ভুল তো অবশ্যই হয়েছে-হচ্ছে!

সংলাপ ॥ কিছু ভুল তো অবশ্যই হয়েছে। মানুষের কাছ থেকে যে বা যারা সরে গিয়েছেন, তারা হাতেনাতে ফল পাচ্ছেন। মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। সেই মানুষের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। তাদের প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকতে হবে। মানুষ গালমন্দ করতেই পারেন, তা শুনতে হবে। এতে মানুষের ক্ষোভ কমবে। সরকারি প্রকল্পের সব সুযোগ-সুবিধা যাতে সাধারণ মানুষ পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। রোগ সারাতে যে দাওয়াই এখন দলনেত্রী দিয়ে যাচ্ছেন, তা সব রোগের মহৌষধি বলে স্মরণ রাখতে হবে রাজনৈতিক মহলকে।

সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে আঃ লীগ দল। বিষয়টিকে মাথায় রেখে এবার প্রথম কাজ হোক দল ও সংসদ সদস্যদের মধ্যে যোগসূত্র আরো বাড়ানো। দলীয় রাজনৌতিক ব্যক্তিত্বদেরকে হতে হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে দক্ষ। দলের নানা বিষয় প্রচার করার দায়িত্ব বর্তাক তাদের উপর। গণমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। মিথ্যাচার কখনই নয়। বিরোধী দলের সঙ্গে সঙ্ঘাত এড়াতে হবে। এরসঙ্গে রাজনীতিকদের দেশের বাইরে যাওয়ার আগে দলের অনুমতি নেয়াটা বাধ্যতামূলক হোক।

মানুষের ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে শাসকদলের বিরুদ্ধে, তাতে সংযোজিত হচ্ছে এক শ্রেণীর সংসদ সদস্যের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও জনবিচ্ছিন্ন ভাব। দলের সংসদ সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট ‘অনুশাসন’ আনতে হবে দলের  সুপ্রিমোকে।

সমাজে মানুষকে নানাভাবে ভাগ করা হয়। ধর্ম, বর্ণ, জাতিতে ভেদাভেদ চলতেই থাকে। আমরা সবাই জানি, এই ভাগ লজ্জার এবং সভ্যতাবিরোধী। এই ভাবে মানুষকে যাতে দেখা না হয় তার জন্য অনেক ব্যবস্থা হয়েছে, অনেক লড়াই হয়েছে। আমাদের দেশে ধর্ম, বর্ণ, জাতের নামে যুগ যুগ ধরে অন্যায় চলছে। কিছু মানুষকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের সামনের সারিতে নিয়ে আসবার জন্য সরকারকে নানা রকম পরিকল্পনা করতে হবে। দীর্ঘদিনের পাপ থেকে মুক্ত হতে সময় তো লাগবেই। এই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে সংরক্ষণ। যারা সমাজে পিছিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জন্য সংরক্ষণ প্রয়োজন। যারা ধর্ম, বর্ণ, জাতের ভাগাভাগিতে সমাজে উচ্চ আসন দখল করে বসে রয়েছে, তারা সংরক্ষণ মোটে পছন্দ করেন না। কিন্তু একবারও ভেবে দেখেন না, দেশের সামাজিক ইতিহাসটি। একদিন কী অন্যায়ভাবে তৈরি করা হয়েছিল জাতপাত নামের কুৎসিত প্রথাটি। বেশি যোগ্যতা, বেশি মেধা, বেশি কৃতিত্বের পরেও কিছু মানুষকে থাকতে হয়েছে নীচে। মানুষ আসলে দু’রকম। ধনী ও দরিদ্র। চিরকাল দরিদ্র মানুষকেই বেশি অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। সেই হয়েছে বঞ্চিত। ধর্ম, বর্ণ, জাতের মধ্যে থাকুক বা না থাকুক কষ্ট তাকেই পেতে হয়। তাই সংরক্ষণ করতেই হয়, করা উচিত সেই বিচারে। দরিদ্র মানুষকে সুযোগ দিতে হবে।