সময়ের সাফ কথা….স্ব-স্ব কর্তব্য পালনে আন্তরিক হই নতুন বছরে….

সংলাপ ॥ ২০১৯ কে বিদায় জানিয়ে আরও একটি নতুন বছরে পা দিল বিশ্ব। ভালো-মন্দে কেটেছে আগের বছরটি। নতুন বছরে আমরা কেবল ভালোই চাইব। চাইব সারা বিশ্ব শান্তিতে থাকুক। বিশ্ববাসীর কল্যাণ হোক। বিগত বছরের যাবতীয় গ্লানি আর অপূর্ণতার পুনরাবৃত্তি চাই না। চাই কলুষমুক্ত বিশ্ব, পৃথিবীর আকাশ হোক যাবতীয় অকল্যাণের মেঘমুক্ত। ২০১৯-তে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী তৎপরতা আর যুদ্ধের দামামা কোটি কোটি মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল, শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে চকচকে মোড়কে পাল্টা অশান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টাও দেখতে হয়েছে বিশ্ববাসীকে। মুখে যত বড় বড় কথাই বলা হোক না কেন, ক্ষমতার দাপাদাপি আর রাজনৈতিক মিথ্যাচার যে শেষমেশ সাধারণ মানুষের উপরই কঠিন আঘাত হানে, বিগত বছরে তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে বাধ্য হয়েছে অসংখ্য নিরীহ প্রাণ। সামান্য সুখ আর স্বস্থির বেশি চাহিদা যাদের নেই, যারা কেবল কামনা করেন ‘আমার সন্তান থাক দুধে-ভাতে,’ তারাও নানান ক্ষমতাধরের দাবার চালে অসীম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। এমন আর চায় না দেশবাসী ২০২০-তে।

১৬ কোটি বাঙালির কাছে ২০১৯ সালও অপ্রত্যাশিত এক সংকট নিয়ে হাজির হয়েছিল। সাধারণ মানুষের জীবনে অচিরে এক মহাশক্তিধর আশা জাগিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী কিন্তু বাংলার আকাশে প্রধানমন্ত্রীর দেখানো সেই স্বপ্নের ধূমকেতুর দর্শন বাংলার সাধারণ মানুষের নজরে আসেনি। নতুন বছরে ওই দুর্ভোগের অবসান ঘটে বাঙালির জীবনে নতুন দিনের আলো দেখা দেবে, এমন প্রত্যাশায় বুক বাঁধতে চান লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ।

একদা সারা ভারতবর্ষে তথা এশিয়ায় বাংলার স্থান ছিল একেবারে সামনের সারিতে। তারপর অনেককাল কেটে গিয়েছে। নানা কারণে এদেশ মাঝের একটি পর্বে পিছিয়ে পড়েছিল অনেকটাই। পরে সেই পশ্চাদগামিতাকে রুখে দিয়ে ফের প্রগতির পথের পথিক হতে পেরেছে। খাদ্যশস্য উৎপাদনে, শিক্ষাবিস্তারে, বিজ্ঞানসাধনায়, অর্থনৈতিক প্রগতিতে এখনই বিশ্বের বহু দেশকে পিছনে ফেলেছে এই বাংলাদেশ। তবু এতে আমরা আত্মসন্তুষ্টিতে আপ্লুত হতে রাজি নই। আমরা এখনও স্বপ্ন দেখি বাংলা আবার জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লভে। ধর্মে মহান হবে, কর্মে মহান হবে। নতুন বছর বাঙালির এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত হওয়ার দিকে আরও বেশ কয়েক কদম এগিয়ে দিক, যাবতীয় অপূর্ণতা, বিভ্রান্তি আর ব্যর্থতাকে সহ¯্র যোজন দূরে হঠিয়ে দিয়ে এই বাংলায় আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠুক আমাদের মাঝে মহামিলনের দীপশিখা। সেই শিখার আলো মশালের রূপ নিয়ে দূর করে দিক যাবতীয় ভেদাভেদ, অসাম্য, অবিচার আর জীবন-যাপনে অনিশ্চয়তার অন্ধকার। এই প্রত্যাশা পূরণে প্রতিটি বাঙালিকেই সাধ্যমতো ভূমিকা পালন করার সময় এসেছে। স্ব-স্ব কর্তব্য পালনে আন্তরিক সক্রিয়তা, সহ-নাগরিকের প্রতি সহমর্মিতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কঠোর মানসিক শক্তির প্রয়োগই আমাদের স্বপ্ন পূরণের পাথেয় হতে হবে। শুভ হোক নতুন বছর। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।