প্রবাহ

গ্রিসকে এরদোগানের হুমকি

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান গ্রিসকে সতর্ক করে বলেছেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বির্তকিত এলাকা নিয়ে আংকারার সঙ্গে আলোচনায় বসুন অন্যথায় বেদনাদায়ক পরিণতি ভোগ করতে হবে।

ইস্তাম্বুলে একটি হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট এরদোগান একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘গ্রিসকে হয় রাজনীতি ও কূটনীতির ভাষা বুঝতে হবে আর না হয় বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা নিতে হবে।’ তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যেকোনো মূল্যে তুরস্ক তার ভৌগোলিক অধিকার রক্ষা করবে। এরদোগান বলেন, “তুরস্ক ও তুর্কি জনগণ হিসেবে আমরা সব ধরনের সম্ভাবনা এবং পরিণতির জন্য প্রস্তুত আছি।”

তুরস্ক ও গ্রিস -দুটিই মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর সদস্য দেশ। দীর্ঘদিন ধরে তারা ভূমধ্যসাগরের পানিসীমা ও খনিজসম্পদ নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত রয়েছে। সম্প্রতি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তেল-গ্যাসের অনুসন্ধান জোরদার করেছে তুরস্ক। তাতে প্রতিবাদ করছে গ্রিস। এ ঘটনায় গ্রিসের পক্ষ নিয়েছে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্স। তাতে উত্তেজনা আরো বেড়েছে।

সুইস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফর!

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন,সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগ্নাজিও ক্যাসিসের তেহরান সফরের সঙ্গে ইরান এবং আমেরিকা ইস্যুর কোনো সম্পর্ক নেই। আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

খাতিবজাদেহ জানান, সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফর ছিল রুটিন সফর যা আরো আগে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে এ সফর পিছিয়ে যায়। তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ইরানের অত্যন্ত সুন্দর সম্পর্ক রয়েছে।

সুইস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফর নিয়ে গণমাধ্যমের নানা জল্পনা সম্পর্কে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুখপাত্র বলেন, ‘ওয়াশিংটনের ব্যাপারে আমাদের নীতি আগের মতোই রয়েছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা চাপ সৃষ্টির কোনো সুযোগ হাতছাড়া করছে না।’

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লব সফল হওয়ার পরপরই আমেরিকার সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে ইরানে মার্কিন স্বার্থ দেখাশোনা করে সুইজারল্যান্ডের দূতাবাস।

ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল কসোভো: আরব লীগের তীব্র নিন্দা

ইউরোপের মুসলিম দেশ কসোভো ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব লীগ। আরব লীগের মহাসচিব আহমাদ আবুলগেইত গত সপ্তাহের শনিবার কায়রোয় এক বক্তব্যে এ নিন্দা জানান।

গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, বলকান অঞ্চলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সার্বিয়া এবং কসোভার মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি সইয়ে আমেরিকা মধ্যস্থতা করেছে। একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার দ্ইু যুগ পর এই দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছালো।

তবে এই চুক্তিতে দু’টি অপ্রত্যাশিত এবং অনাকাঙ্খিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সার্বিয়া বলেছে যে, তারা তাদের দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে অধিকৃত জেরুজালেম আল কুদসে নিয়ে যাবে। মুসলিম অধ্যুষিত কসোভাও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে যে তারাও দখলদার ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে এবং একই সঙ্গে তারা ইসরাইলের স্বীকৃতির পর জেরুজালেম আল কুদসে তাদের নিজস্ব দূতাবাস স্থাপন করবে।

আরব লীগের মহাসচিব আহমাদ আবুলগেইত কসোভোর এ সিদ্ধান্তকে ‘ভ্রান্ত’ এবং ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছেন। ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা পিএলও’র নির্বাহী কমিটির সচিব সায়েব এরকাতও সার্বিয়া ও কসোভোর এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনি অভিলাষ পূর্ণ করতে ফিলিস্তিনি জনগণকে বলির পাঠা বানাচ্ছেন।

ব্রিটেনের ‘একগুঁয়ে ও অবাস্তব’ মনোভাবে ফ্রান্সের বিরক্তি

সপ্তম দফার আলোচনার শেষেও ইইউ ও ব্রিটেনের মধ্যে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্যিক কাঠামোর প্রশ্নে অগ্রগতি হয়নি৷ ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটেনের একগুঁয়ে ও অবাস্তব মনোভাবকে দায়ী করেছেন৷

আগামী ৩১শে ডিসেম্বর ব্রিটেন পাকাপাকিভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চলেছে। চলতি বছর ৩১শে জানুয়ারি ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার পর অন্তবর্তীকালীন সময়ে সবকিছু আগের মতোই চলছে। সেই অবস্থার মেয়াদ শেষ হবার আগেই ভবিষ্যৎ সম্পর্ক স্থির করতে বাণিজ্যসহ একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় প্রায় কোনো সাফল্য আসেনি। সেপ্টেম্বর মাসে শেষ সুযোগের সদ্ব্যবহার করা হবে – এমন কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। এই অচলাবস্থার জন্য ফ্রান্স এবার সরাসরি ব্রিটেনের সরকারকে দায়ী করেছে। আগামী সোমবার লন্ডনে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা শুরু হচ্ছে।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনিভ ল্য দ্রিয়ঁ সোমবার প্যারিসে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে বলেন, ব্রিটেনের একগুঁয়ে ও অবাস্তব মনোভাবের কারণে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। তাঁর মতে, ব্রেক্সিটের প্রশ্নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চিরকাল ঐক্য দেখিয়ে এসেছে। যারা ইউরোপের সার্বিক ভাঙনের চিহ্ন দেখিয়ে এসেছে, তাদের আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ থেকেই বিশ্বমঞ্চে নিজস্ব অবস্থান মজবুত করা সম্ভব বলে মনে করেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়েও গত শুক্রবার ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। এ দিন ব্রাসেলসে ব্রিটেনের সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত সপ্তম দফার আলোচনা শেষ হয়। তার মতে, অগ্রগতির বদলে বরং অবনতি দেখা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, আপাতত ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য রাষ্ট্রীয় ভরতুকি বা সহায়তা এবং মাছ ধরার অধিকারকে কেন্দ্র করেই সবচেয়ে বেশি সংঘাত দেখা যাচ্ছে। ইইউ সব ক্ষেত্রে ‘লেভেল  প্লেয়িং ফিল্ড’ বা ন্যায্য কাঠামোর উপর জোর দিলেও ব্রিটেন নিজস্ব নীতির ক্ষেত্রে বাইরে থেকে এমন চাপ মানতে প্রস্তুত নয়।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেনের নিবিড় সহযোগিতার উল্লেখ করেন। তার মতে, ব্রাসেলসে ইইউ সদর দফতরে এ ক্ষেত্রে সমন্বয় সম্ভব না হলে সেই সম্মিলিত শক্তি কমে যাবে৷ সে ক্ষেত্রে ইটালি, স্পেন ও পোল্যান্ডের মতো দেশ ইইউ-র পররাষ্ট্র নীতি স্থির করতে আরও বেশি দায়িত্ব নেবে৷

সেপ্টেম্বর মাসে ব্রেক্সিট পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক কাঠামো সংক্রান্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না ঘটলে ঠিক সময়ে সেই ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব হবে না বলে বার বার সতর্কতাবাণী শোনা যাচ্ছে। কারণ সে ক্ষেত্রে নভেম্বরের আগেই সব খুঁটিনাটি বিষয়ের নিষ্পত্তি করতে হবে৷ তারপর সংসদীয় অনুমোদনসহ নানা আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবার কথা।

ব্রেক্সিট পরবর্তী সহযোগিতা সম্পর্কে আলোচনা ব্যর্থ হলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ন্যুনতম মানদন্ড অনুযায়ী ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্য চালাতে হবে। সে ক্ষেত্রে দুই দেশের কোম্পানিগুলিকে শুল্কসহ একাধিক বাধার মুখে পড়তে হবে৷ এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তে অচলাবস্থা সৃষ্টি হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে৷