All posts by bartaman

এক যুগেও কার্যকর হয়নি বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ!

সংলাপ ॥ বাংলার মহান সূফী সাধক আনোয়ারুল হক বলেছেন “নিজের বিচার নিজে কর রাত্র দিনে”। সচেতন ব্যক্তি ছাড়া নিজের বিচার নিজে করতে পারা যে কত কঠিন তা সবাই বুঝতে পারে। নিজের কর্মের বিচার নিজে করতে সমর্থ না হলেই শুরু হয় দ্বন্দ্ব, ফ্যাসাদ, হানাহানি। আর তাই পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় নিয়মের ব্যত্যয় হয় আর বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় সকলকেই। সেখানে সবারই প্রত্যাশা থাকে ন্যায় বিচার পাওয়ার। ন্যায় বিচারের জন্য নিরপেক্ষতা নয় প্রয়োজন সত্যের পক্ষাবলম্বন। কিন্তু প্রচলিত আইনের ধারায় তা যেন এক সোনার হরিণ। ব্যক্তিস্বার্থ আর গোষ্ঠীস্বার্থের ব্যাঘাত ঘটলে বিচারের নামে প্রহসন তৈরী হয়। ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয় বিচার প্রত্যাশীরা। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য গঠিত আদালতে প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ থাকলে সেখানে ব্যক্তিস্বার্থ আর গোষ্ঠীস্বার্থের জন্য তা প্রয়োগ করবেই। তাই প্রয়োজন নিরপেক্ষ প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ।

বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে প্রভাবমুক্ত করার তাগিদেই সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করা হয়। সে মোতাবেক বিচারবিভাগ পৃথকীকরণ দিবস ছিল গত ১ নভেম্বর। কোর্টের রায়ে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের লক্ষ্য পূরণে অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নসহ ১২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেসব নির্দেশনার অধিকাংশই পৃথকীকরণের এক যুগেও বাস্তবায়ন করেনি কোনো সরকার। প্রতিষ্ঠিত হয়নি বিচার বিভাগের জন্য নিজস্ব পৃথক সচিবালয়ও। ফলে দৃশ্যমান পরিবর্তন যা প্রত্যাশা করা হয়েছিল তার তেমন কোন অগ্রগতি আসেনি বিচার বিভাগে; বরং মামলাজট আর জটিলতা বেড়েছে দুই গুণ।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ-সংক্রান্ত মাজদার হোসেন মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ১২ দফা নির্দেশনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়ায় উচ্চ আদালতের স্বাধীনতা থমকে রয়েছে। তাছাড়া পৃথক সচিবালয় গঠন না হওয়ায় স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে সঙ্গত কারণেই। কারণ, এখনও বিচারকদের পদোন্নতি, বদলি ও পদায়নের বিষয়গুলোতে আইন মন্ত্রণালয়ই প্রাধান্য পাচ্ছে অর্থ্যাৎ নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে। ঢাকার বাইরে আবাসন, যাতায়াত, নিরাপত্তাসহ কয়েকটি সমস্যাও বিচারকদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। যদিও পৃথক সচিবালয় গঠন করে সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

তবে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয়ের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, “বিশ্বের কোনো গণতান্ত্রিক বা অগণতান্ত্রিক দেশেই বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় নেই। ভবিষ্যতে যাই হোক, এখন যে ব্যবস্থা বিদ্যমান, বিচার বিভাগের জন্য সেটাই ভালো। অবশ্য অধস্তন আদালতের বিচারকদের সমস্যা সমাধানে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। ‘সরকার মামলাজট কমানোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে তা কমানোর জন্য নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিচার কাজ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিচারকের সংখ্যা বাড়াতে এবং এজলাস সংকট নিরসনে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও এসেছে।”

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘‘মামলার দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো এজলাস সংকট। এ সংকট দূর করে সর্বোচ্চ কর্মঘণ্টা ব্যবহার করে বিচার কাজে গতিশীলতা আনতে সরকার কাজ করছে। মামলা ব্যবস্থাপনার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। এ পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে সারাদেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।’’

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সময় দেশের সব আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৭০ হাজার। বর্তমানে দেশের সব আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৭ লাখ। এর মধ্যে অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলা ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ২৯১টি। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সময় ২০০৭ সালে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে বিচারাধীন  মামলার জট ছিল পাঁচ লাখ ৬৩ হাজার। গত এক যুগে এ জট বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে নয় লাখ ১৬ হাজার ৭২৯টি। অর্থাৎ প্রায় চার লাখ মামলা বেড়েছে। সার্বিকভাবে অধস্তন আদালতে অন্যান্য শাখায় মামলাজট বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে বিচারাধীন দেওয়ানি মামলার সংখ্যা ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ১১৭টি এবং বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৭৪টি। এর মধ্যে সিজেএম ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছয় লাখ ৪৮ হাজার ৬০৩টি এবং সিএমএম ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দুই লাখ ৬৮ হাজার ১২৬টি। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে বিচারাধীন মোট মামলার সংখ্যা নয় লাখ ১৬ হাজার ৭২৯টি।

মাজদার হোসেন মামলার রায় অনুসারে সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন ও এর প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে ২০১২ সালের ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়। এ চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে সচিবালয় নির্মাণের কার্যক্রম উদ্বোধনের জন্য দিন ও সময় চাওয়া হয়েছিল। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন এই চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সাত বছরেও চিঠির কোনো জবাব মেলেনি বলে জানা যায়।

বিচার বিভাগে কাজের পরিধি বর্তমানে অনেক বেড়েছে। এসব কাজের সবকিছুই সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে দেখতে হয়। ফলে অনেকাংশে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। পৃথক সচিবালয় হলে বিচার প্রশাসন আরও গতিশীল হবে। আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। তাই যে কোনো প্রতিকারের জন্য তারা আদালতে ছুটে আসছেন। কিন্তু বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর সরকার চাইলেও এককভাবে কোনো কিছু করতে পারে না। তাই মামলাজট নিরসনের জন্য সরকার ও বিচার প্রশাসনকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

কোনো রাজনৈতিক সরকারই চায়নি বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করুক। মাজদার হোসেন মামলার রায় অনুযায়ী সরকার ইতোমধ্যে অধস্তন আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য পৃথক জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন গঠন করেছে। এর আওতায় এ পর্যন্ত ১২টি পরীক্ষা হয়েছে। বর্তমান সরকারের টানা তিনটি মেয়াদে ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অধস্তন আদালতে ৮৭৬ জন সহকারী জজ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরও ১০০ জন সহকারী জজ নিয়োগের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০০৭ সালের আগে সরকারি কর্মকমিশনের আওতায় বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী জজ পদে নিয়োগ দেওয়া হতো। এ ছাড়া দেশের ৬৪ জেলায় অধস্তন আদালতের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ, বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, স্বতন্ত্র পে-স্কেল  প্রণয়ন, কয়েকটি স্তরে গাড়ি সুবিধা দেওয়াসহ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিচার বিভাগের জন্য বাজেটে বরাদ্দও বেড়েছে। যদিও তা পর্যাপ্ত নয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোর জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে ২৭৩ কোটি ৮২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি পদের সংখ্যা কয়েক বছরে বেড়েছে। সব মিলিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা ৬৮৬টি। তবে বিচারক স্বল্পতার কারণে কর্মরত ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা অনুমোদিত পদের চেয়ে কম। ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করা-সংক্রান্ত মাজদার হোসেন বনাম সরকার মামলার যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেন সর্বোচ্চ আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে ৩০১ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা নিয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে অধস্তন আদালতে এক হাজার ৭৯০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা কাজ করছেন।

বর্তমানে দেশ সবদিক দিয়েই এগুচ্ছে। কেবলমাত্র বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সরকারের বহু অর্জন মানুষের কাছে মর্যাদা পায় না। সম্প্রতি জনগণের ফুসে উঠার কারণে কিছু মামলা দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দেশবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে সামান্য মামলা নিয়ে যেভাবে আদালত পাড়ায় সাধারণ মানুষকে ভুগতে হয় তা দূর করার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যার সরকার বাস্তবমূখী পদক্ষেপ নেবে এই প্রত্যাশা দেশের মানুষের।

সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ কার্যকরে প্রয়োগ আর অপপ্রয়োগের চ্যালেঞ্জ!

সময়ের সাফকথা….

সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ কার্যকরে

প্রয়োগ আর অপপ্রয়োগের চ্যালেঞ্জ!

সংলাপ ॥ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে কার্যকর হলো বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮। গত ১ নভেম্বর হতে কার্যকর হলো আইনটি। গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের ঢাকা সেনানিবাস সংলগ্ন জিয়াকলোনী এলাকায় বেপরোয়া বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে সারাদেশে রাস্তায় নেমে আসে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ।একটি সফল ও যুগান্তকারী আন্দোলনের মুখে একই বছরের ৫ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায় আট বছর ঝুলে থাকা সড়ক পরিবহন আইন। গত সেপ্টেম্বরে সংসদে পাসের পর ৮ অক্টোবর তা গেজেট আকারে প্রকাশ পায়। এর এক বছর পর গত  ১ নভেম্বর’২০১৯ হতে কার্যকর হলো আইনটি যদিও সড়কের বাস্তব চেহারা এখনও আগের মতোই।

এ আইন ভঙ্গ করার অপরাধে বিভিন্ন ধারায় সাজা বাড়ছে কয়েকগুণ। পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিধিমালা প্রণয়ন এবং প্রস্তুতি ও প্রচার ছাড়াই আইনটি কার্যকর হওয়ায় এ সেক্টরে দেখা দিতে পারে বিশৃঙ্খলা। এই আইন বাস্তবায়নেও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে সংশ্লিষ্টদের। জেল-জরিমানা বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে পারেন মালিক, চালক যার শেষ ভোগান্তির শিকার হবে  যাত্রী তথা সাধারণ মানুষেরা। আইনটি নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো উচিত ছিল বিভিন্ন মাধ্যমে। তবে বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলেছেন, এটি একটি বহুল আলোচিত আইন। ২০১০ সাল থেকে এ নিয়ে কথা চলছে। দফায় দফায় মিটিং মিছিল করে সব পক্ষের মতামত নেওয়া হয়েছে আইন প্রণয়নের পূর্বে।

এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আইন কার্যকর হওয়ার পর এর ফলাফল তথা আইনের প্রায়োগিক বাস্তবতা জনস্বার্থে কতটা কাজে লাগছে, তা বোঝা যাবে। তবে এই আইনে অনেক কিছুই রয়েছে, যার বাস্তবায়ন হলে দুর্ঘটনা কমে আসবে।’ অন্যদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি প্রাক্তন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ‘চালক বা শ্রমিককে সাজা বা ফাঁসি দিলে দুর্ঘটনা বন্ধ হবে, এমন অলীক কল্পনা যারা করেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।’ তিনি সড়ক পরিবহন আইনের সব মামলা জামিনযোগ্য করার দাবি জানান। উল্লেখ্য, এ আইনে সড়কে বেপরোয়া গাড়ি চলাচলের কারণে কারও মৃত্যু হলে চালককে পাঁচ বছর কারাদন্ড ভোগ করতে হবে। দিতে হবে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা প্রমাণ হলে ৩০২ ধারায় মামলা করা যাবে।

পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও প্রচার ছাড়াই আইন কার্যকরের অভিযোগ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান ড. মো. কামরুল আহসান বলেন, ‘এ আইনের উদ্দেশ্য ঢালাও সাজা দেওয়া নয়, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। প্রথম দিকে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তবে তা ধীরে ধীরে কেটে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নতুন আইন কার্যকরের মাধ্যমে রহিত হয়ে যাচ্ছে মোটরযান অধ্যাদেশ-১৯৮৩। নতুন আইনে সড়কে নিয়ম ভঙ্গে সাজা বেড়েছে কয়েকগুণ। অধ্যাদেশে বিনা লাইসেন্সে গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান ছিল। নতুন আইনে সর্বোচ্চ জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা এবং ছয় মাসের কারাদন্ড। ভুয়া লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশনে গাড়ি চালানোর সাজা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা বা দুই বছর জেল অথবা উভয় দন্ড। অধ্যাদেশে রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি চালানোর সাজা ছিল সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা জরিমানা ও তিন মাস কারাদন্ড। ফিটনেসবিহীন গাড়ির ক্ষেত্রে একই পরিমাণ সাজা ভোগ করতে হতো। নতুন আইনে রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ছয় মাস জেলের বিধান রয়েছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানোর সাজা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।

একটি বিষয় গভীর চিন্তার উদ্রেক করে আর তা হলো- আইনের অধিকাংশ ধারায় সর্বোচ্চ সাজার কথা বলা থাকলে সর্বনিম্ন সাজার কোন উল্লেখ নেই। বিআরটিএর পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. ইউছুব আলী মোল্লা বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা পরিস্থিতি ও অপরাধ বিবেচনা করে জরিমানা নির্ধারণ করবেন। তবে তা সর্বোচ্চ নির্ধারিত জরিমানার চেয়ে বেশি হবে না। বিধিমালায় এসব বিস্তারিত থাকবে।

সড়ক পরিবহন আইন তফসিলভুক্ত করতে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। আইনটি কার্যকর হলেও এখনও বিধিমালা হয়নি। এভাবে আইন কার্যকর করায় প্রশ্ন তুলেছেন শাজাহান খান। গত বৃহস্পতিবার তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সরকার আইনটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। প্রশ্ন হলো, বিধিমালা প্রণয়ন ছাড়াই আইন প্রয়োগে জটিলতার অবসান হবে কীভাবে?’

বিআরটিএর পরিচালক এবং বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্য মাহবুব-ই রাব্বানী বলেন, ‘যতদিন বিধিমালা না হবে, ততদিন মোটরযান বিধি-১৯৮৪ কার্যকর থাকবে।’ কবে বিধিমালা প্রণয়ন শেষ হবে, তা নিশ্চিত করে তিনি বলেননি। আইনে বর্ধিত জেল-জরিমানা প্রসঙ্গে বলেন, সব আইনেই সর্বোচ্চ জরিমানা ও শাস্তির কথা বলা থাকে। বিচারক পরিস্থিতি বিচার-বিশ্নেষণ করে সর্বোচ্চ বা তার চেয়ে কম সাজা দেন। বিনা লাইসেন্সে গাড়ি চালালে ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও, এর চেয়ে কম জরিমানাও করা যাবে।

গত বছর পাস হলেও আইনটি শিথিলে ‘সংশোধনী প্রস্তাব’ দিয়েছিল পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। অভিযোগ রয়েছে, তাদের বাধাতেই গত আট বছর এ আইন করা যায়নি। এ প্রসঙ্গে শাজাহান খান বলেন, শুধু শাস্তির ভয় দেখিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা আনা যাবে না। শৃঙ্খলা আনতে তার নেতৃত্বাধীন কমিটির ১১১ দফা সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে।

নতুন আইনে-

১) ট্রাফিক সংকেত ভঙ্গে জরিমানা ৫০০ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

২) উল্টোপথে গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।

৩) হেলমেট না থাকলে এখন জরিমানা ২০০ টাকা। নতুন আইনে জরিমানা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা।

৪) গাড়ি চালানোর সময় সিল্টবেল্ট না বাঁধলে, মোবাইলে কথা বললে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।

৫) বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে কাউকে আহত করলে তিন লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে চালককে। তিন বছর পর্যন্ত জেলও হতে পারে।

৬) নতুন আইনে চালকদের লাইসেন্স পেতে অষ্টম শ্রেণি পাস করতে হবে। চালকের সহকারীকে পঞ্চম শ্রেণি পাস হতে হবে।

৭) ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ১২ পয়েন্ট রাখা হয়েছে। সড়কে আইন ভঙ্গে জেল-জরিমানা ছাড়াও লাইসেন্সের পয়েন্ট কাটা যাবে। পুরো ১২ পয়েন্ট কাটা গেলে লাইসেন্স বাতিল হবে।

৮) চালক ও তার সহকারীকে নিয়োগপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

৯) গাড়িতে অতিরিক্ত পণ্য বহন করলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা বা এক বছর কারাদন্ড ভোগ করতে হবে মালিককে। তবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী লোডিং পয়েন্টে ওভারলোড পরীক্ষা করতে হবে।

১০) আইনের ৮৪ ধারায় গাড়ির আকৃতি পরিবর্তনে তিন বছর কারাদন্ড বা এক থেকে তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

১১) ৮৪ ধারা ছাড়াও বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে আহত করা (৯৮ ধারা), সড়কে মৃত্যুর (১০৫ ধারা) মামলা জামিন অযোগ্য করা হয়েছে এ আইনে। তবে সব ধারার মামলা জামিনযোগ্য করার দাবি জানিয়েছেন শাজাহান খান।

এ দিকে এ আইন সম্পর্কে সচেতনতা অভিযান চালাতে মাঠে নামছে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বাধীন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আইন করে সব ঠিক করা যাবে না। সচেতনতা আর দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে না পারলে আইনের প্রয়োগ আর আরেক পক্ষে অপপ্রয়োগ বাড়বেই। বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি পরিবহন সেক্টরের সকল শ্রেনীর মানুষের আস্থার জায়গাটি এখনো পর্যন্ত সহজ ও স্বাভাবিক নয়। পারস্পরিক আস্থা এবং সততার জায়গাটি সৃষ্টি করতে না পারলে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে, অরাজকতা তৈরী হবে যা সহজেই অনুমেয়। সরকার এ বিষয়ে নিজেদের সংস্থার প্রতি সজাগ থাকলে বাকিটা আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সেনানিবাসে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনের এবং আইনের প্রয়োগের যে বাস্তব উদাহরণ রয়েছে তা হতে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিতে পারে। শুধু শিক্ষা নয়, সুশিক্ষা সকল পক্ষের জন্যই জরুরী।

ভোগ থেকেই ভয়ের উৎপত্তি

নজরুল ইশতিয়াক ॥ কামনা কিংবা আকাঙ্খা থেকেই জন্ম হচ্ছে মানুষ। এটির নেপথ্যেও ভোগের সংশ্লেষ রয়েছে। জীবনের যে বহুমাত্রিক অস্থিরতা তার পিছনেও ভোগবাদী মনোভাবের যোগ। দখলদারিত্ব-আধিপত্য বিস্তার কিংবা কর্তৃত্ব জারি করার প্রবণতার পিছনে একই দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করে মানুষের অজান্তেই। দেহকে আরাম দিতে দিতে, দেহের সৌন্দর্য বৃদ্ধির মলম মাখতে মাখতে, দেহকে উপাদেয় খাবার দিতে দিতে একসময় এই দেহটাই ভোগ্যবস্তুতে পরিণত হয়। দেহ নির্ভর কিংবা শরীর নির্ভর চিন্তা মানুষকে বাজারী মানুষে পরিণত করে। কেবলমাত্র জীবিকা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ চিন্তার জীবন দূর্ভাগ্যজনক হয়ে আসে। জীবন থেকে জীবনের এই চলা। কর্ম অনুযায়ী পরিবেশ-মাতৃগর্ভ। এই আসা যাওয়ার নেপথ্যে গভীর থেকে গভীরতর সত্য আছে। সেই সত্য উপলব্ধির জন্য যে সহায়ক পরিবেশ পারিবারিক শিক্ষা দরকার সেটি না থাকায় পরিবারের অভিভাবকরা সন্তানদের ভোগবাদী জীবনের গল্প শোনাচ্ছে। এমন সব বিষয়ে পড়াশুনা করাচ্ছে যেগুলো প্রচুর অর্থ আয়বর্ধক। এ কারণে কোরআনুল করিমে বাপ দাদার ধর্ম মেনে চলার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। সূরা ওয়াক্বিয়ায় বলা হয়েছে- মানুষকে তিন ভাবে ভাগ করা হয়েছে। বাম ডান ও অগ্রগামী। বাম দিকের লোকেরা এক সময় স্বচ্ছল ছিল। গভীর তাৎপর্যবহ এই কথাটি প্রতিটি সত্যানুসন্ধানীর জন্য চিন্তার খোরাক যোগাবে। এ জন্যই সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর বাণী- ভোগের আনন্দ সাময়িক-ত্যাগের আনন্দ চিরন্তন। প্রতিটি জীবনের সীমা আছে।

সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই জীবনের সৌন্দর্য এবং গভীর সত্য নিহিত। সেই জীবন প্রকৃতির সীমা জানা কঠিন। এ জন্য জ্ঞানী ব্যক্তির সান্নিধ্য লাগে। সেই সত্য উপলব্ধি হলে জীবনের কোন অনিশ্চয়তা নিরাপত্তাহীনতা থাকে না। ভয় শব্দটিরও কোন অস্তিত্ব নেই সেখানে। কিন্তু সাধারণ জীবনের পুরোটাই ভোগ্যবস্তু। ব্যক্তি নিজে হয়তো জানে না যে সে নিজেও একটা ভোগ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। আবার তার চারপাশ নিরেট একটা ভোগের কারখানা। এই ভোগ তাকে ক্রমাগত সংকুচিত করতে করতে সত্য থেকে বহুদূরে নিয়ে যায়। পথ হারানো পথিকের মতো সেই জীবন আষ্ট্রেপৃষ্ঠে বাধা পড়ে। ভোগ থেকেই ভয়ের উৎপত্তি। একসময়  আপাতদৃষ্টিতে বোঝা না গেলেও একজন ভোগী খুবই ভয়কাতুরে মানুষ। ভোগের বহুমাত্রিক ব্যবস্থাপনাকে নিশ্চিত করতেই তার পক্ষে সমাজে ভয়-শংকাকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়োজন পড়ে। যিনি ভোগী তিনি সম্পদ সংগ্রহ-আহরণের দিকে যেমন গভীর মনোযোগী থাকেন তেমনি তা রক্ষায় বহু কলা কৌশল তাকে রপ্ত করতে হয়। যেমন দূর্গ সমেত বাড়ী-গাড়ী, নিরাপত্তা কর্মী এবং নেটওয়ার্ক। প্রয়োজনে নিরাপদ বাসস্থান খোঁজেন সুদূর প্রবাসে। কারণ সার্বক্ষণিক তাকে একটা ভয়কাতুর চিন্তা গ্রাস করে রাখে। এ জন্য তার সৈন্য সামন্ত লাগে। আর তিনি সমাজে অপরকে ভয় দেখান যাতে কেউ তার এই অসুস্থ্য প্রবণতার বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ান। বৃহত্তর আঙ্গিকে চিন্তা করলে তথাকথিত চরম উন্নত দেশগুলোর সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ও ব্যবসা হলো মারনাস্ত্র উৎপাদন। এটিও ভোগের পরাকাষ্ঠা থেকেই জন্ম নেয়া। এ বিষয়ের সত্য বের করা অনুসন্ধানীর কাজ। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিসরে বিষয়টি দেখা গেলেও এই সত্যতা ধরা পড়বে। রাজনীতি একটি ক্ষমতা। যা সুরক্ষা দেয় এবং সুযোগ তৈরী করে দেয় সম্পদ কুক্ষিগত রাখার। ক্ষমতার রাজনীতিতে নীতি কথা চলে না। আদর্শ শব্দটিও লোক দেখানো। একজন আপাদমস্তক ভোগী সমাজে তার নিজেকে নিরাপদ রাখতে, নিজের সব কিছুকে জায়েজ করতে একটা আবরণ তৈরী করে রাখেন। বলা যেতে পারে একটা দেয়াল তৈরী করেন। এই দেয়াল তাকে সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। ফলে তিনি এমন কিছু নীতি বাক্য কিংবা তথাকথিত ভালো কাজের অভিনয় করেন নিজ সম্মানার্থে যা অন্য সব কামনালিপ্সু মানুষকে সেই পথে টেনে আনে। ক্ষমতাধর ভোগী ছিটেফোটা অংশ ব্যয় করেন এ কাজে। এভাবে সমাজে শুরু হয় ভোগী হবার প্রবনতা। ভীড় বাড়তে থাকে।

অন্যদিকে অনেকের হয়তো ডাক্তারী পড়ার কথা নয়, কিন্তু বৃত্তশালী পিতার চাপে পড়ে তাকে মেডিকেল পড়তে হচ্ছে। পাসও করে যাচ্ছে সবাই। মেডিকেলে ভর্তি হয়ে ডাক্তার হয়নি এমন লোকের সংখ্যা নেই। ফলে এমন ডাক্তার অপারেশন থিয়েটারে রোগী মেরে ফেলবে অথবা রোগীর বড় কোন ক্ষতি করবে এটাই স্বাভাবিক। অন্যদিকে প্রকৌশল বিষয়েও পড়তে বাধ্য হচ্ছে অনেকে। পড়াশুনা শেষে সরকারী চাকুরী জুটলে কোটিপতি হতে বেশিদিন লাগে না। তাহলে কাজের গুণগত মান কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। ঘুষখোর জামাই কিংবা জামাইয়ের ইনকাম কত এটা পাত্রী পক্ষের একটা বিরাট চাহিদা। ফলে পরিবারই যখন লোভী ভোগী দুর্নীতি সহায়ক তখন আত্মশুদ্ধির জায়গা কোথায়?

ধর্মের নামে…. – ৭

সংলাপ ॥ স্রষ্টা এক ধর্মও এক। এখানে সত্য ধর্ম আর মিথ্যা ধর্মের অবতারণ বোকামী। সত্তাগুণের নিয়ন্ত্রিত বিকাশ হলে সেটা ধর্ম। অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ অধর্ম। ধর্ম সমাজের কোনো বিধি-বিধান নয়। মানুষের সৃষ্টি কোনো আইনের বাধনও নয়। স্রষ্টা কে? আমি কে ? আত্মা কী? আত্মা কিভাবে দেহে প্রবেশ করে? কিভাবে দেহ থেকে তা বেরিয়ে যায়? মন ও প্রাণ জীবের কোথায় থাকে? আত্মা কি জীবকোষের সমপরিমাণ? এসব প্রশ্নের উত্তর পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে জন্ম রহস্যের পরম্পরায়। প্রশ্ন হতে পারে অনেক। আল্লাহর রূপ কী? আল্লাহ কি মানুষ ভাবাপন্ন? মানুষ শোনে, দেখে, বলে আর আল্লাহও তো শোনেন, বলেন এবং দেখেন। আল্লাহর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ রূপ কী? স্রষ্টা কি সৃষ্টি হতে ভিন্ন? আল্লাহ নিরাকার-প্রাণও নিরাকার। কার সাথে কার সম্পর্ক ? এসব কি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ? আল্লাহ কি মানুষকে তার প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে তৈরি করেছেন? ধর্ম নিয়ে গবেষণা করলে এর সবগুলো উত্তর পরিষ্কার হয়ে যাবে। তখন দেখা যাবে খারাপ কর্ম, খারাপ ধর্ম = নাস্তিক। ভাল কর্ম, ভাল ধর্ম=আস্তিক।

প্রতিটি শিশু একই প্রকৃতির উপর জন্মগ্রহণ করে। পিতা-মাতা এবং সমাজ তাকে অন্যভাবে গড়ে তোলে। সকল শিশুরই ভাব-ভঙ্গি, হাসি-কান্না, ভয়-ভীতি, ক্ষুধা ইত্যাদি একই প্রকৃতির। জন্মকালে কারো দাঁত থাকে না। যদি থাকতো তবে মাতৃস্তনে ক্ষতের সৃষ্টি হতো। তাছাড়া, শিশুরা তখন তরল খাবারেই বেড়ে ওঠে। যখন শক্ত খাবার খাওয়ার সময় হয় তখন দাঁত আপনা আপনি গজিয়ে ওঠে। এগুলো প্রকৃতিরই অংশ। ধর্ম, প্রকৃতি ও বিজ্ঞান একই। একটি অপরটির বিরুদ্ধে কথা বলে না। তাছাড়া বিজ্ঞান স্রষ্টার কর্ম আর ধর্ম বিধান সেই স্রষ্টারই বাণী।

ধর্ম মানবের জন্য স্রষ্টা প্রদত্ত আইন। এ আইন সর্বজীবে সর্বজড়ে জন্ম থেকেই বিরাজ করছে। রেলগাড়ী যেমন লাইন ছাড়া চলতে পারে না, মানুষ ও জড় তেমনি ধর্ম ছাড়া চলতে পারে না। তাই, জন্মলগ্ন থেকে মানুষ যে প্রকৃতি বা আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত তারই অপর নাম ধর্ম। ধর্ম পালন মানুষের জন্য অপরিহার্য। ধর্মই মানুষকে সত্যিকারের মানুষে পরিণত করে। ধর্মহীন মানুষ ভয়ংকর পশুর চাইতেও অধম। সঠিকভাবে ধর্মের অনুশীলন অন্তরের পবিত্রতা আনে, অন্তরের অন্তস্থলে আধিপত্য আনে। এক দেশের মানুষ অন্য দেশের জাগতিক আইন মানতে বাধ্য নয় কিন্তু পৃথিবীর সব মানুষ মানসিক, দৈহিক ও আত্মিকভাবে একই আইনের উপর যেহেতু প্রতিষ্ঠিত সেহেতু সকলকে তা অপরিহার্যরূপেই মেনে চলতে হবে। মানুষের তৈরি জাগতিক আইন নিয়ত পরিবর্তনশীল কিন্তু মানুষের সত্তাগুণের কোনো পরিবর্তন হয় না-হবার নয়। যদি হয়ে যায় তবে সে ধর্মহীন। মানুষ তার নিজের রচিত আইন দ্বারা অন্যের উপর প্রভুত্ব সৃষ্টি করতে পারে-নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে-কিন্তু মানব প্রকৃতি তা পারে না। ধর্মের অনুশীলন মানুষকে শান্ত-শীতল বাতাবরণে এনে দেয়-স্রষ্টার কাছে নিয়ে যায়। শিশুর জন্মের পূর্বেই তার খাদ্যের ব্যবস্থা প্রাকৃতিক। প্রকৃত ধর্মে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের

প্রতিটি অবস্থা ও স্তরের সমাধান বিদ্যমান রয়েছে। মানুষ যখন সত্তাগুণ হারিয়ে বসে তখন ঐশী বাণী নিয়ে মহাপুরুষদের আগমন ঘটে স্রষ্টার নিকট থেকে। যুগ-যুগান্তরে যারা ধর্মের কথা বলে গেছেন তারা সকলেই সাধু, সৎ ও সত্যবাদী। সমস্ত জীবনের সাধনা দিয়ে তারা ধর্মকে সত্য প্রমাণ করে গেছেন। তারা কিন্তু স্রষ্টাকে দেখাতে পারেননি। স্রষ্টাতো আসলে মানুষের ভেতরে। ভেতরের জিনিস বাইরের চোখ দিয়ে দেখবে কিভাবে? অন্তরের চোখ থাকলেই দর্শন সম্ভব। সূর্যের দিকেই তাকানো যায় না – সূর্যের স্রষ্টার দিকে কিভাবে তাকাবে বা দেখবে ? নবীগণ যে প্রক্রিয়ায় সেই মহান স্রষ্টার অস্তিত্বের সন্ধান পেয়েছেন আমাদেরকেও সেই পথেই যেতে হবে। পথ একটাই যত মত তত পথ এটা ঠিক কিন্তু সকল মত ও পথে তাঁকে পাওয়া যায় না। মতের পার্থক্যে পথের সংখ্যা এত বেশি হয়ে গেছে যে কে কোন পথে যাবে তার কোনো দিশা করে উঠতে পারছেনা।

সিজারিয়ান অপারেশন : দৃষ্টি দেয়ার এখনই সময়

হাসান জামান টিপু ॥ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি অনেক বিদেশী সংস্থা কাজ করছে। এক্ষেত্রে বিরাট বাজেট প্রতিবছর বরাদ্ধ হয়। স্বাস্থ্যকর্মীদের সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়াতে নেওয়া হয় ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। সাধারণ মানুষ জানে না পেশাগত ও নৈতিকতার কোন পাঠ সেখানে দেওয়া হয় কি না। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা মূলত দুইভাগে বিভক্ত; সরকারী ও বেসরকারী। সরকারী ও বেসরকারী সকল ক্ষেত্রেই নীতি নৈতিকতার একটা পাঠ বা শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে আজ। সরকারী হাসপাতালগুলিতে যদিও তুলনামূলক ভাবে মানবিক দিকটা মোটামুটি দেখা হয়, বেসরকারী হাসপাতালে অর্থের জন্য যে কোন অনৈতিক কাজ করতে তাদের বাঁধে না। এক্ষেত্রে সরকারও বোধকরি অনেকটাই অসহায়। দেশের বড় বড় বেসরকারী হাসপাতাল গুলির বিরুদ্ধে প্রায়শ অনৈতিকতার ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ আসে। লাশকে দিনের পর দিন লাইফ সাপোর্ট দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তো নিয়মিতভাবেই শোনা যায়। ভুল চিকিৎসা, রোগীকে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া, রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের থেকে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ নিত্য দিনের করুণ কাব্য।

এই অনৈতিকতার অন্যতম দিক হলো সিজারিয়ান অপারেশন এ প্রসঙ্গে প্রথমেই বিশিষ্ট সাহিত্যিক ডা. জাকির তালুকদারের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে বাস্তব ঘটনা শেয়ার করতে চাই। “সিজারিয়ান অপারেশন ও আমার সন্তান:

আল্ট্রাসনোগ্রামের দেয়া তারিখ অনুযায়ী গাইনি ওয়ার্ডে নিয়ে গেলাম স্ত্রীকে। একদিন যায়, দুইদিন যায়। কিন্তু তার প্রসববেদনা ওঠে না। গাইনি-অবস-এর প্রফেসর ম্যাডাম খুব যত্নের সাথে দেখছিলেন আমার স্ত্রীকে। অন্য ডিউটি ডাক্তার, ইন্টার্নিবৃন্দ, ওয়ার্ডের স্টাফ সবাই ছিলেন খুব আন্তরিক এবং যত্নশীল।

কিন্তু তৃতীয় দিন ম্যাডামের ধৈর্যচ্যুতি ঘটল। বললেন- সিজারের জন্য তৈরি হও। আজকেই করে ফেলব।

আমি তখন নতুন ডাক্তার। ম্যাডামের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস কোথায় পাই! তবু বললাম- ম্যাডাম, সাতদিন তো অপেক্ষা করাই যায়।

ম্যাডামের মুখে বিরক্তি। আমি তবু বলে চললাম- গর্ভের সন্তানের হার্টরেট স্বাভাবিক, হেড এনগেজড, পজিশন নরমাল, প্রেজেন্টেশন সেফালিক, অ্যামনিওটিক ফ্লুইড যথেষ্ট। সন্তানের মায়ের প্রেসার স্বাভাবিক, পায়ে কোনো পানি নেই, ইউরিনে অ্যালবুমিন নেই, কোনো খিঁচুনির লক্ষণ নেই। এই রোগীকে এখনই সিজারের সিদ্ধান্ত কেন দিচ্ছেন ম্যাডাম?

তিনি রেগে বললেন- তুমি কি আমার চাইতে বেশি জানো?

এই কথার কী উত্তর দেব? বললাম- আপনার চাইতে বেশি জানার প্রশ্নই ওঠে না ম্যাডাম। আপনি যেটুকু শিখিয়েছেন, সেটুকুই বলেছি।

এবার ম্যাডাম হেসে ফেললেন। বললেন- ঠিক আছে। অবজারভেশনে রাখো।

নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমেই পৃথিবীতে এসেছিল আমার পুত্র।’

২.

গতকাল আমার যে নতুন মায়ের জন্ম হয়েছে, আমার ছোট ভাইয়ের কন্যা, ফেসবুকে ছবি দেখে যাকে আপনারা অশেষ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, সেই মায়ের ক্ষেত্রেও ঘটনা কাছাকাছি। লিকিং হয়েছিল কিছুটা আগেরদিন। তাই তোড়জোড়। সিজার করতে হবে।

এখন আমি সিনিয়র ডাক্তার। (যদিও গাইনির নই)। ধমকের সুরে বললাম-দুই ঘণ্টা পর পর বাচ্চার হার্টরেট আর মায়ের ব্লাড প্রেসার মাপো। আর অপেক্ষায় থাকো।

আমার নতুন মা-ও পৃথিবীতে এসেছে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমেই।

[কী ওয়ার্ড: ঠিকমতো পর্যবেক্ষণ করো। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করো। শতকরা ৯০টা নরমাল ডেলিভারি হবে।]”

একজন ডাক্তারের অভিজ্ঞতা যদি এই হয় তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। এক্ষেত্রে আমার নিজের অভিজ্ঞতাও বেশ হতাশার। পাঠকদের নিজস্ব অভিজ্ঞতাও নিশ্চয়ই আরো করুণ। বাস্তবে ডাক্তারগন একটা আতংকজনক ও চিকিৎসাজনিত জটিলতা প্রসুতি ও তার স্বজনদের সামনে তুলে ধরেন যাতে তারা সিজার করানোর জন্য সহজেই রাজী হয়।

এদিকে দিন দিন এই হার বাড়ার জন্য সিজারিয়ান বেসরকারি ক্লিনিকের অর্থলিপ্সা, সরকারি ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু না হওয়া এবং ডাক্তারদের নৈতিকতার ঘাটতিকে দায়ী করছেন গবেষকরা।

বিদেশী একটি সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিশ্বব্যাপী ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রসব সিজারিয়ান বা সি-সেকশনে করানোর সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডাব্লিউএইচও কিন্তু বাংলাদেশে সেই সীমা ছাড়িয়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। দিন দিন বাড়ার জন্য সিজারিয়ান বেসরকারি ক্লিনিকের অর্থলিপ্সা, সরকারি ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু না হওয়া এবং ডাক্তারদের নৈতিকতার ঘাটতিকে দায়ী করছেন গবেষকরা। দায়ী কিছু প্রসুতি মায়ের প্রসব পরবর্তী দাম্পত্য জটিলতার বিষয়।

আইসিডিডিআরবি’র এক গবেষণায় উঠে আসে এই ব্যাপক হারে সিজার করানোর ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উপর কি রকমের অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। ওই গবেষণায় উঠে আসে বাংলাদেশে বিভিন্ন পরিবার সম্ভবত তাদের আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ খরচ করছে বাচ্চা প্রসবের ক্ষেত্রে। কাউকে কাউকে ঋণ করে কিংবা সঞ্চয় ভেঙেও এই খরচ করতে হচ্ছে।

ওই গবেষণায় দেখা গেছে, সিজারিয়ানের ক্ষেত্রে তাদের গড়ে খরচ পড়ছে ২৫০ ডলার বা বাংলাদেশী টাকায় ২০,০০০/-, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে যে খরচ মাত্র ৬০ ডলার বা বাংলাদেশী টাকায় ৪,৮০০/-।

এভাবে বাচ্চা প্রসবে খরচ বৃদ্ধি বাংলাদেশের ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার’ অর্জনে বড় বাধা হয়ে দেখা দিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় ওই গবেষণায়। বাংলাদেশে সিজারিয়ান নিয়ে আইসিডিডিআরবির ওই গবেষণা দলের প্রধান ডা. আবদুর রাজ্জাক সরকার এই বিদেশী সংস্থাকে বলেন, ‘‘বাড়িতে ডেলিভারি করা হলে মাত্র ১৪শ টাকা খরচ হয়। যখন সরকারি ইনস্টিটিউশনে ডেলিভারি করা হয়, সেখানে গড়ে ৬ হাজার ৬০০ টাকা খরচ হয়। যখন সি-সেকশন করতে হয়, তখন এই খরচটা গড়ে ২১ হাজার টাকা হয়ে যায়। এটা মানুষের উপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।”

২০১৭ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে অনুযায়ী, বাংলাদেশে সিজারিয়ান প্রসবের সংখ্যা শতকরা ৩১ ভাগ, যা বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত হারের দ্বিগুনেরও বেশি। তাদের নির্ধারিত হার অনুযায়ী, এই সংখ্যা হতে পারে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছেন, এই হার ক্রমশ বাড়তির দিকে। এর অন্যতম প্রধান কারণ প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো, এগুলির আয়ের ৯৫% ভাগই সিজারিয়ান অপারেশন থেকে আসে। একবার একজন প্রসূতিকে সিজার করতে পারলে দ্বিতীয় বাচ্চাও সিজারই হবে এটাই সিজারিয়ানের হার বাড়ার অন্যতম কারণ।

আইসিডিডিআরবির গবেষণায় উঠে এসেছে, ৩৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি মায়েরা অন্যদের তুলনায় বেশি খরচ করছেন। অন্যদিকে, শহুরে নারীদের মধ্যে যারা শিক্ষিত এবং জন্মদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন, তাঁরাও এই বেশি খরচের পথই ধরছেন। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব হেলথ প্লানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টে আইসিডিডিআরবি’র ওই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। এ অবস্থা কমবে যদি ডা. জাকির তালুকদারের মতো ডাক্তাররা যদি এগিয়ে আসেন। নৈতিকতার যে অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি, স্বাস্থ্যসেবা খাত তার বাইরে নয়। এক্ষেত্রে ডাক্তারদের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে এবং সরকারের কঠোর মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখতে হবে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোকে। স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালতে হবে।

নৈতিকতার শিক্ষা যদি অন্তর থেকে আসে তবেই অনৈতিক কাজ থেকে মানুষ বিরত থাকে। সেই শিক্ষাই মেটিভেটর হিসাবে দিতে পারে সিনিয়র ডাক্তারগন। এক্ষেত্রে ক্লিনিক মালিকদের বুঝতে হবে অসহায় রোগীদের চরম নির্ভরশীলতার জায়গা তার স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সেখানে নির্ভরশীলতার সুযোগে অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়া অনুচিত এই বোধে বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। স্বাস্থ্যখাত যে একটি সেবামূলক খাত তা ক্লিনিক মালিকদের বুঝাতে হবে, সেবার মন মানসিকতায় তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং সরকারের কঠোর মনিটরিং ও জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে হবে। স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালতে হবে। স্বাভাবিক প্রসবের জন্য প্রসূতি ও তার পরিবারকে সচেতন করতে হবে। সর্বোপরি একজন প্রসূতি ও তার নবজাতককে পৃথিবীতে আনতে হবে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে।

আন্তর্জাতিক স্বার্থান্বেষীদের ফাঁদে আটকা পড়েছে কাশ্মির জায়নবাদ এবং চীনের বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ!

সংলাপ ॥ জায়নবাদের জন্ম হওয়ার পর কেবলমাত্র দুইবার এটি হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। প্রথমবার জায়নবাদ হুমকির সম্মুখীন হয় যখন তারা উসমানীয় খিলাফতকে উৎখাত করতে যায়, তখন ভারতীয় উপমহাদেশে সংগঠিত হওয়া ‘খিলাফত আন্দোলন’-এর দ্বারা। দ্বিতীয়বার জায়নবাদ হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে বর্তমান রুশ-চীন এলায়েন্সের দ্বারা।

চীনের বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) জায়নবাদীদের অর্থনীতির জন্য অনেক বড় একটা হুমকি। বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ হলো প্রাচীন সিল্ক রোডের আদলে গড়া একটি প্রকল্প যা তিনটি মহাদেশকে (এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ) একটি অর্থনৈতিক বন্ধনে আবদ্ধ করবে সড়ক ও নৌপথের মাধ্যমে। আর এই ইজও প্রজেক্টে চীনের পাশে পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মায়ানমারের মত বাংলাদেশও রয়েছে।

চীনের এই প্রজেক্টকে টক্কর দেয়ার জন্য জায়নবাদীরা তৈরী করেছে Free Open Indo-Pacific (FOIP) স্ট্র্যাটেজি। এই স্ট্র্যাটেজির সাথে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাস্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান। তারা চায় বাংলাদেশও এই স্ট্র্যাটেজিতে যোগ দিক। আর এজন্যই আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়ায় যারা মুসলমানদের হত্যা করেছে, সেইসব খুনিরাই রোহিঙ্গাদের জন্য মুসলিমদের চেয়েও বেশী চোখের পানি ঝরিয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশকে BRI থেকে FOIP এ নেয়ার পথে জায়নবাদের প্রধান বাঁধা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। যেহেতু বিএনপি সম্পূর্ণ একটা পঙ্গু দলে পরিণত হয়েছে, ফলে জায়নবাদীরা তাদেরকে সরকার পতনের কাজে ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছে না। বিভিন্ন নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকেদের প্রাধান্য থাকায় জায়নবাদীরা ‘কালার রেভ্যুলেশন’ সৃষ্টি করতেও ব্যর্থ হচ্ছে। আর তাই তাদের টার্গেট হলো এদেশের ছাত্রসমাজ। তারা বারবার বিভিন্ন ইস্যু সৃষ্টি করে ছাত্রসমাজকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে। যেমন: ‘কোটা আন্দোলন’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন’, ‘আবরার হত্যাকান্ড’ ইত্যাদি। এছাড়া ‘ভোলা ট্রেজেডি’-তেও এসব জায়নবাদীদেরই হাত রয়েছে যাতে উগ্র ইসলামপন্থীদের ক্ষেপিয়ে তোলা যায় সরকারের বিরুদ্ধে।

লক্ষ্য করে দেখুন, পাকিস্তানে কী হচ্ছে! ইমরান খানের সরকারের পতন ঘটানোর জন্য বিরোধী দলগুলো কীভাবে উঠে পড়ে লেগেছে! আর ভারতের মিডিয়া কতটা উৎসবের সাথে তা প্রচার করছে! আপনি কী বিশ্বাস করবেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির দালাল মিডিয়াগুলো পাকিস্তানের একজন মাওলানাকে (মাওলানা ফজলুর রহমান) কীভাবে প্রমোট করছে! কীভাবে তার মার্চকে অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে প্রচার করছে! কেন তারা এগুলো করছে? কারণ ইমরান খান কাশ্মিরের অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন। আর কাশ্মির হলো চীনের ইজও প্রকল্পের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুতরাং আজাদ কাশ্মির আন্দোলন যে একটি আন্তর্জাতিক স্বার্থান্বেসী মহলের ফাঁদে আটকা পড়েছে তা বুঝতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। সকল পক্ষেরই স্বার্থ রয়েছে, থাকবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সবকিছুর উর্ধ্বে স্থান দেওয়া দরকার সাধারণ মানুষের মানবতার বিষয়টি যা ভারত-পাকিস্থান কেউই দিতে পারছে না। মুসলমান কিংবা হিন্দু পরিচয়ে নয়, এই অসহনীয় যাতনা থেকে কিভাবে মুক্তি মিলবে কাশ্মিরী জনগণের তাই দেখার বিষয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নয়নের সব সূচকে এগিয়ে বাংলাদেশ

সংলাপ ॥ উন্নয়নের সব সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকরা। গত সোমবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বিগত এক দশকে বাংলাদেশের অর্জিত অবিশ্বাস্য উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে একথা জানান তারা। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকরা বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য উন্নয়ন ও এই উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার প্রশংসা করে বলেছেন, উন্নয়নের সব সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। বাংলাদেশে বিশ্ব ব্যাংকের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে বলেও জানান নির্বাহী পরিচালকরা।

বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা অব্যহত রাখবে জানিয়ে বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্ব ব্যাংক তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনেও সহযোগিতা করবে এ সংস্থা। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে তাদের অবস্থা দেখে আসার কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন নির্বাহী পরিচালকরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ প্রতিরোধমূলক কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানতে চান বিশ্ব ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকরা। ‘ক্লাইমেট ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন, ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা এসময় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  সাধারণ মানুষ যেন উন্নয়নে সুযোগ-সুবিধা পায় সেজন্য তৃণমূলকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারের সব ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যে কোনো উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকে গুরুত্ব দেই।

বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ৮২ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে নেমে আসার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠনে জাতির পিতা আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সুবিধা নিশ্চিত করতে নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

দেশে শিল্পায়নের লক্ষ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশকে আরও এগিয়ে নিতে রেলপথ, সড়কপথ, বিমান ও নৌপথকে আরও আধুনিক করে গড়ে তোলার পাশাপাশি সারাদেশে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়ে মত বিনিময় সভা ও পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষাথীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট – সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত….

হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়ে

মত বিনিময় সভা ও পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষাথীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

20191029230235_IMG_3244

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট – সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ১৪ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ৩০ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার বিদ্যাপীঠের ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সদস্য, শিক্ষকমন্ডলী, সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হয় শিক্ষার গুণগত মান নির্ণয়ের লক্ষ্যে অভিভাবক মত বিনিময় সভা এবং সেই সাথে পিইসি ও জেএসসি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১১নং ওয়ার্ড, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সম্মানিত কাউন্সিলর জনাব দেওয়ান আবদুল মান্নান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর থানা, ঢাকার সম্মানিত  থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, জনাব আবদুল কাদের ফকির।  এই সময় বিদ্যাপীঠের প্রায় ৬৫০জন ছাত্র – ছাত্রী ও অভিভাবকদের মিলন মেলা হয়।

জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে সকাল ১০.০১ মিনিটে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তারপরই সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট – সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ এর শিক্ষা প্রকল্পের সম্মানিত পরিচালক ছাত্র – ছাত্রী ও সম্মানিত অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তাঁর স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে ২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিদ্যাপীঠের পড়ালেখার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনা সকলের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বিদ্যাপীঠকে স্বপ্নের স্কুল তৈরি করার লক্ষ্যে বিদ্যাপীঠের ব্যবস্থাপনা কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক সমন্বয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আহবান জানান। তিনি বলেন, আর দশটি বিদ্যালয় থেকে আদর্শিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ভিন্নধর্মী একটি বিদ্যালয় হলো হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়। তাই এই বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে সকলের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। তিনি ২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন রূপে নতুনভাবে বিদ্যাপীঠের সমস্ত কর্মকান্ড চলবে বলে আশ্বাস দেন যার মাধ্যমে বিদ্যাপীঠ অত্র এলাকার মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা পোষণ করেন।

এরপর সম্মানিত অভিভাবকরা বিদ্যাপীঠ নিয়ে তাঁদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন জনাব মো. আলী আকবর এবং সীমা আক্তার।

১০.৩০ মিনিটে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনাব দেওয়ান আবদুল মান্নান শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তাঁর মূল্যবান দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, তাঁদের সন্তানদের শুধুমাত্র বেশি নম্বর পেয়ে ভাল ফলাফলের দিকেই লক্ষ্য না রেখে তারা যেন ভাল মানুষ হতে পারে সেই দিকে বেশি নজর দেন। তিরি আরো বলেন, একজন ছাত্রের মধ্যে যে ছাত্রসুলভ আচরণ দেখা যায় অর্থাৎ তার কথা বার্তায়,পোশাক পরিচ্ছেদ, চলাফেরায় ছাত্র সুলভ ভাব বজায় থাকে সেদিকটা লক্ষ্য রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান। সন্তানদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকার গুরত্ব সবচেয়ে বেশি বলে তিনি মেন করেন এবং  সন্তানদের প্রতি  মাকে আরো বেশি সচেতন হওয়ার আহবান জানান।

এরপর বক্তব্য রাখেন মিরপুর থানার সম্মানিত থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব আবদুল কাদের ফকির। তিনি ছাত্র- ছাত্রীদের সৎ ও সুনাগরিক হয়ে গড়ে ওঠার আহবান জানান।

বিদ্যাপীঠের ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত অভিভাবক প্রতিনিধি জনাব পারভিন আক্তার এবং জনাব মো. নুরুল ইসলাম ছাত্র – ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য ব্যক্ত করেন।

সকাল ১১.০০ টায় গত এক মাসের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতি শ্রেণি থেকে দুইজন করে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত করে তাদের মধ্যে সম্মানসূচক সনদপত্র বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনাব দেওয়ান আবদুল মান্নান। এছাড়াও বিদ্যাপীঠের চারজন শিক্ষককে বিদ্যাপীঠে তাঁদের অধিকতর সেবামূলক ভূমিকা পালনের জন্য শ্রেষ্ঠ কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করা হয় এবং তাঁদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। কাউন্সিলরা হলেন জনাব হাসনা আক্তার, জনাব ফারজানা ইয়াসমিন, জনাব মো. আমিরুল ইসলাম এবং জনাব মীর নাজির হোসেন।

এরপর শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। এই পর্বে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মানপত্র পাঠ করা হয়। এরপরই পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৮ম শ্রেণির পরীক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম নূর তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে।

সকাল ১১.৪৫ মিনিটে পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় এবং সবশেষে তবারক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সঠিক নেতৃত্বই সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়

‘নেতৃত্ব’ বিষয়ে হাক্কানী চিন্তন বৈঠকের ৫ম পর্বের আলোচনা

সঠিক নেতৃত্বই সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়

সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ)-এর নিয়মিত সাপ্তাহিক হাক্কানী চিন্তন বৈঠকের অংশ হিসেবে ‘নেতৃত্ব’ বিষয়ে আলোচনার ৫ম পর্ব  গত ১১ কার্তিক ১৪২৬, ২৬ অক্টোবর ২০১৯ রোজ শনিবার মিরপুর আস্তানা শরীফের ‘জ্যোতি ভবন’এর আক্তার উদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বাহাখাশ সভাপতি শাহ্ শাহনাজ সুলতানার সভাপতিত্বে বিষয়টির ওপর আলোচনায় অংশ নেন বাহাখাশ কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা পর্ষদের মহাসচিব শাহ খায়রুল মোস্তফা এবং হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ (হামিবা)’র নির্বাহী সদস্য সালেহ্ আল দ্বীন (সঙ্গীত)। আলোচনা পর্বটি সঞ্চালনায় ছিলেন মিরপুর আস্তানা শরীফ ব্যবস্থাপনা কমিটির যুগ্ম-সচিব শাহ্ আবেদা বানু তরু।

শাহ্ খায়রুল মোস্তফা বলেন, নেতৃত্ব কীভাবে দিতে হয়, নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কী কী কাজ বা দায়িত্বপালন করতে হয় তা আমাদেরকে সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ দেখিয়ে গেছেন। এই মহান সাধক-এঁর গুণাবলী বা কর্মসমূহের একটা বিষয় কেউ ধারণ-পালন-লালন করতে পারলে তার অন্য কিছু আর লাগবে না, তার আর অন্য কিছু লাগে না। তাঁর আদেশ-নিষেধ-উপদেশ মেনে চললে নেতৃত্ব গুণ অর্জন হবেই হবে। ওনার আদর্শকে ধারণ করে কর্ম করে যেতে পারলে, ওনাকে স্মরণে রেখে এগিয়ে গেলেই হবে, কোথায় কেউ বাঁধাগ্রস্ত হবেন না। সাধক-এঁর কথা কখনও ভুল হবে না, ভুল হতে পারে না। সত্যের পথে থাকলে কেউ কখনো বাঁধাগ্রস্ত হয় না, হবে না। তাই তো তিনি বলেছেন, ‘সত্য বলুন, সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত হোন, নিজে বাঁচুন, দেশ ও জাতিকে বাঁচান’।

সালেহ আল দ্বীন  বলেন, আভিধানিক অর্থে নেতৃত্ব হচ্ছে একটি জনগোষ্ঠী, দেশ বা সমাজ বা কোনও সংস্থার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্রিয়া বা কাজ। নেতৃত্ব কেন দরকার? – যে-কোন গোষ্ঠী/সংস্থা/দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নেতৃত্বের প্রয়োজন হয়। একজন চালক ছাড়া যেমন গাড়ি চলে না, তেমনি নেতা ছাড়াও নেতৃত্ব হয় না। এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। দক্ষ একজন চালক ছাড়া যেমন গাড়ির দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়, ঠিক তেমনি একজন যোগ্য নেতার হাতে নেতৃত্ব না পড়লে সেই গোষ্ঠী/ সংস্থা/সমাজ/দেশ দুর্ঘটনার দিকেই এগিয়ে যাবে-এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। আমাদের চারপাশে নেতার অভাব নেই, কিন্তু সবাই কি যোগ্যতা অর্জন করে নেতা হয় বা নেতৃত্ব দেয়। নেতৃত্ব দেয়ার জন্য সবাই কি প্রয়োজন বোধ করে? ‘আমি সব জানি বা আমি সব সময় সঠিক’ এই মনোভাব থাকলে কি আর কিছু শেখার থাকে? যেহেতু নেতৃত্ব একটি প্রক্রিয়া, সেজন্য শেখার মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জন করেই নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। একমাত্র সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমেই একটি সংস্থা/গোষ্ঠী/ সমাজ/ দেশকে সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

একজন নেতাই সব পারেন, তিনিই অন্যদের খোঁজ-খবর নেন। দুঃখের সময় পাশে দাঁড়ান এবং বিষন্নতা থেকে তাঁর মানুষদের রক্ষা করেন। যে-কোনো কঠিন মূহুর্তে তাঁর মানুষদের পাশে থাকেন এবং তাদেরকে সঠিক পথের নির্দেশনা ও ভরসা দেন। যে-কোনো সমস্যার সমাধান তিনি দেন এবং সাহস নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেন। যোগ্যতাহীন একজন ব্যক্তিকে সময়ের সাথে সাথে যোগ্য করে তোলেন। নেতৃত্বের সুন্দর একটা উদাহরণ আমরা পিঁপড়ার মধ্যে দেখতে পাই। কী সুন্দর একটা দৃশ্যপট! একটা পিঁপড়ার পেছনে পেছনে অন্য সব পিঁপড়া সারি বেঁধে অনুসরণ করে চলে। একটুও এদিক-ওদিক হয় না সারি-এমন একটি দৃশ্য আমার জন্য অবশ্যই শিক্ষণীয় ও দিকনির্দেশনামূলক বিষয়। এই দৃশ্য দেখে আমার মধ্যেই প্রশ্ন উদ্ভূত হয়-আমি কি পেরেছি বা পারছি আমার নেতাকে এভাবে অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে?

সালেহ আল দ্বীন আরও বলেন,  আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে আমি একমাত্র ‘সত্যমানুষ-এঁর’ মধ্যে নেতৃত্বের এই গুণাবলী দেখতে পেয়েছি। আমার দৃষ্টি মোটেও প্রসারিত নয়। তাই অল্প কিছু যা ধরা পড়েছে তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এসবের কোনোটাই নিজের চর্চার মধ্যেই আনতে পারিনি। আমার দৃষ্টিতে তিনিই একজন নেতা, যিনি সূক্ষ্ম, গভীর এবং সঠিকভাবে দিকনির্দেশনা দেন, পথ দেখান। যার চোখে প্রত্যেকটি প্রাণীকূল সমান। যিনি প্রত্যেককে আশার আলো দেন। তাঁর কাছে শেষ বলে কোনো শব্দ নেই। যোগ্যতার অভাব-বিষয়টিকে এভাবে না তুলে একজন কীভাবে যোগ্যতা অর্জন করতে পারে সে পরামর্শ দেন। দৃঢ়ভাবে কীভাবে একটি সিদ্ধান্তে দাঁড়িয়ে অটল থাকতে হয় সেই উদাহরণ দেন। সত্যের পথে সর্বদা কীভাবে নিয়োজিত রাখা যায় এবং মিথ্যাকে প্রশ্রয় না দেয়া যায় সে শিক্ষা দেন। তিনি উদাহরণ দেন কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। তিনি পথ দেখান – ভালোবাসা এবং প্রেমের মাধ্যমে সবকিছুই অর্জন করা সম্ভব।

সভাপতির সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় শাহ্ শাহনাজ সুলতানা হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ-এর ‘সত্যমানুষ হোন-দেশ ও জাতির কল্যাণ হবেই হবে’-এই আহবানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, হাক্কানী সাধকের এই বাণীর যথার্থ অনুসরণ নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জনে আমাদের সহায়ক হতে পারে।

মৃত্যু বলে কিছু নেই আছে রূপান্তর….

S M Shah Nawaj ali

সংলাপ ॥ কালের নিরবিচ্ছিন্ন প্রবহমান স্রোতে জীবন আসে, জীবন যায়। এ অমোঘ সত্য সকলেরই জানা। তবু জীবনের নতুন আগমনী বার্তায় মানুষ আনন্দিত হয়। কাঙ্খিত ঔৎসুক্য নিয়ে সে অধীর প্রতীক্ষায় থাকে, রোমাঞ্চিত হয় নতুন জীবনের বার্তা শুনবে বলে। যখনই সেই প্রত্যাশার যথার্থ প্রতিফলন ঘটে তখনই সে উৎফুল্ল হয়। আনন্দের বাধভাঙা স্রোতধারায় অবগাহন করে সে শুকরিয়া জানায় কাল ও কাল-স্রষ্টাকে। কিন্তু সেই কাঙ্খিত জীবন যখন কালেরই নির্মম নিয়মে চলে যায় দৃষ্টির আড়ালে ব্যাথাতুর হৃদয় তখন হাহাকার করে ওঠে। প্রিয়জন হারানোর অসহনীয় কষ্টে মথিত হয় স্বজনেরা। এও সত্য বড়। স্নেহ-প্রেম-ভালবাসা-মায়া-মমতা’ – এই সব তরল ও সরল স্বভাব নিয়ে তরলিত হৃদয় আনন্দ-বেদনার দোলাচলে দুলবেই।

তবু এই সত্য মেনে নিতে কষ্ট হয়। মন মানে না। কিছুক্ষণ আগেও অস্তিত্বমান জীবন কেন হারিয়ে যাবে, নিঃশেষ হয়ে যাবে চিরতরে! এ কেমন ভাঙনের খেলা? যুথবদ্ধ জীবনের লালিত স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে কেন বেজে ওঠে বিদায়ের সুর? পার্থিব সংসারে যাপিত জীবনের সকল বন্ধন ভেঙে ফেলে কোন্ আহবানে জীবন ছুটে যায় স্বজন-সংসার ছেড়ে? অনেক যত্নে তিল তিল শ্রমে ও ঘামে, মেধায় ও মননে, মায়া ও মমতায়, স্নেহ ও ভালবাসায়, ভক্তি ও প্রেমে গড়ে তোলা আপন সংসার ও স্বজন রেখে কেন, কীভাবে চলে যায় মানুষ? কেমন করে সম্ভব?

স্বজন হারানো চিত্তে এমন হাজারো প্রশ্নের তীর ঘাতক কাটার মত বার বার আঘাত করে। শোকাতুর স্বজনেরা তখন ব্যথিত চিত্তে খোঁজে উত্তর, সামান্য স্বান্তনা। কিন্তু কোথাও কি তা মেলে? এমনই নির্মম আঘাতে স্বজনদের জর্জরিত করে দিয়ে স্বান্তনাহীন এক দুর্বোধ্য কালিক সত্যের হাত ধরে বিদায় নিয়েছেন এস. এম. শাহ্ নওয়াজ আলী। সত্যে বিলীন হয়েছেন তিনি। আর চরম সত্য রেখে গেছেন ১২ নভেম্বর, ২০০২কে তাঁর স্বজনদের কাছে। সত্যের আগুনে ঝলসানো স্বজনেরা সংযমের সে মাসের দীক্ষাকে ধারণ করেছেন নির্বিকার চিত্তে। সত্য সুন্দর বটে। তবে সত্যের নির্মম কাঠিন্যই বুঝিয়ে দেয় – ‘এ জগৎ স্বপ্ন নয়।’ বিগলিত, স্বপ্নাতুর মানুষের পক্ষে তাই সব সময় সত্যকে মেনে নেয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তবু মেনে নিতে হয়। জাগতিক জীবনের ঘূর্ণিপাকে অস্থির চিত্ত নতুন আশ্রয় খুঁজে নেয়। এও সত্য। তখন ঘটমান সত্য হয়ে যায় স্মৃতি। ফ্রেমে বাধা পড়ে সেই সত্য ঠাঁই নেয় অন্তরালে স্বজনেরই হৃদয়ে। এস. এম. শাহ্ নওয়াজ আলী আজ বাধা পড়েছেন অন্তরের ফ্রেমে। স্মৃতির সবুজ দিগন্তে তাঁর অসীম যাত্রা।

ঘটমান সত্যের উর্বরা ভূমি খুঁড়ে যে কেউ বলবে কেমন দরদীপ্রাণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন শাহ্ নওয়াজ। কর্তব্য ও দায়িত্ব বোধে সজাগ চিত্ত শাহ্ নওয়াজ নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন আজীবন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীটা শুধু সার্টিফিকেট হয়েই থাকেনি, সমাজ-সংসারে সেই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়েছেন পুরোদস্তুর। আত্মীয়-স্বজনের মাঝে যখন যে কেউ বিপদগ্রস্ত হয়েছেন নির্বিঘ্নে চিত্তে দ্বিধাহীন ভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। স্বজন বলেই নয়, মানুষের জন্য মানুষের এই টান, আকর্ষণ, মহব্বত, কর্তব্যবোধই একজন মানুষকে মহত্ত্বের অবস্থানে আসীন করে। এটাই একজন মহৎ মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়। মানুষ যে মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এটাই তার মূল কারণ।

নির্দ্বিধায় বলা যায় কেবলমাত্র এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই বছরের পর বছর ধরে স্মরণের মাঝে জাগ্রত আছেন মিরপুর আস্তানা শরীফে। ১৯৭৮ থেকে ২০০২ দীর্ঘ ২৪ বছরের চাকরি জীবনে দায়িত্ব সচেতন, সৌহাদ্যপূর্ণ এবং দক্ষ ব্যক্তিত্বে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। মানুষকে আপন করে নেয়ার আদবটা ভালোভাবে রপ্ত করেছিলেন তিনি আস্তানা শরীফ হতে। তাই তিনি তা পারতেন সবার মঙ্গলার্থে। আর পারতেন বলেই তিনি এতটা আপন হতে পেরেছিলেন নির্বিশেষে সবার কাছে। এ জন্যেই তাঁর প্রয়াণের সত্যতাকে সহজে মেনে নিতে পারেননি, এখনো পারছেন না তাঁর স্বজনেরা। এ যেন অবিশ্বাস্য এক দুর্ঘটনা। এ মেনে নেবার নয়। যুক্তির উর্ধ্বে।

শুধু সমাজ-সংসার নয়, মাঙ্গলিক চিন্তার পূজারী শাহ্ নওয়াজ আলী দেশমাতৃকার জন্যেও ছিলেন সচেতন। তারুণ্যের দুর্দান্ত সময়টাকে তাই তিনি বিফলে নষ্ট করেননি। শত্রুর মুঠো আগলে দেশকে মুক্ত করতে হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে গর্বিত ছিলেন ঠিকই, কিন্তু কখনো এই পরিচয়কে ভাঙিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নেননি তিনি। বাঙালি হিসাবে দেশ, দেশের রাজনীতি, জাতি, জাতীয়তা তাঁকে ভাবিয়েছে বার বার। দেশের চলমান অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা, বৈষম্য, অনিয়মে তাঁর উদ্বেলিত কণ্ঠের নানা কথা আজও তাঁর চারপাশের মানুুষের স্মৃতিপটে ভাসমান। একটি সুন্দর শান্তিময় বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। জাতীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে তাঁকে ১৩ নভেম্বর ২০০২ সনে মিরপুরের কালসী গোরস্থানে। শুয়ে আছেন ঘুমে মগ্ন হয়ে মায়ের পায়ের কাছে ভাই, ভাইপো ও বড় ছেলের সাথে।

তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য – ‘দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা’ তাঁকে সম্পৃক্ত করেছে মানব কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে। তিনি সম্পৃক্ত হয়েছিলেন সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর মিরপুর আস্তানা শরীফের সঙ্গে। উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হিসেবে একাত্ম হয়েছেন দরবারের সার্বিক কর্মকান্ডে। শুধু তাই নয় হাক্কানী মিশন বাংলাদেশের লক্ষ্য – ‘ধর্ম মানবতার জন্য’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন মিশনের ধর্মভিত্তিক মানব কল্যাণমূলক নানাবিধ কর্মকান্ডে। বাইরের আবরণ হয়ে নয়, রুধির ধারার মতই গোপনে নিজের কল্যাণিক ভূমিকাকে তিনি সতত প্রবহমান রেখেছেন। তাই তাঁর অবদানকে ভোলা যায় না। একজন ‘দরবারী ও মিশন-সদস্য’ হয়ে তিনি যে নিদর্শন রেখে গেছেন তা অবশ্যই দৃষ্টান্ত স্বরূপ এবং থাকবে চির অম্লান।

আব্দুল হামিদ ও সাজেদা খাতুনের আশীর্বাদপুষ্ট সন্তান শাহ্ নওয়াজ আলী সকল বন্ধনকে অতিক্রম করে আত্মব্যাপ্তি ঘটিয়েছেন স্বজনের অন্তরে অন্তরে। তিনি চলে গিয়েও আছেন। তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেনও। থাকতেই হবে। সত্যের চূড়ান্ত সত্য তুলে ধরতে তিনি আমাদেরই মাঝেই যে ‘বর্তমান’ ॥