মিরপুরের ‘জ্যোতিভবন’-এ নেতৃত্ব বিষয়ে ৯ম পর্বের আলোচনা – মানুষকে যারা সরল পথ দেখান তারাই নেতা

সংলাপ ॥ মহান সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ  প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ (বাহাখাশ)-এর নিয়মিত সাপ্তাহিক হাক্কানী চিন্তন বৈঠকের অংশ হিসেবে ‘নেতৃত্ব’ বিষয়ে আলোচনার ৯ম পর্ব  গত ১৪ পৌষ ১৪২৬, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ শনিবার মিরপুর আস্তানা শরীফের ‘জ্যোতি ভবন’ এর আক্তার উদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বাহাখাশ মহাসচিব শাহ্ খায়রুল মোস্তফার সভাপতিত্বে বিষয়টির ওপর আলোচনায় অংশ নেন সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ-এর নির্বাহী সম্পাদক শাহ্ ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আলন, হাক্কানী পরিবারের সদস্য ও বিবি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সত্যানুসন্ধানী বাহাদুর ব্যাপারী এবং বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও হাক্কানী বিশেষ দূত মোল্লা হাছানানুজ্জামান টিপু। সঞ্চালনায় ছিলেন মিরপুর আস্তানা শরীফ ও সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ রওজা শরীফ ব্যবস্থাপনা কমিটির যুগ্ম-সচিব শাহ্ আবেদা বানু তরু।

মোল্লা হাছানানুজ্জামান টিপু বলেন, পবিত্র কোরআনের সূরা ইয়াসিনে বলা হয়েছে, ‘অনুসরণ কর তাদের, যাহারা তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান কামনা করে না এবং যাহারা সৎ পথ প্রাপ্ত’। এই সৎপথ হলো সূরা ফাতিহায় বর্ণিত,‘ সিরাতুম মোস্তাকিম – সরল পথ।’ সেই সরল পথে মানুষকে যে অনুসরণ করে যে নিয়ে যায়, সেই নেতা, তার কাজটিকে বলে নেতৃত্ব। উপরোক্ত বাণী থেকে বুঝা যায় নেতা কোন প্রতিদান আশা করতে পারেন না। নেতা তার কর্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ জেনেই নেতৃত্বে আসেন।

কিছু মানুষ নেতৃত্ব দেয়ার সহজাত গুণ নিয়ে জন্মায়। মানুষ অজান্তেই নিজেকে সেই গুণী মানুষটার কাছে সমর্পন করেন। নেতৃত্বটা অলৌকিক। কৃপা ছাড়া কেউ নেতা হতে পারে না। হাক্কানীতে সাধক আনোয়ারুল হকের দরবারে সেই কৃপায় ও আশির্বাদে ধন্য ছিলেন সাধক শেখ আবদুল হানিফ। প্রতিকূলতার মধ্যে আপন লক্ষ্য স্থির রেখে উনি এগিয়ে গেছেন। সাথে ছিলো তাঁর শ্রীগুরুর কৃপা। উনি সার্থক হয়েছিলেন, তাই ওনার গড়া প্রতিষ্ঠানে আমরা আজ সেই নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলছি।

আমাদের নেতা সূফী সাধক শেখ হানিফ পর্দা নেওয়ার পর এখানে একটা নেতৃত্বের সংকট দেখা দেয়। ঠিক সেই সময়ই হাক্কানী চিন্তন বৈঠক নেতৃত্ব নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন একটা বিষয় নির্বাচন করার জন্য বাহাখাশ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। আমাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দানের জন্য বাহাখাশ কর্তৃপক্ষকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

কে নেতা?  কে নেতৃত্ব দিতে পারে? লিডারশীপ কোয়ালিটি যার মধ্যে আছে সে-ই নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য। সেই লিডারশীপ কোয়ালিটি কি? বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখবো, লক্ষ্য সম্পর্কে যার স্বচ্ছ ধারণা আছে, দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, মানবিক, কল্যাণময়, প্রেমময় ও সচেতন তিনিই নেতা। এই গুণগুলি যার মধ্যে আছে সেই নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য।

হাক্কানীতে কর্ম, মানবতা ও শান্তি- এই তিন হলো উদ্দেশ্য। মানবতার লক্ষ্যে কর্ম করে শান্তি লাভ করাই হাক্কানীদের বা সত্যপথ যাত্রীদের কাজ। এই কাজে সফলতা তখনই আসবে যখন একের সাথে একাত্মতা হবে,  দড়হবহবংং রিঃয ঙহব, ড়হবহবংং রিঃয ঃৎঁঃয’ – ‘মানে একের সাথে একাত্মতা, সত্যের সাথে একাত্মতা। 

সেই নেতৃত্ব দিতে সক্ষম যে একের সাথে একাত্ম হবে, সত্যটাকে ধারণ করবে। এই পথে চলতে গেলে একের সাথে একাত্ম হতে হবে। কথা আছে আল্লাহকে পেতে হলে আল্লাহর রঙে নিজেকে রাঙাতে হবে। আল্লাহর সকল গুণাবলী নিজের করে নিতে হবে, ধারণ করতে হবে। সময় সময়ে করলে হবে না, সর্বাবস্থায় তাকে ধারণ করতে হবে।

সে সাধন পথে প্রথম নেতৃত্বটা কিন্তু নিজেকেই নিজের উপর নিজে দিতে হবে। নিজের বিক্ষিপ্ত চিন্তাকে এককেন্দ্রিক করতে হবে, কায়মনোবাক্যে কর্ম মানবতা শান্তির পথ ধরে এগোতে হবে। মানবিক কর্ম করে শান্তি লাভ করে একের সাথে, সেই সত্যের সাথে একাত্ম হতে হবে।

দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে একজন কর্মীকে নেতৃত্বে আসতে হয়। এখানে কোন শর্টকার্ট রাস্তা নাই। তার কৃপা পেতে হলে কর্ম দিয়েই তার মন জয় করতে হবে। সুদীর্ঘ প্রক্রিয়ায় এই নেতৃত্বগুণে গুণান্বিত হতে হয়। হাক্কানীতে, যে হাক্কানীর বৃহত্তর স্বার্থে, প্রতিদান প্রত্যাশা না করে কল্যাণমুখী চিন্তার দ্বারা সচেতনভাবে কর্ম সম্পাদন করে এগিয়ে যেতে পারবে সেই নেতৃত্বগুণে গুণান্বিত হবে।

কোন একদিন আমার শ্রীগুরু বলেছিলেন, হাক্কানী পথের যাত্রী হতে হলে প্রেমময় হতে হবে, দৃষ্টিকে সামলে চলতে হবে সচেতনভাবে। আত্মকর্ম বিশ্লেষণে চলতে হবে। জগতে অন্যের বিচার করতে গেলে বিচ্যুতি আসবেই। লাইন থেকে ছিটকে পড়বেই। লক্ষ্যে যাওয়ার জন্য আমাদের গাইড হলো সাধকদের বাণী। সেই বাণীগুলি বিশ্লেষণ করে পথ চললে লক্ষ্যে পৌঁছানো সহজ হবে।

বাহাদুর ব্যাপারী বলেন, নেতৃত্বের মধ্যে আছেন নেতা এবং তাঁর গুণ। আমার ক্লাসেও এমন একটা বিষয় আছে-লিডারশীপ। এ বিষয়টি আমাকে পড়াতে হয়- প্রতি তিন-চার মাস অন্তর অন্তর। বিষয়টি নিয়ে এর আগে আমি চিন্তা করার সুযোগ পেলে আলোচনা এক ধরনের হতো। নেতা ও নেতৃত্ব নিয়ে আমরা অনেক কথা বলতে পারি। কিন্তু আমি বলি, যার অনুসারী আছে তিনি নেতা। অনুসারী তৈরি করতে পারেন বলে তার যে-যোগ্যতা সেটিই নেতৃত্ব। আমি দেখেছি ব্রেন্ডিং অব মিশ্রণÑ যাপিত জীবনের নেতৃত্ব এবং আধ্যাত্মিকতার মিশ্রণে যে নেতৃত্ব তা পৃথিবীর সেরা হয়। হাক্কানী চিন্তন বৈঠকের যে চিন্তা আমার মতে সেটাই পৃথিবীর সেরা।

অনুসারী তৈরি করতে হলে, নেতার কি কি গুণ থাকতে হয়, কি কি যোগ্যতা থাকতে হয় তা আলোচনা করা যায়। নেতার যে-যোগ্যতা, সে শুধু সামনের দিকে দেখে। কতদূর পর্যন্ত দেখতে পায় সেটাও বিষয়। নেতৃত্ব তো সেই জিনিষ তিনি যা করবেন সেটাই সঠিক। সে কোনো ফর্মাল পজিশনে থাকে না-ইনফর্মাল অবস্থায় থাকে। কিন্তু সে অনুসারী তৈরি করে। সে কোনো সিস্টেম মানে না, নিয়মে থাকে না। সে নিয়ম প্রতিনিয়ত তৈরি করে। সে মানুষের প্রতি লক্ষ্য রাখে- মানুষ কোন্ দিকে যাবে এবং কোন্ দিকে মানুষকে নিয়ে যেতে হবে। তাঁর লক্ষ্য শুধুই মানুষ। সে সঠিক কাজটি করে কি-না, কিন্তু সে যে-কাজটি করে সেটিই সঠিক, মানে সে-কাজটি করে ফেলবে সেটিই সঠিক। নেতৃত্ব তো সেই জিনিষ সে যা করবে তাই সঠিক। নেতৃত্বের যে গুণাবলী এসেছে তার প্রথমেই বলতে হবে যে তার ভেতরে যে ইচ্ছাশক্তি সেখানে নেতৃত্ব দেয়ার ইচ্ছা তার তৈরি হয়েছে কি, হয়নি। এই ইচ্ছা তৈরি হওয়ার মধ্য দিয়েই সে এ জগতে প্রবেশ করবে এবং তার মধ্যে সততার একটি সম্মিলন থাকতে হবে। এই সততা কোন্টা? আমরা বলি, ‘সত্যমানুষ হও, দেশ ও জাতির কল্যাণ হবেই হবে।’ আর সত্য মানুষ চাই। এই সত্য সেই সত্য, আপনার আমার সকলের সকলের সত্য। যে-জায়গায় থাকি, যে-অবস্থানে থাকি, যে-মাটির ধান খাই, যেখানকার পানি খাই, যে বাতাস নিই, তার যে ডিএনএ-আরএনএ, এর যে ক্যারেক্টার, সেই ক্যারেক্টারের মধ্য দিয়ে আমার ভেতরে যে ক্যারেক্টার তৈরি হয় তাকে ধারণ, পালন এবং লালন করার মধ্য দিয়ে, আমাদের মধ্যে দিয়ে যে-জিনিষ তৈরি হয় তাকে এগিয়ে নেয়ার মধ্য দিয়েই তৈরি হয় আমার সততা। যে-সততার জন্য আমরা এখানে এসেছিলাম, মহান সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ আমাকে একদিন গল্প করতে করতে বললেন,‘অলি-আল্লাহও হওয়া যায় না  যদি দেশকে ভালোবাসা না-হয়, দেশি ভাষায় কথা বলা না-হয়, এসব না থাকলে নেতাও হওয়া যায় না, নেতৃত্বও দেয়া যায় না। আমরা সৌভাগ্যবান এ জন্য যে, এই জায়গায়, এই চিন্তন বৈঠকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আলাপ শুনেছি। এটিই পৃথিবীর সত্য। এই সততা এবং এর যে সম্মিলন তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই নেতৃত্ব।

আমরা অনেক সময় ক্যারিশ্মা-তার মানে সম্মোহনী ব্যাপার, সেটি যখন একজন মানুষের ভেতরে-যে ইলেক্ট্রন নিজের মধ্যে আছে তার একটি ট্যাম্পারেচার তৈরি হয়। এর বাইরে এবং ভেতরেও অন্য একটি চরিত্র তৈরি হয়। নেতৃত্ব দেয়ার কারণে, এসব ধারণ করার মধ্য দিয়ে একটি সংযোগ তার নিজের মধ্যে তৈরি হয়। ফলে তার ভেতরের চরিত্রের যে পরিবর্তন সেটা দেখলে তার শান্তি লাগে, ভালো লাগে। তাঁকে অনুসরণ করতে মন চায়, তাকে অনুসরণ করার মধ্য দিয়ে নিজের মধ্যে নিজের শান্তি, নিজের স্বস্তি দিয়ে পায়-সেই রকমের যোগ্যতার মধ্য দিয়ে আমরাও আছি, আমরাও থাকবো। আমরা এখানে আসলে তিনি আমাদের কথাগুলোও বলে দিতেন। নেতা কোনো স্পেসিফিক বিষয়ে খুব ভালো জানেন এবং ওই বেশি জানার মধ্য দিয়েই তার সব জানা হয়ে যায়। ফলে ওই স্পেশিফিক বিষয়গুলো জানার মধ্য দিয়েই এগিয়ে নিয়ে যায় তার সকল কর্মকা- এবং সেখানেই তাঁর তৈরি হয় সকল জানা-এক বিষয়ে জানার মধ্য দিয়ে সকল জানা। যেমন-জাতীয়তাবাদের চরম বিকাশের নাম আন্তর্জাতিকতাবাদ- যেকোনো বিষয়ে নেতৃত্ব শুরু হলেই সে সকল বিষয়ে নেতৃত্ব দেয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। কারণ, তাঁর ভেতরে অটোমেটিক্যালি একটি রিফ্লেক্স অব মাইন্ড তৈরি হয় এবং তিনি দিতে থাকেন। নেতার এই চরিত্র প্রতিনিয়ত সিদ্ধান্ত, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সঠিক কাজটি তিনি করতে থাকেন। দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী-প্রতিনিয়ত, প্রতি মূহুর্তে তাঁকে সিদ্ধান্ত দিতে হয়Ñতাঁর সবগুলো সিদ্ধান্তই যেন সঠিক হচ্ছে। সেকেন্ডে সেকেন্ডে তিনি পরিবর্তন হচ্ছেন-এক অবস্থান থেকে আরেক অবস্থানে। কখনো দলীয় অবস্থান, কখনো রাষ্ট্রীয় অবস্থান-যেকোনো অবস্থানে থাকেন তিনি সঠিক সলিউশন দাঁড় করান। এর একটা সংযোগ আছে।

নেতৃত্বে সক্ষমতা এবং আত্মবিশ্বাস। বঙ্গবন্ধু বললেন,  ‘তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো’- মানুষ দাঁড়িয়ে গেলো সশস্ত্র পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এবং দেশ স্বাধীন হলো। এই যে আত্মবিশ্বাসী ভাবÑআমিই পারি, আমরাই পারি-এটিই নেতৃত্বের একটা বিশাল গুণ। ফ্লেগজিবিলিটি এবং অ্যাডাবটিবিলিটিও নেতৃত্বের বড় গুণ। নিজের জায়গার ওপর, নিজের সত্ত্বার ওপর দাঁড়ালে কাজ করা যায়। বঙ্গবন্ধু এই জাতিকে তৈরি করেছেন। এখানে বাঙালি জাতি ছিল, কিন্তু রাষ্ট্র ছিল না। বঙ্গবন্ধু এই জাতিকে দিয়ে একটি রাষ্ট্র তৈরি করে ফেলেছেন-এটিই বঙ্গবন্ধুর বড় গুণ।

এই দেশ আর এই পৃথিবীর রাজনীতিতে, আধ্যাত্মিকতা ও যাপিত জীবনের যে সংমিশ্রণ তার মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব হলে সে নেতৃত্ব পৃথিবীর মানুষকে কল্যাণ এবং মঙ্গল দিতে পারবে। এ চিন্তন বৈঠকে যে নেতৃত্বের কথা বলি, সেখানে দেখেছি, এখানে যারা কথা বলেন তা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চিন্তা বাঙালির কল্যাণে, পৃথিবীর ৮ শ’ কোটি মানুষের কল্যাণে। বাঙালিকে পৃথিবীর বুকে তুলে দেওয়ার জন্য যে নেতৃত্ব বাংলাদেশ দিয়েছে, ফেসবুকের কল্যাণে আমরা জেনেছি, পৃথিবীতে আধ্যাত্মিক জগতে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ-এ কথা কে শেখালো আমাকে? কে দেন সেই নেতৃত্ব – অবশ্যই তিনি আপনার আমার সবার গুরু-সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর আশীর্বাদপুষ্ট। এই সাধক বাংলার নেতৃত্বে শেখ হাসিনাকেই দেখতে চান। এই সাধক-এঁর আশীর্বাদুপষ্ট শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের চারিদিকে আজ যে পুষ্পের হাসি, আজকে বাঙালিত্ব আমাদের মাঝে যে টিকিয়ে রয়েছে তা প্রমাণ করে ব্রেন্ডিং অব স্পিরিচুয়েলিটিকে। ‘তুমি কে? আমি কে?.. বাঙালি বাঙালি’, চারিদিকে আগুন, আর বাংলাদেশে শান্তি-প্রমাণ করে এই নেতৃত্ব, এই চিন্তন বৈঠকের গুরুত্বকে।

শাহ্ ড. মোহাম্মদ আলউদ্দিন আলাউদ্দিন বলেন, সারাবিশে^ই চলছে নেতৃত্ব। নেতৃত্বহীন কোন জগত নেই। কোন একটি ক্ষণ নেই। সারাবিশ^ জুড়েই নেতৃত্ব নিয়ে চলছে আলোচনা। কেউ পরিবার চালাতে, কেউ সমাজ চালাতে, কেউ রাষ্ট্র চালাতে, কেউ চুরি করতে, কেউ যুদ্ধ করতে। যে যেই কাজ করতে চায় সে কাজের নেতৃত্বগুন তাকে অর্জন করতে হয়।

নেতৃত্ব কি? নেতৃত্ব মানে-পথ প্রদর্শন, অগ্রগামিতা, অগ্রণী ভূমিকা পালন, পরিচালন করার যোগ্যতা, ক্ষমতার প্রকাশ, প্রধান ভূমিকা পালন, নায়কোচিত আচার। নেতৃত্ব মানে ভাল ও স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাসম্পন্ন কর্ম, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন কর্ম, দক্ষভাবে মোকাবিলা করার সক্ষমতা। নেতৃত্ব মানে স্ব-উদ্যোগী হওয়া, স্বাধীনভাবে কাজ করার যোগ্যতা।

নেতৃত্ব কে দিতে পারে? সুনির্দিষ্ট বিষয়ে যে যোগ্য, নতুন সৃষ্টির সৌন্দর্য যে আগে থেকেই দেখতে পায়, যেকোন বিষয়ে দুর্বলতাগুলি যে চিহ্নিত করতে পারে, নিজের উপর যার আস্থা আছে, আপন যোগ্যতার পরিমাপ যার জানা আছে। নেতৃত্ব তিনিই দিতে পারেন যিনি হাজারো লক্ষ্য ও কর্মের ভীরে আপন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য চিহ্নিত করতে পারেন। আবার নেতৃত্ব তিনিই দিতে পারেন যার কোন লক্ষ্য নেই কিন্তু মানবতার কল্যাণে যেকোন স্থানে, যেকোন সময় জ¦লে উঠতে পারেন নিজের প্রয়োজনের বিচার না করে বরং পরার্থে। নেতৃত্ব তিনিই দেন যিনি স্বার্থবোধহীন, আবার একই সময়ে সবচেয়ে বেশী স্বার্থপর আপন লক্ষ্য বিন্দুতে পৌঁছার জন্যে।

নেতৃত্ব তিনিই দেন যিনি ধ্বংস করার সৌন্দর্যকে আপন উপলব্ধিতে দেখতে পান এবং যাবতীয় কুৎসিত ধ্বংস করে দিয়ে নব সুন্দর সৃষ্টির দিকে ব্যাকুলভাবে ধাবমান। স্থায়ী ভাব, স্থায়ী বিষয় যার লক্ষ্য অস্থায়ী ভাব চিন্তা বিষয়কে ধ্বংস করতে পারলেই স্থায়ী সৌন্দর্য ফুটে উঠবে। আল্লাহ শ্রেষ্ঠ ধ্বংসকারী। একজন প্রকৃত নেতাও কিছু বিষয়কে ধ্বংস করেন। যেমন- নেতা ধ্বংস করেন- হতাশা, লোভ, ক্রোধ, অজ্ঞতা, অলসতা, ভুল, অকৃতজ্ঞতা, কাপুরুষতা, বোকামী, নিষ্ঠুরতা, ক্ষীণদৃষ্টি, দারিদ্রতা, মিথ্যা এবং অহংকার। নেতা দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করেন এবং অসংখ্য যোগ্যতার মাঝে কোনটি করার প্রবণতা বেশী সেটিই চিহ্নিত করে সামনের দিকে এগিয়ে চলেন।