নিজের কথা- ৩১

শাহ্ মো. লিয়াকত আলী ।।

“কাম করে গপ করা ভালা” অমৃতকথাটি বলেন,সূফী সাধক আনোয়ারুল হক। শ্রমের মর্যাদা দিতে পারলে জীবনের উন্নতি নিশ্চিত ভাবে লাভ করা যায়। অন্যথায় জীবন চলার পথে ব্যক্তি গতানুগতিক জীবন যাপন করে থাকে। সূফী সাধক আগ্রহী অনুসারীবৃন্দের উন্নত জীবন যাপন করার ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনা দেন আলোচ্য বাণীতে। বাণীর প্রথম শব্দ “কাম” । এ “কাম” শব্দটির অর্থ – কাজ করা। জীবন একটা চলমান সত্ত্বা। এ চলমান সত্ত্বাকে কল্যাণ ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে কাজ করার বিকল্প কিছু নেই। কারণ স্রষ্টার নিকট থেকে এ পৃথিবীতে আমরা সবাই আগমন করেছি। এ পৃথিবী থেকে আমরা সবাই একদিন প্রস্থান করব। প্রস্থান কালে আমাদের অবলম্বন অন্য কিছুই থাকবে না কেবলমাত্র আমাদের কৃতকর্মের হালনাগাদ ফিরিস্তি। স্রষ্টা আমাদেরকে শ্রমনির্ভর করে সৃষ্টি করেছেন। তাই আমরা শ্রমের মর্যাদা দিতে পারলে জীবনের উন্নতি হবে। আমাদের জীবনের উন্নতি বলতে বুঝায় আমরা কতটা স্রষ্টার কৃপায় তাঁর বিধিমালা অনুযায়ী জীবন যাপন করতে পারি। একমাত্র সফল ব্যক্তিরা উন্নত জীবন যাপন করতে পারেন। আর তাঁরাই সফল ব্যক্তি যারা জীবনে শ্রমের মর্যাদা দিতে পারেন। কিভাবে শ্রমের মর্যাদা দিতে পারি? কোন বিষয়ে জ্ঞানার্জন ব্যতীত ঐ কর্ম সম্পাদনের সময়ানুবর্তীতা স্থান উপযোগিতা বিষয়ে কে তাগিদ দেবে আমার জানা নেই। এমতাবস্থায় কিভাবে শ্রমের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে পারা যাবে। যে ব্যাক্তি চা খাওয়া পছন্দ করেন, কিন্তু তা কিভাবে তৈরি করা যায় তা জানেনা। পৃথিবীর অন্য কেউ কি তার পছন্দের চা তৈরি করে খাওয়াতে পারবে? সেই ব্যক্তি পারবে যে সেই মত চা বানানোর জন্য পরিমিত জ্ঞানার্জন করেছেন। এ জন্যই শান্তিময় জীবনযাপন করার জন্য জ্ঞানার্জন অপরিহার্য শর্ত ধরা হয়। জ্ঞানার্জন কি? জীবন ভোর অন্যের বানানো চা পান করে গেলাম। সে চা এর মজাদার স্বাদের অনুভূতিও ধরে রাখলাম, এটা ঐ চা বানানো ব্যক্তির জ্ঞানার্জন হলেও সে চা ভোগকারী ব্যাক্তির জ্ঞানার্জনের কোনো বিষয় নয়। যতদিন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি তার পছন্দের কোন বিষয় যতবার ইচ্ছা তৈরি করার অভিজ্ঞতা অর্জন না করবে ততদিন পর্যন্ত সে ব্যক্তি সে বিষয়ে জ্ঞানার্জনের কোনো সুযোগ পেতে পারে না। কিন্তু আফসোস আমাদের জীবনের পরনির্ভরশীলতা এতোই বেশি যে আমরা নিজেরাই নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পরনির্ভরশীল জীবন যাপন করে থাকি। বিপুল পরিমাণ অজ্ঞতার কারণেই কর্মে একদিকে যেমন আত্মবল অনুভব করি না অন্যদিকে সঠিক সময়ে সঠিক কর্ম সম্পাদন করতে পারি না। কিন্তু প্রকৃতির সকল জীবজগতের দিকে তাকিয়ে দেখল দেখা তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনের জীবিকা বাসস্থান পরিবার প্রতিপালন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিনোদন এ সকল কর্মের কোন বিষয়েই অন্যের উপর নির্ভরশীল না থেকে প্রত্যেক বিষয়ে অত্যন্ত সচেতনভাবে নানান প্রতিকূল পরিবেশে মোকাবেলা করে নিজেরাই নিজেদের জীবনের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর যথাযথ সমাধান দিয়ে থাকে। এদের জীবন যাপন কার্যক্রমের মাঝে কাম ফেলে গপ করে চলার কোনো অবকাশ দেখা যায় না। স্রষ্টা মানুষ সম্পর্কে তার বাণীতে মন্তব্য করেন, “আমি মানুষকে কতইনা চমকপ্রদভাবে সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তারা সৌন্দর্যের অবস্থানে না থেকে অধঃপতনের অতল তলে নিপতিত হলো।” স্রষ্টা সূক্ষ্মভাবে কর্মীদের কর্মফল দিয়ে থাকেন। কর্ম নির্ভর করে ব্যাক্তির আন্তরিকতার উপর। আন্তরিকতা বাহ্যিক লোক দেখানো কোন বিষয় নয়। আমাদের শরীর অন্য কিছুই পড়তে পারে না। আমরা চিন্তাশক্তির মাধ্যমে যা কিছু করতে চাই,তাই করার জন্য সাধ্যমতো আমাদের শরীর আমাদের সহযোগিতা করে থাকে। আমাদের নবীজি বলেন,” মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী কর্ম করে এবং কর্মফল পেয়ে থাকে।” কর্ম ফলপ্রসূ করার জন্য দরকার কর্ম বিষয়ক জ্ঞানার্জন করা অপরিহার্য শর্ত। কর্ম বিষয়ক জ্ঞানার্জন করা না হলে অন্যকে নকল করে মানুষ কর্ম করে থাকে। নকল করা কর্ম থেকে জ্ঞানার্জন করা কর্মের আনন্দ পাওয়া সম্ভবপর হয়না। শান্তি আসে নির্ভুল কর্ম করার উপযোগী জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে। তাই শান্তির জীবন যাপন জ্ঞানার্জনের উপর। জ্ঞানার্জন ব্যতীত মানুষ থাকে অন্ধ। আর অন্ধদের অন্যের উপর নির্ভর করে জীবন যাপন করতে হয়। তারা স্বাধীন জীবন যাপন করার আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকে। জ্ঞানার্জন ব্যতীত কেহ নিজেকে ইসলামের অনুসারী বলে পরিচিত করা কতটা যুক্তিসঙ্গত হবে তা বিবেকবানদের মুল্যায়য়ণ করার এখনই যথাযথ সময়।