নিজের কথা – ২৪

শাহ মো. লিয়াকত আলী ॥ মানবতার কর্মই শান্তির উৎস। শাস্ত্রমতে প্রতিটি মানবতার কর্মের জন্য ব্যক্তি অন্তত দশগুণ অধীক কল্যাণ লাভ করে থাকে। ব্যক্তি তাঁর পছন্দের স্তর থেকেই মানবতার কর্ম করতে পারে। তাই পছন্দের পবিত্রতার উপর নির্ভর করে ব্যক্তির মানবিক কিম্বা অমানবিক কর্ম সম্পন্ন হয়ে থাকে । আর পবিত্র মানুষিকতার উপর নির্ভর করে ব্যক্তির  পছন্দের পবিত্রতা অর্জিত হয়। আবার পবিত্র চিন্তাশক্তির প্রভাবের উপর নির্ভর করেই ব্যক্তির পবিত্র মানুষিকতা গড়ে ওঠে।  ব্যক্তির মাঝে পবিত্র চিন্তনশক্তির উদয় তখনই হয় যখন ব্যক্তি প্রেমিক হিসেবে অন্যদের প্রতি সদাচারণ প্রদর্শন করে থাকে। হাক্কানী চিন্তনমতে প্রত্যাশাহীন ভালোবাসার মাধ্যমে ব্যক্তির অন্তরে প্রেমের উদয় হতে থাকে।

প্রেমিকের পবিত্র আচরনের প্রভাবে এমন শক্তিশালী  মনমুগ্ধকর পরিবেশ গড়ে ওঠে যেখানে হিংস্র অহিং¯্র পশুপ্রাণী সহ সকলে মিলেমিশে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে নিরাপদ শান্তিময় জীবনযাপন করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে।বাস্তবেও অনেক সাধকের জীবনযাপনকে ঘিরে এধরনের পরিবেশ গড়ে উঠতে দেখা যায়। যেখানে নিরাপদ ও শান্তির আশায় ভালমন্দ সকল ধরনের মানুষ এমনকি হিংস্র অহিংস্র পশুপ্রাণীকেও সময় সময় সমবেত থাকতে দেখা যায়।সাধারণ জনগণের জীবনযাপনের উর্ধে সূফী সাধকগণ প্রেমিকের শক্তিশালী পবিত্র জীবনযাপন করেন। তাই তাঁদের পরিবেশ সাধারণ জনতা নারীপুরুষের পরিবেশ থেকে ভিন্নতর শক্তিশালী ও শান্তিময়। জীবন চলার পথে সূফী সাধকগণ  যেখানে অবস্থান কিম্বা জীবনযাপন করেন সেখানে শক্তিশালী শান্তিময় পরিবেশ গড়ে ওঠে। এ শান্তিময় পবিত্র পরিবেশের আকর্ষণে এসে ব্যক্তি ও পশুপ্রাণী একসাথে মিলেমিশে থাকতে আকৃষ্ট হয় ও স্বাচ্ছন্দবোধ করে থাকে। তাই সূফী সাধকগণের অবস্থান কিম্বা বসবাসের জায়গাতে  গড়ে ওঠে দরবার আশ্রম খানকা শরীফ বা আস্তানা শরীফ। যারা সূফী সাধকগণের শান্তিময় শক্তিময় জগতের জীবনযাপন করতে আগ্রহী থাকে তাদের চলার পথে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর দিক নির্দেশনামুলক বাণী, “দরবারে এসো আশেকান হিসেবে- নারীপুরুষ হিসেবে নয়।”

আশেকান শব্দের অর্থ প্রমিক। একজন আশেকানের মর্যাদার স্তর কতটা উচ্চতর তা তুলে ধরতে সূফী সাধক শেখ আব্দুল হানিফ তাঁর মালিক সূফী সাধক আনোয়ারুল হক এঁর উদ্ধৃতি দেন এভাবে,”  তাঁর মালিক বলেন , দরবারের একজন ভক্ত বা প্রেমিকের পায়ের জুতোর তলে থাকে তাঁর মালিককের মাথা। আর মালিকের পা এর জুতোর তলায় তাঁর মাথা।” এ কথার অর্থ দাঁড়ায় দরবারের আশেকের অর্থাৎ প্রেমিকের মর্যাদা হল সবার উপরে।

প্রেমিকের জীবনযাপন ব্যতীত কেহ মানবতার কর্ম করতে পারেনা । আর মানবতার কর্ম ব্যতীত মনুষত্ব্যের জীবনযাপন করা অসম্ভব। আর মনুষত্ব্যের জীবনযাপন ব্যতীত কেহ আনন্দলোকের শান্তিময় জীবনলাভ করতে পারেনা। শান্তিময় জীবনলাভ ব্যতীত এজগতে সুস্থ্য জীবনযাপন করা যায়না। তাই সুস্থ্য শান্তিময় জীবনযাপন করতে চাইলে সাধারণ পশুপ্রাণীর জীবনযাপনের উর্ধে এসে মনুষত্ব্যের জীবন লাভ করা অত্যাবশ্যক। মনুষত্বের জীবন ব্যতীত সুন্দর শান্তিময় ভুবন গড়া যায়না। তাই সুন্দর শান্তিময় ভুবন গড়ার জন্য একজন প্রেমিক হিসেবে জীবনাচরণ গড়ে তুলা সকল মানুষের পবিত্র কর্তব্য।(চলবে)