৭ ই মার্চ ও স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা

মো.ওয়াজিউজ্জামান ॥ ইতিহাস তার নিজের স্বকীয়তায় এগিয়ে চলে। এই সভ্যতার সকল কীর্তি ইতিহাস তাঁর গর্ভে স্বদর্পে লালন করে চলেছে। সভ্যতা তাঁর প্রতিটি ইটের গাঁথুনিতে ইতিহাসের স্রষ্টাদের পদচিহ্ন রেখে যায়। সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জেনে নেয় সেই সব মানুষদের নাম, যাদের আত্মত্যাগ দিয়ে রচিত হয়েছে ইতিহাস। আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতীয় পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও একজন ইতিহাসজয়ী বীর।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ঐতিহাসিক কর্মকান্ডগুলোর মধ্যে ৭ই মার্চ অন্যতম ঐতিহ্য। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আজ সারা বিশ্বে তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক প্রামাণিক দলিল হিসেবে পরিগণিত। যাকে ইতিমধ্যে মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড, এর স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। এ ভাষণ কে ঐতিহাসিকেরা বাঙালীর মুক্তির সনদ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

কিন্তু ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এই ৭ই মার্চ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান যে উৎকন্ঠার মধ্যে ছিলো তা পূর্বের ও ৭ই মার্চ পরবর্তী সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ভার বহন করে। ২৫ মার্চ এর কালো রাত, ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, মুজিবনগরের অস্থায়ী সরকার গঠন, এই ভূখন্ডের স্বাধীনতা এ সব কিছুই ৭ই মার্চের ভাষণের উপরই প্রতিষ্ঠিত।

এই ৭ই মার্চকে কেউ কেউ অভিহীত করে বাঙালীর মুক্তির সনদ, কেউ বলে স্বাধীনতার অমর কবিতা আবার কেউ বলে স্বাধীনতার মূল দলিল। কিন্তু আমি মনে করি ৭ই মার্চই ছিলো স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা।

ইতিহাসকে বিকৃত করার অধিকার কারো নেই। কিন্তু ইতিহাস থেকে নিগুঢ় সত্য উন্মোচন করার অধিকার সকলেরই আছে।

কি পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু সেদিন ভাষণ দিয়েছিলেন, আর এই ভাষণের কথাগুলো একটু চিন্তা করলেই আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারবো।

১৯৭০-এর ৭ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু ৭১-এর পহেলা মার্চ ১টা ৫ মিনিটে আকস্মিক এক বেতার ঘোষণা ৩ মার্চ অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গর্জে ওঠে বাংলাদেশ। ৩রা মার্চ পল্টনে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের সভায় বঙ্গবন্ধু বলেন,

‘আমি থাকি আর না থাকি, বাংলার স্বাধীকার আন্দোলন যেন থেমে না থাকে। বাঙালির রক্ত যেন বৃথা না যায়। আমি না থাকলে-আমার সহকর্মীরা নেতৃত্ব দিবেন। তাদেরও যদি হত্যা করা হয়, যিনি জীবিত থাকবেন, তিনিই নেতৃত্ব দিবেন। যে কোনো মূল্যে আন্দোলন চালাইয়া যেতে হবে-অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ বঙ্গবন্ধু আগেই ঘোষণা করেছিলেন, ৭ই মার্চ রোববার রেসকোর্স ময়দানে তিনি পরবর্তী কর্মপন্থা ঘোষণা করবেন। ৪ মার্চ থেকে ৬ মার্চ সকাল ৬টা পর্যন্ত সারা দেশে হরতাল পালনের আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু।

এই আন্দোলনমুখর পরিস্থিতিতে ঘনিয়ে এল ৭মার্চ। ভাবিয়ে তুলল পাকিস্তান সামরিক চক্রকেও। কারণ তারা বুঝে গেছে, বাংলাদেশের মানুষের ওপর তাদের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। দেশ পরিচালিত হচ্ছে শেখ মুজিবের কথায়। চিন্তিত পাকিস্তান সামরিক চক্র কৌশলের আশ্রয় নিল। ৬ মার্চ জে. ইয়াহিয়া খান টেলিফোনে কথা বলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা, আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে, তিনি (বঙ্গবন্ধু) যেন এমন কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করেন, যেখান থেকে ফিরে আসার উপায় না থাকে।

৭ মার্চ রেসকোর্সে জনসভায় বক্তব্য কী হবে, এ নিয়ে ৬ মার্চ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির দীর্ঘ বৈঠক হয়। এক পক্ষের মত, বঙ্গবন্ধু যেন জনসভায় সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। অপরপক্ষ স্বাধীনতার সরাসরি ঘোষণা পরিহার করে আলোচনার পথ খোলা রাখার পক্ষে। সভা ৭ মার্চ সকাল পর্যন্ত মুলতবি রইলো। ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের চরমপন্থীরা বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধুকে ৭ মার্চের জনসভায় স্বাধীনতা ঘোষণা করার জন্য।

বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহযোগী গোলাম মোরশেদ গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে বের হয়ে তাকে বঙ্গবন্ধু বলেন, সাত মসজিদ দিয়ে চলো। তখন সাত মসজিদ রোড দিয়ে জিগাতলা হয়ে রেসকোর্সে রওয়ানা হন তিনি। রওয়ানা হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু কয়েকজন নেতাকর্মীকে ডেকে বলেন, ইশতেহারটি সাংবাদিকদের মাঝে বিলি করবে। তার গাড়ি যখন জিগাতলার কাছে তখন গোলাম মোরশেদ বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আজ কী বলবেন?’ উত্তরে বঙ্গবন্ধু জানিয়েছিলেন, আল্লাহ আমাকে দিয়ে যা বলাবেন, তাই বলব।

ভীতসন্ত্রস্ত পূর্ব পাকিস্তান সামরিক সদর দপ্তর থেকে বিভিন্নভাবে শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগকে এই মেসেজ দেয়া হয় যে, ৭ মার্চ যেন কোনোভাবেই স্বাধীনতা ঘোষণা না করা হয়। ৭ মার্চ জনসভাকে কেন্দ্র করে কামান বসানো হয়। এমনকি আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়।

মেজর সিদ্দিক সালিক তার ‘উইটনেস টু স্যালেন্ডার’ নামক গ্রন্থে লিখেছেন, পূর্ব পাকিস্তানের জিওসি ৭ মার্চের জনসভার প্রাক্কালে আওয়ামী লীগ নেতাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন,‘পাকিস্তানের সংহতির বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা হলে তা শক্তভাবে মোকাবেলা করা হবে। বিশ্বাসঘাতকদের (বাঙালি) হত্যার জন্য ট্যাংক, কামান, মেশিনগান সবই প্রস্তুত রাখা হবে। প্রয়োজন হলে ঢাকাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হবে। শাসন করার জন্য কেউ থাকবে না কিংবা শাসিত হওয়ার জন্যও কিছু থাকবে না।

এমন এক কঠিন সংকটময় পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ৭ মার্চ রেসকোর্সে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন।

তাঁর ভাষণের কয়েকটি কথা ব্যাখ্যা কলে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরার আহ্বাণ ও স্বাধীনতার অঘোষিত ঘোষণা স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয়।

স্বাধীন রাষ্ট্রের সরকার প্রধানের মতো এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘২৮ তারিখে কর্মচারীরা গিয়ে বেতন নিয়ে আসবেন। এরপর যদি বেতন দেয়া না হয়, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়, তোমাদের ওপর আমার অনুরোধ রইলো প্রত্যেক ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে।’

বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষকে চারটি শর্ত দিয়ে সবশেষে ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বজ্রকন্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

অর্থাৎ, অতি সু-কৌশলে স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘোষণা ও স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরার আহ্বান জানানো হয় এই ভাষণে। কিছু আন্তর্জাতিক পত্রিকাও তখন প্রকাশ করেছিলো, ৭ মার্চ শেখ মুজিব হয়তো পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন।

৭১-এর ৫ মার্চ লন্ডনের গার্ডিয়ান, সানডে টাইমস, দি অবজারভার এবং ৬ মার্চ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় ৭ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণার পূর্বাভাস দেয়া হয়। ৬ মার্চ, ৭১ লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় ছাপা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান আগামীকাল (৭ মার্চ) পূর্ব পাকিস্তানের একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারেন।

তাছাড়াও ৭ই মার্চকে, কেউ সরাসরি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্বাধীনতার ঘোষণা হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।

** সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছেন, ‘৭ই মার্চের ভাষণ আসলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল দলিল।’

** গ্রেট বৃটেনের সাবক প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথ বলেছেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে যতদিন পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম থাকবে, ততদিন শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণটি মুক্তিকামী মানুষের মনে চির জাগরুক থাকবে। এ ভাষণ শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্য নয়, সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণা।’

** রেসকোর্স ময়দানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণের পরপরই ঢাকাস্থ মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড লিখেছেন, ‘রোববার ৭ই মার্চ প্রদত্ত মুজিবের ভাষণে তিনি যা বলেছিলেন, তার চেয়ে লক্ষণীয় হলো তিনি কি বলেননি। কেউ কেউ আশঙ্কা করছিলেন, আবার কেউ কেউ আশা করেছিলেন যে, তিনি বাংলাদেশকে সরাসরি স্বাধীন ঘোষণা করবেন। এর বদলে বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান তিনি জানালেন।

১৯৭৪ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী শন ভ্যাকব্রাইড বলেছেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন, কেবল ভৌগলিক স্বাধীনতাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মানুষের মুক্তি ও বেঁচে থাকার স্বাধীনতা। সাম্য ও সম্পদের বৈষম্য দূর করাই স্বাধীনতার মৌলিক ঘোষণা। পরবর্তীতে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে ঐ ভাষণেরই আলোকে।

** ১৯৯৭ সালেই এএফপি বলেছে, ‘৭ই মার্চের ভাষণের মধ্যদিয়ে শেখ মুজিব আসলে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি বাঙালিদের যুদ্ধের নির্দেশনাও দিয়ে যান। ঐ ভাষণে গেরিলা যুদ্ধের কৌশলও ছিল।

** ১৯৯৭ সালে টাইম ম্যাগাজিনে বলা হয়েছে, ‘শেখ মুজিব ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমেই আসলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। ঐ ভাষণে গেরিলা যুদ্ধের কৌশলও ছিল। 

** যুগোশ্লোভিয়ার প্রেসিডেন্ট যোশেফ মার্শাল টিটো বলেছেন, ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, এই ভাষণের মাধ্যমে শেখ মুজিব প্রমাণ করেছেন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানিদের কোন রকম বৈধতা নেই। পূর্ব পাকিস্তান আসলে বাংলাদেশ।

** আরেকটি খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান OMICS-International an international resersch organization, তাদের ‘ওয়েব সাইটে’ উল্লেখ করেছে, শেখ মুজিব ‘এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম. এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, বলে একদিকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, আবার প্রদেশে (পূর্ব পাকিস্তানে) জনগণকে ‘অসহযোগ আন্দোলন, চালিয়ে যেতে বলেছেন; অন্যদিকে ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছন-যে যুদ্ধটি  কার্যত ১৮ দিন পর শুরু হয়েছিলো, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাঙালী জনসাধারণ, বুদ্ধিজীবি, ছাত্র-ছাত্রী, রাজনীতিবিদ এবং সশস্ত্রবাহিনীসমূহের সদস্যদের উপর অপারেশন সার্চলাইট, নামে আক্রমণ শুরুর পর হতেই।

তাদের ভাষায়: Sheikh Mujib proclaimed, `Our struggle is for our freedom. Our struggle is for independence’

(‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।’)

He also announced the civil disobedience movement in the province, calling for `every house to turn into a fortress’ The war eventually began 18 days later, when the Pakistan Army launched Operation Searchlight against Bengali civilians, intelligentsia, students, politicians and armed personnel.

ইউনেস্কো তার ওয়েব পেজে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে বর্ণনা করেছে; The speech effectively declared the independence of Bangladesh. The speech constitutes a faithful documentation of how the failure of post-colonial nation-states to develop inclusive, democratic society alienates their population belonging to different ethnic, cultural, linguistic or religious groups. The speech was extempore and there was no written script.”

অর্থাৎ ইউনেস্কোর বিবেচনায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ কার্যকর অর্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে।

ইতিহাস কখনো পুনরাবৃত্ত হয় না। কিন্তু ইতিহাসের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো ঘটে এক ঘটনার গর্ভ থেকে আর এক ঘটনার জন্মলাভে।

২৫ মার্চের কালো রাতে স্বাধীনতার সরাসরি ঘোষণা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার কারণে ২৬ শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ এর ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম’ যা দ্বারা প্রকাশিত হয় ৭ই মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা সরাসরি না হলেও স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা ৭ই মার্চ এর ভাষণেই উজ্জ্বল রূপে দৃশ্যমান। অর্থাৎ এ কথা অনস্বিকার্য যে সরাসরি না হলেও স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা দেয়া হয়ে গেছে ৭ই মার্চের মহাকাব্যে।

জয় বাংলা,

জয় বঙ্গবন্ধু।