প্রবাহ

দিল্লির দূষণ নিয়ে ভৎর্সনা সুপ্রিম কোর্টের

dilli dushon

মানুষের কি বাঁচার অধিকার নেই? অমূল্য জীবন থেকে আপনারা মানুষের আয়ু কেঁড়ে নিচ্ছেন। প্রতিবছর একই জিনিস চলছে। কিন্তু কোনও সরকারেরই সামান্য হেলদোল নেই। মানুষ মারা যাচ্ছে, আগামীদিনে আরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে। আর কেন্দ্র আর রাজ্য সরকারগুলো নির্বিকারভাবে পরস্পরকে দোষারোপ করে চলেছে। দিল্লির কালান্তক দূষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এরকম কঠোর ভাষাতেই একই সঙ্গে দিল্লি, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা সরকার তো বটেই, কেন্দ্রীয় সরকারকেও চরম ভৎর্সনা করেছে। বিচারপতি অরুণ মিশ্র এবং বিচারপতি দীপক গুপ্তের বেঞ্চ এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন কন্ট্রোল অথরিটির জমা দেয়া রিপোর্টকে উল্লেখ করে বলেছে, বিশ্বের কোনও সভ্য দেশে এভাবে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না! জরুরি অবস্থার চেয়েও পরিস্থিতি খারাপ। সরকারের কোনও দায়িত্ব নেই? বিচারপতি অরুণ মিশ্র বলেন, বছরের পর বছর মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার রীতি চলতে পারে না। আমরা এটা কোনও মতেই মেনে নেব না। মানুষ ঘরের মধ্যেও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দিল্লি থেকে দলে দলে মানুষ চলে যাচ্ছে শুদ্ধ বাতাসের জন্য। এসব কী হচ্ছে? সর্বোচ্চ আদালত এই প্রশ্ন তুলে এখনই ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে, সরকারের নাকের ডগায় ফসলের অবশেষ পোড়ানো চলছে। দূষণ বাড়ছে। সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি ও ন্যাশনাল ক্যাপিটাল টেরিটরিতে যাবতীয় নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, এই নির্দেশ অমান্য করলে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে। শহরের মধ্যে জঞ্জাল পোড়ানোর ঘটনা ঘটলে তৎক্ষণাৎ ৫ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হবে।  গত কিছুদিনের তুলনায় খুব সামান্য অবস্থার উন্নতি হলেও দিল্লি এখনও গ্যাস চেম্বারই। স্কুল বন্ধ। শুধুই মাস্ক পরা মানুষের ভিড় রাস্তায়। আজও দিল্লির আবহাওয়া ‘মারাত্মক দূষিত’ ক্যাটাগরিতে। ০৪ নভেম্বর সোমবার ছিল ৩ বছরের মধ্যে সব থেকে বেশি দূষিত একটি দিন। মাস্ক, নিবুলাইজার এবং ব্রঙ্কাইটিসের ওষুধের চাহিদা আতঙ্কের জায়গায় চলে গিয়েছে। গত কয়েকদিনে দিল্লি থেকে বহু মানুষ অন্য শহরে চলে যাচ্ছেন। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে শ্বাসকষ্টের রোগ নিয়ে শিশুদের ভিড় মাত্রাছাড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লি সরকারের ক্লিনিকগুলিতে লম্বা লাইন। উত্তরাঞ্চ, হিমাচল প্রদেশের হোটেলগুলিতে ভিড়। কারণ, দিল্লিবাসী পরিবার নিয়ে দিল্লি ছেড়ে চলে যাচ্ছে। বহু অফিস তাদের বৈঠক বাতিল করে দিচ্ছে। কারণ, অন্য রাজ্য থেকে কর্মী-অফিসাররা দিল্লি আসা বাতিল করছেন। অন্তত পাঁচটি দেশের দূতাবাস নিজেদের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে জারি করেছে সতর্কতা। দিল্লি আসতে আপাতত বারণ করা হচ্ছে। কিন্তু দিল্লি এখনও বিষ বাতাসের শহরই রয়ে গিয়েছে।

২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয় অপেক্ষা করছে!

2020 tramp

আগামী ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের পরাজয় অপেক্ষা করছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যখন বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের কংগ্রেস সদস্যরা ইমপিচমেন্টের তদন্ত চালাচ্ছেন তখন এক জনমত জরিপে এ ফলাফল উঠে এসেছে। জরিপে দেখা যাচ্ছে – ডেমোক্র্যাট দল থেকে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করলে তার কাছে ১০ পয়েন্টে পরাজিত হবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জো বাইডেন হচ্ছেন আমেরিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন। ডেমোক্র্যাট দল থেকে আরো যারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন তারা হচ্ছেন এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি স্যান্ডার্স।

নতুন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে – জো বাইডেন শতকরা ৫৩ শতাংশ ভোট পাবেন, সেখানে ট্রাম্প পাবেন ৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে, যদি এলিজাবেথ ওয়ারেন ৫২ শতাংশ ভোট পান তাহলে ট্রাম্প পাবেন ৪৪ শতাংশ ভোট। আর বার্নি স্যান্ডার্স ৫১ শতাংশ ভোট পেলে ট্রাম্প পাবেন ৪৪ শতাংশ ভোট। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইমপিচ করার জন্য ডেমোক্র্যাটরা বর্তমানে একটি তদন্ত চালাচ্ছেন। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ – গত সেপ্টেম্বর মাসে এই তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ হয়েছে যে, জো বাইডেন এবং তার ছেলের দুর্নীতির ব্যাপারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলিনস্কিকে তদন্ত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। ট্রাম্প বলেছেন, জো বাইডেন ও তার ছেলের ব্যাপারে তদন্ত না করলে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেয়া বন্ধ করে দেবেন তিনি। এ বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে কংগ্রেসের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

ইরানকে মোকাবেলার ক্ষমতা নেই মাকিন নৌ বাহিনীর!

iran

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর নৌ ইউনিটের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হোসেইন খানযাদি, পানির তলদেশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার প্রযুক্তি অর্জন এবং ব্যাপক পরিমাণে এ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের খবর দিয়েছেন। তিনি তেহরানের বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি বিভাগ পরিদর্শনে গিয়ে এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে ইরানের সেনাবাহিনীর নৌ ইউনিট সাগরতল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম এবং এ সংক্রান্ত সরঞ্জাম ব্যাপক সংখ্যায় তৈরি করা হচ্ছে। রিয়ার অ্যাডমিরাল হোসেইন খানযাদি ইরানে চীন ও রাশিয়ার ত্রিদেশীয় সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে আগামী দুই মাসের মধ্যে যৌথ মহড়া শুরু হবে এবং তেহরান সফররত চীন ও রাশিয়ার নৌ-কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।

ভৌগোলিক দিক দিয়ে ইরান গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকার কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর নৌ ইউনিটের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হোসেইন খানযাদি বলেছেন, চীন ও রাশিয়ার মতো বৃহৎ দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা ও মহড়া ইরানের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইরানের নৌ বাহিনীর প্রধান নীতি। এ ব্যাপারে ইরান দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং এ লক্ষ্যে সমুদ্রের তলদেশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য যুদ্ধ সামগ্রী তৈরিতে ইরানের সক্ষমতার ব্যাপারে কেউ যেন সন্দেহ প্রকাশ না করে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী জাতীয় দিবস ও মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তির আখড়া দখলের বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সারাদেশ থেকে আগত হাজার হাজার শিক্ষক ও ছাত্রদের এক সমাবেশে বলেছেন, “ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি অর্জন করা থেকে ইরানকে বিরত রাখার জন্য আমেরিকা ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি বলেন, “ইরানের তরুণ বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে।”

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি অর্জন ইরানের অনেক বড় সামরিক সাফল্য। এ সাফল্যের মাধ্যমে ইরান অনেক বড় প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে নৌ শক্তিতে ইরান ব্যাপক সাফল্য অর্জন করায় শত্রুদের সব হিসাব নিকাশ পাল্টে গেছে। মার্কিন সাময়িকী ‘ফরেন পলিসি’ লিখেছে, পারস্য উপসাগরে ইরানকে মোকাবেলার ক্ষমতা মার্কিন নৌবাহিনীর নেই। এতে আরো বলা হয়েছে, যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করে আমেরিকা আগের মতো আধিপত্য ধরে রাখতে পারবে না এবং বর্তমান অবস্থায় বোঝা যায় গত কয়েক দশক ধরে মার্কিন আধিপত্যের অবসান ঘটেছে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে নৌ-শক্তিতে ইরানের শক্তিশালী অবস্থানকে সবাই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

৪৮ ঘণ্টায় ১৫০ দফা বিমান হামলা  ইয়েমেনে!!!

48 hours in yeamen

ইয়েমেনে ৪৮ ঘণ্টায় দেড়শ’ দফা বিমান হামলা করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী জোট। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় সা’দা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় হাজ্জাহ প্রদেশে ১৫০ বারের বেশি বোমাবর্ষণ করেছে। এর ফলে বহু বেসামরিক ইয়েমেনি হতাহত হয়েছেন। আমেরিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশের সহযোগিতায় ২০১৫ সাল থেকে দরিদ্র প্রতিবেশী ইয়েমেনে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে সৌদি আরব। একইসঙ্গে স্থল, আকাশ ও সাগর পথে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। এর ফলে এ পর্যন্ত ১৬ হাজারের বেশি ইয়েমেনি প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আহত ও বাস্তুহারা হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। দেখা দিয়েছে খাদ্য, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। তবে ইয়েমেনিদের প্রতিরোধের কারণে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।

সৌদি-ইরানের সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তন!

saudi iran

সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে বলে খবর দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির চিফ অব স্টাফ মাহমুদ ওয়ায়েজি। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক দেশগুলো এখন একথা উপলব্ধি করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।

মাহমুদ ওয়ায়েজি তেহরান থেকে প্রকাশিত দৈনিক এতেমাদ’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরান-রিয়াদ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, অতীতে সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ছিল। কিন্তু মার্কিন সরকারের উস্কানিমূলক আচরণের কারণে এ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কিন্তু এখন সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব দেশ আমেরিকার বিভেদ সৃষ্টির এই নীতির স্বরূপ উপলব্ধি করতে পেরেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইরানের প্রেসিডেন্টর দপ্তর প্রধান ওয়ায়েজি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো একথা বুঝতে পেরেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে মতপার্থক্য ও সংঘাত পরিহার করতে হবে এবং ইরান বহুদিন ধরে তাদেরকে এ কথাই বুঝিয়ে এসেছে।

ইরানের প্রতিবেশী আরব দেশগুলো আমেরিকার বিভেদ সৃষ্টির পদক্ষেপগুলোর ব্যাপারে তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মাহমুদ ওয়ায়েজি। তিনি বলেন, সৌদি আরবসহ আরো কিছু দেশ মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার যে আগ্রহ দেখিয়েছে তাতে এ অঞ্চলের ব্যাপারে মার্কিন উস্কানিমূলক নীতি ব্যর্থ হবেই।

ইরানের এই শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, তার দেশ সৌদি আরবসহ সবগুলো আঞ্চলিক দেশকে আলোচনায় বসার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ সবগুলো দেশকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় উত্তেজনা প্রশমন ও পারস্পরিক সহযোগিতা শক্তিশালী করা।

পাকিস্তানের স্বভাব বদলানোর নয়!

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, স্বভাব যায় না মরলে। যার যা স্বভাব সেটা সে পালন করে যাবেই। সে ভালোই হোক আর মন্দই হোক। মন্দ হলে সে কাজের সমালোচনা বা নিন্দা হবেই। কিন্তু অসম্মান আর বেইজ্জতই যাদের ভূষণ তারা এসব অসম্মানকে থোড়াই কেয়ার করে। পাকিস্তানেরও এখন সেই অবস্থা। সারা বিশ্বের নিন্দা সমালোচনা সত্ত্বেও সে এক নির্বিকার। নির্লজ্জতাই সেই রাষ্ট্রের ভূষণ। তাই ভারতে বারবার নাশকতার ছক কষে, কাশ্মীরকে অশান্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে সে সর্বত্রই নিন্দার পাত্র হয়ে উঠেছে। নিজের দেশের মাটিকে জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য ভাড়া দিয়ে তারা নিজেই একটি জঙ্গিরাষ্ট্রের মতো আচরণ করছে। বকলমে তারাই জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং অস্ত্র সরবরাহ করছে। উদ্দেশ্য একটাই, যেভাবে হোক ভারতের মাটিতে নাশকতামূলক কাজ করে হিংসা ছড়িয়ে দাও। সাম্প্রদায়িক স্থিতিশীলতাকে ভেঙে দাও। ভারতের শান্তি বিঘিœত করো। জালনোট ঢুকিয়ে ভারতের অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে ভেঙে দাও। একটা দেশ শুধু এমনই একটা নেগেটিভ দৃষ্টি নিয়েই এগিয়ে চলার চেষ্টা করছে। তার নিজেরই কোনও সুস্থিতি নেই। পুরো দেশের প্রশাসন জঙ্গি কব্জায় বন্দি। ইমরান খান যতই ভাষণ দিক, তিনি সেনাদের হাতের পুতুল ছাড়া আর কিছুই নন। আর দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলিকে গোপনে মদদ দিচ্ছে এই সেনাবাহিনীই। তাদের পরিকল্পনা মতোই চলে এইসব জঙ্গিসংগঠন। প্রতি বছরের মতো এবার শীতেও ভারতের মাটিতে জঙ্গি ঢোকানোর ছক কষেছে পাকিস্তান।

কাশ্মীরে বরফ পড়লেই সীমান্ত দিয়ে জঙ্গি ঢোকানোর ব্যবস্থা করে পাকিস্তান। সেইসব জঙ্গি এদেশের মানুষের মধ্যে মিশে গিয়ে নাশকতার প্রস্তুতি নেয়। এজন্য সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন লঞ্চপ্যাডে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এবারও সেই পরিকল্পনা করেছে পাকিস্তান। একটা ই-মেল উদ্ধার করা হয়েছে। তার থেকে দেখা যাচ্ছে ভাওয়ালপুরে উসমান-ও-আলি হেডকোয়ার্টারে প্রশিক্ষক এবং প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের অবিলম্বে হাজিরা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর এক জঙ্গি সংগঠনের নেতা আবু উজেইল ভারতে নাশকতামূলক কার্যকলাপের হুমকি দিয়েছে। এছাড়া এই পুরো কাজে যে পাকসেনার সবুজ সঙ্কেত আছে, সেটাও জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য ভাওয়ালপুরেই রয়েছে জয়েশ-ই-মহম্মদের সদর দপ্তর। সেখানে রয়েছে জয়েশ প্রধান মাসুদ আজহার। কিন্তু মাসুদ অসুস্থ হওয়ায় তার হয়ে সংগঠন পরিচালনা করছে আব্দুল রউফ আসগর। সেই এখন অঘোষিত প্রধান। দু’জনের আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভারতে বড় ধরনের নাশকতা চালাতে হবে। পাশাপাশি লস্করও আসন্ন শীতে ভারতের মাটিতে এমনই নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েছে। লস্করের মধ্যে হাফিজ সইদের পরিবর্তে এখন দলের দেখভাল করছে আব্দুল রহমান মাক্কি। সেই পুলওয়ামা হামলার পর থেকে দেশে-বিদেশে পাকিস্তানকে নানা গঞ্জনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তার উপরে বালাকোটে ভারতের সার্জিকাল স্ট্রাইকে নাক কেটেছে পাকিস্তানের। পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা উঠে যাওয়ায় রাগে ফুঁসছে পাক প্রশাসন এবং জঙ্গিরা। সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকায় এই মুহূর্তে জঙ্গি সংগঠনগুলি দিশাহারা। ধীরে ধীরে ফান্ডিং কমছে। তাই এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে জয়েশ এবং লস্কর। তারা জানে একটা বড় আঘাত হানতে পারলে ভারতকে যেমন বিপর্যস্ত করা যাবে, তেমনই তাদের সংগঠনকেও বাঁচানো যাবে। তহবিলে টান পড়লে ভেঙে যাবে সংগঠন। টাকার অভাব হলে নতুন পরিকল্পনা নেয়া যাবে না। নতুন রিক্রুটমেন্ট হবে না। তাই তাদের এখন মরিয়া অবস্থা। আর ওপাশে ঠুঁটো অবস্থায় বসে আছেন ইমরান খান। তাঁর কিছুই করার নেই। তিনি যে নিজেই বাঘের পিঠে বসে। পিঠ থেকে পড়লেই যে বাঘে তাঁকে খেয়ে নেবে। দেশটাই এখন লস্কর আর জয়েশের হাতে। তাদের পরিচালনা করছে সেনা।  কিন্তু ভারতও চুপ করে বসে নেই। ভারতের সেনাকর্মীরা সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরায় রয়েছে। বরফ পড়লেও তাঁদের চোখে ঘুম নেই। একটা মাছিও সীমান্ত দিয়ে তাঁরা গলতে দেবেন না। আর অতীতে তো দেখাই গিয়েছে, পাকিস্তান আঘাত হানলে যথার্থ প্রত্যুত্তর ভারত দিয়েছে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর ভারতের হাতে আছে। প্রয়োজনে সেই আঘাত হেনে ভারত যোগ্য জবাব দেবে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর জেনারেল হলেন আপন দুই বোন

2 sister

মারিয়া ব্যারেট এবং পাউলা লোডি। সম্পর্কে তাঁরা সহোদরা। একজন ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতেন বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন। অন্যজনের ইচ্ছে ছিল ফরেন সার্ভিসের পরীক্ষা দিয়ে আমলা হবেন। কিন্তু, ভাগ্যের ফেরে দু’জনেরই ঠাঁই হল সেনাবাহিনীতে। চলতি গ্রীষ্মেই মার্কিন সেনাবাহিনীর জেনারেল পদে উন্নীত হয়েছেন তাঁরা। পাউলা মেজর এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হয়েছেন মারিয়া। সৃষ্টি করেছেন ইতিহাস। কারণ মার্কিন সেনাবাহিনীতে এর আগে আর কোনও বোনেদের এভাবে শীর্ষপদ আরোহণের নজির নেই। সত্যিই কি মারিয়া এবং পাউলাই প্রথম? অন্তত মার্কিন সেনা কর্তৃপক্ষের দাবি তেমনই। সাধারণত মহিলারা বিয়ের পর পদবী পাল্টে নেন। তাছাড়া মার্কিন সেনার তথ্যভান্ডার হাতড়ে, নাম এবং পদবী মিলিয়ে শুধুমাত্র বোনেদের খুঁজে বের করাও প্রায় অসাধ্য। কিন্তু, যেহেতু বাহিনীতে মহিলা জেনারেলদের সংখ্যা একেবারেই হাতে-গোনা তাই পাউলা এবং মারিয়াকে সহজেই চিহ্নিত করা গিয়েছে বলে মনে দাবি করেছেন মার্কিন সেনার এক মুখপাত্র। গত জুলাই মাসে বছর একান্নর পাউলা পদন্নোতি পেয়ে সেনাবাহিনীর সার্জন জেনারেল হিসেবে ডিরেক্টর অব হেলথ কেয়ার অপারেশনস-এর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। আর ৫৩ বছরের মারিয়া মার্কিন সেনার সাইবার শাখা নেটকম-এর কমান্ডিং জেনারেলের দায়িত্ব পেয়েছেন।

পুরুষ-শাসিত সেনাবাহিনীতে পাউলা-মারিয়ার এই উত্থান বাকি মহিলাদের উদ্বুদ্ধ যেমন করেছে, তেমনই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, বলছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীকে নিয়ে গবেষণারত এমা ম্যুর। তিনি বলেন, ‘মার্কিন সেনাবাহিনীতে যে সকলেই যোগ দিতে পারেন এবং শীর্ষে পৌঁছতে পারেন, তা প্রমাণ করেছেন পাউলা ও মারিয়া। কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশনস-এর তথ্য বলছে, মার্কিন সেনার ১৩ লক্ষ সক্রিয় কর্মীর মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশ মহিলা। মহিলাদের পদোন্নতিতে নানা ধরনের বাধার কারণে বাহিনীর শীর্ষস্তরের তুলনায় নিচুস্তরে মহিলাদের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। এমা জানান, এক সময় সেনাবাহিনীতে মহিলাদের অন্তর্ভূক্তি ব্যাপক হারে কমে গিয়েছিল। বাহিনীর অন্দরে একের পর এক যৌন হেনস্তার ঘটনা সামনে আসছিল। শুধু গত বছরের পরিসংখ্যান বলছে, তার আগের বছরের তুলনায় ওই বছর যৌন হেনস্তার ঘটনা ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। এর পাশাপাশি, মহিলাদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা, বুলেটরোধী ব¤্ররে অপ্রতুলতার (সেগুলির সবই ছিল পুরুষদের মাপের) কারণে বিরাট সংখ্যায় মহিলারা বাহিনীতে যোগ দিতে পারতেন না।

মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৪৪ বছরের ইতিহাসে ১৯০১ সালে প্রথম নার্স হিসেবে মহিলাদের বাহিনীতে নেয়া শুরু হয়। তবে, পাউলা এবং মারিয়া সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন ১৯৯৪ সালে। সেই সময় অবশ্য সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার অনুমতি মহিলাদের দেয়নি পেন্টাগন। সেই ছাড়পত্র মেলে আরও পরে, ২০১৫ সালে। তবে, পাউলাদের বাহিনীতে অন্তর্ভূক্তি নিঃসন্দেহে সেই সময়কার মহিলাদের বাহিনীতে যোগদানের প্রেরণা জুগিয়েছিল। স্বয়ং মারিয়ার কথায়, ‘একই পরিবারের দুই বোনের সেনাবাহিনীর শীর্ষপদে উঠে আসাটা লটারির মতো মনে হতে পারে। কিন্তু, কাজটা মোটেই সহজ ছিল না। কঠোর অধ্যাবসায়, নেতৃত্বদানের অসামান্য ক্ষমতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান না থাকলে আমরা এই জায়গায় পৌঁছতে পারতাম না।’ ম্যাসাচুসেটসের ফ্র্যাঙ্কলিন শহরে বড় হন মারিয়া এবং পাউলা। বাবা রাস্টন লোদি ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক। পরে এলিমেন্টারি স্কুলের প্রিন্সিপাল হিসেবে কাজ করেন। মা ক্লারাও ছিলেন শিক্ষিকা। ছোট থেকে দু’জনের কেউ ভাবেননি বাহিনীতে যাবেন। পাউলা বলেন, ‘ছোটবেলায় স্কুলের একই টিমে ফুটবল খেলতাম আমরা। তখনও ভাবিনি ২৭-৩০ বছর পর আমরা এখানে থাকব।’ কিন্তু, অদৃষ্টই তাদের একই রাস্তায় এনে ফেলেছে। এবার সেই রাস্তায় পরবর্তী মাইলস্টোন ছোঁয়াই লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই বোনের।

তাজমহলের ৪০০টি পাথর  বদলানো হচ্ছে

tazmahala

দূষণের দাপটে দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে তাজমহলের। এবার মমতাজের স্মৃতি-সৌধের বড়সড় সংস্কারে উদ্যোগী হল ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই)। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাজমহলের ‘চামেলি ফার্স’-এর ৪০০টি পাথর বদলানো হবে। এরজন্য টেন্ডার দিয়েছে এএসআই। যে পাথরগুলি বদলানো হবে, তার মধ্যে বেশিরভাগই লাল রঙের স্যান্ডস্টোন। কিছু রয়েছে সাদা মার্বেল পাথর। যাদের গড় আয়তন এক বর্গফুট থেকে নয় বর্গ ইঞ্চি। এসআইয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ৪০০ পাথর বদলাতে খরচ হবে আনুমানিক ২২ লক্ষ টাকা। প্রসঙ্গত, তাজমহলের মূল গম্বুজকে ঘিরে চারপাশের এলাকা ‘চামেলি ফার্স’ নামে পরিচিত।