প্রয়োজন লক্ষ্য ভিত্তিক সামাজিক পরিবর্তন

সংলাপ ॥ এক সামাজিক পরিবর্তন। আমাদের অভিব্যক্তি এবং উদ্যোগই বলে দেবে কিভাবে দেশ শাসন করতে চাচ্ছি। কিভাবে সমাজের নানা স্তরের মানুষকে উপযুক্ত নাগরিক সুবিধা দিতে পারছি। সরকারের কাজই হলো তা নিশ্চিত করা। নাগরিক সমাজ, বেসরকারি ক্ষেত্র, সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থারও সমান ভূমিকা এবং দায়িত্ব রয়েছে এই সামাজিক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে। দেশ মানে মানুষ, দেশ মানে মৃত্তিকা নয়। অকাজে কেবল কথা না বলে কাজ করে যাওয়া। ভালো কাজ। জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেদেরকে নিবেদন করলে যা করতে চাইছি, তার অনেকটাই সম্পূর্ণ হয়ে যায়। যা আরও পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে উল্লেখযোগ্য অনুপ্রেরণা জোগায়। উৎসাহ দেয়। তৈরি করে কৌতূহল।

তাই সময় এসেছে দেশ পরিবর্তনের। সুশাসনের। মজবুত অর্থনৈতিক ভিতের ওপর ভর করে দেশ আর্থিক বৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একইভাবে সম্মিলিতভাবে আমাদের নজর দিতে হবে রাষ্ট্র, সামাজিক বুনন এবং পরিষেবায়। বিশেষত শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যে। জীবন-যাপনের মানোন্নয়নই সবার ওপর দর্শনীয় হওয়া উচিত।

গুণগত মানের শিক্ষাই হলো সার্বিক উন্নয়নের প্রাথমিক পথ। জাতি চায় সেই শিক্ষা যা চরিত্র গঠন করে, শক্তি বৃদ্ধি করে এবং বুদ্ধির বিকাশ ঘটায়। যার জোরে একজন মানুষ নিজের পায়ে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে পারে।

দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ পায়, সেটা রাজনীতিকদের দেখতে হবে। স্বচ্ছতার অভ্যাসকে আয়ত্ত করতে হবে। ক্ষুধা এবং অপুষ্টি আমাদের অন্যতম সমস্যা। একই রকমভাবে বড় সমস্যা হলো শিশুমৃত্যু এবং প্রসূতির মৃত্যুও। তারই সঙ্গে দুর্নীতি, ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, চরমপন্থী আচরণের মতো দীর্ঘদিনের সামাজিক রোগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। কড়া হাতে দমন করতে হবে সন্ত্রাসীদের। নির্বাচনী এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী করার পথে এগতে হবে।

বাংলাদেশের এমন নেতৃত্ব দরকার যাঁরা চারিত্রিক দৃঢ়তায় ভরপুর। রাজনৈতিকভাবে যে মানুষ যে মতেরই হোক না কেন, দেশ গঠনে রাজনৈতিক সর্বসম্মত হওয়াই প্রয়োজন। সবার ওপর জাতির স্বার্থ। ভাষা, জাতি, আঞ্চলিকতা সব কিছুর শেষ পরিচয় জাতীয় পরিচয়। প্রাকৃতিক পরিবেশের দিকেও আমাদের জরুরী নজর দেয়ার সময় এসেছে। বায়ু, শব্দ এবং জলদূষণ সমস্যা দূর করতে অগ্রাধিকার সময়ের দাবী। আমাদের যা প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, তা অভাবনীয়। অদ্ভূত এক আকর্ষণীয় সম্পদের অধিকারী আমাদের দেশ। সত্য এটাই, সম্মিলিতভাবে এগলে, উদ্যোগ নিলে কোনও কাজই অসম্ভব নয়। অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি, বাস্তবায়ন এবং নতুনত্বই হোক আমাদের উদ্দেশ্য যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে প্রকৃত অর্থে স্পন্দনশীল এবং পুনরুজ্জীবিত করবে।