ধর্মের নামে….-১০

সংলাপ ॥ এ পর্যায়ে ধর্ম এবং উপধর্ম নিয়ে আলোচনায় আসব। প্রতিটি জীব তার ধর্ম তার দেহেই ধারণ করে আছে। প্রতিটি বস্তুও তার ধর্ম তার দেহে ধারণ করে আছে। জীব ও জড় ধর্মহীন নয়। ধর্মের বিকাশ ও প্রকাশ ঠিকমতো না হলে অধর্ম হয়ে যায়। একটু দেখি ধর্ম কি? সত্য বলা ধর্ম – মিথ্যা বলা অধর্ম। ন্যায় পথে চলা ধর্ম – অন্যায় পথে চলা অধর্ম। লোভ করা অধর্ম – লোভ না করা ধর্ম। হিংসা করা অধর্ম – হিংসা না করা ধর্ম। বিবেক খাটিয়ে চলা ধর্ম – বিবেকহীন হওয়া অধর্ম। অসহায়কে সাহায্য করা ধর্ম – অসহায়কে সাহায্য না করা অধর্ম। বিপদে ধৈর্য ধারণ করা ধর্ম – না করা অধর্ম। ঘৃণা করা অধর্ম – ঘৃণা না করা ধর্ম। অহংকার করা অধর্ম – অহংকার না করা ধর্ম। জিঘাংসা অধর্ম-ক্ষমা করা ধর্ম। প্রবঞ্চনা করা অধর্ম – প্রবঞ্চনা না করা ধর্ম। ক্রোধ করা অধর্ম – ক্রোধ না করা ধর্ম। বিচার করা ধর্ম – অবিচার করা অধর্ম। শোষণ করা অধর্ম – শোষণ না করা ধর্ম। কপটতা অধর্ম – অকপটতা ধর্ম। কৃতজ্ঞতা ধর্ম – অকৃতজ্ঞতা অধর্ম। হীনমন্যতা অধর্ম – হীনমন্যতা না করা ধর্ম। ধূর্ততা অধর্ম – ধূর্ততা না করা ধর্ম। তৃপ্তি ধর্ম – অতৃপ্তি অধর্ম। আসক্তি অধর্ম – অনাসক্তি ধর্ম। মোহ অধর্ম – মোহ না করা ধর্ম। প্রতারণা অধর্ম – প্রতারণা না করা ধর্ম। বন্যতা অধর্ম – বন্যতা না করা ধর্ম। লালসা অধর্ম – লালসা না করা ধর্ম। পরনিন্দা অধর্ম – পরনিন্দা না করা ধর্ম। ধ্বংস প্রবণতা অধর্ম – ধ্বংস প্রবণতা না করা ধর্ম। বিশ্বাস করা ধর্ম – বিশ্বাস না করা ধর্ম। জেদ অধর্ম – জেদ না করা ধর্ম। ফাঁকিবাজি অধর্ম – ফাঁকিবাজি না করা ধর্ম। চুরি করা অধর্ম – চুরি না করা ধর্ম। ডাকাতি করা অধর্ম – ডাকাতি না করা ধর্ম। ঘুষ খাওয়া অধর্ম – ঘুষ না খাওয়া ধর্ম।  সভ্যতা ধর্ম – অসভ্যতা অধর্ম। বর্বরতা অধর্ম – বর্বরতা না করা ধর্ম। জুলুম করা অধর্ম – জুলুম না করা ধর্ম।

স্বেচ্ছাচারী হওয়া অধর্ম – স্বেচ্ছাচারী না হওয়া ধর্ম। রাহাজানি অধর্ম – রাহাজানি না করা ধর্ম। বিকৃতি অধর্ম – বিকৃতি না করা ধর্ম। কলহ অধর্ম – কলহ না করা ধর্ম। কুমন্ত্রণা অধর্ম – কুমন্ত্রণা না করা ধর্ম। উগ্রতা অধর্ম – উগ্রতা না করা ধর্ম। সুদ খাওয়া অধর্ম – সুদ না খেয়ে কর্জ দেয়া ধর্ম। হালাল খাওয়া ধর্ম – হারাম খাওয়া অধর্ম। কুটিলতা অধর্ম – কুটিলতা না করা ধর্ম। দাঙ্গাবাজি অধর্ম – দাঙ্গাবাজি না করা ধর্ম। ধরিবাজী অধর্ম – ধরিবাজী না করা ধর্ম। নাশকতা অধর্ম – নাশকতা না করা ধর্ম। নিপীড়ন অধর্ম – নিপীড়ন না করা ধর্ম। পিশাচতা অধর্ম – পিশাচতা না করা ধর্ম। ফন্দিবাজী অধর্ম – ফন্দিবাজী না করা ধর্ম। বর্ণবাদী হওয়া অধর্ম – বর্ণবাদী না হওয়া ধর্ম। ব্যাভিচার অধর্ম – ব্যভিচার না করা ধর্ম। যুদ্ধ করা অধর্ম – যুদ্ধ না করা ধর্ম। দম্ভ করা অধর্ম – দম্ভ না করা ধর্ম। দর্প করা অধর্ম – দর্প না করা ধর্ম।

এই যে ধর্ম আর অধর্মের এতগুলো কথা বার বার পুনরাবৃত্তি করলাম তা কিন্তু ধর্ম আর অধর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট। কুরআন মজিদে এসব কথাগুলো আদেশ ও নিষেধ আকারে এসেছে। যেগুলো ধর্ম অর্থাৎ যেগুলো ভাল কাজ সেগুলো ধর্মের আওতায় এনে তা অবশ্য পালনীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেগুলো অধর্ম সেগুলো বর্জন করার জন্য বলা হয়েছে। ফলে দেখা যায় আল্লাহর আদেশ পালন করা হচ্ছে ধর্ম – আল্লাহর আদেশ পালন না করা অধর্ম। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের উপমা ব্যবহার করে এই সকল আদেশ পালনের জন্য বিশেষভাবে বলা হয়েছে। যেগুলো অধর্ম সেগুলো বর্জন করাও ধর্ম। ধর্ম এবং অধর্মের পার্থক্যটুকু আমরা আগে বুঝবো পরে তা পালন বা বর্জন করবো। কারণ পবিত্র কুরআনে এই আদেশ নিষেধের বিবরণ ব্যাপক ভাবে বিস্তারিত আকারে উল্লেখ করা হয়েছে। মানুষকে এই আদেশ নিষেধ বলতে কি বোঝায় তা আগে জানতে হবে। পরে সেভাবে প্রতিটি আদেশ – নিষেধের কথাগুলো দিন-রাতের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে পালন করে ¯্রষ্টায় আত্মসমর্পণ করবো। আদেশগুলোর পালন এবং নিষেধগুলোর বর্জন করার অর্থ সেই ¯্রষ্টার সামনেই মাথানত করা। এটাই উপাসনা – এতেই স্রষ্টার সন্তুষ্টি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ¯্রষ্টার আদেশ পালন কতটুকু করছি? সমাজে, দেশে, বিদেশে এমন কি সমগ্র বিশ্বে ক’জন ব্যক্তি আছেন যিনি এই আদেশগুলো নিজের জীবনে মাথানত করে পালন করছেন? শতকরা ৯৯% লোকের বেশি এখন অধর্ম নিয়ে মহা উল্লাসে ব্যস্ত। সত্ত্বাধর্ম ছেড়ে দিয়ে মানুষ আজ যা করছে তার অধিকাংশই অধর্ম এবং ধর্মের নামে মানুষেরই বানানো উপধর্ম। কিছুকিছু কল্পিত উপাখ্যান ও লোকাচারকে ধর্ম নামে চালানো হচ্ছে। আর এই লোকাচারী ধর্ম মানুষকে তার মূল ধর্ম থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে গেছে। মূল ধর্ম বলতে যে কি বোঝায় তা আজ সংজ্ঞায়িত করা কঠিন। উপধর্ম আর লোকাচার যদি সর্বত্র একই ধরনের হতো তবুও এটা এই সান্তনা ছিল যে সকল মানুষ যেভাবেই হোক একত্রে আছে। আসলে তা নেই।