…. হাক্কানী সম্পর্ক ….

শাহ আকমল ইমাম ॥ উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে সমগ্র ভারতবর্ষের মতই বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে ছিল এক সংকটময় কাল। এমনই প্রেক্ষাপটে ইসলামের উজ্জ¦ল তারকা হিসাবে বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর থানার ব্রহ্মপুত্র নদীর কিনারে ফরিদপুর নামক নির্জন গ্রামে আল্লাহর হুকুমে আবির্ভাব ঘটে হযরত মাওলানা আবু আলী আক্তার উদ্দিন শাহ্ কলন্দর গউস পাক এঁর। সেইরূপ অফুরন্ত ভা-ারের অধিকারী কালোত্তীর্ণ এক মহাপ্রাণ, তিনি ১৯৮৩ সালে ফরিদপুর শরীফ গ্রামে লোকান্তরিত হন। তাঁর রওজা শরীফও আজ এই  গ্রামের সবুজ বৃক্ষের শ্যামল ছায়ার আবরণে। তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরি ও প্রধান খলিফা সুলতানুল আউলিয়া আলহাজ্ব হযরত শাহ্ কলন্দর সূফী খাজা আনোয়ারুল হক রওশন জমির মাদ্দা জিল্লাহুল আলী। তাঁরই নির্দেশে মানবতার মহান সাধক’-এঁর ওপর সাধারণ মানুষ ও ভক্তদের জন্য হাক্কানী ওজায়িফ, হাক্কানী তরীকার প্রচার ও প্রসার ঘটানো দ্বীন- দুনিয়ার শান্তি ও মঙ্গল হাসিলে তাঁর আদর্শকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার মানসে তিনি সারা বাংলাদেশে এবং বহিঃ বিশ্বে মানবতার সেবায় হাক্কানী খানকা, দরবার শরিফ, আস্তানা শরীফ একের পর এক শহর, বন্দর, গ্রামে  প্রতিষ্ঠিত করেন যে ধারা আজো অব্যাহত রয়েছে তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক কিশোরগঞ্জ জেলার চান্দপুর শরীফে মায়ের মৃত্যু তারিখ ২০ শ্রাবণ ১৪০৬, ৪ আগস্ট ১৯৯৯ সালে বরণ করে নেন রূপান্তরের নতুন ঠিকানা।

এদিকে, বাংলা ১৩৫৩ সনের (১৯৪৬ খ্রীস্টাব্দ) চৈত্র মাসের তৃতীয় সোমবার অবিভক্ত ভারতবর্ষের পশ্চিম বাংলার চব্বিশ পরগনা জেলার সোনারপুর মহুকুমার, চাকবেড়িয়া গ্রামে আবির্ভাব হয়  সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-এঁর যিনি ১৯৭৪ সালে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর দর্শন লাভ করেন সহধর্মিনী শাহ্ আনোয়ারা বেগম-এঁর মাধ্যমে ধানম-ি জিগাতলা দরবারে। ১ বৈশাখ ১৩৮৩ বঙ্গাব্দে (১৯৭৭ সালে) সূফী সাধক আনোয়ারুল হক কর্তৃক শাহ্ সূফী খেতাবে ভূষিত হওয়ার পর শেখ আবদুল হানিফ বাংলা ১৩ মাঘ ১৩৯৫ সনে, ১৯৮৮ সালের ২৬ জানুয়ারী গুরুর নির্দেশে মিরপুর আস্তানা শরীফ প্রতিষ্ঠা করে এর তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তারপর কর্ম-মানবতা-শান্তি এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ১৯৯০ সনে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর  নির্দেশেই তিনি হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ (হামিবা), হাক্কানী মিশন  বিদ্যাপীঠ (বর্তমান বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়), বর্তমান সংলাপ এবং হাক্কানী ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। এই চিরঞ্জীব মহাপ্রাণ সূফী সাধক শেখ আবদুল  হানিফ তাঁর মুর্শিদ-এঁর লোকান্তরিত মাসকেই বরণ করে নিলেন ৫ শ্রাবণ, ২০ জুলাই ২০১৯ তারিখটিকে।

শেখ আবদুল হানিফ সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর দর্শন লাভ করেন ১৯৭৪ সালে। তারপর সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর সাথে সফরের মাধ্যমে সূফী সাধক আবু আলী আক্তার উদ্দিন এঁর সঙ্গে সংযোগ হয়।  সূপী সাধক আনোয়ারুল হক এর আরেকজন অন্যতম শিষ্য সূফী সাধক কামরুল হাসান-এঁর সাথে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ এঁর সংযোগ হয় আনুমানিক ১৯৭৯ সালে। সূফী সাধক আবু আলী আক্তার উদ্দিন-এঁর সঙ্গে সময়ের ব্যবধানে সেই একই ধরাধামে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর সঙ্গে সংযোগ হয় সূফী সাধক কামরুল হাসান-এঁর। ১৯৮১ সালে সূফী সাধক আব্দুর রহমান-এঁর রওজায় এবং ধানমন্ডি দরবারে উনাকে (সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফকে) নিয়ে ১৭ দিন অবস্থান করার পর বিভিন্ন ধরনের ফল দিয়ে কান্দুলিয়ার হুজুরের (সূফী সাধক আবু আলী আক্তার উদ্দিন) কাছে পাঠান। একদিন সূফী সাধক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘কামরুল সাব, আপনার সাথে পাঞ্জাবী শাহ সাহেবের (সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ) দেখা হবে।’ তখন সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ শিক্ষা ও কর্মসূত্রে  সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। সূফী সাধক আবু আলী আক্তার উদ্দিন ১৯৮৩ সালে লোকান্তরিত হওয়ার পর সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর সফর শুরু হয়। সরারচর, যেখানে সূফী সাধক আবু আলী আক্তার উদ্দিন যে কাঁঠাল গাছের নিচে দাঁড়াতেন সব সময় তাঁর সফরসঙ্গী হিসাবে থাকতেন পাঞ্জাবী শাহ্ সাহেব হিসাবে পরিচিত সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ। ১৯৮৫ সালে সরারচর আস্তানা শরীফ প্রতিষ্ঠালগ্নে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর সফর সঙ্গী ছিলেন সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ। এই দুই মহান সাধকের ধরাধামে আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে সূফী সাধক শেখ আবদুল  হানিফ ও সূফী সাধক কামরুল হাসান-এই দু’জনও হয়ে উঠেন দুই মহান সাধক হিসেবে। হাক্কানীতে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক সূফী সাধক শেখ আবদুল  হানিফকে প্রথম এবং  সূফী সাধক কামরুল হাসানকে দ্বিতীয় বলে আখ্যায়িত করেন। এই দুই জন গুরু ভাই। তাঁদের সম্পর্কের  স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে নিজ মুর্শিদের কথা স্মরণ করতেন। তখনও সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ, সূফী সাধক কামরুল হাসান এঁর সাথে কথাবার্তা হয়নি। হঠাৎ সূফী সাধক আনোয়ারুল হক ১৯৮৫ সালের দিকে সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফকে বলেন, ‘শাহ সাহেব ছেলেটার সাথে কথা বললে…। ’ তখনও নিজের থেকে কথা বলা হয়নি। কিন্তু মুর্শিদের হুকুমে কথা বলা শুরু হয় সরারচর আস্তানার সামনের পুকুর পাড়ে বসে। কথা বলতে বলতে ভোর হয়ে যায়। নিজেদের দরবারে আসার বৃত্তান্ত ও ঘটনাবলী সূচনা হয় এভাবেই। শুরু হয় দু’জনের পথ চলা। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর দরবার হাক্কানী খান্কা শরীফ, ঝিগাতলা, ধানমন্ডি ঢাকার উক্ত দরবারে গোপনে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর আর্বিভাব উদযাপনের সময় একদিন দুই গুরুভাই পরার্মশ করে নিজেদের চিন্তায় হুজুরের আবির্ভাব বড় আকারে সরারচর আস্তানায় উদযাপন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন হুজুরের অনুমতি সাপেক্ষে। তারপর থেকেই হাক্কানী খান্কা শরীফ ধানমন্ডি, মিরপুর আস্তানা শরীফ, সরারচর আস্তানা শরীফসহ অন্যান্য দরবারে যত রকমের অনুষ্ঠান হয় তাতে দুই গুরু ভাইয়ের অংশগ্রহণ ও আন্তরিকতা ছিল অন্যরকম। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক অনেক রকমের আধ্যাত্মিক খেলা খেলতেন, সেগুলো নিয়ে দুই গুরুভাইয়ের মধ্যে আলোচনা হতো। এর মধ্যে ভাল মন্দ সবই ছিল, কারণ হুজুরের ভাষা বুঝা ছিল কঠিন। সরারচরের শাহ্ সাহেব যখন ধানমন্ডি দরবারে হুজুরের সাথে দেখা করতে যেতেন হুজুর কয়টা ভাত খাওয়ায়ে তাকে মিরপুর আস্তানায় পাঠিয়ে দিতেন পাঞ্জাবী শাহ্ সাহেবের কাছে। এখানে প্রায় সময়ই ৩/৪/৫দিন অবস্থানের পর সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ বিদায় দিলে সরারচর যেতেন। ধানমন্ডি দরবার হতে সরারচর আস্তানায় হুজুরের সফরে অগণিত ভক্তবৃন্দের মধ্যে অন্যতম সফর সঙ্গী পাঞ্জাবী শাহ সাহেব (সূফী সাধক শেখ আবদুল  হানিফ)। সেই সফরে পাঞ্জাবী শাহ্ সাহেব এবং সরারচরের শাহ্ শাহেব হযরত খাজা মঈন উদ্দিন হাসান চিশ্তী হুজুরের অনুষ্ঠানসহ সূফী সাধক আবু আলী আক্তার উদ্দিন স্মরণে অনুষ্ঠিত ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ্য উদযাপন অন্যতম। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এর মনোনীত শাহ্ সাহেবদের মধ্যে অন্যতম  সূফী সাধক শেখ আবদুল  হানিফ সূফী সাধক কামরুল হাসান। হুজুরের সময়ে ভক্তবৃন্দের মধ্যে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা হতো, পাশের ক্ষেত্রে উনারা দুই গুরু ভাই এগিয়ে থাকতেন। হুজুরের কাছে বিভিন্ন ভাবে প্রিয় ছিলেন দুই গুরু ভাই, ফলে কতিপয় ভক্ত বৃন্দ তাদেও অপছন্দও করতেন। সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ গুরুর কাছে আরজি জানিয়েছিলেন আমরন ছাত্র হয়ে থাকার, তিনি তা গ্রহনও করেন। যে কারণে উনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করার সুযোগ হয়। আরেক গুরুভাই  সূফী সাধক কামরুল হাসান গুরুর কাছে একদিন বিদেশ যাওয়ার আর্জি করলে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক বলেন ‘শাহ্ সাহেব আপনার সারা বিশ্ব এখানেই পাবেন’। একদিন সূফী সাধক আনোয়ারুল হক সরারচর আস্তানায় খাজা বাবার অনুষ্ঠান করার জন্য আসেন সফর সঙ্গী ছিলেন সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ। অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পড়ে উনার এবং সূফী সাধক কামরুল হাসান এর উপর। সে সময় দুই গুরু ভাই মিলে প্যান্ডেলের কাজ করেন অন্যান্য ভক্তদের নিয়ে, একটা টিন লাগানো বাকী ছিল পরে লাগাবেন বলে। উনারা গল্প করতে করতে শুয়ে পড়লেন। হুজুর শেষ রাতে বৃষ্টি হওয়ার আগেই টিনটি কাউকে দিয়ে লাগিয়ে ফেলেন। উনারা দুইগুরু ভাই বৃষ্টির আওয়াজ পেয়ে উঠে এসে দেখে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক দরবারের বারান্দায় হাটছেন এমন সময় উনাদেরকে দেখে বলেন ‘শাহ্ সাহেব কাম শেষ করে গফ (গল্প) করা ভাল না?’ উনারা সরমিন্দায় মাথা নথ করে ফেলেন। এ ঘটনাটি  সূফী সাধক শেখ আবদুল  হানিফ বহুবার স্মৃতিচারণ করেন। একদিন সরারচর আস্তানায় নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন যে মুর্শিদের বিভিন্ন দিক নিয়ে তখন দুই গুরুভাই সিদ্ধান্তে উপনিত হন “আমার জন্য আমার  আল্লাহ্ই যথেষ্ট”।  সূফী সাধক কামরুল হাসান বলেন – বড়ভাই মিরপুর আস্তানা শরীফ থেকে প্রকাশ শুরু করেন তবে দুই গুরুভাই অটল ছিলেন- আছেন। একদিন সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ ইচ্ছা প্রকাশ করেন- শাহ্ সাহেব চান্দপুর রওজা শরীফ এর সামনে একটি ঘর করলে দুইভাই অনুষ্ঠানে বসতে পারবো সেই কারণে সরারচরে শাহ্ সাহেব ঘর করলেন সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ নামকরণ করেন। সরারচরের শাহ্ সাহেবের ডাক নাম ‘মেরাজ’ থেকে ‘মিরাজ’ রাখেন নাম দেন সেই ঘরের এবং দু’জনই একসাথে দুই দিন রাত্র যাপন করেন চান্দপুর শরীফে সূফী সাধক আনোয়ারুল এর ভক্ত মহাসম্মেলন অনুষ্ঠানে।  দুই গুরুভাই এর সম্পর্ক এমনই ছিল যেকোন সিদ্ধান্ত নিতেন বিশেষ ক্ষেত্রে একমত ছিলেন। সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ত্যাগ করে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে ধরে রাখেন। এমনই ভাবে সূফী সাধক কামরুল হাসান সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ত্যাগ করে সূফী সাধক আবু আলী আক্তার উদ্দিন এর রওজা শরীফের পুরো কাজ সম্পন্ন করেন। পাশা পাশি শাহ্ আব্দুর রহমান (আগরপুর), শাহ্ সিরাজুল ইসলাম কোরাইশী (কালিকা প্রসাদ), মাওলানা শাহ্ সূফী মোখলেছুর রহমান (দেওকুল এর শাহ্ সাহেব), সম্রাট ওলী  আছমত আলী চৌধুরী (ছাতিরচরের শাহ্ সাহেব)আনোয়ারী পাগলী(কটিয়াদী), শাহ্ সূফী শেখ আব্দুর রহমান দেওয়ানী (মন্ডলেরভাগ চান্দপুর শরীফ), টহু মামু (নূরপুর তেঘরিয়া), ভাগলপুরের দেওয়ান সাহেবের, মাদার শাহ্ এর (গোবিন্দপুর, তেঘরিয়া) রওজা শরীফ এবং  সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এর  রওজা শরীফ এর মূল রওজা সহ এ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থাপনার মধ্যে পুকুর মাটি ভরাট সহ অন্যান্য কাজ।  সূফী সাধক শেখ আবদুল  হানিফ এঁরও সূফী  সাধক কামরুল হাসান এর উপরোক্ত নির্মাণ কাজের পূর্ণ সর্মথন সহ চান্দপুর শরীফে (লিটন শাহ সাহেব ছোট ছিলেন বলে) এর সমস্ত দায়িত্ব পালন করেন সরারচরের শাহ সাহেব এবং সূফী সাধক শেখ হানিফ এও বলেন একা আমার ঢাকা থেকে এগুলো করা সম্ভব ছিল না। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এর লোকান্তরিত হওয়ার পর ধানমন্ডি দরবার হতে চান্দপুর শরীফে নিয়ে আসার ব্যাপারে অনেক বাধা অতিক্রম করে সূফী সাধক শেখ আবদুল  হানিফ  সূফী সাধক কামরুল হাসান এর বিশেষ চেষ্টায় সূফী সাধক আনোয়ারুল হককে চান্দপুর শরীফ নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে রওজা শায়িত হন।

হাক্কানী  চিন্তা চেতনায় দুই গুরু ভাই এক ছিলেন তবে সূফী সাধক শেখ আবদুল  হানিফ বলেন- চলা চলে বিভিন্ন সময় মত পার্থক্য হয়েছে আমাদের মধ্যে কিন্তু ব্যাক্তিগত সম্পর্কের নয়। একবার ইউনাইটেড হাসপাতালে  সরারচরের শাহ্ সাহেব আড়াই দিন ভর্তি ছিলেন। সেখানে সূফী সাধক শেখ আবদুল  হানিফ এর হুকুমে চিকিৎসার খোজ খবর রাখেন মিরপুর আস্তানার ভক্ত হাসান সাহেব। ২০১৪ সালের প্রায় এক মাস আগে  সূফী সাধক কামরুল হাসান কিছু দিন শারীরিক কিছু বিষয় নিয়ে মিরপুর আস্তানা শরীফ গুরু ভাই এর কাছে আসেন এবং এক টানা সাত দিন রাত্র যাপনও  করেন। শুরু হল আরেক প্রেক্ষাপট ২০১৪ সালের ১ লা অগাস্ট সরারচর আস্তানা শরীফে সূফী সাধক কামরুল হাসান এর উপর বর্বর হামলা করেন আস্তানার কতিপয় লোক। উনাকে মৃত্যু কোলে ঢেলে দিয়ে সিংহাসন (সরারচর আস্তানা শরীফ) দখলে ক্ষমতা গ্রহনের উদ্দেশ্য ছিল। ঐ দিনই ভর্তি হলেন আনোয়ার খাঁন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। তাৎক্ষনিক চিকিৎসার সকল দায়িত্বে ছিলেন সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ এর হুকুমে শাহ্ সূফী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল ইসলাম। উনি নিয়মিত ভাবে একটি মাস হাসপাতালের চিকিৎসার খবর রাখেন এবং সবসময় সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফকে অবগত করেন। সূফী সাধক কামরুল হাসান এর সকল বিষয়ে সবসময় সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ খোজ খবর রাখেন লোকান্তরিত হওয়ার  আগ-মূহুর্ত পর্যন্ত। সরারচর আস্তানার কতিপয় ভক্ত চক্রান্তের কারণ জানতে চাইলে

সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ বলেন – আরে ক্ষমতার জন্য ধানমন্ডি দরবারে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক হুজুরকে কতিপয় ভক্ত তিন দিন আটকে রাখেন তার পরিনতিও উনি দেখেছেন বলেন। চলতে থাকে হাক্কানী সম্পর্ক। হাক্কানী ধারায় ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফের ইচ্ছায় যদিও শারীরিক গোপনীয়তার মধ্যে দিয়েও পূর্ণাঙ্গ সময় দেন সূফী সাধক কামরুল হাসান। সূফী সাধক আবু আলী আক্তার উদ্দিন এর মহা সম্মেলন ফরিদপুর শরীফে একএে একঘরে পাশাপাশি বিছানায় তিন দিন অবস্থান করেন দুই গুরু ভাই। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর- ৮০ তম আবির্ভাবের কাফেলায়ও উপস্থিত ছিলেন সূফী সাধক কামরুল হাসান তাঁর ভক্ত বৃন্দ সহ। সূফী সাধক শেখ আবদুল  হানিফ একদিন বাহাখাশ এর ক্রেন্দ্রীয়  কমিটির সদস্য দলকে বলেন- চান্দপুর শরীফ যাচ্ছেন আসার সময় সরারচর শাহ্ সাহেবকে দেখে ফরিদপুর শরিফ হয়ে ঢাকা আসার হুকুম দিলেন। আনুমানিক ২০১৭ সালে হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ সহ অন্যান্য কমিটির ব্যক্তিবর্গ সহ দরবারের তিনতলা সভা কক্ষের সভায় আমিও উপস্থিত ছিলাম। সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ সবার উদেশ্যে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। হঠাৎ বলেন – ‘আপনারাতো মনে করেন যে আমি শুধু মিটিং মিটিং নিয়ে থাকি- আরেকজন সরারচরের শাহ্ সাহেব সারা দিন বসে থাকে, আপনারা উপলব্ধি করে দেখে আসেন আমি মিটিং করি এবং উনি বসে থেকে কি করেন?’ সরারচর আস্তানা শরীফের প্রথম দিকে (১৯৮৫) সবুজ ঘর ও সাদা ঘর ছিল । সবুজ ঘরে থাকতেন সূফী সাধক আনোয়ারুল হক। সাদা ঘরে থাকতেন সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ এবং সূফী সাধক কামরুল হাসান (৩৫ বছরে)  প্রায় ১০০ দিন একসাথে এক বিছানায় অবস্থান করেছেন – এই যে দুই গুরু ভাইয়ের সম্পর্ক। সূফী সাধক কামরুল হাসান বলেন-  ‘সত্যমানুষ কূল অর্থাৎ সূফী সাধক আবু আলী আক্তার উদ্দিন+ সূফী সাধক আনোয়ারুল হক+সূফী সাধক শেখ আবদুল  হানিফ + সূফী সাধক কামরুল হাসান একই ফ্রেমে বাধা’। হাক্কানী সম্পর্ক এভাবেই যুগ হতে যুগান্তরে সদা বহমান সদা চিরন্তন। এ সংযোগ ও সম্পর্কেও শেষ নেই। এ এক অনন্ত পথযাত্রা সত্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায়।