gv‡m g`¨cvb, †hŠbKg© Ges m~‡h©v`q †_‡K m~h©v¯Í ch©šÍ wmqvgeªZ cvjb Ki‡Zb Ges wbR©bev‡mi gva¨‡g AvZ¥ïw×i mvabv Ki‡Zb| KziAv‡bi AvqvZ Ñ Ô†hgb weavb †Zvgv‡`i c~e©eZx©MY‡K †`qv n‡qwQjÕ Ñ Gme HwZnvwmK Z‡_¨i mZ¨ZvB cÖgvY K‡i|

Avqv‡Zi cieZx© As‡k ejv n‡q‡Q Ñ Ôjv Avj&jøvKzg ZvËvKybÕ, ZvËvKzb k‡ãi †hme A_© cvIqv hvq Zv n‡jv Ñ mshg/mveavb/mZK© _vKv, gyËvKxi ¸Yvejx AR©b Kiv, ZvKIqv AR©b Kiv| wmqv‡gi Zvrch© GLv‡bB| KziAvb †h wmqvg `k©b Dc¯’vcb K‡i‡Q Zv‡Z Dcev‡mi †Kvb wbR¯^ g~j¨ bvB| Dcev‡mi Rb¨ Dcevm bq, ZvKIqv ev gyËvKxi ¸Yvejx AR©‡bi j‡¶¨ Dcevm GKUv c×wZ gvÎ| myZivs, cvbvnvi I †hŠbm½g †_‡K weiZ _vKv Bev`Z bq, Bev`‡Zi evwn¨K iƒc ev AvbyôvwbKZv|

‡Kvb †Kvb Abyev`K ÔZvËvKzbÕ k‡ãi A_© K‡i‡Qb ZvKIqv| GK wkl¨ imyj (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK)-†K wR‡Ám K‡iwQ‡jb, ÔûRyi ZvKIqv wK?Õ wZwb (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK) wb‡Ri ey‡Ki w`‡K Bkviv K‡i e‡jwQ‡jb Ñ ÔZvKIqv GLv‡b, ZvKIqv GLv‡b, ZvKIqv GLv‡b| ZvKIqv Ggb GKUv kã hv A‡bK¸‡jv ¸Y‡K aviY K‡i| mZK©Zv ev mveavbZvI ZvKIqv| KziAvb GKvwaKevi e‡j‡Q Ôwbðq Avjøvn mveavwb‡`i‡K fv‡jvev‡mbÕ (3t76, 9t7)| gywg‡bi Rb¨ Avjøvni fv‡jvevmv cvIqv m‡e©v”P ¯Í‡ii|

mvabvi `k©‡b t wmqvg

Ô†n wek¦vmx nIqvi c‡_i hvÎxMY, †Zvgv‡`i Dci wmqvg wewae× Kiv n‡jv, †hgbfv‡e wewae× Kiv n‡qwQj †Zvgv‡`i c~e©eZ©xM‡Yi Dci, †hb †Zvgiv ÔZvKIqvÕ Aej¤^b Ki‡Z cviÕ| (evKviv-2/183)

msjvc \ wmqvg mvabvq Dc‡iv³ Avqv‡Z ¯úófv‡e we‡kl ¸iæZ¡ †`qv n‡q‡Q, wbtm‡›`‡n| AZGe, Av`k© ü`qB ¸iæZ¡ †`qvi Rb¨ Dchy³ ¯’vb| hvi gva¨‡g gvbe‡`n Kvh©Ki f‚wgKv iv‡L| †hgb – ejv, ‡kvbv, cov, †`Lv A_v©r eySevi ¶gZv| GB ¶gZvB gvbyl‡K gnvgvby‡l iƒcvšÍi K‡i| gnvgvby‡li e¨w³Z¡B mKj wKZv‡ei aviK| gnvbex nhiZ gynv¤§` (huvi K…cv Avgv‡`i Dci ewl©Z †nvK)) wbKU Inx bvwR‡ji ci ZrKvwjb nvwdR‡`i wbKU Inx wQj kÖæZwbf©i I gyL¯Í K‡i aviY Ki‡Zb, Zv‡`iB AšÍ‡i ev ü`‡q| Kv‡RB gvbemËv e¨wZZ Inx aviY ev gyL¯Í Kivi gZ Ab¨ Kv‡iv ¶gZv †bB| nvwdR‡`i AšÍ‡i aviYK…Z Inx cieZ©xKv‡j gnbexi B‡šÍKv‡ji A‡bK c‡i cweÎ KziAvb Aviex fvlvwjwc‡Z wKZve AvKv‡i ¯’vb K‡i †bq| Kv‡RB GLv‡b ¯úó gvby‡li ü`qB g~j-wKZve †h co‡Z I eyS‡Z cv‡i Zvi Avcb Áv‡bi fvÛvi mwÂZ n‡Z _v‡K| cweÎ KziAv‡b AvjøvnZvÕjv ¯úófv‡e eY©bv K‡i‡Qb, Ôm„wói mKj wb`k©bB Zvi AvqvZÕ| mgMÖ gnvwe‡k¡ m„wóB n‡jv RvZ-wKZve, mKj wKZv‡ei Rb¥`vZv| mKj m„wó ev wb`k©bmg‚n Awek¡vm Kiv gvby‡li †Kvb my‡hvM ‡bB| myZivs, wKZv‡ei Zvrch© ev g‚jm‚Î Avgv‡`i‡K eyS‡Z n‡e Ávb A‡š^l‡Y c‡_i hvÎx n‡q| cweÎ KyiAv‡bi ‡Kvb e¨vL¨v nq bv| gvby‡li AšÍivbyf‚wZ‡Z µgvMZfv‡e kyayB weKvk NUvq| GBRb¨ KziAvb k‡ãi A_© evievi cvV‡hvM¨ ev cwVZ| GKwU mij K_v- cweÎ KziAv‡bi Aci bvg ÔdziKvbÕ| dziKvb gv‡b mZ¨vmZ¨ A_v©r m‡Z¨i Mfx‡i mZ¨ Avwe®‹vi| ‡dviKvb dvivK kã ‡_‡K DrcwË| dvivK gv‡b cv_©K¨ Kiv| cv_©K¨ Kivi ¶gZv kyaygvÎ gvby‡li AšÍ‡ii, wKZv‡ei bq| Av`k© gvby‡li AšÍiB Av`k© KziAvb, whwb cweÎ KziAvb‡K mwVK g‚j¨vqb I mZ¨ Avwe®‹vi K‡ib| Avi, Ab¨fv‡e KL‡bv KziAvb eySv Am¤¢e, ¸iæ ev wk¶K A_ev Av`k© gvbyl jvM‡eB| mKj fvlvB gvby‡li wPšÍvRM‡Zi AšÍ‡ii wµqv, e¨vcKfv‡e eySevi ¶gZv|

ÔwmqvgÕ A_© ÔmshgÕ, web‡qi mv‡_ˆah©-aviYc~e©K mKj K‡g©i mxgv AwZµg n‡Z weiZ ivLv| wKZve A_© Ô†`nÕ e¨w³, e¯‘ ev †Kvb wKQyi MvVwbK KvVv‡gv| ÔwmqvgÕ wewae× Kiv nj A_v©r gvbe‡`‡ni mv‡_ mshg weRwoZ ivLv nj, Avcb Dcjwä‡Z cweÎ nIqvi Rb¨| Ôgvbe‡`nÕ‡KÕ ÔwKZveÕ ejv n‡q‡Q| KviY, gvby‡li gbyl¨Z¡B mKj ÔwKZveÕGi g‚jDrm| wKZveÕG cÖKvk¨ iƒc nj Ôgvbe‡`nÕ Ges ÔAf¨šÍixbÕ iƒc nj A`„k¨ kw³i e¨vL¨v, Hk¡wiK welq AvZ¥-Dcjw× ¯úó Kivi cÖ‡Póv| gvbe‡`‡n ÁvbÕGi Aw¯ÍZ¡‡ev‡a †Kvb iƒc ‡bB, kw³iB we‡kølY Kiv nq, Rxe‡bi f‚wgKvq| GLv‡bB ‡KejgvÎ mªóvi weKvk jvf, mªóvi e¨vL¨v P‡j m„wói Z‡Ë¡, Avcb AšÍ‡iB Gi `„p-Ae¯’vb, kw³i ‡gŠwjK welq, AvZ¥‡ev‡ai `L‡j| m„wógvÎ kw³i f‚wgKv m¡Ztù‚Z© I Awbevh©| cvw_©e ‡fvM-jvjmvi Rxeb n‡Z gyL wdwi‡q AvZ¥kw³‡Z Avcb mªóvi gyLv‡c¶x _vKv, A_v©r ÔÁvbgyLx nIqvÕ|

gvby‡li wPšÍvRMZ‡K cweÎ ivLvB nj mKj a‡g©i g‚j D‡Ïk¨| m„wói g‡a¨ hZ Dcv`vb i‡q‡Q Gi g‡a¨ mÖóvi weKv‡ki Rb¨ ïay gvÎ Ôgvbe‡`nÕ Dchy³ ‡¶Î| Avevi, GB weKv‡ki Rb¨ c~e©kZ© n‡”Q Áv‡bi Av‡jv‡K Av‡jvwKZ nIqv| ÔcweÎZvÕ mKj wek¦v‡mi c‚e©kZ©| gvbe mgv‡R ÁvbÕGi ‡P‡q cweÎ Ab¨ wKQy‡Z ‡bB| cwi®‹vi-cwi”Qbœ, ‡Mvmj, Ihy BZ¨vw` Kvh©Kjvc cweÎZv AR©‡bi Rb¨ AvbyôvwbKZv| GBme w`‡q ‡`n‡K cweÎ Kiv ‡M‡jI Af¨šÍixb cweÎZv my`‚icivnZ| mZ¨-Dcjwäi gva¨‡g gvbyl Zvi gbyl¨‡Ë¡i †R¨vwZg©q Av‡jv‡Z cÖKvwkZ| ÔmZ¨Õ cÖKv‡ki ciB ÔkvwšÍÕ (Bmjvg) Gi Avwefv©e N‡U, Ab¨fv‡e bq|  ÔmshgÕ ev ÔwmqvgÕ c×wZ wewae× Kiv n‡q‡Q †h‡nZz gvbe‡`n Zvi ¯^fve Pwi‡Î ¸Yv¸Y MÖnY-eR©b ¶gZv iv‡L| cweÎZv n‡jv gvbe ag©-Gi wVKvbv| gvby‡li Ôag©Õ kyaygvÎ Zvi mvgvwRK KvVv‡gv‡Z fi K‡i cÖwZwôZ nq| mvgvwRK KvVv‡gv nj gvbe mf¨Zvi gyjwfwË, µgweKv‡ki c_| a‡g©i Av‡jv‡K gvbeRvwZ mf¨Zv †c‡q‡Q bex imyj‡`i Ae`v‡b wKš‘ AvRI gvbyl mf¨ nqwb|

kyay Dcev‡mi g‡a¨ wmqvg wbewÜZ bq, gvbemËvq RxebvPi‡Y ky×Zv ev cweÎZv wmqv‡gi g‚j Av`k©| e¯‘RM‡Z Askx`vwiZ¡ mKj Aciva‡ev‡ai Drm| GB Askx`vwi‡Z¡i mKj Dcv`vb cwiZ¨vM Kivi mvabv ev Gev`‡Zi ‡h c×wZ Zvi bvgB ÔmIgÕ| Kvg, †µva, †jvf, †gvn, g`, gvrmh© BZ¨vw` wicy `g‡b Aciva‡ev‡ai Dcv`vbmg‚n ÔwmqvgÕ mvabv Øviv wbqš¿Y K‡i Avjøvni AvkÖ‡q Dchy³ Kiv hvq| Aciv‡ai Dcv`vbmg‚n cwiZ¨³ KivB n‡jv ÔwmqvgÕ ev msh‡gi g‚jK_v| whwb ÔwmqvgÕ ev ÔmshgÕ cvjb K‡ib Zv‡K Aviex‡Z Ômv‡qgÕ e‡j|

mv‡qg‡`i g‡b Aciva‡eva-Dcv`vb mg‚n k~b¨ n‡j cweÎZvq AšÍigq Av‡jvwKZ n‡q hvq| e¯‘RMZ ‡_‡K Ávb jvf Kivi mgq mv‡qgÕGi wbK‡U ‡Kvb Aciva‡ev‡ai Dcv`vb Dcw¯’Z n‡j, cweÎ ÔAvZ¥‡evaÕ ev Ôwe‡eKÕ cÖnixi gZ Zv Zvi gvbwmKZvq evav ‡`q| mv‡qg mZ¨-Dcjwä‡Z Rxebhvc‡bB AwaK AvMÖnx I AvK„ó| Zv‡`i Rxe‡bi PvIqv-cvIqv kyay cweÎZvi g‡a¨ wbewÜZ I AmrKg© ‡_‡K weiZ _vKv| hv ‡_‡K wek¡vm cÖvwß N‡U| ÔwmqvgÕ ev mshg hLb gvby‡li Kvh©µ‡g cwiYZ nq, ZLb ÔmvIgÕ gvby‡li ÔgvbwmK-A¯¿Õ| ÔmvIg RxešÍPwi‡Îi Xvj ¯^iƒcÕ, Ab¨v‡qi cÖwZ‡iva ¶gZv|

cweÎ KziAv‡b ¯úófv‡e ÔwmqvgÕ m¤ú‡K© ejv n‡q‡Q-

ÔwmqvgÕ mvabv Avcb mËvi AÁvbZv `‚i K‡i| kyay Dcev‡mi ga¨ wmqvg mxgve× bq| Rxe‡bi me©‡¶‡Î msh‡gi f‚wgKv Awbevh© kZ©| Av‡jvq Av‡jvwKZ K‡i Rxe‡bi cÖ`xc, gvbe mgvR‡K cÖMwZ c‡_ wb‡q hvq| Áv‡bi Av‡jv-B R¡vjv‡Z nq, Kj¨vYgyLx gvby‡li mgv‡Ri Rb¨| gvby‡li Abyf‚wZMy‡jv cweÎZvq c~Y© n‡q R‡b¥ Av¯’v hv wek¦vmx nIqvi Rb¨ Acwinvh©| mij mwVK Rxeb cvj‡bi Rb¨ ÔmshgÕ ev ÔwmqvgÕ Z¨v‡Mi gwngvq, Am`vPiY cwinvi Kivi cig bxwZ, gvbeRxe‡b Acwinvh©, Ab¨ †Kvb Dcvq †bB| ÔwmqvgÕGi f‚wgKvq, Z¨v‡Mi gwngvq, civ_© g‡š¿ gvbe-mgv‡R Rxebhvc‡b ÔkvwšÍÕ ¯’vc‡b ZË¡ wn‡m‡e AvRI Avwe¯‹…Z nqwb| gvbe mgvR ej‡Z eySvq-ÔG‡Ki Dci A‡b¨i wbf©iZvÕ| †Kvb gvbylB KL‡bv gyLv‡c¶x bq, kyay Zvi K‡g©i `vwqZ¡-KZ©e¨ cvjb K‡i mªóvi `vm‡Z¡i AvbyMZ¨ cÖKvkB j¶¨| Kg©B m‡ev©rK…ó Dcvmbv| Dcvmbv gv‡b Dcvq  †LvuRvi Abyôvb, Rxebvbyôv‡b|

Aviex‡Z ÔBmjvgÕ gv‡b ÔkvwšÍÕ, †Kvb ag© bq, gvby‡li Rxeb Pjvi c_, Ávb‡hv‡M P‡j, cweÎZv GLv‡b gyL¨ f‚wgKv cvjb K‡i| ag©ÕGi cwi®‹vi e¨vL¨v n‡jv ÔPwiÎÕ ev Ôˆewkó¨Õ A_ev ¯^fve| e¯‘ ev RxebgvÎB ag© ev ¸‡Yi AwaKvix n‡q m„wó nq Ges ‰ewkó¨ cÖKvk K‡i| e¯‘i mKj ag© I ‰ewkó¨ i‡q‡Q Rxeb m„wó‡Z| Avevi, gvbyl e¯‘i ag© bv-Rvb‡j, e¯‘‡K mbv³ Kiv m¤¢e bq, Rxe‡bi Dbœqb P‡jbv| Gi d‡j, gvbeRxe‡b µgweKvk nIqvq my‡hvM ‡bB I Rxeb Pjvi c_I m„wó n‡ebv| Áv‡bi Avav‡i iwPZ gvby‡li ÔKg©ÕB RxebÕGi mijc_| ZvwË¡K `k©b K‡g©B Zvi iƒcvqb| Drcv`b ev Avwe¯‹v‡i gvbeRxe‡b j¶¨ m„wó nq, j¶¨nxb Rxe‡bi †Kvb c_ nqbv| Avwe¯‹vi gv‡b †Pbv, †PbvUvB gvby‡li ÁvbvR©‡bi nvwZqvi, ÁvbB c_ m„wó K‡i gvbwmKZvi iƒcvqb|

ÔkvwšÍÕ AR©‡b ÔwmqvgÕ ev msh‡gi f‚wgKv ¸iæZ¡c~Y©| c~Y©Zv AR©‡bi Rb¨ gvbyl µgvMZfv‡e ÁvbÕGi mvgªv‡R¨ wePiY K‡i gnvwek¡‡K wN‡i, gnvkw³i jxjv‡¶Î, Avcb Dcjwä‡Z| ÔmZ¨Õ Avwe¯‹v‡i gvby‡li AwfÁZvi Rb¥, Ávbiƒ‡c gw¯Í‡®‹ VvuB K‡i wb‡q‡Q, gvbwmKZvi dmj| gvbwmKZv n‡jv gvby‡li †gavkw³, Rxe‡bi cik gvwbK| ÔÁvbÕ AvKvinxb Av‡jŠwKZv, †jŠwKKZvi †gŠwjK A_ev wbivKvi wKš‘, mKj Aw¯Í‡Z¡i aviK Ôag©Õ iƒ‡c hv gvby‡liB cÖvwß N‡U‡Q| wek¦v‡m cÖPwjZ a‡g©i AvMgb hv AvbyôvwbKZvq Ave×| wek¦vm nj gvby‡li kw³ m¤ú‡K© cÖ_g I †gŠwjK aviYv| Rxe‡bi f‚wgKvq m„wó K‡iwQ‡jv Abyf‚wZi Av‡›`vjb|

Rxeb GK Ac~e© my›`i gvby‡liB mnR ¯^xK„wZ, ÔmZ¨Õ I my›`‡ii c~Rvix| ÔmshgÕ ev ÔwmqvgÕ gvby‡liB Avivabvi, Hk¡wiK mvabv, weky×Zv ev cweÎZvi Rxebhvcb| gvbyl g‚L©Zv ev AÁZv ‡_‡K gyw³ Pvq, Rxe‡bi mg„×Zvi Rb¨| ¯^vej¤^x I ¯^qsm¤ú~Y©Zv GKK mËvq cwiYZ nIqv gvbeRxe‡bi j¶¨| gvbe Rxeb Pwi‡Î Pvwn`v gvÎB cvIqv hvq, GB mvabvq wjß| Agi nIqvi evmbv I mvabv gvby‡li wPiKv‡ji| gvby‡li ‡`nUv gvbyl bq, Zvi, gvbwmK-hš¿YvUvB gvbyl, Abyf‚wZi Av‡›`vjb| mvgvwRK KvVv‡gvi g‡a¨ cÖK„wZi AbyK‚j cwi‡e‡k eskµ‡g †h gvby‡li Rb¥ n‡q‡Q, wPšÍvkw³i ¶gZv I mvgvwRK wewae¨e¯’v, ÁvbÕGiB n¯ÍvšÍ‡i, †m Áv‡bi g„Zz¨ †Kv_vq? †m ÔÁvbÕB P‡j gvby‡li AbyK‚j cwi‡e‡k esk ci¤úivq| gvbyl nIqvi cwiPq cvIqv hvq msh‡gi f‚wgKvq| ˆah©aviYKvix I webqxivB ÔmshgxÕ| Avgv‡`i‡K ÔmshgÕ wK! fvj K‡i eyS‡Z n‡e| ÔwmqvgÕ Aviex kã Avie‡`i Rb¨, ZvivB Zv‡`i gZ K‡i fvj eyS‡e, cÖvK…wZK ‡fŠ‡MvwjK cwi‡e‡k| GB we‡k¡ †fŠ‡MvwjK cwi‡e‡k mg¯Í welqUv `vk©wbK e¨vL¨vi `vex iv‡L| Rxebe¨e¯’vi Rb¨B ÔmshgÕ, †hLv‡b gvbe Kj¨vY wbwnZ| ag©ÕGi µgweKvk n‡jv Av‡jviB gkvj, gvbe Áv‡bi fvÐvi, c_ cÖ`k©b K‡i| ÔkvwšÍ cÖwZôvq Rxe‡bi f‚wgKvq ÔmshgÕ Abb¨ Ges kvwšÍi (Bmjv‡gi) g~jgš¿|

করোনা বার্তা করোনা শিক্ষা

সাগর সগীর বিংশ শতাব্দী শুরুর প্রথম এক দুই দশকে বিজ্ঞান প্রযুক্তিসহ সমাজ ও অর্থনীতিতে সম্ভাবনার যে পদধ্বনি ভেসে আসছিল তার প্রেক্ষিতে শুরু হওয়া এই শতাব্দীকে ‘সম্ভাবনার যুগ’ বলে অভিহিত করা হয়েছিল। বিস্ময়কর সেই সম্ভাবনার ‘যান্ত্রিক তরী’ বেয়ে বিংশ শতাব্দী বিদায় নিয়েছিল মানব জাতির জন্য  অবাক-করা সব উপহার দিয়ে।

আর ২১ শতক, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তিসহ ব্যাক্তি, পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র, একই সাথে অর্থনীতি রাজনীতি, সমাজনীতি প্রায় সবকিছুকেই এনে দাঁড় করিয়ে দিতে শুরু করে যুগান্তকারী পরিবর্তনের মুখে অপ্রত্যাশিত ভাবে, যার ফলে একবিংশ শতাব্দী হয়ে উঠতে শুরু করে ‘অতি সম্ভাবনার যুগ’ হিসাবে।

আর আজ চলমান এই শতকের দুই দশক সমাপ্তির মুখে এসে গোটা বিশ্ব আকস্মিক মুখোমুখি হলো অভাবনীয় অচিন্তনীয় অভূতপূর্ব এক পরিস্থিতির, এক বাস্তবতার। বলার অপেক্ষা রাখে না যে এর নায়ক অথবা খলনায়ক, যাই বলা হোক না কেন সেটি হলো করোনা ভাইরাস- কোভিট ১৯। মানব সভতার ইতিহাসে এই প্রথম তথাকথিত অনুন্নত বিশ্ব থেকে উন্নয়নশীল এবং এমনকি উন্নত বিশ্ব পর্যন্ত করোনার কাছে করতে হয়েছে অসহায় আত্মসমর্পন, যার নাম ‘লকডাউন’। গোটা পৃথিবীতে মুখে মুখে বক্তৃতা, বিবৃতি, আলোচনায়, পর্যালোচনায়, সংবাদপত্রের পাতায় পাতায়  এবং ইলেক্টনিক কিংবা সোস্যাল মিডিয়ায় দুটি শব্দ ঘুরে ফিরে উঠে আসছে অবিরাম, নজীরবিহীন ভাবে, যার নাম করোনা ভাইরাস এবং লকডাউন।

 ‘করোনা’ আর ‘লকডাউন’ প্রবল সুনামী  ভয়ংঙ্কর ঘূর্ণিঝড় কিংবা  বিধ্বংসী ভূমিকম্পের মতই ধ্বংস, চুরমার করে দিচ্ছে, দিয়ে চলছে মানুষের স্বপ্নের সাজানো বাগান। এলোমেলো উলট-পালট করে দিচ্ছে ব্যক্তি ও পরিবার থেকে প্রতিষ্ঠান, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের সকল হিসাব-নিকেশ, উদ্যোগ, প্রকল্প, পরিকল্পনা- বলা যায় সবকিছুই। ইতিমধ্যেই করোনা ভাইরাস তার ঝুড়িতে ভরে নিয়েছে তার অপ্রতিহত ক্ষমতার স্বীকৃতির সবচেয়ে বড় তকমাটি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষনায় যার নাম দেয়া হয়েছে ‘মহামারী’র বদলে ‘অতিমারী’! 

করোনা নিয়ে গোটা বিশ্বব্যাপী চলছে বহুমাত্রিক ব্যাখা-বিশ্লেষন যা চলমান, কতদিন চলমান থাকবে বলা মুশকিল। তবে করোনা যে মানব জাতির জন্য ‘করোনা বার্তা’ এবং ‘করোনা শিক্ষা’ নিয়ে আসছে তা একটু গভীরে গিয়ে দেখলেই সহজে বুঝা যায়। সংক্ষেপে প্রাথমিক তাৎক্ষনিক পর্যবেক্ষনে এই করোনা বার্তা ও করোনা শিক্ষা হচ্ছে-

করোনা বার্তা:

করোনা ভাইরাস প্রথমতঃ  আমেরিকা, রাশিয়া, চীনের মতন বিশ্বের তাবদ শক্তিধরদের সামনে এই স্পষ্ট বার্তা তুলে ধরেছে যে –

‘তোমরা দেখিয়ে এসেছো, বলে চলেছো  কি  পারমানবিক, কি  আনবিক বোমায়, কি অপ্রতিহত সামরিক বাহিনী অথবা অবাক করা তথ্য প্রযুক্তিতে, কত্তো শক্তিধর তোমরা!

এবার দেখো কতো শক্তহীন তোমরা আমার মত এক অদৃশ্য জীবাণুর কাছে !

করোনার দ্বিতীয় বার্তাটি বলা যায় ‘কঠিন বার্তাটি’ হলো, বাঙ্গালী কবির ভাষায় –

‘সকলের তরে সকলে আমরা,

প্রত্যেকে আমরা পরের তরে’। 

অর্থাৎ, (প্রতীকী অর্থে হলেও !) মাস্ক কেন পরতে হবে ? ‘তোমার সুস্থ থাকার জন্য কেবল নয় (!) , আমার সুস্থ থাকার জন্যও, আমাদের সকলের সুস্থ থাকার জন্যও।

আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থকেন্দ্রিক এমন কি পরিবার গোষ্ঠী থেকে রাষ্ট্রকেন্দ্রিক জীবন ভাবনার মূলে আঘাত হেনে চলেছে করোনা ! বুঝিয়ে দিয়েছে দিচ্ছে  ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ অর্থাৎ যেন সত্যিকারের ‘বিশ্ব-গ্রামের’ বাসিন্দাদের মতই রাষ্ট্রগুলোকে পথ চলতে হবে একে অপরের হাত ধরে – নিজেদেরই প্রয়োজনে নিজেদেরই স্বার্থে।

করোনার তৃতীয় বার্তাটি হচ্ছে

জুতা আবিষ্কারের রূপক গল্পটির  শিক্ষা । পা কে ধূলোমুক্ত রাখার উপায় যেমন পথ ঘাট ধরিত্রী চামড়ায় ঢেকে দেয়া না, বা জল ছিটিয়ে ধূলোকে কাদায় পরিণত করাও না, ঠিক তেমনি, করোনা ভাইরাসদের হাত থেকে রেহাই পাবার পথ লকডাউন না। যদিও এই মূহূর্তে তা  আপাতত, কার্যত অবিকল্প। কিন্তু তা কোনক্রমেই স্থায়ী অথবা মাসের পর মাস কিংবা বছরব্যাপী চলতে পারে না। আবার কোন ভ্যাকসিনও স্থায়ী সমাধান না। কয়টার জন্য ভ্যাকসিন বের করবে ! সার্স, ইবোলা ইত্যাদি যে একের পর এক আসছেই এবং আসতেই থাকবে ! 

করোনার প্রতিরোধে এক্ষেত্রে শিক্ষাটি হলো, মানুষের শরীরে সহজাত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বিনষ্ট হতে না দেয়া, তা পুনরুদ্ধার করা, সংহত রাখা । কেবল তাহলেই করোনাই হোক বা হোক তার চেয়ে শক্তিশালী ভাইরাস, মানুষের সহজাত অটুট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সেসবকে দেহে নিষ্ক্রিয় করে রাখার ক্ষমতা রাখে সারা জীবন।

করোনার চতুর্থ বার্তাটি হলো

মানুষের মধ্যে চলে আসা, বিদ্যমান বহির্মুখী, বহির্জগতমুখী প্রবনতাকে অন্তরমুখী, ভেতরমুখী  হওয়ার,আত্মমুখী হয়ে উঠার তাগিদ। চব্বিশ ঘন্টার জীবনে আমরা চব্বিশ মিনিটও একান্ত নিজেকে নিয়ে কাটাই না, একান্তে নিজের মুখোমুখি হওয়া, নিজের সাথে নিজেকে নিয়ে সংলাপ করি না ! করোনায় ঘরবন্দী দশা বাধ্যতামূলক ভাবে সে সুযোগ করে দিয়ে মানুষকে ‘আত্মজিজ্ঞাসা’ আত্মমগ্ন’ হতে বলছে যেন ! যেন করোনাকে দিয়ে মহাকালেশ্বর মানুষকে আত্মজিজ্ঞাসার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ করে দিলেন।

করোনা শিক্ষাএক:

করোনার প্রথম শিক্ষাটা হচ্ছে ব্যক্তি, পরিবার  এবং রাষ্ট্রের সামনে বর্তমানের মতই, বর্তমান দিনগুলির মতই  আগামী দিনে, আগামী বছরগুলোতে প্রধান ভাবনা, মূল মাথা ব্যথা, ‘নাম্বার ওয়ান এজেন্ডা’ হয়ে উঠছে, হয়ে উঠবে ‘স্বাস্থ্য’ ।

করোনা শিক্ষাদুই: 

আর এই স্বাস্থ্যের প্রশ্নে মূল মনোযোগ হবে রোগ প্রতিকারে নয় রোগ প্রতিরোধে  –  ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘Preventive health’। অবশ্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে সেই প্রাচীন কাল থেকেই এই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়ে আসছিলো। চিকিৎসা নীতিতে ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘Prevention is better than cure’। অর্থ্যাৎ রোগ প্রতিকারের থেকে রোগ প্রতিরোধটিই শ্রেয়। অথচ এতকাল ধরে কি পারিবারিক, কি রাষ্ট্রিয় চিকিৎসা উদ্যোগে প্রাধান্য পেয়ে আসছিলো রোগ প্রতিকারের বিষয়টি!

আজ ঘটনার আকস্মিকতায় বিশ্বের প্রায় ছোট বড় প্রতিটি রাষ্ট্রই করোনা ভাইরাস আক্রমন -সংক্রমন ঠেকাতে বেছে নিতে বাধ্য হয় ‘লকডাউন’ নামক প্রতিরোধী হাতিয়ারটিকে। যার বিকল্পও ছিলোনা বস্তুতঃ। কিন্তু বাস্তবে করোনা ভাইরাসের চেয়েও বড় ক্ষতির কারন হিসেবে দেখা দিয়েছে লকডাউন নিজেই। বলা যায় অপূরনীয় ‘আর্থিক বিপর্যয় ‘আর আকস্মিক ভয়াবহ দারিদ্র বিপর্যয়ে বেসামাল দশা সর্বত্রই সর্বক্ষেত্রেই। প্রায় দিশেহারা আজ পরিবার বা প্রতিষ্ঠান প্রধান আর রাষ্ট্র বা বিশ্ব কর্নধারগন। বিষয়টি এরকম ‘কুইনাইনে জ্বর সারবে, কুইনাইন সারাবে কে’! অথবা এ যেন মাথা বাঁচাতে গিয়ে খোদ মাথাটিই কাটা পরার উপক্রম। করোনা প্রতিরোধে ভ্যাক্সিনেও  ভরসা রাখা যাচ্ছেনা যদিও কবে এর ভ্যাক্সিন আসবে, কত মাসে, এমন কি কয় বছরে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ পর্যায়েই ‘নানা মুনির নানা মত’। এছাড়া ভ্যাক্সিন কয় ভাইরাসকে ঠেকাবে!  ইবোলা,সার্স ….থেকে কোভিট ১৯ একের পর এক যে আসতেই থাকে, থাকছে ঘূর্ণীঝড়, টর্নেডো, ভূমিকম্পের মতই!

করোনা শিক্ষা

স্বাভাবিকভাবেই তাই প্রশ্ন উঠে আসে লকডাউন- ভ্যাক্সিন এর বাইরে কোন সে হাতিয়ার আছে যা করোনাদের ঠেকাতে হয়ে উঠবে অব্যর্থ ?

প্রথমেই এরূপ যে হাতিয়ারটির নাম উঠে আসে তা হচ্ছে ‘way of life’ বা জীবন যাত্রা জীবন ধারা বদল। করোনা মোকাবেলায় মানুষকে, পুনর্বিন্যাস করতে হবে, পাল্টাতে হবে তার জীবন যাত্রা- জীবন ধারা। বিশ্বের আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রের শীর্ষস্থানীয় গবেষক- পন্ডিতগণ একযোগে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ,উচ্চ রক্তচাপ, আর্থ্রাইটিস, স্ট্রোক, ক্যান্সার, কিডনীর সমস্যা এমনকি এইডস এর মত জীবন ঝুঁকিপূর্ণ রোগগুলির জন্য দায়ী করেছেন  এই way of life বা জীবন যাত্রা জীবন ধারাকে।

রোগ প্রতিরোধে দ্বিতীয় শক্তিশালী হাতিয়ারটির নাম ভেষজ চিকিৎসা তথা হারবাল মেডিসিন। 

তৃতীয় হাতিয়ারটি হচ্ছে জৈব বিদ্যুৎ ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি যার মধ্যে রয়েছে আকুপাংচার, আকুপ্রেশার, রিফ্লেক্সোলজি।

চতুর্থ হাতিয়ারটি হচ্ছে যোগ,যাকে বিশ্বব্যাপি পরিচিত শব্দে বলা হয় Yoga। 

পঞ্চম হাতিয়ারটি হচ্ছে, সাধারনভাবে যাকে বলা হয়ে থাকে প্রাকৃতিক চিকিৎসা-ন্যাচারপ্যাথি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জল চিকিৎসা (water therapy),  রং চিকিৎসা (colour therapy), মাটি চিকিৎসা (Mud therapy), রৌদ্র স্নান চিকিৎসা (Sun bath treatment)।

ষষ্ঠ এবং শেষ হাতিয়ার টি হচ্ছে ধ্যান (Meditation), কাউন্সিলিং (পরামর্শ), মোটিভেশন বা উদ্বুদ্ধকরন।

সত্য যে কঠিন কঠিনেরে ভালোবাসিলাম

সংলাপ ॥ রবীন্দ্র-মানবতাবাদ আসন নিয়ে ছিল ভাববাদের ওপর। ইউরোপীয় রেনেসাঁয় জাগরিত রবীন্দ্রনাথ ‘নানা রবীন্দ্রনাথের’ জন্ম দিয়েছেন কিন্তু সাধারণের রবীন্দ্রনাথ কি তিনি হতে পেরেছেন?


‘পঁচিশে বৈশাখ চলেছে

জন্মদিনের ধারাকে বহন করে

মৃত্যুদিনের দিকে।

সেই চলতি আসনের উপর বসে

কোন ভাবুক গাঁথছে

জন্মমৃত্যুর সীমানায়

নানা রবীন্দ্রনাথের একখানা মালা’।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণে রাখতে হয় রবীন্দ্রনাথের নানামুখী সৃষ্টি কর্মে গাঁথা একখানা কালোত্তর বৃহত্তর রবীন্দ্রনাথের জন্যেই। সাহিত্যের সৃজনশীল ধারায় নিজের একক অবস্থানকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন তিনি। নিজের কালের এবং পাঠকের কালে তাঁর ব্যাপ্তি এতোটাই প্রসারিত যে রবীরশ্মির জাজ্জ্বল্যমানতা এখনো অক্ষুন্ন।

সাহিত্যে শিল্পমানের বিচারে রবীন্দ্রনাথ অপ্রতিদ্বন্দ্বী নিঃসন্দেহে। বাংলা সাহিত্যের গলিপথ থেকে রাজপথ তাঁর হাতেই পেয়েছে উৎকর্ষতা। সদ্য প্রসূত বাংলা গদ্য যখন হাঁটি হাঁটি পা পা করে চলতে শুরু করেছে, প্রবেশ করছে সাহিত্যের নানা ধারায়, তখন রবীন্দ্রনাথের সৃজনশীল প্রতিভালোকে বাংলা গদ্য পেল নতুন প্রাণরস, পল্লবিত হলো যৌবন রাগে। পদ্যকেও তিনি প্রসারিত করলেন তাঁর আদর্শিক স্রোতধারায়। তাঁর শিল্প কর্মের কাছে সমালোচকের তলোয়ার ‘কুর্নিশ’ করলেও, কর্মের পেছনে যে এক ও অভিন্ন ভাবাদর্শ কাজ করেছে, তা নিয়ে বিতর্কের কাটাকুটি বিস্তর। বোধ করি, বাংলা সাহিত্যে একমাত্র তিনিই এই সৌভাগ্যের অধিকারী যাঁর জীবন ও কর্মের ভুবনে ভীড় করেছে ও করছে অসংখ্য সমালোচক ছুরি, কাঁচি, মোমবাতি ও ফুল হাতে।

যে কালের হাতে নির্মিত হয় যে মনন বা সত্তা, সেই কালকে সেই মনন বা সত্তা কতটুকুইবা অতিক্রম করতে পারে? রাবীন্দ্রিক বিতর্কটা সেখানেই। অভিযোগ আছে এবং সত্যও যে, রবীন্দ্রনাথ তার প্রতিটি শিল্প কর্মের ধারায় অবগাহন করতে করতে এক সময় ‘একমাত্র সত্য’কে আঁকড়ে ধরেছেন। আত্মার সাধনাতেই হয়েছেন তিনি মশগুল নিরন্তর। এ জন্যে বাস্তবতার সুকঠিন পথে লব্ধ অভিব্যক্তিকে তিনি সেই সত্যময় জ্যোতির্ময় সত্তার স্বার্থেই অবলীলায় পরিহার করেছেন। আর্থ-সামাজিক জীবনের কোন প্রকার আবিলতায় তিনি তাকে কলুষিত হতে দেননি। এখানে তাঁর আত্মমগ্ন এক অটল ধ্যানী ব্যক্তিত্বের পরিচয় বিভাসিত হয়। এ জন্যেই তাঁর কবিতায় ধ্বনিত হয় – ‘সত্য যে কঠিন কঠিনেরে ভালবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা, অমৃত্যু দুঃখের তপস্যা এ জীবন, সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে’। সত্যের উপাসক রবীন্দ্রনাথ জানতেন যে, কর্মে ও কথায় ঐক্যতা এলেই সত্যের সাথে আত্মীয়তা হয়। এই বোধ থেকেই তিনি ব্যক্ত করেছিলেন –

‘সত্য মূল্য না দিয়েই সাহিত্যের

খ্যাতি করা চুরি

ভালো নয়, ভালো নয় নকল

সে সৌখিন মজদুরি’।

কিন্তু রবীন্দ্রনাথ নিজেই কি এই ‘সৌখিনতার’ ঊর্ধ্বে উঠতে পেরেছিলেন? তাঁর সামাজিক অবস্থান কি তাঁকে কখনোই প্রভুত্বের আসন থেকে নেমে এসে মাটির সাধারণ মানুষের সাথে জীবনের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিতে দিয়েছে?

‘এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক’ – পরিচয়ে তিনি পরিচিত হতে চেয়েছেন, কিন্তু পারেননি। ত্রিশোত্তর কালের রবীন্দ্রনাথের এই চাওয়া বাস্তবে রূপ দিতে দেয়নি, তাঁর ভিতরে অবস্থিত সোহংবাদী ও সামন্তবাদী রবীন্দ্রনাথ।

তাই বৈশ্বিক চেতনায় রবীন্দ্রনাথ যতটা উদ্ভাসিত ও প্রতিষ্ঠিত, ঠিক ততটাই ব্যর্থ তাঁর মাঝে অন্য এক বিপ্লবী শিশু রবীন্দ্রনাথকে বিজয়মাল্যে বরণ করে নিতে। আসলে রবীন্দ্র-মানবতাবাদ আসন করে নিয়ে ছিল ভাববাদের ওপর। ইউরোপীয় রেনেসাঁয় জাগরিত রবীন্দ্রনাথ ‘নানা রবীন্দ্রনাথের’ জন্ম দিয়েছেন কিন্তু সাধারণের রবীন্দ্রনাথ কি তিনি হতে পেরেছেন! মানুষের সাধারণ সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, দৈন্যতা, অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক সমস্যা সব কিছুই তিনি চিত্রিত করেছেন, কিন্তু সে চিত্রায়নে কোন স্বাধীনতা ছিল না। বার বার ভাববাদীতার পরাধীনতায় তা আটকা পড়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে তিনি সে স্বীকারোক্তিও করেছেন যে তিনি সামন্ত-বুর্জোয়া মানসিকতা বর্জনে ব্যর্থ। এই স্বীকারোক্তি তাঁর মাহাত্ম্যকেই প্রকাশ করেছে কি? তাঁর ‘ঔপনিষদিক-মন্ত্রপূত সাহিত্য’ তৎকালীন ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কি সহায়তা প্রদান করেনি? কবি মনন ও কর্ম প্রক্রিয়ায় যে দ্বান্দ্বিকতার চেনা জগতে তিনি বিচরণ করেছেন, তা তিনি কোন্ সত্যের শক্তিতে করেছেন? আসলে তাঁর ছিল একটি নিজস্ব দর্শন, যা তাঁকে তাঁর আভিজাত্যতাকে প্রকাশিত করেছে অনন্য মাত্রায়।

শরৎচন্দ্রের ভাষায় বলা যায়, ‘সার্বভৌম কবি’ তিনি। কিন্তু কতটুকু বাঙালি? বাঙালির আপনজন তিনি। বাঙালির গৌরব। এখনো পর্যন্ত তিনিই একমাত্র বাংলা সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী। পৃথিবীতে একমাত্র তিনিই দু’দেশের জাতীয়সঙ্গীতের রচয়িতা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান যে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল তা কখনোই অস্বীকার করবার নয়। তাঁর নিকট আমাদের দায়বদ্ধতা এবং তার স্বীকারোক্তি আমাদের চেতনাকেই করবে সত্য-সুন্দর। সমালোচকের দৃষ্টিতে ‘নানা রবীন্দ্রনাথ’ নানাভাবে মূর্ত হয়ে উঠবেন, হবেন বিতর্কিত। এটা সাহিত্যের ধারায় চলবে অনিবার্যভাবেই। কিন্তু আমাদের মত সাধারণ পাঠকের কাছে তাঁর সাহিত্য আর কতকাল আনন্দের খোরাক হয়ে থাকবে? ‘ভাষার ভঙ্গির জীবন দৃষ্টির জীবন-পদ্ধতির পরিবর্তনের ফলে রবীন্দ্র সাহিত্যও ভবিষ্যতে সুখপাঠ্য থাকবে না’ – ড. আহমদ শরীফের এই যুক্তিবাদী সূত্র কি একদিন সত্য হবে??

মা’ কে খুঁজতে গিয়ে….

সংলাপ ॥ প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মা দিবস হিসেবে পালন করার রীতি বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই গড়ে উঠেছে। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, মা দিবস পালন করার রীতি এ যুগের নয়। আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগেও অনেক জায়গায় এই দিবসটি পালন করতো মানুষ। অবাক হবারই কথা। খ্রিস্টের জন্মের অনেক আগে থেকেই মিশর, রোম ও গ্রিসে মা দিবস পালন করা হতো। তবে সে দিবসটা ঠিক আমাদের বর্তমানের মা দিবসের মতো ছিলো না। সেটাকে ‘মা’ দেবতাদের আরাধনা বলা যায়। সে সময়ে মা দেবতাদের পূজা করা হতো। যেমন দেবী আইসিস, সিবিলি, রিয়া প্রমুখ। ১৬ শতকে মা দিবস পালন করা হতো বলে জানা যায়। দিবসটি তারা মাদারিং ডে হিসেবে পালন করতো। সেদিন সরকারি ছুটিও ছিলো। পরিবারের সবাই তাদের মায়ের সাথে দিনটি কাটাতো। তবে এই দিবসটি ততোটা প্রসার লাভ করেনি। ব্রিটিশরা আমেরিকায় তাদের কলোনি স্থাপন শুরু করার পর ইংল্যান্ড থেকে দলে দলে মানুষ আমেরিকায় আমদানি করে নিয়ে আসতে চেষ্টা করে। কিন্তু নানা কারণে সেটা তারা চালু রাখতে পারে না।

এর প্রায় ১০০ বছর পর ১৮৭০ সালে আমেরিকার জুলিয়া ওয়ার্ড হাও নামের এক গীতিকার মা দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। তিনি আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় একটি দেশাত্মবোধক গান লিখেছিলেন। সে গানটা সে সময় বেশ জনপ্রিয় ছিলো। আমেরিকায় গৃহযুদ্ধের সময় হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হচ্ছিলো কারণে বা অকারণে।

এক মায়ের সন্তান আরেক মায়ের সন্তানকে হত্যা করছিলো অবলীলায়। এই সব হত্যা দেখে জুলিয়া খুব ব্যথিত হয়েছিলেন। তিনি এটা বন্ধ করার জন্য আমেরিকার সব মাকে একসাথে করতে চাচ্ছিলেন। আর এ কারণেই তিনি আন্তর্জাতিক মা দিবস পালন করতে চাচ্ছিলেন। তার লক্ষ্য ছিলো এই দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করার। তিনি ব্যাপকভাবে সাড়া না পেলেও তার নিজের শহর বোস্টনে দিবসটি পালিত হচ্ছিলো বেশ ঘটা করেই। ভার্জিনিয়ার একটি মহিলাদের দল জুলিয়া ওয়ার্ড হাও-এর প্রস্তাবিত মা দিবসটি পালন করতো বেশ মর্যাদার সঙ্গেই। এই দলের নেত্রী ছিলেন অ্যানা রিভেস জারভিস। তিনি গৃহযুদ্ধের সময়কালে ‘মাদার’স ফ্রেন্ডসিপ ডে’ পালনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এই দিবসের পালনের কারণে গৃহযুদ্ধ সময়কালে অনেকটাই শান্তির বার্তা এনে দিয়েছিলো। অ্যানা রিভেস জারভিস তার জীবনের সুদীর্ঘ ২০ বছর কাটিয়েছিলেন ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গ্রাফটনের একটি গির্জায়। সেখানে তিনি সানডে স্কুলের শিক্ষকতা করেছেন। তার মৃত্যুর পর তার মেয়ে অ্যানা এম জারভিস মা দিবস ঘোষণা আন্দোলনের হাল ধরে। অ্যানা জীবিত ও মৃত সব মায়ের প্রতি সম্মান জানানোর তথা শান্তির জন্য এই দিবসটি পালন করতে চাচ্ছিলেন। এই লক্ষ্যে তারা ১৯০৮ সালে গ্রাফটনের ওই গির্জার সুপারিনটেনডেন্টের কাছে একটি আবেদন জানায়। তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে সে বছরই ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভেনিয়ার কয়েকটি গির্জায় মা দিবস পালিত হয়। এভাবে অনেকেই প্রতিবছর মা দিবস পালন করতে শুরু করে। এরপর অনেক পথ পেরিয়ে ১৯১৪ সালে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্র উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে জাতীয় মা দিবসের মর্যাদা দেয়। আরও পরে ১৯৬২ সালে এই দিবসটি আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। দেশে দেশে মা দিবস। মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার আন্তর্জাতিক মা দিবস হলেও সব দেশ এই দিবসটি পালন করে না। আসলে অনেক দেশেরই আলাদা আলাদা মা দিবস আছে। আর সেই দিনেই তারা মা দিবস পালন করে।

অনেকে মনে করেন, অন্যসব দেশে পৃথক দিনে মা দিবস পালন করলেও সেটা আসলে আমেরিকা বা ইংল্যান্ডের অনুকরণ। কোন দেশ কবে মা দিবস পালন করে সেটা একটু চোখ বুলিয়ে দেখা যাক। নরওয়েতে ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আফগাস্তিান, আলবেনিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুস, বসনিয়া ও হারজেগোভিনা, বুলগেরিয়া, লাওস, মেসিডোনিয়া, মলডোবা, মন্টেনিগ্রো, রোমানিয়া, রাশিয়া, সার্বিয়া, ইউক্রেন, দক্ষিণ কোরিয়া ৮ মার্চ মা দিবস হিসেবে পালন করে। আলবেনিয়া, বেলারুস, বুলগেরিয়া, গায়ানা, ইটালি, মেসিডোনিয়া, মঙ্গোলিয়া এবং রাশিয়া ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবেও পালন করে। বাহরাইন, মিশর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, ওমান, লেবানন, প্যালেস্টাইন, কাতার, সৌদি আরব, সুদান, সুরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন ২১ মার্চ মা দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। আবার হাঙ্গেরি, লিথুনিয়া, পর্তুগাল, স্পেন মে মাসের প্রথম রবিবার মা দিবস হিসেবে পালন করে। এদিকে প্যারাগুয়ে ১৫ মে, পোল্যান্ড ২৬ মে, বলিভিয়া ২৭ মে এবং নিকারাগুয়া ৩০ মে মা দিবস পালন করলেও আলজেরিয়া, ডমিনিকান রিপাবলিক, ফ্রান্স, হাইতি, মৌরিতাস, মরক্কো, সুইডেন ও তিউনিশিয়া মে মাসের শেষ রবিবার মা দিবস পালন করে। জুনের ১ তারিখে মঙ্গোলিয়া মা দিবস ও শিশু দিবস পালন করে। মঙ্গোলিয়া হচ্ছে একমাত্র দেশ যে বছরে দু’বার মা দিবস পালন করে। লুক্সেমবার্গ জুনের দ্বিতীয় রবিবার, কেনিয়া শেষ রবিবার মা দিবস পালন করে। থাইল্যান্ড তাদের রাণী সিরিকিট কিতিয়াকারার জন্মদিনকে মা দিবস হিসেবে পালন করে ১২ আগস্ট। কোস্টারিকা ১৫ আগস্ট, মালাও অক্টোবরের দ্বিতীয় সোমবার, বেলারুস ১৪ অক্টোবর, আজেন্টিনা অক্টোবরের তৃতীয় রবিবার, পানামা ৮ ডিসেম্বর, ইরান ১৬ ডিসেম্বর এবং ইন্দোনেশিয়া ২২ ডিসেম্বর মা দিবস পালন করে। মা দিবস নিয়ে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন রীতি রয়েছে। মা দিবস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পালন করা হয়। দেশভেদে এই বিশেষ দিবস পালনের রীতিও ভিন্ন ভিন্ন। তবে সব দেশের রীতিতে যত ভিন্নতাই থাকুক একটা ব্যাপারে সবাই কিন্তু এক। সবাই চায় এই দিনে মাকে খুশি করতে। মায়ের সাথে সময় কাটাতে, মাকে সুন্দর সুন্দর জিনিস বানিয়ে উপহার দিতে আরও অনেক কিছু। আর্জেটিনার কথাই ধরা যাক। এই দেশটি অক্টোবর মাসের তৃতীয় রবিবার মা দিবস পালন করে থাকে। এই সময়টা আর্জেন্টিনায় বসন্তকালের আমেজ থাকে। তাই মা দিবসে পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে বেরোয়। অবশ্য সবাই যে বাইরে ঘুরতে যায় এমন নয়। যারা বাড়িতে থাকে, তারা মাকে খুশি করতে নানান কাজ করে থাকে। যেমন ধরো, মায়ের সম্মানে তারা একত্রে খাওয়া-দাওয়া করে, কবিতা আবৃত্তি করে। আবার স্কুলে গিয়ে মায়ের উদ্দেশ্যে চিঠি লেখে বা নিজে হাতে কার্ড বা অন্যকিছু বানিয়ে মাকে উপহার দেয়। আর সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে, এইদিনে মায়ের কথা তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। এদিকে এইদিনে আর্জেন্টিনায় পরিবারের বাবা রান্না ও ঘরের অন্যান্য কাজ করে। যেন আজ মায়ের ছুটি। তাছাড়া মাকে ফুল, কার্ড, ক্যান্ডি, অলংকার বা অন্য চমকপ্রদ কিছু উপহার দেয়। ফ্রান্স মে মাসের শেষ রবিবার মা দিবস পালন করে আসছে ১৯২০ সাল থেকে। এই দিনটি তারা সরকারিভাবে পালন করা হয়। মজার ব্যাপার হলো, মায়ের যত বেশি সন্তান তার তত বেশি সম্মান। এজন্য যে মায়ের চার বা পাঁচটি সন্তান আছে তাকে মা দিবসে সরকারিভাবে ব্রোঞ্জ পদকে পুরস্কৃত করা হয়। একইভাবে যার ছয় বা সাতটি সন্তান তাকে রৌপ পদক এবং যার আটটি বা তারও চেয়ে বেশি সন্তান তাকে স্বর্ণপদক দিয়ে সম্মান জানানো হয়। জাপানে মা দিবসের পৃথক একটি নাম আছে। তারা মা দিবসকে বলে ‘হাহা নো হি’। ১৯১৩ সাল থেকে জাপানি খ্রিস্টানরা আমেরিকান রীতিতে মা দিবস পালন করতে শুরু করে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে পশ্চিমাদের অনুকরণে এই দিবসটি পালন করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যুদ্ধের পর থেকে আবার তারা মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস পালন করছে। জাপানিরা এই দিনে মাকে ফুল, রুমাল এবং হাতব্যাগ উপহার দেয়। বাড়িতে আয়োজন করা হয় জাপানের ঐতিহ্যবাহী খাবারের। মেক্সিকোতে অনেক আগে থেকেই মা দিবস পালন করা হয়। মেক্সিকানরা ১০ মে মা দিবস পালন করে। সকাল বেলায় পরিবারের সবাই মিলে মাকে গান শুনিয়ে মা দিবস শুরু হয়। মাঝে মাঝে ব্যান্ড দলও ভাড়া করে আনা হয় গান গাওয়ার জন্য। মায়ের জন্য সন্তানরা ফুল আর চকোলেট কেনে। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় সব কিছুরই আলাদা আলাদা নাম আছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক ভাষার সাথে আরেক ভাষার কোন মিলই নাই।

পৃথিবীর সব দেশের শিশুর প্রথম ভাষা ‘মা’। তাই এক কথায় ‘মা’ শব্দটি আসলে কোন ভাষার নিজস্ব সম্পত্তি নয়। এই শব্দটি সার্বজনীন। যেমন, ফ্রান্সে মা বলা হয় মেরি, জার্মানিতে মাটার, হিন্দিতে মাজি, উর্দূতে উমি, ইংরেজিতে মামি, মাম, মামা, মাম্মি, বাংলায় আম্মা, আম্মি, আম্মাজি, মাগো, মা। ভালো মতো খেয়াল করে দেখা যায়, মা শব্দটি খুব বেশি পার্থক্য সৃষ্টি করে না? তাই মা কিন্তু হেলাফেলার কোন কিছু নয়। মা দিবসটিও পালন করতে হয় সুন্দর ও অর্থপূর্ণভাবে। এই দিনে অনেকেই ফুল, বই, গানের সিডি, চকোলেট বা অন্য বিশেষ কোন কিছু উপহার হিসেবে বেছে নেয়। এছাড়াও আরও নানাভাবেই এই বিশেষ দিনটিকে উদযাপন করা যায়। মা তো মা-ই।

মায়ের প্রতি সীমাহীন শ্রদ্ধা, সন্তানের চিরন্তন অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা, ভালবাসার অবনত হওয়ার দিন হচ্ছে আজকের মা দিবসের চেতনা। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষা স্থল হচ্ছে মায়ের কোল। সেই মায়ের অবদান স্মরণ করে অভিভূত হওয়া মাকে প্রকাশ জানানোর দিনই হচ্ছে মা দিবস।

‘দয়ালের উপদেশ – ২৭

উপদেশ-৯৬: দান গ্রহণ করা উচিত নয়। দান গ্রহণ করলে দাতার পাপরাশি গ্রহণ করতে হয়। কারও কাছে কিছু চাইলেই নিজে ছোট হতে হয়, মন সংকীর্ণ হয়ে যায়।

সৎপথে থেকে, অর্থ উপার্জন দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করা উচিত, তাতে মন দুর্বল হয় না- পবিত্র থাকে। দেখ! নিজের উপার্জিত অর্থের দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করে যদি সাধন-ভজন করিস, তবে তার শরিক আর কেউ হয় না, কোন পাপও এসে এই সাধন-ভজনের ক্ষতি করতে পারে না।

দয়াল প্রত্যেককেই হাত-পা দিয়েছেন, শক্তি দিয়েছেন। নিজের জীবিকা অর্জন করতে যে সময়টুকু যায়, তা বাদ দিয়ে বাকি সময়টুকুও সাধন-ভজন করলে, দয়ালকে প্রত্যক্ষ করা বাকি থাকবে না। পরগাছার মতো পরের উপর খাওয়া-পরা নির্ভর করা অত্যন্ত পাপ জানবি।

একটা কথা আছে, যদি দয়াল-প্রেমে এমনঅবস্থা হয় যে, খাওয়া-পরার খবর নেই, শীত-গ্রীষ্ম বোধ নেই, সে অবস্থায় দয়ালই তার জীবিকার উপায় করে দেন। যেমন ছোট শিশু, মা-বাপের উপর নির্ভর করে থাকে, তার কোন কিছুই করতে হয় না।

দান গ্রহণ করবার একমাত্র অধিকারী তিনি, যিনি এক হাতে গ্রহণ করে অন্য হাতে গরিব, দুঃখীদের বা সৎকাজে সমস্ত বিলিয়ে দেন। মনে একটু দ্বিধা হয় না ও নিজে ভোগ করেন না। যে দান গ্রহণ করে, কিন্তু দান করে না, সে অধম মানুষ। যিনি দান গ্রহণ করেন ও নিজে দান করেন তিনি মধ্যম মানুষ। আর যিনি শুধু দান করেন, দান গ্রহণ করেন না-তিনি উত্তম পুরুষ।

কেউ যদি কোন হেতু কারণ শূন্যভাবে তোকে কোন কিছু দেয়, আর তুই যদি এ জিনিসের কোন আকাক্সক্ষা না করে থাকিস, তবে মনে করবি ইহা দয়ালের দান। ইহা কৃতজ্ঞতার সাথে করলে ক্ষতি হয় না বরং গ্রহণ না করলে অন্যায় হয়।

উপদেশ-৯৭: মৃত্যু কিছুই নয়’রে মাত্র পঞ্চভৌতিক দেহটা ত্যাগ করা। কর্মফল বা সংস্কার অনুযায়ী সূক্ষ্মদেহ ধারণ ও স্থুল দেহ ত্যাগই মৃত্যু। সাপের ছলম বদলানোর মতো।

সুপারি শুকালে ছোলা হতে আলগা হয়ে থাকে। তেমনি প্রকৃত সাধকেরাও জীবিত থাকতেই এই পঞ্চভৌতিক দেহ হতে আলগা হবার অভ্যাস করে নেয়। ধ্যান-ধারণা দ্বারা যতই দেহাত্মবোধ কমতে থাকে, ততই ভিতরে একটি সূক্ষ্ম দেহ তৈরি হতে থাকে এবং স্থুল দেহ থেকে পৃথক হতে থাকে। মৃত্যুর সময়ে তাদের কোন কষ্ট হয় না, বরং আনন্দই হয়।

সাধারণ লোকের মৃত্যু ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক। কাঁচা সুপারি খুলতে বেশ শক্তি লাগে। তেমনি সাধারণ লোকেরও শক্তি যখন শরীরের প্রতি অংশ হতে চলে আসে তখন ভীষণ যন্ত্রণা হয় এবং প্রায় লোকই শেষ সময়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। সাধকদের প্রায় সব সময়ই পূর্ণ জ্ঞান থাকে।

দেখ, জীবিত থাকতে তোর দয়ালের সম্বন্ধে যতটুকু অনুভূতি হবে মৃত্যুর পরও ঠিক ততটুকুই থাকবে-একটুও কমবে না বা বাড়বে না। অনেকে বলে মৃত্যুর পর দয়ালকে পাবে। সে ভুল। দেখ! যার এখানে যতটুকু শান্তি-আনন্দ, সেখানেও ততটুকু – কম-বেশি নয়।

তোরা শুধু দয়ালকে চিন্তা কর, আপনি ধ্যান হবে, -ধ্যান গাঢ় হলে সমাধি হবে। সমাধি অবস্থায় ওই পঞ্চভৌতিক দেহ হতে বেশ কিছু আলগা হয়ে যায়। দেখ! মৃত্যু অভিশাপ নয়, -মৃত্যু দয়ালের অতি আদরের একটি দান। ওরে! ধ্যান, সমাধিতে যতই সূক্ষ্মতম দেশে যাবি, ততই ইচ্ছাশক্তি ও অনুভূতি বৃদ্ধি পাবে।

উপদেশ-৯৮: পঞ্চভৌতিক দেহ ত্যাগের অল্প কিছু পূর্বে, কর্মফল অনুযায়ী একটি সূক্ষ্ম দেহ তৈরি হতে থাকে। সমস্ত শক্তি পঞ্চভৌতিক দেহ হতে নিঃশেষিত হয়ে সেই সূক্ষ্ম দেহে যায়। জ্ঞান, বুদ্ধি, মন ও মনের সংস্কার সমস্তই সেই সূক্ষ্ম দেহে থাকে।

যদি একটি পাথরে দাগ দিস, তারপর সে পাথর ঘষা আরম্ভ করিস দেখবি, আস্তে আস্তে সমস্ত দাগই ক্রমে মুছে যাবে, যেটা গভীর সেই দাগটাই শেষ পর্যন্ত থাকে। সেই প্রকার মনে যতগুলো সংস্কারের দাগ জীবনে পড়ে সমস্তগুলোই মৃত্যু সময়ে আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যায়। সেইগুলোর মধ্যে যে সংস্কারের দাগটি সবচেয়ে গভীর, শেষ পর্যন্ত একমাত্র সেই সংস্কার অনুযায়ীই চিন্তা আসবে। সে অনুযায়ীই সূক্ষ্ম দেহ তৈরি হবে ও গতি হবে।

যারা প্রকৃত সাধক তাদের মনে দয়ালের সংস্কারই গভীর হয়। মৃত্যু সময়ে তারা দয়ালের চিন্তা করতে করতে দয়ালের কাছে চলে যায়। বিষয়ী ও ভোগী লোকেরা মৃত্যু সময়েও বিষয় এবং ভোগের চিন্তাই করে। ফলও তেমনি হয়। দেখ! চিরজীবন দয়ালের চিন্তা না করলে মৃত্যু সময়ে তাঁর কথা মনে আসতে পারে না। মৃত্যুর সময়ে যখন সমস্ত ইন্দ্রিয় শিথিল হয়ে যায়, সাধকরা তখনও অন্তরে সেই দয়ালকে নিয়েই থাকেন।

মৃত্যু সাধারণ লোকের জন্য কষ্টকর হলেও সাধকদের জন্য আশীর্বাদ, -বিদেশ হতে বাড়ি যাওয়া।

মৃত্যু কেমন করে হয়? মৃত্যুর পর কি অবস্থা? এই নিয়ে মন অস্থির না করে, শুধু দয়ালকে চিন্তা কর, তাঁকে ভালোবাসতে শেখ তোদের কোন চিন্তাই করতে হবে না, দয়াল আছেন, ভয় কি? মৃত্যুর পর শান্তি হবে কি না হবে, সে সবের চিন্তা করবি কেন? দয়ালকে চিন্তা করলে-ভালোবাসলে তো নগদই শান্তি মিলে, বাকি খবরের কাজ কি?

বিশ্ব বাণিজ্যের দখল নিচ্ছে চীন?

সংলাপ।।

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের মহামারী শুরুর পর হতেই নতুন করে অথনৈতিক যুদ্ধের মেরুকরনের বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সম্প্রতি এ বিষয়ের বাস্তবরূপ দেখা দিতে শুরু করেছে। মে মাস শুরু হতেই মুখোমুখি লড়াইটা  আরও তীব্র হয়ে গেছে। করোনার প্রভাব কাটিয়ে চীন অনেকটাই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে যেখানে সারাবিশ্ব এখন হাবুডুবু খাচ্ছে করোনার আক্রমনে। নতুন মাসের শুরুতেই  চীন বিশ্ব শেয়ার বাজারে বড় চমক দিয়ে জানিয়ে দিল, এখন থেকে আর মার্কিন ডলারে নয়, তাদের নিজস্ব কারেন্সি ইউয়ানের মাধ্যমেই যাবতীয় লেনদেন চালাতে চায় তারা। নিঃসন্দেহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ভয় পাচ্ছিলেন, চীনের ঘোষনার  ফলে তা আরও ব্যাপক ও বাস্তব আকার নেবে।

নিজেদের মুদ্রাকে ‘গ্লোবাল কারেন্সি’তে পরিণত করার স্বপ্ন চীনের বহুদিনের। করোনা ভাইরাসের আবহে তাদের স্বপ্ন আরও গতি পেল বলা যায়। কার্যত এভাবেই করোনা ভাইরাস সারা পৃথিবীর বুকে একটা অর্থনৈতিক যুদ্ধের আবহও তৈরি করছে একেবারে নিঃশব্দে। প্রবল জল্পনা শুরু হয়েছে, করোনা মহামারী কেটে গেলেই সেই লড়াই কি আরও তীব্র হবে এবং শেষে পৃথিবীতে বিশ্ববাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ কি যাবে চীনের হাতে?

ভয়ঙ্কর যুদ্ধটা কিন্তু মানুষ বাঁচানোর চেয়েও ভুবনজোড়া বাণিজ্য এবং বাজার দখল নিয়েই বেশি তীব্র হচ্ছে। শতাব্দীর ভয়ঙ্করতম মহামারীর মধ্যে কোনও রকমে অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি এই একটা প্রশ্ন ঘিরেই যেন আবর্তিত হতে শুরু করেছে আর্ন্তজাতিক রাজনীতি। আর প্রায় প্রতিদিন মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিয়ম করে চীন-বিরোধী হুঙ্কার এই প্রশ্ন আর জল্পনায় বেশি করে ইন্ধন জোগাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আগামী নভেম্বরে মাকিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে করোনা মোকাবিলার ব্যর্থতাকে সামলাতে চীনের প্রতি দোষারোপ ও বিষোদগারকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চলেছেন ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই তিনি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে হারানোই প্রধান লক্ষ্য চীনের। সময় যত এগুবে, ট্রাম্পের এই স্বভাবগত তোপ আরও তীব্র হবে। তবে শুধুই ট্রাম্পকে হারানোই বেজিংয়ের লক্ষ্য, নাকি আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব আর অহঙ্কারের প্রকাণ্ড বেলুনটাকে চুপসে দেয়াই উদ্দেশ্য, সেটা ক্রমশ প্রকাশ্য রূপ পাবে।

চীনের এই কৌশল কিন্তু শুধু এক জায়গায় আর আবদ্ধ নেই। বিভিন্ন ক্ষেত্র ও একাধিক মঞ্চকে হাতিয়ার করে চীন এই বহুমাত্রিক লড়াই শুরু করে দিয়েছে। যার কূল কিনারা খুঁজে না পেয়েই আমেরিকা এবং বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজ এতটা ক্ষিপ্ত। করোনা রোগীর পরীক্ষায় আজ পৃথিবীব্যাপী যে জিনিসটার সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন তা হচ্ছে কিট। আর এই কিটের জন্য বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তাকিয়ে চীনের দিকে। কিটে গলদ আছে জেনেও চাহিদা বাড়ছে। চীনা কিটই শুধু নয়, অন্যান্য মেডিকেল সামগ্রীর প্রয়োজন মেটাতেও দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে বেইজিং। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা মোকাবিলায় চীনের প্রশংসা করায় বেশ কিছুদিন ধরে বেজায় ক্ষিপ্ত আমেরিকা। এমনকী সেই ক্রোধে অর্থ সাহায্য দেয়াও বন্ধ করে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। আর এই সুযোগটারই যেন অপেক্ষায় ছিলেন চীনের দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা। সময় নষ্ট না করেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে বড় অঙ্কের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে বেইজিং। হু-য়ের সঙ্গে বেইজিংয়ের এই বন্ধুত্ব আমেরিকার গায়ের জ্বালা শতগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে আমেরিকায় করোনার মৃত্যুমিছিল আর অন্যদিকে হু-য়ের মতো আর্ন্তজাতিক সংস্থা, যে কি না এই সেদিনও আমেরিকার সুরেই সুর মেলাত, তার এই কার্যত প্রকাশ্য বিদ্রোহ ট্রাম্প প্রশাসনকে জবরদস্ত ধাক্কা দিয়েছে।


আগেই বলেছি, চীন এই যুদ্ধ শুরু করেছে অত্যন্ত সাবধানে, অনেক দিন আগে থেকে, ধাপে ধাপে সুচিন্তিত পরিকল্পনা করে। এখন সুকৌশলে তা কার্যকর করার পালা চলছে। আমরা সবাই জানি, বিশ্বজুড়ে তেলের দাম পড়ে গিয়েছে। প্রায় তলানিতে। কিন্তু এই সুযোগে ব্যাপক তেল মজুদ করছে কে? কোনও রাখঢাক না করেই বলছি, এখানেও কিন্তু জি জিনপিং ও তাঁর সরকার সুযোগ নষ্ট করতে নারাজ। কম দামে প্রচুর অশোধিত প্রাকৃতিক তেল কিনে আগামী দিনে বিশ্ব জ্বালানির বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করার পরিকল্পনা নিয়েই এগচ্ছে চীনা সরকার। লক্ষ্য একটাই, সব মেটার পর তেলের দাম ও চাহিদা দুটোই বাড়লে বিশ্ববাজারে তুরুপের তাসটা খেলতে যাতে জিনপিং ও তাঁর সতীর্থদের বিশেষ অসুবিধা না হয়। একইভাবে খাদ্যশস্য মজুদ করার কাজও চলছে।

এখানেই শেষ নয়। করোনা বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রায় খতম করে দিয়েছে। বহু সংস্থা, সে গাড়ি কোম্পানিই হোক, বেসরকারি বিমান সংস্থা, কিংবা অন্য কোনও বড় বাণিজ্যিক সংস্থা, প্রত্যেকেই পুরোপুরি বিধ্বস্ত। খুঁজে খুঁজে বিশ্বজুড়ে এমন ‘অভাবি’ সংস্থাতে পরিত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে বেইজিং। লক্ষ্য কিছু নামীদামি কোম্পানিকে এই সুযোগে দখল করা।

চীনের এই আকস্মিক বাণিজ্যিক আগ্রাসনের কথায় আসার আগে দেখে নিই, এই মুহূর্তের পরিস্থিতিটা ঠিক কী? বিশ্বজুড়ে করোনা মৃত্যুমিছিল থামার কোনও লক্ষণ তো এখনও নেই। এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে থামবে জানা নেই কারও। চলতি লড়াইয়ে প্রাণহানি প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্মিলিত সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে কি না, তা নিয়েও চলছে বিস্তর গবেষণা। চীনের অভিশপ্ত উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে মারণ ভাইরাস আজ গোটা পৃথিবীর ত্রাস। একাধিক নোবেল বিজয়ী পর্যন্ত বলছেন, এই মারাত্মক সার্স কোভি-২ ভাইরাসটি আদতে ম্যানমেড। অর্থাৎ স্বাভাবিক নয়, কৃত্রিমভাবে তৈরি। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশ্বব্যাপী চোরা বিতর্ক। এই তত্ত্বে কার্যত সিলমোহর দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও। গোটা পৃথিবীকে আক্ষরিক অর্থেই টলিয়ে দেওয়া এই ভাইরাসের আত্মপ্রকাশ গত ২০১৯ সালের একেবারে শেষদিকে, চীনেরই মাটিতে। আর মাত্র গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভাইরাসটির নামকরণ হয়েছে। তাই চিকিৎসক মহলে তার বিস্তারিত পরিচিতি খুব একটা নেই বললেই চলে। এই ভাইরাস মিউটেট করে কতটা চরিত্র ও রূপ বদলায়, তার উপরই নির্ভর করছে ভ্যাকসিন ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসার গতিপ্রকৃতি। অথচ কয়েক মাসেই করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে সারা পৃথিবীর জীবনীশক্তি প্রায় নিঃশেষ হওয়ার পথে। ভ্যাকসিন বের করার মরিয়া চেষ্টা চলছে সর্বত্র, ট্রায়ালও চলছে। কিন্তু সময় তো দিতেই হবে।


 ট্রাম্পের অভিযোগ, শুরুতেই সব তথ্য চেপে গিয়েছে বেইজিং। বারবার জানতে চাওয়া সত্ত্বেও দেওয়া হয়নি আসল তথ্য। আর এর ফলেই বেড়েছে সন্দেহ ও সংশয়। পুরো বিষটির তদন্ত করে চীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে আমেরিকা। প্রথমে আক্রান্ত হয়েছে চীন। চীনের মাটি থেকেই এর প্রকাশ। সবার আগে তাই ধাক্কা কাটিয়েও উঠেছে তারাই। তার ফলেই ভয়ঙ্করভাবে পরের দিকে যখন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রথমে ইউরোপ ও পরে আমেরিকা, তখন চীন কিন্তু আবার নিজেকে সব দিক দিয়ে গুছিয়ে নতুন করে স্বাভাবিক কাজকর্ম অনেকটা শুরুও করে দিয়েছে। এবছরের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত এই করোনা স্ক্রিপ্টের পুরোটাই চীনের আগে থেকেই জানা ছিল এবং ভবিষ্যতে এর পরিণাম ভালো হবে না বলেও তাই হুমকি ছেড়েছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা। একঘরে করার কথাও বলছে মার্কিন কর্তারা, কিন্তু অকাট্য প্রমাণ কোথায়? মুখে বললেই তো শুধু হবে না!

৯/১১-র হামলার মতো কেউ তো এখানে শত্রুকে দেখতে পাচ্ছে না! কেউ ভাইরাস হামলার দায়ও স্বীকার করছে না। তাহলে তো এরমধ্যেই দু’শোবার গিয়ে শত্রুঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসত আমেরিকার বিশ্বসেরা সৈন্যসামন্ত। সারে সারে এফ-১৬ চক্কর মারত মাথার উপর, চারদিক ভরে যেত বিষ বারুদের গন্ধে। কিন্তু এখানে তো কিছু দেখাই যাচ্ছে না! আর এখানেই হয়ে গিয়েছে সবচেয়ে বড় সমস্যা। এ যে সবচেয়ে বড় অদৃশ্য জৈব সন্ত্রাসবাদী। লাদেন, জাওয়াহিরি, আইএস যা পারেনি, কুলীন প্রথম বিশ্বে তার চেয়েও ভয়ঙ্কর আক্রমণ শানিয়েছে মাত্র কয়েক মাসের এই নবজাতক ভাইরাস। সেইসঙ্গে পৃথিবীর চিকিৎসা মানচিত্রটাকেও আমূল বদলে দিয়েছে।
আজ সবচেয়ে বেশি মানুষকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়েছে আমেরিকায়। রোজ সংখ্যাটা বাড়ছে। বিপর্যস্ত শুধু মার্কিন মুলুকেই মৃতের সংখ্যা লাখ ছাড়ায় কি না, সেদিকেই এখন গোটা বিশ্বের চোখ। ধনী রাষ্ট্রের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে। বেকার হওয়ার আশঙ্কায় সেখানেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। অনিশ্চয়তা আর সর্বনাশ থামার কোনও লক্ষণই নেই এখনও পর্যন্ত। লকডাউন এভাবে আরও বেশ কিছুদিন চলতে থাকলে যারা ভাইরাস থেকে শেষপর্যন্ত বেঁচে যাবেন, তাঁদের কপর্দকশূন্য হয়ে অনাহারে আর হতাশায় একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অর্থাৎ দু’দিক দিয়েই সর্বনাশের হাতছানি। আর কথায় বলে না, কারও পৌষমাস আর কারও সর্বনাশ। চীন কি এই সুযোগে সেই পৌষ মাসেরই অপেক্ষায়, ভবিষ্যৎই তা বলবে।
সর্বনাশী ওই মারণ রোগটা ম্যানমেড কি না তা নিয়ে ধন্দ থাকলেও এই সুযোগে চীন যে পরিস্থিতির পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে মরিয়া, তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত কিন্তু মিলতে শুরু করেছে। আর এখানেই স্ক্রিপ্টটা হুবহু মিলে যাচ্ছে। সারা পৃথিবী সর্বনাশের ফাঁসে বন্দি। আর এই সুযোগে নিজের দেশে মৃত্যুমিছিল থামিয়ে লকডাউন তুলে তাই একের পর এক কৌশল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে বেইজিং। লি কেচিয়াংয়ের নাম শুনেছেন? বর্তমানে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী। প্রবাদপ্রতিম ওয়েন জিয়াবাওয়ের উত্তরসূরি। সাত বছর একটানা দেশ শাসন করা প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের ডানহাত হিসেবে পরিচিত। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে এই জিনপিং ও কেচিয়াংয়ের নেতৃত্বাধীন চীন এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গোটা বিশ্বকে ‘মেড ইন চায়না’ সামগ্রীতে মুড়ে ফেলার। ওই লক্ষ্যে পৌঁছতে দশ বছরের লক্ষ্যমাত্রাও নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। অর্থাৎ আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর পর ২০২৫ হচ্ছে ‘মেড ইন চায়না’র জয়যাত্রাকে এই পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত করার পূর্ব নির্ধারিত টার্গেট। সেই লক্ষ্যেই শিল্প ও বাণিজ্যের বাজার দখলের পথে ছুটছে বেইজিং। সেই ছোটা নিয়ে কোনও আপত্তি নেই, কিন্তু করোনার আবহে হঠাৎই চীন সেই লক্ষ্যে দৌড়টার গতি একটু বাড়িয়ে দেওয়াতেই কেমন যেন খটকা লাগছে। আর চীনের এই আগ্রাসী ভূমিকায় আমেরিকাকেও যেন একটু উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছে। পৃথিবীর এই ভয়ঙ্করতম অন্ধকারের দিনে তাই  শক্তিমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকেও কিছুটা হতাশা চেপে আক্ষেপের সুরে বলতে শোনা গেল, আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে হারাতেই নাকি বেইজিং যতদূর যেতে হয় যাবে! সেরকম পরিকল্পনাই নাকি চলছে চীনা নেতৃত্বের অন্দরে।
এমনিতে বিশ্বে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও সামরিক শক্তির নিরিখে প্রথম স্থান দখলের চীনা পরিকল্পনা কিন্তু দীর্ঘদিনের। ২০২৫ যদি হয় মেড ইন চায়নাকে সর্বত্র একনম্বরে প্রতিষ্ঠার টার্গেট বছর, তাহলে চীনের সেনাবাহিনীকে (পিপলস লিবারেশন আর্মি) বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীতে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যও কিন্তু খুব দূরে নয়। অতি সাবধানে ও সন্তর্পণে সেই কাজও চলছে। এখন দেখার  বিষয় করোনার দাপট কমলে চীন ও আমেরিকার এই নয়া সংঘাত পৃথিবীকে ঠিক কোন পথে নিয়ে যায়।

কথায় আছে, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, আর উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। করোনা যুদ্ধ কি সেরকমই কিছু? কে জানে? কিন্তু লকডাউনে সব বন্ধ থাকলেও গরিবের পেট যে মানে না! ক্ষুধার্ত মৃত্যুপথযাত্রী মানুষগুলোর কান্না কি শুনতে পান ট্রাম্প, জিনপিংরা, নাকি ওই চোখের জলের কোনও দামই নেই বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রকদের কাছে! থাকার কথাও নয়! ‘সারভাইবাল ফর দি ফিটেষ্ট’ এই নীতি তো সবাই জানে। সেরা হতে কে না চায়!!!

“শ্রমিক” উপেক্ষা থেকে সরে আসতে হবেই

“যে করে খনিতে শ্রম যেন তারে ডরে যম/ অনাহারে নাহি খেদ/ বেশি খেলে বাড়ে মেদ/ 

ধন্য শ্রমীকের দান হীরকের রাজা ভগবান” – সত্যজিৎ রায়ের হীরক রাজার দেশে সিনেমার ডায়ালগ এটি। আজকেও এটি সমানভাবে প্রণিধানযোগ্য। শ্রমিকরা শ্রম দিয়ে যাবেন পুরো জীবন ধরে যতদিন দেহে আছে শক্তি, যতদিন দিতে পারে ভক্তি। ১০ বছর,২০ বছর,৩০ বছর ধরে শ্রম দেয়ার পরও বহু শ্রমীকের জীবনের শেষদিনগুলো কাটে রোগে শোকে বিনা চিকিৎসায়।

সরকার পালটাই , নেতা পালটায়, প্রতিষ্ঠান পালটায়। গণতন্ত্র আসে, সামরিক গোষ্ঠী বুকের উপর চেপে বসে, বিশ্ব মাতব্বররা নতুন নতুন কল্পতরু প্রকাশ করে, আর এরই সাথে অবনতি ঘটতে থাকে শ্রমিকের ক্ষয়িঞ্চু শরীরের। কখনো কখনো পীঠ দেয়ালে ঠেকা শ্রমীক মাঠে নামে, গলায় আওয়াজ তোলে, যথাযত নেতৃত্বের অভাবে কিংবা নেতৃত্ব বিক্রি হয়ে যাওয়ার কারণে তা শুণ্যে মিলিয়ে যায়। 

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনে  রেল শ্রমিক,  চা-পাটকল ও বস্ত্র শ্রমিকদের অবদান নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন তারা জানেন আমাদের  দেশের শ্রমীক আন্দোলনের ইতিহাস। বৃটিশদের বহুমাত্রিক  নির্যাতনের ইতিহাস বাঙালি জাতির রাজনৈতিক অঙ্গীকারের জন্ম দিয়েছে। পাকিস্তান আমলে পাটকল, বস্ত্র কল সহ চা, কৃষি-শ্রম নির্ভর নিষ্পেষণ থেকেই গড়ে উঠেছে সংগঠিত হবার প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের অভ্যূদয় শ্রমিক শ্রেণীর হাত ধরে। টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, পাবনার মাটিতে আজও তাদের রক্তের দাগ মুছে যায়নি। 

আমরা নিশ্চয় ভুলে যায়নি বৃটিশরা এসেছিল ব্যবসা করতে, নীলকরদের অত্যাচারের ইতিহাস।  পাকিস্তানীরাও মুনাফার জন্য শোষণ করেছে। অনুসন্ধান বলছে বাণিজ্যিক কারণেই শেষ পর্যন্ত ভারত পাকিস্তান ভাগ হয়েছে। আজকের শ্রমিক দিবসে প্রশ্ন উঠে শ্রমিক শোষণের কোন বৃত্তে রয়েছি আমরা? আমরা কি বের হতে পেরেছি সেই ধারা থেকে?? 

কেমন আছে স্বাধীন বাংলাদেশে  শ্রমের সাথে সম্পৃক্ত বিশাল জনগোষ্ঠী। কতটা ফুলে ফেপে বড় হয়েছে শ্রমিকদের ভাগ্য বিধাতা নেতারা? আর  ব্যবসায়ীরা কতটুকু লাভবান হয়েছে? এসবই অনুসন্ধানের দৃষ্টি মেলে জানতে হবে। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে শ্রমীকদের  হাহাকার আর্তনাদে  বাংলার আকাশ আজও  ভারি হয়ে উঠে। নতুন নতুন আইন আদালত গড়ে তোলা হয়, মে দিবসে বাণী প্রদান করা হয়, তবু কি সরেজমিনে কোন পরিবর্তন চোখে পড়ে? 

জীবনমানের পরিবর্তন কতটুকু হয়েছে? অনুসন্ধান বলছে আমদের শ্রমীকরা মূলত দিন মজুর। অথচ শ্রম অাইন অনুযায়ী চাকুরীজীবী। বিধিতে বহু সুন্দর যৌক্তিক কথামালা সংযুক্ত করা আছে। বাস্তবে বহুক্ষেত্রে তা উপেক্ষিত। আর শ্রমিক সংঘ মানেই লেজুড়বৃত্তিতে করা। এতে অন্য কারো লাভ হয়। এমনকি বিজেএম,ই এর নিজস্ব লেজুড়বৃত্তি করা সংঘও নাকি আছে ভিতরে ভিতরে। 

বঙ্গবন্ধু সরকার ছিল শ্রমিক বান্ধব। সবচে বেশি কাজ হয়েছে ৭২-৭৫ এ। তিনি সরকারীকরণের মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেন। শেখ হাসিনা সরকার চেষ্টা করছে শ্রমীকদের জীবনমান উন্নয়নে। যতটুকু হয়েছে সেটা শেখ হাসিনার দূরদর্শীতার ফলেই। তবু বাস্তবতা হলো  আমরা ৬ কোটি শ্রমীকের জন্য কোন নিশ্চয়তা তৈরী করতে পারিনি আজও । 

৯০ এ এরশাদ সরকারের পতনের পর কার্যত শ্রমীক রাজনীতি কিংবা শ্রমীক সংঘগুলোর কফিনে একটার পর একটা পেরেক ঠুকে দেয়া হয়েছে। 

তিন জোটের রূপরেখা পরবর্তীতে নতুন রাজনীতির নামে রাজনৈতিক দলগুলোর পাতা ফাঁদে পা দিয়ে শ্রমীক সংগঠনগুলো ব্যাপক মাত্রায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ে। সরকার ও ব্যাবসায়ীদের যোগসাজশেই নয়া উন্নয়ন নীতিতে আপাতত শ্রমীকদের কর্তৃত্ত্ব ধবংসের জন্য সব কিছুই করা হয়েছে। 

একের পর এক শ্রমীক নেতারা বৃত্তশালী হয়ে উঠার জন্য নিজেদেরকে বিক্রি করেছে। 

ফলে এখন মে দিবস পালন কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। 

মে দিবসে বাণী দেয়া হয়, পত্রিকার পাতায় বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ পায় কাজের কাজ হয়না। পাট শিল্পের হাত দিয়ে গড়া উঠা শ্রমিক সংঘ বর্তমানে গার্মেন্টস নির্ভর। সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর  সংঘগুলো রাজকীয় হালে থেকে কিভাবে বাড়তি সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায় এই কাজটিই করেন। প্রতিটি সরকারী দপ্তরে শ্রমীক সংঘ আছে, আছে সুসজ্জিত অফিস। এসব কার্যালয়ে চলে গল্পগুজব খোশগল্প। মাঝে মাঝে লাভজনক কিছু দাবী দাওয়া নিয়ে কাজ বাদ দিয়ে মিছিল মিটিং করা হয়। নষ্ট হয় কর্ম পরিবেশ। তাবেদার সিবিএ নেতারা আবার ভিতরে ভিতরে কর্তৃপক্ষের সাথে আতাত রাখেন। ফলে দুএকজন রাতারাতি ধনী হয়ে উঠেন। মাঠে মারা যায় তাদের শুভ উদ্দেশ্য। এতেও বৃহত্তর সংঘ আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

অন্যদিকে চা, পাট কল, গার্মেন্টস শ্রমিকরা অপেক্ষাকৃত নাজুক অসহায় গরীব মানুষদের মধ্য থেকে আসায় এরা নির্যাতন উপেক্ষার স্বীকার হয়। মজুরী পায় না, চাকুরীর নিরাপত্তা নেই।

এমনকি করোনার আপদকালনি সময়ে চাকুরী বাঁচাতে ঢাকায় আসে। দুই যুগ চাকরী করার পরও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়না। এর জন্য গার্মেন্টস মালিকরা এককভাবে দায়ী নয়, দায়ী সরকার ও শ্রমীক সংঘগুলো। চরম আমলাতান্ত্রিকতাও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকলে আমরা শক্তিশালী জনগণতান্ত্রিক আবহে  সম্মিলিতভাবেই এগুতে পারতাম। সমাজে বাণিজ্যিজ্যের নামে শিল্পের নামে এত বৈষম্য নির্যাতন হতো না। লুটেরা রাজনীতিই মূলত সব ব্যবস্থাপনাকে নস্যাৎ করেছে। 

আর সে সুযোগ নিয়েছে অন্যেরা। আমরা শ্রমীকদের কে দূরে সরিয়ে যে উন্নয়ন গণতন্ত্রের কথা বলছি তা বুমেরাং হতে বাধ্য। হয়েছেও তাই। কারণ শ্রমিকই জনগণের শক্তি, উৎপাদনের শক্তি, এগিয়ে চলার শক্তি। এখানেই জড়িয়ে আছে দায়বদ্ধতা। 

স্বাধীনতার ৫০ বছরের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। জিডিপি রেমিট্যান্স সবই কোন না কোন ভাবে শ্রম নির্ভর অর্থনীতি থেকে প্রাপ্ত। ৬ কোটি মানুষ সরাসরি শ্রমীক। গৃহে বাসা বাড়িতেও কয়েকটি কোটি নারী সস্তা শ্রমীক। 

বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বরূপটাই শ্রম নির্ভর। বাস্তবতার নিরিখে এদিকটাতে নজর দিতেই হবে সত্যিকার উন্নয়ন চাইলে।

করোনা; ঘর ও বাইরের জীবন

নজরুল ইশতিয়াক।। সাধারণ দৃষ্টিতে সত্য ধরা পড়ে না দর্শন- উপলব্ধির অভাবে। সাধারণ মানুষ হয়তো দেখে শোনে তথ্য জানতে পারে। কিন্তু তথ্যের পিছনে যে সত্য থাকে কিংবা কারণের কারণ থাকে সেটা বুঝতে পারে না। তথ্য হলো অনেকটা ঘটে যাওয়া কোন ঘটনার একদম উপরের ভাসমান দিক। তথ্য সবাই জানতে পারে কম বেশী। আর তথ্য বিশ্লেষণ কোন কিছুর গভীরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখায়। কিন্তু এই যে গভীরে অন্বেষণ করার পন্থাটি সেটি নির্ভর করে একরৈখিক প্রচেষ্টার ওপর। করোনা নিয়ে হুটহাট নানান খবর আমরা জানার চেষ্টা করছি, করোনার চরিত্র বুঝতে চাচ্ছি অথবা নিরাপদ দূরত্ব তৈরী করে নিজেরা বাঁচতে চাচ্ছি। কোনটাই জীবনের গভীরতা অন্বেষণকে ত্বরান্বিত করবে না। বরং ভিন্নমাত্রার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এবং করছেও পুরো জীবনের দিকে মনোযোগী না হওয়ার কারণে। এখানে বিশেষ নজর দিতে হবে। 

বলা হয়ে থাকে জ্ঞানের দুটি শাখা। একটি সাধারণ অন্যটি বিশেষ। আবহমানকাল থেকে এটি চলে আসছে। এ জন্য সত্যান্বেষণ সব সময় সনাতন ও বিশেষ । 

জ্ঞানবান মানুষ জীবন জগতকে জানার কর্মে সদা তৎপর। তাদের এই প্রচেষ্টার পথ ধরেই মানব সভ্যতা এতদূর এসেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব সময় এই বিশেষ শাখা কাজ করেছে।  বিজ্ঞান, প্রযুক্তি কিংবা তত্ত্বীয়  জ্ঞানকেও বিশেষ হিসেবে দেখা হয় তবে এটির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের  ফলে বহু বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । বৃহত্তর মানব সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ শত সহস্র বছর ধরে সত্য  অন্বেষী হিসেবে পৃথিবীর দেশে দেশে নানান জনপদে মহত কাজ করে আসছে এটিই মূলত বিশেষেরও বিশেষজ্ঞান-কর্ম । 

বিশেষেরও বিশেষ এই জ্ঞানই ভিতরে ভিতরে সক্রিয় হয়ে আছে বিভিন্ন সমাজে। যারা এমন অন্বেষণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে তাঁরা সত্য পথযাত্রী। আর  যারা একটি পরীক্ষিত পন্থা প্রচেষ্টার পথে সাধারণ অন্বেষীদের পরিচালিত করছেন তাঁরাই  সত্যমানুষ। তাঁদের অবদান সমাজে ভারসাম্য সৃষ্টি করছে। তাঁরাই হলো সেই বিশেষের বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী যা পরমার্থিক, শুধু মানুষের জন্য নয়, মানবকুলের টিকে থাকা, বেঁচে থাকার জন্য নিবেদিত। সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত।

ভারসাম্যপূর্ন সমাজ গঠনে সত্যমানুষ কুলের জ্ঞানই চুড়ান্ত মহোঔষধ। পৃথিবীর বিভিন্ন জনপদে কখনো এটি তীব্র মাত্রায় কার্যকর থাকে, কখনো থাকে না। যখন কার্যকর থাকে না তখন সেই সমাজে বিশৃঙ্খলা অরাজকতা অশান্তি বিরাজ করে।

পৃথিবীর সব সমাজ কম বেশী সত্যমানুষকুলের অবদান রয়েছে আজও  নানামাত্রায়। মানুষের আচারণে চিন্তায় মহতকর্মে এটি ধরা পড়ে। কিন্তু রাজশক্তির ব্যাপক প্রাবল্য এবং আধিপত্য বিস্তারের বহুমাত্রিক প্রতিযোগীতা এবং বস্তু শিল্পের নামে নয়া অর্থনৈতিকচক্র বিশ্বকে ক্ষতবিক্ষত করেছে, যার ধারা প্রবলভাবে সক্রিয়।  সাম্রাজ্যবাদের এক হাতে ধর্ম, গণতন্ত্র, মানবাধিকার অন্যহাতে ন্যাটো, বিশ্বব্যাংক সহ বহু এজেন্ট। ধর্মকে এরা সরাসরি ব্যবহার না করলেও এটি একটি শক্তিশালী কার্ড। ফলে আমরা যদি মনে করি যাজকদের ক্ষমতা খর্ব করে ইউরোপে যে রেনেসা সংঘটিত হয়েছে সেটিই আমূল পরিবর্তন ডেকে এনেছে তাহলে হিসেবটি মহাভুল।  বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব বর্তমানে আরো ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। ভোগবাদী খায়েশ তীব্র,  নির্বিচারে প্রাণ প্রকৃতি ধ্বংস চলছে। বিপন্ন পরিবেশ, জলবায়ু জনিত মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পৃথিবী। উন্নত বিশ্ব যে বিরাট এক রঙ্গশালা। এমনকি আরব বিশ্ব সেই দৌড়ে পিছনে নয়। তথাকথিত গণতান্ত্রিক দেশ ভারতেও ধর্ম কেবলই রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির হাতিয়ার। মোদী গং আর  তালেবানী কর্ম একই। 

ফলে জ্ঞান চর্চা নেই, আছে কেবল কেবল নষ্ট নষ্ট উন্মাদনা আর  খেলা। যখন মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারের জোর খেলা চলছে তখন পুরো প্রাণীকুল মানুষের ভয়ে তটস্থ। প্রতিদিন উৎসব চলে প্রাণ নিধনের। বাদ যাচ্ছে না কোন প্রাণী। যারা ভারসাম্য বজায় রাখে, নানান অণুজীবের আশ্রম। যেখানে এদের  রূপান্তর ঘটে। আর  তাদের হাতে বিপন্ন সমাজের ভারসাম্য। বৈষম্যই তাদের ক্ষমতার উৎস। 

মানুষ ভুলেই গেছে কোন পৃথিবীতে তার বসবাস। প্রকৃতি যে জীবন্ত, একটি নিয়ম বিন্যাস রয়েছে সেটি মানুষ মানতে চাচ্ছে না। এই যে প্রকৃতির ঐক্যতান, একটি ফর্ম সেটি হুমকীর মুখে পড়ছে। ফলাফল যা হবার তাই হচ্ছে হবে। প্রকৃতির নিজস্ব একটি কাঠামো বিন্যাস সব সময় বিদ্যমান এটির সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলতে হয়। পর্যবেক্ষণ বলছে করোনা জনিত মহাপ্রতিশোধ বিপন্ন প্রাণীকুলের স্পন্দিত ঝড় গতিবেগ থেকে সৃষ্ট।  বিপন্ন প্রাণীকুলের আহাজারি আর্তনাদে প্রকৃতি অটো রিএ্যাকট করছে। যার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে না এখনই তবে সাধনার জগতে সত্যটা খুঁজে পাওয়া যাবে। 

সমস্যা হলো ইতিহাস লেখা হয় রাজশক্তি আশ্রীত তাবেদারদের হাত ধরে। আর  বর্তমানে সত্য খোঁজা হচ্ছে ল্যাবরেটরিতে। ফলে সত্য অধরাই থেকে যাচ্ছে। 

খাদ্য উৎপাদন, শ্রম, আত্মত্যাগ, মহতকর্ম লেখা থাকে না। কোন কোন জবরদস্ত রাজা পৃষ্ঠপোষক হয়েছে মাত্র। তাও তারা এটাকে দান অনুদানের চোখে দেখে। 

ফলে সামাজিক পরিবেশগত ভারসাম্য কিভাবে সৃষ্টি হতে পারে তা দেশপরিচালকরা জানেন না। জানতে পারেন না কারণ এসব কুমতলবী বলয়ে জানা সম্ভব নয়। ফলে শান্তির জন্য সত্য অধরাই থেকে যায়। সমাজের ঘোড়া ছুটে চলে ভয়ানক পথে। সে পথে ভীড় বাড়ে তাবেদার মতলবীদের। দল বড় হতে থাকে, হারিয়ে যায় তিমির গুহায়। বের হতে চাইলেও পথটি কঠিন। করোনা ভাইরাস বিপন্ন পৃথিবীর বুকে ক্ষুদ্র একটি অণুজীব। হাজারো অণুজীব রয়েছে। রহস্যঘন জগতের কতটা আমরা জানি? না জেনেই জোর করে সুখি থাকার অভিনয় চলছে। 

আমাদের দেশেও বইছে  সেই ঝড়। রাষ্ট্রযন্ত্র বিপর্যস্ত। ব্যবস্থাপনা ভেঙে যাচ্ছে। নেতাদের হুংকার মাটিতে মিলিয়ে যাচ্ছে। গৃহে থাকাকেই বেঁচে থাকার দাওয়াই বলছে। গৃহবন্দী মানুষ গৃহকে মেনে নিতে পারছে না। কষ্টার্জিত বাড়ীতে নিজেরাই বন্দি। ঘর থেকে মুক্তির প্রহর গুনছে। করোনা সংক্রমণ থামলে কি মানুষ মুক্ত হয়ে যাবে!!!! না তা হবে না। ঘরবন্দি জীবনই আমরা অর্জন করেছি। বাইরে তো ছিলাম, সেখানে কি উন্নত জীবন ছিল। এখন ঘরের মানুষগুলোর মধ্যেকার সম্পর্কের মধ্যেই প্রকাশ হয়ে পড়ছে নিজেদের অসহনশীলতা।

এমন বিপদের দিনে রাজনীতিটা না করলে হয় না?

সুহৃদ মান্নাফী।। কোভিড-১৯ এর ভয়াল থাবা মোকাবিলার চিন্তায় যখন সারাবিশ্বের সকল শ্রেণীর মানুষ ব্যাকুল, গৃহবন্দি, দিশাহারা, তথ্যের অত্যাচারে বিভ্রান্ত এবং আক্ষরিক অর্থেই নতজানু হয়ে পথ খুঁজছেন, তখনও আস্তিন গুটিয়ে রাজনীতির চিরাচরিত নোংরা কাদা ছোড়াছোড়ির খেলা এবং মুষ্টিযুদ্ধ চলছে বাংলার রাজনৈতিক পাড়ায়! সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এই মহাপ্রলয়ের কালে  দোষ খুজে বের করা আর তর্কে জেতার রাজনীতির খেলাটা কি একটু ভুলে থাকা যায় না? সরকারকে একমাত্র আশ্রয় ভেবে সরকার নির্ধারিত অনুশাসনের বেড়াজালে আটকে রয়েছেন সারাদেশের মানুষ। কিছু ঢিলেমি, কিছু বিশৃঙ্খল চিত্র থাকলেও সামগ্রিক ভাবে সরকার যা বলছে তা মেনে চলার এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনের চেষ্টাই চোখে পড়ছে সারাদেশে। পারস্পরিক সংহতি এবং সমন্বয়ের কথা যখন শোনা দরকার, আর দরকার মানবতার হাত প্রসারিত করার যা মানুষ  শুনতে ও দেখতে চাইছেন, তখনও রাজনৈতিক বিভাজন মানুষকে পীড়িত করছে। সরকারের মন্ত্রী আর বিরোধী একটি দলের দু’একজন নেতার বক্তব্য আর পাল্টা বক্তব্য শংকা জাগায় করোনার বিরুদ্ধে লড়াইটাই বিপথে – বিফলে চলে যাবে না তো? 

কে আগে অশান্তি সৃষ্টি করছেন আর কে পরে, সেই বিতর্কের সময় এটা নয়। এখন একটা বিষয়ই সুস্পষ্ট ভাবে ঠিক করা দরকার। করোনার লড়াইটা কোন মাঠে হবে? যে পথ অভিপ্রেত তা হচ্ছে, বিজ্ঞানের খবর হাতে নিয়ে এবং বিজ্ঞানেরই দেখানো পথে মানুষকে আগলানোর জন্য বিজ্ঞানীদের সঙ্গে নিয়ে পথ হাঁটবেন রাজনীতিবিদেরা। আর এটা করবেন, মানুষের স্বার্থে তো বটেই, সর্বোপরি নিজের স্বার্থে— মৌচাক না থাকলে মউলে বাঁচে না। অন্য পথটা হল কানাগলি, যেখানে রাজনীতিকরা ঢুকে পড়তে পারেন ‘আমি কী পাব’ ভাবতে ভাবতে, ‘ও ওটা করলে আমি এটা কেন করব না’ বলতে বলতে। এটা অবশ্যই সর্বনাশের পথ। 

যাঁরা রাজনীতির মঞ্চে আছেন তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই আবেদন, হাতে হাত ধরে এই সময়টায় মানুষকে শুধু ভরসাই দিই না সবাই আমরা! যাঁরা সামনের সাড়িতে দাড়িয়ে যুদ্ধটা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের কোথায় কি প্রকার সহযোগিতা রসদ পৌঁছানো দরকার সেখানে জন্য তা করতে এগিয়ে যাই। যাঁরা ঘরে বসে কাঁপছেন আর খবর শুনছেন— ওই  করোনা এল আমার দরজায়, তাঁদের যদি একটু সত্যনিষ্ঠ তথ্য সরবরাহ করা যায়, তাতে ভয় শঙ্কা কমবে, মানুষও ভাল থাকবেন। মনে রাখা দরকার, আতঙ্কিত সংশয়গ্রস্ত জনগনকে নিয়ে এ রকম জনস্বাস্থ্য সঙ্কটের সুচারু মোকাবিলা হতে পারে না। এই মুহূর্তে সব পক্ষেরই কাজ মানুষকে সাহস জোগানো। আত্মসন্তুষ্টির কোনও অবকাশ নেই, আবার পাশা খেলারও সুযোগ নেই। সবাই আমরা ট্রাপিজ়ের এক এক কোণে দড়ির উপর দিয়ে পথ হাঁটছি। সমূহ বিপদে সবাই।

সারাবিশ্বই তাকিয়ে বিজ্ঞানের দিকে। জনে জনে বিজ্ঞানী (রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের অতিকথন) সাজলে হবে না। বলা দরকার, বিজ্ঞান ভাতের থালা নয় যে তার কিছুটা নেব আর বাকিটা ফেলে দেব। বিজ্ঞানের তথ্য কাটছাঁট করে নিতে গেলে হদিশ মেলে না, বরং তা ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞান বহু সময় এমন কিছু তথ্য এনে দেয় যা রাজনৈতিক ভাবে স্পর্শকাতর, এমনকি উদ্বেগজনক। এর কারণ, তথ্য তুলে আনার সময় বিজ্ঞান বাইরের প্রভাব— যাকে অর্থনীতির ভাষায় বলে ‘এক্সটার্নালিটি’— তার থেকে সাধারণ ভাবে মুক্ত থাকে। অন্য দিকে, রাজনীতিককে সব সময় ভাবতে হয় পিচে দাঁড়িয়ে তিনি যে শটটা নিলেন তাতে গ্যালারির দর্শক কতটা আলোড়িত হবেন। দু’দলের লক্ষ্যের মেলবন্ধন না ঘটলে কারও লাভ হয় না। বিজ্ঞানের খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এবং সমাজে প্রয়োগযোগ্য করার জন্য সব দিক বুঝে নিতে হয় রাজনীতিককেই। আর এই কাজটা ভাল ভাবে করার আবশ্যিক শর্তই হচ্ছে অহেতুক সন্দেহের বশবর্তী না হয়ে বিজ্ঞানের উপর ভরসা রাখা। রাজনীতিককে বিজ্ঞানের গূঢ় তত্ত্ব বুঝতে হবে, তার বাধ্যবাধ্যকতা নেই। কিন্তু যেহেতু তাঁরা মানুষের ভাষা বোঝেন এবং মানুষের মঙ্গলের হকদার, তাই তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির স্বচ্ছতা, সততা আর বস্তুনিষ্ঠা না থাকলে মানুষেরও ক্ষতি,  তাঁদেরও ক্ষতি। তাই, বিজ্ঞানী এবং রাজনীতিক, দুই তরফের কথা বলার পরিসরটা যত বিস্তৃত হয়, তাঁদের পারস্পরিক বোঝাপড়া যত জোরদার হয়, তত ভাল। 

অন্য দিকে, বিজ্ঞানীকেও বাস্তবতার কথা খেয়াল রাখতে হয়। বুঝতে হয় রাজনীতিকের মতিগতি, দর্শন এবং কাজের ধারা। কঠিন মুহূর্তে উদ্বেগকাতর রাজনীতিক হয়তো বিজ্ঞানের কথা বুঝতে পারেন না। কিন্তু বার বার কথা বলার মধ্যে দিয়ে বুঝিয়ে সুঝিয়ে তাঁকে মানুষের স্বার্থে বিজ্ঞান-নির্ভর করে তোলার কাজটাও বিজ্ঞানীকেই করতে হয়। এর কোনও বেঁধে-দেওয়া স্বরলিপি নেই। ভাষাশৈলী ইত্যাদি চর্চার মধ্যে দিয়েই সেই বোঝানোর পারঙ্গমতা আয়ত্ত করতে হয়। কাজটা সহজ নয়। সামগ্রিক ভাবেই, আমাদের দেশে রাজনীতিকদের মধ্যে প্রমাণ এবং তথ্যের উপর নির্ভর করে নীতিনির্ধারণের সংস্কৃতি এখনও ব্যাপকভাবে গড়ে ওঠেনি। চটজলদি সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক বাধ্যতার উপর নির্ভর করে পথ বেছে নিতেই তাঁরা অভ্যস্ত। এটা মাথায় রেখেই এখন তাঁদের বোঝানোর কাজটা অনুশীলন করা দরকার। এটাও বোঝা দরকার যে, ব্যতিক্রমী রাজনীতিক জিতে বেরিয়ে আসেন বিজ্ঞানের ফুল হাতেই। করোনার টেস্ট যে পরিমান হচ্ছে তা সময় ও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। টেস্ট কিট নিয়ে যে রাজনীতির দামামা তা হতাশ করছে সারাদেশের মানুষকে। দেশের মানুষের কথা ভেবে দেশে আবিস্কৃত বিজ্ঞানকে সম্মান করে এর সুফল কিভাবে পাওয়া যায় তার ব্যবস্থাগ্রহণ এইমুহুর্তে জরুরী। রাজনীতি করে কোন পক্ষই যেন বিজ্ঞানের আবিস্কারকে, দুর্দিনের বাজারে টেস্ট কিটের সহজলভ্যতাকে পায়ে না দলে সে ব্যবস্থা করাই সকলের জন্য মঙ্গল।

করোনার আবহে আমাদের প্রত্যেকের জীবনটাই নানা ভাবে বদলে গেছে। বন্দিদশা আর বিচ্ছিন্নতা জন্ম দিচ্ছে সুরক্ষাহীনতার অনুভূতির। তার সঙ্গে অনেকেই, দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, মেতে উঠেছেন পুরনো অঙ্ক মিলিয়ে নিয়ে বদলা নেওয়ার অবশ্য-বর্জনীয় অপসংস্কৃতিতে। সবার মনে রাখা দরকার, কোনও রাজনীতিকই করোনাকে ডেকে আনেননি। দৃঢ় প্রত্যয়ে, স্বচ্ছতা ও হৃদয় নিয়ে মানুষের পাশে থাকছেন যাঁরা, লোকে তাঁদেরই মনে রাখবে। মানুষ বিজ্ঞানের চুলচেরা খবর না জানতে পারেন, কিন্তু কাণ্ডজ্ঞান বস্তুটা তাঁদের আছে! তাঁদের বোকা ভাবার কারণ নেই। রাজনীতিকরা যদি এই কথাটা মাথায় রাখেন, তা হলে এই মহা দুর্দিনে সবার জন্য মঙ্গল। মানবতার জন্য বয়ে আনবে শান্তি।  

মানবিক বিশ্ব গড়তে একজোট হতে হবে বিশ্বনেতাদের

সুহৃদ মান্নাফী।।

অনেক হয়েছে হিংসা আর হানাহানি। অলিতে গলিতে লড়াই। দেশে দেশে লড়াই। অর্থ আর ক্ষমতার জন্য লড়াই। তেলের জন্য লড়াই। নিজের সীমানার মানুষদের সূখে রাখতে অপর দেশের সীমানায় বাস করা মানুষদের রক্তে হলি উৎসব অনেক হয়েছে! এবার থামেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থামবেন বলেছিলেন। থামেননি! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠা করবেন বলে সংঘ গড়েছিলেন। কিন্তু সেটাও ব্যক্তিস্বার্থ আর ক্ষমতার মোহে নতজানু। কেবল ক্ষমতাধরদের কথা বলে। মানুষের পৃথিবী মানুষের জন্য অভয়ারণ্য হলো না, হলো ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার জন্য। মানুষের পৃথিবীতে মানবতা প্রতিষ্ঠিত হলো না। যতটুকু মানবতা দেখা গেছে সেটাও শোষণ আর রক্তপাতের আরেক নতুন খেলা। আজ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সারাবিশ্ব ধরাশায়ী। কোন পারমানবিক বোমার দরকার নেই এখন। কোন অস্ত্রের দরকার নেই। যা দরকার তা হলো মানব প্রজাতিকে ক্ষুদ্র ভাইরাসের কবল থেকে উদ্ধার করার জন্য ঔষধ আর টিকার আবিস্কার।

বহুবার মহামারিতে আক্রান্ত হয়েছে বিশ্ব। ১৯১৮-১৯ সালে স্প্যানিশ ফ্লুতে প্রাণ হারিয়েছিল বিশ্বের পাঁচ কোটির বেশি মানুষ। এরপর পেরিয়ে গেছে একশো বছর। এর মধ্যে হানা দিয়েছে করোনার মতো ভয়ঙ্কর ঘাতক ভাইরাস যার মতো বীভৎস্য চেহারা আর কোনও মহামারীতে দেখা যায়নি। এই ভয়ানক মহামারী মোকাবিলার জন্য বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সরকার তার জনগণকে ঘরবন্দি থাকার অনুরোধ করেছে, নির্দেশ দিয়েছে। কোথাও কোথাও কঠোর লকডাউনের আদেশ জারি করা হয়েছে। এটা অবশ্যই ঐতিহাসিকভাবে সত্য যে, মধ্যযুগে মহামারি প্লেগের কবল থেকে এই জনবিচ্ছিন্নতা অগণিত মানুষের জীবন বাঁচিয়েছিল এবং স্প্যানিশ ফ্লু মহামারীর সময়ও এই পদ্ধতি অবলম্বন করে বহু মানুষ বেঁচে গিয়েছিল। আজ  শত শত বছর পরেও সেই পদ্ধতিই সবচেয়ে কার্যকর। কারণ এর কোন বিকল্প আজো বিশ্বনেতারা আবিষ্কার করতে পারেনি।

জীবন বাঁচাতে জনবিচ্ছিন্নতা কার্যকর ব্যবস্থা হলেও বিশ্ব অর্থনীতি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে করোনার আঘাতে।ফলে অর্থনীতির মহা-বিপর্যয়ের এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সারাবিশ্ব খুঁজছে বিকল্প পন্থা। খুঁজছে সৃজনশীলতার মধ্যে সময়োচিত সমাধান।
এশিয়ার দেশ চীন,দক্ষিণ কোরিয়া,নেপাল, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা লকডাউনের মতো কঠোর পারস্পরিক জনবিচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করে করোনার সংক্রমণকে আপাত রুখে দিয়েছে। কিন্তু লকডাউন দীঘকালব্যাপী চলতে পারে না। সবচেয়ে উদিগ্নতার যে বিষয় সেটি হলো কোভিড-১৯ নিজের থেকে শীঘ্রই বিদায় নেবে এমন কোনও লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না বিশ্বের কোথায়। বিপদটা এখানেই। এই অবস্থায় বিশ্বের সামনে একটাই পথ খোলা। বিশ্বকে তার বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার সমন্বিত শক্তি প্রয়োগ করে স্থায়ী মুক্তি বা টিকা আবিষ্কার করতে হবে। নীতি নির্ধারকদের অবশ্যই মানতে হবে,বিজ্ঞান-চিকিৎসা বিষয়ক উদ্ভাবন সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য,শুধু কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা নিশ্চিত করার জন্য নয়। যদিও এরই মধ্যে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে একটা ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। সকলেরই দাবি, তাদের হাতের মুঠোয় রয়েছে সেই কাঙ্ক্ষিত প্রতিষেধক। ওষুধ নিয়েও শুরু হয়েছে নানান বাদ-বিতর্ক। আপাত মহাক্ষমতাধর (আছাড় খেয়েছে ইতিমধ্যে) মার্কিন প্রেসিডেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত আমেরিকায় ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দিয়েই শুরু হয়েছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা। ট্রাম্পের দাবি, করোনার চিকিৎসায় এই ওষুধ ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে। কিন্তু আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। রোগীকে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করার পরই এই ওষুধ ব্যবহার করতে চিকিৎসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আমরা জানি কোভিড-১৯ ছাড়াও করোনা ভাইরাস পরিবারে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সার্স) ও মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোমের (মার্স) মতো আরও ভাইরাস আছে। এগুলোর ভ্যাকসিন তৈরির জন্যও গবেষণা চলছে। কিন্তু এসব গবেষণা বারবার বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। যতগুলো কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে আর্থিক সঙ্কট প্রধান। ২০১৬ সালে টেক্সাসের একদল বিজ্ঞানী সার্সের একটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সেই ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষা করার জন্য অর্থাৎ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য যে অর্থের দরকার ছিল, তা তাঁরা জোগাড় করতে পারেননি। তাঁরা যদি সেই গবেষণা এত দিন চালিয়ে যেতে পারতেন, তাহলে কোভিড-১৯–এর ভ্যাকসিন গবেষণা অনেক সহজসাধ্য হতো। এ ক্ষেত্রে শুধু ওষুধ কোম্পানিগুলোকে গবেষণা করলে চলবে না। এর বাইরে অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে। যেমন—প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তাদের ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি এবং ডেটা সায়েন্টিস্টদের এগিয়ে আনতে হবে। ভাইরাল প্রোটিনের গঠনশৈলী সম্পর্কিত জ্ঞান ও তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি ভ্যাকসিনের সম্ভাব্য উপাদানের পরামর্শ দিতে পারে। প্রাসঙ্গিক রিসার্চ পেপার বিশ্লেষণ করেও গবেষকদের সহায়তা করতে পারে। যা ইতিমধ্যেই অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে এর মাত্রা বাড়াতে হবে এবং গোটা দুনিয়ার সকলের সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে এই প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি, গবেষক ও সরকার—এই তিন পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এখন মানব ধর্ম জাগ্রত করার প্রকৃত সময়। মানবিক বিশ্ব গড়ার সঠিক সময়। সবাই বুঝতে পারছে অস্ত্র আর পারমানবিক ক্ষমতা মানব প্রজাতির ধ্বংসের জন্য। মানব প্রজাতিকে বাঁচাতে মানবিক বিশ্ব গড়ার কোন বিকল্প নেই। তাই মানবিক বিশ্ব গড়তে একজোট হতে হবে বিশ্বনেতাদের। এ ভিন্ন কোন উপায় নেই।

করোনা; ঘর ও বাইরের জীবন

নজরুল ইশতিয়াক।। সাধারণ দৃষ্টিতে সত্য ধরা পড়ে না দর্শন- উপলব্ধির অভাবে। সাধারণ মানুষ হয়তো দেখে শোনে তথ্য জানতে পারে। কিন্তু তথ্যের পিছনে যে সত্য থাকে কিংবা কারণের কারণ থাকে সেটা বুঝতে পারে না। তথ্য হলো অনেকটা ঘটে যাওয়া কোন ঘটনার একদম উপরের ভাসমান দিক। তথ্য সবাই জানতে পারে কম বেশী। আর তথ্য বিশ্লেষণ কোন কিছুর গভীরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখায়। কিন্তু এই যে গভীরে অন্বেষণ করার পন্থাটি সেটি নির্ভর করে একরৈখিক প্রচেষ্টার ওপর। করোনা নিয়ে হুটহাট নানান খবর আমরা জানার চেষ্টা করছি, করোনার চরিত্র বুঝতে চাচ্ছি অথবা নিরাপদ দূরত্ব তৈরী করে নিজেরা বাঁচতে চাচ্ছি। কোনটাই জীবনের গভীরতা অন্বেষণকে ত্বরান্বিত করবে না। বরং ভিন্নমাত্রার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এবং করছেও পুরো জীবনের দিকে মনোযোগী না হওয়ার কারণে। এখানে বিশেষ নজর দিতে হবে। 

বলা হয়ে থাকে জ্ঞানের দুটি শাখা। একটি সাধারণ অন্যটি বিশেষ। আবহমানকাল থেকে এটি চলে আসছে। এ জন্য সত্যান্বেষণ সব সময় সনাতন ও বিশেষ । 

জ্ঞানবান মানুষ জীবন জগতকে জানার কর্মে সদা তৎপর। তাদের এই প্রচেষ্টার পথ ধরেই মানব সভ্যতা এতদূর এসেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব সময় এই বিশেষ শাখা কাজ করেছে।  বিজ্ঞান, প্রযুক্তি কিংবা তত্ত্বীয়  জ্ঞানকেও বিশেষ হিসেবে দেখা হয় তবে এটির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের  ফলে বহু বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । বৃহত্তর মানব সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ শত সহস্র বছর ধরে সত্য  অন্বেষী হিসেবে পৃথিবীর দেশে দেশে নানান জনপদে মহত কাজ করে আসছে এটিই মূলত বিশেষেরও বিশেষজ্ঞান-কর্ম । 

বিশেষেরও বিশেষ এই জ্ঞানই ভিতরে ভিতরে সক্রিয় হয়ে আছে বিভিন্ন সমাজে। যারা এমন অন্বেষণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে তাঁরা সত্য পথযাত্রী। আর  যারা একটি পরীক্ষিত পন্থা প্রচেষ্টার পথে সাধারণ অন্বেষীদের পরিচালিত করছেন তাঁরাই  সত্যমানুষ। তাঁদের অবদান সমাজে ভারসাম্য সৃষ্টি করছে। তাঁরাই হলো সেই বিশেষের বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী যা পরমার্থিক, শুধু মানুষের জন্য নয়, মানবকুলের টিকে থাকা, বেঁচে থাকার জন্য নিবেদিত। সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত।

ভারসাম্যপূর্ন সমাজ গঠনে সত্যমানুষ কুলের জ্ঞানই চুড়ান্ত মহোঔষধ। পৃথিবীর বিভিন্ন জনপদে কখনো এটি তীব্র মাত্রায় কার্যকর থাকে, কখনো থাকে না। যখন কার্যকর থাকে না তখন সেই সমাজে বিশৃঙ্খলা অরাজকতা অশান্তি বিরাজ করে।

পৃথিবীর সব সমাজ কম বেশী সত্যমানুষকুলের অবদান রয়েছে আজও  নানামাত্রায়। মানুষের আচারণে চিন্তায় মহতকর্মে এটি ধরা পড়ে। কিন্তু রাজশক্তির ব্যাপক প্রাবল্য এবং আধিপত্য বিস্তারের বহুমাত্রিক প্রতিযোগীতা এবং বস্তু শিল্পের নামে নয়া অর্থনৈতিকচক্র বিশ্বকে ক্ষতবিক্ষত করেছে, যার ধারা প্রবলভাবে সক্রিয়।  সাম্রাজ্যবাদের এক হাতে ধর্ম, গণতন্ত্র, মানবাধিকার অন্যহাতে ন্যাটো, বিশ্বব্যাংক সহ বহু এজেন্ট। ধর্মকে এরা সরাসরি ব্যবহার না করলেও এটি একটি শক্তিশালী কার্ড। ফলে আমরা যদি মনে করি যাজকদের ক্ষমতা খর্ব করে ইউরোপে যে রেনেসা সংঘটিত হয়েছে সেটিই আমূল পরিবর্তন ডেকে এনেছে তাহলে হিসেবটি মহাভুল।  বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব বর্তমানে আরো ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। ভোগবাদী খায়েশ তীব্র,  নির্বিচারে প্রাণ প্রকৃতি ধ্বংস চলছে। বিপন্ন পরিবেশ, জলবায়ু জনিত মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পৃথিবী। উন্নত বিশ্ব যে বিরাট এক রঙ্গশালা। এমনকি আরব বিশ্ব সেই দৌড়ে পিছনে নয়। তথাকথিত গণতান্ত্রিক দেশ ভারতেও ধর্ম কেবলই রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির হাতিয়ার। মোদী গং আর  তালেবানী কর্ম একই। 

ফলে জ্ঞান চর্চা নেই, আছে কেবল কেবল নষ্ট নষ্ট উন্মাদনা আর  খেলা। যখন মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারের জোর খেলা চলছে তখন পুরো প্রাণীকুল মানুষের ভয়ে তটস্থ। প্রতিদিন উৎসব চলে প্রাণ নিধনের। বাদ যাচ্ছে না কোন প্রাণী। যারা ভারসাম্য বজায় রাখে, নানান অণুজীবের আশ্রম। যেখানে এদের  রূপান্তর ঘটে। আর  তাদের হাতে বিপন্ন সমাজের ভারসাম্য। বৈষম্যই তাদের ক্ষমতার উৎস। 

মানুষ ভুলেই গেছে কোন পৃথিবীতে তার বসবাস। প্রকৃতি যে জীবন্ত, একটি নিয়ম বিন্যাস রয়েছে সেটি মানুষ মানতে চাচ্ছে না। এই যে প্রকৃতির ঐক্যতান, একটি ফর্ম সেটি হুমকীর মুখে পড়ছে। ফলাফল যা হবার তাই হচ্ছে হবে। প্রকৃতির নিজস্ব একটি কাঠামো বিন্যাস সব সময় বিদ্যমান এটির সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলতে হয়। পর্যবেক্ষণ বলছে করোনা জনিত মহাপ্রতিশোধ বিপন্ন প্রাণীকুলের স্পন্দিত ঝড় গতিবেগ থেকে সৃষ্ট।  বিপন্ন প্রাণীকুলের আহাজারি আর্তনাদে প্রকৃতি অটো রিএ্যাকট করছে। যার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে না এখনই তবে সাধনার জগতে সত্যটা খুঁজে পাওয়া যাবে। 

সমস্যা হলো ইতিহাস লেখা হয় রাজশক্তি আশ্রীত তাবেদারদের হাত ধরে। আর  বর্তমানে সত্য খোঁজা হচ্ছে ল্যাবরেটরিতে। ফলে সত্য অধরাই থেকে যাচ্ছে। 

খাদ্য উৎপাদন, শ্রম, আত্মত্যাগ, মহতকর্ম লেখা থাকে না। কোন কোন জবরদস্ত রাজা পৃষ্ঠপোষক হয়েছে মাত্র। তাও তারা এটাকে দান অনুদানের চোখে দেখে। 

ফলে সামাজিক পরিবেশগত ভারসাম্য কিভাবে সৃষ্টি হতে পারে তা দেশপরিচালকরা জানেন না। জানতে পারেন না কারণ এসব কুমতলবী বলয়ে জানা সম্ভব নয়। ফলে শান্তির জন্য সত্য অধরাই থেকে যায়। সমাজের ঘোড়া ছুটে চলে ভয়ানক পথে। সে পথে ভীড় বাড়ে তাবেদার মতলবীদের। দল বড় হতে থাকে, হারিয়ে যায় তিমির গুহায়। বের হতে চাইলেও পথটি কঠিন। করোনা ভাইরাস বিপন্ন পৃথিবীর বুকে ক্ষুদ্র একটি অণুজীব। হাজারো অণুজীব রয়েছে। রহস্যঘন জগতের কতটা আমরা জানি? না জেনেই জোর করে সুখি থাকার অভিনয় চলছে। 

আমাদের দেশেও বইছে  সেই ঝড়। রাষ্ট্রযন্ত্র বিপর্যস্ত। ব্যবস্থাপনা ভেঙে যাচ্ছে। নেতাদের হুংকার মাটিতে মিলিয়ে যাচ্ছে। গৃহে থাকাকেই বেঁচে থাকার দাওয়াই বলছে। গৃহবন্দী মানুষ গৃহকে মেনে নিতে পারছে না। কষ্টার্জিত বাড়ীতে নিজেরাই বন্দি। ঘর থেকে মুক্তির প্রহর গুনছে। করোনা সংক্রমণ থামলে কি মানুষ মুক্ত হয়ে যাবে!!!! না তা হবে না। ঘরবন্দি জীবনই আমরা অর্জন করেছি। বাইরে তো ছিলাম, সেখানে কি উন্নত জীবন ছিল। এখন ঘরের মানুষগুলোর মধ্যেকার সম্পর্কের মধ্যেই প্রকাশ হয়ে পড়ছে নিজেদের অসহনশীলতা।