হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়ে মত বিনিময় সভা ও পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষাথীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট – সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত….

হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়ে

মত বিনিময় সভা ও পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষাথীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

20191029230235_IMG_3244

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট – সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ১৪ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ৩০ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার বিদ্যাপীঠের ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সদস্য, শিক্ষকমন্ডলী, সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হয় শিক্ষার গুণগত মান নির্ণয়ের লক্ষ্যে অভিভাবক মত বিনিময় সভা এবং সেই সাথে পিইসি ও জেএসসি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১১নং ওয়ার্ড, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সম্মানিত কাউন্সিলর জনাব দেওয়ান আবদুল মান্নান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর থানা, ঢাকার সম্মানিত  থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, জনাব আবদুল কাদের ফকির।  এই সময় বিদ্যাপীঠের প্রায় ৬৫০জন ছাত্র – ছাত্রী ও অভিভাবকদের মিলন মেলা হয়।

জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে সকাল ১০.০১ মিনিটে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তারপরই সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট – সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ প্রতিষ্ঠিত হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ এর শিক্ষা প্রকল্পের সম্মানিত পরিচালক ছাত্র – ছাত্রী ও সম্মানিত অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তাঁর স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে ২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিদ্যাপীঠের পড়ালেখার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনা সকলের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বিদ্যাপীঠকে স্বপ্নের স্কুল তৈরি করার লক্ষ্যে বিদ্যাপীঠের ব্যবস্থাপনা কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক সমন্বয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আহবান জানান। তিনি বলেন, আর দশটি বিদ্যালয় থেকে আদর্শিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ভিন্নধর্মী একটি বিদ্যালয় হলো হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়। তাই এই বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে সকলের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। তিনি ২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন রূপে নতুনভাবে বিদ্যাপীঠের সমস্ত কর্মকান্ড চলবে বলে আশ্বাস দেন যার মাধ্যমে বিদ্যাপীঠ অত্র এলাকার মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা পোষণ করেন।

এরপর সম্মানিত অভিভাবকরা বিদ্যাপীঠ নিয়ে তাঁদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন জনাব মো. আলী আকবর এবং সীমা আক্তার।

১০.৩০ মিনিটে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনাব দেওয়ান আবদুল মান্নান শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তাঁর মূল্যবান দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, তাঁদের সন্তানদের শুধুমাত্র বেশি নম্বর পেয়ে ভাল ফলাফলের দিকেই লক্ষ্য না রেখে তারা যেন ভাল মানুষ হতে পারে সেই দিকে বেশি নজর দেন। তিরি আরো বলেন, একজন ছাত্রের মধ্যে যে ছাত্রসুলভ আচরণ দেখা যায় অর্থাৎ তার কথা বার্তায়,পোশাক পরিচ্ছেদ, চলাফেরায় ছাত্র সুলভ ভাব বজায় থাকে সেদিকটা লক্ষ্য রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান। সন্তানদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকার গুরত্ব সবচেয়ে বেশি বলে তিনি মেন করেন এবং  সন্তানদের প্রতি  মাকে আরো বেশি সচেতন হওয়ার আহবান জানান।

এরপর বক্তব্য রাখেন মিরপুর থানার সম্মানিত থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব আবদুল কাদের ফকির। তিনি ছাত্র- ছাত্রীদের সৎ ও সুনাগরিক হয়ে গড়ে ওঠার আহবান জানান।

বিদ্যাপীঠের ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত অভিভাবক প্রতিনিধি জনাব পারভিন আক্তার এবং জনাব মো. নুরুল ইসলাম ছাত্র – ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য ব্যক্ত করেন।

সকাল ১১.০০ টায় গত এক মাসের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতি শ্রেণি থেকে দুইজন করে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত করে তাদের মধ্যে সম্মানসূচক সনদপত্র বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনাব দেওয়ান আবদুল মান্নান। এছাড়াও বিদ্যাপীঠের চারজন শিক্ষককে বিদ্যাপীঠে তাঁদের অধিকতর সেবামূলক ভূমিকা পালনের জন্য শ্রেষ্ঠ কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করা হয় এবং তাঁদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। কাউন্সিলরা হলেন জনাব হাসনা আক্তার, জনাব ফারজানা ইয়াসমিন, জনাব মো. আমিরুল ইসলাম এবং জনাব মীর নাজির হোসেন।

এরপর শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। এই পর্বে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মানপত্র পাঠ করা হয়। এরপরই পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৮ম শ্রেণির পরীক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম নূর তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে।

সকাল ১১.৪৫ মিনিটে পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় এবং সবশেষে তবারক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।