মিল্ক ব্যাংকঃ ধর্মের নামে মানবিকতায় প্রতিবন্ধকতা!

হাসান জামান টিপু ॥ ‘অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন রক্ত, শুকরের মাংস এবং যা জবাই কালে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম উচ্চারণ করা হয়েছে। অতঃপর কেউ সীমালঙ্ঘন কারী না হয়ে নিরুপায় হয়ে পড়লে তবে, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’। -সুরা আন নাহল, আয়াত-১১৫।

‘আপনি বলে দিন, যা কিছু বিধান ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে, তন্মধ্যে আমি কোন হারাম খাদ্য পাই না কোন ভক্ষণকারীর জন্যে, যা সে ভক্ষণ করে; কিন্তু মৃত অথবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের মাংস এটা অপবিত্র অথবা অবৈধ; যবেহ করা জন্তু যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়। অতপর যে ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে এমতাবস্থায় যে অবাধ্যতা করে না এবং সীমালঙ্ঘন করে না। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল দয়ালু।’ সুরা আনআম, আয়াত-১৪৫

‘তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জীব, রক্ত, শুকর মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যতীত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।’ সুরা বাকারা, আয়াত-১৭৩।

‘তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস, যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গকৃত হয়, যা কন্ঠরোধে মারা যায়, যা আঘাত লেগে মারা যায়, যা উচ্চ স্থান থেকে পতনের ফলে মারা যায়, যা শিং এর আঘাতে মারা যায় এবং যাকে হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করেছে, কিন্তু যাকে তোমরা যবেহ করেছ। যে জন্তু যজ্ঞবেদীতে যবেহ করা হয় এবং যা ভাগ্য নির্ধারক শর দ্বারা বন্টন করা হয়। এসব গোনাহর কাজ। আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে। অতএব তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় কর। আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং শান্তিকে (ইসলাম) তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। অতএব যে ব্যক্তি তীব্র ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে কিন্তু কোন গোনাহর প্রতি প্রবণতা না থাকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল।’ সুরা মায়িদাহ, আয়াত- ৩।

উপরোক্ত পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলি দ্বারা প্রমানিত হয় প্রয়োজনে, বাঁচার তাগিদে, মানবিকতার জন্য আল্লাহর নিষেধাজ্ঞাও রহিত হয়ে যায়। এই জন্য রাব্বুল আলামিন দয়ালু, পরম করুণাময়।

মানবিকতার উর্ধ্বে কোন কিছু নয়। সবার উপরে মানুষ সত্য। মানুষের জন্যই জগতে সকল আয়োজন। মানুষকে কি করে ভালো রাখা যায় এটাই সভ্য মানুষের একান্ত কাম্য। সকল ধর্মে মানুষকে ভালো রাখার জন্য, সঠিক পথে থাকার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া আছে। সময় পরিবেশ বাস্তবতায় তা শিথিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে চালু হয়েছে ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’ বা মায়ের বুকের দুধ সংরক্ষণ ব্যবস্থা। প্রথমবারের মতো উদ্যোগটি নিয়েছে ঢাকা মাতুয়াইলের শিশু-মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্র (স্ক্যানো) ও নবজাতক আইসিইউ (এনআইসিইউ) বিভাগ। ১ ডিসেম্বর থেকে চালু হলেও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে বেসরকারি আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এই কার্যক্রমটি।

জানা যায়, যে মায়েদের সন্তান জন্মের পর মারা গেছে বা নিজের সন্তানকে খাওয়ানোর পরও মায়ের বুকে অতিরিক্ত দুধ আছে, সেইসব মায়েরা হিউম্যান মিল্ক ব্যাংকে দুধ সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন। আর যে নবজাতকের জন্মের পরই মা মারা গেছেন বা যাদের মা অসুস্থতার জন্য দুধ খাওয়াতে পারছেন না, সেই নবজাতকেরা সংরক্ষিত এই দুধ খেতে পারবে। তা ছাড়া দত্তক নেওয়া সন্তানের অভিভাবকেরা এখান থেকে দুধ নিয়ে খাওয়াতে পারবেন। বিভিন্ন সময় স্বজনেরা নবজাতককে ফেলে দেন, এই স্বজন-পরিত্যক্ত নবজাতকদের বাঁচাতেও মিল্ক ব্যাংক কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছে উদ্যোক্তারা। আরও জানা যায়, মায়ের বুকের দুধ সংগ্রহ ও বিতরণে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা হবে না।

শরিয়তের বিধান মেনে যে সকল মুসলিম দেশে মিল্ক ব্যাংক আছে সে সকল দেশের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে এ হাসপাতালে এই মিল্ক ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে যা কঠোর নিয়ম কানুনে চলবে। গত ডিসেম্বরের প্রথমদিন এটি চালু করার কথা ছিলো কিন্তু কতিপয় ধর্মজীবির মামলার কারণে এ প্রকল্পের সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

এমন একটি শুভ ও মানবিক উদ্যোগ অলীক কল্পনায় কিছু ধর্মজীবির বিরোধিতায় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সাধারণত মুসলমানরা নতুন কোন কিছু গ্রহণ করে না। আবার তারা সৌদি আরবে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত ‘হালাল পতিতালয়’ সহ আরো অনেক বিকৃত ধর্মাচার নিয়ে কথা বলেন না। কথা বলেন না সৌদিতে বাংলাদেশী নারী কর্মীদের শারিরীক ও যৌন নির্যাতন নিয়ে। যা মানবিক ও মানবতার বৃহত্তর কল্যানে বিশেষ প্রশংসার দাবীদার তা নিয়ে তারা বেশ সরব হয় যা এক বিষ্ময়কর ব্যাপার বর্তমান বিশ^ বাস্তবতায়। 

অথচ জীবন বাঁচাতে ইসলামে অনেককিছু হালাল করা হয়েছে তবে তা অবশ্যই শর্ত সাপেক্ষে। মানবিকতার জন্য। সূরা কাহাফ এর একটি ঘটনা মনে আছে তো, জ্ঞানী লোকটি একটা শিশুকে হত্যা করেছিলেন কারণ সে ভবিষ্যতে অনেকের মৃত্যুর কারণ হবে। এখানে হত্যা কে বৈধ করা হয়েছে।

মায়ের দুধের এমন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা নিয়ে আপত্তি উঠেছে দেশের শীর্ষ আলেম ও মুফতিদের থেকে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন এমন উদ্যোগ নবজাতক অনেক শিশুর জন্য আপাতদৃষ্টিতে উপকারী মনে হলেও মুসলিম সমাজের আত্মীয়তার বন্ধনে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করবে। কারণ হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক থেকে দুগ্ধ পানকারী শিশুরা কোন মায়ের দুধ পান করছে, তা অজানা থাকার সম্ভাবনা থেকে যাবে। যেহেতু মিল্ক ব্যাংকে একসঙ্গে অনেক মায়ের দুধ একত্রিত থাকবে, তাই কার দুধ তাকে দেওয়া হচ্ছে, তা নির্ণয় করাও অসম্ভব হয়ে যাবে। ফলে তার অজানা অসংখ্য দুধ ভাই-বোনের সৃষ্টি হবে; ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক যাদের সঙ্গে তার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া কঠোরভাবে হারাম। ফলে তার বিবাহের সময় এই আশঙ্কা পূর্ণমাত্রায় থেকে যাবে যে, যাকে সে বিয়ে করছে, সে তার দুধ ভাই-বোন কি না!

বিষয়টি নজরে এসেছে সুপ্রিমকোর্টেরও। ইতোমধ্যে হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক নিয়ে আইনি নোটিস প্রেরণ করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান। ধর্ম মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, শিশু-মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (আইসিএমএইচ), নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্র (স্কানো), নবজাতক আইসিইউ (এনআইসিইউ) এবং ঢাকা জেলা প্রশাসককে ডাকযোগে পাঠানো নোটিসে বলা হয়, ‘মিল্ক ব্যাংক’ ইস্যুতে ধর্মীয় সমস্যা রয়েছে। তা ছাড়া দেশে মিল্ক ব্যাংক করা ১৯৩৭ সালের মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। তাই নোটিস অনুসারে মিল্ক ব্যাংক স্থাপনে যথাযথ শর্ত আরোপ চাওয়া হয়েছে। অন্যথায় এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিসে উল্লেখ করা হয়।

অন্য মায়ের দুধ পানে ইসলাম কী বলে!!

শিশুর জন্মদাতা মা ছাড়া অন্য মহিলারাও দুধ পান করাতে পারবেন। ইসলাম একে সমর্থন করে। নবী (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত) স্বয়ং অন্য মায়ের দুধ পান করেছেন। তার দুধ মা ছিলেন বিবি হালিমা সাদিয়া। তবে এ ক্ষেত্রে ইসলামে বড় বিধান হলো শিশু দুই বছর বয়সের মধ্যে যে মায়ের দুধ পান করবে সে তার দুধ মা হিসেবে গণ্য হবে। আর দুধ মা নিজের মায়ের মতোই। ফলে ওই মহিলার সন্তানরা তার দুধ ভাই-বোন হয়ে যায়। চাই মহিলার স্তন থেকে সরাসরি পান করুক, চাই দুধ বের করে অন্য মাধ্যমে পান করুক। (ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত : ৬/২৩২)

শীর্ষ আলেম ও মুফতিদের বক্তব্য

ইসলামের দৃষ্টিতে ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’-এর বৈধতা আছে কি না জানতে চাইলে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রাহমানী বলেন, যেহেতু এটা দুধ পানের বিষয়, এ নিয়ে ইসলামে নির্দিষ্ট মাসয়ালা রয়েছে। মৌলিকভাবে এক মায়ের দুধ অন্য মায়ের শিশু খাওয়া জায়েজ। মায়ের দুধ যেকোনো প্রক্রিয়ায় বের করে অন্য শিশুকে খাওয়ানো জায়েজ। তবে ইসলামে রক্তের সম্পর্ক এবং দুধ ভাই-বোনের সম্পর্ক অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপন ভাই-বোনের মধ্যে যেমন বিয়ে করা যায় না তেমনি দুধ ভাই-বোনের মধ্যেও বিয়ে করা ইসলামে নিষিদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংকের দুধ প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাবে। এ ক্ষেত্রে কোন মায়ের দুধ কোন শিশু খাচ্ছে এটা জানা যাবে কি না তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। যদি জানা না যায় তাহলে একদিকে যেমন ইসলামে দুধ মায়ের যে গুরুত্ব সেটা ক্ষুন্ন হবে। অন্যদিকে এমন হতে পারে পরবর্তী সময়ে দুধ ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অবশ্য কোন মায়ের দুধ কোন শিশু খাচ্ছে এটা যদি জানা যায় এবং দুই পরিবারের মধ্যে এ বিষয়ে সতর্ক থাকেন তাহলে সমস্যা নেই। তবে বাস্তবে সবাই কতটা সতর্ক থাকবে সেটা দেখার বিষয়। তাছাড়া উদ্যোক্তারা কতটুকু শরিয়তের বিধান মানবে, সেটাও ভাববার বিষয়। তাই আমি মনে করি এ ধরনের ব্যাংক না হওয়াই নিরাপদ।’

রাজধানীর শায়েখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশে হিউম্যান মিল্ক ব্যাংকের উদ্যোগ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এই প্রক্রিয়া ব্যাপকতা লাভ করলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। অসংখ্য হারাম বিয়ে অনুষ্ঠিত হবে সবার অজান্তে’

দুধ ভাই-বোনের বিয়ের শঙ্কা, জবাবে উদ্যোক্তারা যা বলছেন –

ডা: মুজিবুর রহমান বলছেন, এমন কোনো আশংকাই থাকবে না, কারণ মিল্ক ব্যাংক থেকে দুধ দাতা ও গ্রহীতা পরস্পর সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন এবং তাদের নিজস্ব পরিচয়পত্রও থাকবে। এমনকি তাদের তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রতি বছর প্রকাশও করা হবে যাতে করে দাতা ও গ্রহীতার সব প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যায়।

জনাব রহমান বলেন, ধর্মীয় বিষয়গুলো দেখার জন্য তারা ইরান ও কুয়েতে কিভাবে মিল্ক ব্যাংক পরিচালিত হয়, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করেছেন।

প্রতিটি মায়ের দুধ আলাদা বিশেষ পাত্রে নেয়া হবে এবং আলাদা লেবেলিং থাকবে যা কখনো নষ্ট হবে না। যিনি দুধ দেবেন তার অনুমতি নেয়া হবে। তিনি নিজেও নিজের দুধ প্রয়োজনে নিতে পারবেন বা অন্য কেউ নিলে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আইডি কার্ড থাকবে। দাতা ও গ্রহীতা এ বিষয়ে একে অন্যের বিস্তারিত জানতে পারবে।’

এছাড়া বিয়ের মতো সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি কোনো প্রভাব ফেলবে না, কারণ এই ব্যাংক সাধারণভাবে সবার জন্য নয়, বরং এটি বিশেষ ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুর জন্য যেখানে জীবন বাঁচানোর চেষ্টাই প্রধান কর্তব্য, বলছিলেন জনাব রহমান।

হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক-এর এই সমন্বয়ক বলেন, ‘এটা কিন্তু সাধারণ ব্যবহারের জন্য নয়, যেসব শিশুর আর কোনো বিকল্প নেই তাদের জন্য।’

তিনি বলেন, ‘এমন কিছু রোগ আছে মায়ের দুধ ছাড়া ভালো হয় না। সেসব ক্ষেত্রে এ দুধ ব্যবহার করবে। অনেকে নিজের দুধ জমা রেখে নিজের সন্তানকে খাওয়াতে পারবেন। মায়ের বুকের দুধ শিশুর জন্য জরুরি এ মহৎ উদ্দেশ্যে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে বিস্তারিত ডাটা সংরক্ষণ করে মায়ের দুধ সংগ্রহ ও দেয়া হবে এই মিল্ক ব্যাংক থেকে।’

মুসলমানদের সুদ, ঘুষ, দূর্নীতি, জেনা, জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন, পায়ুসঙ্গম সম্পর্কে নানান নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আমাদের আলেম সমাজ যদি ঐগুলি নিয়ে কথা বলতো তবে সমাজে অনাচার থাকতো না। এই শুভ উদ্যোগে তারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে এগিয়ে আসার পরিবর্তে কেন যে বাধা প্রদান করছেন তা তাদের ব্যাখ্যায় পরিস্কার নয়। ডিজিটালাইজেশনের যুগে তারা যে আশংকা প্রকাশ করছেন তা নিতান্তই অমূলক।

যেখানে প্রাণ বাঁচাতে হত্যাকে জায়েজ করা হয়েছে সেখানে ভবিষ্যতে কি হবে এটা নিয়ে আশংকা প্রকাশ করে একটা চমৎকার উদ্যোগকে থামিয়ে দেওয়া শান্তি (ইসলাম) ধর্মের পরিপন্থী নয় কি?