তুরস্কের সেনা অভ্যুত্থান!

A tank moves into position as Turkish people attempt to stop them, in Ankara, Turkey, early Saturday, July 16, 2016. Turkey's armed forces said it "fully seized control" of the country Friday and its president responded by calling on Turks to take to the streets in a show of support for the government. A loud explosion was heard in the capital, Ankara, fighter jets buzzed overhead, gunfire erupted outside military headquarters and vehicles blocked two major bridges in Istanbul. (AP Photo)

সংলাপ ॥ তুরস্কের সেনা অভ্যুত্থান নিয়েই রয়েছে কিছু বিভ্রান্তি। দেশে দেশে ক্যু হয় সাধারণত গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের জন্য। তুরস্কে সেই চেনা ছবিটা যেন কিছুটা অন্যরকম। ইতিহাস বলে, এখানে সেনাবাহিনী গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারী। রাষ্ট্রের জনক মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক ১৯২৩ সালে যে আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিলেন, সেই আদর্শের অভিভাবক বলে মনে করে নিজেদের। আতাতুর্কের আদর্শ এবং গণতন্ত্রের বিচ্যুতি ঘটছে বলে এর আগে চারটি সফল ক্যু করেছে সেনা। ব্যর্থ হলে এটাই হবে প্রথম ব্যর্থতা। শুধু তাই নয়, অভ্যুত্থান না ঘটিয়েও বিভিন্ন সময়ে কলকাঠি নেড়ে শাসনক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে অনেক রাজনৈতিক নেতাকে। এবারও সেনাবাহিনী দাবি করেছে, দেশে গণতন্ত্র, শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করতেই এই অভ্যুত্থান। প্রেসিডেন্ট এর্ডোয়ান কট্টর ইসলামপন্থী বলে পরিচিত। তুরস্কের গোড়া মুসলমানদের পছন্দের নেতা। এই জনপ্রিয়তার জোরে প্রথম থেকেই তিনি সেনাবাহিনীকে আদর্শগত এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছেন। ২০১৩ সালে সেদেশে মহিলাদের হিজাব পরার নিয়মকে ফিরিয়ে এনেছেন। প্রেসিডেন্টের স্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানে যান হিজাব পরে। সরাসরি প্রশ্ন করলে বলেন, আমি ধর্মনিরপেক্ষ। কিন্তু চাই তুরস্কবাসী তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসগুলো আরও স্বাধীনভাবে জাহির করুক। বাবার হাত ধরে ইস্তানবুলে এসে আরও কিছু অর্থ আয় করার চেষ্টায় যখন এর্ডোয়ান ফেরি করছেন, তখন থেকেই তার শিক্ষা ইসলামি স্কুলে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গিয়ে কট্টর ইসলামপন্থী অবস্থান নেয়ার জন্য ৪ মাস জেলও খেটেছেন। ১৯৯৪ সালে ইস্তানবুলের মেয়র হওয়ার পরে প্রথম নজর কাড়েন তিনি। তার ভার্চু পার্টি নিষিদ্ধ হওয়ার পর ২০০১ সালে গড়েন এ কে পার্টি, এবং ২০০২ সালেই নির্বাচনে বিপুল সাড়া ফেলে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। ভারতের মতো তুরস্কেও প্রধানমন্ত্রীই দেশের প্রশাসনিক প্রধানের মর্যাদা পেতেন। কিন্তু তিনিই ২০১৪ সালে প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন। প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম থেকেই টক্কর লেগেছিল সামরিক বাহিনীর সঙ্গে। তিনি সামরিক আদালতের ক্ষমতা কমিয়ে দেন, সামরিক বাহিনীতে নিয়োগেও অসামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে আসেন। সামরিক বাহিনী ২০০৭ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে কট্টরপন্থী আবদুল্লাহ্ গুলের নির্বাচনের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু সেই আপত্তি অগ্রাহ্য করে গুলকেই প্রেসিডেন্ট পদে বসান এর্দুয়ান। জনপ্রিয়তার জোরে তখন মনে হয়েছিল, সবটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন তিনি। পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয় ২০১১ সালে সিরিয়া যুদ্ধের সময় থেকে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের অপসারণ চাওয়ার পাশাপাশি তিনি আই এসকে সরাসরি সমর্থন করতে থাকেন। কিন্তু সমস্যা ক্রমে জটিল হয়ে উঠল। একদিকে সিরিয়া থেকে একটানা শরণার্থী আছড়ে পড়লো তুরস্কে। অন্যদিকে আই এস বন্দুকের নল ঘুরিয়ে দিলো আশ্রয়দাতা তুরস্কের দিকেই। খেপে গেলো রাশিয়া। দীর্ঘদিনের বন্ধু ইজরায়েলের বিরোধিতা করে এর্দোয়ান পশ্চিম এশিয়ায় জনপ্রিয় হয়েছেন বটে, কিন্তু দেশের কুর্দিরা যখন সীমান্তপাড়ে আই এসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চেয়েছে, তখন তার বিরোধিতা করেছেন। ক্রমশ এর্দোয়ানের একনায়কতন্ত্রী চেহারাও বড় হয়ে উঠেছে। ২০১৩ সালে এ কে পার্টির বিরোধিতা করার জন্য তিনি ১৭ জন বর্ষীয়ান মিলিটারি অফিসারকে যাবজ্জীবন জেলে পাঠিয়েছেন। এছাড়াও কয়েকশো সরকারি অফিসার, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক নেতা তার রোষের শিকার হয়েছেন। গেজি পার্কে সবুজ ধ্বংস করে নির্মাণকাজের বিরোধিতাকে কড়া হাতে দমন করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়েছেন, শপথ করেছেন টুইটারকে মুছে দেবেন। তার জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে বিলাস আয়োজনও। রাজধানী আঙ্কারায় বানিয়েছেন হাজার ঘরের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ। আকারে আয়তনে যা হোয়াইট হাউস বা ক্রেমলিনকেও ছাপিয়ে যায়। দেখেশুনে অনেক সমর্থক তাকে সুলতান নামে ডাকতে শুরু করেছিলেন। ফের তিনি অটোমান সাম্রাজ্যের গৌরব নাকি ফিরিয়ে আনবেন, একথাও শোনা গেছে। ২০১৪ থেকে কমতে থাকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার, বাড়তে থাকে বেকারত্বের হার। পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে দুর্নীতি। আর তাতে জড়িয়ে পড়েন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠজনরা। সঙ্কট বাড়ছে দেখে সম্প্রতি তিনি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমস্যা কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন, যেমন চেষ্টা করছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে শত্রুতা মিটিয়ে ফেলার। কিন্তু শুক্রবারের রাতের অভ্যুত্থান বলে দিচ্ছে, সে চেষ্টায় পুরোপুরি সফল হননি তিনি।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার দোহাই দিয়ে গত শুক্রবার রাতভর তুরস্কে তা-ব চালাল বিদ্রোহী সেনার দল। গত   শনিবার সকালে গণপ্রতিবাদে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিদ্রোহী সেনা ও পুলিশের সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা ২৯০। আহত দেড় সহস্রাধিক, জানালেন প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। প্রেসিডেন্ট তায়িব এর্দোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে শনিবার রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। তাদের প্রতিবাদের জেরেই পিছু হটতে বাধ্য হয় বিদ্রোহী সেনা। গত শুক্রবার রাত থেকে সেনাবাহিনীর একাংশ তুরস্কের দখল নিতে শুরু করে। আঙ্কারা ও ইস্তানবুল বিমানবন্দর, জাতীয় টেলিভিশন দপ্তর সহ বেশ কয়েকটি জায়গার দখল নেয়। জারি হয় কারফিউ। সংসদ ও বিমানবন্দরে চলে গোলাগুলি। শোনা যায় বিস্ফোরণের শব্দ। সেনা সদর দপ্তরেও হামলা চলে। পণবন্দী করা হয় বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্তাকে। সড়কপথে সেনা ট্যাঙ্ক ও আকাশপথে নজরদারি চালাতে শুরু করে যুদ্ধ বিমান। বসফরাস প্রণালীতে তুরস্কের সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ার যোগাযোগ স্থাপনকারী দু’টি সেতু বন্ধ করে দেয়া হয়। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় বিমানের উড্ডয়ন। বর্তমান সরকারকে সরিয়ে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করাই ছিলো অভ্যুত্থানকারী সেনাদের উদ্দেশ্য। এমন পরিস্থিতিতে টুইটারে সাধারণ মানুষকে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ করতে আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান। আন্দোলন শুরু হওয়ার সময় ইস্তানবুলে না থাকলেও, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে শনিবার সকালে ইস্তানবুল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। ততক্ষণে তার ডাকে সাড়া দিয়ে রাস্তায় ঢল নেমেছে হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষের। গোলাগুলির শিকার হলেও, প্রতিবাদ ছেড়ে পালিয়ে যাননি কেউ। শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদী মানুষের সামনে হার মানে বিদ্রোহী সেনা। ইস্তানবুল বিমান বন্দর থেকে সরে যেতে বাধ্য হয় তারা। পরিস্থিতি বুঝে ইস্তানবুল বিমানবন্দরে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন এর্দোয়ান। সেনা অভ্যুত্থানকে দেশদ্রোহিতার আখ্যা দেন তিনি। গোটা ঘটনার জন্য তুর্কি বংশোদ্ভূত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মৌলবি ফেতুল্লা গুলেনকে দায়ী করেন। দোষীদের কড়া শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তারপর পথে নামে সরকারপন্থী সেনার দল। শুরু হয় ধরপাকড়ের পালা। উদ্ধার করা হয় পণবন্দী সামরিক কর্তাদের। অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অপরাধে ৭৫৪ জন সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক করা হয় ৩,০০০ জনকে। নিজে থেকেও আত্মসমর্পণ করতে শুরু করে বিদ্রোহী সেনার একাংশ। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে গ্রিসে পালিয়ে যায় ৮ বিদ্রোহী সেনা। নিরাপদ আশ্রয় চেয়ে আর্জি জানায় তারা। বিদ্রোহী সেনার ৫ জেনারেল ও ২৯ কর্ণেলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। হাই কোর্টের বিচারকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বিদ্রোহীদের কব্জা থেকে বায়ুসেনা ঘাঁটিগুলোকেও মুক্ত করে ফেলেছে তুরস্ক প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম এই ঘটনাকে অভ্যুত্থান বলে মানতে রাজি নন। ঘটনার জন্য দায়ী সেনাদের তিনি বিদ্রোহী আখ্যা দিয়েছেন। এর আগে তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানের মতো ঘটনা ঘটলেও, শুক্রবারের ঘটনার পিছনে প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ানের ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ ও সেনা সংঘাতকেই দায়ী করছেন অনেকে। তাদের দাবি, ইসলামি রাষ্ট্র তুরস্ককে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি দিতে এর্দোয়ানের অবদান অনস্বীকার্য। তিনিই প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি সেনাবাহিনীর প্রতিপত্তি কমিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী হন। শুক্রবারের ঘটনার পর দেশের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করেছে তুরস্ক সরকার। কিন্তু গোটা ঘটনায় আমেরিকার কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আগে মধ্যপ্রাচ্যে আই এসের আধিপত্য বিস্তারে প্রচ্ছন্ন সমর্থন থাকলেও, অতি সম্প্রতি আই এসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে মার্কিন যৌথ বাহিনীতে নাম লিখিয়েছে তুরস্ক। ইরাক ও সিরিয়ায় আই এস জঙ্গিদের পরাস্ত করতে অনেকাংশেই তুরস্কের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল তারা। আই এসকে রুখতে তুরস্কের দক্ষিণে সিরিয়া সীমান্তের কাছে দিয়ারবকির এলাকায় একটি সেনা ঘাঁটিও গড়ে তোলে। জঙ্গিদের ওপর হামলা চালাতে এ-১০ যুদ্ধ বিমান ও কে সি-১৩৫ ট্যাঙ্কারের মত যুদ্ধ সরঞ্জাম সেখান থেকেই সরবরাহ করা হয়। জ্বালানি ভরাতে যুদ্ধে ব্যবহৃত বিমানের এক তৃতীয়াংশ সেখানেই আসে। এছাড়া, ইস্তানবুল থেকে ২০০ মাইল দূরে ইজমিরেও একটি বায়ু সেনা ঘাঁটি গড়ে তুলেছে আমেরিকা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরে যাওয়াই শ্রেয় বলে মনে করছে সেখানকার মার্কিন দূতাবাস। যদি তাই ঘটে, তাহলে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে মার্কিন যৌথ বাহিনীর লড়াই কিছুটা থমকে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

অপরদিকে তুরস্কে আমেরিকার ব্যবহৃত একটি বিমান ঘাঁটি থেকে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে তুরস্কের বিমান বাহিনীর একজন জেনারেল ও অন্য কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন। তুরস্কের দৈনিক হুররিয়াত পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম গত রোববার এ খবর দিয়েছে।

সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথিত বিমান অভিযানে তুরস্কের ইনজারলিক নামে এ ঘাঁটিটি ব্যবহার করে আমেরিকা। সেখান থেকে তুর্কি বিমান বাহিনীর জেনারেল বেকির এরকান ভানকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার সঙ্গে এক ডজনেরও অনুগত সেনা কর্মকর্তাকে আটক করা হয়।

তুরস্কের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, আংকারা ধারণা করছে এ বিমান ঘাঁটি থেকে অভ্যুত্থানকারীরা জঙ্গিবিমানে জ্বালানি নিয়েছে।

গত বছর তুরস্ক ইনজারলিক বিমান ঘাঁটিটি আমেরিকাকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়। সেখান থেকে আমেরিকা উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের বিরুদ্ধে কথিত বিমান হামলা চালাচ্ছে। তবে এসব হামলার তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায় না।

ইনজারলিক বিমান ঘাঁটিটি কৌশলগত দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে আমেরিকার অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য মার্কিন যুদ্ধবিমান এ-১০ রয়েছে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর যে ছয়টি ঘাঁটি রয়েছে এটি তার একটি। সেখানে পরমাণু বোমাও রাখা হয়েছে। আমেরিকায় স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা তুর্কি সরকার বিরোধী ব্যক্তিত্ব ফতেউল্লাহ গুলেন দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান নিজেই শুক্রবারের সামরিক অভ্যুত্থানের নাটক সাজাতে পারেন। পেনসিলভানিয়ায় নিজ বাসভবনে হাতেগোনা কয়েকজন সাংবাদিককে দেয়া সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন তিনি।

খবরে প্রকাশ, ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পেনসিলভানিয়ায় জীবন-যাপন করছেন গুলেন। অতীতে এরদোগানের সঙ্গে তার ভাল সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালের এক দুর্নীতি কেলেংকারিকে কেন্দ্র করে এ সম্পর্কে চিড় ধরে। চলতি মাসের ১৫ তারিখ রাতে তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় তিনি জড়িত বলে এরদোগানের প্রশাসন যে দাবি করছে তারই পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন গুলেন। গুলেন বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগান যে অভিযোগ এনেছে তা বিশ্ব বিশ্বাস করবে না। বরং অভ্যুত্থানের বিষয়টি একটি সাজানো নাটক হতে পারে। তার বিরুদ্ধ আরো অভিযোগ আনার অজুহাত হিসেবে একে ব্যবহার করা হবে বলে মনে করেন তিনি।

গুলেন আরো বলেন, যে কোন ধরণের সামরিক হস্তক্ষেপকে মেনে নেন নি তিনি। এ ছাড়া, ১৯৯০’এর দশকের সেনা অভ্যুত্থানে ব্যক্তিগত ভাবে নিজেও নির্যাতিত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ খবরে প্রকাশ, তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা পর প্রায় ৯০০০ সরকারি কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার রাতের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান জোরদারের পরিপ্রেক্ষিতে এ সব কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়।

তুর্কি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মোট ৮৭৭৭ সরকারি চাকরিজীবীকে তাদের পদ থেকে তিন দিন আগে বরখাস্ত করা হয়েছে। তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থাকে এক কর্মকর্তা বলেছেন, বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন প্রাদেশিক গভর্নর এবং ২৯ জন নগর প্রশাসক রয়েছেন। বরখাস্ত কর্মীদের বিচার করা হবে কিনা খবরে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয় নি।

ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৮,০০০ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, অন্তত ১০০ জেনারেল এবং অ্যাডমিরালসহ প্রায় ৬,০০০ সেনা কর্মকর্তা ও বিচারককে আটক করা হয়েছে।