নিজের কথা – ৩৪

শাহ্ মো. লিয়াকত আলী ॥ সত্যমানুষ সম্পর্কে সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ বলেন, ‘সবার উপর সত্যমানুষ তাহার উপরে নেই।’ সত্যমানুষ ও সাধারণ মানুষের জীবন যাপন সম্পর্কে যতটুকু জানা যায়, তা হল সত্যমানুষের আচার -আচরণ আহার-নিদ্রা কথা-বার্তা ইত্যাদি বিষয়ে পারিবারিক ও সামাজিক জীবন যাপন সাধারণ মানুষের চেয়ে ভিন্নতর। সাধারণ মানুষ যেখানে আমি ও আমার ব্যক্তিগত স্বার্থের উপর প্রাধান্য দিয়ে দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা পূরণ করে থাকে, সেখানে সত্যমানুষের জীবন যাপন করার ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাঁরা ব্যক্তিগত স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে সকলের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্পর্কে অগ্রাধিকার দিয়ে দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় কাজকর্ম পরিচালনা করে থাকেন ।

তাই বাস্তবে দেখা যায় যুগে যুগে সংস্কারক হিসেবে বিভিন্ন দেশ ও ভাষাভাষীর মধ্যে সত্যমানুষের আবির্ভাব ঘটে এবং তাঁরা নিজেদেরকে সমাজ দেশ তথা পৃথিবীর উন্নয়ন সাধন করতে আত্মনিবেদন করেন।

নিতান্তই ব্যাক্তি কেন্দ্রিক কাজ-কর্ম সাধারণ জনগণ করতে অধিক পছন্দ করেন বিধায় সঙ্কীর্ণ পরিসরে তাদের দৃষ্টি ভঙ্গি গড়ে ওঠে। তাই তারা উদার জীবন যাপনের আনন্দ উপভোগ করা থেকে বঞ্চিত থাকে। তারা কোন রকমে নৈমিত্তিক জীবনের কর্মের সাময়িক সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার কারণে সদাসর্বদা সুখদুঃখের দোলা চালে দুলতে থাকে। সদা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার মানসিকতা গড়ার কারণে সদাসর্বদাই তারা স্থায়ীভাবে সঙ্কীর্ণতার জীবন যাপনের মাঝে আটকে পড়ে। অন্যদিকে সত্যমানুষেরা ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে গিয়ে সামগ্রিক উন্নয়ন বিবেচনা করে কর্মাভ্যাস গড়ার কারণে সদাসর্বদা উদার মানসিকতা সম্পন্ন হন বিধায় তাঁরা সাময়িক সুখদুঃখের দোলা চালের উর্ধে অবস্থান করেন এবং স্থায়ীভাবে আনন্দলোকের জীবন যাপন উপভোগ করতে থাকেন।

উদার প্রকিতির আলো বাতাস ভোগ করেও বেড়ে উঠলেও সংকীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার মানসিকতা গড়ার কারণে সদাসর্বদাই সাধারণ জনগণ অপ্রকিতিস্থ থেকে যায়। তাই তারা সহজ-সরল জীবন যাপন করতে পারে না। অন্যদিকে সত্যমানুষেরা ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে গিয়ে সামগ্রিক উন্নয়ন বিবেচনা করে কর্মাভ্যাস গড়ার কারণে তাঁরা সহজেই সদাসর্বদাই প্রকিতির সাথে মিলে মিশে থাকেন। তাই তাঁরা প্রকিতিস্থ হয়ে সহজ-সরল উদার জীবন করেন এবং স্থায়ীভাবে প্রকিতির আনন্দলোকের জীবন উপভোগ করতে পারেন।

হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার মানসিকতা গড়ার কারণে সাধারণ মানুষ উদার দাতার আসনে সমাসীন হতে পারে না। সদাসর্বদাই গ্রহীতার আসনে থেকে ভিখারির মতো জীবন যাপন করতে হয়। অপরদিকে সত্যমানুষেরা ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে গিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করেন বিধায় তাঁরা উদার মানসিকতা সম্পন্ন দাতার আসনে সমাসীন হয়ে আনন্দচিত্তে অভাবীদের অভাব মোচন করতে এগিয়ে আসেন।

সত্যমানুষেরা উদার মানসিকতা সম্পন্ন দাতা। তাই তাঁরা ব্যক্তিস্বার্থের উধ্বে গিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করেন এবং সুখে-দুঃখে সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। অপরদিকে সাধারণ জনগণ অপ্রকিতিস্থ স্বার্থান্ধ। তাই তারা সুখের সময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাইলেও কখনও অন্যান্য মানুষের দুঃখের সাথী হতে চাই না।