বিপদে ধৈর্যশালী হও, অন্যের দোষ ক্ষমা করো তাহলে তুমিও আল্লাহর দরবারে ক্ষমা পাওয়ার প্রার্থী হতে পারবে

ধৈর্য হচ্ছে – প্রফুল্ল চিত্তে সকল দুঃখ ও যন্ত্রণাকে বরণ করে নেয়া, প্রবল দারিদ্র্য আসলেও মানসিক ভারসাম্য রক্ষা করা, বিপদকে আল্লাহর তরফ থেকে আসা নেয়ামত হিসেবে গ্রহণ করা, দুনিয়াতে বিপদ বলতে কিছু নেই এ মনোভাব নিয়ে জীবন যাপন করা, কোন বিপদের সম্মুখীন হলে বিহ্বল না হয়ে, আল্লাহর সাথে বাদানুবাদে প্রবৃত্ত না হয়ে, অন্যের সাথে বিপদ সম্পর্কে আলোচনা না করে শান্ত থাকা, বিপদে অধীর না হয়ে এ সম্পর্কে সচেতন থাকা, আল্লাহ্ যে অবস্থায়ই রাখেন না কেন তাতে সন্তুষ্ট থাকা।

দুঃখ যেমন শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক স্তরে হয় তেমনি এ তিনটি স্তরেই ধৈর্য ধরতে হয়। শারীরিক স্তরে ধৈর্য হচ্ছে -শারীরিক দুঃখ-কষ্ট, ক্ষুধা, রাত্রি জাগরণ ইত্যাদি সহ্য করা। মানসিক স্তরে ধৈর্য হচ্ছে – মানসিক দুঃখ কষ্টে বিচলিত না হওয়া, প্রিয়জনের মৃত্যু কিংবা রোগ-ব্যাধিতে ব্যাকুল না হওয়া। আত্মিক স্তরে ধৈর্য হচ্ছে – প্রবৃত্তির তাড়না সংযত রাখা এবং ধনবান হয়েও তা প্রকাশ না করা।

ধৈর্য একটা স্থায়ী গুণ হিসেবে যার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় তিনি কোন অবস্থাতেই উচ্ছ্বসিত বা বিচলিত হয়ে উঠেন না। যে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তার সাথেও তিনি সম্পর্ক রক্ষা করে চলেন,যে তাকে বঞ্চিত করে তাকেও তিনি দান করেন;যে তার প্রতি জুলুম করে তার প্রতিও তাঁর প্রেমভাব থাকে।

আমরা স্থুল দৃষ্টিতে যেসব অপ্রীতিকর বিষয়কে বিপদ বলি সেগুলোও আসলে বিপদ নয়। পরোক্ষভাবে এগুলো আল্লাহর তরফ থেকে আসা এক ধরনের নেয়ামত। কেননা, বিপদের মধ্য দিয়েই আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয় তাদের প্রতিই আল্লাহ সন্তুষ্ট হন।

তাই বলা হয় যে কুরআনের দুটি আয়াতের মধ্যেই সূফী সাধনার মূল তত্ত্ব বিশ্লেষিত হয়েছে। ‘তুমি যা চাও তা পেলে আনন্দে আত্মহারা হইও না, আবার তুমি যা চাও না তা পেলে দুঃখে রোদন করো না।’ (৫৭ সুরা হাদিদ : ২৩)। আল্লাহ বলেন – আমি ধৈর্যশীলদের সাথে আছি (২ সুরা বাকারা : ২৪৯), আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য ধৈর্য ধারণ কর। ( ১৩ সুরা রাদ : ২২)। এতে বুঝা যায় যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ধৈর্য যে শুধু সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তা নয়, ধৈর্য নিজেই সাধনার একটা পথ। অর্থাৎ অন্য সবকিছু বাদ দিয়েও শুধু ধৈর্য ধরতে পারলেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।

ধৈর্য যখন সাধনার স্বতন্ত্র পথ তখন ‘বিপদে ধৈর্যশীল হও’ এ নির্দেশের তাৎপর্য এ নয় যে – বিপদ আসলে তবে ধৈর্যশীল হতে হবে। এ নির্দেশনার তাৎপর্য হচ্ছে -‘প্রথমে বিপদ সৃষ্টি কর, তারপর ধৈর্যশীল হও’। কিভাবে বিপদ সৃষ্টি করা যায়? যেমন, ঘরে যথেষ্ট খাবার থাকা সত্ত্বেও আমরা নিজেকে প্রশ্ন করতে পারি যে পরিমাণ খাবার আজ রান্না হচ্ছে তা কি প্রয়োজনীয়? স্বাস্থ্যকর? যথেষ্ট উপাদেয় খাবার সামনে থাকা সত্ত্বেও নিজেকে প্রশ্ন করতে পারি, যে পরিমাণ খাদ্য আমরা গ্রহণ করছি তার কতটুকু দৈহিক প্রয়োজনে আর কতটুকু সাময়িক মজার আকর্ষণে? এসব প্রশ্ন করলে বিপদ সৃষ্টি হবে এবং নিজের সৃষ্ট বিপদে ধৈর্য ধারণ নিজেকে সুস্থতার দিকে নিয়ে যাবে। এভাবে ক্ষুধা-তৃষ্ণায়, কামোত্তেজনায়, ক্রোধে, উস্কানীর মুখে নিজেকে প্রশ্ন বিপদ সৃষ্টি হয় এবং সৃষ্ট বিপদে ধৈর্যশীল হবার প্রচেষ্টা করা যায়। সূফীতত্ত্বে ক্ষুধায় ধৈর্য ধারণের নাম ‘ক্কানাআত’, যৌন উত্তেজনায় ধৈর্য ধারণের নাম ‘সচ্চরিত্রতা’, সংগ্রামে ধৈর্য ধারণের নাম ‘হেলেম’, বিপদে ধৈর্য ধারণের নাম ‘দৃঢ়তা’ এবং উস্কানীর মুখে ধৈর্য ধারণের নাম ‘ক্ষমা’। যার যেখানে ধৈর্য কম তার সেখানে ধৈর্য ধারণ করার চর্চা করতে হয়। চর্চার মধ্যে থাকলে মানুষ ধৈর্যে শীলবান হয়ে উঠে অর্থাৎ ধৈর্য গুণের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।

একবার সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর জ্বর হলো। কয়েকজন গিয়ে তাঁর মুর্শিদ হযরত আবু আলী আক্তার উদ্দীনকে তাঁর জ্বরের সংবাদটা দিলেন। শুনে হযরত আবু আলী আক্তার উদ্দীন বললেন, ‘তাকে নদীতে বুক পর্যন্ত ডুবিয়ে রাখলে -’ তাই হলো, কয়েকজনে ধরাধরি করে সাধক আনোয়ারুল হক-কে নদীতে নামিয়ে দিলেন। তিনদিন তিনরাত তিনি বুক পানিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর সারা পায়ে মাছ ঠুকরিয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করেছে তবু তাঁর ধৈর্যচ্যুতি ঘটেনি। সত্যদ্রষ্টা সাধক আবু আলী আক্তার উদ্দীন প্রায়ই বিভিন্নভাবে তার ভাব শিষ্যদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিতেন। তাই সূফী সাধক আনোয়ারুল হক নির্দেশ দিতে পারেন – ‘বিপদে ধৈর্যশীল হও’। ‘ধৈর্যশীল হও’ – অর্থাৎ, তুমি যা চাও তা পেলেও রাজি থাকো আর না পেলেও রাজি থাকো। কারণ কার জন্য কোন্টা পাওয়া ভালো আর কোন্টা না পাওয়া ভালো তা গুরুই ভালো জানেন। গুরুর নৈকট্য প্রত্যাশী ভক্তের দায়িত্ব – ফলাফলের প্রতি নয়, গুরুর নির্দেশে কর্মের প্রতি একনিষ্ঠতা।

বিপদে ধৈর্যশালী হওয়া মানে ধৈর্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা। ধৈর্য যখন নিজ অস্তিত্বের সাথে অবিচ্ছেদ্য একটা চারিত্রিক গুণ হয় তখনই মানুষ ধৈর্যে শীল হয়। বিপদ আসলেও অন্তত তিনটি কারণে গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যায় – প্রথমত, এ জন্য যে, বিপদ হয়ত এর চেয়ে কঠিন হতে পারত। দ্বিতীয়ত, এ জন্য যে, আল্লাহ তায়ালা বিপদ সহ্য করার মতো ক্ষমতা দিয়েছেন।  তৃতীয়ত, এ জন্য যে, বিপদে পড়লে গুরুকে স্মরণ করার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।

প্রশ্ন উঠতে পারে কতক্ষণ আমরা ধৈর্য ধরবো? সবগুণেরই একটা সীমানা আছে কিন্তু ধৈর্য এমন একটা গুণ যার কোন সীমা-পরিসীমা নেই। খাবারের কথাটাই ধরা যাক্ না। খাবার না খেয়ে ক্ষুধায় ধৈর্য ধারণ করতে করতে এমন স্তরেও উপনীত হওয়া সম্ভব যে স্তরে প্রায় খাদ্য গ্রহণ না করেও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা যায়। সাধক লোকনাথ ব্রহ্মচারী এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

বিপদে অধৈর্য হয়ে কান্নাকাটি করা নারী ও বালক সুলভ চপলতা। হায়-হুতাশ করে নিজের দুর্বলতা অন্যের কাছে প্রকাশ করাও সমীচীন নয়। এভাবে অধৈর্য প্রকাশ করলে চারিত্রিক দুর্বলতাই প্রকাশিত হয়। পুরুষ হতে হলে বিপদে ধৈর্যশীল হতে হয়। পুরুষ অর্থ – বাহ্যিক আকৃতিতে পুরুষ হওয়া নয়। মনস্তাত্বিকভাবে নিজের মধ্যে পৌরষত্ব জাগ্রত করা। বাহ্যিক আকৃতিতে একজন নারীও ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিজের মধ্যে সেই পৌরষত্বকে জাগিয়ে তোলতে পারেন।

‘জীবন দুঃখময়’ -এ সত্য গ্রহণ করলে বিপদে ধৈর্যধারণ করতে সুবিধা হয়। জীবন কোন ফুলেল শয্যা নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট, রোগ-শোক এবং আর্থিক দুর্যোগের সম্ভাবনা। শান্তিতে থাকতে হলে, সকল বিপদ-আপদকে চরম ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করতে শিখতে হয়। আল্লাহ্ বলেন – ‘বিপদে-আপদে ধৈর্য ধারণ করবে। এই তো দৃঢ় সংকল্পের কাজ।’ (৩১ সুরা লুকমান : ১৭)।

বিপদে ধৈর্যের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশিত হয়। বিপদ এবং দুঃখকষ্ট যত কঠিনই হোক না কেন, অবশ্যই তার অবসান হবে। এজন্য অস্থির হলে বিপদ কাটে না, বিপদ কাটে মানুষ সুস্থির হলে। বিপদে অস্থিরতা এবং অধৈর্য বিপদ আরো বাড়িয়ে তোলে।

বিপদে ধৈর্যশীল ব্যক্তিই নিজেকে সমর্পণ করে মুসলিম হতে পারে। একজন প্রকৃত মুসলিম এভাবে জীবন যাপন করে যেন, তার জীবনে সবকিছুই ঘটছে আল্লাহর ইচ্ছায়। সে নিজে কিছুই ঘটাচ্ছে না। আসলে মানুষ কোন কিছুই ঘটায় না, সবকিছুই ঘটে বিধাতার বিধানে। জন্ম, যৌবন, মৃত্যু সবই ঘটনা। মানুষ যৌবনে উত্তীর্ণ হয়, যৌবন ইচ্ছে করে কেউ নিয়ে আসতে পারে না। যৌবন চলেও যায় এভাবেই, কারো ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে না। আমাদের জীবনে সবকিছুই ঘটছে অদৃশ্যের অমোঘ বিধানে। সুতরাং অধৈর্য না হয়ে ধৈর্যশীল হওয়াই উত্তম। জীবনে যা ঘটবার তা ঘটুক। জীবনের ভিতরে ডুব না দিয়ে, একজন দর্শকের ভূমিকা নিয়ে জীবনকে যাপন করাতেই শান্তি।

বিশ্বাসীকে ধৈর্যের মাধ্যমে তার বিশ্বাসের পরীক্ষা দিতে হয়। দেহের সাথে মাথার যেরূপ সম্পর্ক বিশ্বাসের সাথে ধৈর্যের সম্পর্কও তদ্রুপ। তাই কুরআনে অন্তত ১২ টি সূরায় ১৫ বারেরও অধিক স্থানে ধৈর্য ধারণ করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ্ তায়ালা বারবার ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা কোন সহজ সাধ্য ব্যাপার নয়। আল্ল­াহর সন্তুষ্টি পেতে হলে সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে হয়। সত্য ও ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে হলে সাধককে সার্বক্ষণিক যুদ্ধে লিপ্ত থাকতে হয়। এ যুদ্ধ একদিক থেকে সমাজ ও পরিবেশের সাথে, অন্যদিক থেকে প্রবৃত্তির সাথে। এ দুর্গম পথে তাই ধৈর্য না থাকলে পথহারা হয়ে যাবার সম্ভাবনাই বেশি। তাই আল্লাহ্ তায়ালা সুরা আল-ই-ইমরানের শেষ আয়াতে বলছেন – ‘তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, ধৈর্যে প্রতিযোগিতা কর’।

আল্লাহ তায়ালা শুধু ধৈর্য ধারণের জন্যই আহ্বান জানাননি – ধৈর্যের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘প্রতিযোগিতা’-র আহ্বান প্রমাণ করে ধৈর্যের কোন সীমানা নাই, কোন মাত্রা নাই। ধৈর্য সীমাহীন একটি চারিত্রিক গুণ।

আল্লাহ বলছেন, ‘সুতরাং তুমি ধৈর্য ধরো, সুন্দর করে ধৈর্য ধরো’। (৭০ সুরা মা’আরিজ : ৫)। যে যত বেশি ধৈর্য ধারণ করতে পারবে সে তত বেশি সফলকাম হতে পারবে। তাই ধৈর্য ধারণের প্রতিযোগিতার সাথে সাথেই থাকছে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ। কারণ, ধৈর্য ব্যতীত কেউ কোন যুদ্ধে জয়ী হতে পারে না। বিশ্বাসীদের বৈশিষ্ট্য এই যে, যুদ্ধে সে থাকবে – ‘সীসা ঢালা প্রাচীরের মতো’ ধৈর্যশীল।

ন্যায় ও সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে, লোকে মোহাম্মদ (সা.) -কে কখনো পাগল, কখনো কবি বলে উপহাস করেছে, বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করেছে, অনেক রকমের লোভ-লালসা দেখিয়েছে। এ সবকিছুতে ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পেরেছিলেন বলেই তিনি সক্ষম হয়েছিলেন ইসলামের বিজয় ঝান্ডা উড়াতে। আল্লাহ্ বলেন, ‘হে মোহাম্মদ, ধৈর্যের সাথে কাজ করতে থাকো। তোমাকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা আল্লাহ্ তায়ালা দিয়েছেন। ওদের কার্যকলাপে তুমি দুঃখিত-চিন্তিত হয়ো না এবং তাদের ষড়যন্ত্রের জন্য মন ভারাক্রান্ত করো না’। (১৬ সুরা নাহল : ১২৭)। ‘হে মোহাম্মদ, তোমার পূর্বেও অসংখ্য নবী রসুলকে অমান্য করা হয়েছে। কিন্তু এ নির্যাতনের মোকাবেলায় তারা ধৈর্য ধারণ করেছেন।’ (৬ সুরা আনআম : ৩৪)। এর উত্তরে মোহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘আমি একজন নবীকে দেখেছি, তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা তাঁকে প্রহার ও  রক্তপাত করেছিল। তিনি তাঁর মুখম-ল থেকে রক্তের ধারা মুছে ফেলে বলেছিলেন, ‘হে মাবুদ! আমার কওমকে ক্ষমা কর, কারণ – তারা অন্ধ।’ তাই আল্লাহ সমগ্র মানবজাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন –  ‘তোমরা ধৈর্য ধরো, যেমন ধৈর্য ধরেছিল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রসুলগণ।’ (৪৬ সুরা আহ্কাফ : ৩৫)।

 ধৈর্যের পরপরই বলা হয়েছে ক্ষমার কথা। ‘অন্যের দোষ ক্ষমা করো তাহলে তুমিও আল্লাহর দরবারে ক্ষমা পাওয়ার প্রার্থী হতে পারবে’। এভাবে বলার কারণ, যে ধৈর্যশীল কেবল সে-ই ক্ষমা করতে পারে। আমরা যা দেই তা-ই পাই। আমরা যে রূপ বিচারে বিচার করি, সেরূপ বিচারে আমরাও বিচারিত হবো, এবং যে পরিমাপকে আমরা পরিমাণ করি, সেই পরিমাপকেই আমাদের পরিমাণ করা হবে। আমি অন্যের দোষ ক্ষমা করলে, আমার দোষও ক্ষমা করা হবে। আল্লাহ্ প্রতিশ্রুতিই দিয়েছেন যে, আমরা যদি লোকের অপরাধ ক্ষমা করি, তবে আমাদের অপরাধও ক্ষমা করা হবে।

তবে মনে রাখতে হবে যে প্রথমত, একজন মানুষ তখনই ক্ষমা করার যোগ্যতা অর্জন করে যখন বিচার করার ক্ষমতা তার থাকে। কেউ আমার সাথে অন্যায় করল কিন্তু তার বিচার করার ক্ষমতা বা সাহস যদি আমার না থাকে তাহলে – ‘তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম’ বলা যায় না। এ ধরনের ক্ষমা করে দেয়া আসলে ক্ষমা নয় – দুর্বলতা। যখন অপরাধীকে শাস্তি দেবার পূর্ণ ক্ষমতা আমার আছে তখনই তাকে ক্ষমা করার অধিকার আমি অর্জন করি। আর তখন ক্ষমাই হচ্ছে অপরাধীর জন্য সর্বাপেক্ষা বড় শাস্তি। দ্বিতীয়ত, অপরাধী যদি না-ই বুঝে যে, সে অপরাধী তবে সে এটাও বুঝবে না যে তাকে ক্ষমা করা হয়েছে। তাই ক্ষমা করার আগে অপরাধীকেও বুঝতে হবে যে, সে অপরাধ করেছে নইলে তাকে ক্ষমা করার প্রশ্ন উঠে না।

প্রশ্ন উঠতে পারে যে, ‘আমার ভ্রাতা আমার নিকটে কত বার অপরাধ করিলে আমি তাহাকে ক্ষমা করিব? কি সাত বার পর্যন্ত? যীশু তাঁহাকে কহিলেন, তোমাকে বলিতেছি না, সাতবার পর্যন্ত, কিন্তু সত্তর গুণ সাতবার পর্যন্ত’। (মথি ১৮ : ২১)। সত্তর গুণ সাতবার পর্যন্ত অন্যের দোষ ক্ষমা কর কিন্তু নিজের দোষকে একবারও ক্ষমা করিও না। – এটাই সূফী সাধক আনোয়ারুল হক -এঁর শিক্ষা।