ভয়ঙ্কর গতিতে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’

সংলাপ।। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপটি আজ, শনিবার বিকেলের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে চলেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নিতে চলেছে। থাইল্যান্ড ওই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দিয়েছে ‘আমফান’। প্রথমে ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ উত্তরমুখী হলেও, পরে বাঁক নিয়ে তা উত্তর-পূর্ব দিকে ধীরে ধীরে এগোবে। এখনও পর্যন্ত যা গতিপ্রকৃতি, তাতে মঙ্গল-বুধবার নাগাদ উপকূলে ‘আমফান’-এর আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আগামি রবিবার ঘূর্ণিঝড়টি  ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। পরে তা আরও শক্তি বাড়িয়ে অতি ভয়ঙ্কর রূপ নেবে। মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড়ের গতি পৌঁছে যেতে পারে প্রতি ঘণ্টায় ১৭০-২০০ কিলোমিটার। স্থলভাগের দিকে যত এগুবে, তার গতি কিছুটা কমে। তবে আছড়ে পড়ার সময় আমফান কতটা শক্তি বাড়াবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এখন থেকেই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে।  শনিবার দুপুরে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের উপরে গভীর নিম্নচাপটি পটুয়াখালির জেলার খেপুপাড়া থেকে ১ হাজার ৩৩০ কিলোমিটার, ভারতের ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে ১ হাজার ৬০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। দিঘা থেকে ১ হাজার ২২০ কিলোমিটার,  দূরে রয়েছে।

ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে ‘আমফান’ যদি উপকূলে আছড়ে পড়ে, তা হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। ক্ষতি হতে পারে চাষের। একে করোনার জেরে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, তার উপরে ‘আমফান’ যদি সরাসরি ছোবল মারে উপকূল এলাকায়, তা হলে সঙ্কট আরও বাড়বে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আমফানের প্রভাবে  সমুদ্র উপকূল প্রবল জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে  গাঙ্গেয় উপকূলের প্রায় সব জেলাতেই। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে উত্তর-পূর্ব দিকে নেওয়া ওই বাঁকের উপরেই।

গত বছরের নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর গতিপ্রকৃতিও ঠিক একই রকম ছিল।  ওড়িশার পারাদ্বীপের কাছ থেকে বাঁক নিয়ে সুন্দরবনের উপর দিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছিল সে।