সত্য যে কঠিন; তবু বলিলাম

নজরুল ইশতিয়াক। সত্য বলাটা বিপদ। তবু দায়িত্বশীল সচেতন মানুষগুলো অন্তরের বেদনা চাপিয়ে রাখতে পারেনা বলে স্রোতের প্রতিকুলে দাঁড়ায় সব সময়। আওয়াজ তোলে, জনগণ ধীরে ধীরে ভয় শংকা ছেড়ে রাস্তায় বের হয়ে আসে। এ কারণে রাজার প্রাসাদ ভেঙে পড়ে, অথবা রাজা অট্টালিকা ছেড়ে পালায়। অনেকে হয়তো ভাবছেন রাজা কোথায়? এখন তো জনগণের শাসন চলে, গণতন্ত্রের শাসন। 

বাস্তবে এসবই কথার কথা। বহু রাজার শাসন চলছে নানাভাবে। কেউ কেউ রাজাদেরও রাজা। এরা গণতন্ত্রের নামে, ব্যবসা বাণিজ্যের নামে, সরকারী চাকুরীর নামে রীতিমত রাজায় পরিণত হয়েছেন। নামী দামী গাড়ি বাড়ী, পাইক পেয়াদা, অস্ত্র, লেকলসকর সব আছে, দেশে বিদেশে। 

দুই /তিন পুরুষে আগে যাদের থাকার ঘরটুকু ছিল না কোন অদৃশ্য জাদুর কাঠির বদলে রাতারাতি এত বিপুল বিত্ত বৈভব। এটা কি উন্নয়নের সুফল? না আরো কিছু আছে? আছে জনগণের আমানত খেয়ানত। লুটপাটের নীতিদীর্ঘ অধ্যায়। কোন ভাবেই এই পাগলা ঘোড়া থামানো যাচ্ছে না। থামানো যাচ্ছে না বলে, সব শুভ উদ্যোগ মাঠে মারা যাচ্ছে। বিকৃত বিকলাঙ্গ একটা জাতি গড়ে উঠছে। মার খাচ্ছে মানুষের মর্যাদা। সৃজনশীলতা, সামাজিক প্রচেষ্টা। জনজীবনে সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়নি।

সত্যিকারের স্বাধীনতার সুফল এখনো কাগজে-কলমে। কৃষি ও বহুমুখী উন্নয়ন উৎপাদন কার্যক্রমে নিবেদিত শ্রমীকদের প্রতি দায়িত্ব ভালোবাসা মুখের কথা, লোক দেখানো। শ্রমীক-মালিক ভাই ভাই/ বিপদে আপদে  ভরসা নাই। ২৫ বছর চাকরীর পরও কোন নিরাপত্তা তৈরী হয় না। দারিদ্র কমে না। শেষ বয়স কাটে বিনা চিকিৎসায়। অন্য দিকে সব ধরনের নারীরা বহুমাত্রিক নির্যাতন বৈষম্যের স্বীকার। 

চরম বৈষম্যই এখন পর্যন্ত আমাদের অর্জিত। গণতন্ত্র, মানবাধিকার-সামাজিক ন্যায় বিচার অধরা। লুটেরাদের হাতে আলাদীনের চেরাগ। হয়তো চেরাগের দৈত্যও জানেনা রূপকথার চেয়ে বড় রূপকথার জাদুকরদের দেশ বাংলাদেশ। 

উপর তলার শেষ নেই। কোন তলায় কে কে অবস্থান করছেন তাও জানার কোন উপায় নেই। টাকা থাকে বিদেশের ব্যবসা বাণিজ্যে, গোপন ব্যাংকে। কে রাখে তার খোঁজ। এদের তিন পা। দুই পা বিদেশে এক পা দেশে। এরা দেশে থাকে Raw metarial collection এর জন্য। দেশটা হলো সংগ্রহের ক্ষেত্র। মানে বলতে পারেন প্রস্তুতি খেলার মাঠ। এখানে পুরোপুরি খেলাও যায় না।তাতে মান সম্মান থাকে না। পাছে জানাজানি হওয়ার ভয় থাকে। গোমর ফাঁস হয়ে গেলেও জনগণ কিছুই করতে পারবে না, তবু কি দরকার বাড়তি ঝামেলা। 

তবু একটা ভয় এবার কেউ কেউ পেয়েছে, যখন করোনা থাবা বসালো স্বর্গ নামক আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোতে। বিদেশে ভোগের জীবনের উপর এমন আঘাত কারো কল্পনাও ছিল না।

এমনকি ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হলেও কার কাছে কত টাকা পায় তা ঘোষণা করা হয় না। পূর্ণ তফশীল করা হয়। এক লোন ১৫/২০ বার রিসিডিউল করেও রক্ষা হয় না। সুদ মাফ করে নতুন করে খেলাপি কে টাকা দেয়ার পর সেই টাকা দিয়ে ব্যাংকের শেয়ার কিনে ব্যাংকেরই মালিক বনে যায়। নীতিবান ব্যবসায়ী কে ব্যাংক নানান জটিলতায় তিলে তিলে শেষ করে দেয়।  

তথ্য বলছে গত ১০ বছরে ৬ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। অতি ধনীর হার বৃদ্ধিতে বিশ্বে প্রথম স্থান বাংলাদেশের। দেশে ৭০ হাজার কোটিপতি মানুষে আছে। ৮ থেকে ২৫০ কোটি টাকার বেশি ধনীর সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে অনেক। দেশে আড়াই কোটি মানুষ চরম দরিদ্র। সাথে আরো ৪ কোটির বেশি মানুষ গরিব।। কোন ঝুঁকি সামলানোর ক্ষমতা নেই। 

করোনায় সরাসরি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে কমপক্ষে ৭ কোটির বেশি মানুষ। 

নানান ভাতা দান অনুদান নির্ভর মানুষের সংখ্যা কমপক্ষে ২+ কোটি। 

ফলে সংবেদশীলতা পারসপারিক সহমর্মীতা ছাড়া করোনা জনিত পরিস্থিতি মোকাবেলা সম্ভব নয়। পাশে দাঁড়াতে হবে সামাজিকভাবে। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন এখন সেটা প্রতিষ্ঠার সময়। শেখ হাসিনার উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সময়। দুষ্টু চক্রকে রুখে দেয়ার সময়। নব জাগরণের সময়। 

স্বাধীনতার অঙ্গীকারে সাম্য সমতা সামাজিক ন্যায় বিচারের যে আওয়াজ সন্নিবেশিত করা হয়েছিল সময় এসেছে সেই বাংলাদেশ গড়ার। মগডালে বসে থাকা সব লুটেরা, ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ খুলে দিতে হবে। দেশ জাতির বৃহত্তর সবার্থে।

আমাদের দৈন্যতা এতই প্রকট যে শেখ হাসিনার মত রাষ্ট্রনায়ককেও মূল্যায়ণ করতে পারলাম না। ঘরের ইঁদুরও বেশ দায়ী। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝতে না পারার খেসারত দিতেই হয়।