প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ প্রদান ও নবীন বরণ অনুষ্ঠান

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট –

হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ ‘কাটিং ও সেলাই’ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ প্রদান ও নবীন বরণ অনুষ্ঠান

20190706_115949

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ (হামিবা) পরিচালিত, হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ আয়োজিত ‘ফ্রি-কাটিং ও সেলাই’ প্রশিক্ষণার্থীদের নবীন বরণ ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠিত হয় ২২ আষাঢ় ১৪২৬, ০৬ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ভাগদী ওয়ার্ডের অন্তর্গত আনারপুর, দগরিয়া, নরসিংদীতে।

20190706_113434

সম্মানিত অতিথিবৃন্দের মঞ্চে আসন গ্রহণ ও জাতীয় বন্দনা সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ১০.০১ মিনিটে। অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল অতিথিদের বরণ, স্বাগত বক্তব্য, আলোচক-এর বক্তব্য, বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষে অভিব্যক্তি প্রকাশ, বিশেষ অতিথিবৃন্দের অভিব্যক্তি প্রকাশ, নবীন বরণ, সনদ প্রদান, প্রধান অতিথির অভিব্যক্তি প্রকাশ, সভাপতির অভিব্যক্তি প্রকাশ এবং হামিবা বন্দনা সঙ্গীত ও মধ্যাহ্নসেবা বিতরণ।

20190706_113230

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা সমাজসেবা কার্যালয় উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম, বিবি ফাউ-েশন-এর চেয়ারম্যান বাহাদুর বেপারী ও হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ ব্যবস্থাপনা সংসদের সহ-সভাপতি শাহ্ ইমতিয়াজ আহমেদ, আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র, হামিবা’র গবেষক শাহ্ ফাতেমা আফরোজ নাসরিন এবং সভাপতিত্বে ছিলেন হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এ্যাডভোকেট রানু আখতার।

20190706_103054

মঞ্চে আসন গ্রহণের পর অতিথিবৃন্দকে ফুল ও হাক্কানী শুভেচ্ছা স্মারক দিয়ে বরণ করেন হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ। প্রধান অতিথি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন ও বিশেষ অতিথি মো. শহিদুল ইসলামকে বরণ করেন শাকিলা ইসলাম, বিশেষ অতিথি বাহাদুর বেপারীকে বরণ করেন শাহ আবেদা বানু তরু, বিশেষ অতিথি শাহ্ ইমতিয়াজ আহমেদকে বরণ করেন মাহমুদা আক্তার, আলোচক শাহ্ ফাতেমা আফরোজ নাসরিনকে বরণ করেন শাহ তৌহিদা জেসমিন এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি এ্যাডভোকেট রানু আখতারকে বরণ করেন ফিরোজা খানম।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ফিরোজা খানম, এরপর ‘সত্যমানুষ’ বিষয়ের উপর আলোচনা করেন কুরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র হামিবা’র গবেষক শাহ্ ফাতেমা আফরোজ নাসরিন, বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন ‘ফ্রি কাটিং ও সেলাই’ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’র প্রশিক্ষণার্থী জেসমিন আক্তার, বিশেষ অতিথিবৃন্দের অভিব্যক্তি প্রকাশ পর্বে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মো. শহিদুল ইসলাম, বাহাদুর বেপারী ও শাহ্ ইমতিয়াজ আহমেদ তাদের আন্তরিক অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।

20190706_113253

এরপর ছিল ‘ফ্রি-কাটিং ও সেলাই’ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে’র নবীন প্রশিক্ষণার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ ও প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের সনদ প্রদান পর্ব। মোট ১৮ জন নবীন প্রশিক্ষণার্থী – মোসা. লাকি আক্তার শিমু, মোসা. রুমা আক্তার, রোজিনা আক্তার রোজী, জাহানারা বেগম, মোসা. ঝুমা আক্তার, তানজিলা আক্তার, মোসা. সাবিনা আক্তার, মিতু আক্তার, ঝুমা আক্তার, সাহিনুর, আফসানা, নাদিয়া, সোলেমা বেগম, সোমা আক্তার, লাকি আক্তার, পিয়ারা বেগম, মিতু আক্তার ও সানজিদা বেগমকে ফুল দিয়ে বরণ করেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মো. শহিদুল ইসলাম ও বাহাদুর বেপারী।

সনদ প্রদান পর্বে মোট ১৫ জন বিদায়ী প্রশিক্ষণার্থী – জেসমিন আক্তার, আঁখি আক্তার, সাহিদা আক্তার ঐশি, মাসুমা আক্তার, আফরোজা আক্তার, সুমী বেগম, মিতু আক্তার, হালিমা আক্তার, জোৎস্না বেগম, মোসা. মাহফুজা বেগম, মমতাজ সুলতানা মোনালিসা, সানজিদা সাদেক রুপালী, খাদিজা আক্তার বেবী, সুমাইয়া আক্তার ও জেসমিন আক্তার অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন-এর নিকট হতে ‘ফ্রি-কাটিং ও সেলাই প্রশিক্ষণ’ সনদপত্র গ্রহণ করেন। এরপর প্রধান অতিথি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন ও সভাপতি এ্যাডভোকেট রানু আখতার তাদের আন্তরিক অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ‘ফ্রি-কাটিং ও সেলাই’ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, তাদের অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী ছাড়াও ঢাকা হতে যে সকল অতিথিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন, তারা হলেন – হামিবা প্রধান পৃষ্ঠপোষক খালেদা খানম রুনু, হামিবা ব্যবস্থাপনা সংসদের সভাপতি শাহ্ সূফী ড. মোহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলাম, সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট মো. ওয়াহিদুজ্জামান, মহাসচিব শাহ্ এন. সি. রুদ্র, নির্বাহী সদস্য মাহবুব আহমেদ ও শেখ সাহিদ হোসেন, হাক্কানী বিশেষ দূত, হামিবা মোল্লা হাছানুজ্জামান টিপু, বাহাখাশ কেন্দ্রিয় ব্যবস্থাপনা সংসদের সভাপতি শাহ্ শাহনাজ সুলতানা এবং বাহাখাশ ও মিরপুর আস্তানা শরীফ ব্যবস্থাপনা সংসদের সদস্যবৃন্দসহ হামিবা পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পের সদস্যবৃন্দ।

জাতীয় বন্দনা সঙ্গীত ও হামিবা সঙ্গীত পরিবেশনায় ছিলেন সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমীর শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় হামিবা ব্যবস্থাপনা সংসদের সাংগঠনিক সচিব ফরিদা মনি। মধ্যাহ্ন সেবা বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান মূলতবী হয়।

প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দের অভিব্যক্তি, আলোচক-এর বক্তব্য, স্বাগত বক্তব্য, প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষার্থী ও সভাপতির অভিব্যক্তির উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরা হলো :

সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন

20190706_113817

তিনি বলেন, আজকের এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, সম্মানিত সভাপতি, আলোচকসহ নবীন ও সনদ গ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীসহ উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনাদের এই যাত্রা সাফল্যমন্ডিত হোক বাংলাদেশে এবং সর্বোপরি সমগ্র বিশ্বে এই প্রত্যাশা করি। হাক্কানী মহিলা

উন্নয়ন বিভাগের সভাপতি মহোদয়সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ আমাকে এই আয়োজনে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন, সেজন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। যারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং করতে যাচ্ছেন তাদের প্রতি প্রত্যাশা রাখবো, আপনাদের এই জয়যাত্রা যাতে প্রায়োগিক ক্ষেত্রে সুন্দর অবদান রাখতে পারে।

আমাদের এই ধরনী আপনা-আপনি সুন্দর হয়ে উঠবেনা, সেজন্য প্রয়োজন সত্য প্রতিষ্ঠা করা, সত্যমানুষ তৈরি করা, যেটি হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ করে যাচ্ছে বলে আমার বিশ্বাস। আমি জেনেছি, শুরু থেকেই হাক্কানী মিশনের

মূলমন্ত্র হলো সত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকল কর্ম সম্পাদন করা। আমরা যারা এই সমাজে বসবাস করি এবং সুন্দর পৃথিবীতে পদার্পণ ঘটেছে, আমাদের কারও এই ‘সত্য’ কথাটির বাইরে যাওয়ার কোন উপায় নাই যদি আমরা জীবনে প্রকৃত সফলতা অর্জন করতে চাই। সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠায় শান্তির পথে আমরা যারা লড়ে যাচ্ছি তারাও হাক্কানী মিশনের এই যাত্রায় যুক্ত হবো এবং আশা করছি আপনাদের ভক্তকুল ও অনুসারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে, কারণ উদ্দেশ্য অত্যন্ত মহৎ। আসলে সমাজের সর্বত্র সত্য, সুন্দর কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠা একদিনে হয়না। যেমন-একজন মানুষ প্রথমেই নারী কিংবা পুরুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করে না। প্রথমত শিশু অবস্থা থেকে সে ধীরে-ধীরে পরিবেশ, প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করে বেড়ে উঠে, এরপর একে একে তরুণ, যুবক, পৌঢ় এবং বৃদ্ধাতে রূপান্তরিত হয়। সব কিছুর ঊর্ধ্বে তার মূল পরিচয় একজন প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠা। আমরা সবাই সমাজে কাজ করে যাচ্ছি, কিন্তু হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ তার ১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে এক লক্ষ্য তথা ‘ওয়ান আমব্রেলা সেন্স’ এই ফর্মে সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলে আমি চিন্তা করেছি, যেটি সচরাচর কোথাও দেখা যায় না। এই চর্চা একদিনে হয়না। আমি চাইলেই হুট করে হাক্কানী মিশনে ঢুকে পড়লাম তা হবেনা, এজন্য এই প্রতিষ্ঠানের যারা প্রশিক্ষক রয়েছেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, যে কোন প্রশিক্ষণ আসলে মানুষের পরিবার থেকে শুরু হয়ে তারপর সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়, সেজন্য আমার আহ্বান থাকবে, যারা নতুন সদস্য হবে তাদের একটা পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তথা হিস্ট্রি সংরক্ষণ করে রাখবেন, ফলে পরবর্তী সময়ে কার জন্য কোন্ থেরাপি প্রয়োগ করা হবে সুন্দরভাবে শ্রেণীবিভাগ করে দেশ ও সমাজের প্রয়োজনে কাজে লাগানো যাবে। অবশ্য সেভাবেই আপনারা প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন এবং মানুষের চিন্তাশক্তিকে শাণিত করছেন বলে আমার বিশ্বাস।

আমরা যারা সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, আমাদের মূল দায়িত্ব হলো প্রথমত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং যে দর্শন আমি বিশ্বাস করি, যে চেতনায় আমি লালিত সেটি মানুষের মাঝে প্রচার-প্রসার ঘটানো। আমি জানি, আরবী হক তথা সত্য থেকে যে হাক্কানী শব্দটি এসেছে, প্রত্যেক ধর্মের মূলমন্ত্রই আসলে এই ‘হক’ তথা সত্য প্রতিষ্ঠা। ছোটবেলা থেকেই আমরা জেনে, শিখে আসছি – ‘সদা সত্য কথা বলিব’ এবং প্রায়োগিক ক্ষেত্রে সেটিই আমাদের জীবনের মূলমন্ত্র হয়ে উঠছে। এই ধরণের আদর্শকেন্দ্রিক এবং সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে জেলা প্রশাসক এবং ব্যক্তি ফারহানা হিসেবে যুক্ত হওয়ার যদি কোন সুযোগ আমার থাকে তবে অবশ্যই আমাকে স্মরণ করবেন, আমি কৃতজ্ঞ হবো। কারণ ভাল কাজে যুক্ত হওয়া মানে শান্তির লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া। সত্য এবং সুন্দর পৃথিবী প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমাদের উপলব্ধি করতে হবে-ভাল কাজের অনুপ্রেরণা যেখান থেকে আমরা পাই তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করা।

আমি বিশ্বাস করি, চেতনাহীন একজন মানুষ একটি শেকড়বিহীন মৃত গাছের মতো। ‘চেতনা বীজ’ যে বপন করতে পারেনা, সে জীবনে প্রতিষ্ঠিত ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় শামিল হতে পারেনা। বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের জানতে হবে বাঙালি চেতনা কি, নিজে একজন সত্যমানুষ হয়ে উঠার মধ্য দিয়েই কেবল সেটি নিজের ভিতর প্রোথিত হতে পারে। আসলে প্রকৃত বাঙালি হিসেবে আমাদের শিখরে আরোহন করতে হলে শেকড়ের সন্ধান করতে হবে। আমাদের শেকড় হলো মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু এক ও অভিন্ন। এই প্রেক্ষাপটে আমার একটি অনুভূতির কথা আজ বলতে চাই – যেদিন থেকে জেলা প্রশাসক হিসেবে আমি এই জেলায় যোগদান করেছি, সেদিন প্রত্যয় গ্রহণ করেছিলাম, এই জেলার প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার স্থাপন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া। কারণ আমরা বাঙালি চেতনা, বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত হয়েছি। যে ইতিহাস বাঙালি চেতনারই একটি অংশ। আজ সময় এসেছে তার মর্যাদা রক্ষা করা। আগামী বাংলাদেশ গড়ার পথে যে সকল শিক্ষার্থী কাজ করবে তাদের হৃদয়ে তথা চিন্তায় বাঙালি জাতির সঠিক ইতিহাস বপন করা। বাঙালি চেতনা সমৃদ্ধ মানুষ হয়ে বেড়ে উঠুক এটি আমার প্রত্যাশা। আমাদের সংবিধানেও সম অধিকার ও সাম্যের কথা বলা হয়েছে। সত্তর দশকের বাংলার সেই প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর মতো এমন দূরদর্শী নেতার নির্দেশে নারী-পুরুষ সমঅধিকার ও সাম্যের বিষয়টি যেভাবে সংবিধানে স্থান পেয়েছিল, সেটি বিস্ময়কর। আসলে এই সাম্য ও সমতার মাধ্যমেই সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আমি জেনেছি, হাক্কানী মিশনও সমাজে সাম্য ও সত্য প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা যিনি মানবতার মা, তিনিও সমাজের জন্য সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। যেমন-সরকারী অনেক ক্যাডার, পুলিশসহ বিভিন্ন বিভাগে দীর্ঘদিন নারীদের নিয়োগ বন্ধ ছিল, বর্তমানে তা কার্যকর করা হয়েছে। তাঁরই সুযোগ্য নেতৃত্বে সমাজের সর্বত্র নারীরা আজ অগ্রগামী। সমগ্র বিশ্বের কাছে এখন দেশরত্ন শেখ হাসিনা একজন শক্তিশালী, বলিষ্ঠ নেতা, উন্নয়নের একজন রূপকার, রোলমডেল। কেননা তিনি সব সময় মানবতার কথা বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলেন। সেজন্য বাঙালি হিসেবে আমরা গর্বিত।

আজ আমরা যে, যে অবস্থানেই আছি সেখান থেকেই সত্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যেতে হবে। সেজন্য সত্যমানুষ হয়ে উঠার বিকল্প নেই। সত্যমানুষই প্রকৃত মানুষ। আমাদের দুটি চোখ আছে আমরা সবাই জানি, কিন্তু আমাদের তৃতীয় চোখ (থার্ড আই) অবশ্যই খোলা রাখাতে হবে, তখনই কেবল আমরা সত্য উপলব্ধি করতে পারবো। হাক্কানী মিশনের অনেকগুলো লেখা ও দর্শন দেখে আমি বুঝতে পেরেছি, সত্য ধারণ-লালনের মধ্য দিয়ে মানুষের আধ্যাত্মিক শক্তি বাড়ে। আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন মানুষের দৃঢ়তা, আত্মপ্রত্যয় ও আত্মবিশ্বাস তাকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে, সর্বোপরি সত্যমানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। হাক্কানী তত্ত্বের আরেকটি বিষয় আমি লক্ষ্য করলাম, এখানে মূলমন্ত্র হলো ‘নিজেকে চেনা’, সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর বাণীতে এসেছে – ‘নিজের বিচার নিজে কর রাত্র-দিনে’। আমরা প্রত্যেকেই দিন শেষে নিজের কাজের হিসাব করতে পারি। প্রতিদিনের খারাপ কাজগুলো চিহ্নিত করে উপলব্ধি করতে হবে, আগামীকাল আর খারাপ কাজগুলো করবো না। এভাবেও প্রতিদিন নিজের বিচার নিজে করা যায়। আরেকটি মূলমন্ত্র আমি গ্রহণ করি, আমি সব সময় মানুষের ভাল দিকটি বেছে নেই। আমি যখন আমার পাশের জনের কিংবা আমার সহকর্মী যখন আমার ভাল দিকটির প্রশংসা করবেন, তখন একদিন আমার খারাপ দিকটিও প্রশংসায় পরিণত হবে। আগামী সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমার একটি প্রত্যয় আছে, সেটি হলো-‘আমি গতকাল যেমন ছিলাম, আজ তার চাইতে ভাল থাকবো এবং আগামীদিনটি হয়ে উঠবে তার

চাইতেও সুন্দর, অর্থবহ এবং বর্ণিল।’ একা ভাল থাকার মধ্যে কোন আনন্দ নাই, আমরা সকলে মিলে ভাল থাকবো, আর এই স্বপ্নই দেখছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তাঁর রূপকল্প ২০৪১-এর মূলমন্ত্রই হলো ‘উন্নত বাংলাদেশ।’ এই রূপকল্পের দুটি ভাগ রয়েছে, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ সুবিধা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ। আমার কাছে দেশপ্রেমের সংজ্ঞা হলো আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাসময়ে, যথাযথভাবে সততার সাথে সম্পাদন করে যাওয়া। সেদিক থেকে মনে হয়েছে, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ একটি আত্মশুদ্ধির জায়গা। এই আত্মশুদ্ধির জায়গায় আমরা যারা আজ সমবেত হয়েছি, সবার জয় হোক, জয় হোক হাক্কানী মিশন-এর এবং বাংলাদেশ চিরজীবি হোক।

শহিদুল ইসলাম

20190706_105433

তিনি বলেন, হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর একটি আয়োজনে আমাকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়ার জন্য। আপনারা জানেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে একটি নীতিমালা তৈরি করেছেন, সেটি হচ্ছে ‘ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট পলিসি।’ সেখানে বলা হয়েছে, সকল ধর্মের মানুষকে বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বেকার যুবক, জনগণ যে যে অবস্থানে আছে, তাদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসম্পদে রূপান্তরিত করা, সেজন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট করে যোগ্যাতানুসারে যথাযথ স্থানে তাদের কাজে লাগাতে হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, তথা শারীরিক প্রতিবন্ধী, যারা সামাজিক ও আর্থিকভাবে এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থেকে কিছুটা হলেও বঞ্চিত, এসব জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনাই এই নীতিমালার প্রধান লক্ষ্য।  নীতিমালায় আরেকটি অত্যন্ত সুন্দর বিষয় যুক্ত করা হয়েছে, সেটি হচ্ছে ‘আরপিএল।’ অর্থাৎ পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি। কারও হয়তো বড় কোন ডিগ্রি নেই, কিন্তু সে যে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে একজন বড় ডিগ্রিধারীর চাইতেও দক্ষভাবে কাজ করছে, তাদের কাজের যথাযথ স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে এই নীতিমালায়। বাংলাদেশে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আছে যারা এধরণের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলার পর সনদপত্র প্রদান করে থাকে, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী সেই সনদপত্রটি দেশে-বিদেশে সব জায়গায় কাজে লাগে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার যুগোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, সেটি জাতির উন্নয়নে মাইলফলক হয়ে উঠেছে। আজ দেখতে পাচ্ছি, একই ধরণের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রশংসিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমি একটি অনুরোধ রাখবো, সেলাই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আপনারা সরকারের স্কিল ডেভেলপমেন্টের আওতাধীন, বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড অনুমোদিত, জেলা পর্যায়ে কাজ করার জন্য যেসব ট্রেড প্রচলিত রয়েছে, সেখান থেকে চাহিদার ভিত্তিতে বেছে নিয়ে অন্যান্য ট্রেডেও প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে পারেন। বর্তমান নরসিংদী জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক মহোদয় জেলার জনগণকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার জন্য বিশেষ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। এর আওতায় যে সকল প্রতিষ্ঠান এ ধরণের প্রশিক্ষণ দিতে এগিয়ে আসবে তারা আবেদন

করলে জেলা প্রশাসন হতে তাদেরকে যথাযথ সহযোগিতা প্রদান করা হবে এবং যারা যে প্রতিষ্ঠান বা কারখানা হতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে চায়, তারা অনলাইনে বা সরাসরি আবেদন করে তাদের উপযুক্ত কর্মস্থান বেছে নিতে পারবে। হাক্কানী মিশনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, এত সুন্দর একটি আয়োজন করার জন্য এবং আমার খুবই ভাল লেগেছে যে, সনদ বিতরণ শুধু না, আবার যারা নতুন করে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে একই সঙ্গে তাদের বরণ করে নেয়া  এ ধরণের উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়, এটা খুব সুন্দর মানের পরিচয়। ট্রেনিং নিতে আসবে তাদের নিজেদের প্রয়োজনে, কিন্তু আমরা তাদের সুন্দরভাবে বরণ করে নিচ্ছি এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যয় নিয়ে হাক্কানী মিশন কাজ করে চলেছে, তাদের যে উদ্দেশ্য, সত্য যদি সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, সমাজ হতে এমনিতেই মিথ্যা, প্রতারণা এসব দূরীভূত হয়ে যাবে, ফলে সমাজে শান্তি বিরাজমান থাকবে। আগামী দিনগুলোতে হাক্কানী মিশন-এর এই উদ্যোগ এবং কর্মপন্থা আরও সম্প্রসারিত হোক এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

বাহাদুর বেপারী

20190706_110454

তিনি বলেন, সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ। তাঁর একটি চিরন্তন বাণী – ‘নিজের বিচার নিজে কর রাত্র-দিনে’, এই বাণী উল্লেখ করে এই অনুষ্ঠানের কার্ড বিতরণ করা হয়েছে, যারা হাতে পেয়েছেন, নিশ্চই সেটি লক্ষ্য করেছেন। নিজেকে চিনতে পারলেই আমরা সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করতে পারি এবং সত্য পথের সন্ধান পেতে পারি। আজ যে কাটিং ও সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম  চলছে হাক্কানী মিশন-এর তত্ত্বাবধানে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কাটিং ও সেলাই কার্যক্রম ছিল এই নরসিংদীরই পাশের এক স্থানে। সেটি বিশ্বখ্যাত আমাদের মসলিনের ইতিহাস। সাড়ে তিন হাজার বছর আগের সোনার বাংলার এই সমৃদ্ধ ইতিহাস আমরা জানি – তিন বছর আগে অর্ডার দিলে এই বাংলা থেকে বিখ্যাত মসলিন কাপড় ইউরোপে যেতো। বিশ্বের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, রাজা-বাদশাহগণ বাংলার সেই বিখ্যাত মসলিন কাপড় পরিধান করতেন। শুধু তাই নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখাতেই তৎকালে বাঙালিরা বিশ্বের অপরাপর জাতিগুলো থেকে অনেক এগিয়ে ছিল। সেই গৌরব আবার আমাদেরকেই উদ্ধার করতে হবে। হাক্কানী মিশন বাংলাদেশসহ বাংলাদেশ বিশ্বাস করে নারী শক্তি, নারী মুক্তি, নারীই স্বস্তি। সেই আবহই এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। আজ দেশের সর্বত্র এগিয়ে আছে নারীশক্তি। হিমালয়ের চূঁড়ায় যাচ্ছে বাঙালি নারী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাঙালি নারী, জেলা প্রশাসক বাঙালি নারী, স্পিকার, সচিব, বিচারপতি সর্বত্র আজ বাঙালি নারীর পদচারনা আর কর্মযজ্ঞে মুখরিত। হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ নারীদের গুরুত্ব দিয়ে এই ধরণের প্রশিক্ষণের যে আয়োজন করেছে সেটি নারী জাগরণ ও নারীদের মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই। বাংলাদেশে এখন মাথাপিছু আয় আটত্রিশশত ডলার। সেজন্যই পৃথিবীর বড় বড় অর্থনীতিবিদরা আজ বলতে পারছেন না, বাংলা কোথায় এগিয়ে যাচ্ছে। দেশরতœ শেখ হাসিনা অর্থ, সম্পদ, আর জনগণকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করার প্রশংসনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলেই বিশে^ আজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ শ্রেষ্ঠ।

হাক্কানীদের কাছে নারী আর পুরুষ নাই, সবাই মানুষ। হাক্কানীতে আসতে হলে ভক্ত হিসেবে আসতে হবে। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর বাণী আছে, ‘দরবারে এসো আশেকান হিসেবে, নারী-পুরুষ হিসেবে নয়।’ হাক্কানী এটি বিশ্বাস করে, তুমি-আমি কেবলই মানুষ। নারী-পুরুষের বিভেদকে ভেঙ্গে দিয়েই বাংলার দরবারে, বাংলার আকাশে-বাতাসে হাক্কানীরা সত্যকে উপস্থাপন করে।

কিছুদিন পূর্বে মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আনারপুরের এই স্থানে এসে একটি ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে গেছেন এমনি একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। সেটি হলো ‘ইনস্টিটিউট অব থিওলজি’, এই চর্চার মধ্য দিয়ে আমরা জানতে পারবো, যে সমৃদ্ধ যাপিত জীবনের দিকে বাংলার মানুষ এগিয়ে চলছে, সেটি সঠিকভাবে থাকবে কি থাকবে না। তখন আপনার-আমার, রাষ্ট্রের এবং সমাজব্যবস্থার যে অবস্থান সেই দীক্ষাই দেয়া হবে এই থিওলজির মাধ্যমে। যেমন ভারতীয় শিক্ষামন্ত্রী এখানে এসে যখন বললেন, ‘কিসের ঈশ্বরকণা, বোসকণার মাধ্যমেইতো বাঙালিরা প্রথম পৃথিবীকে আবিষ্কার করেছে।’ তৎকালীন বৃটিশ পার্লামেন্টে এক বক্তৃতায় বলা হয়েছিল, ১৭৫৭ সালে আমরা এই বাংলা জয় করলাম কিন্তু এখনও এই বাঙালি জাতিকে জয় করতে পারি নাই। হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ মনে করে, বাঙালি জাতিকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বাংলার শিক্ষা বাজেট দ্বিগুণ করার মধ্য দিয়ে আমাদের নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থা সমুন্নত করে, বৃটিশ যুগে প্রচলিত বাংলিশ জাতি থেকে বাঙালি জাতিকে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা সম্ভব। হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ এই জনপদে বাঙালির পাঁচ হাজার বছরের যে সমৃদ্ধ গৌরব, যে সত্য, সেই সত্যকে উপস্থাপন করতে চায়। হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, যাপিত জীবনে বাঙালি জাতির ধর্ম হলো মানবিকতা এবং তার এবাদত হলো কর্ম। আমরা জাতি হিসেবে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতি। আমরা মানবিক জাতি। হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ সেই বাস্তবতাকেই নিয়ে আসতে চায় এই জাতির সামনে। এজন্যই নরসিংদীর এই আনারপুরে গড়ে উঠেছে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম। কর্ম এবং মানবতার মধ্য দিয়ে আমরা বাংলা, বাঙালি এবং পৃথিবীর সকল মানুষের সামনে সত্য উপস্থাপন করতে চাই এবং শান্তির বারতা পৌঁছে দিতে চাই। সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হলেই একমাত্র শান্তি আসতে পারে। আসুন আপনার-আমার সকলের মধ্যে যে সত্য আছে, আমরা সেই সত্যে প্রতিষ্ঠিত হই। জয় হোক সবার, জয় হোক হাক্কানী মিশনের, জয় হোক বাঙালির।

শাহ্ ইমতিয়াজ আহমেদ

20190706_111625

তিনি বলেন, আমাদের নরসিংদী জেলার প্রশাসনিক অভিভাবক হিসেবে আমরা পেয়েছি আজকের অনুষ্ঠানের সম্মানিত প্রধান অতিথি, জেলা প্রশাসক মহোদয়কে, যিনি অত্যন্ত রুচিশীল এবং সৃজনশীল একজন মানুষ-সেটি এই জেলার বর্তমান সুন্দর পরিবেশ দেখলেই বোঝা যায়। যেখানে সুন্দর, পরিশীলতা, সৃজনশীলতা আছে, সেখানেই হাক্কানী মিশন বাংলাদেশের সমর্থন এবং সক্রিয় সহযোগিতা আছে। হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে তার বিভিন্ন প্রকল্পগুলো পরিচালনা করে আসছে। আজ যে জমিটার উপর আমরা অনুষ্ঠান করছি সেটিও স্বেচ্ছাশ্রমের একটি ফসল। হাক্কানী দর্শনের দুইজন অনুসারী শাহ্ মোস্তাফিজুর রহমান এবং শাহ্ জোহরা খানম তাদের এই বিশাল সম্পত্তি হাক্কানী ট্রাস্ট-এর নামে প্রদান করেছেন। সেই ট্রাস্টের জমির উপরেই আমরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

হাক্কানীর দুটি ধারা, একটি আধ্যাত্মিক, আরেকটি প্রাতিষ্ঠানিক ধারা। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আস্তানা, দরবার ও খানকা শরীফ প্রতিষ্ঠা করে তার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক চর্চা ও হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ তার ১০টি প্রকল্প নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু এই নরসিংদী জেলাতেই নয়, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ সারা বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের মধ্যে সেবার কার্যক্রমকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে কাজ অব্যাহত রেখেছে। আমরা এখানে কোন বৈদেশিক সাহায্য কিংবা দেশের স্বার্থবিরোধী শর্তযুক্ত কোন ঋণ কিংবা অনুদান নিয়ে কাজ করছিনা। হাক্কানী মিশনের সদস্যগণ নিজেদের আয়ের একটি অংশ দিয়ে বিভিন্নভাবে তহবিল গঠন করে নিজস্ব অর্থায়নে এই কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে আমরা এই হাক্কানী ট্রাস্টে মানুষের জন্য সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে আরও কয়েকটি নতুন প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছি, সেখানেও মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়কে আমাদের পাশে সহযোগী হিসেবে পাওয়ার প্রত্যাশা রইল। অপরদিকে নরসিংদী জেলার যে কোন উন্নয়ন কার্যক্রমে মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় যেখানে আমাদের সহযোগিতা চাইবেন, হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ সর্বদা আপনার পাশে থাকবে।

গত ৮ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার আমরা এই আনারপুরে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে যাচ্ছি। একই ডাক্তার, তিনি নরসিংদীর শহরে বসে নির্দিষ্ট ভিজিট নিয়ে রোগীদের যে ওষুধ দিচ্ছেন সে ঔষধে হয়তো ওই রোগটি সহজে ভাল হচ্ছে না, কিন্তু তিনিই যখন এখানে ফ্রি-চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন, অনেক জটিল রোগ ভাল হয়ে যাচ্ছে। কারণ এটি সূফী সাধক-এঁর আশীর্বাদপুষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের সাথে একাত্ম হয়ে আমরা নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণ দিয়ে হাক্কানী যুব উন্নয়ন বিভাগের আওতায় যুব সমাজকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছি। সরকারের যুব বিভাগ কিংবা সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ যে কোন বিভাগ থেকে মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সহযোগিতা পেলে আমাদের কার্যক্রম আরও গতিশীলতা পাবে।

শাহ্ ফাতেমা আফরোজ নাসরিন

20190706_104153

তিনি বলেন, সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর এই আনারপুরে এই মহতি অনুষ্ঠানে ‘সত্যমানুষ’ বিষয়ে কিছু বলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক একজন সত্যমানুষ, আমরা সত্যমানুষের ছায়ায়ই অবস্থান করছি। যুগে যুগে মানবজাতির শুরু থেকে সত্যমানুষগণই মানবজাতির দুঃসময়ে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। পৃথিবীতে সকল ধর্মই সত্যমানুষদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একজন সত্যমানুষ চলে গেছেন, আরেকজন এসে যাত্রা শুরু করেছেন তাঁর সময়ে, তাঁর মতো করে। সত্যমানুষকুল মা-মাটি-মাতৃভাষা ও মাতৃভূমিকে অত্যন্ত ভালবাসেন। ধর্মগ্রন্থগুলোতেও তুলে ধরা হয়েছে মাতৃভাষার গুরুত্ব। হাক্কানী চিন্তনপীঠ থেকে সূফী সাধকগণ মাতৃভাষায় তাদের গবেষণালব্ধ ফসল আমাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন, আমরা প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ হচ্ছি।

ইসলাম ধর্মে সূফী বা সূফী সাধকগণই সত্যমানুষ। জানিনা ইতোপূর্বে কেউ সত্যমানুষ বলা শুরু করেছে কিনা। তবে হাক্কানীতে প্রথম বাংলায় অনুদিত করে ‘সূফী’কে সত্যমানুষ এবং ‘সূফীইজম’ শব্দটিকে ‘সত্যমানুষতত্ত্ব’ হিসেবে প্রচলন সূফী সাধকগণেরই অবদান। সাধারণত ‘সত্যমানুষ’ বললে হঠাৎ করে মানুষ বুঝতে পারবে না। কারণ আমরা বিভিন্ন ধর্মে সচরাচর অলী-আউলিয়া কিংবা সূফী সাধক এমন বিভিন্ন নাম শুনেই অভ্যস্ত। বাংলার সূফী সাধকগণই সর্বপ্রথম মানুষকে বোধগম্য করে বোঝানোর প্রচেষ্টায় মাতৃভাষায় জ্ঞান চর্চার উপর গুরুত্ব আরোপ করে যাচ্ছেন সর্বক্ষেত্রে।

সৃষ্টির শুরু থেকেই সর্বযুগে, সর্বকালে মানবজাতি যখন বারবার বিপদসঙ্কুল পরিবেশে পড়েছে, তখন সত্যমানুষগণই প্রকৃত মানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছেন। সর্বকালেই মানবজাতির জন্য কিছু মানুষের হৃদয় কেঁদেছে, তবে প্রকৃতপক্ষে সত্যমানুষগণই নিঃস্বার্থভাবে মানবজাতির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে আমরাও তিনজন মহান সূফী সাধক-এঁর আশীর্বাদের ছত্র-ছায়ায় এখানে সমবেত হয়েছি, সেজন্য আমরা সৌভাগ্যবান। সূফী সাধকগণ ‘মা’কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, কারণ, তাঁরা সত্যমানুষ। তাঁদের জীবন পর্যালোচনা করলেও দেখা যায়, তাঁরা তাদের ‘মা’কে অতি উচ্চ আসনে রেখেছিলেন। মা-মাতৃভাষার ঋণ শোধ করা যায় না, সেই সত্য থেকেই তাঁরা মা-এঁর আসন সমুন্নত রেখেছেন আজীবন। সূফী সাধকগণ দেখিয়ে গেছেন, পাঁচ হাজার বছর বা তারও পূর্বে যখন মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ছিল, তখন পরিবার, সমাজ, পৃথিবীতে শান্তি ছিল। সত্যমানুষগণ সেই পথই অনুসরণ করার উপদেশ দিয়ে যাচ্ছেন, যাতে করে নারী জাতি সেই সম্মানের আসনে উপবেশন করতে পারে। সেই প্রচেষ্টারই একটি প্রয়াস হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ। দেশে নারীদের অনেক সংগঠন আছে, কিন্তু একটি আদর্শকে কেন্দ্র করে সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠায় এমন প্রতিষ্ঠান খুবই বিরল।

সত্যমানুষগণের কৃপা, আশীর্বাদের ছায়ায় থেকে হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ-এর সুযোগ্য কর্মী, অনুসারীগণ অত্যন্ত সুন্দরভাবে তাদের যাত্রা শুরু করেছেন। তাদের চলার পথে আমরাও একেকজন সহযাত্রী। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর একটি বাণী আছে, ‘যার শুরু ভাল তার সব ভাল’, আবার তিনি বললেন, ‘যার মাঝ ভাল তার সব ভাল’, এরপর তিনি বললেন, যার শেষ ভাল তার সব ভাল। আমরা সাধারণত শেষ কথাটিই বলে থাকি, ‘যার শেষ ভাল তার সব ভাল।’ কিন্তু সাধক এখানে ইঙ্গিত দিলেন, শেষ ভাল করার জন্য শুরু থেকেই ভাল কাজটা শুরু করতে হয়। সত্য থেকে যার যাত্রা শুরু হয়েছে, তিনি যেখানেই অবস্থান করেন না কেন, পথপরিক্রমায় সর্বক্ষেত্রেই তার অবস্থান ভাল, তিনি সর্বদা বর্তমানেই আছেন। কেননা, এক লক্ষ্য স্থির করে যিনি কাজ শুরু করেন তিনি তার শেষ দেখে তবেই ছাড়েন, মাঝ কিংবা শেষ সবই তার সত্য। সত্যমানুষের সান্নিধ্যে থেকে যারা জীবন শুরু করেছেন, তারাই সত্যমানুষের আশীর্বাদের ছায়ায় বর্তমান, সত্যপথে তাদেরই যাত্রা শুরু হয়েছে, ফলে তাদের সফলতা অবশ্যম্ভাবী। বর্তমান বিশে^র প্রেক্ষাপটে মানুষকে তাদের নিজেদের বেঁচে থাকার স্বার্থেই নতুন করে সত্যের পথ খুঁজে নিতে হবে। শুধু আধ্যাত্মিকভাবে কাজ করলে হবে না, আধ্যাত্মিকতার সাথে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নাড়া দিয়ে গেলেই কেবল মানবজাতিকে যে কল্যাণের পথে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেটি সম্ভব। এই লক্ষ্যেই সূফী সাধক আনোয়ারুল হক হাক্কানী মিশন-এর যাত্রা শুরু করেছেন। এক ঝাঁক স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে এই মিশনকে তাঁরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সত্যমানুষকুলের মিশনে। মানবজাতির শুরু থেকেই সর্বকালে, সর্বধর্মে সত্যমানুষগণ ছিলেন-আছেন বিভিন্ন নামে, বিভিন্ন রূপে এবং মানবজাতি যতদিন থাকবে ততদিন ‘সত্যমানুষকুল’ থাকবেন।

ফিরোজা খানম

20190706_

তিনি বলেন, কোন কল্যাণময় কর্ম শুরু কিংবা উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রয়োজন হয় সৎ, নিষ্ঠাবান, দূরদর্শী, ত্যাগী, প্রখর চিন্তাশক্তিসম্পন্ন মানুষের। যাঁরা নিজেদের মেধা, চিন্তাশক্তিকে উজার করে প্রতিষ্ঠানিক উন্নয়নকল্পে এবং সর্বসাধারণের কল্যাণার্থে নিঃস্বার্থভাবে কর্ম করে যান।

মানবতা ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুগে যুগে এই উপমহাদেশে যে সকল মহাপুঁরুষ বিরামহীন সাধনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে সূফী সাধক হযরত আবু আলী আক্তার উদ্দিন অন্যতম। তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরী সূফী সাধক আনোয়ারুল হক সমগ্র বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেছেন এবং এখনও পর্দার অন্তরাল থেকে নিরবে-নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন। ‘হাক্কানী’ তথা ‘সত্যব্রত’ আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর হতে একটি অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী, সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে ১৯৯০ সনে এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরো হতে ১৯৯৮ সনে নিবন্ধীকৃত হয়। কর্ম-মানবতা-শান্তির প্রতীক নিয়ে হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যথা – হাক্কানী মিশন বিদ্যাপীঠ ও মহাবিদ্যালয়, সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ, হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ, হাক্কানী যুব উন্নয়ন বিভাগ, হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমী, হামিবা স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগ, সূফী সাধক আনোয়ারুল হক স্মারক কল্যাণ তহবিল, কুরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র, হামিবা কম্পিউটার একাডেমী, হামিবা আইন সহায়তা ও পরামর্শকেন্দ্র।

সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ নিজেদের মেধা, সক্ষমতা ও সম্পদ নিয়ে পূর্ণ উদ্যমে এগিয়ে চলছে। এই বিভাগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সমাজের অবহেলিত মহিলাদের আত্মিক, মানসিক ও আর্থিক উন্নয়নের মাধ্যমে প্রকৃত মানুষ ও আত্মমর্যাদাশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং সমাজ উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদেরকে পুরুষদের পাশাপাশি সমঅধিকার প্রদান করে এগিয়ে নেয়া। মা তথা নারী জাতির গুরুত্ব কতটুকু সে সম্পর্কে যুগে যুগে বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, অলী-আউলিয়া, নবী-রাসূল ও সূফী সাধকগণ বলে গেছেন। শুধু বাংলাদেশই নয় সমগ্র বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী তথা মা জাতি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে কিংবা পিছিয়ে রেখে কখনই একটি সমাজ, দেশ ও বিশ্ব এগিয়ে যেতে পারে না। সর্বক্ষেত্রেই আজ গণজোয়ার এসেছে, নারীরা আর পিছিয়ে নেই, স্ব-শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও দশের প্রয়োজনে সর্বঅঙ্গনে কাজ করে যাচ্ছে তারা। নারীর ক্ষমতায়ণ, অগ্রগতি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশে-বিদেশে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যার সুফল আমরা পেতে শুরু করেছি।  সাধকগণ তীব্রভাবে উপলব্ধি করেন যে, আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি আত্মিক উন্নতি না ঘটালে কখনই পরিপূর্ণভাবে মানবজাতির কল্যাণ সাধিত হতে পারে না। জাগতিক উন্নতির পাশাপাশি মানুষ হিসেবে প্রত্যেক নারী-পুরুষকে তাদের আত্মিক মূল্যবোধগুলোর চর্চা করা একান্ত প্রয়োজন। প্রয়োজন বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতিকে ধারণ-লালনের মাধ্যমে জানা, বোঝা ও চেনা। এই লক্ষ্যে হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছে ও করে চলেছে। যেমন, হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ প্রখ্যাত সাধক লালন সাঁইজী-এঁর ভাস্কর্য ভাঙ্গার প্রতিবাদে ২০০৮ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি সেমিনারের আয়োজন করে, যা সর্ব মহলে প্রশংশিত হয়। নরসিংদীর দগরিয়ার এই স্থানে মা ও শিশু এবং পুরুষদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ফ্রি-ফ্রাইডে ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্নক্ষেত্রে সচেতনামূলক ও উৎসাহ প্রদান কর্মশালা সম্পন্ন করেছে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে নারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আত্মমর্যাদাহানীকর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়াও গত বছর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডের  ধারাবাহিকতায়ই বর্তমানে আনারপুরে পূর্ণোদ্যমে চলছে এই সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম।

মহিলাদের স্বনির্ভর ও আত্মউন্নয়নের লক্ষ্যে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের জানুয়ারী থেকে জুনের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করে আজ নবীন প্রশিক্ষণার্থীদের বরণ ও উত্তীর্ণদের সনদপত্র বিতরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সব প্রশিক্ষণার্থীদের মজুরীভিত্তিক হস্তশিল্পের কাজ প্রদান, পরিচালনা এবং বাজারজাতের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। এছাড়াও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে আনারপুর একটি হস্তশিল্প প্রদর্শনী কেন্দ্র তৈরি করা। সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর চিরন্তন একটি বাণী ‘তুমি সেই ফুল হও যে ফুল প্রস্ফুটিত হয় কিন্তু ঝরে যায় না’ – এই বাণীর আহ্বানে আমরা নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে চলেছি। সম্মানিত সূধী, আপনারা স্বত:স্ফূর্তভাবে আজকের আয়োজনে অংশগ্রহণ করে আমাদের অনুপ্রাণীত, অলংকৃত করেছেন, সেজন্য আপনাদের প্রতি রইল শ্রদ্ধা, অনিশেষ ভালবাসা ও কৃতজ্ঞতা।

জেসমিন আক্তার

20190706_105216

তিনি বলেন, আমি হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ-এর উদ্যোগে আয়োজিত কাটিং ও সেলাই প্রশিক্ষণ ২০১৮-২০১৯ এর একজন শিক্ষার্থী। আমি এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কাটিং ও সেলাই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছি। এখানে অত্যন্ত যত্নের সাথে সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আমি পেশায় একজন গৃহিনী। প্রশিক্ষিত হওয়ায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে রয়েছি। বর্তমানে আমি বাড়িতে বসে কিছু অর্ডারি কাজ করছি এবং সেই রোজগারে আমার ভালভাবেই দিন চলে যাচ্ছে। তবে অভিজ্ঞতা ও এই প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে যাতে আরও আয় বাড়াতে পারি সেই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি এবং আশাকরি খুব শীঘ্রই সফলকাম হতে পারবো। ধন্যবাদ হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগকে আমাদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়ার জন্য। আমরা উৎসাহিত এবং আনন্দিত।

এ্যাডভোকেট রানু আখতার

20190706_115601

তিনি বলেন, সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট, হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ আয়োজিত আজকের এই মহতি অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আমি আমার আল্লাহ্র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সম্মানিত সূধী, কষ্ট করে আমাদের এই আয়োজনে উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাদের সকলকে জানাচ্ছি হার্দিক হাক্কানী শুভেচ্ছা। সম্মানিত অতিথিবৃন্দ যারা আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আমাদেরকে প্রেরণা যুগিয়েছেন এবং অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন, হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগ ও হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে তাদের প্রত্যেককে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। আজকের এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আমাদের আলোকিত করেছেন, আপনাদের প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। বিশেষ করে সম্মানিত প্রধান অতিথি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনকে তাঁর বলিষ্ঠ কণ্ঠে সত্যের পক্ষে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সম্মানিত আলোচক হিসেবে হামিবা, কুরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্রের সম্মানিত গবেষক শাহ্ ফাতেমা আফরোজ নাসরিন তাঁর সাবলীল ভাষায় আমাদেরকে ‘সত্যমানুষ’ সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবহিত করেছেন, সেজন্য তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন। স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ-এর কার্যক্রম সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য আমি হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগের সম্মানিত সদস্য ফিরোজা খানমকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ ছাড়া আমাদের এই আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না, তাদের মধ্যে সম্মানিত হামিবা প্রধান পৃষ্ঠপোষক খালেদা খানম রুনুসহ হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ ও বাহাখাশ কেন্দ্রিয় ব্যবস্থাপনা সংসদের সম্মানিত সভাপতি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। ধন্যবাদ জানাচ্ছি হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমীর শিক্ষার্থীবৃন্দকে যাদের চমৎকার পরিবেশনা অনুষ্ঠাকে প্রাণবন্ত করেছে। এছাড়াও হাক্কানী মহিলা উন্নয়ন বিভাগের পক্ষ থেকে আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং অসংখ্য ধন্যবাদ, যারা শত ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এই অনুষ্ঠানকে সুন্দর করে তুলেছেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাদের প্রতি যারা এই আয়োজনকে স্বার্থক করে তোলার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। প্রত্যাশা রইল ভবিষ্যতেও আমাদের বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অগ্রযাত্রায় আপনাদের মতো সম্মানিত ব্যক্তিত্বগণকে আমাদের সহযোগী হিসেবে পাবো। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে, আপনাদের উপস্থিতি এমনিভাবে আমাদের অনুপ্রাণীত করবে এই প্রত্যাশায় সবাইকে আবারো হার্দিক হাক্কানী শুভেচ্ছা।