সময়ের সাফ কথা….ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার এখনই সময়

সংলাপ ॥ যারা বিশ্বের সামনে ইসলামকে প্রগতিশীল বিশ্বাস হিসেবে উপস্থাপন করতে চান তারা রক্ষণশীল ইসলামের ধ্বজাধারীদের কারণে অসুবিধার সম্মুখীন। এই সংঘাত অনিবার্য যখন যুক্তির বিরুদ্ধে অমূলক ধারণার দ্বন্দ্ব ঘটে। প্রগতিশীলদের এই যুক্তিযুক্ত উপস্থাপনায় একটি বড় অংশের বোধ আছে কিন্তু তারা এর সমর্থনে উচ্চবাচ্য করা থেকে বিরত থাকেন ভীতির কারণে। ইসলামের নামে ১৫০০ বছর ধরে চলতে থাকা প্রবাহমান ভীতিচক্রের কারণেই এই পরিস্থিতির উদ্ভব। এই প্রবাহমান ভীতি অতি কৌতুহলী ধর্মজীবী ও ধর্মবেত্তাদের দ্বারা সৃষ্ট একটি রাক্ষস যা ধর্মভীরুদের উপর তাদের প্রভাব বিস্তারে সাহায্য করে আসছে। এটি একটি চলমান দীর্ঘ মেয়াদী ধর্মীয় ষড়যন্ত্র। মুসলমানদের মধ্যে এ ধরনের চিন্তা-চেতনার সংঘাত নতুন নয়। অতীতে সব সময় এ ধরনের চিন্তাবিদরা ছিলেন যারা রক্ষণশীল ইসলামের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তাদের ব্যর্থ করে দেয়া হয়। বর্তমান সময় যুক্তি ও কারণ প্রগতিবাদীদের শক্তি এবং তারা চাইলে তাদের কণ্ঠ মানুষকে শোনাতে পারেন। তারা এখন ধর্মান্ধ ও অবহেলাপরায়ণ মোল্লা এবং কোটি কোটি ধর্মভীরুদের মাঝে অবস্থান করছেন।

এই ধর্মভীরুরা প্রশ্ন করতে ভয় পায় কিন্তু তারা শুনতে আগ্রহী। কেউ মানুক আর না মানুক ধর্মের অবস্থান এখন দুই নৌকার মাঝে। নতুন প্রজন্মের মাঝে যুক্তি এবং কারণ না ঢুকানো হলে আগামীতে তারাই বিশ্বাসের ভীত নাড়িয়ে দেবে। শুধুমাত্র ধর্মজীবী ও ধর্মবেত্তাদের রক্ষণশীলতা ও অন্ধত্বের উপর অভিশাপ বর্ষণ করে এই লক্ষ্য অর্জিত হবে না।

চিন্তাবিদদের আত্মজিজ্ঞাসা এই ধরনের পরিস্থিতিতে পরিকল্পনাটা কী হওয়া উচিত? এই অভিযানের কার্যপ্রণালী কী হওয়া উচিত?

সংস্কার আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা সবসময় ছিল কারণ সকল ধর্মের শেকড় প্রার্থনা ঘরেই রাখা হয়েছে। এই শিক্ষা এখন সকল ধর্মের বিশেষ করে ইসলামের প্রগতিশীল চিন্তাবিদদের পুনঃপরীক্ষা করার সময় এসেছে। ধর্মান্ধ তথাকথিত ইসলামী ধর্মজীবী ও ধর্মবেত্তাদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার উপর আঘাত হানতে এটা হবে একটা সাহসী পদক্ষেপ। ইসলামের মূল্যবোধগুলো পুনঃবিবেচনা করার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মভীরুরা যে প্রথাগত ধর্ম প্রচার ও প্রসার ব্যবস্থায় আস্থাশীল তার উপর শ্রদ্ধা রেখেই এগুতে হবে। পশ্চিমে প্রগতিশীলরা একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন যেখানে তারা প্রার্থনার জন্য তাদের নিজস্ব পন্থা উদ্ভব করে থাকেন। অবশ্যই রক্ষণশীল মুসলমান বিশ্বে এক প্রবল ঝড় তুলতে হবে। এটা হবে একটা অচিন্তনীয় ও লক্ষণীয় কাজ। প্রগতিশীলরা চিন্তা করেন এর কারণে তাদের অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। ধর্মান্ধরা হয়তো তাদের অন্য নামে অভিহিত করতে পারেন – এই প্রশ্নের উত্তর তাদের পন্থার উপর নির্ভর করছে এবং সময়ই তা বলে দেবে।ইসলামে ধর্মান্ধ ধর্মজীবী মোল্লাদের কোন স্থান নেই। শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় আইনেই সর্বশ্রেষ্ঠ শাসন ব্যবস্থা চলবে। ধর্মীয় সন্ত্রাস চক্রকে সমূলে উৎপাটন করতে প্রার্থনা ঘর থেকে ইসলাম (শান্তি) কে বের করে এনে জনগণের প্রাত্যহিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িয়ে দিতে হবে যাতে প্রতিটি কর্মই নিষ্ঠার সাথে করা যায়। ফতোয়া দেয়ার অধিকার সম্পূর্ণ হরণ করতে যুক্তি এবং প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় শাসনকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। প্রগতিশীল  প্রার্থনায় ভীতি ছড়াবে না বরং তা যুক্তি ও বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠা করবে।

তোতাপাখির মতো রূপকথা এবং ভীতি প্রদর্শনে খুৎবা পাঠ করা হবে না। প্রার্থনা হবে বাস্তবধর্মী চিন্তার উপর ভিত্তি করে এবং হঠাৎ করে আকাশ থেকে সবকিছু হয়ে যাবে এরকম আশা করা যাবে না। আধিপত্যবাদিতাকে ধ্বংসের লক্ষ্যে প্রক্রিয়ায়রত ব্যক্তিগত অভিমতকে শ্রদ্ধার সাথে দেখতে হবে। সার্বিক অঙ্গনে আমলারা নির্ভর করবেন আস্থা ও শ্রদ্ধার উপর এবং ব্যক্তিগত মতামতকে বিবেচনা করতে যুক্তি ও দর্শনের সমন্বয় ঘটাবেন। অবহেলা এবং ভীতির ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকা ষড়যন্ত্রকারী ধর্মান্ধ ধর্মবেত্তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এটাই যুগের আহ্বান।