রাশিয়া তুর্কি নয়া পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

rashia

সংলাপ ॥ রুশ জঙ্গি বিমান আবারও তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে বলে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান অভিযোগ করেছেন। তিনি তার ভাষায় ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ না নিতে’ মস্কোকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

ন্যাটো জোটও বলেছে, রাশিয়ার উচিত এমন সব ব্যবস্থা নেয়া যাতে তুরস্কের আকাশ-সীমা লঙ্ঘন করা হচ্ছে না বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। সিরিয়ার সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালানোর সময় তুরস্কের আকাশসীমার প্রতি ‘পরিপূর্ণ সম্মান’ রাখা উচিত বলেও ন্যাটো জোট মন্তব্য করেছে।

রাশিয়ার কয়েকটি জঙ্গি বিমান গত শুক্রবার আবারও তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে বলে তুরস্ক ও ন্যাটো জোট দাবি করছে। এই অভিযোগ তোলার পর তুর্কি সরকার আঙ্কারায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এবং তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

তুর্কি সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে রাশিয়াকে হুঁশিয়ারি দেয়ার পর তুরস্কের বিমান বাহিনীতে কমলা রংয়ের সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। তুর্কি বিমান বাহিনীর কমান্ড-কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, তুর্কি জঙ্গি বিমানের পাইলটদের বলা হয়েছে তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী যে কোনো বিমান ও হেলিকপারকে ঘায়েল করতে হবে এবং এক্ষেত্রে কমান্ড সেন্টারের পক্ষ থেকে নতুন নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করারও দরকার নেই। রাশিয়া তুর্কি অভিযোগকে প্রচারণা বলে নাকচ করে দিয়েছে।

এর আগেও তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে যখন রাশিয়ার একটি জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করে তুর্কি বিমান তখনও রুশ বিমানটি সিরিয়ার আকাশসীমার ভেতরেই ছিল বলে মস্কো বলে এসেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রুশ জঙ্গি বিমান তুর্কি আকাশ-সীমা লঙ্ঘন করেছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা অতিরঞ্জন বা প্রচারণা মাত্র যাতে তাকফিরি-সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশসহ অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান রুশ সামরিক অভিযান থামিয়ে দেয়া যায়। সিরিয়ার যুদ্ধের ময়দানে তুর্কি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ায় রাজনীতি ও কূটনীতির ময়দানে তোলপাড় তুলে তুর্কি সরকার সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র পক্ষ হিসেবে সক্রিয় রাশিয়ার সাফল্যকেও ম্লান করতে চাইছে।

সম্প্রতি তুর্কি প্রধানমন্ত্রী দাউদ উগলু সৌদি আরব সফর করেছেন এবং জেনেভায় জাতিসংঘের শান্তি আলোচনার ব্যাপারে তুর্কি ও সৌদি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর আচরণও এই প্রেক্ষাপটে লক্ষণীয়। সন্ত্রাসী এই গোষ্ঠীগুলো এতদিন বলে আসছিল যে তাদের শর্ত মানা না হলে তারা জেনেভা বৈঠকে বসবে না। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে ক্রমাগত পরাজয়ের মুখে হঠাৎ ইউ-টার্ন নিয়ে তারা এখন জেনেভা বৈঠকে যোগ দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এ বৈঠকে তুর্কি-আকাশসীমায় রুশ জঙ্গি বিমান ঢুকে পড়ার অভিযোগ তোলার বিষয়কে সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে পরিকল্পিত পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। তুরস্ক এই অভিযোগের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের আরও বেশি সাহায্য সমর্থনও পেতে চাইছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। সিরিয়ার কথিত বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসীদের পরাজয় যখন অনিবার্য তখন তুরস্ক এ ধরনের নতুন ইস্যু তৈরি করে সিরিয়ার কৃত্রিম সংকটে জটিলতার নতুন মাত্রা যুক্ত করতে চায়।